ঘুম না আসার কারণ এবং এর সমাধান জেনে নাও

ঘুম না আসার কারণ এবং এর সমাধান নিয়ে আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলের মধ্যে আলোচনা করবো। আপনার যদি ঘুম না আসার সমস্যা থাকে এবং এই সমস্যা থেকে আপনি উদ্ধার হতে চান।
ঘুম-না-আসার-কারণ-এবং-এর-সমাধান
তাহলে এই আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে শেষ করবেন। কারণ এখানে আপনি ঘুম কেন আসে না, ঘুম না আসাকে কি বলা হয়, কিভাবে আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে এর সমাধান করবেন এবং কখন আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন এ বিষয়ে সকল তথ্য জানতে পাবেন।

পেইজ সূচিপত্রঃ ঘুম না আসার কারণ এবং এর সমাধান

ঘুম না আসার কারণ এবং এর সমাধান

ঘুম না আসার কারণ এবং এর সমাধান আমাদের সকলেরই জানা দরকার। কারণ বর্তমান সময়ে প্রতিদিনের বিভিন্ন ধরনের কাজের চাপে এই ঘুম না আসার সমস্যা আমাদের কমবেশি সকলেরই হয়। ঘুম না আসার কারণে এটা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অনেক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যা আমাদের স্বাস্থ্যেরও অনেক ক্ষতি করে। ঘুম না আসার কারণ অনেক রকম হতে পারে। এটা একজনের একাদ রকম সমস্যার কারণে হয়। 
বেশিরভাগ যে সমস্যার জন্য ঘুম আসে না সেটা হচ্ছে, মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা। যদি কোন কাজের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হয় বা পারিবারিক কোনো অশান্তি যদি হয়, তাহলে এই সমস্যা বেশি দেখা দিয়ে থাকে। যার কারণে সঠিকভাবে ঘুম হয় না। আরো বেশ কিছু কারণ আছে যেগুলোর জন্য ঘুম আসে না। সে কারণগুলো হচ্ছে, ধরেন প্রতিদিন দেরি করে ঘুমাচ্ছেন, আবার দেরি করে ঘুম থেকে উঠছেন। 

আবার দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘুমাচ্ছেন আবার ঘুমাচ্ছেন না। অর্থাৎ আপনার অনিয়মিত জীবন যাপনের প্রভাব আপনার ঘুমের উপর পড়ে। যার কারণে ঘুম না আসার সমস্যা তৈরি হয়। আর বর্তমানে ঘুম না আসার সব থেকে বড় যে সমস্যা মোবাইল ফোন বা স্ক্রিন জাতীয় কোন জিনিস ব্যবহার করা। ঘুম না আসার অন্যতম কারণ মোবাইলের স্ক্রিনের আলো, ল্যাপটপের স্ক্রিনের আলো অথবা টিভির স্কিনের আলো।

আপনার চোখে যদি এই আলো পড়ে, তাহলে এটা আপনার মস্তিষ্ককে বিচলিত করে রাখে। ফলে আপনার ঘুম সহজে আসে না। এছাড়াও আরো কিছু কারণ আছে যা ঘুমের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলায় যদি ভারি কোন খাবার খাওয়া হয়। যেমন, চা, কফি ও মসলাযুক্ত খাবার। এই ধরনের খাবার হজমের সমস্যা বা পেটে চাপ সৃষ্টি করে যার জন্য রাতে গুম আসে না।

ঘুম না আসার সমাধান

ঘুম না আসা সমস্যাকে ভালো করতে হলে আপনাকে কিছু নিয়ম মানতে হবে এবং পদক্ষেপ নিতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো যদি আপনি নিয়ম মেনে করেন, তাহলে আপনার যে ঘুম না আসার সমস্যা তা ভালো হয়ে যাবে এবং আপনি ভালোমতো ঘুমাতে পারবেন। ঘুম আসার জন্য প্রথমে আপনাকে সময় নির্ধারণ করে নিতে হবে।

সময়টা এভাবে নির্ধারণ করবেন যেন প্রতিদিন একই সময়ে আপনি ঘুমাতে যেতে পারেন এবং ঠিক একই সময়ে আপনি ঘুম থেকে উঠতে পারেন। আপনি যদি প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং ঠিক একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠেন, তাহলে এটা আপনার ঘুমের যে প্রক্রিয়া সেটাকে ভালো করবে এবং আপনার শরীর স্বাভাবিক ঘুমের জন্য অভ্যস্ত হবে।

