ঘরে বসে পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা করার উপায় ২০২৬

ঘরে বসে পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা কিভাবে আপনি করবেন এবং এই ব্যবসা লাভজনক কিনা সেই সকল তথ্য নিয়ে এই আর্টিকেলের মধ্যে বিস্তারিত থাকছে।
ঘরে-বসে-পণ্য-প্যাকেজিং-ব্যবসা
আপনি যদি বাড়িতে বসে থেকে পণ্য প্যাকেজিং করে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে চান, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য অনেক ভালো হবে। এখানে আপনি জানতে পারবেন প্যাকেজিং বাবসা কিভাবে শুরু করা থেকে কিভাবে ভালো টাকা ইনকাম করা যায় তার পুরো নিয়ম।

পেজ সূচিপত্রঃ ঘরে বসে পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা

ঘরে বসে পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা

ঘরে বসে পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা করে আপনি নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারবেন। বর্তমান সময়ে এই ব্যবসাটি অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেকেই আছে যারা এই ব্যবসাকে কাজে লাগিয়ে মাসে ভালো টাকা ইনকাম করছে। এই ব্যবসা জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হচ্ছে এই ব্যবসাটা করার জন্য অনেক কম টাকা বা মূলধন কম দিয়েই করা যায়। আপনি যদি ঘরে বসে থেকে পণ্য প্যাকেজিং
করে ভালো টাকা ইনকাম করতে চান বা এই ব্যবসা আপনি যদি শুরু করতে চান, তাহলে আপনার লাগবে সঠিক পরিকল্পনা। তবে তার আগে এই পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করতে চাইলে। সর্বপ্রথম আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে আপনি কি ধরনের পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন। কারণ বাজারে অনেক ধরনের পণ্য প্যাকেজিং করার ব্যবস্থা আছে যেমন ধরেন, 

খাদ্য প্যাকেজিংঃ খাদ্য প্যাকেজিং এর মধ্যে আপনি মসলা, চা, কফি, ডাল, চাল, বাদাম, চানাচুর, চিপস বিভিন্ন শুকনো যে খাবারগুলো আছে সেগুলো প্যাকেজিং করতে পারেন।

রূপচর্চার জন্য ব্যবহার করা পণ্য প্যাকেজিংঃ যেমন ফেস পাউডার, ক্রিম, বডি লোসন, সাবান ইত্যাদি।

হাতের তৈরি পণ্য প্যাকেজিংঃ যেমন গয়না, মোমবাতি, শোপিস এবং বিভিন্ন ধরনের উপহার।

ইলেকট্রনিক পণ্য প্যাকেজিংঃ এগুলোর মধ্যে মোবাইল এক্সেসরিজ, বৈদ্যুতিক বিভিন্ন কাজের জিনিস, চার্জার, ইয়ারফোন এবং ছোট বিভিন্ন ধরনের গেজেট।

পোশাক প্যাকেজিংঃ যেমন গেঞ্জি, প্যান্ট, শাড়ি, থ্রি পিস, বাচ্চাদের পোশাক ইত্যাদি।

ই কমার্স পণ্য প্যাকেজিংঃ যেগুলো অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার হয় এবং কুরিয়ারে ডেলিভারি হয় সেসব পণ্য প্যাকেজিং করা।

আপনি কোন ধরনের প্যাকেজিং পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে চান সেটা যদি নির্ধারণ করতে পারেন। তখন আপনি আপনার স্থানীয় বাজারে বা অনলাইনে যারা প্যাকেজিং করিয়ে নেয়। সেসব বিক্রেতাদের সাথে কথা বলবেন এবং তাদের কাছ থেকে আপনি কাজ নিবেন। অনেক কোম্পানি আছে, যারা তাদের পণ্য প্যাকেজিং করার জন্য থার্ড পার্টি হিসেবে কাউকে দিয়ে করিয়ে নিয়ে থাকে। 

