ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায় জানুন
ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায় আজকে আমি আপনাদেরকে বিস্তারিত
জানাবো।প্রতিদিন অনেক মানুষ আছে যারা টাকা লেনদেন করার সময় ভুল নম্বরে টাকা
পাঠিয়ে দেয়।
ভুল নাম্বারে টাকা চলে গেলে অনেক রকম বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়।
তাই ভুল নাম্বারে টাকা গেলে কিভাবে সহজে টাকা ফেরত আনা যায় সে সম্পর্কে চলুন
জেনে নেওয়া যাক।
পেজ সূচিপত্রঃ ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায়
- ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায়
- বিকাশে অভিযোগ কীভাবে দিব?
- ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়া যাবে কি?
-
বিকাশ সম্পর্কিত সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর/FAQ
- বিকাশে সেন্ড মানি মানে কি?
- বিকাশ নাম্বার ভুলে গেলে করণীয় কি?
- কিভাবে ভুল নাম্বারে টাকা যায়?
- টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য কি কি প্রমান লাগবে?
- ভুল নাম্বারে টাকা গেলে যেভাবে আইনি পদক্ষেপ নিবেন
- বিকাশ এর মালিক কে?
- ভুল নাম্বারে টাকা গেলে কেন ফেরত পাওয়া যায় না
- বিকাশ সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
- শেষ কথাঃ ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায়
ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায়
এখনকার সময়ে ভুল নাম্বারে টাকা যাওয়া একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে। তাই আজকে
আমি আপনাদেরকে ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায় সম্পর্কে
জানাবো। তাড়াহুড়োতে যদি টাকা লেনদেনের সময় ভুল নাম্বারে টাকা চলে যায়,
তাহলে ভয় না পেয়ে আপনি কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা ও অসুবিধা
এই সকল নিয়ম গুলো যদি মেনে আপনি সঠিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে আপনার টাকা ফেরত পাওয়া
সম্ভাব হতে পারে। ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার জন্য আপনাকে কয়েকটি
ধাপ অনুসরণ করতে হবে চলুন সেই ধাপগুলো জেনে নিন।
লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণঃ ভুল নাম্বারে যদি আপনার টাকা চলে যায়, তাহলে সাথে
সাথে লেনদেন করা তথ্য সংরক্ষণ করবেন। যেমন টাকা পাঠানোর পর
মোবাইলে বা নাম্বারে যে এসএমএস আসে অথবা ট্রানজেকশন আইডি সেটা সংরক্ষণ
করবেন। কারণ এই এসএমএসে বা ট্রানজেকশন আইডিতে আপনি যে একাউন্টে টাকা
পাঠিয়েছেন তার সকল ডাটা এবং সময় উল্লেখ থাকে। যা আপনার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার
করতে পারবেন।
যে নাম্বারে টাকা গেছে তার সাথে যোগাযোগঃ আপনি ভুল করে যে নাম্বারে টাকা
পাঠিয়েছেন। সে নাম্বারটা যদি ওয়ান থাকে, তাহলে তার সাথে কল করে বা এসএমএস করে
কথা বলবেন। তার সাথে ভালোভাবে কথা বলে তাকে জানান যে আপনার টাকা
ভুলক্রমে তার একাউন্টে বা নাম্বারে চলে গেছে। যার নাম্বারে টাকা গেছে সেই ব্যক্তি
যদি সৎ ও ভালো মানুষ হয়, তাহলে আপনি টাকাটি খুব সহজেই পেয়ে যাবেন।
মোবাইল ব্যাংকিং এর হেল্প কেয়ারে যোগাযোগঃ আপনার টাকা লেনদেন করার সময় যদি
