প্রতিদিন মুখে মধু দিলে কি হয় এবং এর উপকারিতা
প্রতিদিন মুখে মধু দিলে কি হয় তা নিয়ে আজকে আমি আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা
করবো। এর পাশাপাশি আপনারা প্রতিদিন মুখে মধু দেওয়ার উপকারিতা সম্পর্কেও জানতে
পারবেন। যাদের ত্বকের সমস্যা তারা যদি এই মধু সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে পারে,
তাহলে এটা তাদের ত্বকের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে। তাই ত্বকের উপকারে মধু
আপনি কিভাবে ব্যবহার করবেন তার সকল তথ্য আজকের এই আর্টিকেলের মধ্যে থাকবে। তাই
মধু সম্পর্কিত সকল তথ্য জানতে হলে। নিচের পুরো আলোচনাটি ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে
পড়বেন।
পেজ সূচিপত্রঃ প্রতিদিন মুখে মধু দিলে কি হয়
-
প্রতিদিন মুখে মধু দিলে কি হয়
-
মধুর মধ্যে যেসব প্রাকৃতিক উপাদান থাকে
-
প্রতিদিন মুখে মধু দেওয়ার উপকারিতা
-
মেয়েদের ত্বকের যত্নে মধু ব্যবহার
- মুখে মধু ব্যবহারের কিছু পদ্ধতি
-
তৈলাক্ত ত্বকে মধু লাগালে কি হয়?
-
রাতে মধু মাখলে কি হয়?
-
মধুর সাথে কী দিলে মুখ ফর্সা হয়?
- মুখে মধু আর লেবুর রস দিলে কি হয়?
-
মুখে মধু ব্যবহারের সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
-
আলোচিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
-
শেষ কথাঃ প্রতিদিন মুখে মধু দিলে কি হয় এবং এর ব্যবহার
প্রতিদিন মুখে মধু দিলে কি হয়
প্রতিদিন মুখে মধু দিলে কি হয় আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন। প্রতিদিন যদি
আপনারা মুখে মধু দেন, তাহলে এই মধু আপনাদের ত্বকের সমস্যা দূর করবে এবং ত্বককে
সুন্দর ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করবে। আপনারা যদি এই মধু সঠিক নিয়ম মেনে ত্বকে
ব্যবহার করেন, তাহলে এটা থেকে ভালো উপকার পাবেন। এটা নিয়মিত মুখে লাগালে মুখের
যে শুষ্ক ভাব থাকে সেটা দূর হবে।
যাদের ত্বক অনেক শুষ্ক এবং মুখের ত্বক শক্ত। তারা যদি এই মধু নিয়মিত মুখে দিতে
পারে, তাহলে তাদের ত্বকের শুষ্কতা দূর হবে। সেই সাথে মুখের ত্বকও নরম
হবে। ত্বকের বিশেষজ্ঞরা বলে মধুর মধ্যে এন্টিইনফ্লামেটরি এবং
এন্টিব্যাকটেরিয়াল থাকে। যদি মধু নিয়মিত ত্বকে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এই
গুণগুলো ত্বকের যে ভারসাম্য থাকে, সেটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যার
কারণে ত্বকে হওয়া ব্রণ,
ত্বকের লালচে ভাব ও ত্বকে হওয়া আরও অনেক ধরনের সমস্যা কিছুটা হলেও কম হয়।
তবে তারা বলে মধুকে ত্বকের ওষুধ হিসেবে না দেখতে। কারণ এটা কোন চিকিৎসা বা
ওষুধ না। ত্বকের যদি কোন সমস্যায় থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই চিকিৎসককে দেখিয়ে
চিকিৎসা নিতে হবে। এই মধু এই সমস্যাগুলো কমাতে সাহায্য করতে পারে
শুধুমাত্র। মধু প্রতিদিন মুখে যদি দেওয়া হয়, তাহলে এটা ত্বকের ভেতর থেকে