আপনি তাদের সাথে চুক্তি করে তাদের পণ্য প্যাকেটিং করে দিতে পারেন। এ ব্যবসা শুরু করতে প্রথমে আপনার পরিষ্কার ভালো একটা ঘর লাগবে। ঘর ঠিক করা হলে, অবশ্যই পণ্য প্যাকেজিং করার জন্য যেসব জিনিসপত্রের দরকার হয় সেগুলোর ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন ওজন মেশিন, শিলার মেশিন, প্যাকেট এবং প্যাকেটে লাগানো ব্র্যান্ডের লেবেল আরো ইত্যাদি।

পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা করতে প্রথমেই আপনার অনেক টাকা লাগবে না। শুধুমাত্র এই ব্যবসা শুরু করতে যেসব জিনিসগুলো লাগবে, সেই জিনিসগুলো কিনতে হবে। এইগুলো কিনা হলে আপনি খুব সহজেই আপনার এই পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করে দিতে পারবেন। তাই বলা যায় যে প্রথমে অনেক বেশি টাকা আপনার এই ব্যবসাতে লাগবে না। কম টাকা দিয়েই এই ব্যবসা আপনি শুরু করতে পারবেন।

বাড়িতে বসে পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা করতে আরো যা যা করবেন

পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা যারা বাড়িতে বেকার বসে আছেন। যারা গৃহিণী, পড়ালেখা করছেন, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি অথবা চাকরির পাশাপাশি টাকা ইনকাম করতে চাইছেন। তাদের জন্য এই ব্যবসাটা অনেক ভালো হতে পারে। কারণ এই ব্যবসা খুব সহজেই শুরু করা যায়। এই ব্যবসা সব থেকে ভালো মহিলাদের জন্য। মহিলারা বাড়িতে বসে থেকে খুব সহজেই এ ব্যবসাটি করতে পারবে।

এই ব্যবসাটি করতে গেলে প্রথমে আপনার হয়তো খুব একটা বেশি লাভ আসবে না। কিন্তু আস্তে আস্তে আপনি যখন এটাতে দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং আপনার পরিচিতি বাড়বে তখন আপনি বড় ধরনের অর্ডার নিতে পারবেন এবং আস্তে আস্তে আপনার ইনকাম বাড়তে থাকবে। তবে এই ব্যবসা থেকে টাকা ইনকাম নির্ভর করবে আপনি কিভাবে কাজ করছেন তার ওপর।

আপনি যদি আপনার নিজের পণ্য প্যাকেটিং করে বিক্রি করেন, তাহলে এতে আপনার লাভ বেশি হবে। আর আপনি যদি অন্যের পণ্যকে প্যাকেটিং করে বিক্রি করেন, তাহলে লাভ তুলনামূলক কম হবে।আপনি যদি এই পণ্য নিয়মিত অর্ডার পান, তাহলে এটা আপনার মাসে ভালো টাকা ইনকাম করতে সাহায্য করবে। তবে এই ব্যবসা করতে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যেমন, আপনি যদি কোন খাদ্য পণ্য প্যাকেজিং করেন,

তাহলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করবেন। আপনি যাদের পণ্য প্যাকেজিং করবেন, সেই কোম্পানির সাথে ভালোভাবে সব বিষয়ে জেনে শুনে চুক্তি করবেন। অবশ্যই আপনি যে প্যাকেজিং করছেন, সেই প্যাকেজিং এর মান যেন অনেক ভালো হয় এবং গ্রাহক যেন আপনার প্যাকেজিং পছন্দ করে এবং এর উপর বিশ্বাস রাখতে পারে। এ ব্যবসা থেকে ভালো কিছু করতে চাইলে, আপনাকে সততার সাথে ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

প্যাকেজিং ব্যবসা কি

প্যাকেজিং ব্যবসা কি এই বিষয়ে যদি আপনি জানতে চান, তাহলে আগে আপনাকে জানতে হবে যে প্যাকেজিং আসলে কি। প্যাকেজিং হচ্ছে কোন একটি পণ্যকে কাগজের প্যাকেট বক্সে অথবা প্লাস্টিক কোন বক্সে রেখে সুন্দর করে সুরক্ষিত করা হয় এবং সেই প্যাকেট গুলো দেখতে অনেক সুন্দর আকর্ষণীয় করা হয় এবং লেভেল লাগানো হয় একেই প্যাকেজিং বলে। এবার যদি কোন কোম্পানির কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে।