ভুল নাম্বারে টাকাটা চলে যায় এবং ভুল নাম্বারে যাওয়া সেই ব্যক্তি যদি
টাকাটা না দিতে চাই। তাহলে টাকাটা ফেরত পাওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে
মোবাইল ব্যাংকিং এর হেল্প কেয়ারে ফোন করে কথা বলা। তাদের সাথে যোগাযোগ করে
তারা আপনার কাছে কিছু প্রমাণ চাইবে, সে প্রমাণগুলো তাদেরকে দিবেন। তারা তদন্ত করে
আপনার টাকাটা আপনাকে ফেরত দিতে সাহায্য করবে।
মাঝেমধ্যেই অভিযোগ চেক করাঃ আপনি যখন মোবাইল ব্যাংকিং এর হেল্প কেয়ারে
যোগাযোগ করবেন। তখন তারা আপনার এই অভিযোগটি তাদের অফিসে রেজিস্টার করে আপনাকে
একটি অভিযোগ নম্বর দিবে। এই অভিযোগ নাম্বারটি দিয়ে আপনি মাঝে মাঝে
কাস্টমার কেয়ারে খোঁজ নিবেন। অভিযোগ নাম্বারটি দিয়ে তারা খুব সহজে আপনার সমস্যা
কি সেটা জানতে পারবে। আপনি যে ভুল নাম্বারে টাকা পাঠিয়েছেন সেই ব্যক্তি
যদি টাকাটা তুলে না নেয় বা অন্য কোথাও পাঠিয়ে না দেয়, তাহলে সেই
টাকা কাস্টমার কেয়ার তদন্ত করে আপনার একাউন্টে পাঠিয়ে দিবে।
ভুল করে যদি অন্য নাম্বারে টাকা চলে যায়, তাহলে তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা
অনেকটাই কম থাকে।যদি ভুল নাম্বারে টাকা চলে যায়, তাহলে দ্রুত আপনাকে সঠিক নিয়ম
মেনে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি টাকা ভুল করে চলে যায়, তাহলে দ্রুত যদি
পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাহলে অনেক সময় টাকাটা পাওয়া সম্ভব হয়ে থাকে। আর টাকা
লেনদেন করার সময় অবশ্যই সতর্কভাবে লেনদেন করবেন এবং যে নাম্বারে টাকা পাঠাচ্ছেন
সে নাম্বারটি ভালোভাবে দুই তিনবার চেক করে নিবেন।
বিকাশে অভিযোগ কীভাবে দিব?
বর্তমানে আমাদের দেশে এমন লোক কমই আছে যাদের বিকাশ একাউন্ট নাই। কমবেশি আমাদের
দেশে সকলেরই বিকাশ একাউন্ট আছে এবং প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই বিকাশ থেকে
সুবিধা নিয়ে থাকে। এই সুবিধা নেওয়ার সময় বেশ কিছু সমস্যার মধ্যেও
ব্যবহারকারীরা পড়ে থাকে। এই সমস্যাগুলো থেকে উদ্ধার হওয়ার জন্য অনেকেই বিকাশে
অভিযোগ করে।
তাদের সমস্যার সমাধান নিয়ে থাকে। অনেকেই আছে বিকাশে কিভাবে অভিযোগ করতে হয় তা
জানে না। তাই চলুন কিভাবে বিকাশে অভিযোগ দিবেন তা জেনে নেওয়া যাক। বিকাশ
একাউন্টে কোন সমস্যা হলে সেই সমস্যা ভালো করার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায়
হচ্ছে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করা।
বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে অভিযোগ দেওয়াঃ আপনার যদি বিকাশের কোন সমস্যা হয়।
তাহলে আপনি বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে ১৬২৪৭ এই নাম্বারে কল দিয়ে তাদের সাথে কথা
বলে আপনার অভিযোগটি তাদেরকে জানাতে পারেন। অভিযোগ দেওয়ার সময় আপনার কাছে তারা
কিছু তথ্য চাইবে সে তথ্যগুলো অবশ্যই তাদেরকে দিয়ে সাহায্য করবেন।
বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ দেওয়াঃ আপনার বিকাশে যদি কোন সমস্যা হয়। তাহলে
আপনি আপনার ফোনে বিকাশ অ্যাপ এর মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার অভিযোগটি তাদেরকে
জানাতে পারবেন। বিকাশ অ্যাপে লগইন করবেন, লগইন করা হলে হেল্প বা সাপোর্ট অপশনে
ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর সেখানে বেশ কিছু সমস্যার ধরন দেওয়া থাকবে। আপনার
উক্ত সমস্যাটি নির্বাচন করবেন এবং আপনার যদি কোন কিছু লেখার বা বলার থাকে,
তাহলে সেখানে লিখে সাবমিট করবেন।
বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে সরাসরি গিয়ে অভিযোগঃ আপনার বিকাশে যদি সমস্যা হয়। আর
আপনি যদি কাস্টমার কেয়ারে কল দিয়ে বা বিকাশ অ্যাপ এ যোগাযোগ করে আপনার
সমস্যার সমাধান না পান। তাহলে আপনি আপনার কাছে থাকা বিকাশ কাস্টমার কেয়ার
অফিসে গিয়ে অভিযোগ করতে পারবেন।এক্ষেত্রে আপনাকে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের
ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে এবং আপনার যে সমস্যা সে সমস্যার ডকুমেন্ট বা প্রয়োজনীয়
তথ্য নিয়ে যেতে হবে।
আপনার বিকাশের কোন সমস্যা হলে আপনি উপরের এই ধাপগুলো যদি সঠিকভাবে
মেনে কাজ করেন। তাহলে আপনি খুব সহজেই আপনার যে সমস্যা সে সমস্যা
থেকে উদ্ধার হতে পারবেন। তবে অবশ্যই যখন অভিযোগটি করবেন। তখন আপনি
সুন্দর করে আপনার অভিযোগটি তাদের কাছে তুলে ধরবেন বা ব্যাখ্যা করবেন। এতে
আপনি দ্রুত আপনার সমস্যার সমাধান পাবেন।
ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়া যাবে কি?
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাদের টাকা মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেন করে থাকে। আর
এই লেনদেন করার সময় অনেকেই আছে যারা ভুলবশত ভুল নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে
দিয়ে থাকে। যা একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ব্যক্তিকে ফেলে
দেয়। আপনার যদি ভুল করে কারো নাম্বারে টাকা চলে যায়। তাহলে
আপনি অস্থির না হয়ে শান্ত হয়ে,
দ্রুত আপনি যে কোম্পানির সার্ভিস ব্যবহার করছেন সে কোম্পানির
কাস্টমার কেয়ারে কল দিবেন। এর পর আপনি যে নাম্বারে
টাকা পাঠিয়েছেন তার প্রমাণ অর্থাৎ এসএমএস বা ট্রানজেকশন আইডি কাস্টমার
কেয়ারে দিবেন। যে নাম্বারে টাকা গেছে ওই ব্যক্তি যদি সেই টাকা তুলে না নেয়
বা অন্য কোথাও ট্রান্সফার না করে দেয়।
তাহলে উপযুক্ত তথ্য ও প্রমাণের তদন্ত করে কাস্টমার কেয়ার আপনার টাকাটি
আপনাকে ফেরত দিয়ে দেবে। এছাড়াও যে নাম্বারে টাকা ভুল করে গেছে সে
ব্যক্তি যদি সৎ ও ভালো মানুষ হয়, তাহলে তার সাথে কথা বলে আপনি টাকাটি ফেরত
পেতে পারেন। আর যদি সে ব্যক্তি টাকাটি দিতে অস্বীকার করে, তাহলে
আপনি আইনি প্রক্রিয়া মেনে থানায় একটি জিডি করতে পারেন।
বিকাশ সম্পর্কিত সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর/FAQ
প্রশ্নঃ বিকাশের বর্তমান মালিক কে?
উত্তরঃ বিকাশ হচ্ছে একটি মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস। এর মালিক একজন
নয়। এটার পেছনে অনেকগুলো কোম্পানি জড়িত আছে। তবে বিকাশ সার্ভিসটি
ব্রাক ব্যাংক এর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং বর্তমানে সবচেয়ে
বড় শেয়ার ব্র্যাক ব্যাংকের কাছে আছে। তাই বিকাশের বর্তমান মালিক হচ্ছে
ব্রাক ব্যাংক। এর সাথে আরো বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তাদের বিনিয়োগের
মাধ্যমে এতে অংশ নিয়ে আছে।
প্রশ্নঃ বিকাশ কে আবিষ্কার করেছিলেন?
