পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় নিয়ে আজকের আলোচনা। আজকে আপনারা পায়ের গোড়ালি ব্যথায় করণীয় কি এবং এই ব্যাথা হলে কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
পায়ের-গোড়ালি-ব্যথা-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়
আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা গোড়ালির ব্যথা কমানোর জন্য কিছু উপায় জানতে পারবেন যেগুলো করলে আপনি আপনার পায়ের ব্যাথায় আরাম পাবেন। তাই আর সময় নষ্ট না করে চলুন পায়ের গোড়ালি ব্যাথা কমাতে কি করতে হবে জেনে নিন।

পেজ সূচিপত্রঃ পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

আপনার যদি পায়ের গোড়ালির ব্যথা অনেক বেশি হয়, তবে আপনাকে এর জন্য অবশ্যই ডাক্তারি চিকিৎসা নিতে হবে। কিন্তু তার আগে আপনি চাইলে পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করতে পারেন। আপনার গোড়ালি ব্যথায় আপনি যদি এই উপায়গুলো ফলো করতে পারেন, তবে আপনার এই ব্যথা থেকে আপনি অনেকটাই আরাম পাবেন।
এমনকি নতুন অবস্থায় আপনার যদি গোড়ালি ব্যথার সমস্যা হয়, তবে এই পদক্ষেপগুলো নিলে আপনি খুব সহজেই এর থেকে মুক্তি পেতে পারেন। পায়ের গোড়ালের ব্যথা বর্তমান সময়ে সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বয়স কম হোক বেশি হোক কমবেশি সকলের এই সমস্যা দেখা দেয়। এটি হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে যেমন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা,

পায়ের সঠিক জুতা ব্যবহার না করা বা শক্ত জুতা পরা। হঠাৎ করে অনেক বেশি হাঁটাহাঁটি করলে ও শরীরের ওজন বেশি বেড়ে গেলে, কোন কিছুতে আঘাত লাগলে অথবা পেশিতে টান ধরলে এই ব্যথা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার কারণে যদি আপনার ব্যথা দেখা দেয়, তবে আপনি নিচের এই ঘরোয়া উপায় গুলো ফলো করতে পারেন।

১/গরম পানির সেক দিতে হবে

আপনার যদি পায়ের গোড়ালি ব্যথা করে। তবে এই ব্যথা কমানোর জন্য আপনি গরম পানির সেক দিতে পারেন। আপনি যদি আপনার গোড়ালি ব্যথায় গরম পানির সেক দেন, তবে আপনার এই ব্যথা কিছুটা হলেও কমতে পারে। আর নতুন অবস্থাতে হলে এটা খুব তাড়াতাড়ি ব্যথা দূর করতে পারে।

ব্যবহারঃ একটা গামলা নিয়ে সেই গামলাতে গরম পানি নিবেন। গরম পানি হালকা কুসুম হতে হবে যেন আপনি পা ডুবিয়ে তা সহ্য করতে পারেন। সেই পানিতে এক চামচ মত লবণ দিবেন তারপর আপনি আপনার পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত সেই পানিতে ডুবিয়ে রাখবেন।

এভাবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখলে পায়ের বেশি নরম হবে এবং পায়ে রক্ত চলাচল বাড়বে। যার কারণে আপনার পায়ের গোড়ালি ব্যথায় আপনি আরাম পাবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে সারাদিনের ক্লান্তি কমানোর জন্য রাতে এইভাবে পায়ে গরম পানির সেক দিতে পারেন। এটা করলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় এবং শরীরে আরাম পাওয়া যায়।

২/বরফ ব্যবহার করতে পারেন

আপনার পায়ের গোড়ালিতে যদি ব্যথা করে এবং পায়ের গোড়ালি যদি ফুলে যায়। তবে আপনি আপনার ব্যথা করা জায়গাতে বরফের টুকরো ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি আপনার ব্যথা করা জায়গায় বরফের টুকরো দিয়ে মালিশ করতে পারেন, তবে আপনার গোড়ালির ব্যথা ও ফোলা ভাব কমবে। কারণ বরফ ব্যবহার করলে এই বরফ ব্যথা বা প্রদাহ কমাতে ভালো কাজ করে।

