গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি এই লোনের সুবিধা অসুবিধা
গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি সম্পর্কে আজকে এই আর্টিকেলের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা
করা হবে। আপনারা যদি আজকের এই পুরো আলোচনাটি পড়েন, তাহলে গ্রামীণ ব্যাংক
থেকে কিভাবে আপনি খুব সহজে লোন নিতে পারবেন তা জানতে পারবেন।
এছাড়াও আজকের এই আলোচনাতে আপনারা গ্রামীণ ব্যাংক লোনের সুবিধা ও অসুবিধা
সম্পর্কেও জানতে পারবেন। তাই এখানে আর আলোচনা না বাড়িয়ে চলুন সকল
তথ্য নিচে গিয়ে জেনে আসি।
পেজ সূচিপত্রঃ গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি
- গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি
- গ্রামীণ ব্যাংক কোন ধরনের লোন দেয়
-
গ্রামীণ ব্যাংক লোন পাওয়ার যোগ্যতা
-
গ্রামীণ ব্যাংক লোন নিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
-
গ্রামীণ ব্যাংক লোন আবেদন করার নিয়ম
-
গ্রামীণ ব্যাংক লোনের সুদের হার কত
-
গ্রামীণ ব্যাংক লোন কিস্তির পদ্ধতি
-
গ্রামীণ ব্যাংক লোনের সুবিধা ও অসুবিধা
-
গ্রামীণ ব্যাংক লোন নেওয়ার সময় সতর্কতা
-
কাদের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক লোন উপযুক্ত নয়
-
গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ যেভাবে করবেন
-
গ্রামীণ ব্যাংক লোন নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
-
শেষ কথাঃ গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি
গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি
আপনারা গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেই জানতে চান। গ্রামীণ
ব্যাংক থেকে আপনি যদি ঋণ নিতে চান, তাহলে আপনাকে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা
লাগবে। যে নিয়মগুলো মানার পর আপনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে
পারবেন। কারণ অন্যসব ব্যাংকের থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের লোন নেওয়ার জন্য এর
পদ্ধতি আলাদা হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান,
আরো পড়ুনঃ মুখে লেবু দিলে কি ক্ষতি হয় জানেন কি
তাকে প্রথমেই তার গ্রামের গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। তারা সরাসরি
কোন লোন দেয় না, তাদের কিছু পদ্ধতি আছে সে পদ্ধতি অনুযায়ী আপনাকে তারা লোন
দিবে। তাদের এই নিয়মের মধ্যে প্রথম নিয়ম হচ্ছে, প্রথমে আপনাকে গ্রামীণ ব্যাংকের
সদস্য হতে হবে। শুধু আপনি হলেই হবে না। আপনার সাথে আরও পাঁচ জন সদস্য হতে হবে। এই
সদস্য গুলা মূলত আপনার এলাকারই লোকজনকে করা হয়। আপনি যখন সদস্য হবেন,
তখন আরো পাঁচজনকে নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করা হবে। গ্রুপের সদস্যরা সবাই সবাইকে
চিনবে এবং বিশ্বাস করবে। এর কারণ হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক লোন নেওয়ার সময় যে
ব্যক্তির লোন নিবে, তার কাছে কোন কিছু ব্যাংক জমা রাখে না। এখানে প্রমাণ হিসেবে
গ্রুপের সদস্যরাকেই প্রমান হিসেবে রাখা হয়। গ্রুপ তৈরি করার পর কিছুদিন গ্রামীণ
ব্যাংকের সাপ্তাহিক মিটিংয়ে যাওয়া লাগে এবং সেখানে কিছু টাকা সঞ্চয় হিসেবে জমা
দিতে হয়।
এইভাবে আপনাকে ব্যাংকের লোকেরা পরীক্ষা করবে। যে আপনি তাদের নিয়ম মেনে
চলছেন কিনা। যখন তারা দেখবে সদস্যরা ব্যাংকের নিয়ম মেনে চলছে। তখন ব্যাংক
