কিডনি পাথর গলায় কোন খাবার জানুন ঘরোয়া প্রতিকার
কিডনি পাথর গলায় কোন খাবার জানেন কি? যদি না জানেন, তবে আপনি এই আর্টিকেলটি পড়তে
পারেন। এখানে কোন খাবার খেলে কিডনির পাথর গলবে, সে খাবারগুলোর কথা বলা হবে।
তাছাড়া এই আলোচনা থেকে কিডনির পাথরের ঘরোয়া প্রতিকার সহ কখন ডাক্তারের কাছে
যাওয়া উচিত। তা আপনি জানতে পারবেন। তাই দেরি না করে চলুন কিডনিতে পাথর হলে
করণীয় কি তা জেনে নেওয়া যাক।
পেজ সূচিপত্রঃ কিডনি পাথর গলায় কোন খাবার
- কিডনি পাথর গলায় কোন খাবার
-
কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান কারণ
-
কিডনিতে পাথর হওয়ার সাধারণ লক্ষণ
-
কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি
-
কিডনির পাথরের ঘরোয়া প্রতিকার
-
যেসব খাবার কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে
- ডায়ালাইসিস করলে কি কিডনি ভালো হয়
-
কিডনিতে পাথর হলে কোন ফল খাওয়া উচিত
- কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত
-
কিডনির পাথর সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
-
শেষ কথাঃ কিডনি পাথর গলায় কোন খাবার
কিডনি পাথর গলায় কোন খাবার
কিডনিতে যদি পাথর অনেক বেশি আকার ধারণ করে। তবে অবশ্যই আপনাদের এর জন্য ডাক্তারি
চিকিৎসা নিতে হবে। তবে আপনার যদি কিডনিতে পাথর হওয়া কেবল শুরু হয় বা হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে। তবে আপনি এমন কিছু খাবার খেতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ মুগ ডালের ২০টি উপকারিতা ও অপকারিতা
যে খাবারগুলো আপনার কিডনির পাথর গলাতে সাহায্য করতে পারে। তাই এখন আমি আপনাদেরকে
কিডনি পাথর গলায় কোন খাবার সেগুলোর নাম বলবো। যেগুলো আপনি নিয়ম করে খেতে পারলে
আপনার কিডনির পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। আর যদি কিডনিতে কেবল পাথর হওয়া শুরু হয়
তবে তা গলাতে সাহায্য করবে।
বেশি বেশি পানি খেতে হবেঃ দিনে যদি অনেক বেশি করে পানি খাওয়া হয়। তবে এই
পানি কিডনিতে নতুন করে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং পুরনো পাথর যেগুলো
কিডনির ভেতরে জমে থাকে। সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রসাবের সাথে বার করে দিতে সাহায্য
করে। তাই প্রতিদিন অনেক বেশি করে পানি খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
নারিকেলের পানি খেতে হবেঃ নারিকেলের পানি বেশি করে খাবেন। কারণ
নারিকেলের পানি শরীরকে ঠান্ডা করে সেই সাথে এই পানি মূত্রের প্রবাহ
অনেক বেশি করে। এছাড়াও নারিকেলের পানিতে মিনারেল থাকে। যার কারণে
নারিকেল পানি খেলে শরীর থেকে খারাপ টক্সিন বার হয়ে যায়।
লেবু পানি খেতে হবেঃ কিডনির পাথর গলাতে এবং পাথর শরীর থেকে মূত্রের মাধ্যমে বার
করতে। আপনি প্রতিদিন লেবু পানি খেতে পারেন। লেবুতে সাইট্রেট এসিড থাকে। যার কারণে
এটা নিয়মিত খেতে পারলে কিডনিতে পাথর জমতে পারে না। সেই সাথে কিডনিতে থাকা ছোট
পাথরগুলো প্রসবের সাথে বার হয়ে যায়।
তুলসী পাতার রস খেতে হবেঃ এই তুলসী পাতায় অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান
থাকে। যা কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে এবং কিডনিতে ইউরিক এসিড
নিয়ন্ত্রণ করে। যার কারণে কিডনিতে সহজে পাথর জমতে পারে না এবং জমে থাকলেও সেগুলো
প্রসবের সাথে বার হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন তাজা তুলসী পাতা বেটে অথবা চিবিয়ে
খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
কিডনির পাথর গলাতে আরো যেসব খাবার কাজ করে
ডালিমের রস খেতে পারেনঃ কিডনি সুস্থ রাখতে ও কিডনির পাথর গলাতে বা দূর করতে
