নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার উপায় সম্পর্কে বেশ কিছু ধাপ
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার উপায় গুলো নিয়ে আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলের মধ্যে
সকল ধাপ আপনাদেরকে জানাবো। যেসব নারীরা নিজেকে স্বাবলম্বী করতে চাই, তাদের জন্য
আজকের এই আর্টিকেলটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে নারীদের ঘরে বসে আয় করার উপায় সহ আরো অনেক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। তাই দেরি না করে চলুন কিভাবে একজন নারী নিজেকে
স্বাবলম্বী করতে পারবে, তার সকল ধাপ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
পেজ সূচিপত্রঃ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার উপায়
- নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার উপায়
-
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ
-
নারীদের স্বাবলম্বী হতে শিক্ষার গুরুত্ব
-
নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের উপায়
-
নারীদের ঘরে বসে আয় করার উপায়
-
নারীরা কিভাবে ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারে
-
নারীদের মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস
- নারীদের স্বাবলম্বী হতে কিছু বাধা এবং তার সমাধান
-
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার বাস্তব উদাহরণ
-
সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
- মন্তব্যঃ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার উপায়
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার উপায়
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার উপায় সম্পর্কে এখন আমি আপনাদেরকে বিস্তারিত জানাবো।
এই তথ্যগুলো যদি একজন নারী ভালোভাবে মানে এবং সে নিয়মে চলতে পারে, তাহলে অবশ্যই
সে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারবে। আমরা অনেকে আছি যারা নারীদের
স্বাবলম্বী হওয়া মানে শুধু টাকা পয়সা ইনকাম করা বুঝি। কিন্তু এটাকে আসল
স্বাবলম্বী বলা যায় না।
সাবলম্বী বলতে নারীরা তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো যখন নিজে নেওয়ার
ক্ষমতা তৈরি করতে পারবে, তখনই তাকে স্বাবলম্বী বলা যায়। বিশেষ করে একজন
নারী যখন তার আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে। তখন সেখান থেকেই তার
মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং সমাজে তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি
হয়। একজন নারী হঠাৎ করে স্বাবলম্বী হতে পারেনা।
নারীকে স্বাবলম্বী হতে হলে, আস্তে আস্তে তাকে বেশ কিছু উপায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত
করতে হবে। প্রথমে সেই নারীকে শিক্ষা অর্জন করতে হবে। তার পাশাপাশি বাস্তব
দক্ষতাও শিখতে হবে। শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিলেই
স্বাবলম্বী হওয়া যাবে না। তাকে বাস্তব দক্ষতাও শেখা লাগবে। যেমন
ধরেন রান্না করা, সেলাই মেশিন চালানো, কম্পিউটার ব্যবহার করা,
অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা অথবা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোন কাজ শেখা। এই