উত্তরঃ বিকাশ আবিষ্কার করেছিলেন সর্বপ্রথম আমাদের দেশে কামাল
কাদির। কামাল কাদির ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় ২০১০ সালে সাধারণ
মানুষের সহজে যেন টাকা লেনদেন করতে পারে। এ জন্য বিকাশ সেবাটি চালু
করেছিল।
প্রশ্নঃ বিকাশের বর্তমান গ্রাহক কত?
উত্তরঃ প্রথম আলোর একটি
প্রতিবেদন যা ২৫ অক্টোবর ২০২৫ এ পাবলিশ করা হয়। সেখানকার তথ্য অনুযায়ী
বর্তমান সময়ে বিকাশের গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখেরও বেশি।
প্রশ্নঃ বিকাশ কি ইসরায়েলের?
উত্তরঃ অনেকেই মনে করে বিকাশ ইসরায়েলের কোম্পানি কিন্তু এটা
সঠিক তথ্য নয়। বিকাশ কোন ইসরায়লি কোম্পানি নয়। বিকাশ হচ্ছে
বাংলাদেশী মোবাইলে টাকা লেনদেন করার একটি ব্যাংকিং পরিষেবা। যেটা মূলত
কামাল কাদির ব্র্যাক ব্যাংকের সহায়তায় ২০১০ সালে আবিষ্কার করেছিলেন।
এতে আন্তর্জাতিক বেশ কিছু বড় কোম্পানিগুলো জড়িত আছে বিনিয়োগ করার
মাধ্যমে। বিকাশ কোম্পানি যে ইসরায়লি কোম্পানি সেটা বিকাশ কোম্পানি নিজেও
ভুল ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রশ্নঃ বিকাশ কি কোম্পানি?
উত্তরঃ জি হা বিকাশ একটি কোম্পানি। বিকাশ হচ্ছে একটি
মোবাইল আর্থিক লেনদেন করার একটি ব্যাংকিং পরিষেবা সংস্থা বা
কোম্পানি।
বিকাশে সেন্ড মানি মানে কি?
দৈনন্দিন জীবনে বিকাশ আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে। যেকোন প্রয়োজনেই
খুব সহজেই আমরা বিকাশের মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে টাকা পাঠিয়ে
থাকি। যা আমাদের অনেক উপকারে আসে। কিন্তু যারা নতুন বিকাশ একাউন্ট
খুলেছে, তারা অনেকেই আছে এটি ব্যবহার করতে জানে না। এমনকি অনেকেই আছে
বিকাশে সেন্ড মানি কি তা জানে না। বিকাশে সেন্ড মানি মানে
হচ্ছে একটি বিকাশ নাম্বার থেকে আর একটি বিকাশ নাম্বারে টাকা
পাঠানোর প্রক্রিয়াকে সেন্ড মানি বলে।
বিকাশ নাম্বার ভুলে গেলে করণীয় কি?
বিকাশ একাউন্ট অনেকে আছে যারা ব্যবহার করে এবং অসংখ্য মানুষ আছে যারা তাদের
এই বিকাশ নাম্বার ভুলে যাই। বিকাশ নাম্বার যদি কোন ব্যক্তি ভুলে যান,
তাহলে এটা চিন্তার কোন বিষয় নয়। বরং শান্ত হয়ে আপনি আপনার মোবাইল
ফোনে থাকা বিকাশ অ্যাপ এ আপনার মোবাইল নাম্বারটি দিয়ে লগইন করবেন। এরপর
আপনি আপনার অ্যাপের একাউন্ট ইনফরমেশনে বিকাশ নাম্বারটি দেখতে পাবেন।
আরো পড়ুনঃ ভিসার জন্য আবেদন করতে কি কি লাগে জানুন
এছাড়াও আপনি যদি আপনার বিকাশ নাম্বার ভুলে যান, তাহলে কাস্টমার কেয়ারে
১৬২৪৭ এই নম্বরে কল করবেন। তাদেরকে আপনার সমস্যাটি জানাবেন বিকাশ
কাস্টমার কেয়ার থেকে আপনার অ্যাকাউন্ট সনাক্ত করার জন্য কিছু তথ্য চাইতে
পারে, অবশ্যই সেই তথ্যগুলো দিয়ে তাদেরকে সাহায্য করবেন। তাহলে খুব সহজে আপনি
আপনার বিকাশ নম্বরটি জেনে নিতে পারবেন বা পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।
কিভাবে ভুল নাম্বারে টাকা যায়?