ময়লা গুলোকে দূর করে।
যার কারণে ত্বক দেখতে ফ্রেশ এবং সুন্দর লাগে। এই মধু মুখের ত্বককে অনেক
ভালো রাখে। তবে চিকিৎসকেরা বলে এই মধু মুখে দেওয়া ভালো হলেও, এটা কিন্তু সবার
জন্য একরকম কাজ করে না। এর কারণ সবার ত্বক একরকম না। যাদের ত্বকের সমস্যা
আছে। তারা যদি মধু মুখে দেয়, তাহলে তাদের মুখে জ্বালাপোড়া করতে পারে। তাই
চিকিৎসাকরা বলে প্রথম যদি মুখে মধু দেন, তাহলে অবশ্যই অল্প করে দিয়ে
দেখতে হবে। যদি কোন সমস্যা না হয়, তাহলে প্রতিদিন মুখে দিতে পারেন।
মধুর মধ্যে যেসব প্রাকৃতিক উপাদান থাকে
আমরা অনেকেই শুধু মধু কে জানি যে এটা শুধু খেতে হয়। কিন্তু এটা শুধু খেতেই হয়
না, এটা মুখের ত্বকের জন্য ব্যবহার করা হয়। অবশ্য এই মধু অনেক পুরনোকাল থেকেই
ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। মধুর মধ্যে এমন কিছু প্রাকৃতিক
উপাদান ও পুষ্টিগুণ আছে, যেগুলো ত্বকের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে এবং ত্বকের
বিভিন্ন সমস্যা গুলোকে কমাতে অনেক ভালো কাজ করে।
যেসব মধু খাঁটি মানে কোন পরিশোধন করা হয়নি। এই মধু গুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক এই
উপাদান গুলো অনেক বেশি থাকে। তাই খাঁটি মধু ত্বকে লাগানো হলে, এটা ত্বকের
ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। মধুর মধ্যে প্রাকৃতিক চিনি অনেক
বেশি থাকে। যেগুলোকে বলা হয় গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ। এছাড়াও মধুর মধ্যে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রাকৃতিক ভিটামিন বি কমপ্লেক্স,
ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল,
এন্টি ইনফ্লামেটরি ও এনজাইম ভালো পাওয়া যায়। তাই এই মধু খাও আর মুখে লাগাও
যাই করো না কেন ভালো উপকার পাওয়া যায়। তবে যাদের কোন সমস্যা আছে। যেমন
ধরেন ত্বকে লাগালে যদি ত্বক জালা করে, তাহলে এটা অল্প মুখে লাগাবেন। যদি সমস্যা
হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন।
প্রতিদিন মুখে মধু দেওয়ার উপকারিতা
মধুর মধ্যে প্রাকৃতিক গুনাগুন অনেক বেশি থাকে যার কারণে এটা খাওয়া বা মুখে
মাখা দুটোতেই অনেক ভালো কাজ করে। প্রতিদিন যদি মুখে মধু দেওয়া হয় তাহলে
এর কিছু উপকারিতা পাওয়া যায় অনেকেই জানে না এই উপকারিতাগুলো কি। তাই আমি
এখন আপনাদেরকে জানাবো প্রতিদিন আপনি যদি মুখে মধু দেন তাহলে কি কি উপকারিতা
পেতে পারেন সেগুলো সম্পর্কে।
মুখের শুষ্ক ভাব দূর করেঃ এই মধুর মধ্যে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে,
যেগুলো মুখের আদ্রতা ঠিক রাখে এবং মুখের শুষ্কতা দূর করে মুখকে মোলায়েম রাখতে
সাহায্য করে। তাই যাদের ত্বক অনেক শুষ্ক। তারা প্রতিদিন যদি মুখে মধু
দেয়, তাহলে তাদের মুখের এই শুষ্ক ভাব দূর হবে।
মুখের ত্বক নরম থাকেঃ প্রতিদিন যদি মুখে মধু দেওয়া হয়, তাহলে এই মধুতে
থাকা প্রাকৃতিক গুনাগুন গুলো মুখের ত্বককে শক্ত থেকে নরম করে। মুখের তেল