ডালিমের রস খাওয়া ভালো। কারণ ডালিমের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং সাইট্রিক এসিড
থাকে। যা কিডনির স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে এবং কিডনির পাথর গলাতে সাহায্য
করে। তাই নিয়মিত ডালিমের রস খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।
তরমুজ খেতে হবেঃ তরমুজের মধ্যে পটাশিয়াম থাকে তারপর পানিও অনেক বেশি
থাকে। কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা হলে বা পাথর হলে যদি নিয়মিত তরমুজ খাওয়া
যায়। তবে তরমুজ শরীরকে হাইড্রেট রেখে কিডনির পাথর গলাতে এবং প্রসবের
মাধ্যমে তা বের করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস
করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে।
আপেলের সিডার ভিনেগারঃ আপেলের সিডার ভিনেগারে এসিডিক এসিড থাকে। তাই
আপেলের সিডার খেলে কিডনিতে ক্যালসিয়াম জমাট বাঁধতে পারে না
এবং ক্যালসিয়াম কে নরম করতে সাহায্য করে। যার কারণে কিডনিতে পাথর
হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। তবে আপেল সিডার অল্প করে দিনে এক থেকে দুই চামচ খেতে
হবে বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে।
সেলারি রস খেতে হবেঃ সেলারিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পানি থাকে। যার
কারণে এটা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে এবং কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কাজ
করে। নিয়মিত সেলারি রস খেতে পারলে, এটা কিডনির ছোট পাথর বার করে দিতে
সাহায্য করে। সেলারি কিডনির ক্ষতিকর উপাদান গুলোকে শরীর থেকে বার করে দেয় যার
কারণে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমে। তাই সেলারি কিডনির পাথর দূর করতে ভালোভাবে
বেটে তার জুস বানিয়ে খেতে হবে।
ড্যান্ডেলিয়ন গাছের জুস খেতে পারেনঃ এটি একটি ভেষজ গাছ এই গাছের শিকড়
চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। আপনি এই শিকড় সেদ্ধ করে ছেকে খাবেন। এর
জুস কিডনির কার্যক্ষমতা ভালো রাখে লিভার ভালো রাখে। নিয়মিত খেতে
পারলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমবে। সেই সাথে কিডনির ছোট পাথর থাকলে তা
বের হয়ে যেতে সাহায্য করবেন।
কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান কারণ
কিডনিতে পাথর হওয়ার বেশ অনেকগুলো কারণ থাকে। এ কারণগুলোর মধ্যে প্রায়
অনেকগুলোই মানুষের অজানা। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ একসাথে গঠিত হয়ে কিডনিতে
পাথর তৈরি করে। এই রাসায়নিক পদার্থের গঠনের ধরন তিন রকম। যথা ক্যালসিয়াম
অক্সালেট, ইউরিক এসিড এবং স্ট্রোভাইট। কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান যে কারণগুলো
থাকে সেগুলো হচ্ছে,
কম পানি খাওয়াঃ পানি কম খেলে প্রসব ঘন হয়ে যায়। যার কারণে প্রসাবে থাকা
ক্যালসিয়াম অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিড একসাথে জমে যায় এবং পরবর্তীতে এই উপাদান
গুলোই পাথরে পরিণত হয়। তাই প্রতিদিন কম করে হলেও ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খাওয়ার
অভ্যাস করবেন। তাহলে প্রসব পাতলা হবে এবং পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
লবণ এবং অক্সালেটযুক্ত খাবার বেশি খেলেঃ লবণ যদি বেশি খাওয়া হয়, তবে প্রসাবে
ক্যালসিয়াম বেড়ে যেতে পারে। এছাড়াও অক্সালেট যুক্ত খাবার যেমন, পালং শাক,
চকলেট, বাদাম যদি বেশি খেলে। এগুলো শরীরের ক্যালসিয়াম এর সাথে মিশে কিডনিতে
ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর তৈরি করতে পারে। তাই চেষ্টা করবেন লবণ এবং
