মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম ও ব্যবহারের নিয়ম
মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি লিখেছি। মাথা ব্যথা
করলে আমরা না জেনে অনেক ধরনের ওষুধ খেয়ে নিই। যা মোটেও ভালো বিষয় না, মাথা
ব্যথার ওষুধ খাওয়ার আগে মাথা ব্যথার কারণ বুঝে ওষুধ খেতে হবে।
তাই আজকে এখানে ১০টি মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধ সহ মাথা ব্যথা কেন হয়, ব্যথা
কমানোর ঘরোয়া উপায় ও কখন আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন? তার পুরো তথ্য পেয়ে
যাবেন। তাই দেরি না করে চলুন মাথাব্যথা কমানোর ওষুধ সহ আরো বিভিন্ন কারণ সম্পর্কে
জেনে নেওয়া যাক।
পেজ সুচিপত্রঃ মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম
- মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম
-
মাথা ব্যথা হওয়ার সাধারণ কিছু কারণ
-
হোমিওপ্যাথিক মাথাব্যথা কমার ৫টি ওষুধের নাম
- মাথা ব্যথা কমানোর দোয়া
- মাথা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
- দীর্ঘদিন মাথা ব্যাথার কারণ কী হতে পারে
- আঘাত জনিত ব্যথার ঔষধ কি
-
মাথা ব্যথা ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও সর্তকতা
-
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে
-
মাথা ব্যথা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
- লেখকের মন্তব্যঃ মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম
মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম
মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা
হবে। এখানে যেই ওষুধগুলো আপনাদেরকে বলা হবে এই ওষুধগুলো মূলত মাথা ব্যথা
করলে সব থেকে বেশি ব্যবহার করা হয় এবং ডাক্তাররেও এই ওষুধগুলো ব্যবহার করতে
বলে।
এই ওষুধগুলোর কোম্পানি এবং মান দুটোই ভালো হবে। তবে অবশ্যই এই ওষুধগুলো
খাওয়ার আগে আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। তা না হলে এই ওষুধগুলো আপনার
শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। যেটা মোটেও আপনার জন্য ভালো হবে
না। নিচে এই দশটি ওষুধের নাম বলা হলোঃ
১/প্যারাসিটামল (paracetamol) ট্যাবলেট ওষুধ
প্যারাসিটামল মাথা ব্যথা কমিয়ে থাকে। এই ওষুধটি শুধু যে মাথা ব্যথা কমায় তা
কিন্তু নয়। প্যারাসিটামল জ্বর ও মাথাব্যথা সহ শরীরের ব্যথা কমানোর জন্য ভালো কাজ
করে। প্যারাসিটামলের মধ্যে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান আছে। যে উপাদান গুলো মাথার
ব্যথা ও শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে বাথা কমায়। আপনি এখন হয়তো ভাবছেন,
যে প্যারাসিটামল কোন কোম্পানির টা ভালো হবে। মাথা ব্যথার জন্য বাংলাদেশের সব থেকে
বেশি খাওয়া হয় নাপা। এই নাপা ওষুধটি তৈরি করে বেক্সিমকো নামের একটি কোম্পানি।
তাছাড়া আপনি স্কোয়ার কোম্পানির প্যারাসিটামলটি খেতে পারেন। এই ওষুধটি অনেক
ভালো মানের একটি ওষুধ। এছাড়াও আপনি মাথা ব্যথার জন্য ফেবিক্স প্যারাসিটামল টি
খেতে পারেন।
এই ওষুধটা ইনসেপ্টা কোম্পানির এবং এই ওষুধের মান খুব ভালো। এটা বিশেষ করে জ্বর ও
ঠান্ডায় যে মাথা ব্যথা হয়, সেটা ভালো করে থাকে। এই ওষুধটি আপনি ফার্মেসিতে ১৫
থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন। যদি অনেক বেশি মাথা ব্যথা হয়, তাহলে
প্রাপ্তবয়স্করা এই ওষুধটি ৫০০ এমজির একটা ট্যাবলেট খেয়ে পাঁচ থেকে সাত ঘন্টা পর
আবার ৫০০ এমজি খেতে পারবে।
দিনে সর্বোচ্চ ১০০০ এমজি অথবা ১৫০০ এমজি খাওয়া যেতে পারে। তবে এর থেকে অতিরিক্ত
খাওয়া উচিত হবে না। যদিও এই ওষুধের তেমন কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
কিন্তু বেশি খাওয়া হলে, এটা লিভারের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মাথা
ব্যথা যদি হয় এবং লিভারে যদি আপনার সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই প্যারাসিটামল
খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