ভাব দূর করে মুখের ত্বককে মসৃণ ও মোলায়েম রাখতে সাহায্য করে। যার কারণে মুখের
ত্বক অনেক ভালো থাকে।
মুখের ব্রণ ও দাগ কমায়ঃ মধুর মধ্যে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রাকৃতিক উপাদান
থাকে। যেটা ত্বকের সমস্যা ভালো করতে অনেক কাজ করে। এছাড়াও এই
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান গুলো ত্বকে ব্রণ হওয়ার জন্য যেসব জীবাণু দায়ী।
সেই জীবাণুগুলোকে কমায় এবং মুখে ব্রণ দূর করে ও মুখের দাগ থাকলে সেগুলোকে
হালকা করতে সাহায্য করে।
মুখের সতেজতা বাড়ায়ঃ এই মধু প্রতিদিন মুখে দিলে, মধু মুখের ত্বকের ভেতরে
থাকা ময়লা গুলোকে বার করে ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। যার কারণে মুখ
পরিষ্কার থাকে এবং মুখে একটা সতেজতা দেখা যায় এবং মুখ অনেক সুন্দর
লাগে। তাই যাদের ত্বকে ময়লা আছে, তারা চাইলে এটি প্রতিদিন মুখে দিতে
পারে। মুখে দিলে তারা এই উপকারী গুণ পাবে।
ত্বকের প্রদাহ কমায়ঃ এই মধুর মধ্যে এন্টি ইনফ্লামেটরি গুণ থাকার কারণে।
এটা যদি প্রতিদিন মুখে দেওয়া হয়, তাহলে এটা ত্বকের যে লালচে ভাব এবং ত্বকের
যে জ্বালাপোড়া করে সেটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই যাদের এই সমস্যা
আছে, তারা নিয়মিত মুখে মধু দিতে পারে। মুখে মধু দিলে তারা কিছুটা আরাম
পাবে।
মুখের মরা চামড়া দূর করেঃ মধুর মধ্যে প্রাকৃতিক এনজাইম থাকার কারণে এটা
যদি প্রতিদিন মুখে ব্যবহার করা হয় তাহলে এটা ত্বকের উপরের মরা চামড়াগুলোকে
দূর করতে সাহায্য করে এবং নতুন চামড়ার স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। তাই
মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য আপনারা চাইলে নিয়মিত এটা মুখে ব্যবহার করতে
পারেন।
মুখের সৌন্দর্য বাড়ায়ঃ মধুর মধ্যে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে,
যেগুলো ত্বককে ভেতর থেকে ভালো রাখতে কাজ করে এবং ত্বকের যে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা
সেটাকে বাড়ায়। যার কারণে ত্বক দেখতে অনেক সুন্দর লাগে এবং অনেক মোলায়েমও
থাকে। তাই যারা ত্বককে ভালো রাখতে চান এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে
চান, তারা নিয়মিত এটা মুখে লাগাতে পারেন।
মুখে বয়সের ছাপ দূর করেঃ প্রতিদিন যদি মুখে মধু দেওয়া হয় তাহলে এই মধুর
মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণগুলো ত্বকের ভেতরের সমস্যা দূর করে। ত্বককে টান
রেখে ত্বকের উজ্জ্বলতা প্রাকৃতিক ভাবে বাড়িয়ে ত্বক থেকে বয়সের ছাপ দূর
করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে এই মধুর মধ্যে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও
প্রোবায়োটিক থাকার কারণে মধু মুখে লাগালে। মুখ থেকে বয়সের ছাপ দূর
হতে সাহায্য করে।
মেয়েদের ত্বকের যত্নে মধু ব্যবহার