ব্যবহারঃ ফ্রিজে বরফ করতে দিবেন অথবা বাজার থেকে বরফ কিনে আনবেন। তারপর সেই বরফ একটি কাপড়ে নিয়ে সেটাকে মুড়ে এই পায়ের গোড়ালিতে দিবেন। কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বরফ দিয়ে ব্যথা করা জায়গায় সেক দিলে আপনার ব্যথা ও ফোলা ভাব কমবে। এতে আপনি ব্যাথা থেকে আরাম পেতে পারেন।

৩/ব্যথা কমাতে হলুদ খেতে পারেন

পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর জন্য আপনি ঘরোয়া উপায় হিসেবে হলুদের গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন। কারণ হলুদের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহনাশক বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান পাওয়া যায়। তাই গড়ালের ব্যথা কমানোর জন্য আপনি হলুদ ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার পায়ের ব্যথা কমবে এবং গোড়ালির ফোলা ভাব দূর হবে।

জানুন ব্যবহারঃ আপনি একটি কাঁচা হলুদ নিয়ে সেটাকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে। এক থেকে দুই টুকরো দিনে দুই থেকে তিনবার খেতে পারেন। অথবা আপনি হলুদ গুড়ো এক চামচ এক গ্লাস দুধে দিয়ে সেই দুধ হালকা গরম কুসুম করে করবেন। তারপর এই মিশ্রণ দিনে এক থেকে দুইবার খেতে পারেন। এতে আপনার ব্যথা কমতে ও আপনার পায়ের ফোলা ভাব দূর করতে সাহায্য করবে।

৪/গোড়ালিতে তেল দিয়ে মালিশ

আপনি আপনার গোড়ালির ব্যথা কমানোর জন্য ঘরের মধ্যে থাকা নারিকেল তেল অথবা সরিষার তেল ব্যথা করা জায়গায় ব্যবহার করতে পারেন। নারিকেল অথবা সরিষার তেল দিয়ে যদি আপনি আপনার ব্যথা করা জাইগা মালিশ করতে পারেন। তবে এতে আপনার ফোলা ভাব ও ব্যথা কমতে পারে। কারণ এতে আপনার পেশির ব্যথা কম হয় এবং আপনার পেশি থাকে আরামে।

জানুন ব্যবহারঃ একটি বাটিতে অল্প একটু সরিষার তেল অথবা নারিকেলের তেল নিবেন। তারপর সেই তেল হালকা একটু গরম করবেন। হালকা গরম হলে, গরম করা তেল গোড়ালিতে অল্প করে দিয়ে আস্তে আস্তে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মালিশ করবেন। এতে আপনার গোড়ালির পেশি নরম হবে এবং আপনি ব্যাথা থেকে আরাম পাবেন। রাতের বেলায় ঘুমানোর আগে এইভাবে মালিশ করলে ভালো রেজাল্ট পাবেন।

৫/গোড়ালির ব্যথা কমাতে আদা

গোড়ালির ব্যথা কমানোর জন্য আপনি ঘরোয়া উপায়ের মধ্যে আদা খাওয়ার উপায় অবলম্বন করতে পারেন। আদার মধ্যে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে, যেগুলো ব্যথা কমাতে কাজ করে এবং শরীরের প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে। আপনি যদি আদা খান, তবে আপনার গোড়ালির ব্যথা ও আপনার পায়ের ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ব্যবহারঃ এক টুকরো আদা ভালোভাবে পরিষ্কার করবেন। সেগুলোকে ছোট টুকরো করে দুই থেকে তিন পিস দিনে তিন থেকে চার বার খাবেন। অথবা আপনি চাইলে এই আদা দিয়ে চা বানিয়েও খেতে পারেন। যদি আদা দিয়ে চা বানিয়ে খান, তবে আপনি দিনে দুই থেকে তিনবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে ব্যথা থেকে আপনি আরাম পাবেন। এছাড়াও আদা আপনার শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করবে।