২/অ্যাসিটামিনোফেন (Acetaminophen) ওষুধ
অ্যাসিটামিনোফেন ওষুধটি হচ্ছে প্যারাসিটামলের আরেকটি নাম। এই ওষুধ টা সাধারণত
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতে অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধটি মাথাব্যথা করলে
সেই ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই ওষুধটি জ্বর, ঠান্ডা লাগা, শরীরের ব্যথা
ও দাঁত ব্যথার জন্য অনেক ভালো কাজ করে থাকে। এই ওষুধটি বয়স অনুযায়ী ডোজ নিতে
হয়।
যেমন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য এই ট্যাবলেটি ৫০০ এমজি থেকে ১০০০ এমজির ডোজ নিতে
পারে। দিনে সর্বোচ্চ ৩টি থেকে ৪টি ট্যাবলেট খেতে পারবে। চার থেকে ছয় ঘন্টা পর
পর। শিশুদের জন্য ১০ এমজি থেকে শুরু করে বয়স ও ওজন হিসেবে এর ডোজ বাড়বে। তবে
অ্যাসিটামিনোফেন খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সঠিক নিয়ম মেনে এই ওষুধটি
খেতে হবে।
৩/আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) ওষুধ
আইবুপ্রোফেন মাথা ব্যথা কম করার জন্য অনেক ভালো একটি ওষুধ। এই ওষুধটি আমাদের
শরীরের মধ্যে ব্যথা তৈরি করে, এইরকম উপাদানকে কমিয়ে মাথা ব্যথা সহ জ্বর ও ফোলা
ভাব কমাতে ভালো কাজ করে। এই ওষুধটি আপনি বাজারে ২০০ এমজি ও ৪০০ এমজি ট্যাবলেট এবং
২০০ এমজি একটি সিরাপ পাবেন।
যেটার দাম প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। সিরাপ যদি নিতে চান সিরাপটির
দাম পড়বে ৩০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। এই ওষুধ যদি অতিরিক্ত খাওয়া হয়, তাহলে এটা
বমি ভাব তৈরি করতে পারে। সেই সাথে এটা লিভারেরও ক্ষতি করতে পারে।
আর এই ওষুধটি খাওয়ার আগে যাদের গ্যাসের সমস্যা আছে, কিডনির সমস্যা আছে ও যারা
গর্ভবতী তারা সতর্ক থাকবেন। খালি পেটে এই ওষুধ খাওয়া উচিত হবে না। এই
ঔষধ তিনবেলা খাওয়া যেতে পারে, তবে নিরাপদ উপায় হবে। আইবুপ্রোফেন খাওয়ার
আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।
৪/নেপ্রোক্সেন (Naproxen) ট্যাবলেট ওষুধ
নেপ্রোক্সেন ট্যাবলেট এটা ব্যথা নাশক ওষুধ সেই সাথে এটা শরীরের ফোলা ভাব কমাতেও
কাজ করে। এই ওষুধটা আমাদের শরীরে যখন ব্যাথা লাগে, তখন সেই ব্যথা কমানোর জন্য
ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটা অনেক ভালো মানের একটি ওষুধ। এই ওষুধটা যাদের
মাইগ্রেনের সমস্যা এবং টানটান মাথাব্যথা করে এবং হাটু, কোমর, হাত সহ জয়েন্টের
ব্যথা ও ফোলা ভাব থাকলে এটা কমায়।
নেপ্রোক্সেন পিরিয়ডের ব্যথা কমাতেও ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধটি যদি একবার খাওয়া
হয়, তাহলে ওষুধটা ৮ থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারে। তাই এই ওষুধটি দিনে
দুইবার ২৫০ এমজি থেকে ৫০০ এমজি খেলেই যথেষ্ট। অবশ্যই ওষুধটি খাবারের পর খাওয়া
উচিত। যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, কিডনির সমস্যা আছে ও গর্ভবতী মহিলারা এটি
খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
৫/ডিক্লোফেনাক (Diclofenac) ট্যাবলেট ওষুধ
ডিক্লোফেনাক ট্যাবলেট যাদের অনেক বেশি মাথাব্যথা হয়, তাদের জন্য এই ওষুধটি
ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধটি কোমরের ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা, হাত ও পায়ের ব্যথা সহ
আঘাত জনিত বাথা কমাতে অনেক ভালো। এই ওষুধটি যারা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আছেন, তাদের
জন্য ৫০ এমজি প্রতি ট্যাবলেট। দিনে দুই থেকে তিনবার খাওয়া যেতে পারে, তবে সেটা
অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে।
এই ওষুধটি কোনো কিছু খাবার পর খাওয়া উচিত। এই ওষুধটি যদি অনেক দিন ধরে বেশি ডোজে
খাওয়া হয়। তাহলে কিডনি ও লিভারের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। যেমন
গ্যাস্ট্রিক, বমি, পেট ব্যথা করা, কিডনির সমস্যা ও হৃদরোগের ঝুঁকি হতে পারে।
