এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম ও টাকা তোলার প্রক্রিয়া

এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আজকে এটিএম কার্ড থেকে টাকা তোলার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম, কার্ড ব্যবহার করার সময় সতর্কতা সহ এটিএম কার্ড বিষয়ে সকল তথ্য সম্পর্কে জানানো হবে। 
এটিএম-কার্ড-ব্যবহারের-নিয়ম
যারা এটিএম কার্ড ব্যবহার করতে জানেন না বা নতুন এটিএম কার্ড ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য আজকের এই তথ্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই দেরি না করে চলুন কিভাবে এটিএম কার্ড ব্যবহার করতে হয় জেনে নিন।

পেজ সূচিপত্রঃ এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম

এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম

এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম হচ্ছে সচেতন ও সতর্ক হয়ে টাকা উঠানো। বর্তমান সময়ে এখন আর ব্যাংকে গিয়ে চেক দিয়ে টাকা উঠানো লাগে না। এখন টাকা উঠানোর জন্য এটিএম বুথের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেটা আধুনিক এবং টাকা তোলা অনেক সহজ। এর কারণে গ্রাহকদের অনেক সুবিধা হয়েছে।
মানুষের টাকা দরকার হলে তারা তাড়াতাড়ি বুথ থেকে টাকা তুলে, তাদের বিভিন্ন কাজে লাগিয়ে থাকে। অনেকেই আছে যারা কিভাবে বুথ থেকে টাকা তুলতে হয় তা জানে না। আর এই না জানার কারণে তারা বুথে থাকা সিকিউরিটি গার্ডের সাহায্য নিয়ে টাকা তুলে থাকে। কিন্তু এটা করা মোটেও উচিত না, এতে করে প্রতারণার হতে পারে।

তাই অবশ্যই এটিএম কার্ড ব্যবহার করার সকল নিয়ম আগে জানতে হবে। আপনি যদি এটিএম বুথে টাকা তুলতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার চারপাশ খেয়াল করবেন এবং বুথে ঢুকবেন। আপনার চারপাশে যদি সন্দেহভাজন কাউকে দেখতে পান, তাহলে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। বুথে ঢোকার পর এটিএম মেশিনের যেখানে কার্ড ঢোকাবেন,

 সেই জায়গাটা ভালোভাবে দেখে চেক করে নিবেন। অস্বাভাবিক কিছু মনে হলে সেখানে টাকা তুলবেন না। অন্য বুথে গিয়ে টাকা তুলবেন। বুথে যাওয়ার পর আপনি আপনার এটিএম কার্ড বুথে ঢুকাবেন। তারপর সেখানে কিছু অপশন দেখাবে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেই অপশন গুলো নির্বাচন করবেন। এইভাবে আপনি খুব সহজেই এটিএম কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনি যদি নিয়মিত এই এটিএম কার্ডের ব্যবহার করে সুবিধা নিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আপনি নিয়মিত আপনার এই কার্ডের পাসওয়ার্ড পাল্টাবেন। আর কখনোই আপনি আপনার কার্ডের পাসওয়ার্ড অন্য কারো কাছে শেয়ার করবেন না। কারণ আপনার পাসওয়ার্ড যদি অন্য কেউ জেনে যায়, তাহলে আপনার সাথে প্রতারণা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

আপনার কার্ড যদি কোন কারনে হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায়, তাহলে আপনি দেরি করবেন না।তাড়াতাড়ি আপনি ব্যাংকের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করবেন এবং আপনার কার্ডটা ব্লক করে দিবেন। এতে করে অন্য কেউ আপনার কার্ডের অপব্যবহার করতে পারবে না। আপনার লেনদেন সুরক্ষিত থাকবে। এটিএম কার্ড ব্যবহার করার সময় অবশ্যই সতর্ক হয়ে ব্যবহার করবেন।