তাদের পণ্যগুলোকে প্যাকেজিং করে দেন, তাহলে এটাকেই বলা হয় প্যাকেজিং ব্যবসা। পণ্য প্যাকেজিং করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, পণ্য যেন ভেঙে না যায়, নষ্ট না হয়ে যায় বা অন্যের কোন ধরনের ক্ষতি যেন না হয়, তার জন্য করা হয়। এছাড়াও প্যাকেজিং দেখতে অনেক সুন্দর হয়। যার কারণে গ্রাহকেরাও পণ্য কিনতে আগ্রহ দেখায়। প্যাকেজিং করলে কোম্পানির লোগো, নাম ও বিভিন্ন ধরনের তথ্য থাকে।

এটা কুরিয়ারে বা ডেলিভারি করাতেও অনেক সুবিধা হয়। এই ব্যবসাটা করতে হয় বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্লাস্টিক, কাগজে তৈরি করা বক্সে অথবা এমনি কোন বক্সে ভরে। সেটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে তার ওপর লেভেল লাগিয়ে, ওজন মেপে সিল করা হয়। এই প্যাকেজিং ব্যবসা বেশিরভাগ হয়ে থাকে। খাদ্যপণ্য, কসমেটিকস পণ্য, বিভিন্ন ধরনের দরকারি ঔষধ, অনলাইন বিভিন্ন আইটেম এবং গিফট আইটেম ইত্যাদি।

প্যাকেজিং কি লাভজনক ব্যবসা?

সব ধরনের ব্যবসা লাভজনক, তবে সে ব্যবসাতে লাভ করতে হলে দরকার হয় সঠিক পরিকল্পনা। তেমনি প্যাকেজিং ব্যবসা করেও লাভ ভালো করা যাবে। তবে এই লাভ নির্ভর করবে পুরোটাই আপনার উপর। কিভাবে আপনি এ ব্যবসা করছেন, কতটুকু করছেন, কত অর্ডার পাচ্ছেন ইত্যাদি বিষয়ের উপর।

বর্তমান সময়ে প্যাকেজিং ব্যবসা দিন দিন বাড়ছে। কারণ অনেক বড় বড় কোম্পানি আছে, যারা তাদের বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্যাকেজিং করার জন্য লোক খুজে থাকে। তাদেরকে ভালো পরিমাণে টাকা দিয়ে এই কাজগুলো তারা করিয়ে নেয়। বর্তমানে সব ধরনের পণ্য প্যাকেজিং করা লাগে, তাই এই প্যাকেজিং করার ওপর চাহিদাও সবার অনেক বেশি। চাহিদা বেশি হওয়ার কারণও আছে,

বর্তমান সময়ে প্যাকেজিং যত সুন্দর হয় পণ্য বিক্রি তত বেশি হয়। তাই বড় বড় কোম্পানিগুলো এই পণ্য প্যাকেজিং করার দিকে ভালো নজর দিচ্ছে। যার কারণে আপনি খুব সহজেই এইসব কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে, তাদের পণ্যগুলোকে প্যাকেজিং করে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এই ব্যবসা শুরু করতে অনেক বেশি টাকার দরকার হয় না।

ছোট করে শুরু করলে দশ থেকে বিশ হাজার টাকার মধ্যেই আপনি শুরু করতে পারবেন। এই পণ্য প্যাকেজিং করে ১০ থেকে ২০% পর্যন্ত লাভ করতে পারবেন। এই ব্যবসা আপনি আপনার ঘরে বসেই করতে পারবেন। যার কারণে আলাদা কোন ঘর ভাড়া করতে হবে না। ফলে টাকা বাচবে এবং আপনার লাভ বেশি হবে। তবে আপনি যদি নিজের ব্যবসা করে,