কিন্তু এই ওষুধটি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অল্প সময় ব্যবহার করলে সাধারণত কোন
সমস্যা হয় না।
৬/কেটোরোলাক (Ketorolac) ট্যাবলেট ওষুধ
আপনি প্রচন্ড মাথা ব্যথার জন্য কেটোরোলাক ট্যাবলেটটি খেতে পারেন। এই ট্যাবলেটটি
অনেক শক্তিশালী ব্যথা কমানোর ওষুধ। এই ওষুধটা মূলত কাটা ছেঁড়া বা অপারেশনের পর
যে ব্যথা হয়। সে ব্যথাই ব্যবহার করা হয়। সেই সাথে এটা তীব্র যাদের মাথা ব্যথা
বা মাইগ্রেনের ব্যাথা ও দাঁতের ব্যথা কমাতে ব্যবহার করা হয়।
এই ওষুধটা সর্বোচ্চ পাঁচ দিন ব্যবহার করার পরামর্শ ডাক্তার দিয়ে থাকে।
দিনে সর্বোচ্চ তিন বার খাওয়া যেতে পারে। অবশ্যই ভরা পেটে ওষুধটি খেতে হবে।
এই ওষুধটি অনেক শক্তিশালী যদি পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত খাওয়া হয় নিয়ম না
মেনে, তাহলে এটা কিডনির ও পেটের ক্ষতি করতে পারে।
তাই কেটোরোলাক খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
৭/অ্যাসপিরিন (Aspirin) ট্যাবলেট ওষুধ
অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট মূলত মাথাব্যথা ও শরীরের জ্বর কমানো ও রক্ত পাতলা করার কাজ
করে। যদি জ্বরে মাথা ব্যথা করে, তবে আপনি ৩০০ এমজি থেকে ৬০০ এমজি ট্যাবলেটটি খেতে
পারেন। এতে আপনার খুব তাড়াতাড়ি শরীরের জ্বর এবং মাথাব্যথা কমে যাবে।
এই ওষুধটা আপনি চার থেকে ছয় ঘন্টা পর পর দিনে মোট দুইবার থেকে তিনবার খেতে
পারেন। আর এটা রক্তপাতলা রাখার জন্য ব্যবহার করতে, ৭৫ থেকে ১০০ এমজি ট্যাবলেটটি
দিনে একবার ব্যবহার করা যায়। তবে সেটা একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।
এটার কিছু সতর্কতা আছে, যেমন এই এসপিরিন ওষুধটি সবাই খেতে পারবে না। বিশেষ করে
যাদের পেটে গ্যাসের সমস্যা আছে বা আলসারের সমস্যা আছে। কারণ এটি খাওয়ার পর তাদের
রক্তক্ষরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই সাথে যারা গর্ভবতী মহিলা ও যাদের
এলার্জির সমস্যা আছে, তারাও এটি খাওয়ার আগে সাবধানতা অবলম্বন করবেন।
যাদের বয়স ১৬ বছরের নিচে, তাদের এই ওষুধটি ডাক্তার খেতে নিষেধ করে। কারণ এই
ওষুধটি ১৬ বছরের নিচে কোন শিশু যদি খাই, তবে এতে বিরল ও ভয়ঙ্কর রোগের ঝুঁকি
থাকে। তাই এই ওষুধটি খাওয়ার সময় অনেক সাবধান থাকতে হবে। এই ওষুধটি ব্যবহারের
পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া নিরাপদ হবে।
৮/সুমাট্রিপটান (Sumatriptan) ট্যাবলেট ওষুধ
সুমাট্রিপটান এই ওষুধটা যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদের মাথাব্যথা তাড়াতাড়ি
ভালো করে। এই ওষুধটা অনেক ভালো মানের একটি ওষুধ। এই ওষুধ আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে
থাকা রক্ত নালীগুলোকে সংকোচন করে মাথার ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এই ওষুধটি
Triptan গ্রুপের একটি ওষুধ।
এই ওষুধটা যাদের ঠান্ডা জনিত মাথা ব্যথা করে, তাদের জন্য কাজ করে না। এই ওষুধটা
যাদের চোখের আসেপাশে ও কপালের পাশে হঠাৎ করে অনেক ব্যথা শুরু হয়, তাদের জন্য
ভালো কাজ করে। এই ওষুধটা আপনি যখন মাইগ্রেনের সমস্যায় মাথাব্যথা সমস্যা শুরু হবে।
তখনই ৫০ এমজি বা ১০০ এমজির একটি ট্যাবলেট খেয়ে নিতে পারেন।
প্রয়োজনে আপনি এই ওষুধটি দুই ঘন্টা পর আরও একটি খেতে পারেন। এই ওষুধটি শুধুমাত্র
মাইগ্রেন হয়, তখনই খেতে হয়। নিয়মিত সুমাট্রিপটান খাওয়ার জন্য নয়। যাদের
হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ লিভার ও কিডনির সমস্যা আছে। তাদের জন্য এই ওষুধটি
বিপদজনক হতে পারে।
গর্ভবতী নারীদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এটা খাওয়া উচিত নয়। এই ওষুধটি খাওয়ার
পর যদি বুকে চাপ, ব্যথা, মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব এবং পেট ব্যথা ও বমি হয়, তাহলে
ওষুধটি সাথে সাথে খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
৯/রিজাট্রিপটান (Rizatriptan) ট্যাবলেট ওষুধ