এটিএম কার্ড থেকে টাকা তোলার সম্পন্ন প্রক্রিয়া

এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম জানার পর আপনি এটিএম কার্ড খুব সহজে ব্যবহার করতে পারবেন। বুথে যাওয়ার আগে এটিএম কার্ড সাথে নিবেন ও পিন নাম্বার মনে রাখতে হবে। তারপর এটিএম মেশিনের সল্টে এটিএম কার্ড ঢুকাতে হবে। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ব্যাংক চিপ ভিত্তিক এটিএম কার্ড ব্যবহার করে। তাই অবশ্যই এটিএম মেশিনে কার্ড ঢুকানোর সময় চিপের অংশটা এটিএম মেশিনের নির্দিষ্ট জায়গায় ঢুকাবেন।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ ব্যাংকে এই একই রকম এটিএম কার্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে ব্র্যাক ব্যাংকে, ইসলামী ব্যাংকে ও ডাচ বাংলা ব্যাংকে। আপনি যখন এটিএম কার্ড এটিএম মেশিনে ঢুকাবেন। তখন এটিএম মেশিনের স্ক্রিনে ভাসা নির্বাচন করার অপশন দেখাবে। সেখানে আপনি আপনার সুবিধা অনুযায়ী ভাষা নির্বাচন করবেন।

তারপর সেখানে পিন নাম্বার চাইবে। আপনার এটিএম কার্ডের যে পিন নাম্বার, সেই পিন নাম্বারটা সেখানে লিখবেন। অবশ্যই পিন বা পাসওয়ার্ড লিখার সময় হাত দিয়ে ঢেকে রাখবেন। মনে রাখবেন পিন পাসওয়ার্ড যদি তিনবারের বেশি ভুল দেন, তাহলে আপনার এটিএম কার্ডটি সাময়িকভাবে ব্লক হয়ে যাবে। আপনি যদি এটিএম মেশিনে কার্ড ঢুকানোর পর সঠিক পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে পারেন।

তবে আপনাকে লেনদেন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপশন দেখাবে। সেখানে অপশন হিসেবে ১/Cash Withdrawal, ২/Balance Inquiry, ৩/Mini Statement, ৪/ Pin Change এই লেখাগুলো থাকবে। আপনি যদি টাকা তুলতে চান, তাহলে Withdrawal এই অপশনে ক্লিক করে Savings বা Current Account এই অপশনে চাপ দিয়ে, সেখানে কত টাকা তুলবেন তার পরিমাণ লিখবেন।

তারপর Confirm চাপ দিবেন। তারপর যদি রিসেট চাই, তাহলে Yes দিবেন। তারপর এটিএম মেশিন থেকে আপনার নির্ধারিত টাকা বেরিয়ে আসবে, টাকাগুলো গুনে নিবেন। তারপর আপনি যদি আর টাকা উঠাতে না চান, তাহলে এটিএম মেশিনে লেনদেন (না) বাটনে ক্লিক করবেন, তাহলে আপনার এটিএম কার্ডটি বেরিয়ে আসবে। এরপর এটিএম কার্ডটি ভালোভাবে আপনি মেশিন থেকে বার করে নিবেন।

এটিএম কার্ডের ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম

যারা এটিএম কার্ড নতুন ব্যবহার করছেন, তারা অনেকেই জানেন না এই কার্ডের ব্যালেন্স কিভাবে চেক করতে হয়। এটিএম কার্ডের ব্যালেন্স আপনি তিন রকম উপায়ে চেক করতে পারবেন। আপনি যদি এটিএম বুথের মাধ্যমে আপনার ব্যালেন্স চেক করতে চান। তাহলে প্রথমেই আপনাকে আপনার কাছে থাকা বুথে যেতে হবে।

সেখানে যাওয়ার পর এটিএম মেশিনে আপনার এটিএম কার্ডটি ঢুকাবেন। আশাকরি কিভাবে এটিএম মেসিনে এই কার্ড ঢুকাতে হয় তা আপনি জানেন। এটিএম কার্ড ঢুকানোর পর সেখানে আপনি আপনার ভাষা পছন্দ করবেন। ভাষা সিলেক্ট করার পর সেখানে আপনার এটিএম একাউন্টের পাসওয়ার্ড চাইবে। সেখানে আপনার চার অথবা ছয় সংখ্যার পাসওয়ার্ডটি দিবেন।