মধু বেশিরভাগ মেয়েরাই তাদের মুখের যত্ন নেওয়ার জন্য দিয়ে থাকে। এই মধুতে
থাকা প্রাকৃতিক উপাদান গুলো ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ত্বককে প্রাকৃতিক
ভাবে সুন্দর করতে অনেক ভালো। বর্তমান সময়ে অনেক মেয়ে আছে, যারা বিভিন্ন ধরনের
কেমিক্যাল যুক্ত ফেসওয়াশ, মেকআপ আরো অনেক ধরনের ক্রিম পাউডার ব্যবহার করে।
যার কারণে তাদের মুখে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যাগুলোর মধ্যে বেশি দেখা
দেয়, মুখে ব্রণ বার হওয়া, মুখের ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মুখের ত্বক ফেটে
যাওয়া, মুখ কালচে হয়ে যাওয়া আরো বেশ কিছু সমস্যা। এই সমস্যাগুলো কমাতে মধু
অনেক ভালো হতে পারে। যেসব মেয়েদের মুখ অনেক শুষ্ক এবং ত্বক ফেটে যাওয়ার
সমস্যা আছে।
তারা যদি মধু একটু নিয়ে পাতলা করে মুখে লাগিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট মুখে রাখার পর
ধুয়ে ফেলে, তাহলে তাদের ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর হবে। ত্বক ফেটে যাওয়ার সমস্যা
ভালো হবে। এটা যদি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটা মেয়েদের ত্বকের যে
আদ্রতা সেটাকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়াও যে মেয়েদের মুখে ব্রণ
এবং লাল ভাব থাকে।
তাদের জন্যও মধু অনেক ভালো হতে পারে। কারণ মধুর মধ্যে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং
এন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান থাকে। এই উপাদানগুলো মুখের ব্রণ কমাতে এবং মুখের লাল
ভাব দূর করতে সাহায্য করে। যাদের মেকআপ করে ত্বক অনেক খারাপ হয়ে গেছে। আবার
বাইরে গিয়ে ত্বকে অনেক ধুলাবালি লাগে।
সেসব মেয়েদের পানিতে মুখ ভিজিয়ে। তার ওপর অল্প মধু লাগিয়ে হালকা করে কচলিয়ে
মুগ ধুয়ে ফেলা দরকার। এভাবে মধু লাগিয়ে কোচলিয়ে ধুয়া হলে মুখের ভেতর থেকে
ময়লা বার হয়। যার কারণে মুখের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ে। মেয়েদের ত্বকের জন্য
মধু উপকারী হলেও ডাক্তারেরা বলে মধু ব্যবহার সবার জন্য ভালো না। কারণ এই মধু
সবার ত্বকের জন্য একই রকম কাজ করে না।
যাদের মুখ তেল ভাব থাকে, তারা যদি এটা বেশি করে মুখে দেয়, তাহলে তাদের ব্রণ
কমার বদলে ব্রণ আরো বেশি হতে পারে। আবার সবার একই রকম ত্বক হয় না। তাই মুখে
মধু দেওয়ার আগে অল্প একটু লাগিয়ে দেখতে হবে। যদি সমস্যা না থাকে, তাহলে
ব্যবহার করা যায়। আর ত্বকের যদি কোন সমস্যা থাকে, তাহলে মধুকে একমাত্র উপায়
ভাবা যাবে না। বরং এর চিকিৎসা আপনাকে ডাক্তারের কাছে গিয়ে নিতে হবে।
মুখে মধু ব্যবহারের কিছু পদ্ধতি
মুখে মধু ব্যবহার করে ভালো উপকার পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে এটা ব্যবহার করা
সঠিক পদ্ধতি গুলো জানা লাগবে। আপনার যদি আগে থেকেই এই পদ্ধতি গুলো জানা থাকে,
তাহলে মধু ব্যবহার করে খুব সহজেই আপনি আপনার ত্বকের যত্ন নিতে