রিজাট্রিপটান ট্যাবলেটিও সুমাট্রিপটান ওষুধের মতই মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা কমানোর
জন্য কাজ করে। এই ওষুধটাও প্রচন্ড মাইগ্রেনের সমস্যা যদি হয়, তবে আপনি সাথে সাথে
একটি ট্যাবলেট খেয়ে নিতে পারেন। এতে আপনার মাইগ্রেনের সমস্যা দ্রুত কমে যাবে। এই
ওষুধটি নিয়মিত খাওয়ার জন্য না। শুধুমাত্র মাইগ্রেন বা মাথা ব্যথার সমস্যা যখন
হবে, তখনই খাওয়া উচিত হবে। তবে এই ওষুধ অনেক শক্তিশালী। তাই এই ওষুধ ভুল নিয়মে
না খেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া নিরাপদ হবে।
১০/এরগোটামিন (Ergotamine) ট্যাবলেট ওষুধ
যাদের অনেক পুরনো মাইগ্রেনের বা ক্লাসটার হেডেকের সমস্যা আছে। তারা এই এরগোটামিন
ওষুধটি ব্যবহার করে। তবে এই ওষুধটি অনেক পুরনো হওয়ার কারণে এবং এই ওষুধটির কিছু
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকার কারণে। এটার ব্যবহার অনেক কম হয় এখন। এটার বিকল্প
হিসেবে রিজাট্রিপটান ও সুমাট্রিপটান ওষুধটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
এরগোটামিন ওষুধটি সাধারণত মাইগ্রেন বা মাথা ব্যথার সময় ১ এমজির ট্যাবলেট দিনে
তিনটা খেতে পারেন। এই ওষুধটি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ছয় টা খাওয়া নিরাপদ। অবশ্যই
খাবারের পর ওষুধটি খেতে হবে। এই ওষুধ যদি টানা অনেকদিন খাওয়া হয়, তাহলে এটা
শরীরের জন্য বিপদজনক হতে পারে।
এটার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, যেমন বুকে ব্যথা করা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া,
আঙ্গুল ও পায়ের রক্ত চলাচল কমে যাওয়া সহ বমি ও মাথা ঘোরা। দীর্ঘদিন ধরে এই
ওষুধটি খাওয়া হলে শরীরের রক্ত চলাচল কমতে পারে ও শরীরের টিস্যু মারা যেতে পারে।
তাই এই ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না। খেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে
খাবেন।
মাথা ব্যথা হওয়ার সাধারণ কিছু কারণ
মাথা ব্যথা হয় না এরকম মানুষ খুব কম আছে। বর্তমান সময়ে এই মাথাব্যথার
সমস্যাটা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এই মাথাব্যথার সমস্যা বিভিন্ন কারণে
হয়। চলুন যে কারণগুলোর জন্য মাথাব্যথা হয় সে কারণগুলো জেনে
নিই। মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ হচ্ছে দুশ্চিন্তা করা অতিরিক্ত টেনশন
এবং মানসিক চাপের কারণে মাথাব্যথা করে। এটাকে ডাক্তারি ভাষাতে বলা
হয় টেনশন হেডিক।
ঠিকমতো ঘুম না পারলে বা ঘুমের অভাব হলে, মাথা ব্যথা হতে পারে। এছাড়াও
শরীরে যদি পানির ঘাটতি হয়, তাহলে শরীরের রক্ত সঞ্চালনের ওপর প্রভাব পড়তে
পারে। যার কারণে মাথা ব্যথার সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যাটা বেশিরভাগ গরমের সময়
হয়। এছাড়া বর্তমানে মাথা ব্যথার জন্য সবথেকে বেশি যে জিনিস দায়ী সেটা হচ্ছে,
মোবাইল বা কম্পিউটার অনেকক্ষণ ধরে চালা।
মাথা ব্যথার আরো কিছু কারণ আছে সে কারণগুলোর মধ্যে হচ্ছে মাইগ্রেন সমস্যা
থাকলে। সাইনাস সমস্যা থাকলে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে, অনেক সময় ধরে না
খেয়ে থাকলে, ঠান্ডা, জ্বর বা ভাইরাসজনিত কারণে মাথা ব্যথার সমস্যা হতে
পারে। এরকম সমস্যা যদি হয়, তাহলে আপনি উপরে গিয়ে মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি
ঔষধের নাম গুলো জেনে আসতে পারেন। অবশ্যই এই ওষুধগুলো ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে
খেতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক মাথাব্যথা কমার ৫টি ওষুধের নাম
এলোপ্যাথি ওষুধের থেকে হোমিও ওষুধ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে কাজ করে।
এলোপ্যাথি ওষুধ শরীরের অনেক সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু হোমিও ওষুধ সেরকম কোন শরীরের
ক্ষতি করে না। বরং আস্তে আস্তে রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। মাথা ব্যথার কমার জন্য এখন