৬/আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করতে হবে

পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, শক্ত জুতা পরা ও সঠিক মাপের জুতা না পরা অথবা হিল ব্যবহার করা। শক্ত জুতা বা সঠিক মাপের জুতা না পড়লে পায়ের গোড়ালির ওপর চাপ পড়তে পারে। এছাড়া হিল পড়ার কারণেও পায়ে অনেক চাপ পড়ে। যেটা গোড়ালির ব্যথা তৈরি করতে পারে।

এই ব্যথা মূলত তাদেরই বেশি হয়। যারা এইসব জুতা অনেক বেশিক্ষণ পড়ে দাঁড়িয়ে থাকে বা কোন কাজ করে। তাই জুতা সোল মোটা ও নরম দেখে সঠিক মাপের কিনবেন। আর যারা হিল পড়েন, তারা অনেকক্ষণ ধরে হিল পড়ে থাকবেন না। এতে করে আপনার পায়ের গোড়ালির ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে এবং আপনার হাঁটার সময় আরাম পাবেন।

পায়ের গোড়ালি ব্যথা কি কারনে হয়

পায়ের গোড়ালি ব্যথা হওয়ার কারণে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে এই ব্যথা তখনই দেখা যায় যখন অনেকদিন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করা হয়। কারণ এতে পায়ের উপর অনেক চাপ পড়ে। তাছাড়া বেশ কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। এমনকি শরীরের কিছু সমস্যার জন্য গোড়ালির ব্যথা দেখা দিতে পারে।

আপনি যদি পায়ের গোড়ালি ব্যথার কারণ বুঝতে পারেন এবং নিশ্চিত করতে পারেন যে আসলে এই ব্যথা কেন হচ্ছে, তবে আপনি আপনার এই ব্যথা ভালো করার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন। তাই চলুন পায়ের গোড়ালি ব্যথা কেন হয়, তার কিছু কারণ জেনে নিই। যেন এই ব্যথার জন্য সঠিক চিকিৎসা নেওয়া আমাদের জন্য সহজ হয়ে যায়।

অনেকক্ষণ ধরে হাঁটলে বা দাঁড়িয়ে থাকলেঃ খুব বেশি যদি হাঁটাহাঁটি করা হয় অথবা অনেকক্ষণ ধরে যদি দাঁড়িয়ে থাকা হয়, তবে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। কারণ পায়ের গোড়ালির নিচে এক ধরনের  শক্ত টিস্যু থাকে। এতে অনেক বেশি হাঁটলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে টান ধরতে পারে। আর টান ধরলে তখন ব্যথা শুরু হয়। এই ব্যথা বেশি সকালে ঘুম থেকে উঠে হাটার সময় হয়ে থাকে।

শক্ত এবং সঠিক মাপের জুতা ব্যবহার না করাঃ অনেক সময় শক্ত জুতা পরলে বা সঠিকভাবে জুতা না পরলে পায়ের গোড়ালি ব্যথা হওয়ার কারণ হতে পারে। নিয়মিত যদি এরকম জুতা বা সেন্ডেল ব্যবহার করা হয়। তবে গোড়ালির নিচে ভালোভাবে সাপোর্ট পায় না। যার কারণে আস্তে আস্তে গোড়ালির ব্যথা তৈরি হয়।

ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতিঃ অনেক সময় শরীরে ভিটামিন ডি এবং পুষ্টির ঘাটতি থাকলে গোড়ালিতে ব্যথা হওয়ার সমস্যা বাড়ে বা দেখা যায়। এই সমস্যা বেশিরভাগ বয়স বাড়লে দেখা যায়। তাই নিয়মিত ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