অক্সালেটযুক্ত খাবার কম খাওয়ার।
মূত্রথলির সংক্রমণ থাকলেঃ যদি মূত্রথলিতে কোন সংক্রমণ হয় অথবা গাঁউট বা
ডাইবেটিস থাকে। তবে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এছাড়াও যারা
অনেকদিন ধরে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করে। তাদেরও কিডনিতে পাথর হওয়ার
ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অনেকদিন ধরে এইসব ওষুধ খাওয়া যাবেনা এবং মূত্রথলির
সংক্রমণ, গাউট ও ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হবে।
শারীরিক পরিশ্রম কম করলেঃ যদি অনেকদিন যাবত কোন কাজ কাম না করা হয় বা শারীরিক
কোন পরিশ্রম না করা হয়। তবে শরীরের হাড্ডি থেকে ক্যালসিয়াম বার হয়ে প্রসাবে
মিশতে পারে। যার কারণে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আবার শরীরের ওজন
যদি বেশি থাকে, তবে শরীরের রাসায়নিক ভারসাম্য পাল্টে যেতে পারে। যার কারণে
কিডনিতে পাথর হতে পারে।
কিডনিতে পাথর হওয়ার সাধারণ লক্ষণ
কিভাবে বুঝবেন কিডনিতে পাথর হয়েছে? চলুন কিডনিতে পাথর হলে কিভাবে বুঝবেন
তার সাধারণ কিছু লক্ষণ জেনে নিই। এমন কিছু পাথর আছে, যেগুলো কিডনিতে
হওয়ার পরেও তার কোন লক্ষণ বোঝা যায় না। যার কারণে পরবর্তীতে অনেক বড় ধরনের
সমস্যা হয়ে থাকে। তাই মাঝে মধ্যে কিডনি পরীক্ষা করা ভালো।
তবে এমন কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো সাধারণত কিডনিতে পাথর হলে দেখা যায়। প্রথম
লক্ষণ হচ্ছেঃ হঠাৎ করে পিঠে অথবা কোমরের পাশে অনেক বেশি ব্যথা শুরু
করে। দ্বিতীয় লক্ষণ হচ্ছেঃ প্রসব করার সময় অনেক জ্বালাপোড়া করতে
পারে। তৃতীয় লক্ষণ হচ্ছেঃ প্রসব করার সময় প্রসবের সাথে রক্ত বার হতে
পারে।
চতুর্থ লক্ষণ হচ্ছেঃ বারবার প্রসবের চাপ লাগে, কিন্তু প্রসব করতে গেলে
অল্প প্রসব হয়। পঞ্চম লক্ষণ হচ্ছেঃ ব্যথা উঠলে বমি ভাব বা
বমি হতে পারে। ষষ্ঠ লক্ষণ হচ্ছেঃ হঠাৎ শরীরে অনেক জ্বর হতে পারে এবং
শরীর দুর্বল হয়ে কাঁপতে পারে। এই অবস্থা দেখা দিলে কখনোই দেরি করবেন না
দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন।
এছাড়াও সপ্তম লক্ষণ হচ্ছেঃ প্রসব করার সময় প্রসাব অনেক ঘোলা হয় এবং মূত্র
থেকে অনেক দুর্গন্ধ বার হবে। এই লক্ষণগুলো যদি দেখা দেয়, তবে আপনি বুঝবেন
আপনার কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা আছে অথবা পাথর হয়েছে। এমন অবস্থা
দেখা দিলে আপনি কখনোই দেরি করবেন না। যত তাড়াতাড়ি পারেন কিডনি পরিক্ষা করে
ডাক্তারের চিকিৎসা নিবেন।
কিডনিতে পাথর হলে করণীয় কি
কিডনিতে যদি পাথর হয়, তবে আপনাকে সাবধানে চলতে হবে। তারপর আপনার খাওয়া
দাওয়াতে বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। কিডনিতে পাথর হলে প্রতিদিন আপনি ৮
থেকে ১০ গ্লাস পানি খাবেন। চেষ্টা করবেন এর থেকে বেশি পানি খাওয়ার। কিন্তু কম
যেন পানি খাওয়া না হয়। যদি পিঠে অনেক ব্যথা হয়, তাহলে ডাক্তারের কাছে
তাড়াতাড়ি যাবেন।
কিডনিতে পাথর হয়েছে কিনা এটা আপনি চেক করতে পারেন। তাই নিয়মিত প্রসব করার পর
প্রসাব ছেকে দেখতে পারেন। যদি প্রসব ছেকে পাথর দেখা যায়, তবে অবশ্যই ডাক্তারকে
দেখাবেন। কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ যদি দেখা দেয়। তবে আপনি
আল্ট্রাসনোগ্রাম ও সিটি স্ক্যান করে ডাক্তারকে দেখাবেন। এতে কিডনির পাথরের
আকার এবং অবস্থান বোঝা যাবে।
যদি কিডনিতে পাথর হলে লবণ কম খাবেন। বেশি অক্সালেটযুক্ত খাবার খাবেন না, লেবু
পানি বেশি বেশি খাবেন। আর যদি এই সমস্যা বেশি হয় বা বড় ধরনের পাথর হয়।