দক্ষতা গুলো বর্তমান সময়ে অনেক নারীরাই শিখছে এবং সেটাকে তারা কাজে লাগাচ্ছে।
অনেক নারী আছে যারা প্রথমে অনেক বড় কিছু শুরু করতে চায়। কিন্তু এটা সঠিক
নিয়ম হবে না, যেকোনো কাজ শুরু করার আগে প্রথম থেকে শুরু করাই ভালো।
কারণ প্রথমেই যদি বড় করে শুরু করতে চান, তাহলে সেটাতে বেশি ঝুঁকি থাকে এবং লস বা
ব্যর্থ হলে দ্বিতীয়বার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না। কিন্তু ছোট থেকে
শুরু করলে আস্তে আস্তে সেই কাজটাকে বড় করা যায় ও লস হলেও সেটা থেকে
শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। তাই নারীরা নিজেদেরকে স্বাবলম্বী
করতে প্রথমে ছোট কাজ দিয়ে শুরু করলে সব থেকে ভালো হবে।
নারীরা স্বাবলম্বী হতে যেসব কাজ করতে পারে
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তারা বাড়িতে অনেক ধরনের খাবার বানিয়ে
বিক্রি করতে পারে। যদি খাবার নিয়মিতভাবে ভালো বিক্রি হয়, তাহলে পরবর্তীতে
সেই মহিলা বড় পরিসরে এই ব্যবসাটা শুরু করতে পারবে। তাছাড়া নারীরা
চাইলে ফেসবুকে অথবা বিভিন্ন অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়াতে পেজ খুলে বিভিন্ন
ধরনের পণ্য বিক্রি করতে পারে। পড়ালেখায় বা অন্য কোন কিছুতে দক্ষ থাকলে,
সেগুলো অন্য কাওকে শিখিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে পারে। আর ফ্রিল্যান্সিং
অভিজ্ঞতা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে পারে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু কাজ করা
যায়, যেগুলো একজন নারীকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
যেমন বাড়িতে গরু, ছাগল, মুরগি, হাঁস, বোতক পালন করতে পারে। প্রথমে এক থেকে
দুইটি গরু অথবা ছাগল দিয়ে শুরু করা যায়। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে বাড়ানো যাবে।
তারপর শাকসবজি বাড়িতে চাষ করতে পারে। যেমন ধরেন কুমড়োর গাছ, লাউয়ের
গাছ, শিমের গাছ, টমেটো গাছ আরো বিভিন্ন ধরনের শাক সবজির গাছ। বাড়ির ফাঁকা
জায়গাগুলোতে লাগাতে পারে এবং সেগুলো বিক্রি করতে পারে। এই কাজগুলো বাদেও
যদি নারীদের অন্য কোন কাজে অভিজ্ঞতা থাকে। যেমন পার্লারের কাজ যদি জানা থাকে,
তাহলে সে বাড়িতে পার্লার সার্ভিস দিতে পারে।
একজন নারীর যে দক্ষতায় থাকুক না কেন। সে দক্ষতা অনুযায়ী সে যদি কাজ করে এবং এই
কাজগুলো করার সময় সঠিক নিয়ম মেনে ধৈর্য ধরে ছোট থেকে শুরু করে, তাহলে আস্তে
আস্তে সে তার এই কাজগুলোকে বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে। অবশ্যই এইসব কাজ করার
পাশাপাশি টাকা আয় ব্যায়ের হিসাবটাও সঠিকভাবে করতে হবে। কারণ এই আই
ব্যায়ের হিসাব যদি ভালোভাবে করা হয়,
সময়ের সাথে সাথে নিজেকে আপডেট করতে হবে
তবে ব্যবসায় লাভ করা যাবে এবং ব্যবসা বড় হবে। ব্যবসা করার সময় লাভের
টাকা থেকে কিছু টাকা জমা করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। অহেতুক খরচ যেন না হয়,
সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমান সময় সব কিছুই দিন দিন অনেক উন্নতি হচ্ছে, তাই
একজন নারীকে স্বাবলম্বী হতে হলে। তাকে প্রযুক্তির উপরেও দক্ষতা অর্জন করতে
হবে। তাকে স্মার্টফোন ব্যবহার, অনলাইন পেমেন্ট,