সেটাকে প্যাকেজিং করে মার্কেটিং করে বিক্রি করতে পারেন, তাহলে এই ব্যবসায় আরো বেশি লাভ করতে পারবেন। কিন্তু এটাতে ঝুঁকি থাকতে পারে। সঠিক নিয়ম মেনে এবং ধৈর্য ধরে যদি আপনি এই প্যাকেজিং ব্যবসা করতে পারেন। তাহলে কম টাকায় আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন এবং ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যেটা অনেক লাভজনক হবে আপনার জন্য।

ঘরে বসে কোন ব্যবসা শুরু করা ভালো

ঘরে বসে অনেক ধরনের ব্যবসা করা যায়, তবে অবশ্যই যে ব্যবসাটি আপনি করতে চাইছেন। সে ব্যবসা সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে বা আপনাকে অভিজ্ঞ হতে হবে। ঘরে বসে ব্যবসা করতে চাইলে প্রথমেই আপনি চেষ্টা করতে পারেন, পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করা। এটা অনেক সহজ এবং ঘরে বসে কম খরচে শুরু করতে পারবেন।

যেটা থেকে আপনি মাস শেষে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি কোন পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে চান, তাহলে সেটা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং করে ঘরে বসে থেকেই আপনার পণ্য বিক্রি করতে পারেন। পণ্য হিসেবে আপনি বিভিন্ন খাবার পণ্য, কসমেটিকস পণ্য, জামাকাপড়, ওষুধ ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন। বর্তমান সময়ে এই ব্যবসাটা অনেকে করছে 

এবং মাস শেষে ভালো টাকা লাভ করছে। আপনার যদি কোন কাজে দক্ষ থাকেন। যেমন ধরেন, হাতের তৈরি কোন কাজ করতে বা কোন পণ্য তৈরি করতে পারেন। তাহলে সেগুলো তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং কোন অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকেন, তাহলে আপনার অর্জন করা সেই জ্ঞানগুলো। অনলাইনের মাধ্যমে আপনি বাড়িতে বসে থেকেই অন্যকে শেখাতে পারেন। 

এর বিনিময়ে আপনি ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অথবা বাড়িতে বসে থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য মার্কেটিং করে দিতে পারেন। এগুলো বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আপনি যদি এই ব্যবসা গুলো করতে পারেন। তাহলে আপনি খুব তাড়াতাড়ি একটা ভালো পর্যায়ে আপনার ব্যবসাকে নিয়ে যেতে পারবেন। তবে অবশ্যই আপনাকে ধৈর্য ধরে কাজ করে যেতে হবে।

এই ব্যবসা শুরু করতে কি কি লাগবে

আপনি যদি এই পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে প্রথমে কোন পণ্য প্যাকেজিং করবেন সেটা নির্বাচন করতে হবে। আপনার পণ্য নির্বাচন করা হলে, এই ব্যবসা করতে যেসব যন্ত্রপাতি দরকার হবে, সেগুলোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্যাকেজিং করার যে সব যন্ত্রপাতি লাগবে সেগুলো হচ্ছে, সিল মেশিন, ওজন করা মেশিন,
লেভেল স্টিকার, প্যাকেট কাটার জন্য কাটার, টেবিল, চেয়ার, বক্স, ব্যাগ এবং ব্র্যান্ডিং স্টিকার। আপনি যেসব পণ্য নিয়ে কাজ করবেন, সেই পণ্যগুলোকে স্টকে রাখবেন। আপনার পণ্যগুলো এবং এই ব্যবসা শুরু করার জন্য একটি ঘরের দরকার হবে। আপনি কত বড় বা কত পরিসরে ব্যবসাটা করতে চাচ্ছেন, সে অনুযায়ী ঘর বড় বা ছোট নিতে হবে।

আপনি যদি খাদ্যপণ্য বা কসমেটিক্স প্যাকেট করেন, তাহলে আপনাকে বিআরটি স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে অনুমতি নিতে হবে। অনলাইনে বা হোম ডেলিভারির ব্যবসা করতে হলে, এই ধরনের অনুমতি নেওয়া খুব একটা দরকার হয় না। তবে নিরাপদে ব্যবসা  করতে চাইলে অনুমতি নেওয়া ভালো হবে। এই ব্যবসা শুরু করার জন্য যেসব যন্ত্রপাতির কথা বললাম,

সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন থাকা লাগবে। যেমন একটি সেল মেশিন এর দাম পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা, স্কেলের দাম এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। লেভেল মেশিন বা স্টিকার এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। টেবিল চেয়ার এবং ছোট ছোট জিনিসপাতির জন্য তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা সর্বমোট ওই ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা মতো লাগবে।

প্যাকেজিং কাজ কোথা থেকে পাবেন

ঘরে বসে পন্য প্যাকেজিং ব্যবসা করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে প্যাকেজিং করার কাজ ভালোভাবে পেতে হবে। ভালোভাবে যদি আপনি প্যাকেটিং করার অর্ডার না পান, তাহলে এই ব্যবসা কোন কাজে আসবে না। তাই অনেকেই আছে যারা এই প্যাকেজিং ব্যবসা বা কাজ কোথা থেকে অর্ডার নিয়ে করবে তা জানে না। আমি এখন এমন কিছু মাধ্যম বলবো যে মাধ্যমগুলো থেকে আপনি চেষ্টা করলে খুব সহজেই প্যাকেজিং কাজ পেয়ে যাবেন।

স্থানীয় দোকান বা পাইকারি যারা ব্যবসা করেঃ প্রথমে আপনি কি ধরনের পণ্য প্যাকেজিং করতে চান সেটাকে নির্ধারণ করবেন। নির্ধারণ করা হলে যারা এই ধরনের পণ্যের ব্যবসা করে। সেসব ব্যবসায়ীদের সাথে আপনি সরাসরি যোগাযোগ করবেন। তাদেরকে বলবেন, আপনি প্যাকেজিং এর কাজ করেন। তারপর তাদেরকে আপনার কাজের স্যাম্পল দেখাবেন এবং প্রতি প্যাকেটে আপনি কত টাকা নিবেন তা তাদেরকে বলবেন।

ফ্যাক্টরিতে যোগাযোগ করবেনঃ যেসব ফ্যাক্টরিতে শুধুমাত্র পণ্য উৎপাদন করা হয় এবং তারা প্যাকেটিং বাইরের অন্য কাউকে দিয়ে করায়। সেসকল ফ্যাক্টরির এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ করবেন। তাদেরকে বলবেন আপনি তাদের পণ্য প্যাকেজিং করে দিবেন। আপনি আপনার কাজের স্যাম্পল দেখাবেন ও আপনি কত টাকা নিবেন সেটাও তাদেরকে বলবেন। তাদের সাথে কথা বলে আপনি খুব সহজেই এই কাজগুলো নিতে পারবেন।

ফেসবুক ও অনলাইন গ্রুপ থেকে কাজ নিবেনঃ আপনি ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্যাকেজিং জব গ্রুপ পেয়ে যাবেন। সেই সব গ্রুপগুলোতে জয়েন হয়ে থাকবেন। সেখানে কাজের কোন অর্ডার বা নোটিশ আসলে দ্রুত তাদের সাথে কথা বলে, তাদের কাছ থেকে কাজ নিবেন। এছাড়াও গ্রুপগুলোতে আপনি নিয়মিত পোস্ট করবেন। যে আপনি পণ্য প্যাকেজিং সার্ভিস দিচ্ছেন ও কি কি পণ্য প্যাকেজিং করেন সেগুলো এই পোস্টে উল্লেখ করবেন।

ই কমার্স ব্যবসায়িকদের কাছ থেকে কাজ নিতে পারেনঃ যারা অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা করে এবং প্রতিদিন অনেক পণ্য তারা বিক্রি করে। তাদের প্রতিদিন অনেক অর্ডার প্যাকেট করা লাগে। তাই তাদের সাথে আপনি যোগাযোগ করে, এই কাজ নিতে পারেন। যেমন দারাজ, ইভ্যালি, আজকের ডিল। এছাড়াও যারা ফেসবুকের বড় সেলার তাদের পেজে এসএমএস করে, তাদের সাথে কথা বলে কাজ নিতে পারেন।