তাহলে আপনার চিকিৎসার দরকার হবে। তাই বসে না থেকে ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা
নিবেন। কিডনিতে পাথর হলে এইসব পদক্ষেপ যদি আপনি নেন। তবে আপনি বড় ধরনের
বিপদ থেকে রক্ষা পাবেন।
কিডনির পাথরের ঘরোয়া প্রতিকার
আপনার কিডনিতে যদি বড় পাথর না হয়, তবে আপনি ছোট পাথর দূর করতে এবং ভবিষ্যতে
কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে
পারেন। আপনি যদি কিডনিতে পাথর হওয়ার আগে থেকেই অথবা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি
থাকলে।
আপনি এই নিয়মগুলো ফলো করলে আপনার এই ঝুঁকি কেটে যাবে। ছোট পাথর থাকলে সেগুলো
প্রসবের সাথে বার হয়ে যাবে। আপনি ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে কিডনির পাথর দূর করার
জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খাবেন। লেবুর রস ও গরম পানি
প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস খাবেন।
কারণ লেবুর সাইট্রিক এসিড পাথর ভাঙতে সাহায্য করে এবং এই পাথর প্রসবের সাথে বার
হয়ে যায়। কাঁচা তুলসী পাতা বেটে রস করে খাবেন। আপনি কাঁচা পাতা সরাসরি চাবিয়েও
খেতে পারেন। অ্যাপেল সিডার এক গ্লাস পানিতে এক চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন খাবেন।
তারপর বেদানা রস বানিয়ে খাবেন। আর অক্সালেটযুক্ত খাবার ও লবণ কম খাবেন।
অক্সালের যুক্ত খাবার এবং লবণ বেশি খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই এই খাবারগুলো কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে কিডনির পাথর ভালো করতে এই
ঘরোয়া উপায় গুলো একমাত্র সমাধান না। এই উপায় গুলো শুধুমাত্র কিডনিতে পাথর
হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। তাই কিডনিতে যদি পাথর হয়, তবে অবশ্যই আপনি
ডাক্তারি চিকিৎসা নিবেন।
যেসব খাবার কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে
আপনার যদি কিডনির সমস্যা থাকে বা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকে তবে আপনাকে
খাবার খাওয়ার সময় সতর্ক হয়ে খেতে হবে বেশ কিছু খাবার আছে
যেগুলো কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করতে পারে। তাই এইসব খাবার এড়িয়ে চলাই
ভালো। আর খেলেও তা অল্প পরিমাণে খাওয়া উচিত। যেসব খাবার কিডনির
মধ্যে পাথর সৃষ্টি করতে পারে সেগুলোর মধ্যে হচ্ছে,
লবণ যুক্ত ও অক্সালেট যুক্ত খাবারঃ বেশি লবণযুক্ত খাবার খেলে এবং অক্সালেট
যুক্ত খাবার যেমন পালং শাক, বিট, মিষ্টি আলু, রেউচিনি, মূলার শাক, চকলেট,
বাদাম, চা, কফি বেশি খেলে, এগুলো কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে।
গরুর মাংস খাসির মাংসঃ গরুর মাংস এবং খাসির মাংস খেলে ইউরিক অ্যাসিড শরীরে
বেশি হয়ে যায়। আর শরীরে যদি ইউরিক অ্যাসিড বেশি হলে। এই এসিড কিডনিতে পাথর
তৈরি করতে পারে।
সফট ড্রিংকস, অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিঃ সফট ড্রিংকসে ফসফরিক এসিড অনেক বেশি
থাকে। যদি বেশি খান, তবে এগুলো কিডনিতে খনিজ জমিয়ে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে
পারে। তাছাড়া ঠাণ্ডা পানি বেশি খেলে এবং বেশি চিনি বা মিষ্টি শরীরে ইনসুলিন ও
ক্যালসিয়াম বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ে কিডনিতে পাথর হতে পারে।
প্রোটিন যুক্ত খাবারঃ প্রোটিন যুক্ত খাবার বিশেষ করে মাছ ও ডিম যদি বেশি
খাওয়া হয়। তবে এগুলোর প্রোটিন প্রসাবে ইউরিক অ্যাসিড ও ক্যালসিয়াম
বাড়িয়ে দিতে পারে। যা কিডনিতে পাথর তৈরি করে। আর বেশি ভাজাপোড়া খাবারও
খাওয়া যাবে না বেশি ভাজাপোড়া খাবার খেলে শরীরে পানি কমে যেতে পারে যার