বর্তমান সময়ে বিকাশের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন টাকা লেনদেন করে
থাকে। এই লেনদেন করার সময় অনেকেই আছে যারা ভুল করে ভুল নাম্বারে টাকা
পাঠিয়ে দেয়। আসলে টাকা পাঠানোর বা লেনদেন করার সময় গ্রাহকের
অসাবধানতার কারণেই ভুল নাম্বারে টাকা চলে যায়। ভুল নাম্বারে টাকা চলে
যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে নাম্বার টাইপ করতে ভুল করা।
ভুলভাবে নাম্বার টাইপ করলে টাকা ভুল নাম্বারে চলে যেতে পারে। এই
সমস্যাটা বেশি হয় নাম্বার টাইপ করার সময় একটি সংখ্যা বেশি বা কম হয়ে গেলে।
অথবা একই ধরনের নাম্বার দেখে বিভ্রান্ত হয়ে গেলে। তাই টাকা পাঠানোর
আগে তাড়াহুড়া না করে স্থির হয়ে সঠিক নাম্বার দেখে সেটাকে ভালোভাবে
তুলে নিবেন।
প্রয়োজনে নাম্বারটি ঠিক আছে কিনা সেটা আরো দুই একবার ভালোভাবে চেক করে
নিবেন।কখনোই টাকা লেনদেন করার সময় তাড়াহুড়া করবেন না। এক কথায় বলা
যায়, টাকা লেনদেন করার সময় যদি অসাবধানতা বা তাড়াহুড়া করা হয় এবং
নাম্বার তুলতে ভুল হয়, তাহলে টাকা ভুল নাম্বারে চলে যায়। কিভাবে ভুল
নাম্বারে টাকা যায় আশা করছি জানতে পেরেছেন।
টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য কি কি প্রমান লাগবে?
আপনার টাকা যদি ভুল নাম্বারে চলে যায় বা লেনদেন সম্পর্কিত কোন যদি সমস্যা
হয়। তাহলে সেই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আপনাকে কিছু তথ্য ও প্রমাণ দেখাতে
হবে। আপনার যদি এই সকল তথ্য বা প্রমাণ না থাকে, তাহলে আপনি টাকা ফেরত পাবেন
না। আর আপনার কাছে যদি আপনার লেনদেন করার প্রমাণ থাকে, তাহলে এই প্রমাণ গুলো
আপনি কাস্টমার কেয়ারে দিয়ে অভিযোগ করতে পারবেন।
এতে করে কাস্টমার কেয়ার আপনার অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করবে। টাকা ফেরত পাওয়ার
জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আপনার লাগবে ট্রানজাকশন আইডি। এই
ট্রানজেকশন আইডিটি আপনার লেনদেন করার পর এসএমএসের মাধ্যমে বা অ্যাপের মধ্যে
দেখিয়ে থাকে। এই ট্রানজেকশন আইডিটি দিয়ে কাস্টমার কেয়ারের যারা কর্মকর্তা।
তারা দ্রুত আপনার লেনদেনের তথ্যটি খুঁজে বার করতে পারবে।
এরপর যে প্রমাণটি আপনার লাগবে সেটি হচ্ছে, লেনদেন করার এসএমএস বা স্ক্রিনশট।
এতে করে কোন নাম্বারে কত টাকা পাঠানো হয়েছে, কখন পাঠানো হয়েছে, সকল তথ্য
পাওয়া যায়। যা অভিযোগ প্রমাণ করতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরেকটি
প্রমাণ লাগবে সেটা হচ্ছে, যে একাউন্ট থেকে আপনি টাকা পাঠিয়েছেন।
সে একাউন্টটি আপনার নিজস্ব কিনা তার প্রমাণ লাগবে অর্থাৎ যে একাউন্টটি থেকে
টাকা গেছে সে একাউন্টের তথ্য লাগবে। এক্ষেত্রে কাস্টমার কেয়ার থেকে আপনার
পরিচয় যাচাই করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আরো বেশ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য
জানতে চাইতে পারে। উপরে যে প্রমাণ গুলোর কথা বললাম এই প্রমাণগুলোই টাকা ফেরত
পাওয়ার জন্য দরকার হয়ে থাকে।
ভুল নাম্বারে টাকা গেলে যেভাবে আইনি পদক্ষেপ নিবেন
ভুল নাম্বারে টাকা গেলে কিভাবে তা উদ্ধার করবেন তার অনেকগুলো নিয়ম ও উপায়