প্যাকেজিং করার কাজ নিতে সব থেকে ভালো হবে। আপনি বড় ধরনের কোম্পানির পিছে না দড়িয়ে। যেগুলো নতুন কোম্পানি খুলছে বা ছোট ধরনের কোম্পানি, তাদের সাথে কথা বলবেন এবং তাদেরকে বলবেন আপনি পণ্য প্যাকেজিং করেন এবং আপনার পণ্য প্যাকেজিং তাদেরকে দেখাবেন। আপনি প্রতি প্যাকেটিং এ কত টাকা নিবেন, তা তাদেরকে জানাবেন।

প্যাকেজিং করে মাসে কত টাকা আয় করা যায়

বর্তমানে প্যাকেজিং করে মাসে ভালো টাকা ইনকাম করছে এরকম অনেকেই আছে। আপনি যদি ঠিক মত খুচরা পাইকারি ব্যবসায়িকদের কাছ থেকে পণ্য প্যাকেজিং এর অর্ডার পান, তাহলে দিনে যদি আপনি এক হাজার প্যাকেটিংয়ের কাজ করতে পারেন, তাহলে প্রতি প্যাকেটে কম করে হলেও দুই টাকা করে যদি আপনি নেন।

প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা আপনার ইনকাম হবে। এটাই মাস শেষে ৫০ হাজার টাকা হবে। এর মধ্যে আপনার খরচ বাদ দিলে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা মতো আপনার পকেটে থাকবে। আপনি যদি অনলাইন থেকে পণ্য প্যাকেটিং এর অর্ডার পান, তাহলে সেসব প্যাকেটিং এ প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা পেতে পারেন। অনলাইন থেকে দিনে যদি আপনি ১০০ টা অর্ডার পান, 

তাহলে প্রায় এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এটাও প্রায় মাস শেষে ৪০থেকে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম করা হবে। তারপরেও যদি আপনি এইভাবে কাজ না পান এবং অল্প অল্প করে কাজ পান এবং নতুন শুরু করেন তাহলে মাস শেষে আপনি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কম করে হলেও আয় করতে পারবেন।

প্যাকেজিং ব্যবসার সুবিধা এবং অসুবিধা

যেকোনো ব্যবসা করেন না কেন এর সুবিধা এবং অসুবিধা দুটোই থাকে। তেমনি প্যাকেজিং ব্যবসায় বেশ কিছু সুবিধা আছে, আবার বেশ কিছু অসুবিধাও আছে। তবে এগুলো অতিক্রম করে আপনি যদি ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে অবশ্যই আপনি ভালো কিছু করতে পারবেন এই ব্যবসা করে। এই ব্যবসার ভালো দিক হচ্ছে,

এ ব্যবসা করতে অনেক বেশি টাকার দরকার হয় না। আপনি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েই এ ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। এ ব্যবসা আপনি ঘরে বসে থেকেই করতে পারবেন এবং এই ব্যবসার সবসময় চাহিদাও থাকে। প্যাকেজিং করতে খুব একটা বেশি দক্ষ লাগে না, এটা বেশ কয়েকদিনের মধ্যেই শেখা যায়।

এই ব্যবসাটা ছোট থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে বড় করতে পারবেন। পরবর্তীতে নিজের পণ্য প্যাকেজিং করে বিক্রি করলে আপনি আরো ভালো লাভ করতে পারবেন। কিন্তু এর বেশ কিছু অসুবিধা আছে, যেমন এই ব্যবসা করতে চাইলে প্রথমে আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে। শুরুতে কাজ কম পাওয়া যায়,

তাই কাজ পাওয়ার জন্য আপনাকে বেশ খোঁজাখুঁজি বা দৌড়াদৌড়ি করা লাগবে। আপনি যদি শুধু প্যাকেট করার কাজ করেন, তাহলে এতে লাভ খুব একটা বেশি নাও হতে পারে। প্যাকেজিং করার প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তাই এই কাজ পেতে একটু কষ্ট হতে পারে। আপনি খাদ্যপণ্য প্যাকেজিং করতে চাইলে আপনাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ট্রেড লাইসেন্স ও অনুমতি নিতে হবে।