যখন ঘুমাতে যাবেন তার আধাঘন্টা থেকে ১ ঘন্টা আগে মোবাইল, টিভি বা স্ক্রিন জাতীয় কোন জিনিস থাকলে তা ব্যবহার করা বন্ধ করবেন। তারপর ঘুমানোর যে একাধ ঘন্টা বাকি থাকবে। সে টাইম টুকু আপনি অন্য কোন কাজে মনোযোগ দিতে পারেন। অথবা সোজা হয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকবেন। এতে করে আপনার ঘুমের যে স্বাভাবিক নিয়ম সেটা আস্তে আস্তে ফিরে আসবে।

যা আপনার ঘুম খুব দ্রুত আসতে সাহায্য করবে এবং ঘুম ভালো হবে। তাছাড়া রাতের বেলায় ভারী কোন খাবার খাবেন না। যে খাবার আপনার পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। আপনি যেখানে ঘুমান সেই ঘরের পরিবেশটা যেন শান্ত ও সুন্দর হয়। ঘরে যেন কোন প্রকারের শব্দ বা অপরিষ্কার পরিবেশ না থাকে। কারণ ঘর যদি শান্ত, পরিষ্কার ও আরামদায়ক পরিবেশ থাকে, তাহলে সেই ঘরে ঘুম তাড়াতাড়ি আসে।

ঘুমানোর সময় ঘরের মধ্যে লাইট জ্বালিয়ে রাখবেন না লাইটটা নিভিয়ে দিবেন, তাহলে ঘুম ভালো হবে। আর ঘুমের সমস্যা যেন ভালো হয়। তার জন্য চেষ্টা করবেন দিনে একটু শারীরিক পরিশ্রম করার। এতে করে শরীর ক্লান্ত থাকবে, ফলে আপনি বিছানায় গেলে দ্রুত ঘুম চলে আসবে। এইভাবে আপনি ঘুম না আসার সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

ঘুম না আসাকে কি বলা হয়

ঘুম না আসা এটা একটা অসুখ আবার অসুখ না। ঘুম না আসার সমস্যাকে ডাক্তারেরা বলে ইনসোমনিয়া বা অনিন্দ্রা। যখন ঘুমানোর সুযোগ থাকে এবং ঘুমানোর সময়ও অনেক থাকে তারপরও ঘুম হয় না। আবার ঘুম আসলেও সে ঘুম অল্পতেই ভেঙ্গে যায়। এরকম সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারেরা একে বলে ইনসমনিয়া। এই ইনসমনিয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো লক্ষ্য করা যায় সে সমস্যাগুলো হচ্ছে অনেক রাত করে ঘুম আসে।

আবার হঠাৎ করে রাতের বেলায় ঘুম ভেঙে যায়, আবার অনেক সকালে ঘুম ভেঙে যায়। যার কারণে শরীর অনেক ক্লান্ত থাকে এবং শরীর ব্যথা করে, মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়। মানসিক চাপ এবং পারিবারিক কোন সমস্যা বা দৈনন্দিন জীবনে কাজ কর্ম নিয়ে কোন সমস্যা থাকলে মাঝেমধ্যে ঘুম না আসার সমস্যা দেখা দেয়। তবে পরবর্তীতে তা আবার ভালো হয়ে যায়।

কিন্তু যদি এই ঘুম না আসার সমস্যা অনেক সময় ধরে হতে থাকে। আর এই ঘুম না হওয়ার কারণে যদি শরীরের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে তাহলে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। বিশেষ করে এই সমস্যা তখনই ধরা হয়, যখন আপনার এই সমস্যা কয়েক সপ্তাহ ধরে হতে থাকে।

ঘুম কেন আসে না তার কারণ

ঘুম না আসার কারণ অনেকগুলো হতে পারে। এটা নির্ভর করে মানসিক প্রক্রিয়া প্রতিদিনের কাজকর্ম, শারীরিক অবস্থার ও প্রতিদিনের অভ্যাসগুলোর উপর। ঘুম আসে না এর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা করা। ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, টিভি ইত্যাদি ব্যবহার করা। ঘুমের কোন সঠিক নিয়ম নাই অর্থাৎ অনিয়মিত ঘুম পাড়ার অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর আগে যে খাবার শরীরের অস্বস্তি তৈরি করে,

