জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নেওয়ার পদ্ধতি ২০২৬

জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করবো। যেসব কৃষক জনতা কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার কথা ভাবছেন? তারা আজকের আলোচনা থেকে জনতা ব্যাংক থেকে কিভাবে কৃষি লোন নিতে হবে জানতে পারবেন।
জনতা-ব্যাংক-কৃষি-লোন-নেওয়ার-পদ্ধতি
সেই সাথে এই লোনের ধরন, উদ্দেশ্য, সুদের হার এবং সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ পাওয়া যাবে? তা জানানো হবে। এর পাশাপাশি জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলা হবে। যেগুলো আপনাদের জেনে থাকা অনেক প্রয়োজন। তাই দেরি না করে চলুন বিস্তারিত জেনে নিই।

পেজ সূচিপত্রঃ জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নেওয়ার পদ্ধতি

জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নেওয়ার পদ্ধতি

আপনারা যারা জনতা ব্যাংক থেকে কৃষি লোন নেওয়ার কথা ভাবছিলেন। তাদেরকে এখন আমি জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানাবো। একটি বিষয় জেনে খুশি হবেন যে, জনতা ব্যাংক থেকে কৃষি লোন নেওয়া অনেক সহজ, তবে এ লোন পেতে হলে আপনাকে সঠিক পদ্ধতি জানতে হবে।
জনতা ব্যাংক থেকে লোন নিতে হলে প্রথমে আপনাকে জনতা ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে। আপনার আশেপাশে থাকা জনতা ব্যাংক অফিসে গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কৃষি লোন নেওয়ার কথা বলবেন। এরপর তারা আপনাকে কৃষি লোন নেওয়ার জন্য একটি আবেদন ফরম দিবে।

এই ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্ম ভালোভাবে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করার পর, এর সাথে আপনাকে আরো কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এখন হয়তো ভাবছেন কিসের কাগজপত্র লাগবে? নিচে ফরমের সাথে যে অতিরিক্ত কাগজপত্রগুলো লাগবে সেগুলো দেওয়া হলো

১. ভোটের আইডি কার্ডের ফটোকপি নিতে হবে।
২. দুই কপি আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিতে হবে।
৩. লিজ বা বর্গা চাষের জন্য স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিপত্র নিতে হবে।
৪. নিজের জমি যদি হয় তবে জমির খতিয়ান বাদ পচার ফটোকপি নিতে হবে।
৫. জমির কর বা খাজনা পরিশোধ করার রশিদ লাগবে।
৬. পৌরসভা বা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নাগরিকত্ব সনদপত্র লাগবে।
৭. চাষ করার জন্য বীজ বা সাহারের তালিকা।

এই কাগজগুলো আবেদনপত্রের সাথে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর। ব্যাংক কর্মকর্তা আপনার কাগজপত্র এবং আপনার জমি পর্যবেক্ষণ/যাচাই করবে। এরপর সবকিছু ঠিক থাকলে, তারা আপনাকে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে লোনের টাকা দিয়ে দেবেন। এখন আমরা জানলাম জনতা ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। এবার আমরা জানবো জনতা ব্যাংক কৃষি লোন কারা নিতে পারবেন?

জনতা ব্যাংক কৃষি লোন কারা নিতে পারবেন?

জনতা ব্যাংক কৃষি লোন মূলত তাদেরকে দেয়, যেসব ব্যক্তিরা কৃষি কাজের সাথে বা ব্যবসার সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। যারা কৃষি কাজ বা কৃষি ব্যবসা করেন। তারা যদি ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারে। তাহলে তারা জনতা ব্যাংক থেকে কৃষি লোন নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে।