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিভাবে মার্কেটিং করতে হয়। এ সকল বিষয়ে অভিজ্ঞ
হতে হবে। এসব বিষয়গুলো যদি একজন নারী নিজের মধ্যে আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে
অবশ্যই সে নারী নিজেকে খুব দ্রুত স্বাবলম্বী করে তুলতে পারবে। তবে একজন নারীকে
তার অবস্থান শক্ত করার জন্য প্রথমেই অনেক ধৈর্য ধরতে হবে এবং তার মধ্যে অনেক
আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।
কারণ একজন নারীর উপর সামাজিকভাবে এবং পারিবারিকভাবে অনেক সময় অনেক রকম বাধা
আসতে পারে। তাই এসব বাধা গুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে। একজন নারী যদি তার ধৈর্য
শক্তি ও ভেতরে আত্মবিশ্বাস এবং শেখার মানসিকতা নিয়ে সেই অভিজ্ঞগুলোকে বাস্তবে
কাজে লাগায়। তবেই সে নারী আস্তে আস্তে সমাজে তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে
পারবে এবং নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারবে।
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা শুধু যে তার ব্যক্তিগত
উন্নতি করে তা কিন্তু না। একজন নারী যদি নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে
পারে, তাহলে এর ফল তার পরিবার ও তার ছেলেমেয়েদের ওপরেও পড়বে। যেসব
নারীরা নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছেন, তাদের দিকে খেয়াল করলে দেখতে
পাবেন।
তারা পরিবারের একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জায়গা পায়। স্বাবলম্বীতা একজন
নারীকে আত্মনির্ভরশীল এবং সমাজে যেকোনো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও মোকাবিলা
করার সাহস দিয়ে থাকে। পরিবারে আর্থিক সমস্যা দেখা দিলে নারীরা সেই
সমস্যা দূর করতে সাপোর্ট দিতে পারে। অনেক সময় অর্থ একজন নারীকে তার
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধা দিয়ে থাকে।
কিন্তু সেই নারী যদি নিজেকে সাবলম্বী হিসেবে তৈরি করতে পারে, তাহলে এই বাধা
গুলো তাকে আতকে রাখতে পারে না। এছাড়াও একজন নারী যদি তার অবস্থান শক্ত করতে
পারে, তাহলে সমাজেও সবাই তাকে সম্মান করে এবং অনেকেই তাকে দেখে অনুপ্রাণিত
হয়। যেটা সমাজের জন্য অনেক ভালো এবং সমাজে অনেক কর্মস্থান তৈরি হয়।
স্বাবলম্বীতা মানে যে শুধু টাকা ইনকাম করা তা না। স্বাবলম্বীতা হচ্ছে একজন
নারীর মধ্যে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস তৈরি করা ও সমাজে একটা শক্ত অবস্থানে নিজেকে
প্রতিষ্ঠিত করা এবং সমাজের উন্নয়ন করা। তাই একজন নারীকে অবশ্যই স্বাবলম্বী হতে
হবে এবং এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
নারীদের স্বাবলম্বী হতে শিক্ষার গুরুত্ব
একজন নারী যদি স্বাবলম্বী হতে চায়, তাহলে অবশ্যই তাকে শিক্ষা অর্জন করতে
হবে। কারণ তার এই স্বাবলম্বী হওয়ার পেছনে এই শিক্ষাই অনেক বড় কাজ
করবে। তাই নারীদের স্বাবলম্বী হতে শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। শিক্ষা
শুধু মাত্র যে পড়া তা কিন্তু না। শিক্ষা একজন নারীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি
করে। তার চিন্তা শক্তিকে বাড়াতে কাজ করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা
তৈরি হয়।