বয়স বাড়ার কারণেঃ বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পায়ের গোড়ালির ব্যথা। যখন বয়স হয় তখন পায়ের পেশি ও লিগামেন্ট আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে যায় এবং অল্প চাপ পড়লে বা হাটা হলে এই ব্যথা বাড়ে। এছাড়াও খালি পায়ে হাঁটলে গোড়ালির ব্যথা হতে পারে।

কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন সমস্যা গুরুতর

আপনার যদি হঠাৎ গোড়ালিতে ব্যথা করে অথবা আপনার যদি শরীরের ক্লান্তির জন্য গোড়ালিতে ব্যথা হয়, তবে বিশ্রাম নিবেন। ক্লান্তির জন্য যদি গোড়ালিতে ব্যথা হয়, তবে বিশ্রাম নেওয়া হলে আপনার এই ব্যথা কমে যেতে পারে। তবে গোড়ালি ব্যথা করলে এমন কিছু লক্ষণ আছে, যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই আপনাকে বুঝে নিতে হবে।

যে এটা আর সাধারণ ব্যথা নয় তখন আপনাকে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে হবে। আপনার যদি গোড়ালিতে ব্যথা হয়। আর এই ব্যথা যদি অনেক দিন ধরে ঘরোয়া যত্ন নেওয়ার পরেও না কমে। তবে বুঝতে হবে এই ব্যথা সামান্য না, এর জন্য আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 

ঘুম থেকে উঠে সকালে দাঁড়ালেই যদি অনেক ব্যথা শুরু হয়, তাহলে আপনাকে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে হবে। আপনার গোড়ালি যদি ব্যথার পাশাপাশি ফুলে যায় ও লাল হয়ে যায়, তবে এটা ইনফ্লামেশন এর সমস্যা হতে পারে। যদি পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে কষ্ট হয় যেমন ঝিমঝিম বা জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা যদি হয়। 

যদি ব্যথার কারণে লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথবা জ্বর হলে বা শরীর খারাপ হলে যদি এই ব্যথা আরো বেশি হয়, তবে এটা সংক্রমণজনিত সমস্যা থাকতে পারে। এরকম লক্ষণগুলো যদি দেখা দেয়, তাহলে বুঝবেন সমস্যা গুরুতর। আর এরকম সমস্যা হলে তখন আর দেরি করবেন না। খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিবেন।

ব্যথা থেকে দ্রুত আরাম পেতে যা করবেন

আপনার পায়ের গোড়ালিতে যদি ব্যথা হয়। আর এ সময় আপনি যদি প্রথমেই সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারেন, তবে ব্যথা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আবার বড় ধরনের ঝুঁকি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। আপনার যদি পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হয়, তবে আপনি প্রথমে শান্ত হয়ে বিশ্রাম নিবেন।
অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য বা বেশি হাঁটাহাঁটি করলে এই ব্যথা হতে পারে। কিন্তু বিশ্রাম নিলে গোড়ালির পেশিতে চাপ কম পড়ে ও এটা আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যায়। যদি ব্যথা নতুন ভাবে হয় এবং পা যদি ফুলে থাকে, তবে আপনি এতে বরফ দিয়ে নাড়বেন। আর ব্যথা যদি পুরনো হয়। 

তবে আপনি গরম পানিতে লবণ দিয়ে সেই পানিতে পা ডুবিয়ে রাখবেন। রাতে ঘুমানোর আগে অথবা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পায়ের আঙ্গুলগুলো হালকা টানাটানি করবেন। এতে গোড়ালির পেশিতে চাপ কম হবে। যখন ব্যথা উঠবে তখন আপনি আপনার পায়ের নিচে একটা বালিশ দিবেন এবং পা হালকা উঁচু করে রাখবেন।