যেসব ব্যক্তিরা জনতা ব্যাংক থেকে কৃষি লোন নিতে পারবেন তারা হচ্ছে,

১. জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নিতে হলে আপনাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
২. শুধুমাত্র যারা কৃষি কাজ করেন বা কৃষি কাজের সাথে জড়িত, তারাই এই লোন নিতে পারবেন।
৩. চাষ করা জমি নিজের নামে হতে হবে অথবা জমি লিজ নিলে এই জমির প্রমাণপত্র বা দলীল থাকতে হবে।
৪. লোনের জন্য আবেদন করা ব্যক্তির ন্যূনতম বয়স ১৮ হতে হবে।
৫. আপনার যদি আগে থেকে লোন নেওয়া থাকে, তাহলে আপনি এই লোন পাবেন না।
৬. গবাদি পশু, পাখি, হাঁস, মুরগি, মৎস্য খামারি এবং নতুন কৃষি উদ্যোগতাও এই লোন নিতে পারবে।
৭. এ লোন নিতে হলে মূল জমি থেকে ২.৫ একর জমি জামানত হিসেবে লাগতে পারে।

উপরে যে তথ্যগুলো বললাম জনতা ব্যাংক কৃষি লোনের ধরন অনুযায়ী এই শর্তগুলো ঋণের পরিমাণ ও জামানতের নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই জনতা ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ নেওয়ার আগে, নিকটে থাকা জনতা ব্যাংক শাখাতে গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে। লোন সম্পর্কে সকল তথ্য জেনে নেওয়া ভালো হবে।

জনতা ব্যাংক কৃষি লোনের ধরন ও উদ্দেশ্য

জনতা ব্যাংক কৃষি লোনের ধরন ও উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের চাষাবাদ করার জন্য আর্থিকভাবে সাহায্য করা। জনতা ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা, খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করা ইত্যাদি।

এখন আপনারা হয়তো অনেকেই জানতে চান যে, এই ঋণ কোন কোন কাজের জন্য পাবেন। তাই চলেন জনতা ব্যাংকের কৃষি ঋণের আওতায় যেসব খাতে ঋণ দেওয়া হয় সেগুলো জেনে নিই। ধান, গম, ভুট্টা সহ অন্যান্য শস্য চাষ। ডাল, মসলা, তৈল বীজ, সবজি, ফল,

কলা, মৎস্য চাষ, মাছের খামার, গরুর খামার, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি, ডেইরি খামার সহ জৈবসার উৎপাদন। পান, বরজ, লবণ উৎপাদন সহ কৃষি কাজের সাথে যেসব কাজগুলো জড়িত। এসব কাজগুলোর জন্য জনতা ব্যাংক ঋণ দিয়ে থাকে।

কৃষি লোন কত টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে?

কৃষি লোন কত টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে? এর কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই। কারণ কৃষি লোন কতটুকু আপনি পাবেন, এটা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের উপর। যেমন কৃষি প্রকল্প, আবেদনকারীর প্রয়োজন কতটুকু এবং তা পরিশোধ করার সক্ষমতা ব্যক্তির আছে কিনা, এইসব বিষয়গুলো দেখে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করে।

যদি কম পরিসরে ধান, ভুট্টা, গম জাতীয় শস্য চাষ করতে চান, তবে কৃষি ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যেতে পারে। আবার গরু পালনের জন্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা ঋণ পাওয়া যায় এবং সর্বোচ্চ চারটি গরু পালনের জন্য লোনের আবেদন করা যায়। আর আপনি যদি বড় কৃষি প্রকল্প করেন, তবে বড় কৃষি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ,

এ ব্যাংক থেকে আপনারা ১০লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। এ ধরনের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৫ বছর রয়েছে। তবে কৃষি লোন নেওয়ার পরিমাণ ও শর্তগুলো সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে থাকে। তাই আবেদন করার আগে ব্যাংকের শাখা থেকে সব তথ্য জানা ভালো। এই ঋণ কিভাবে নিতে হয়। যদি জানা না থাকে, তবে উপর থেকে আপনি জনতা ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম জেনে আসতে পারেন।

কৃষি লোনের সুদের হার ও মোট খরচ?