আপনাকে মনে করবে, আপনি লোন নেওয়ার জন্য উপযুক্ত। আপনি তখন ব্যাংক থেকে লোনের
জন্য আবেদন ফরম তুলতে পারবেন। আবেদন ফরম ভালোভাবে সকল তথ্য দিয়ে পূরণ করার
পর। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সেই ফরমের সাথে এড করে ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
তারপর ব্যাংকে জানাতে হবে, আপনি আসলে কি উদ্দেশ্যে লোনটি নিতে চাচ্ছেন।
তারপর ব্যাংক আপনার লোনের আবেদনপত্র যাচাই করবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে তারা
আপনাকে লোন দিয়ে দেবে। পরবর্তীতে সেই লোনের টাকা আপনাকে সাপ্তাহিক বা মাসিক
হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। আপনি যদি নিয়মিত এই লোনের কিস্তির টাকা দিতে পারেন,
তাহলে পরবর্তীতে আপনি এই ব্যাংক থেকে বড় ধরনের লোন নিতে পারবেন।
গ্রামীণ ব্যাংক কোন ধরনের লোন দেয়
গ্রামীণ ব্যাংকের লোন দেওয়ার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে তারা গরীব এবং কম আয় করা
মানুষের জীবনের উন্নতি করা এবং তাদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। তারা
তাদের এই লোন দেওয়ার জন্য মানুষের কাছে কোন জামানত নেয় না। তারা তাদের কিছু
পদ্ধতির মাধ্যমে এই লোন মানুষকে দিয়ে থাকে।
এই লোন যারা ছোটখাটো ব্যবসা করতে চাই, কৃষি কাজ করতে চাই, গবাদি পশু পাখি পালন
করতে চাই, মৎস্য চাষ করতে চাই, হস্তশিল্পের ব্যবসা করতে চাই এছাড়াও আরো
বেশ কিছু কাজ আছে সেগুলো যারা করতে চাই তাদেরকে দেওয়া হয়। গ্রামীণ
ব্যাংক নারীদের উদ্যোক্তা তৈরি করার জন্য আলাদা নিয়মে লোনের ব্যবস্থা করে
থাকে।
এছাড়াও জরুরী দরকারে যেমন চিকিৎসার ও শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও বিভিন্ন
প্রয়োজনে এই ব্যাংক থেকে ছোট ঋণ থেকে বড় ঋণ দেওয়া হয়। গ্রামীণ ব্যাংক টোটাল
৬ ধরনের লোন দিয়ে থাকে। এই ছয় ধরনের লোন এর নাম হচ্ছে কৃষি লোন, বাড়িঘর
তৈরি করার লোন, শিক্ষা লোন, ব্যবসা লোন, ছোট লোন, গরু ছাগল
ক্রয় করার লোন।
গ্রামীণ ব্যাংক লোন পাওয়ার যোগ্যতা
গ্রামীণ ব্যাংক থেকে আপনি যদি লোন নিতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনার কিছু যোগ্যতা
থাকা লাগবে। এটা মূলত এই গ্রামীণ ব্যাংকের একটি নিয়ম। এই যোগ্যতা গুলো
যদি আপনার থাকে, তাহলে আপনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন পেতে
পারেন। প্রথমেই যে ব্যক্তি গ্রামীণ ব্যাংক লোন নিবে।
তাকে আবেদন করতে তার বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তাকে অবশ্যই
বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং তার যেন ভোটার আইডি কার্ড
থাকে। আপনাকে আপনার আয়ের উৎস দেখাতে হবে, মানে আপনি যে আপনার লোনের
টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।
তার জন্য আপনাকে ব্যাংককে দেখাতে হবে, আপনার ব্যবসা বা কৃষিকাজ। যে ব্যক্তি
আবেদন করবে, তাকে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য থাকতে হবে। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী
পাঁচ জন সদস্যের একটি গ্রুপে তাকে যুক্ত থাকা লাগবে। লোন কিসের জন্য
নিবে, তার বাস্তব পরিকল্পনা ব্যাংককে দেখাতে হবে। আগের লোন
থাকলে এই লোন আগে পরিশোধ করতে হবে।
গ্রামীণ ব্যাংক লোন নিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে আপনার, যেসব কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দিতে হবে। সেসব