আমরা ইতোমধ্যে জেনে নিয়েছি। উপরের সকল উপায়গুলো অবলম্বন করার পরও যদি
আপনি টাকা ফেরত না পান। তাহলে আপনি সর্বশেষ একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।
সেই পদক্ষেপটি হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া। ভুল নাম্বারে টাকা গেলে কাস্টমার
কেয়ার থেকে কোন সমাধান যদি আপনি না পান এবং যার কাছে টাকা গেছে সেই
ব্যক্তি যদি আপনাকে টাকা দিতে অস্বীকার করে।
তাহলে আপনি উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ নিয়ে থানায় একটি জিডি করতে
পারেন। জিডি করার পর মাঝেমধ্যেই আপনি আপনার এই অভিযোগের খোঁজ নিবেন।
আপনার লেনদেনের তথ্য ও প্রমাণ এবং আপনার অভিযোগ পাওয়ার পর আইন শৃঙ্খলা
বাহিনী আপনার টাকা উদ্ধারের জন্য দ্রুত কাজ করা শুরু করবে এবং আপনি খুব
তাড়াতাড়ি সমাধান পাবেন।
বিকাশ এর মালিক কে?
বিকাশের মালিক কে এই প্রশ্ন আপনাদের অনেকেরই করতে দেখা
গিয়েছে। বিকাশের মালিক মূলত একজন নয় বরং এর অনেকগুলো মালিক
রয়েছে। বিকাশে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আছে। যারা বিনিয়োগ
করে এতে শেয়ার নিয়ে রেখেছে। তবে বিকাশ আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশে প্রথম
কামাল কাদির।
তিনি ২০১০ সালে ব্রাক ব্যাংকের সহযোগিতায় বাংলাদেশে বিকাশে লেনদেনের
ডিজিটাল পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন। বর্তমানে এই বিকাশের সবচেয়ে বড়
শেয়ার ব্র্যাক ব্যাংকের কাছে রয়েছে। তাই বলা যায় বিকাশের বর্তমান
মালিক হচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। বিকাশ আবিষ্কার হওয়াতে এটা বাংলাদেশের
মানুষের অনেক উপকার করেছে।
ভুল নাম্বারে টাকা গেলে কেন ফেরত পাওয়া যায় না
টাকা লেনদেন করার সময় অনেকেই অসাবধানতার কারণে তাড়াহুড়ো করে ভুল
নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে দেয়। আর ভুল নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার কারণে
অনেক সময় টাকা আর ফেরত পাওয়া যায় না। টাকা ফেরত না পাওয়ার অন্যতম
একটি কারণ হচ্ছে, যে ব্যক্তির কাছে টাকা গেছে সেই ব্যক্তি অসৎ। ব্যক্তি
যদি সৎ ও ভালো মনের মানুষ হয়, তাহলে টাকা পাওয়া সহজ হয়ে যায়।
তবে অনেকেই আছে যারা টাকা পাওয়ার পর ফেরত দিতে চায় না। তাই চেষ্টা
করবেন টাকা লেনদেন করার সময় তাড়াহুড়ো না করে স্থির হয়ে সঠিক নাম্বার
টাইপ করার। টাকা পাঠানোর আগে আরো দুই একবার নাম্বারটি চেক করে টাকা
পাঠাবেন। সতর্ক হয়ে যদি টাকা লেনদেন করেন। এক্ষেত্রে আপনার ভুল নাম্বারে
টাকা যাওয়ার সমস্যা থাকবে না। এছাড়াও টাকা না পাওয়ার আরও একটি অন্যতম
কারণ হচ্ছে।
টাকা ভুল নাম্বারে চলে যাওয়ার পর সঠিক পদক্ষেপ নিতে দেরি করলে ও উপযুক্ত
তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ না করলে। আশাকরছি ভুল নাম্বারে টাকা গেলে কেন ফেরত
পাওয়া যায় না তা আপনি জানতে পেরেছেন। উপরে গিয়ে আপনি চাইলে ভুল
নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায় গুলো জেনে আসতে পারেন। এতে করে
আপনি খুব সহজেই ভুল করে যাওয়া টাকাগুলো ফেরত নিয়ে আসতে পারবেন।
বিকাশ সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কতজন বিকাশ এজেন্ট আছে?