আপনার একাউন্টে প্রবেশ করার পর মেনু থেকে Balance Inquiry এই অপশনে ক্লিক করবেন। তাহলে আপনি আপনার এটিএম কার্ডের ব্যালেন্স দেখতে পাবেন। তাছাড়া আপনি যে ব্যাংকের এটিএম কার্ড ব্যবহার করছেন, সেই ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপ এর মাধ্যমে আপনার এটিএম কার্ডের ব্যালেন্স দেখতে পারবেন।

প্রথমে আপনার ব্যাংকের সেই অ্যাপটি আপনার ফোনে ইন্সটল করবেন তারপর সেখানে আপনার ইউজার আইডি ও একাউন্টের পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করবেন। একাউন্টে লগইন হলে ব্যালেন্স Balance অথবা Account Summary ক্লিক করবেন। তাহলে আপনি দেখতে পাবেন, আপনার এটিএম কার্ডে থাকা বর্তমান ব্যালেন্স।

এটিএম কার্ড হারিয়ে গেলে যা করবেন

আপনার যদি এটিএম কার্ড হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়ে যায়, তাহলে আপনি মোটেও দেরি করবেন না। তাড়াতাড়ি আপনি ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে, তাদেরকে আপনার কার্ড হারানোর কথা বলে কার্ডটি ব্লক করে দিবেন। আপনি যদি কার্ড হারানোর সাথে সাথেই আপনার কার্ডটি ব্লক করে দিতে পারেন,

তাহলে এই কার্ডটি অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না ও আপনার কার্ড থেকে টাকা তুলতে পারবে না। আপনি যে ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করছেন সে ব্যাংকের যদি অফিশিয়াল অ্যাপ থাকে, তাহলে সেই অ্যাপে আপনার একাউন্ট নাম্বার দিয়ে পাসওয়ার্ড দিবেন। লগইন করা হলে, সেখানে কার্ড ম্যানেজমেন্ট অপশনে গিয়ে আপনার কার্ড আপনি নিজেই,

ব্লক কার্ড অথবা টেম্পোরারি ব্লক অপশনে ক্লিক করে কার্ডটি ব্লক করতে পারবেন। কার্ড হারিয়ে যাওয়ার পর অবশ্যই আপনার লেনদেনের সর্বশেষ তথ্য দেখবেন। যদি সেখানে কোন লেনদেন থাকে আপনার অনুমতি ছাড়া, তাহলে তাড়াতাড়ি আপনি ব্যাংকে জানাবেন। আপনার কার্ড যদি চুরি হয়ে যায়, তবে আপনি থানাতে একটা জিডি করে রাখবেন।

অনেক ব্যাংক আছে, যেখানে নতুন কার্ড নেওয়ার জন্য আবেদন করতে হলে থানায় করা জিডির কপি লাগতে পারে। আপনি যদি আপনার কার্ড উদ্ধার করতে না পারেন, তাহলে নতুন কার্ডের জন্য ব্যাংকে আবেদন করবেন। ভবিষ্যতে আপনার এটিএম কার্ড যেন হারিয়ে না যায় বা চুরি না হয়ে যায়, তাই এই কার্ডটি আপনি যত্ন করে রাখবেন এবং সতর্ক হয়ে ব্যবহার করবেন।