পারবেন। আপনি চাইলে মধু সরাসরি আপনার মুখে ব্যবহার করতে পারেন। এর
জন্য প্রথমে আপনাকে ভালোভাবে মুখ পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে।
তারপর অল্প মধু নিয়ে সেটাকে পাতলা করে মুখের পুরো অংশে লাগাতে হবে। ভালোভাবে
মুখে লাগানো হয়ে গেলে ২০মিনিট সেটাকে রেখে, তারপর গরম কুসুম পানি দিয়ে
ধুয়ে ফেলতে হবে। এই পদ্ধতিতে আপনি যদি মধু ব্যবহার করেন, তাহলে এটা
আপনার মুখের চামড়াকে নরম করবে এবং আপনার মুখের চামড়ার
স্বাভাবিক আদ্রতা বজায় রাখবে। আপনার ত্বক যদি অনেক শুষ্ক থাকে, তাহলে
আপনি মধুর সাথে কয়েক ফোটা নারকেল তেল
অথবা অলিভ অয়েল তেল মিশিয়ে ভালোভাবে মুখের উপরে লাগিয়ে নিবেন। এভাবে দশ
মিনিট রাখার পর সেটাকে ধুয়ে ফেলবেন। এতে আপনার ত্বকের যে শুষ্ক ভাব সেটা দূর
হবে এবং ত্বককে টান ধরার মতো সমস্যা হবে না। ত্বক যদি অনেক বেশি তৈলাক্ত হয়
এবং মুখে যদি ব্রণের সমস্যা থাকে। এতে আপনি অল্প একটু মধু নিয়ে সেটাকে পাতলা
করে মুখে লাগাবেন। লাগানোর ৮ থেকে ১২ মিনিট পর সেটাকে ধুয়ে
ফেলবেন।
বেশিখন লাগিয়ে রাখবেন না। নাতো আপনার ত্বকে ব্রণের সমস্যা বাড়তে পারে।
ত্বকে যদি অনেক ধুলাবালি থাকে এবং ত্বক দেখতে যদি কালচে মনে হয়। তাহলে আপনি
মুখে হালকা পানি দিয়ে ভিজাবেন। তারপর অল্প একটু মধু লাগিয়ে ভালোভাবে হাত
দিয়ে কচলাবেন। যেভাবে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ কচলায় ওইভাবে মুখটাকে
কচলাবেন, তারপরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
এতে আপনার ত্বকের মধ্যে জমা থাকা ধুলাবালি গুলো বের হয়ে যাবে এবং আস্তে
আস্তে আপনার ত্বকের যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সেটা বাড়বে। রাতে যদি মুখে
মধু দাও, তাহলে সেটা ১০ মিনিটের বেশি রাখবা না। কারণ রাতের সময়
প্রকৃতির নিয়মই আপনার ত্বক সারভাইভ করে। আর এ সময় বেশিক্ষণ মধু যদি লাগিয়ে
রাখা হয়, তাহলে মুখের যে ফোঁটাগুলো থাকে। সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতে
পারে,
তাই রাতে মুখে মধু লাগালেও সেটা বেশিক্ষণ রাখবেন না। এই মধু প্রতিদিন
ব্যবহার না করে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করলে ত্বকের কোন সমস্যা হবে
না। বরং এটা থেকে ভালো উপকার পাওয়া যাবে। আর যাদের ত্বকের সমস্যা আছে
এবং কোনদিন মধু ত্বকে দেননি। তারা প্রথম মুখে মধু দিলে অবশ্যই অল্প করে দিয়ে
দেখবেন। যদি সমস্যা না হয়, তাহলে পরে ভালোভাবে দিবেন।
আর এইসব উপকার পাওয়ার জন্য অবশ্যই কিন্তু আপনাকে খাঁটি মধু ব্যবহার করতে
হবে। কারণ বর্তমান সময়ে বাজারে অনেক ভেজাল মধু পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো
উপকারের চেয়ে ক্ষতি করে বেশি। তবে মুখের যদি আপনার কোন জটিল সমস্যা থাকে,
তাহলে মধুর দিকে শুধু তাকাবেন না। আপনি ডাক্তারের কাছে গিয়ে তার
চিকিৎসা নিবেন এটাই আপনার জন্য নিরাপদ হবে।
তৈলাক্ত ত্বকে মধু লাগালে কি হয়?