কাগজপত্রগুলো হচ্ছে। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি লাগবে। নতুন
তোলা তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। যে কাজের জন্য আপনি লোন নিচ্ছেন,
সেই কাজের প্রমাণ হিসেবে
বা আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা সম্পর্কে ডকুমেন্ট লাগবে। চারিত্রিক
সনদপত্র লাগবে। যে নমিনি হবে। তার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি লাগবে এবং
তার সাথে নতুন তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
লাগবে। এছাড়াও এই তাদের প্রয়োজন হলে আপনার কাছে অতিরিক্ত কিছু
কাগজ চাইতে পারে।
গ্রামীণ ব্যাংক লোন আবেদন করার নিয়ম
গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য আপনাকে বেশ কিছু নিয়ম মেনে আবেদন করতে
হবে। তাহলে আপনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে খুব সহজেই লোন নিতে
পারবেন। গ্রামীন ব্যাংক লোন আবেদন করার প্রথম নিয়ম হচ্ছে,
আপনাকে প্রথমেই আপনার কাছের গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে। সেখানে আপনাকে
তাদের ব্যাংকের সদস্য হতে হবে।
সদস্য হওয়ার পর সেখানে পাঁচজনের একটি সদস্য গ্রুপে আপনাকে এড হতে
হবে। অবশ্যই গ্রুপের যে পাঁচজন থাকবে সবাইকে একই এলাকার হতে হবে। তারপর
বেশ কিছুদিন, তাদের সাপ্তাহিক মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে এবং তাদের নিয়ম মেনে
চলতে হবে। তাদের সকল নিয়ম মানার পর। ব্যাংক থেকে আপনি লোন আবেদন করার
ফর্ম তুলতে পারবেন।
সেই লোন আবেদন করার ফ্রম ভালোভাবে পূরণ করার পর। তার সাথে আপনাকে প্রয়োজনীয়
কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র ফটোকপি, আপনার
পাসপোর্ট সাইজের ছবি। আপনি সেই ব্যাংকের সদস্য তার প্রমাণ, আপনার চারিত্রিক
সনদপত্র, আপনার বৈবাহিক সনদপত্র,
আপনি কি কাজে লোনের টাকা ব্যবহার করতে চান তার প্রমাণ। এই সকল কাগজপত্র জমা
দেওয়ার পর। ব্যাংক আপনার এই তথ্যগুলোকে যাচাই বাছাই করবে। আপনি যদি তাদের
নিয়ম ভালোভাবে মেনে আবেদনটা করেন। তাহলে তারা আপনাকে লোনের জন্য অনুমোদন দিবে
এবং লোন দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ আপনাকে জানাবে।
গ্রামীণ ব্যাংক লোনের সুদের হার কত
আপনারা অনেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের লোনের সুদের হারের বিষয়টা নিয়ে অনেক
বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে থাকেন। তাই এখন আমি আপনাদেরকে গ্রামীণ
ব্যাংকের লোনের সুদের হার কত তা জানাবো। গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার
সর্বনিম্ন ৫% থেকে সর্বোচ্চ ২০% এর মধ্যে হয়ে থাকে। এটা মূলত লোনের ধরন
এবং কতদিনের জন্য লোন নিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে সুদের হার কম এবং বেশি
হয়ে থাকে।
আরো পড়ুনঃ ভিসার জন্য আবেদন করতে কি কি লাগে
আপনি যদি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ী লোন নিতে চান, তাহলে আপনাকে
২০% সুদ দিতে হবে। আপনি যদি ঘর বাড়ি তৈরি করার জন্য লোন নেন, তাহলে
আপনাকে ৮% সুদ দেওয়া লাগবে। আপনি যদি শিক্ষাক্ষেত্রে লোন নেন, তাহলে
আপনাকে ৫% সুধ দেওয়া লাগবে। এছাড়াও আরো যে লোন এই ব্যাংক দেয়
সেলুনের ধরন অনুযায়ী এই পার্সেন্টেজ কম বেশি হতে পারে।
গ্রামীণ ব্যাংক লোন কিস্তির পদ্ধতি
