বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয়
বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয় ও বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময় আলোচনা করা হবে।
আপনারা যারা বাচ্চা নিতে চাইছেন, কিন্তু বিয়ের পর কিভাবে বাচ্চা নিতে হয় জানেন
না? তাদেরকে বাচ্চা নেওয়ার আগে করণীয় পদক্ষেপ, ইসলামে বাচ্চা নেওয়ার সঠিক
সময়?
কখন ডাক্তার দেখাতে হবে এবং বাচ্চা নেওয়ার সময় যেসব ভুলগুলো করা যাবে না, তা
জানানো হবে। তাই চলেন দেরি না করে বাচ্চা নেওয়ার আগে একজন পুরুষের ও মহিলার কি
করনীয় তা জেনে নিন।
পেজ সূচিপত্রঃ বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয়
- বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয়
- বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময়
- বিয়ের পর কিভাবে বাচ্চা নিতে হয়
- ছেলে বাচ্চা নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি
- ইসলামে বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময়
- কখন ডাক্তার দেখাতে হবে?
- সাধারণ ভুল যেগুলো এড়াতে হবে
- FAQ/সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- মন্তব্যঃ বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয়
বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয়
বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা দরকার। কারণ পুরুষের
শুক্রাণুর গুণগত মান, তার জীবনযাপন, মানসিক চাপ সহ স্বাস্থ্যের সমস্যা সবকিছুই
সন্তান ধারণের উপর প্রভাব ফেলে। বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
শুরু করতে হবে। প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং বেশি বেশি
পানি খেতে হবে।
পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস করতে হবে। যদি শরীরের ওজন বেশি থাকে, তবে
ওজন কমানোর চেষ্টা করতে হবে। কারণ শরীরের ওজন বেশি থাকলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা
কমে শুক্রাণুর ওপর খারাপ প্রভাব পড়বে। যদি কোন পুরুষের ধূমপান, গুল, অ্যালকোহল বা
মাদক জাতীয় অভ্যাস থাকে। তবে বাচ্চা নেওয়ার আগে এসব খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
কারণ এসব অভ্যাস পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা ও কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। প্রতিদিন
সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুম নিতে হবে। এতে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকবে। যদি
মানসিক চাপ থাকে, তবে তা কমাতে হবে। কারণ স্ট্রেস শরীরে হরমোনের উপর খারাপ প্রভাব
ফেলে। এজন্য একজন পুরুষের নিয়মিত বিশ্রাম, পরিবারের সাথে আড্ডা ও
অল্প করে ব্যায়াম করা দরকার। এতে মানসিক চাপ দূর হবে এবং মন ভালো থাকবে। বাচ্চা
নেওয়ার আগে যেমন একজন পুরুষের, অ্যালকোহল বা মাদক বাদ দিতে হবে এবং মানসিক চাপ
নেওয়া যাবে না। তেমনি বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের খাদ্য তালিকার দিকেও ভালো নজর
দিতে হবে। কারণ খাদ্য তালিকাতে পুষ্টিকর খাবার থাকলে।
এ খাবার পুরুষের শুক্রানুর গুণগতমান ভালো করে প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য
করবে। তাই একজন পুরুষের খাদ্য তালিকাতে প্রতিদিন ডিম, মাংস, মাছ, দুধ, বাদাম,
কালোজিরা, মধু ও বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি থাকা লাগবে। সেই সাথে যেসব খাবারে
ফলিক অ্যাসিড, জিংক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি রয়েছে সেসব খাবারও খেতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে একজন পুরুষ যদি বাচ্চা নেওয়ার প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে
থেকে উপরের নিয়ম ও করণীয় গুলো মেনে চলতে পারে। তবে বাচ্চা নেওয়ার আগে সে
ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবে। এতে ভবিষ্যতে সুস্থ সন্তান জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা
থাকে।
সতর্কতাঃ যদি পুরুষের
ডায়াবেটিস,
উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড সহ শরীরে অনেকদিন ধরে কোন অসুখ বা সমস্যা থাকে।
তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। নয়তো পরবর্তীতে এসব
রোগ বা সমস্যাগুলো অনিয়ন্ত্রিত হয়ে শরীরের প্রজনন ক্ষমতার ওপর খারাপ
প্রভাব ফেলবে।
বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময়
আপনারা অনেকেই প্রশ্ন করেছেন যে বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময় কখন? এখন আমরা
আপনাদেরকে জানাবো বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে। বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা
করার সঠিক সময় নির্বাচন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ একজন মেয়ের মাসিক চক্রের নির্দিষ্ট সময়ে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে
বেশি থাকে। এই সময়টাকে ডাক্তারেরা বলে ফার্টাইল উইন্ডো। যাদের মাসিক চক্র
নিয়মিত ২৮ থেকে ৩০ দিনের হয়। তাদের সাধারণত ১৪তম দিনের আশেপাশে ডিম্বস্ফোটন
ঘটে।
ডিম্বস্ফোটন আগে প্রায় ৫ দিন এবং পরবর্তী ১ দিনকে বাচ্চা নেওয়ার জন্য সবথেকে
সঠিক সময় ধরা হয়ে থাকে। এই সময়টাতে সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা অন্য
সময়ের থেকে বেশি থাকে। কিন্তু সব মেয়েদের আবার মাসিক চক্র একরকম ভাবে হয় না।
কারো ২৬ দিনে হয়, ৩০ দিনে আবার কারো ৩২ দিনেও হয়। এজন্য যাদের মাসিক অনিয়মিত
হয়,
তাদের বাচ্চা নেওয়ার আগে মাসিক চক্র পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বর্তমান সময়ে
বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময় কখন মোবাইল অ্যাপ বা ওভুলেশন কিট ব্যবহার করে জানা
যায়। আপনাদের সুবিধার্থে আমি আরেকটু সহজ করে বলছি, ধরেন একটা মেয়ের নিয়মিত
পিরিয়ড হয় ২২, ২৪ বা ২৫ তারিখে। যেহেতু ডিম্বস্ফোটন মাসিক শুরু হওয়ার প্রায়
১৪ দিন আগে হয়।
সেহেতু যেসব মেয়েদের ২২ তারিখে পিরিয়ড হয়, তাদের জন্য বাচ্চা নেওয়ার সঠিক
সময় হবে পরবর্তী মাসের ২ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। আরেকটি বিষয় শুধু বাচ্চা
নেওয়ার জন্য সঠিক সময় দেখলেই হবে না। বরং বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে
দম্পত্তি উভয়ের সুস্থ জীবন যাপনের অভ্যাস করতে হবে। যেমন ধরেন পর্যাপ্ত ঘুম
পারতে হবে, পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে,
নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। সেই সাথে মানসিক চাপ কম রাখতে হবে। মানুসিক চাপ কম
থাকলে প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এছাড়াও সহবাস করার সময় অতিরিক্ত মানসিক
চাপ নেওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, একবার চেষ্টা করলেই গর্ভধারণ নাও হতে পারে।
তাই নিয়মিত সহবাস চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিতে
হবে।
বিয়ের পর কিভাবে বাচ্চা নিতে হয়
বিয়ের পর অনেকে আছে যারা খুব তাড়াতাড়ি বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা করে। আবার
অনেকে আছে কিছুদিন অপেক্ষা করে বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা করে। বাচ্চা নেওয়ার
যে পরিকল্পনাই করা হোক না কেন সুস্থভাবে গর্ভধারণের জন্য ছেলে মেয়ে দুজনের
শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
শুধু মেয়ে না, বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষেরও করণীয় থাকে। যখন বাচ্চা নেওয়ার
কথা ভাববেন তখন নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা নিবেন। যদি কোন দম্পতি ছেলে
অথবা মেয়ের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড,
কিডনির
সমস্যা বা অন্য কোন রোগ অনেকদিন শরীরে থাকে। তাহলে সন্তান নেওয়ার আগে
ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রয়োজনে ডাক্তার আপনাকে কিছু পরীক্ষা করতে বলতে পারে। শরীরের কোন অসুখ
বিসুখ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে করতে হবে। এরপর সন্তান নেওয়ার তিন মাস আগে সুস্থ
জীবনযাপন করার অভ্যাস করতে হবে। ধরেন আপনারা আজকে বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা
করলেন। এক্ষেত্রে আজ থেকে তিন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিতে হবে,
পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
খারাপ নেশা দ্রব্য খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা, বাদ দিতে হবে এবং নিয়মিত
শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করতে হবে। তাহলে প্রজনন ক্ষমতা বাড়বে।
মেয়েদের বাচ্চা নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক এসিড খাওয়ার
পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। আপনারা হয়তো মনে করতে পারেন যে মেয়েদের
ডিম্বস্ফোটন সম্ভাব্যসময়ে যত বেশি সহবাস করা যাবে।
বাচ্চা নেওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে। আসলে বিষয়টা এমন নয় বরং ডিম্বস্ফোটন
সময় প্রতি এক থেকে দুই দিন পর পর সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা ভালো থাকে।
বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা করার পর কয়েক মাসে গর্ভধারণ না হলে হতাশ হওয়ার
কিছু নেই। এটা একটি সাধারণ বিষয়, তাই নিয়মিত চেষ্টা করতে থাকতে হবে এবং
প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ছেলে বাচ্চা নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে ছেলে বা মেয়ে সন্তান হওয়া নির্ভর করে পুরুষের
শুক্রাণুর বহন করা ক্রোমোজোমের ওপর। তাই কোন প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া পদ্ধতি
শতভাগ ছেলে হবে কি মেয়ে হবে, তা নিশ্চয়তা দিতে পারেনা। মানুষের শরীরে
নারীর ডিম্বাণু সবসময় X ক্রোমোজোম গ্রহণ করে।
আর পুরুষের শুক্রাণু Y ক্রোমোজোম বহন করে। যদি Y ক্রোমোজোমযুক্ত
শুক্রাণু ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়। তাহলে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা
বেশি থাকে। আর X ক্রোমোজোমযুক্ত শুক্রাণ মিলিত হলে মেয়ে সন্তান হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে।
বেশ কিছু গবেষনাতে দেখা গেছে ডিম্বস্ফোটন কাছাকাছি সময়ে সহবাস করা
হলে Y ক্রোমোজোমযুক্ত শুক্রাণু দ্রুত ডিম্বাণুতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা
থাকে। তবে এই ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই। তাই এটিকে
নিশ্চিত পদ্ধতি হিসেবে ধরা ঠিক না।
ইসলামে বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময়
ইসলামে সন্তান নেওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে সেভাবে কোন উল্লেখ করা হয়নি।
তবে সহবাসের আগে বিসমিল্লাহ বলা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর
শেখানো দোয়া পড়ার কথা হাদিসে উল্লেখ করা আছে। মুসলিম দম্পতিরা চাইলে এই
সুন্নত আমলগুলো করতে পারেন।
এটি একটি ইবাদত পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনার
একটি মাধ্যম। মহিলার পিরিয়ড বা মাসিক চলাকালীন সহবাস ইসলামে পুরোপুরি
নিষিদ্ধ। তাই এ সময় সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। মাসিক শেষ হয়ে পবিত্রতা
অর্জন করার পর স্বাভাবিকভাবে সহবাস বা
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় চালতা খাওয়ার উপকারিতা
দাম্পত্য জীবন শুরু করার কথা বলা হয়েছে। ইসলামে সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে কোন
বৈষম্য সমর্থন করা হয় না। ছেলে হোক মেয়ে হোক উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে
দান। এজন্য ইসলামে ছেলে বা মেয়ে সন্তানের আশায় বিভিন্ন কুসংস্কার ও
ভিত্তিহীন পদ্ধতি অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
মূল কথা হচ্ছে, বাচ্চা নেওয়ার আগে ইসলামের দৃষ্টিতে বলা হয়েছে, সঠিক
নিয়ত করতে হবে, হালাল উপার্জন করতে হবে, স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এবং
আল্লাহর উপর ভরসা রেখেই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে। এছাড়াও আপনারা
যদি বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয় কি জানতে চান, উপরের প্রথম পয়েন্ট
পড়ে আসতে পারেন।
কখন ডাক্তার দেখাতে হবে?