আমি দশটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের নাম বলবো, যেটা মাথা ব্যথার ধরন অনুযায়ী
ব্যবহার করা হয়।
১/বেলাডোনা (Belladonna) এই হোমিও ঔষধ যাদের অনেক বেশি মাথা ব্যথা,
শরীর গরম, চোখ লাল এবং শরীর ব্যথা করে, তাদের জন্য অনেক ভালো। কারণ এই ওষুধ এই
সমস্যাগুলোকে ভালো করতে কাজ করে। তবে এই ওষুধ একা একা ব্যবহার করা যাবে না।
এইরকম যদি সমস্যা হয়, তবে অবশ্যই এই ওষুধ ব্যবহার করার আগে হোমিও ডাক্তারের কাছে
পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
২/নাক্সভোমিকা (Nux Vomica) এই ওষুধ কাজ করে, যাদের গ্যাসের সমস্যা থেকে
মাথা ব্যথা হয়। আবার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার কারণে ও রাত জাগার কারণে যে মাথা
ব্যথার সমস্যা দেখা যায়। সেই ব্যথাকে কমাতে বা ভালো করতে এই ওষুধ ব্যবহার
করা হয়। তবে অবশ্যই এই ওষুধ ব্যবহারের আগে আপনি হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ
নিবেন।
৩/নেট্রাম মুরিয়েটিকাম (natrum muriaticum) এই ওষুধ সূর্যে গেলে যদি মাথা
ব্যথা হয় এবং মাইগ্রেনের সমস্যা যাদের আছে, তাদের জন্য অনেক ভালো। কারণ এই
ওষুধ মাইগ্রেনের সমস্যা, মাথাব্যথা ও চোখ দিয়ে পানি পড়ার সমস্যা ভালো
করে। যাদের এরকম সমস্যা আছে, তারা চাইলে এই ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।
তবে উচিত হবে, এই ওষুধ ব্যবহার করার আগে হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ
নেওয়া।
৪/সাঙ্গুইনারিয়া ক্যানাডেনসিস(Sanguinaria Canadensis) এই ওষুধ মাথার
ডানদিকে যে ব্যথা হয় মানে মাইগ্রেনের সমস্যা যাদের আছে তাদের এই সমস্যা ভালো
করতে এই ওষুধ কাজ করে। যাদের চোখ থেকে শুরু করে পুরো মাথায় ব্যথা আস্তে
আস্তে ছড়ায়, তাদের এই ব্যথা কমাতে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তাই আপনার যদি
এরকম ব্যথার সমস্যা থাকে। তবে আপনি এই ওষুধটি ব্যবহার করতে পারেন।
৫/ইকনেসিয়া (Ignatia) বিভিন্ন দুঃখের কারণে, মানসিক চাপের কারণে ও মানসিক আবেগের
কারণে। মাথা ব্যথার যে সমস্যা গুলো হয়, সেই সমস্যাগুলোকে কমাতে এবং মনকে ভালো
রাখতে। ইকনেসিয়া ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আপনার যদি এই সমস্যা গুলো হয়,
তাহলে অবশ্যই আপনি হোমিও চিকিৎসকের সাথে কথা বলে ইকনেসিয়া ওষুধটি তার নিয়ম মেনে
খেতে পারেন।
আমি উপরে মাথাব্যথা কমানোর যে পাঁচটি হোমিও ওষুধের নাম বললাম। এই ওষুধগুলো আপনি
কখনোই একা একা খাবেন না। এই ওষুধগুলো খাওয়ার আগে আপনি হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ
নিবেন। তারপর ওষুধগুলো আপনি ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে আপনার কোন স্বাস্থ্য ঝুঁকি
থাকবে না। আপনি থাকবেন নিরাপদে।
মাথা ব্যথা কমানোর দোয়া
মাথাব্যথা হলে এই মাথা ব্যথা কমানোর জন্য কোরআন হাদিসে অনেকগুলো দোয়ার কথা বলা
হয়েছে। যে দোয়াগুলো পড়ার পর মাথা ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। অনেকেই আছে
যারা, তাদের মাথাব্যথার সমস্যা হলে (লা ইউসাদ্দাউনা আনহা ওয়া লা
ইয়ুনযিফুন) সুরা(৫৬) ওয়াকিয়া আয়াত ১৯।
আরো পড়ুনঃ মুখে লেবু দিলে কি ক্ষতি হয় জানেন কি
এই দোয়াটি মাথায় হাত দিয়ে তিনবার পড়ে থাকে। যদি মাথা ব্যাথা হয়, তবে আপনিও
চাইলে মাথাব্যথা কমানোর জন্য এই দোয়াটি পড়তে পারেন। অবশ্যই এই
দোয়াটি মাথায় ডান হাত রেখে তিনবার পড়বেন।
মাথা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
মাথা ব্যথা এমনি হয় না। এই মাথাব্যথা হওয়ার কারণ হচ্ছে আমাদের জীবনের চলাচলে
অনিয়ম। যদি বেশ কিছু বিষয়ে আমরা নজর রাখি এবং নিয়ম মেনে চলাচল করতে
পারি তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই এই মাথা ব্যথার সমস্যা গুলো দূর হয়ে যায়। তাই
এখন আমি এই মাথাব্যথা কমানোর জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।
যে উপায়গুলো আপনি অবলম্বন করলে আপনার মাথা ব্যথা কিছুটা হলেও কমতে