অন্য সব ব্যাংকের থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের লোন পরিশোধ করার নিয়ম অনেক
সহজ। কারণ গ্রামীণ ব্যাংক কিস্তির টাকা অল্প অল্প করে প্রতি সপ্তাহে নিয়ে
থাকে। যাতে করে সাধারণ মানুষ যারা তারা এই কিস্তির টাকা খুব সহজে দিতে
পারে। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে যখন লোন নেওয়া হয়। তখন তারা লোন দেওয়ার
আগেই লোনের কাগজে কিস্তি কি নিয়মে দিতে হবে
এবং কত সময়ের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে সেটা লিখে দেয়। পরবর্তীতে এই
টাকা প্রতি সপ্তাহে একবার, তাদের ব্যাংকের শাখায় গিয়ে জমা দিতে
হয়। কিস্তি কত টাকা দিতে হবে, সেটা নির্ধারণ করা হয় লোনের টাকার ওপর।
যেন কারো কিস্তির টাকা দিতে কষ্ট না হয় এবং তারা যেন খুব সহজেই কিস্তির
টাকা দিতে পারে।
গ্রামীণ ব্যাংক লোনের সুবিধা ও অসুবিধা
গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে, এখানে দরিদ্র
মানুষেরাও খুব সহজে লোন নিতে পারে। কারণ এই ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার সময় কোন
জামানত লাগে না। আর জামানত না লাগার কারণে এখানে গরিব মানুষেরাও লোন নিতে
পারে। লোনের টাকা সপ্তাহে অল্প অল্প করে পরিশোধ করার সুযোগ থাকে।
যেন কিস্তির টাকা দেওয়ার সময় কষ্ট না হয়। যারা ক্ষুদ্র ব্যবসা, গবাদিপশু
পালন, কৃষিকাজ শুরু করতে চাই তাদের জন্য অনেক উপকারী। গ্রামীণ ব্যাংকে
নারীদেরকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য আলাদা
সুবিধার ব্যবস্থাও থাকে। অনেক নারী আছে, যারা এই ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
গরিব মানুষেরা যেন তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। এজন্য তাদেরকে লোন দিয়ে
সাহায্য করা হয়, যেন তারা খুব সহজেই তাদের পারিবারিক আয় বাড়াতে পারে। গ্রামীণ
ব্যাংকে যারা লোন নেয় তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে, তাদের দক্ষ করে তোলে। অনেক সময়
গ্রামীণ ব্যাংক, তাদের নিজ উদ্যোগেই এইসব মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে
দেয়।
গ্রামীণ ব্যাংকের সুবিধা থাকার পরেও এর বেশ কিছু অসুবিধা আছে। যেমন
ধরেন নিয়মিত কিস্তি না দিলে গ্রুপের যে অন্য সদস্যরা আছে, তাদের উপর চাপ
পড়ে। তারপর প্রথমেই বড় ধরনের লোন পাওয়া যায় না। যদিও জামানত লাগে
না, তারপরেও এই ব্যাংকের সুদের হার অনেক বেশি। যেটা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ
ফেলতে পারে। বাধ্যতামূলকভাবে সঞ্চয় করতে হয়।
লোনের ৫ থেকে ১০ পার্সেন্ট আপনাকে গ্রামীণ ব্যাংকে সঞ্চয় হিসেবে জমা দিতে হবে।
যেটা গ্রাহকের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। লোন নেওয়ার পর সেই টাকা সঠিক
জায়গায় ব্যবহার না করলে। ব্যাংক থেকে কিস্তির টাকার জন্য চাপ দিতে পারে।
গ্রামীণ ব্যাংকের সাপ্তাহিক মিটিংয়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে হবে। না করলে
সমস্যা হতে পারে। যারা নতুন এই ব্যাংক থেকে লোন নিবে, তাদের জন্য এটা
কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে।
গ্রামীণ ব্যাংক লোন নেওয়ার সময় সতর্কতা
গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার আগেই অবশ্যই সতর্ক থাকবেন এবং লোন নেওয়ার
সময় নিচের নিয়ম গুলো মেনে চলবে। অবশ্যই লোন নেওয়ার আগে প্রথমে আপনি কিসের