উত্তরঃ বাংলাদেশে বর্তমানে বিকাশ এজেন্ট তিন লক্ষের বেশি রয়েছে এবং এই
এজেন্টের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই এর সংখ্যা নির্ধারিতভাবে
বলা যাচ্ছে না।
প্রশ্নঃ বিকাশের ডায়াল নাম্বার কত?
উত্তরঃ আপনি কি বিকাশের মেনু চেক করার জন্য ডায়াল নাম্বার জানতে চান?
বিকাশের ডায়াল নাম্বারটি হচ্ছে *২৪৭# এই নাম্বারটি বিকাশ ডায়াল
নাম্বার।
প্রশ্নঃ বিকাশে ১০০০ টাকায় খরচ কত?
উত্তরঃ বিকাশে প্রতি এক হাজার টাকায় ১৮.৫০ টাকা খরচ হয়। তবে
আপনার যদি প্রিয় নম্বর সেট করা থাকে, তাহলে প্রতি এক হাজার টাকায়
১৪.৯০ টাকা করে খরচ হবে।
প্রশ্নঃ বিকাশ অফিসের নাম্বার কত?
উত্তরঃ বিকাশের অফিস নাম্বার হচ্ছে ১৬২৪৭ এই নম্বরে কল করে
গ্রাহক কাস্টমার কেয়ারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বিভিন্ন
সমস্যার সমাধান নিয়ে থাকে।
প্রশ্নঃ পার্সোনাল বিকাশে কত টাকা রাখা যায়?
উত্তরঃ আপনার যদি একটি বিকাশ একাউন্ট থেকে থাকে। তাহলে আপনি সেই
একাউন্টে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা রাখতে পারবেন। অর্থাৎ পার্সোনাল বিকাশে
৫ লক্ষ টাকা রাখা যায়। এর থেকে বেশি রাখা যাবে না।
শেষ কথাঃ ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায়
ভুল নাম্বারে টাকা গেলে ফেরত পাওয়ার উপায় গুলো সম্পর্কে ইতিমধ্যে আপনি
সকল তথ্য জানতে পেরেছেন। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে
কিভাবে ভুল নাম্বারে টাকা গেলে সেই টাকা আপনি ফেরত আনবেন, টাকা ফেরত
আনার জন্য আপনি কিভাবে বিকাশে অভিযোগ দিবেন এবং ভুল নাম্বারে টাকা গেলে
সেই টাকা যদি আপনাকে ফেরত দিতে না চাই, তাহলে কিভাবে আপনি আইনি
প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টাকা ফেরত নিবেন তার সকল প্রক্রিয়া সম্পর্কে
জানিয়েছি।
এছাড়াও বিকাশ সম্পর্কিত আরো যেগুলো তথ্য আপনাদের জানা দরকার সে
তথ্যগুলোও আপনাদেরক বলেছি। তাই উপরের সকল তথ্য মনোযোগ সহকারে পড়লে।
আপনি এর থেকে ভালো উপকৃত হবেন এবং বিকাশ সম্পর্কিত কোনো সমস্যায় পড়লে
সেই সমস্যা থেকে উদ্ধার পাবেন। আর্টিকেলটি যদি আপনার উপকারে কাজে লেগে
থাকে, তাহলে অবশ্যই এই আর্টিকেলটি আপনি একটা শেয়ার করে দিবেন এবং
এইরকম আপডেট তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করবেন।


অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url