নিয়মিত আপনি যদি কাজ না পান, তাহলে আপনার ইনকাম কম হতে পারে। অনেক সময় ধরে এই পণ্য প্যাকেজিং করতে হয়। যেটা বসে ও দাঁড়িয়ে আপনাকে করতে হবে। যেটা অনেক সময় ক্লান্তির কারণ হয়ে যায়। তবে আপনি যদি ধৈর্য ধরে ছোট করে কম খরচে ভালোভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আপনি এই ব্যবসাতে লাভবান হতে পারবেন।

মহিলাদের জন্য ঘরে বসে ব্যবসা করার আইডিয়া

যেসব মহিলা বাড়িতে বসে থেকে কোন কাজ বা ব্যবসা করতে চাইছেন। তাদেরকে এখন আমি এমন কিছু ব্যবসার আইডিয়া বলবো যে ব্যবসা গুলো করে ঘরে বসে আপনি মাস শেষে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন। প্রথমেই আপনি যদি কোন কিছুতে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে সেই দক্ষতা আপনি কাজে লাগাবেন। আপনি যদি বাড়িতে বসে পিঠা,

বিস্কুট, আচার, মসলার অথবা শুকনো কোন খাবার বানাতে পারেন। তাহলে আপনি এইসব জিনিস গুলো বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে ফেসবুক পেজ খুলে অনেকেই এরকম বাড়িতে বিভিন্ন জিনিস বানিয়ে বিক্রি করছে এবং ভালো টাকা ইনকাম করছে। আপনি যদি ঘরে বসে থেকে কাপড়ের ব্যবসা করতে চান তাও পারবেন।

আপনি প্রথমে পাইকারি কোন ফ্যাক্টরি বা দোকানে গিয়ে শাড়ি, থ্রি পিস বা বাচ্চাদের জামা কাপড় কিনে নিয়ে আসতে পারে। সেগুলোর সুন্দর করে ছবি তুলবেন এবং ফেসবুক পেজে এই জামা কাপড়ের ছবিগুলো পোস্ট করবেন। দেখবেন সেখান থেকে আপনি খুব সহজেই কাস্টমার পাবেন ও ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। আপনি যদি হাতের তৈরি নকশি কাঁথা,

জামা কাপড় অথবা ঘর সাজানোর জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্র বানাতে পারেন। সেগুলোও আপনি আপনার পেজে বিক্রি করতে পারেন। এইসব জিনিস অনলাইনে ভালো বিক্রি হয়। তাছাড়া আপনি চাইলে ভালো ভালো কসমেটিক্স বিক্রি করতে পারেন। আপনি বাড়িতে বসে বিউটি পার্লার এর সার্ভিস চালু করতে পারেন। যেটা আপনাকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করা লাগবে। বর্তমানে এটা অনেক ভালো একটা ব্যবসা।

আর সব থেকে যেটা মহিলাদের জন্য ভালো ব্যবসা বাড়িতে বসে পণ্য প্যাকেজিং করা। আরো অনেক ব্যবসা আছে, যেগুলো মহিলারা বাড়িতে বসে থেকে করতে পারবে। তবে অবশ্যই এসব ব্যবসা করতে হলে অনেক ধৈর্য লাগবে। সঠিক পরিকল্পনা ও গাইডলাইন দরকার হবে। ধৈর্য ধরে সাহস নিয়ে এই কাজগুলো করতে থাকলে, একটা সময় অবশ্যই আপনি ব্যবসায় লাভ করতে পারবেন।

প্যাকেজিং সম্পর্কে কিছু আলোচিত প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ

প্রশ্নঃ প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগবে?
উত্তরঃ আপনি যদি প্রথম প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করেন, তাহলে ছোট করে প্রথমে শুরু করতে হবে। আর এর জন্য আপনার প্রায় ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা মত লাগবে। এই টাকাগুলো প্যাকেজিং করার জন্য যেসব জিনিসপত্র কেনা লাগবে সেগুলোতে খরচ হবে।