তৈলাক্ত ত্বকে মধুর লাগালে ভালো হয় আবার ক্ষতিও হয়। এর কারণ
হচ্ছে ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। কারণ যদি অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক হয়,
তাহলে মধু ব্যবহার করতে হবে খুব অল্প এবং খুব কম সময়ের মধ্যে তা ধুয়ে
ফেলতে হবে। তা না হলে এটা মুখের ব্রণ বেশি করে দিতে পারে। সেই সাথে
মুখের ভেতরে যে ময়লা গুলো থাকে, সেগুলোক বাইরে বার হতে পারে না।
তবে অল্প একটু মধু নিয়ে যদি ত্বকের ওপর হালকা করে লাগানো যায় এবং
সেটা ১০ মিনিটের মধ্যে ধুয়ে ফেলা যায়, তাহলে কোন সমস্যা হবে না। বরং এটা
তৈলাক্ত ভাব দূর করতে এবং মুখের যে ব্রণের সমস্যা সেটাকে কমাতে ভালো কাজ
করবে। তাই তৈলাক্ত ত্বকে বেশি মধু ব্যবহার না করে, অল্প করে ব্যবহার
করতে হবে। আর এটা সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করা ভালো হবে।
রাতে মধু মাখলে কি হয়?
রাতে মুখে মধু মাখলে মধুর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণগুলো মুখের ত্বককে
ভালো রাখতে সাহায্য করবে। মুখের ত্বককে নরম ও মোলায়েম রাখবে। আর
যাদের ত্বক শুষ্ক, তাদের শুষ্ক ভাব দূর করতেও এটা ভালো কাজ
করবে। তবে রাতে মধু মেখে ঘুমানো যাবে না।
মানে ডাক্তাররা বলে রাতে মধু মেখে ঘুমালে, এটা ত্বকের ছিদ্র বন্ধ
করে দিতে পারে। যার কারণে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই রাতে মুখে মধু
দিলে সেটা অবশ্যই পাঁচ থেকে দশ মিনিট রাখার পর ধুয়ে ফেলতে হবে। তাহলে
মধু মাখার পর ভালো উপকার পাওয়া যাবে।
মধুর সাথে কী দিলে মুখ ফর্সা হয়?
মধু ব্যবহার করে যে একেবারে মুখ ফর্সা হয়ে যাবে এর কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন
পর্যন্ত নাই। তবে এটা আপনার মুখের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়ক হতে
পারে। মানে এটা ব্যবহার করলে এটা আপনার প্রাকৃতিকভাবে মুখ ফর্সা বা
উজ্জ্বল করতে সাহায্য করতে পারে। তবে অবশ্যই নিয়ম মেনে, এটা ব্যবহার
করতে হবে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, মধুর সাথে কি দিলে মুখ ফর্সা হয়?
আসলে ফর্সা হয়ে যাবে না,
তবে ফর্সা হতে সাহায্য করতে পারে। মধুর সাথে আপনি লেবুর রস মিশিয়ে এটা
মুখে দিতে পারেন। আবার মধুর সাথে দুধ মিশিয়েও এটা ব্যবহার করতে পারেন।
এছাড়া মধুর সাথে এলোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। এই উপাদানগুলো মিশিয়ে যদি
আপনি নিয়ম করে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে এটা
আপনার মুখ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে।
মুখে মধু আর লেবুর রস দিলে কি হয়?