কৃষি লোনের জন্য ব্যাংকে আবেদন করতে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হতে পারে। কৃষি ঋণের ধরন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং ব্যাংকের নিয়মের ওপর এই ঋণের সুদের হার নির্ভর করে। সব ধরনের কৃষি ঋণে একরকম সুদ থাকে না। তবে অন্য সব ঋণের তুলনায় কৃষি ঋণের সুদের হার কম থাকে। 

যাতে কৃষকরা সহজে টাকা পরিশোধ করতে পারে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্ত করতে পারে। ধান, গম, ভুট্টা চাষের ঋণ নিলে, এতে সুদের হার প্রায় ১২% পর্যন্ত হতে পারে। আর আপনারা যদি ডাল, মসলা, তেল বীজ চাষ করেন, তবে অগ্রাধিকার খাতে সরকারি ভর্তুকির কারণে আপনি ৪ পার্সেন্ট সুদে ঋণ পেতে পারেন। 

আবার গরু, মহিষ ও অন্যান্য পশু পাখি পালন প্রকল্পে এখানে প্রায় ৯% থেকে ১২% সুদ নির্ধারণ করা হয়। আমি সুদের হার যেগুলো বললাম, এগুলো সময়ের সাথে ব্যাংকের নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে চেঞ্জ হয়। তাই কৃষি ঋণ নেওয়ার আগে আপনাদের উচিত হবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের থেকে জেনে নেওয়া।

কেন জনতা ব্যাংক কৃষি লোন আপনার জন্য ভালো?

অন্য ব্যাংকের থেকে আপনার জন্য কেন জনতা ব্যাংক কৃষি ঋণ ভালো হবে? এর অনেক গুলো কারণ আছে। এই কারণগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি কারণ আমি বলবো। যে কারণগুলোর জন্য জনতা ব্যাংকে কৃষি লোন নেওয়া অনেক ভালো হবে। প্রথম কারণ হচ্ছে, এখানে কৃষি লোনের জন্য অন্যান্য ব্যাংকের মতো বেশি সুদ দিতে হয় না।
জনতা-ব্যাংক-কৃষি-লোন-নেওয়ার-পদ্ধতি
সহজ কিস্তি ও শর্তে কৃষকরা ঋণ নিতে পারে এবং তা পরিশোধ করতে পারে। এই ব্যাংকে আপনারা ফসল চাষ, গবাদিপশু পালন, মৎস্য চাষ সহ কৃষি ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা খাতে ঋণ পাবেন। যদি প্রকল্প বড় হয়, তবে এখানে বড় অংকের ঋণ পাওয়া যায়। যা কিস্তির মাধ্যমে পরিষদের সুবিধা আছে। সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে,
জনতা ব্যাংকের প্রায় সব শাখায় আমাদের দেশে রয়েছে। যে কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকা কৃষকরা সেবা গ্রহণ করতে পারে। জনতা ব্যাংক সরকারি হওয়ায় প্রতারণার কোন ঝুঁকি থাকে না। যদি এই ব্যাংক থেকে শস্য লোন নেওয়া হয়। তবে এই টাকা মাসে মাসে কিস্তিতে দিতে হয় না। একবারে ফসল কাটার পর,

সেই ফসল বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করার সুবিধা থাকে। যা কৃষককে আরো সুবিধা দিয়েছে। আশাকরছি কেন জনতা ব্যাংক কৃষি লোন আপনার জন্য ভালো হবে জেনেছেন। জনতা ব্যাংক থেকে কৃষি লোন নিতে চাইলে, উপর থেকে জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নেওয়ার পদ্ধতি দেখে আসতে পারেন।

জনতা ব্যাংকের কৃষি লোন কি জামানত ছাড়া পাওয়া যায়?