আপনারা জানতে চেয়েছেন কখন ডাক্তার দেখাতে হবে। তাই এ বিষয় নিয়ে এখন
আমরা আলোচনা করবো। অনেকেই বুঝতে পারে না যে আসলে কখন চিকিৎসকের কাছে
যাওয়া উচিত। সময় মত যদি চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া হয়, তাহলে অনেক
ক্ষেত্রে এইসব সমস্যাগুলো খুব দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়।
যদি মহিলার বয়স ৩৫ বছরের কম হয় এবং মহিলা যদি নিয়মিত এক বছর সহবাস করে
গর্ভধারণ না হয়। তাহলে একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ
নেওয়া উচিত হবে। আর যদি মহিলার বয়স ৩৫ বছর বা বেশি হয়। তাহলে ছয় মাস
চেষ্টা করার পরেও যদি গর্ভধারণ না হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া
উচিত।
তাছাড়া এমন কিছু বিশেষ পরিস্থিতি বা লক্ষণ আছে যেগুলো দেখা দিলে খুব
দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। যেমন মহিলার
মাসিক
যদি অনিয়মিত হয় বা দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকে, বারবার যদি গর্ভপাত হয়,
অনেকদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস থাইরয়েড সহ বিভিন্ন রোগ যদি শরীরে
থাকে,
পুরুষের শুক্রাণু সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে, অন্ডকোষে আঘাতের সমস্যা বা
অন্ডকোষ অস্ত্রোপচার। বাচ্চা না হওয়া শুধু মেয়ে বা ছেলের সমস্যা থাকে
না। এখানে দুইজনের সমস্যা থাকতে পারে। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে গর্ভধারণ না
হলে, স্বামী স্ত্রীর দুজনকেই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।
সাধারণ ভুল যেগুলো এড়াতে হবে
যদি বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে এমন অনেক ভুল আছে যেগুলো
স্বামী স্ত্রী উভয়ের এড়ানো উচিত। যেমন ধরেন বাচ্চা নেওয়ার মিনিমাম
তিন মাস আগে ঠিকমতো ঘুমাতে হবে ভালো পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে নিয়মিত
ব্যায়াম করতে হবে এবং ধূমপান বা অন্য মাদক জাতীয় কিছু সেবন করলে তা
বন্ধ করতে হবে।
এতে মেয়েদের শরীর ভালো থাকবে এবং ছেলেদের শরীরের শুক্রানুর গুণগত মান
উন্নত হবে। ফলে সন্তান ধারণের ক্ষমতা বাড়বে। অনেকেই ইন্টারনেট থেকে
অনেক কুসংস্কারজনিত ভিডিও বা তথ্য দেখে যেমন বিশেষ খাবার খেলে ছেলে
সন্তান হবে, নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে সহবাস করলে দ্রুত গর্ভধারণ করা যাবে।
আবার এমন কিছু ভেষজ আছে,
যেগুলো খেলে সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে ইত্যাদি। তাই কোন কুসংস্কার বা
বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এরকম কোন তথ্যে বিশ্বাস না করাই ভালো। বর্তমান
সময়ে আরেকটি বেশি ভুল হয় আর সেটা হচ্ছে, মানসিক চাপ নেওয়া। অনেক
দম্পতি এক দুই মাস ট্রাই করার পরেই হতাশ হয়ে পড়ে। অথচ সুস্থ দম্পতির
ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
তাই কখনোই হতাশ হওয়া যাবে না। অতিরিক্ত গরম পরিবেশেও পুরুষের
শুক্রানুর ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য ঠান্ডা পরিবেশে থাকা
ভালো। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যৌনশক্তি
বাড়াতে, হরমোন জাতীয় ওষুধ বা গর্ভধারণ করতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ কখনোই
খাবেন না। দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পর যদি গর্ভধারণ না হয়, তবে
ভালোভাবে ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে হবে।
আপনাদের উপকারে আসবে এরকম আরো কিছু পোস্টের তালিকা
FAQ/সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ বাচ্চা নেওয়ার জন্য কি খাবার খাওয়া উচিত ছেলেদের?