মুখে মধুর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে যদি ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটা
মুখের ত্বকের ময়লা গুলোকে দূর করতে এবং মুখের তেল তেল ভাব কমাতে
পারে। কারণ লেবুর মধ্যে এক ধরনের প্রাকৃতিক এসিড থাকে। এই এসিড ত্বকের
ময়লা এবং তেলভাব দূর করতে সাহায্য করে।
মধুর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ গুলো ত্বকের স্বাভাবিক যে আদ্রতা সেটাকে
ধরে রাখতে কাজ করে। এই দুইটা মিলে যখন মুখে লাগানো হবে। তখন এটা মুখের ত্বক
ভালো রাখতে এবং মুখে একটা ফ্রেশ ভাব নিয়ে আসতে সাহায্য করবে। তবে লেবুর
রস মধুর সাথে মিশিয়ে বেশিখন ত্বকে লাগিয়ে রাখা যাবে না।
বেশিক্ষণ লাগিয়ে রাখলে এটা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই মধুর সাথে লেবুর রস
একেবারে অল্প করে মিশাতে হবে। আর এটা মিশিয়ে মুখে পাঁচ থেকে ছয় মিনিট
রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। তাহলে এটা মুখে লাগালে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।
আর যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তারা এটা প্রথমে অল্প করে লাগিয়ে দেখবেন। সমস্যা
যদি না হয়, তাহলে ব্যবহার করতে পারেন।
মুখে মধু ব্যবহারের সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
মুখে মধু মাখা উপকার হইলেও কিছু বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে এই
মধু ব্যবহার করে উপকারের বদলে ত্বকের কোন সমস্যা না হয়। মুখে মধু ব্যবহার
করার আগে যে বিষয়ে প্রথম সতর্ক থাকবেন। সেটা হচ্ছে মধু খাটি কিনা সেটা চেক
করে নিবেন। মধু যদি খাঁটি না হয়, তাহলে এটা ত্বকের ভালো করার বদলে ক্ষতি
করতে পারে। তাই অবশ্যই খাঁটি মধু দেখে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।
তারপর মধু মুখে লাগিয়ে অনেক বেশি সময় ধরে রাখা যাবে না। বেশিক্ষণ যদি মুখে
মধু লাগিয়ে রাখা হয়, তাহলে এটা ত্বকের সমস্যা করতে পারে। তাই ভালো উপকার
পেতে চাইলে, অবশ্যই এই মধু মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখার পর ধুয়ে
ফেলবেন। আর যাদের ত্বক সংবেদনশীল মানে ত্বকের সমস্যা আছে, তারা প্রথমে অল্প
একটু নিয়ে মুখে দিয়ে দেখবেন।
যদি সমস্যা দেখতে পান, তাহলে এটা ব্যবহার বন্ধ করবেন। আর যদি সমস্যা না হয়,
তাহলে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এই মধু মুখে প্রতিদিন
ব্যবহার না করে সপ্তাহে তিন, চার দিন ব্যবহার করতে পারেন। এটা ব্যবহার করার
সময় যদি কোন সমস্যা দেখা যায় মুখে, তাহলে এটা ব্যবহার করা বন্ধ করবেন এবং
ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
আলোচিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ
প্রশ্নঃ মধু কি প্রতিদিন মুখে লাগানো যায়?
উত্তরঃ মধু প্রতিদিন মুখে লাগানো যায়, তবে না লাগানোই ভালো। কারণ প্রতিদিন
যদি মুখে লাগানো হয়, তাহলে এটা উপকারের বদলে ক্ষতি করতে
পারে। তাই প্রতিদিন এই মধু মুখে না লাগিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিন
দিন অথবা চারদিন ব্যবহার করা যায়। তবে অবশ্যই সেটা নিয়ম মেনে সঠিক
পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে। আর যাদের ত্বক সংবেদনশীল তারা অবশ্যই এটা
সতর্ক হয়ে ব্যবহার করবেন।
প্রশ্নঃ মধু দিয়ে কিভাবে ফর্সা হওয়া যায়?