এতে করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং ব্যথা ও ফোলা ভাব কমতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে নারিকেল তেল, সরিষার তেল অথবা অলিভ অয়েল তেল হালকা গরম করে মালিশ করবেন। এতে আপনার ব্যথা কমবে এবং আপনি আরাম পাবেন। আর এই ব্যথা থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই নরম জুতা ব্যবহার করবেন এবং এই জুতা যেন পায়ে একদম ফিট থাকে।

সতর্কতাঃ আপনার যদি গোড়ালীর ব্যথা অনেকদিন ধরে হয় এবং এর জন্য যদি আপনি ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তারপরও যদি ব্যথা কম না হয়, তবে আপনি আর বসে থাকবেন না। কারণ আপনি যদি দেরি করেন, তবে আপনার বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা হতে পারে। তাই এরকম সমস্যা বা লক্ষন যদি দেখেন, তবে তাড়াতাড়ি একজন ভালো ডাক্তারকে দেখিয়ে চিকিৎসা নিবেন।

যেসব ভুল করলে গোড়ালি ব্যথা বাড়তে পারে

আপনার যদি পায়ের গোড়ালির ব্যথা হয়, তবে আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আপনি যদি ব্যথা নিয়ে সতর্ক না থাকেন এবং ভুল ভাবে যদি আপনি চলেন। তাহলে আপনার এই গোড়ালির ব্যথা আরো বাড়তে পারে। পায়ের গোড়ালিতে ব্যাথা থাকলে, যেসব ভুল করলে এই ব্যথা আরো বাড়তে পারে সে ভুলগুলো হচ্ছে, 

এই ব্যথা নিয়ে হাটাহাটি করলে। অনেক সময় ধরে খালি পায়ে হাঁটলে। হুট করে অনেক বেশি পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলে। শরীরের ওজন বেড়ে গেলে, ব্যথা অবস্থায় বিশ্রাম না নিলে ও ভুলভাবে ব্যথার জায়গায় মালিশ করলে গোড়ালির ব্যথা আরো বেড়ে যেতে পারে। তাই এই ব্যথা হলে সতর্ক থাকবেন এবং বেশি হাঁটাহাঁটি করবেন না। বিশ্রাম নিবেন, 

আস্তে করে সঠিক নিয়মে ব্যথা হওয়া জায়গায় তেল দিয়ে মালিশ করবেন। হুট করেই অনেক বেশি ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করবেন না। খালি পায়ে হাটবেন না। আর যদি হাঁটার দরকার হয়, তবে শক্ত ও পাতলা জুতা বাদে নরম জুতা, পায়ে যেন ফিট হয় এরকম জুতা পড়বেন। এই ব্যথা যদি প্রথমে দেখা দেয় আর এ সময় যদি আপনি সঠিক পদক্ষেপ নেন। তবে আপনার গোড়ালি ব্যথা বড় আকার ধারণ করবে না।

কোন খাবার খেলে দ্রুত ব্যথা ভালো হতে পারে

পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা করলে শুধু যে সেক বা মালিশ করলে ব্যথা যাবে তা কিন্তু না। অনেক সময় শরীরের ভেতরে পুষ্টির অভাব থাকলে এই ব্যথা হতে পারে। তাই গোড়ালির ব্যথা হলে আপনি কিছু পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন। আপনি যদি খাবার বেছে শুনে খান, তবে আপনার হাড় ও পেশি শক্ত হবে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ক্যালসিয়াম, 

ভিটামিন ডি, প্রোটিন ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ যে সকল খাবার, সে খাবারগুলো খাওয়ার চেষ্টা করবেন। যেমন ছোট মাছ, দই, দুধ, শাকসবজি, ডিমের কুসুম, কলা, বাদাম। ভিটামিন ডি এর জন্য প্রতিদিন সকালে রোদে ১৫ থেকে ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকবেন, এতে ভালো ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রদাহ কমাতে আপনি আদা, হলুদ, 