এটিএম কার্ডের ফি এবং লিমিট কত

আপনি যদি এটিএম কার্ড ব্যবহার করেন তাহলে এই কার্ডের জন্য আপনাকে বাৎসরিক ফি দিতে হবে সেই সাথে এই কার্ডের লেনদেন করার একটা লিমিট ও আছে। এটিএম কার্ডের ফি এবং লিমিট এই দুইটা ব্যাংক নির্ধারণ করে। আর এই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম ও নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তবে এই কার্ডের চার্জ এবং লিমিট ব্যাংক হিসেবে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।
যদি নতুন এটিএম কার্ড বানাতে চান তাহলে সেটা বানানোর সময় আপনাকে ব্যাংকের নির্ধারণ করা চার্জ ফি দেওয়া লাগবে। বেশিরভাগ ব্যাংকে এই ভি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে নেওয়া হয়। আবার কিছু ব্যাংক আছে যারা বিশেষ কোনো অফারে এই কার্ড বিনা চার্জে দেয়। এই কার্ডের জন্য বছরে আপনাকে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া লাগতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক বা ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের জন্য এর থেকে বেশি টাকা লাগতে পারে। ডাচ বাংলা ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের জন্য বছরে আপনাকে ১৪০০ থেকে ১৯০০ টাকা মত লাগতে পারে। আপনার কার্ড যদি হারিয়ে যাই, তাহলে সেই কার্ড আবার নেওয়ার জন্য আপনাকে ২০০ টাকা অথবা ৫০০ টাকা মত দিতে হতে পারে। আপনি যদি আপনার এটিএম কার্ডের পাসওয়ার্ড পাল্টাতে চান,

তবে এই পাসওয়ার্ড পাল্টানোর জন্য কিছু ব্যাংক আছে, যেখানে তাদেরকে সার্ভিস চার্জ দেওয়া লাগতে পারে। বেশ কিছু ব্যাংক আছে, যাদের বুথে টাকা তুলতে আপনার সার্ভিস চার্জ কাটতে পারে। কিন্তু এমন কিছু ব্যাংক আছে, যাদের বুথে টাকা তুল্লে কোন টাকা কাটে না। যেমন ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে যদি আপনি টাকা তুলেন, তাহলে তারা কোনো সার্ভিস চার্জ কাটে না।

ব্যাংকের এটিএম কার্ডে প্রতিদিন কত টাকা তুলতে পারবে, তার লিমিট নির্ধারণ করা থাকে। কার্ডের ধরন অনুযায়ী এই টাকার লিমিট কম এবং বেশি হয়। সাধারণ এটিএম কার্ডের জন্য প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত তোলা যেতে পারে। তবে যেগুলো প্রিমিয়াম বা ইন্টারন্যাশনাল এটিএম কার্ডের লিমিট আরো বেশি হয়ে থাকে। একবারে কত টাকা তোলা যাবে, এটা মূলত ব্যাংক থেকে নির্ধারণ করা হয়।

যেগুলো ডুয়েল কারেন্সি কার্ড অর্থাৎ আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন করতে হলে। আপনার সার্ভিস চার্জ একটু বেশি কাটতে পারে। আমি উপরে এটিএম কার্ডের ফি এবং লিমিট নিয়ে যে তথ্যগুলো বললাম। এই তথ্যগুলো বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন হতে পারে। তাই ব্যাংকের সর্বশেষ আপডেট তথ্য জানতে আপনার যে ব্যাংকে এই এটিএম কার্ড করা আছে ,সেই ব্যাংকে যোগাযোগ রাখবেন।

এটিএম কার্ড ব্লক হয়ে গেলে করণীয়

এটিএম কার্ড বেশিরভাগ ব্লক হয়ে যায় পিন নাম্বার বার বার ভুল দিলে। সাধারণত তিনবার যদি পিন নাম্বার ভুল দেওয়া হয়। তাহলে এটিএম বুথের নিরাপত্তা সিস্টেমের কারণে অটোমেটিক সেই কার্ডটি ব্লক হয়ে যায়। এর কারণ হচ্ছে তিনবার যখন পাসওয়ার্ড ভুল হয়। তখন এটিএম বুথের সিস্টেম মনে করে এটা হাঁকারের হাতে আছে বা অন্য কেউ এই কার্ড ব্যবহার করছে।

তখন নিরাপত্তার জন্য এই কার্ডটি ব্লক করা হয়। তবে আপনার কার্ড যদি ব্লক হয়ে যায়, তাহলে চিন্তা করবেন না। আপনি বেশ কিছু স্টেপ মেনে কাজ করলে, আপনি আপনার এটিএম কার্ডের ব্লক ছুটিয়ে নিতে পারবেন। প্রথমে আপনি যে ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করছেন, সেই ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে কল করে আপনার বিষয়টি জানাবেন।