শিক্ষিত নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়গুলোতে সে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। শিক্ষা নারীদের বিশ্বাস
বাড়িয়ে দেয়, যার কারণে অন্যের উপর নারীদের নির্ভর করে থাকতে হয় না। এই
জন্য নারী যদি শিক্ষিত হয়, তাহলে তার মধ্যে অনেক ধরনের জ্ঞান আসে। যার কারণে
তিনি জানতে পারে যে আসলে কখন কোন বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
যেমন আর্থিক বিষয়ে সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। স্বাস্থ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে
পারে এবং সন্তানদের কোনটা ভালো হবে এবং কোনটা খারাপ হবে। তারপর পড়াশোনা
ইত্যাদি সম্পর্কে সে খুব সুন্দর একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে। এতে করে পরিবার
ও সমাজ উপকৃত হয়। তাই নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য শিক্ষার গুরুত্ব অনেক
বেশি। একজন নারীকে স্বাবলম্বী হতে হলে, অবশ্যই শিক্ষা অর্জন করতে হবে।
নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের উপায়
নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন করার জন্য সবথেকে দরকার তার মধ্যে ইচ্ছা শক্তি এবং
শেখার আগ্রহ। দক্ষতা উন্নয়ন করার জন্য প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে, যে আসলে
কোন কাজ করতে আপনার বেশি ভালো লাগে এবং কোন কাজ ভালো করতে পারেন। আপনি যদি
রান্নার কাজ ভালো পারেন। অথবা লেখালেখি করার কাজ, ডিজাইন করার কাজ,
সেলাই এর কাজ, পার্লারের কাজ,
গবাদি পশু পালনের কাজ, পড়ানো বা অনলাইন কাজ। এক কথায় আপনি যে কাজ ভালো পারেন,
সে কাজের উপর আপনার দক্ষতা অর্জন করা উচিত। আপনি কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবেন
এবং কোন কাজ করে নিজের জীবনকে গড়ে তুলবেন, সেটা যদি নির্ধারণ করতে
পারেন, তবে সেই বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ নিবেন। বর্তমান
সময়ে নিজ জেলা বা উপজেলায়
সরকারিভাবে অনেক কারিগরি শিক্ষা দিচ্ছে। সেখান থেকে আপনি কারিগরি শিক্ষা
নিতে পারেন। অথবা বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে, সেখান থেকে
প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। আপনি চাইলে অনলাইন থেকে কোর্স করেও দক্ষতা অর্জন করতে
পারেন। বর্তমানে কিন্তু অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর
অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। বিশেষ করে ইউটিউবে অনেকে
জ্ঞান অর্জন করছে ও দক্ষতা বাড়াচ্ছে। প্রতিদিন আপনি যদি আপনার পছন্দের কাজের
উপর একটু করে নজর দেন এবং সেটা চর্চা করেন, তাহলে এটাতে আপনার সেই কাজের উপর
অভিজ্ঞতা বাড়বে। আপনার মধ্যে অনেক আত্মবিশ্বাস জন্মাবে। দিন দিন সবকিছু
উন্নতি হচ্ছে, তাই তার সাথে সাথে আপনাকেও আপডেট হতে হবে। যেগুলো
প্রযুক্তির বিষয় সেগুলোর ওপরেও
আপনাকে জ্ঞান নিতে হবে। বিশেষ করে কম্পিউটার চালানোর উপর, স্মার্টফোন চালানোর
উপর, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে এবং অনলাইনে পেমেন্ট সিস্টেম
বিষয়ে সকল তথ্য আপনাকে জানতে হবে। এইভাবে ধৈর্য ধরে আস্তে আস্তে যদি আপনি
আপনার পছন্দের বিষয়ে ওপর সঠিক নিয়ম মেনে কাজ করেন, তাহলে এটা আপনার
দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নারীদের ঘরে বসে আয় করার উপায়
নারীরা ঘরে বসে থেকে বিভিন্ন উপায়ে আয় করতে পারবে। যদি তার মধ্যে কোন কিছু
করার ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকে। যেসব নারীরা ঘরে বসে থাকে এবং পাশাপাশি ঘরে বসে
থেকে কোন কিছু করে আয় করতে চাই তারা নিজের এই কাজগুলো করে ঘরে বসে
ভালো টাকা আয় করতে পারবে। যদি নারীরা সেলাইয়ে কাজ জানে, তাহলে সেই কাজ করে
ঘরে বসে। তারা জামা কাপড় সেলাই করে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবে।
আরো পড়ুনঃ উৎপাদনমুখী ব্যবসা ৫০০০ টাকায় করুন
যেসব নারীরা ঘরে একা বসে থাকেন এবং আয় করার উপায় খুঁজছেন। তারা চাইলে একটি
ঘরে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র খুলতে পারেন। এতে করে অনেক কর্মজীবী মায়েরা
তাদের সন্তানকে আপনার এখানে ভর্তি করাবে এবং এখান থেকে আপনি ভালো টাকা ইনকাম
করতে পারবেন। আপনি যদি রান্নার কাজে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি রান্না করে সে
রান্নাগুলোকে বিক্রি করতে পারেন। যেমন আপনি আচার তৈরি করে বিক্রি করতে
পারেন।
খাবারের বিভিন্ন ধরনের মসলা তৈরি করতে পারেন। অথবা দুপুরের বা সকালের খাবার
রান্না করে সেগুলোকে বিক্রি করতে পারেন। এভাবে আপনি ঘরে বসে থেকেই ভালো টাকা
ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি হাতের কাজ ভালো পারেন, যেমন ধরেন ঘরে সাজানোর
জন্য বিভিন্ন রকমের জিনিস। তারপর নকশা করা ক্যাথা, পুথি দিয়ে থ্রি পিস বা
বিভিন্ন জামা কাপড় ডিজাইন করে তৈরি করা। এইগুলোর বাজারে ভালো চাহিদা থাকে।
যেসব নারীরা ভালো পড়াশোনা জানে, তারা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস
করিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারেন। যেসব নারীরা ঘরে বসে থাকে, তারা চাইলে
বিউটি পার্লারের কোর্স করে। বাড়ির মধ্যে কোন বিউটি পার্লার সার্ভিস দিয়ে
টাকা ইনকাম করতে পারেন। এছাড়াও পাইকারি ফ্যাক্টরি থেকে বিভিন্ন ধরনের জামা
কাপড় কিনে এনে, সেগুলো বাড়িতে বসে বিক্রি করে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন।
আপনার যদি কোন পণ্য থাকে বা কোন পণ্য পাইকারি কিনে এনে। সেগুলোকে আপনি অনলাইনে
পেজ খুলে বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে ইউটিউবে এবং ফেসবুকে ভিডিও
বানিয়ে ভালো টাকা ইনকাম করা যাচ্ছে। আপনি যে কাজে দক্ষ সেই কাজ সম্পর্কে ভিডিও
বানান অথবা আপনি যদি রান্নার কাজ পারেন। তবে রান্না করে সেই রান্নার ভিডিও
বানিয়ে ফেসবুক পেজ অথবা ইউটিউব চ্যানেলে ছাড়তে পারেন।
এভাবে ধৈর্য ধরে কাজ করলে একটা সময় আপনি ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে ভালো টাকা
ইনকাম করতে পারেন। আরো অনেক ধরনের কাজ আছে, যেগুলো নারীরা ঘরে বসে
থেকেই করতে পারবে এবং সে কাজগুলো করে মাস শেষে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবে। সে
কাজ হচ্ছে আর্টিকেল লিখে ইনকাম। এটা বাড়িতে বসে থেকেই করা যায় এবং মাস
শেষে ভালো টাকা ইনকাম করা যায়।
যদি বাড়িতে বসে থেকে আর্টিকেল লিখে ইনকাম করতে চান? অথবা আর্টিকেল লিখে কিভাবে
ইনকাম করবেন তার পুরো কোর্স করতে চান? তাহলে আমাদের যোগাযোগ পেজে মেসেজ দিবেন।