পারে।
আদা চাঃ আপনার যদি মাথা ব্যথা হয় তাহলে আপনি আদা চা বানিয়ে খেতে
পারেন। আদা চায়ে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে, যেগুলো আপনার মাইগ্রেনের
সমস্যা থেকে হওয়া মাথাব্যথা এবং ঠান্ডা লাগা ও গ্যাস্ট্রিক জড়িত মাথা
ব্যথা কমাতে ভালো কাজ করে। তাই মাথা ব্যথার সমস্যা হলে, আপনি আদা
কুচি করে কেটে সেটা দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন।
পানি খেতে হবেঃ শরীরে যদি পানির ঘাটতি থাকে, তাহলে এটা থেকে মাথাব্যথার
সমস্যা হতে পারে। তাই প্রতিদিন কম করে হলেও ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি
খাবেন। গরমের সময় এর থেকে বেশি খাওয়ার চেষ্টা করবেন। কারণ শরীরে পানির
অভাব থাকলে সেটা ডিহাইড্রেশন তৈরি করতে পারে যার কারণে মাথাব্যথার সমস্যা হতে
পারে। তাই প্রতিদিন বেশি করে পানি খাবেন।
পুদিনা পাতাঃ আপনার যদি মাথা ব্যথা করে তাহলে আপনি পুদিনা পাতার রস
বানিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও আপনি চাইলে পুদিনা পাতার চা বানিয়েও খেতে
পারেন। আপনি যদি আপনার মাথাব্যথার সময় পুদিনা পাতার রস খান তাহলে এই
পুদিনা পাতার রস আপনার মাথা ব্যথা কমাতে ভালো কাজ করতে পারে কারণ পুদিনা পাতার
মধ্যে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যেগুলো মাথা ব্যথা কমানোর জন্য অনেক
উপকারী।
ঘুমাতে হবেঃ অনেক সময় ঘুম ভালোভাবে না হলে মাথা ব্যথা হতে পারে তাই
প্রতিদিন কম করে হলেও ছয় থেকে সাত ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। আর মাথা
ব্যথা যদি হয় তাহলে কপালে মাথা ব্যথা মলম দিয়ে ১৫ থেকে ৩০
মিনিট চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকবেন। এতে করে মাথা ব্যথায় অনেক আরাম
পাওয়া যায়। মলম না থাকলেও সমস্যা নাই, এমনি আপনি চোখ বন্ধ করে শুয়ে
থাকতে পারেন। তাতেও আপনি ভালো ফল পাবেন।
শারীরিক ব্যায়ামঃ প্রতিদিন আপনি নিয়মিত যদি ব্যায়াম করেন, তাহলে এটা
আপনার মাথা ব্যথার সমস্যা অনেকটাই দূর করে দেবে। কারণ নিয়মিত ব্যায়াম করলে
আপনার শরীরে ভালোভাবে রক্ত চলাচল করবে। যার কারণে আপনার মাথা ব্যথার সমস্যা
অনেকটাই কম হয়ে যাবে। তাই চেষ্টা করবেন নিয়মিত ব্যায়াম করার।
চা বা কফি খেতে পারেনঃ আপনার যদি মাথা ব্যথা করে, তাহলে আপনি এই মাথা ব্যথা
কমানোর জন্য এক কাপ চা অথবা কফি বানিয়ে খেতে পারেন। আপনি যদি চা অথবা কফি
বানিয়ে খান, তাহলে আপনার মাথা ব্যথা কিছুটা হলেও কমতে পারে। অনেকেই আছে যাদের
মাথা ব্যথা হলে, তারা চা বা কফি খাই এবং মাথা ব্যথায় অনেকটা আরাম পায়।
দীর্ঘদিন মাথা ব্যাথার কারণ কী হতে পারে
দীর্ঘদিন ধরে যদি মাথাব্যথা থাকে, তাহলে সেটা কোন ছোটখাটো বা সাধারণ ব্যাপার
না। এটার কারণ হতে পারে অনেক রকম শারীরিক ও মানসিক। যদি মাথা ব্যথা প্রতি মাসে
১৫ দিনের বেশি হয় এবং এই ব্যথা তিন মাসের বেশি দিন ধরে যদি থাকে। তাহলে এই
মাথা ব্যথাকে সাধারণত চিকিৎসকরা বলে ক্রনিক হেডেক।
অনেক দিন ধরে মাথা ব্যথা থাকলে, এর কারণ হতে পারে মাইগ্রেনের সমস্যা, টেনশন
হেডেক, চোখের সমস্যা, সাইনুস হেডেক, গ্যাস ও হজমের সমস্যা, ঘুম কম হওয়া।
অর্থাৎ অনিয়মিত জীবন যাপন, হরমোনের পরিবর্তন, উচ্চ রক্তচাপ ও নিম্ন রক্তচাপের
সমস্যা অথবা মস্তিষ্কের মধ্যে অনেক গুরুতর সমস্যা থাকলে মাথা ব্যথা অনেক
সময় ধরে হতে পারে।
আপনার যদি এই ব্যথা প্রতিদিন হয়, ব্যথা অনেকক্ষণ ধরে থাকে, এই ব্যথার সাথে
চোখে ঝাপসা দেখা, বমি ও জ্বর থাকে এবং শরীর যদি দুর্বল হয়ে যায়, ব্যথার ধরন
হঠাৎ যদি বদলে যায়, তাহলে আপনি দেরি না করে তাড়াতাড়ি একজন ভালো ডাক্তারের কাছে
যাবেন। সেখানে টেস্ট করাবেন তারপর ডাক্তার যেভাবে যা করতে বলবে সেভাবে আপনি তার
কাছে চিকিৎসা নিবেন।
আঘাত জনিত ব্যথার ঔষধ কি
আঘাত জনিত ব্যথার ওষুধ কোনগুলো তা আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন। উপরে আমি