জন্য লোন নিবেন, কিভাবে লোনের টাকা পরিশোধ করবেন। এই সকল বিষয়ে ভালোভাবে
পরিকল্পনা করবেন। লোন নেওয়ার আগে অবশ্যই লোনের সুদের হার কত,
কত দিনে এই কিস্তি দিতে হবে এবং কিস্তির পরিমাণ কত, এই সকল বিষয়ে ভালোভাবে
জেনে নিতে হবে। আপনার যতটুকু লোন নেওয়ার মতো সামর্থ্য আছে, তার থেকে বেশি
লোন নিতে যাবেন না। তা না হলে আপনার উপর চাপ পড়তে পারে। যে কাজের জন্য
লোন নিবেন। লোনের টাকা সেই কাজেই ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।
তা না হলে বিপদে পড়তে পারেন। কিস্তির টাকা জমা দিবেন বা নিবেন তার যত কাগজপত্র
থাকবে। সেগুলো প্রমাণ হিসেবে ভালোভাবে সংরক্ষণ করে রেখে দিবেন। অবশ্যই লোন
নেওয়ার সময় ব্যাংক থেকে লোন সম্পর্কিত সকল তথ্য এবং তাদের যুক্তিপত্র
ভালোভাবে পড়ে বুঝে সাইন করবেন। অবশ্যই কোন বিষয়ে না বুঝতে পারলে ব্যাংক
কর্মকর্তার কাছে জেনে নিবেন।
গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার সময় আপনি যে গ্রুপে এড হবেন। সেই গ্রুপের
অন্য সদস্যরা কেমন সেটা ভালোভাবে যাচাই করে নিবেন। তারা যদি দায়িত্বশীল হয়,
তাহলে আপনার সমস্যা হবে না। আর যদি তারা দায়িত্বশীল না হয়, তাহলে সেটার চাপ
আপনার উপর পড়তে পারে। ব্যাংক লোন নেওয়ার সময় অবশ্যই গ্রামীণ ব্যাংক অফিস
অথবা গ্রামীণ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করবেন।
কাদের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক লোন উপযুক্ত নয়
গ্রামীণ ব্যাংক লোন দেয় মূলত মানুষের সুবিধার জন্য এবং দরিদ্র থেকে মানুষকে
স্বাবলম্বী করার জন্য। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যাদের জন্য এই ব্যাংকের লোন
উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে যাদের আয় নিয়মিত হয় না। তারপর লোনর টাকা কি কাজে
ব্যবহার করবে, তার কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নাই।
যাদের এর আগেও আরো লোন বাকি আছে। যারা গ্রুপ ভিত্তিক দায়িত্ব নিতে পারবেন
না। যারা কাগজপত্র কম বুঝে এবং প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কম। তাদের এই ব্যাংক
থেকে লোন নেওয়া উপযুক্ত হবে না। কারণ ব্যাংকের নিয়ম কাজ না করলে ব্যাংক
অতিরিক্ত চাপ দিতে পারে।
গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ যেভাবে করবেন
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকা ১২১৬, মিরপুর ২ এই ঠিকানাতে
অবস্থিত। এখানে আপনারা ব্যাংক সম্পর্কে সাধারণ বিষয়ে এবং লোন
নেওয়ার বিষয় সম্পর্ক সহ আরো বিভিন্ন প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে
পারেন। এছাড়াও আপনি +৮৮ ০২ ৫৮০৫৫৬২৮, +৮৮ ০২ ৫৮০৫৫৬৫২। আর যারা বিদেশ
থেকে যোগাযোগ করতে চান তারা +৮৮ ০২ ৪৮০৩৩৭৭০ এই নাম্বারে কল করতে পারেন।
ইমেইলে গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন,
md.secretariat@grameenbank.org.bd এবং g_iprog@grameenbank.org.bd এই
ঠিকানা তে আপনি আপনার সমস্যা বা যেটা জানতে চান তা লিখে পাঠাতে
পারেন। এছাড়াও গ্রামীণ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
grameenbank.org.bd থেকে গ্রামীণ
ব্যাংক সম্পর্কে সকল আপডেট তথ্য এবং তাদের লোন পদ্ধতির সব বিষয় সম্পর্কে
জানতে পারবেন।
গ্রামীণ ব্যাংক লোন নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
প্রশ্নঃ গ্রামীণ ব্যাংক কি লোন দেয়?