আমরা আর্টিকেল কিভাবে লিখতে হয় এবং কিভাবে ইনকাম করতে হয়। তার পুরো
প্রসেস নিয়ে আপনাকে একটি কোর্স করাবো। যে কোর্স করার পর আপনি খুব সহজেই
আর্টিকেল লিখতে পারবেন এবং বাড়িতে বসে থেকে ইনকাম করতে পারবেন।
নারীরা কিভাবে ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারে
প্রথমে নারীদেরকে তার পছন্দের বিষয় ভালোভাবে জানতে হবে এবং তার ওপর অভিজ্ঞতা
নিতে হবে। ভালোভাবে জানা ও অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর, সেই অভিজ্ঞতা দিয়ে
তাকে প্রথমে ছোট করে ব্যবসা শুরু করতে হবে। যেমন ধরেন একজন
নারী রান্নার কাজে অনেক ভালো ও রান্নায় সে দক্ষতা অর্জন করেছে। তাহলে
প্রথমে সে অল্প কিছু রান্না করবে। যেমন ধরেন, আচার তৈরি করল
এবং ওই আচার সে অনলাইনে বিভিন্ন প্লাটফর্মে মার্কেটিং করে বিক্রি করা
শুরু করলো। আস্তে আস্তে তার সে আচার বিক্রি হবে এবং পরে যখন বেশি অর্ডার পাবে।
তখন সে বেশি করে আচার তৈরি করবে। আস্তে আস্তে এই ব্যবসার মধ্যে তিনি আরো কিছু
নতুন খাবার এড করতে পারে। আবার কোন নারী যদি অনলাইনে জামা কাপড়
বিশেষ করে থ্রিপিস শাড়ি ওড়না চাদর এবং ছোট বাচ্চাদের
পোশাক বিক্রি করতে চাই।
তারা প্রথমে অল্প কিছু কাপড় নিয়ে সেগুলোকে অনলাইনে মার্কেটিং করে বিক্রি
করতে পারে। পরবর্তীতে যখন সেগুলো আস্তে আস্তে বিক্রি হবে এবং বেশি বেশি
অর্ডার আসবে। তখন সে তার ব্যবসাকে আরো বড় করতে পারবে। এই ভাবেই একজন
নারীকে ছোট থেকে ব্যবসা শুরু করতে হবে। তাহলে সে তার ব্যবসা সাফল্য অর্জন করতে
পারবে। তবে অবশ্যই ব্যবসা করতে হলে ধৈর্য এবং পরিশ্রম অনেক বেশি লাগবে।
নারীদের মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস
নারীদের স্বাবলম্বী হতে হলে তার মানসিক শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস থাকা
লাগবে। কারণ মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসী একজন নারীকে স্বাবলম্বী করে
গড়ে তুলতে সাহায্য করে। যে কোন কাজ শুরু করতে এবং সেটাকে ধৈর্য
ধরে করতে মানসিক শক্তির অনেক দরকার হয় এবং এই কাজকে ধরে
রাখতে এবং কাজের সফলতা নিয়ে আসতে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হতে হয়।
একজন নারীর মধ্যে যদি মানসিক শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস থাকে, তাহলে সে তার
দক্ষতার জন্য একটা সময় অনেক ভালো সাফল্য লাভ করতে পারে। একজন নারীর
সাফল্যের পেছনে তার মূল হিসেবে কাজ করে আত্মবিশ্বাস। তাই একজন
নারী স্বাবলম্বী হওয়ার আগে, অবশ্যই তার মানুষসিক শক্তি থাকা লাগবে এবং
নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। স্বাবলম্বী হতে মানসিক শক্তি ও
আত্মবিশ্বাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
নারীদের স্বাবলম্বী হতে কিছু বাধা এবং তার সমাধান
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য অনেক ধরনের বাধা আসে। এই বাধা গুলো যে নারীরা
পার করতে পারে। তারাই নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। নারীদের
স্বাবলম্বী হতে সবথেকে বড় যে বাধা, সেটা হচ্ছে পারিবারিক এবং সামাজিক
বাধা। অনেকেই নারীদের কাজ করাকে ভালো চোখে দেখেনা এবং নারীদেরকে কাজ করতে
নিরউৎসাহিত করে। আবার কোনো কাজ শুরু করতে গেলে প্রথমেই অনেক টাকার দরকার