মাথা ব্যথা কমানোর জন্য যে ওষুধগুলোর নাম বলেছি। ওই ওষুধগুলো ব্যবহার করেই
আপনি আপনার আঘাতজনিত ব্যথা কমাতে পারবেন বা ব্যবহার করতে পারেন। তারপরেও
এখন আমি আপনাদের কয় একটা এলোপ্যাথি ওষুধের নাম বলবো।
যেগুলো আপনি আপনার আঘাত জনিত ব্যথায় ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি আপনার আঘাত
জনিত ব্যথাই ডিক্লোফেনাক এই ওষুধটি ব্যবহার করতে পারেন। এই
ওষুধ ব্যথা কমাতে এবং আঘাত জনিত জায়গার ফোলা ভাব কমাতে ভালো কাজ
করে। এছাড়াও কেটোরোলাক এই ওষুধটাও আপনি ব্যবহার করতে পারেন।
এই ওষুধটা বড় ধরনের আঘাত পাওয়ার ব্যথা কমাতে কাজ করে। যেমন অপারেশনের পর যে
ব্যথা থাকে সেই ব্যথা কমানোর জন্য এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তারপর
আইবুপ্রোফেন এটাও আপনি ব্যথার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এই
ওষুধগুলো বেশি ব্যবহার করা ভালো না। তাই চেষ্টা করবেন এই ওষুধগুলো এড়িয়ে
চলার।
এইসব ওষুধ বেশি ব্যবহার করলে কিডনি ও লিভারের অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হতে
পারে। তবে আপনি যদি অনেক বড় ধরনের আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই এই
ওষুধগুলো ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের কাছে যাবেন। তার পরামর্শ নিয়ে আপনি
ওষুধ ব্যবহার করবেন, এটাই আপনার জন্য নিরাপদ হবে।
মাথা ব্যথা ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও সর্তকতা
মাথা ব্যথা কমানোর জন্য আমরা অনেকেই অনেক রকম ওষুধ খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা
জানি না যে প্রতিটি ওষুধেরই কোন না কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে। বিশেষ করে
এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তখনই বেশি দেখা যায়, যখন ওষুধ ভুল নিয়মে খাওয়া
হয়। এই ওষুধগুলো যদি ভুল নিয়মে ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে খাওয়া
হয়,
তাহলে অনেকের ক্ষেত্রে এই ওষুধগুলো পেটের সমস্যা তৈরি করতে পারে, লিভারের
ক্ষতি করতে পারে, কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে, এলার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা
দিতে পারে। এছাড়াও রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই অবশ্যই এই
ওষুধগুলো খাওয়ার আগে আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। তা না হলে এটা
আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে
আমরা অনেকেই আছি যারা মাথাব্যথা হলেই ডাক্তারের পরামর্শ বা চিকিৎসা ছাড়াই
ওষুধ খেয়ে নি। কিন্তু এটা আসলে মোটেও ভালো বিষয় না। এভাবে হুটহাট
করেই ওষুধ খেলে এটা উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে। মাথাব্যথা যদি
অনেক বেশি হয়। আর এই ব্যথা যদি টানা তিন দিনের বেশি থাকে ও সাধারণ কোনো
ওষুধ খেয়ে যদি এই ব্যথা না কমে,
তাহলে অবশ্যই আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। যদি আপনার মাথা ব্যথার
পাশাপাশি চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা হয়, বমি আসে, জ্বর হয়, শরীর ব্যথা করে
বা ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, তাহলে আপনি দেরি করবেন না। কারন এই লক্ষণ গুলো
ভালো না। এই লক্ষণ গুলো দেখা দিলে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যাবেন
এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিবেন।
অনেকে আছে যাদের মাথায় আঘাত লাগার পরেও তারা এটাকে অবহেলা করে।
কিন্তু মাথায় যদি আঘাত লাগলে অবহেলা না করে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা
নিবেন। কখনোই নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না। যদি মাথা বাথার সমস্যা
অনেক বেশি হয়, তাহলে অবশ্যই আপনি ডাক্তার পরামর্শ নিয়ে সঠিক নিয়ম মেনে
ওষুধ খাবেন।
মাথা ব্যথা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
প্রশ্নঃ মাথাব্যথার জন্য কোন ট্যাবলেট ভালো?