তারপর তারা এটিএম কার্ডের ব্লক ছুটানোর জন্য আপনার পরিচয় যাচাই করবে। আপনি যে কার্ডের মালিক তার জন্য যেসব প্রমাণ লাগবে। সেসকল প্রমাণগুলো ব্যাংক কর্মকর্তাকে আপনি দিবেন। এতে কার্ডের মালিকের নাম, পিতার নাম, মাতার নাম ও জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার। এছাড়াও এই কার্ডের আরো যেগুলো প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস,

সেগুলো জানতে চাইতে পারে। সেগুলো যদি আপনি সঠিকভাবে তাদেরকে জানাতে পারেন। তাহলে তারা আবার আপনার এটিএম কার্ডের ব্লক ছুটিয়ে দিবে। পরবর্তী সময়ে আপনার এটিএম কার্ড যেন ব্লক না হয়ে যায়। তার জন্য অবশ্যই পাসওয়ার্ড মনে রাখবেন। তিনবারের বেশি পাসওয়ার্ড দিবেন না এবং আপনার এটিএম কার্ডের পিন অথবা Otp অন্য কাউকে জানাবেন না।

এটিএম কার্ড ব্যবহার করার সময় সতর্কতা

এটিএম কার্ড ব্যবহার করার জন্য অবশ্যই আপনাকে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আপনি যখন এটিএম কার্ডের টাকা তুলতে বুথে যাবেন। তখন অবশ্যই চারপাশ ভালোভাবে খেয়াল করবেন এবং মেশিনে অন্য কোন ডিভাইস লাগানো আছে কিনা, সেটা চেক করে নিবেন। আপনার এটিএম কার্ডের পিন কাউকে জানাবেন না।
এটিএম-কার্ড-ব্যবহারের-নিয়ম
বুথে পাসওয়ার্ড দেওয়ার সময় অবশ্যই কি প্যাড লিখবেন, তখন হাত দিয়ে ঢেকে রাখবেন এবং কার্ডের ওপরে পিন নাম্বার লিখে রাখবেন না। ব্যাংকের পরিচয় দিয়ে কেউ যদি আপনাকে ফোন করে আপনার এটিএম কার্ডের পিন নাম্বার অথবা ওটিপি চাই, তাহলে দিবেন না। ফোনে যদি কোন অপরিচিত লিংক আসে, তবে সেই লিংকে ক্লিক করবেন না।

বুথ থেকে টাকা উঠানোর পর টাকা ভালোভাবে গুনে নিবেন ও এটিএম মেশিন থেকে আপনার কার্ডটি বার করে নিবেন। আপনার এটিএম কার্ডের লেনদেনের তথ্য মাঝেমধ্যেই চেক করে নিবেন। কোন অস্বাভাবিক লেনদেন দেখতে পেলে তাড়াতাড়ি ব্যাংকে জানাবেন। আপনার কার্ড অন্য কারো হাতে দিবেন না। আর কার্ড যদি কোন কারনে হারিয়ে যায়, তাহলে তাড়াতাড়ি আপনি আপনার কার্ড ব্লক করে দিবেন।

এটিএম কার্ড নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর/FAQ

প্রশ্নঃ এটিএম কার্ড কত প্রকার?
উত্তরঃ এটিএম কার্ড ব্যবহারের উপর নির্ভর করে কয়েক রকম হয়ে থাকে যেমন ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড, ইন্টারন্যাশনাল কার্ড এবং লোকাল কার্ড। এই কার্ডগুলোর ব্যবহার এবং নিয়ম আলাদা আলাদা। এমনকি এই কার্ডগুলোর সার্ভিস চার্জও আলাদা হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ এটিএম বুথে টাকা তুলতে সার্ভিস চার্জ লাগে কি?
উত্তরঃ আপনি যে ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করছেন। সেই ব্যাংকের বুথ ছাড়া অন্য কোন ব্যাংকের বুথে যদি টাকা তুলেন, তাহলে আপনার সার্ভিস চার্জ লাগতে পারে। তবে যে ব্যাংকে আপনার এটিএম কার্ড আছে, সে ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে আপনি যদি টাকা তোলেন, তাহলে কোন সার্ভিস চার্জ লাগবে না। এছাড়াও আপনি যদি অন্য কোন দেশের এটিএম থেকে টাকা তুলেন, তাহলে সার্ভিস চার্জ লাগতে পারে।