প্রশ্নঃ ঘরে বসে অনলাইনে কোন ধরনের ব্যবসা করা যায়?
উত্তরঃ আপনি ঘরে বসে থেকে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতে পারেন। এর মধ্যে আপনি চাইলে ঘরে তৈরি করা সরিষার তেল, মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুড়া এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করা বিভিন্ন ধরনের মসলা বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। তাছাড়া আপনি চাইলে জামাকাপড়ের ব্যবসা অনলাইনে করতে পারেন।
প্যাকেজিং-কি-লাভজনক-ব্যবসা
প্রশ্নঃ প্যাকেজিং কি লাভজনক ব্যবসা?
উত্তরঃ আপনি যদি ভালো কাজ বা অর্ডার পান যেমন ধরেন দিনে যদি আপনি ১০০০ প্যাকেজিং করতে পারেন। প্রতি প্যাকেজিং এ যদি আপনি দুই টাকা করে রাখেন, তাহলে প্রতিদিন আপনি ২০০০ টাকা ইনকাম করবেন। যেটা মাস শেষে দ্বারাই প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে আপনার পকেটে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা থাকবে। তাই সঠিক নিয়ম মেনে যদি করতে পারেন, তাহলে আপনি এই ব্যবসা থেকে লাভবান হতে পারবেন। তাই বলা যায় প্যাকেজিং ব্যবসা লাভজনক।

প্রশ্নঃ অল্প টাকায় কোন কোন অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায়?
উত্তরঃ অল্প টাকায় প্রথমে আপনি কিছু থ্রি পিস বা কাপড় কিনবেন বেশি না ১০ থেকে ১২ পিস মতো। তারপর সেগুলোর সুন্দর করে ছবি তুলে আপনার ফেসবুক পেজে ছাড়বেন। আস্তে আস্তে দেখবেন সেগুলো অনলাইনে ভালো বিক্রি হবে। প্রথমে কম করে কিনবেন এবং বিক্রি করবেন আস্তে আস্তে বিক্রি ভালো হলে পরিমাণ বাড়াবেন।
প্রশ্নঃ সবচেয়ে সহজ লাভজনক ব্যবসা কোনটি?
উত্তরঃ সবচেয়ে সহজ এবং লাভজনক ব্যবসা বলতে আমি পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসাকে বলবো। কারণ এই কাজে খুব বেশি দক্ষ হওয়া লাগে না এবং কয়েকদিন নিয়মিত করা হলে এ কাজ ভালো করা যায়। আবার এই ব্যবসাতে ভালোভাবে যদি অর্ডার পাওয়া যায়, তাহলে টাকা ভালো ইনকাম করা যায়। তাই আমি বলবো পণ্য প্যাকেজিং করা অনেক সহজ এবং অনেক লাভজনক একটি ব্যবসা।

মন্তব্যঃ ঘরে বসে পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা

ঘরে বসে পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা কিভাবে করবেন, কি নিয়মে করবেন তার সকল নিয়ম এবং উপায় সম্পর্কে আমি আপনাদেরকে জানিয়েছি। আপনি যদি ঘরে বসে থেকে এই পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করতে চান, তাহলে খুব সহজেই কম খরচে শুরু করতে পারবেন। আপনি যদি ধৈর্য ধরে এই ব্যবসাটি চালিয়ে যেতে পারেন ও নিয়মিত কাজ নিতে পারেন, তাহলে একটা সময় পর আপনি এই ব্যবসাতে ভালো লাভবান হবেন। তাই চেষ্টা করবেন ধৈর্য ধরে এই ব্যবসাটি করার।

কখনোই অধৈর্য হবেন না। যেকোন ব্যবসাতেই ধৈর্য লাগে, ধৈর্য ছাড়া কোন কাজই সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। এই ব্যবসা আপনি প্রথমে অল্প কিছু টাকা খরচ করে শুরু করবেন এবং পরবর্তীতে আস্তে আস্তে এই ব্যবসা বড় করার চেষ্টা করবেন। আমরা প্রতিনিয়ত এই সকল তথ্য সম্পর্কিত আর্টিকেল আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করি। তাই এইরকম সহজ এবং লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া জানতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত আসবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url