রসুন ও টমেটো এই খাবারগুলো খেতে পারেন। এগুলো শরীরের প্রদাহ কমিয়ে ব্যথা ও ফলাভাব কমাতে সাহায্য করে। আর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটি হচ্ছে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। যত বেশি পানি খাবেন, আপনার ব্যথা বাড়ার ঝুঁকি তত কমবে। পানি পেশি নরম করতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আপনি যদি এই খাবারগুলো খেতে পারেন,

তবে আপনার ব্যথা কমতে পারে এবং ভবিষ্যতে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি কমে। কিন্তু সব সময় এই খাবারগুলো আপনার গোড়ালির ব্যথা কমাতে নাও পারে। যদি ব্যথা বেশি হয় এবং অনেক সময় ধরে থাকে, তবে এই খাবারগুলোর উপর নির্ভর না করে, আপনি দ্রুত ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে উপরে গিয়ে পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জেনে আসতে পারেন।

কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে

পায়ের গোড়ালির ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। এই ব্যথা অনেক বেশি পরিশ্রম বা ক্লান্তির কারণে হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্রাম নিলে এই ব্যথা আবার কমে যায়। এই ব্যথা যদি বিশ্রাম নেওয়ার পরও না কমে এবং আপনি যদি ঘরোয়া যত্ন নেন। তারপরও এই ব্যথা যদি না যায়, তবে এর জন্য আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। নিচে আমি এমন কিছু কারণ গুলো বলছি যে কারণগুলো বা লক্ষণ গুলো দেখলে আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন।
পায়ের-গোড়ালি-ব্যথা-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়
১/পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা উঠলে যদি ঘরোয়া যত্নের পরও না কমে দুই সপ্তাহের বেশি যদি এই ব্যথা থাকে, তাহলে এটা হাড়ের গুরুতর সমস্যা থাকতে পারে।
২/যদি হাঁটতে কষ্ট হয় বা পায়ে ভর দিয়ে হাটতে না পারেন।
৩/যদি পায়ের গোড়ালি ফুলে যায় এবং অনেক বেশি ব্যথা করে, সেই সাথে পায়ের গোড়ালি যদি লাল হয়ে যায়। তবে সংক্রমণের সমস্যা হতে পারে। 
৪/যদি খেলাধুলা করতে গিয়ে পায়ে ব্যথা লাগে অথবা কোন কারনে পা মচকে যায়। তবে হাড় ফেটে যেতে পারে অথবা লিগামেন্ট ছিড়ে যেতে পারে।
৫/পায়ের গোড়ালি ব্যথাতে যদি অবশ হয়ে যায়। পা যদি ঝিনঝিন করে ও সেই জায়গা যদি জ্বালাপোড়া করে।
৬/যাদের আগে থেকেই গোড়ালিতে ব্যথা আছে, হাড়ের সমস্যা বা ডায়াবেটিস আছে। তাদের জন্য এটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পরামর্শঃ পায়ের গোড়ালি ব্যথায় আপনার যদি এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে আপনি দেরি না করে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যাবেন। পায়ের গোড়ালির ব্যাথা যদি উঠে এবং আপনি যত তাড়াতাড়ি এই ব্যথা পরীক্ষা করে চিকিৎসা নিবেন। ততই আপনার জন্য ভালো হবে। আপনি যদি দ্রুত এই ব্যথার চিকিৎসা নেন, তবে এটা পরবর্তীতে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই সময় থাকতেই চিকিৎসা নেওয়া নিরাপদ।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ

প্রশ্নঃ গোড়ালি ব্যথা হয় কেন?
উত্তরঃ গোড়ালি ব্যথা অনেক রকম কারণে হয় যেমন ভুল নিয়মে চললে। তারপর শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে। বিশেষ করে শক্ত জুতা পরলে, বেশি হাঁটাহাঁটি করলে, অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকলে গোড়ালিতে বাথা হতে পারে। এছাড়াও যদি কোন কিছুতে বাথা লাগে, তাহলে গোড়ালিতে বাথা হয়।