পড়ে।
যার অভাবে অনেক নারীরা তাদের ইচ্ছা থাকার সত্ত্বেও কোন কাজ করতে পারে
না। নারীদের ভালো কিছু করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি
সেই নারীর দক্ষতার ঘাটতি থাকে এবং নিজের ওপর ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস কম
থাকে। আবার অনেকেই অলসতার কারণে তার কাঙ্খিত সফলতা পাই না। তাই একজন
নারীকে স্বাবলম্বী হতে হলে, অবশ্যই তার পরিবারের সাথে কথা বলতে হবে। সে যে কাজে
আগ্রহী তা শুরু করতে হবে।
টাকার সমস্যা থাকলে একদম ছোট থেকে শুরু করতে হবে এবং সব
সময় মনে ইচ্ছা শক্তি রাখতে হবে এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, যে আমি
এই কাজ পারব। কাজের উপর ভালোভাবে দক্ষ অর্জন করতে হবে এবং সঠিক নিয়ম মেনে
সঠিক ব্যবস্থাপনায় কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ধৈর্য ধরে যদি নারীরা এই
কাজগুলো করতে পারে, তাহলে অবশ্যই সে তার পথের সকল বাধা দূর
করে সফলতার দিকে এগোবে।
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার বাস্তব উদাহরণ
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে আমার বলা লাগবে না। কারণ আপনারাই অনলাইনে দেখতে পাবেন
অথবা আপনার এলাকার আশেপাশে অনেক এরকম মহিলাকে দেখতে পাবেন। যারা ছোট থেকে
কাজ শুরু করে সেটা এখন বড় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে আপনি অনলাইনে
দেখতে পাবেন, অনেক গৃহিণী যারা রান্না করে অনলাইনে বিক্রি করে থাকে।
বিশেষ করে ঘরের তৈরির আচার, পিঠা এবং আরো বিভিন্ন ধরনের রান্নার
আইটেম। বর্তমান সময়ে অনেক নারীরা পার্লারের কাজ শিখছে। পরবর্তীতে বাড়িতে
ছোট করে এই কাজ করে মানুষকে সার্ভিস দিচ্ছে এবং একটা সময় সে বড় একটা পার্লার
দিয়ে দিচ্ছে। আবার দেখতে পাবেন অনেকেই আছে যারা, তাদের হাতের কাজের দক্ষতাকে
কাজে লাগিয়ে।
বিভিন্ন ধরনের জিনিসপাতি তৈরি করে এবং সেগুলোকে অনলাইনে বা পরিচিত মানুষদের
কাছে বিক্রি করে।আস্তে আস্তে বড় দোকান দিয়েছে এবং সেখানে সে কর্মচারী রেখে,
তাদেরকে বেতন দিয়ে তার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এরকম অনেক মহিলা আছে, যারা
তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আস্তে আস্তে ছোট থেকে বড় ব্যবসায় রূপ দিয়েছে।
এইজন্য নারী যদি নিজেকে স্বাবলম্বী করতে চাই, তাহলে অবশ্যই তার মধ্যে
ইচ্ছা শক্তি থাকতে হবে এবং তার নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সে যদি তার
ইচ্ছা শক্তি দিয়ে এবং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ধৈর্য ধরে কাজ করতে পারে। তাহলে
একটা সময় সে নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
প্রশ্নঃ মেয়েদের স্বাবলম্বী হওয়ার উপায় কি কি?
উত্তরঃ মেয়েদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রধান উপায় হচ্ছে, তার নিজের উপর
বিশ্বাস রাখতে হবে। তার ইচ্ছা শক্তি অনেক বেশি থাকতে হবে। এরপর যেগুলো
খারাপ চিন্তা সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। নিজের দক্ষতাকে বাড়াতে
হবে। মানুষের সামনে কথা বলার অভিজ্ঞতা তৈরি করতে হবে। শিক্ষা অর্জন করতে
হবে এবং দক্ষতাকে আস্তে আস্তে বাস্তবে কাজে লাগাতে হবে।
প্রশ্নঃ ঘরে বসে কোন কাজ সবচেয়ে সহজ?