কারণে কিডনির উপর চাপ পড়ে কিডনিতে পাথর হতে পারে।
ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ও ভিটামিন সি বেশি গ্রহণঃ অনেকদিন ধরে যদি চিকিৎসকের
পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাওয়া হয়। তাহলে কিডনিতে পাথর
হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আর যদি ভিটামিন সি শরীরে বেশি বেড়ে যায়, তাহলে
এই ভিটামিন সি শরীরে অক্সালেট বাড়িয়ে দিতে পারে। আর অক্সালেট বেড়ে গেলে
কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।
ডায়ালাইসিস করলে কি কিডনি ভালো হয়
অনেকের ভুল ধারণা আছে যে ডায়ালাইসিস করলে কি কিডনি ভালো হয়। আসলে
ডায়ালাইসিস করলে এটা কিডনিকে ভালো করে না বরং কিডনির সহায়ক হিসেবে কাজ
করে। কিডনি শরীরের খারাপ পানীয় বর্জ্য বার করে দেয় এবং শরীরকে সুস্থ
রাখে। কিন্তু কিডনি নষ্ট হয়ে গেলে কিডনি এই কাজগুলো করতে পারে না যার
কারণে মানুষের জীবন বাঁচা মুশকিল হয়ে যায়।
তাই কিডনি নষ্ট হলে ডায়ালাইসিস করলে শরীর থেকে খারাপ বর্জ্য ও অতিরিক্ত
পানি বার হয়ে যায়। ডায়ালাইসিস কিডনি যখন আশি থেকে নব্বই পার্সেন্ট নষ্ট
হয়ে যায় তখন করা হয়। এইটা রোগীকে বেঁচে থাকতে ও শরীরের ভারসাম্য
নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। তাই ডায়ালাইসিস করে কিডনি ভালো হয়
না। বরং এটা সাময়িক ভাবে কিডনির কাজে সাহায্য করে। যদি কিডনি নষ্ট হয়, তবে
কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করায় এর আসল চিকিৎসা হবে।
কিডনিতে পাথর হলে কোন ফল খাওয়া উচিত
এমন কিছু ফল আছে যে ফলগুলো খেলে কিডনির জন্য ভালো হয়। আপনার যদি
কিডনিতে পাথর হয় বা পাথর হওয়ার সম্ভাবনা যদি থাকলে লেবু নিয়মিত খেতে
পারেন। লেবু যদি আপনি নিয়মিত খান, তবে লেবুর সাইট্রিক এসিড আপনার
কিডনিতে জমে থাকা খনিজ পদার্থ ভেঙে দিতে সাহায্য করবে। যার কারণে
কিডনিতে সহজে পাথর তৈরি হবে না। এ ফলগুলো ছাড়াও আপনি কমলালেবু,
মালটা, তরমুজ,
বেদানা, আপেল, আনারস এই ফলগুলো নিয়মিত খেতে পারে না। এই ফলগুলো
নিয়মিত খেলে আপনার কিডনির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার
ঝুঁকি কমবে। এই ফলগুলো খেলে প্রসাবের মাধ্যমে কিডনির ক্ষতিকর
পদার্থগুলো গলে বার হয়ে যাবে। কিন্তু কিডনিতে যদি পাথর হয়, তবে এই
ফলগুলোর উপর একমাত্র নির্ভর না করে আপনি ডাক্তারের চিকিৎসা নিবেন।
কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত
আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন যে কিডনিতে পাথর হলে কখন ডাক্তারের কাছে
যাওয়া উচিত হবে। আপনার যদি কিডনিতে পাথর হয়। আর আপনার
যদি পিঠে, কোমরের পাশে অথবা তলপেটে অসহনীয় ব্যাথা হয়। তাহলে
আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
এছাড়াও ব্যথার পাশাপাশি যদি শরীরে জ্বর এবং শরীর দুর্বল হয়ে কাঁপা শুরু
করে। তারপর প্রসাবে যদি রক্ত বার হয়, প্রসাব বন্ধ হয়ে যায় বা প্রসব অল্প
হয় ও বারবার প্রসাবে চাপ আসে, বমি হয় বা বমি ভাব হয়। তারপর এই
ব্যথা যদি দুই থেকে তিন দিনের বেশি থাকে,
তবে আপনি কখনোই দেরি করবেন না। এই লক্ষণগুলো তখনই দেখা যায়, যখন কিডনির
সমস্যা অনেক বেশি থাকে। তাই এরকম লক্ষণ গুলো দেখা দিলে খুব তাড়াতাড়ি
আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন এবং কিডনির পরীক্ষা করিয়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত
করবেন। এতে করে আপনি বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
কিডনির পাথর সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
প্রশ্নঃ কিডনিতে পাথর হলে কি খাওয়া উচিত না?