উত্তরঃ মধু দিয়ে ফর্সা একেবারে হওয়া যায় এটা ভুল ধারণা। মধু দিয়ে
ফর্সা হওয়া যায় না, তবে মধু ব্যবহার করলে ফর্সা হওয়াতে বা ত্বকের
স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নিয়ে আসতে সাহায্য করতে পারে। মধুর সাথে
আপনি এলোভেরা জেল, নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল তেল অথবা লেবুর রস
মিশিয়ে লাগাতে পারেন। এইগুলা দিয়ে যদি ব্যবহার করেন, তাহলে ত্বকের ময়লাটা
দূর হবে এবং মুখ ফ্রেশ থাকবে দেখতে সুন্দর লাগবে।
প্রশ্নঃ মুখে কতবার মধু লাগানো উচিত?
উত্তরঃ অনেকে আছে যারা অনেকবার মুখে মধু লাগাই। তবে এই মধু দিনে কয়েকবার
না লাগিয়ে। এটা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার অথবা চারবার লাগিয়ে ব্যবহার করতে
পারেন। এটা আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখবে এবং ত্বকের জন্য উপকারী হবে।
তবে এর থেকে বেশি ব্যবহার করলে, এটা ত্বকের সমস্যা করবে কোন উপকার হবে না।
প্রশ্নঃ মধু মুখে দিলে কি ক্ষতি হয়?
উত্তরঃ মধু মুখের ত্বকের জন্য অনেক ভালো। এটা ত্বকের স্বাস্থ্যকে ভালো
রাখার জন্য বেশি ব্যবহার করা হয়। তবে ভুল নিয়মে যদি ত্বকে এই মধু
ব্যবহার করা হয় বা লাগানো হয়, তাহলে এটা ত্বকের ক্ষতি করতে
পারে। তাই উপরে কিভাবে মধু ব্যবহার করবেন সে পদ্ধতি গুলো জেনে ব্যবহার
করলে মুখের ক্ষতি হবে না বরং উপকার হবে।
প্রশ্নঃ সারারাত মুখে মধু লাগিয়ে রাখলে কি হয়?
উত্তরঃ ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলেন সারারাত মুখে মধু লাগিয়ে না রাখাই
ভালো। কারণ রাতের বেলায় মুখে মধু লাগিয়ে ঘুমালে মুখের যে
স্বাভাবিক কার্যক্রম সেটা ভালোভাবে হয় না। এ জন্য মুখের যে ছিদ্রগুলো
থাকে, সে ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা
হয় এবং ব্রণের সমস্যা বাড়ে। তাই রাতের বেলায় মুখে মধু না
লাগালে ভালো হয়। তবে লাগালেও সেটা যেন পাঁচ থেকে দশ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে
ফেলা হয়।
শেষ কথাঃ প্রতিদিন মুখে মধু দিলে কি হয় এবং এর ব্যবহার
আশাকরি প্রতিদিন মুখে মধু দিলে কি হয় তা আপনারা জানতে পেরেছেন। মধু
মুখের ত্বকের জন্য অনেক ভালো কাজ করে। তবে অবশ্যই এটা থেকে
উপকার নিতে হলে, আপনাকে ভালোভাবে এবং সঠিক নিয়মে এর ব্যবহার করতে
হবে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আপনি এর থেকে ভালো উপকার পাবেন। আর ভুল
নিয়মে ব্যবহার করলে এটা আপনার ত্বকের ক্ষতি করবে। আর যাদের ত্বক
সংবেদনশীল ও ত্বকে সমস্যা আছে, তারা অল্প ব্যবহার করে দেখবেন। যদি সমস্যা
হয়,
তাহলে এটা ব্যবহার বন্ধ করবেন। আপনাদের যদি ত্বকের সমস্যা বেশি থাকে, তাহলে
ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিবেন। কারণ মধু আপনার ত্বকের সরাসরি কোন
সমস্যা ভালো করবে না। এটা শুধু ত্বকের সমস্যা ভালো করতে সাহায্য করতে
পারে। তাই ত্বকের সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আপনি
যদি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ হন, আর এরকম তথ্য আপনি যদি আরো জানতে
চান। তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইটটি আপনি নিয়মিত ভিজিট করবেন। এখানে
আমরা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অনেক ধরনের তথ্য দিয়ে থাকি।


অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url