উত্তরঃ ঘরে বসে সবচেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে পণ্য প্যাকেজিং করা। আপনি যদি
ঘরে বসে পণ্য প্যাকেজিং করেন, তাহলে এটা থেকে আপনি মাসে ভালো টাকা ইনকাম
করতে পারবেন। এটাই অত বেশি অভিজ্ঞ না হলেও চলে। এছাড়াও ঘরে বসে আর্টিকেল
রাইটিং করা অনেক সহজ, যেটা ভালোভাবে করতে পারলে। আপনি মাস শেষে ভালো টাকা
আয় করতে পারবেন।
প্রশ্নঃ নারীরা পড়ালেখায় কম থাকলে স্বাবলম্বী হতে পারবে কি?
উত্তরঃ স্বাবলম্বী হতে হলে শুধু পড়ালেখা করলেই হবে না। বরং বাস্তব
অভিজ্ঞতা দরকার হবে। নারীরা যদি বেশি পড়ালেখা না হয়। তার পরেও নিজেকে
স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারবে। যদি সে কোন কাজের উপর ভালোভাবে দক্ষ অর্জন
করে এবং এই দক্ষ সে বাস্তবে প্রয়োগ করে। তাহলে সে আস্তে আস্তে
তার ধৈর্যের মাধ্যমে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে পারবে।
প্রশ্নঃ স্বাবলম্বী হতে কি অনেক টাকা দরকার হয়?
উত্তরঃ আমাদের অনেকেরই ভুল ধারণা যে স্বাবলম্বী হতে বা কোন কিছু শুরু করতে হলে,
অনেক টাকা দরকার। কিন্তু বাস্তবে এত টাকা না হলেও চলবে। এরকম অনেক উদাহরণ আছে
বা চোখের সামনে অনেক সাকসেসফুল মানুষ আছে। যারা ছোট থেকে শুরু করে আজ, তাদের
ব্যবসাকে বড় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তাই স্বাবলম্বী হতে হলে, অনেক টাকা দরকার
হয় না। বরং দরকার হয় নিজের উপর বিশ্বাস এবং কাজ করার ইচ্ছা।
প্রশ্নঃ ফ্রিল্যান্সিং করে কি স্বাবলম্বী হওয়া যায়?
উত্তরঃ আপনি যদি ভালোভাবে ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা অর্জন করতে পারেন এবং সে
অনুযায়ী আপনি বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বা অফলাইন মার্কেটগুলোতে এসে কাজ
করতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আপনি নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।
এছাড়াও আপনি আপনার এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে, অন্যকে শিক্ষা দিতে পারেন। অথবা
কোর্স তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন বা টিউশনি করাতে পারেন।
মন্তব্যঃ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার উপায়
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার উপায় সম্পর্কে আজকে আমি প্রতিটা ধাপ আপনাদের
জানিয়েছি। একজন নারী নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে অনেক কষ্ট ও
বাধার মুখে পড়ে হয়। তবে একজন নারীর মধ্যে যদি তার ইচ্ছা শক্তি এবং তার
আত্মবিশ্বাস থাকে, তাহলে কোনো বাধা তাকে হার মানাতে পারবে না। নারীরা যদি
কোন কাজে দক্ষ হয়ে থাকে এবং সেই দক্ষতা বাস্তবে কাজে লাগিয়ে ছোট থেকে যদি
শুরু করে। তাহলে তাদের ধৈর্য এবং ইচ্ছা শক্তি দিয়ে,
এ কাজকেই তারা বড় কাজে রূপান্তর করতে পারবে। কিন্তু যেকোনো কাজ শুরু করার আগে,
অবশ্যই ভালোভাবে সে কাজের উপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে ও সঠিক নিয়মে পরিকল্পনা
করে ধৈর্যের সাথে সে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আশাকরছি আজকের উক্ত আলোচনা
থেকে আপনি কিভাবে নারীরা নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারবে। তার উপায়
সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এরকম আরো তথ্য পেতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে
নিয়মিত আসবেন।


অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url