জনতা ব্যাংকে এমন কিছু ঋণ আছে যেগুলো আপনি জামানত ছাড়াই পাবেন। আবার এমন কিছু ঋণ আছে, যেগুলো নেওয়ার জন্য আপনাকে জামানত বা গ্যারেন্ডার হিসেবে ব্যাংকের কাছে কিছু রাখতে হবে। কৃষকরা ফসল উৎপাদন করার জন্য ক্ষুদ্র ঋণ নিলে ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী জামানত ছাড়া লোন নিতে পারবে।

এই ঋণ সাধারণত ধান, গম, পাট সহ কিছু মৌসুমী ফসল চাষের জন্য দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ফসল চাষ করে বিক্রি করার পর টাকা পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু জনতা ব্যাংকের সব ধরনের কৃষি লোন জামানত মুক্ত না। যদি বড় প্রকল্পের জন্য বড় ঋণ নেওয়া হয় বা কৃষি প্রকল্প কিংবা কৃষিভিত্তিক ব্যবসার জন্য অনেক টাকা ঋণ নেওয়া হয়।

তাহলে ব্যাংক আপনার কাছে জামানত হিসেবে আপনার জমি অথবা অন্য কিছু চাইতে পারে। এজন্য আপনারা জনতা ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ জামানত ছাড়া পাবেন কিনা? তা লোনের ধরন, পরিমাণ এবং ব্যাংকের নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে।

কেন কৃষি লোন আবেদন বাতিল হয়?

এমন কিছু সাধারণ ভুল ভুল আছে যেগুলোর কারণে কৃষি লোন আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে আবেদনপত্র ভুল তথ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা। এ জন্য কি কি কারণে কৃষি লোন বাতিল হয় চলুন সেগুলো জেনে নিই,

ক) আবেদনপত্রে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার জন্য।
খ) দরকারি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ার জন্য।
গ) আবেদন করার সময় যথাযথ কৃষি কার্যক্রমের প্রমাণপত্র না থাকা।
ঘ) ঋণ পরিশোধ করার সক্ষমতা না থাকলে।
ঙ) পূর্বে কোন ঋণ খেলাপি বা বকেয়া থাকলে।
চ) লোন নেওয়ার জন্য ব্যাংকের নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত হলে।
ছ) জমি, প্রকল্প বা ব্যবসার জন্য আবেদন করার যাচাই করার পর তথ্য যদি ভুল থাকে।
জ) একসঙ্গে একাধিক দিনের জন্য আবেদন করলে।

লোন নেওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

লোন নেওয়ার আগে আপনি কি চাষ করবেন বা টাকা কি কাজে লাগাবেন। সে কাজ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। ভালোভাবে প্ল্যান করার পর এই কাজের লাভ কত টাকা আসবে, এসব বিষয়গুলো দেখবেন। দেখার পর যদি দেখেন লাভ হবে, 

তখন আপনি প্রকল্প, কৃষি কাজ বা ব্যবসার জন্য জনতা ব্যাংক থেকে কৃষি লোন নিবেন। সাবধান থাকবেন অসম্পূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে কখনো কোন লোন নেওয়া ভালো না। আপনার কত টাকা প্রয়োজন এবং কতটুকু পরিশোধ করার সক্ষমতা আছে তা, 

ভালোভাবে বুঝে ব্যাংকের শর্তগুলো জেনে লোন নেওয়া উচিত। বেশিরভাগ মানুষ এক কাজের জন্য ঋণ নিয়ে অন্য কাজে ব্যয় করে। পরবর্তীতে আর্থিক ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়। তাই যে কাজের জন্য লোন নিবেন সে কাজেই টাকা ব্যয় করবেন।

বাস্তব কিছু সমস্যা ও সমাধান

সমস্যাঃ চাহিদার তুলনায় কম ঋণ অনুমোদন
সমাধানঃ আপনি কি চাষাবাদ করবেন, আপনার প্রকল্প কি এর সঠিক বাজেট সহ, এখান থেকে সম্ভাব্য আয় কত টাকা হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্যগুলো স্পষ্ট ভাবে উপস্থাপন করবেন।

সমস্যাঃ আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়া
সমাধানঃ যদি পূর্বের কোন লোন বকেয়া থাকে, তবে তা পরিশোধ করবেন। এরপর আপনার পরিকল্পনা সম্ভাব্য আয় এবং ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ করে সঠিক তথ্য দিবেন। তারপর ঋণের জন্য ব্যাংকে আবেদন করবেন।