উত্তরঃ মাথা ব্যথা যদি হালকা বা সাধারণ হয়, তাহলে প্যারাসিটামল
ট্যাবলেট ভালো হবে। আর মাথাব্যথা যদি অনেক বেশি হয় এবং
মাইগ্রেনের সমস্যা থাকে, তাহলে আইবুপ্রোফেন ওষুধ ভালো হবে। তবে
এই ওষুধগুলো খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
প্রশ্নঃ টেনশন মাথা ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়?
উত্তরঃ টেনশন এ মাথা ব্যাথা করলে আপনি ১৫ থেকে ৩০ মিনিট চোখ বন্ধ করে
শুয়ে থাকবেন। প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করবেন, তাহলে টেনশন দূরে থাকবে ও
শরীর সুস্থ থাকবে। যার কারণে মাথাব্যথার সমস্যা হবে না। প্রতিদিন ৭
থেকে ৮ গ্লাস পানি খাবেন এবং ছয় থেকে সাত ঘন্টা ঘুমাবেন। মোবাইল বা
কম্পিউটার কম চালাবেন। মাথার নিচের বালিশটি রোদে দিবেন। বালিস গরম
হলে, সেই বালিশে কাঁধ দিয়ে শুবেন। দেখবেন আপনার টেনশনে হাওয়া মাথাব্যথা
অনেকটাই কমে যাবে।
প্রশ্নঃ কি করলে মাথা ব্যথা কমবে?
উত্তরঃ আপনার যদি মাথা ব্যথা করে, তাহলে আপনি কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে
শুয়ে থাকবেন। অনেক বেশি করে পানি খাবেন, প্রতিদিন কম করে হলেও ৭ থেকে ৮
গ্লাস। পুদিনা পাতার রস করে খেতে পারেন, আদা চা বানিয়ে খেতে পারেন,
মলম দিয়ে মাথা মালিশ করতে পারেন। আর হালকা মাথাব্যথা হলে, একটা
প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেতে পারে। এই কাজগুলো করলে দেখবেন আপনার মাথা
ব্যথা কমে যাবে।
প্রশ্নঃ কতবার মাথা ব্যথা স্বাভাবিক?
উত্তরঃ যদি মাথাব্যথা অনেক বেশি হয়, এটা যদি থেমে থেমে আসে এবং টানা
তিন দিনের বেশি যদি এই ব্যথা থাকে। তবে এটার জন্য আপনি
ডাক্তারের কাছে যাবেন। আর এই ব্যথা যদি টানা ১৫ দিন থেকে
তিন মাস হতেই থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনি এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিবেন
না। তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যাবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী
চিকিৎসা নিবেন।
প্রশ্নঃ প্রতিদিন প্যারাসিটামল খাওয়া কি নিরাপদ?
উত্তরঃ প্যারাসিটামল হালকা মাথাব্যথা ও জ্বরের জন্য ভালো কাজ করে। তবে
প্রতিদিন এই প্যারাসিটামল খাওয়া যাবেনা। যদি জ্বর বা মাথাব্যথা থাকে,
তাহলে এটা আপনি ডাক্তারের নিয়ম মেনে খেতে পারেন। সাধারণত এইসব
ওষুধ তিন বা পাঁচ দিনের ডোজে ডাক্তার খেতে বলে। তাছাড়া এই ওষুধ
ডাক্তারেরা কখনোই প্রতিদিন খেতে বলে না। কারণ এই ওষুধ প্রতিদিন খেলে
কিডনি ও লিভারের সমস্যা হতে পারে। তাই প্রতিদিন প্যারাসিটামল খাওয়া
নিরাপদ না।
লেখকের মন্তব্যঃ মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম
মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত
আলোচনা করেছি। আশাকরছি মাথা ব্যথা কমানোর জন্য কোন ওষুধগুলো বেশি ভালো তা
আপনারা জানতে পেরেছেন। তবে আমার পরামর্শ থাকবে যে এইসব ওষুধ আপনি কখনোই নিজে
নিজে খাবেন না। কারণ নিজে নিজে এই ওষুধগুলো খেলে শরীরে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই আপনার যদি মাথা ব্যথা হয় এবং এই
ব্যথা যদি অনেক বেশি ও অনেক দিন ধরে থাকে,
তাহলে আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন। আপনার মাথা ব্যথা সমস্যা খুলে বলবেন এবং
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিবেন। আর চেষ্টা
করবেন প্রতিদিন নিয়মিত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমানোর, ৭ থেকে ৮ গ্লাস
পানি খাওয়ার এবং প্রতিদিন শারীরিক ব্যায়াম করার। অবশ্যই মোবাইল ফোন
বেশি রাত করে চালাবেন না, কোন ধরনের দুশ্চিন্তা করবেন না ও বেশি রাত জাগবেন
না। এই নিয়মে মেনে যদি আপনি চলতে পারেন, তাহলে দেখবেন আপনার মাথাব্যথার
সমস্যা অনেকটাই ভালো হয়ে গেছে।


অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url