উত্তরঃ কিডনিতে পাথর হলে কম পানি খাওয়া উচিত না। তারপর বেশি
লবণ, অক্সালেট যুক্ত খাবার, পটাশিয়ামযুক্ত খাবার, ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার
সহ গরুর মাংস, খাসির মাংস, স্ট্রবেরি, শুকনো ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া
উচিত না। আপনার যদি কিডনিতে পাথর হয়। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে
ডাক্তার যেগুলো খেতে মানা করবে সে খাবারগুলো খাবেন না।
প্রশ্নঃ কিডনিতে পাথর হলে খেজুর খাওয়া যাবে কি?
উত্তরঃ কিডনিতে পাথর হলে খেজুর খাওয়া যাবে, কিন্তু খুব বেশি না।
আবার যাদের কিডনিতে পটাশিয়াম বেশি তারাও খেজুর অল্প খাবেন বা খাওয়ার
আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। কারণ খেজুরের মধ্যে পটাশিয়াম থাকে। তাই
যাদের কিডনিতে পটাশিয়াম বেশি তারা খেজুর খেলে কিডনির সমস্যা
বাড়তে পারে। তাই কিডনিতে পাথর হলে খেজুর খাওয়ার সময় সাবধানতা
অবলম্বন করতে হবে।
প্রশ্নঃ কিডনিতে পাথর হলে ডিম খাওয়া যায়?
উত্তরঃ ডিমে প্রোটিন বেশি থাকে আর প্রোটিন জাতীয় খাবার কিডনিতে পাথর
তৈরি করতে সাহায্য করে। তাই কিডনিতে যদি পাথর হয়, তাহলে ডিম খাওয়া থেকে
নিজেকে বিরত রাখবেন। তা না হলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি আরো বাড়তে
পারে।
প্রশ্নঃ কাঁচা রসুন খেলে কি কিডনির কোন ক্ষতি হয়?
উত্তরঃ কাঁচা রসুন কিডনির কোন ক্ষতি করে না। কাঁচা রসুনের
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ বিদ্যমান থাকে। কাঁচা রসুন যদি খান তাহলে
কাঁচা রসুনের প্রাকৃতিক গুনাগুন শরীর থেকে কোলেস্টেরল কমায় এবং রক্তকে
পরিষ্কার করে যার কারণে কিডনির ওপর চাপ কমে এবং কিডনির স্বাস্থ্য ভালো
থাকে। এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কাঁচা রসুন অনেক
উপকারী। তাই বলা যায় কাঁচা রসুন খেলে কিডনির কোন ক্ষতি হয় না বরং কিডনির
জন্য ভালো।
প্রশ্নঃ কিডনি রোগী কি কচু খেতে পারবে?
উত্তরঃ কিডনির অসুখ যদি কম থাকে। তবে অল্প করে কচু খাওয়া যেতে পারে।
কিন্তু কিডনির অসুখ যদি বেশি থাকে। তাহলে কচু না খাওয়াই ভালো হবে। কারণ
কচুতে অনেক বেশি পটাশিয়াম থাকে। আর কিডনি যদি ভালোমতো কাজ না করে। তাহলে
এই পটাশিয়াম শরীর থেকে বের হতে পারে না। তখন কিডনির সমস্যা হতে
পারে। তবে কচু খাওয়ার আগে ডাক্তারের অনুমতি নিতে হবে। ডাক্তার অনুমতি
দিলে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
শেষ কথাঃ কিডনি পাথর গলায় কোন খাবার
কিডনি পাথর গলায় কোন খাবার আশাকরি এই বিষয়ে ভালোভাবে জানতে
পেরেছেন। উপরে যেসব খাবারের কথা বলা হয়েছে। এইসব খাবার যদি আপনি নিয়ম
মেনে নিয়মিত খেতে পারেন। তবে আপনার কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমবে ও
কিডনির ছোটখাটো পাথর হলে প্রসবের সাথে বার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
থাকবে। তবে যেসব খাবার ও ঘরোয়া পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, সেগুলো
কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য
করবে।


অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url