উত্তরঃ গ্রামীণ ব্যাংক অনেক ধরনের লোন দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে
ক্ষুদ্র ঋণ, কৃষি ঋণ, বাড়িঘর নির্মাণ ঋণ, পশুপালন ঋণ, শিক্ষা
ঋণ, চিকিৎসা ঋণ। গ্রামীণ ব্যাংকের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে গরিব মানুষকে
সাহায্য করা এবং গরিব মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। তাই তারা গরীব
মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের লোনের ব্যবস্থা করেছে।
প্রশ্নঃ আবেদন করার কতদিন লোন দেয়?
উত্তরঃ আবেদন করার পর ব্যাংক আপনার জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাই করবে। আপনার
সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে এবং তাদের নিয়ম সঠিক মত মানলে। তারা আপনাকে ১ সপ্তাহ
থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে লোন দিয়ে দিবে।
প্রশ্নঃ গ্রামীণ ব্যাংক কি সরকারি নাকি বেসরকারি?
উত্তরঃ গ্রামীণ ব্যাংক এটা পুরোপুরি সরকারি ব্যাংক না। আবার পুরোপুরি বেসরকারি
ব্যাংকও না। এই গ্রামীণ ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশের একটি আধা সরকারি
প্রতিষ্ঠান।
প্রশ্নঃ গ্রামীণ ব্যাংকের লোন নিতে জামানত লাগে কি?
উত্তরঃ গরিব মানুষেরা যেন খুব সহজেই লোন নিতে পারে এবং নিজেকে স্বাবলম্বী
করে গড়ে তুলতে পারে। তার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক লোন দেওয়ার সময় কোন জামানত
নেয় না। তবে এই লোন নিতে গেলে অবশ্যই আপনাকে কিছু নিয়ম মানতে হবে।
প্রশ্নঃ গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন এমডি কে?
উত্তরঃ গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন এমডি হচ্ছেন সরদার আক্তার হামিদ। তিনি ২০২৫
সালের এপ্রিল মাসে এই পদে বসেছিলেন এবং এখন পর্যন্ত তিনি তার দায়িত্ব পরিচালনা
করছেন।
আরো পড়ুনঃ ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ করার তেলের নাম
প্রশ্নঃ গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ কি?
উত্তরঃ গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ বলতে বোঝাচ্ছে যে ছোট বা কম পরিমাণে
ঋণ। এই ঋণ নেওয়ার সময় কোন জামানত লাগে না। এটা যারা অনেক দারিদ্র তাদেরকে পশু
পালন, কৃষি কাজে বা বিভিন্ন ব্যবসার কাজের জন্য দেওয়া হয়। যেন তারা এই
লোন নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারে এবং জীবিকা নির্বাহ করতে
পারে। এটাকেই গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ বলে।
শেষ কথাঃ গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি
গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি সম্পর্কে আশাকরছি জানতে পেরেছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের
আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দরিদ্র মানুষ যারা আছে। তারা যেন এই ব্যাংক থেকে লোন
নিয়ে, তাদের ব্যবসা, কৃষি কাজ অথবা বিভিন্ন ধরনের আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে
এবং তারা নিজেকে যেন সাবলম্বী করতে পারে। অনেকেই আছে যারা গ্রামীণ ব্যাংকের লোন
নিয়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গ্রামীণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি গরিব মানুষের
জন্য অনেক সুবিধা করেছে। এর সুবিধা থাকলেও এর কিছু অসুবিধাও আছে,
তাই অবশ্যই ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার সময়। তাদের সকল নিয়ম ভালোভাবে জেনে বুঝে
লোন নিবেন। আর কোন বিষয় বুঝতে না পারলে, অবশ্যই ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে জেনে
নেবেন। ব্যাংক লোন নেওয়ার সময় সতর্ক থাকবেন এবং আপনি যদি ব্যাংকের নিয়ম
মানতে পারেন। ঐরকম আপনার যদি সামর্থ্য থাকে, তাহলে আপনি এই ব্যাংক থেকে লোন
নিবেন। আজকের মত এখানে শেষ করছি ভালো থাকবেন। আর এরকম দরকারি তথ্য যদি আরো পেতে
চান, তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করবেন।

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url