(FAQ)সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ কৃষি লোন পেতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তরঃ কৃষি লোন নেওয়ার জন্য ব্যাংকের শর্ত পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এরপর ব্যাংক আপনার আবেদনপত্র যাচাই করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লোনের টাকা দেওয়া হবে।

প্রশ্নঃ কৃষি লোন কি অনলাইনে আবেদন করা যায়?
উত্তরঃ বর্তমানে কৃষি লোন নেওয়ার জন্য জনতা ব্যাংকে আধুনিক ব্যবস্থা বা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা চালু করা নেই। তাই ব্যাংক থেকে লোন নিতে হলে জনতা ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে লোনের জন্য আবেদন ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

প্রশ্নঃ কৃষি লোনের কিস্তি কিভাবে পরিশোধ করতে হয়?
উত্তরঃ কৃষি লোন আপনি কি ধরনের নিচ্ছেন? কি প্রকল্পের জন্য নিচ্ছেন? এবং কত পরিমাণে টাকা নিচ্ছেন? তার ওপর নির্ভর করে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। শস্য চাষে জনতা ব্যাংক থেকে কৃষির লোন নিলে, এই লোনে মাসে মাসে টাকা দিতে হয় না। একবারে ফসল বিক্রি করে টাকা দিতে হয়। অন্যান্য কিছু লোন আছে, যেগুলোতে প্রতি মাসে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। এই ব্যাংকে লোনের টাকা ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করা যায়।
জনতা-ব্যাংক-থেকে-লোন-নেওয়ার-নিয়ম
প্রশ্নঃ সুদের হার কত?
উত্তরঃ জনতা ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের কৃষি লোন দেওয়া হয়। তাই এখানে লোনের ধরন ও টাকার পরিমাণ অনুযায়ী সুদের হার সর্বনিম্ন ৪ থেকে সর্বোচ্চ ১২% পর্যন্ত হয়ে থাকে। যেহেতু ব্যাংকের নিয়ম নীতি মাঝে মধ্যে পরিবর্তন হতে থাকে। তাই সর্বশেষ আপডেট ব্যাংকের শাখায় গিয়ে জেনে নেওয়া ভালো।
প্রশ্নঃ জমি না থাকলে কি কৃষি ঋণ পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ কৃষকের যদি নিজস্ব জমি না থাকে এবং সে কৃষক যদি কৃষি ঋণ নিতে চায়, তবে সে নিতে পারবে। জমি না থাকলে কৃষক বর্গাচাষী হিসেবে জনতা ব্যাংক থেকে ছোট অংকের টাকা ঋণ নিতে পারবে।

মন্তব্যঃ জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নেওয়ার পদ্ধতি

আপনাদের অনেকের রিকোয়েস্টের কারণে আজ আমরা জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এখানে আমি জানিয়েছি কিভাবে আপনারা জনতা ব্যাংক থেকে কৃষি লোন নিতে পারবেন এবং এই লোন কারা নিতে পারবে। উপরোক্ত আলোচনা পড়লে আশাকরি আপনারা আপনাদের কাঙ্খিত উত্তর পেয়ে যাবেন। আমরা শুধু জনতা ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম বলিনি। এখানে আমরা আরো বলেছি, 

জনতা ব্যাংক কৃষি লোনের ধরন ও উদ্দেশ্য কি? কত টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে? এই লোনের সুদের হার কত এবং কেন এই ঋণ আপনার জন্য ভালো হবে, সে কথাগুলো বলেছি। আপনারা যারা জনতা ব্যাংক থেকে কৃষি লোন কথা ভাবছেন। তারা আজকের পুরো আলোচনা ভালোভাবে পড়েবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যাংকের নিয়ম মাঝেমধ্যে পরিবর্তন হয়। তাই সর্বশেষ আপডেট তথ্য জানতে আপনারা জনতা ব্যাংকের শাখায় যেতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url