সেসব খাবার খাওয়া। যেমনঃ চা, কফি, এনার্জি ড্রিংক, মসলা ও তেলযুক্ত খাবার, সারাদিন কোন কাজ কাম না করে বসে থাকা। এর মানে শারীরিক কোন ক্লান্তির কাজ না করা। রুমে ঘুম পাড়ার মতো পরিবেশ না থাকা। যেমনঃ রুমের মধ্যে আলো থাকে, শব্দ আসে এবং ঘর অপরিষ্কার থাকা। এছাড়াও শারীরিক কিছু সমস্যার জন্য ঘুম আসে না। সে সমস্যাগুলো হচ্ছে মাথা ব্যথা, পেটে গ্যাস থাকা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়া ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকা।

ঘুম না আসলে যে সমস্যাগুলো হতে পারে

ঘুম যদি না আসে তাহলে এটা আমাদের শরীর ও স্বাস্থ্যের উপর অনেক বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ঘুম যদি সঠিক মত না পারা হয়, তাহলে শরীর আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায় এবং সঠিকভাবে কাজ করা যায় না। স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ আস্তে আস্তে কমতে থাকে। 

মানসিক চাপ বাড়ে এবং সব সময় মন খারাপ থাকবে। মায়ো ক্লিনিক (Mayo Clinic) এর একটি প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেছে। যদি অনেক সময় ধরে বা দীর্ঘ মেয়াদে ঘুম না আসে বা এই সমস্যা থাকে। তাহলে এটা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা আস্তে আস্তে কমিয়ে দিতে পারে। যেকোন কাজের প্রতি মনোযোগ দুর্বল হতে পারে এবং আস্তে আস্তে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে শুরু করে। 

গবেষণায় পাওয়া গেছে যে দীর্ঘদিন ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কের মধ্যে কিছু কার্যকরী অংশগুলো কম কাজ করে। যা স্মৃতিসক্তির উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। Johns Hopkins Medicine তাদের একটি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেছে। অনেকদিন ধরে যদি ঘুম না পারা হয়, তাহলে ঘুমের অভাবে শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। তারা গবেষণায় পেয়েছে পর্যাপ্ত ঘুম না পারার কারণে,

হৃদরোগের ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সেই সাথে এটা ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মত সমস্যাও তৈরি করতে পারে। এছাড়াও ঘুমের অভাবে ওজন বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই সময়মতো ঘুমানোর চেষ্টা করবেন এবং নিয়ম মেনে শারীরিক পরিশ্রম করবেন। আর ঘুমের সমস্যা অনেকদিন ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

ঘুম না আসলে প্রাকৃতিক উপায়ে সমাধান

আপনার যদি ঘুম না আসে বা দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকে। তাহলে এটা আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে সমাধান করতে পারবেন। ঘুমের সমস্যা মূলত হয়ে থাকে অনেক ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে নিয়মিত ঘুম পারার অভ্যাস না করে এলোমেলোভাবে জীবন পরিচালনা করা। এর জন্য ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। তাই ঘুম আসার জন্য শারীরিক ও মানসিক ভাবে দুশ্চিন্তা মুক্ত হতে হবে।
প্রতিদিন একসময় ঘুমানোর চেষ্টা করবেন এবং এক সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করবেন। এভাবে যদি আপনি নিয়মিত একই সময়ে ঘুমান এবং একই সময় ঘুম থেকে ওঠেন। তাহলে এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে এবং পরবর্তীতে ঘুমের সময় হলে এমনিতেই আপনার ঘুম চলে আসবে। এছাড়াও ঘুম না আসার আরেকটি কারণ হচ্ছে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ।

অবশ্যই ঘুমানোর আগে আপনার যে সারাদিনের চিন্তা এবং মনের অশান্তি সেটাকে কমানোর চেষ্টা করবেন। নিরিবিলি কোনো জায়গাতে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকবেন। অথবা আপনি চাইলে একটু দৌড়াদৌড়ি বা শারীরিক ব্যায়াম করতে পারেন। এটা আপনার চিন্তা ও মানসিক টেনশন দূর হতে সাহায্য করবে এবং ঘুম খুব তাড়াতাড়ি আসবে।