প্রশ্নঃ এটিএম থেকে কতবার ফ্রি টাকা তোলা যায়?
উত্তরঃ আপনার নিজের এটিএম ব্যাংকের বুথ থেকে আপনি যতবার খুশি ফ্রী টাকা তুলতে পারবেন। তবে এই নিয়ম ব্যাংক হিসেবে ভিন্ন হতে পারে। আর অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে যদি আপনি টাকা তুলতে চান, তাহলে সাধারণত মাসে পাঁচবার আপনি ফ্রি টাকা তুলতে পারবেন বা লেনদেন করতে পারবেন। তারপর প্রতি লেনদেনের জন্য আপনাকে ১৫ থেকে ৩০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

প্রশ্নঃ ক্রেডিট কার্ড আর এটিএম কার্ড কি একই?
উত্তরঃ ক্রেডিট কার্ড আর এটিএম কার্ড দুইটা আলাদা। এটিএম কার্ড আপনার ব্যাংক একাউন্টের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে এবং আপনার ব্যাংক একাউন্টে যত টাকা থাকে। সেই টাকাটুকুই আপনি এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন। এখানে অতিরিক্ত টাকা ব্যবহার করার সুযোগ নাই। আর ক্রেডিট কার্ড হচ্ছে ব্যাংক থেকে কিছু পরিমাণ অনুযায়ী ঋণ সুবিধা নেওয়া। যেটা আগে খরচ করা হয় পরে ব্যাংকে শোধ করা হয়। এর জন্য এক্সট্রা ভাবে সুদ ও সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।
প্রশ্নঃ এটিএম থেকে বিকাশের টাকা তোলা যাবে?
উত্তরঃ সব এটিএম বুথ থেকে আপনি বিকাশে টাকা তুলতে পারবেন না। তবে আপনি ক্যাশ আউট সুবিধা ব্যবহার করে কিছু নির্দিষ্ট এজেন্ট ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন। তবে এর জন্য একটা লিমিট থাকে। যেমন প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা তুলতে পারেন। তবে ব্যাংকের নিয়ম ভেদে এটা আলাদা হতে পারে।

মন্তব্যঃ এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম

এটিএম কার্ড ব্যবহারের নিয়ম জানা নিয়ে আশাকরি আর কোন সমস্যা আপনাদের হবে না। এটিএম কার্ডের কারণে এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সুবিধা জনক করে দিয়েছে। এটিএম কার্ড জীবনকে সহজ করে দিলেও। এটা যদি ভুল নিয়মে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটা অনেক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আপনি প্রতারণার শিকার হতে পারেন। তাই অবশ্যই এই কার্ড ব্যবহার করার সময় সতর্ক হয়ে ব্যবহার করবেন।

আপনার এটিএম কার্ডের পিন নাম্বার অন্য কাউকে জানাবেন না ও এটিএম কার্ডের গায়ে পিন নাম্বার লিখে রাখবেন না। নিয়মিত আপনি আপনার লেনদেনের তথ্য যাচাই করবেন। কোন অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেলে অবশ্যই আপনি ব্যাংকে জানাবেন। যদি কোন কারণে আপনার এটিএম কার্ড হারিয়ে যায়, তাহলে তাড়াতাড়ি কার্ড ব্লক করে দিবেন। আপনি যদি সচেতন হয়ে এটিএম কার্ড ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি নিরাপদে থাকবেন এবং আপনার সাথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url