উত্তরঃ বাচ্চা নেওয়ার জন্য ছেলেরা প্রতিদিনের খাবারে সেলিনিয়াম,
জিংক, ফলিকা এসিড, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই এবং ওমেগা থ্রি
ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবারগুলো খেতে পারেন। এতে শুক্রাণুর গুণগতমান
উন্নত হবে এবং বাচ্চা নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যে
ছেলেদের ডিম, সামুদ্রিক মাছ, দেশীয় মাছ, দুধ, টক দই, বাদাম,
সূর্যমুখী বীজ, ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হবে ।
প্রশ্নঃ বাচ্চা নেওয়ার আগে কি কি পরীক্ষা করতে হয়?
উত্তরঃ বাচ্চা নেওয়ার আগে ডাক্তার পুরুষের সিমেন এনালাইসিস, রক্তের
শর্করার মাত্রা, রক্তের গ্রুপ এবং প্রয়োজনে কিছু হরমোন, সংক্রমণ
সংক্রান্ত পরীক্ষা করাতে পারে। আর
নারীদের
ক্ষেত্রে মাসিকের ইতিহাস, হরমোন পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাফি সহ আরো
কিছু পরীক্ষা করতে হতে পারে। যেসব দম্পতিদের অনেকদিন ধরে বাচ্চা হয়
না। তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরীক্ষা করাতে হতে পারে।
প্রশ্নঃ ছেলেদের কি কি সমস্যা থাকলে বাচ্চা হয় না?
উত্তরঃ নেশা দ্রব্য বেশি গ্রহণ করলে, শুক্রাণুর স্বাভাবিক গঠন খারাপ
থাকলে, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও অন্ডকোষের কিছু রোগ থাকলে, ছেলেদের
বাচ্চা না হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়াও জেনেটিক সমস্যা থাকলে ছেলেদের
বাচ্চা নেওয়ার ধারণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তবে এসব সমস্যা থাকলে
সন্তান হবে না এমন নয়। এসব সমস্যায় ভালো চিকিৎসা নিলে সুস্থ হওয়া
সম্ভব।
প্রশ্নঃ কি খেলে বাচ্চা হবে না?
উত্তরঃ এমন কোন খাবার নেই যা খেলে বাচ্চা হবে না। এমন কিছু খাবার আছে
যা, খেলে বাচ্চা হয় না, এই ভুল ধারণা বেশিরভাগ গ্রাম অঞ্চলে দেখা
যায়। তবে এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা ডাক্তারি যুক্তি নেই। তবে
অতিরিক্ত তেলের খাবার, অতিরিক্ত চিনি সহ অতিরিক্ত কোমল পানি ও
অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও প্রজনন ক্ষমতার
ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। যা বাচ্চা ধারণ করার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে
পারে।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় কি কি সবজি খাওয়া যাবে না
প্রশ্নঃ ৩৫ বছরের পর বাচ্চা নেওয়া কি খারাপ?
উত্তরঃ চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ডাক্তারদের গবেষণায় ৩৫ বছরের আগে শরীরে
বাচ্চা নেওয়ার ক্ষমতা বেশি থাকে। কিন্তু ৩৫ বছর পার হয়ে গেলে
প্রজনন ক্ষমতা আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে এবং ৩৭ বছর পর বাচ্চা
নেওয়ার ক্ষমতা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এজন্য চেষ্টা করবেন ৩৫ বছর
বয়সের আগে বাচ্চা নেওয়ার।
মন্তব্যঃ বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয়
বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয় জেনে নেওয়া ভালো। কারণ বাচ্চা
নেওয়া শুধু একটি পরিবারের সিদ্ধান্ত নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের
সুস্থতা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ। বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষদের
সঠিক খাদ্যভাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম এবং মানসিক
চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে
স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।
প্রায় বাচ্চা নেওয়ার তিন মাস আগে যদি ছেলে পুষ্টিকর খাবার এবং সঠিক
জীবন যাপন করতে শুরু করে। তবে প্রজনন ক্ষমতা বেড়ে সুস্থ গর্ভধারণের
সম্ভাবনা বাড়বে। আপনারা যারা বাচ্চা নেওয়ার কথা ভাবছেন। তারা আজকের
পুরো আলোচনা ভালোভাবে পড়বেন। আশাকরি এই আলোচনা পড়ার পর বাচ্চা
নেওয়ার আগে পুরুষের কি করা উচিত এবং মহিলারা কি করবে তা, জানতে
পারবেন।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url