অবশ্যই যে ঘরে আপনি থাকেন সেই ঘরের পরিবেশ ভালো হতে হবে। যেমন ধরেন কোন রকমের শব্দ যেন ওই ঘরে না যায়। তারপর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন যেন থাকে এবং ঘুমানোর সময় রুমে যেন আলো না জ্বলে। এতে করে তাড়াতাড়ি ঘুম আসবে এবং ঘুম গভীর হবে। এইভাবে আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে ঘুম না আসার সমাধান করতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে যদি এই সমস্যা থাকে, তবে অবশ্যই আপনি ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিবেন।

ঘুম ভালো করার ঘরোয়া উপায়

ঘুম ভালো করার জন্য আপনি ঘরোয়া উপায়ে কয়েকটা কাজ আপনি করতে পারেন। সে কাজগুলা হচ্ছে, আপনি ঘুমানোর আগে তেল দিয়ে আপনার মাথা একটু মালিশ করতে পারেন। অথবা মলম দিয়ে কপালে একটু মালিশ করতে পারেন। এতে করে কি হবে আপনার শরীরের যে ক্লান্তিটা থাকবে সেটা দূর হবে এবং একটা ঘুম ঘুম ভাব আসবে।

এছাড়াও অনেকেই আবার ঘুম ভালো হওয়ার জন্য রাতের বেলায় গরম দুধ খাই। আবার অনেকেই ভেষজ চা বানিয়ে খাই, তবে ভেষজ চা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যাই হোক আপনি রাতের বেলায় মোবাইল ফোন, টিভি বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা কমাবেন। কারণ ফোনের আলো বা টিভির আলো মস্তিষ্ককে বিকৃত করে এবং ঘুম সহজে আসতে দেয় না।

ঘরোয়া ভাবে আপনি যদি তেল দিয়ে পা, হাত একটু মালিশ করে নিতে পারেন। সেই সাথে চুলে তেল দিয়ে মাথাটাও একটু মালিশ করে নিবেন। তাহলে এটাতে আপনার শরীর অনেক আরাম পাবে এবং ঘুম আসবে। তাই আপনি চাইলে ঘুম আসার জন্য এই ঘরোয়া উপায় গুলো মেনে চলতে পারেন। তবে আপনার যদি ঘুমের সমস্যা বেশি দিন ধরে থাকে। তাহলে আপনি একজন ভালো ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা নিবেন, এটা আপনার জন্য নিরাপদ হবে।

ঘুম ভালো করার জন্য কিছু কার্যকরী উপায়

ঘুম যদি আপনার অনেকদিন ধরে না হয়, অল্পতেই ঘুম ভেঙে যায়। আবার রাতের বেলায় হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে যায়, পরবর্তীতে আর ঘুম আসেনা। এরকম যদি সমস্যা আপনার থাকে। তাহলে অবশ্যই আপনি একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। আর আমি আপনাকে ঘুম ভালো করার জন্য যে কার্যকরী উপায়গুলো বলবো। 

এই উপায় গুলো মূলত আপনার যদি মাঝেমধ্যে ঘুমের সমস্যা হয় বা ঘুমের খুব বড় সমস্যা যদি না হয়। তাহলে আপনার ঘুম ভালো করতে সাহায্য করতে পারে। আপনার যদি মাঝে মধ্যেই ঘুমের সমস্যা হয় বা ঘুম না আসে। তাহলে আপনি ঘুম ভালো করার জন্য আগে একটি নিয়ম তৈরি করবেন। যেমন নিয়মটা হবে এরকম যে প্রতিদিন আপনি একই সময়ে ঘুমাবেন এবং একই সময়ে ঘুম থেকে উঠবেন।

এভাবে যদি আপনি নিয়ম করে ঘুমানোর অভ্যাস এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে কিছু দিন করতে পারেন। তাহলে আপনার ঘুম ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই দেখা দিতে পারে। এছাড়াও আপনার ঘুম ভালো করার জন্য আপনি চেষ্টা করবেন দিনের বেলায় শরীরে একটু রোদ লাগানোর। সবথেকে ভালো হয় যদি আপনি সকালবেলায় শরীরে রোদ লাগান। শরীরে রোদ লাগলে এটা ঘুম ভালো করতে সাহায্য করতে পারে। 

বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে ঘুমানোর যদি অভ্যাস থাকে। তাহলে এই অভ্যাসটা পরিবর্তন করবেন। কারণ এই অভ্যাসের কারণে রাতের বেলায় ঘুম আসার সমস্যা দেখা দেয়। আবার রাতে ঘুম ভালো হয় না। আরো কিছু কার্যকরী উপায় হিসেবে আপনি যা করতে পারেন। তা হচ্ছে ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন চালানোর যে অভ্যাস তা পাল্টাবেন। চেষ্টা করবেন ঘুমানোর অন্তত ৪০ মিনিট আগে ফোন টিপা বন্ধ রাখা। 

এই নিয়মগুলো যদি আপনি বেশ কিছুদিন মেনে চলেন। তাহলে আপনার যেটা স্বাভাবিক ঘুমের অভ্যাস সেটা ফিরে আসবে এবং আপনার ঘুম ভালো হতে সাহায্য করবে। তবে এই ঘুম যদি দীর্ঘদিন ধরে না আসে এবং এর জন্য আপনার শরীরের উপর যদি ক্ষতিকর প্রভাব পরে। তাহলে কিন্তু আপনাকে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

ঘুম না আসলে কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন

আপনারা অনেকেই গুগলে সার্চ করে জানতে চান, যে কখন ঘুম না আসলে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত হবে। সাধারণত ধরেন বিভিন্ন কাজ বা পারিবারিক অশান্তির কারণে বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করার জন্য। মাঝেমধ্যে ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে এবং সেটা আবার পরবর্তীতে স্বাভাবিক হয়ে যায়। 
ঘুম-না-আসলে-কখন-ডাক্তারের-পরামর্শ-নিবেন
কিন্তু ঘুমের সমস্যা যদি অনেকদিন ধরে চলতে থাকে। ধরেন দুই থেকে তিন সপ্তাহ বেশি যদি আপনার ঘুমের সমস্যা হয় বা ঘুম না আসে। তাহলে এটা একটা বড় সমস্যা হতে পারে, এরকম সমস্যা যদি দেখা দেয়, তাহলে আপনাকে দ্রুত একজন ভালো ডাক্তার দেখে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ আপনি যদি দ্রুত চিকিৎসা না নেন।

তাহলে এটা আপনার দৈনন্দিন জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। যা আপনার অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। এছাড়াও অনেকদিন ধরে যদি ঘুম না আসার পাশাপাশি যদি আপনার মাথা ব্যথা হয়, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা হয়। অথবা বুক ধরফর করে তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘুম না আসা নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ

প্রশ্নঃ ঘুম না আসা কি রোগের লক্ষণ?
উত্তরঃ আসলে সব সময় ঘুম না আসার এই সমস্যা রোগের লক্ষণ হয় না। এমনি স্বাভাবিক জীবন যাপনে সমস্যা ঘটলে এবং পারিবারিক কোনো চিন্তা বা চাপ থাকলে। এই ঘুমের সমস্যা বেশিরভাগ হয়ে থাকে। পরবর্তীতে যদি এই সমস্যাগুলো দূর হয়। তাহলে ঘুমের সমস্যাও ভালো হয়ে যায়। তবে এই ঘুমের সমস্যা যদি অনেকদিন ধরে চলতে থাকে এবং তা যদি শরীরের উপর খারাপ প্রতিক্রিয়া ফেলে। তাহলে এটা রোগের লক্ষণ হতে পারে। আর এরকম সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যাবেন।