প্রশ্নঃ গোড়ালি ফোলা ছাড়া ব্যথা করে কেন?
উত্তরঃ যদি অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকা হয় বা শক্ত জুতা পরা হয় অথবা পায়ের পেশীতে যদি বেশি টান পড়ে, তবে পায়ের নিচের লিগামেন্টে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় ভিটামিন ডি এর অভাবেও এই ব্যথা হতে পারে যেটা ফোলা ছাড়াই ব্যথা হয়।

প্রশ্নঃ গোড়ালি ব্যথার জন্য কোন ব্যায়াম ভালো?
উত্তরঃ গোড়ালির ব্যথা কমানোর জন্য স্ট্রেচিং ব্যায়াম করা ভালো। আপনার যদি গোড়ালিতে ব্যথা হয়, তবে পায়ের আঙ্গুলগুলো নিজের দিকে টানবেন। এছাড়াও পায়ের নিচে ছোট বল দিয়ে বলের উপর পা ঘোরাবেন। এতে করে আপনার পায়ে রক্ত চলাচল বাড়বে ও পেশির টান কমবে। এই ব্যায়ামগুলো গোড়ালির ব্যথা কমানোর জন্য অনেক ভালো।

প্রশ্নঃ পায়ের গোড়ালি ব্যথার জন্য কোন ধরনের ডাক্তার দেখা উচিত?
উত্তরঃ পায়ের গোড়ালি ব্যথার জন্য অথবা হাড়ের কোন সমস্যা থাকলে যারা হার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তাদেরকে দেখানো সবচেয়ে ভালো। যারা হার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তাদেরকে অর্থোপেডিক চিকিৎসক বলে। এই ডাক্তার গুলো মূলত হাড় ও পেশির চিকিৎসা নিয়ে কাজ করে থাকে। তাই পায়ের গোড়ালি ব্যথা করলে আপনি এই ডাক্তারকে দেখাতে পারেন।
প্রশ্নঃ ভিটামিন ডি গোড়ালি ব্যথা কমায় কি?
উত্তরঃ ভিটামিন ডি হাড় শক্ত করতে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কাজ করে। অনেক সময় শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। যার কারণে হাড়ের অনেক রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তেমনি ভিটামিন ডি কম থাকলে পায়ের গোড়ালির ব্যথা হতে পারে। আবার ভিটামিন ডি শরীরে থাকলে এটা ব্যথা কমাতেও কাজ করতে পারে।

মন্তব্যঃ পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

পায়ের গোড়ালি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় নিয়ে আজকে আমি আপনাদের বলেছি। আপনাদের যদি পায়ের গোড়ালি ব্যথা থাকে, তবে অবশ্যই আপনি পায়ের গোড়ালির ব্যথা কমানোর জন্য ঘরোয়া যে উপায়গুলো আছে, সেগুলো করে দেখতে পারে। যদি ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নেওয়ার পরেও আপনার এই ব্যথা না কমে এবং এই ব্যথা যদি দুই সপ্তাহর বেশি থাকে। তবে আপনি দেরি করবেন না। খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করার পর চিকিৎসা শুরু করবেন।

আপনি যদি আপনার চলাফেরায় একটু পরিবর্তন আনতে পারেন এবং সতর্ক হয়ে যদি আপনি চলাফেরা করেন। তবে পায়ের গোড়ালির ব্যথা হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। অনেক সময় শরীরের পুষ্টির ঘাটতি থাকার কারণে এই ব্যথা দেখা দেয়। তাই খাওয়া দাওয়ার বিষয়েও একটু সচেতন থাকবেন। আর পায়ের গোড়ালির ব্যথা যদি নতুন হয়, তবে ঘরোয়া যত্ন নিবেন এবং নতুন অবস্থাতেই ডাক্তার দেখাবেন। এতে করে ভবিষ্যতে এই ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url