প্রশ্নঃ গভীর ঘুমের জন্য কি করা উচিত?
উত্তরঃ গভীর ঘুম আসার জন্য আপনার নিয়মিত একই সময় ঘুমানোর অভ্যাস করা উচিত। যে ঘরে ঘুমাবেন সেই ঘরের পরিবেশ যেন শান্ত থাকে এবং ঘরে যেন আলো না জ্বলে। এইরকম পরিবেশ থাকা ঘরে ঘুমানো উচিত। ঘুমের আগে মাথা, হাত ও পায়ে তেল দিয়ে মালিশ করা উচিত। পারিবারিক কোন সমস্যা থাকলে। সেই সমস্যার জন্য অতিরিক্ত চিন্তা না করা উচিত। আর যদি ঘুমের সমস্যা অনেক বেশি হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রশ্নঃ ঘুম কম হওয়ার কারণ কী কী?
উত্তরঃ ঘুম কম হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে এই কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে। পারিবারিক অশান্তির জন্য হওয়া মানসিক চাপ ও বিভিন্ন কারণে দুশ্চিন্তা করা। নিয়মিত ঘুম না পারা, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা টিভি দেখা। রাতে ঘুমানোর আগে ভারী খাবার খাওয়া। বিশেষ করে চা, কফি, তেল ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া। সারাদিনে কোন কাজ কাম না করা এবং যে ঘরে ঘুমান সেই অতিরিক্ত শব্দ ও আলো থাকার কারণে ঘুম কম হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

প্রশ্নঃ ঘুমের অভাবে কি কি রোগ হয়?
উত্তরঃ (Mayo Clinic) তার একটি প্রতিবেদনে বলেন ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। যা স্মৃতিশক্তির উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। (Johns Hopkins Medicine) গবেষণা করে তার একটি প্রতিবেদনে বলেছে। যে দীর্ঘদিন ধরে যদি ঘুমের অভাব হয় তাহলে এটা হৃদরোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বাড়ানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানো সহ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রশ্নঃ ঘুমের অভাবে কি শরীর ব্যথা হয়?
উত্তরঃ ঘুম যদি ভালোভাবে না হয়, তাহলে শরীরে ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে রাতে যদি হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে যায় বা ঘুম যদি কম পারা হয়, তাহলে শরীর ক্লান্ত থাকে এবং শরীরে ব্যথা হতে পারে।
প্রশ্নঃ কি খেলে তাড়াতাড়ি ঘুম আসবে?
উত্তরঃ ঘুম সাধারণত একটি মানসিক প্রক্রিয়া। যখন মন খুশি থাকে এবং কোনরকম মানসিক চাপ বা চিন্তা থাকে না। দিনে শারীরিক পরিশ্রম বেশি হয় তখন খুব দ্রুতই ঘুম চলে আসে। এছাড়াও বেশ কিছু খাবার খাওয়ার কারণে তাড়াতাড়ি ঘুম আসতে সাহায্য করতে পারে। সে খাবারগুলো হচ্ছে হালকা কুসুম গরম দুধ, কলা, আঙ্গুর, কমলা ,আনারস এবং লেকটা ভাত। সহজে ও দ্রুত যে খাবার হজম হয় এবং পেটের কোন সমস্যা করে না। সেই সকল খাবার গুলো তাড়াতাড়ি ঘুম আসার জন্য সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথাঃ ঘুম না আসার কারণ এবং এর সমাধান

ঘুম না আসার কারণ এবং এর সমাধান নিয়ে আমরা আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদেরকে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি। আশাকরছি এই তথ্যগুলো আপনার ঘুমের সমস্যা কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করবে। ঘুম আমাদের শরীরের জন্য অনেক দরকারি। এই ঘুম আমাদের শরীর ও মনকে ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং প্রতিদিনের কাজ করতে মনোযোগ ধরে রাখে। ঘুমের যদি সমস্যা হয়, তাহলে এটা আমাদের শরীরের ওপর এবং আমাদের পারিবারিক জীবনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই ঘুমের সমস্যা হলে, অবশ্যই নিয়ম করে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন এবং উপরে ঘুমানোর যে কার্যকরী উপায় গুলো বললাম সেই উপায় গুলো মেনে চলবেন। আর যদি ঘুমের সমস্যা অনেকদিন ধরে চলতে থাকে। তাহলে অবশ্যই একজন ভালো ডাক্তার দেখে তার পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিবেন। এই তথ্য যদি আপনার উপকারে আসে। তবে এই আর্টিকেলটি আপনি পরিচিতদের শেয়ার করে দিবেন এবং এরকম আরো স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো দিয়ে নিয়মিত ভিজিট করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url