দ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায়

দ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় নিয়ে আজকে আপনাদের সাথে আমরা আলোচনা করবো। আপনাদের যাদের ডায়াবেটিস আছে আজকের এই ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে জানা অনেক দরকারী।
দ্রুত-ডায়াবেটিস-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়
আজকের এই পুরো আলোচনার মধ্যে আপনারা ডায়াবেটিস কেন হয়, কত পয়েন্ট ডায়াবেটিস নরমাল বলে ধরা হয়, ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকা ও কখন ডায়াবেটিস রোগীকে ডাক্তার দেখাতে হবে। এই বিষয়গুলো আপনারা জানতে পারবেন। তাই চলেন ডাইবেটিস নিয়ে সব বিষয়গুলো আমরা জেনে নেয়।

পেজ সূচিপত্রঃদ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায়

দ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায়

আপনারা যারা দ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় জানতে চাইছেন। তাদের জানা উচিত যে ডায়াবেটিস কিন্তু তখনই বাড়ে, যখন রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে যায়। আর এই ডায়াবেটিস একবার বেড়ে গেলে একদিনে পুরোপুরি কমানো যায় না। তাই ডায়াবেটিস কমানোর জন্য বা নিয়ন্ত্রণ রাখতে, আপনাদেরকে কিছু নিয়ম ফলো করতে হবে। যেমন আপনাদেরকে প্রতিদিনের খাবার মেনে বেছে খেতে হবে, 
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে এবং জীবনযাপনে কিছুটা পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। ঘরোয়া ভাবে এসব পদক্ষেপ গুলোই রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করবে। যা আস্তে আস্তে আপনার ডায়াবেটিস কমাবে। কিন্তু এসব পদক্ষেপকে কখনোই ডাক্তারের চিকিৎসা এবং ওষুধের বিকল্প হিসেবে দেখা যাবে না। আপনারা ঘরোয়া উপায়ে ডায়াবেটিস কমানোর জন্য খাবারের দিকে নজর রাখবেন, 

শারীরিক ব্যায়াম করার দিকে নজর দিবেন, মানসিক চাপ যেন না হয় এবং ঘুম যেন পর্যাপ্ত পাড়া হয়। আপনারা ডায়াবেটিস কমাতে পেঁয়াজের রস খেতে পারেন। গবেষণায় এসেছে যে পিয়াজের রস শরীরে রক্তের শর্করা প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়। মার্কিনি একটি গবেষণায় জানা গেছে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে, সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয় মেটফরমিন ওষুধ। এই ওষুধের উপাদান পেঁয়াজের মধ্যে থাকে। 

এজন্য গবেষকগণ বলেছেন পেঁয়াজ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে ভালো উপকারী হতে পারে। ঘরোয়া উপায় হিসেবে আপনি জবা গাছের পাতার রস খেতে পারে। বেশ কিছু গবেষণায় জবা ফুল গাছের পাতা রক্তে শর্করা কমাতে পারে, এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডায়াবেটিস কমাতে ৭ থেকে ৮টি পাতা ব্লেন্ড করবেন। তারপর টানা ৭দিন সকালে খালি পেটে এর ১গ্লাস শরবত খাবেন। এছাড়াও ডায়াবেটিস কমাতে,

ঘরে থাকা করলা সকালে খালি পেটে জুস বানিয়ে খাবেন। এগুলো বাদেও আপনারা যদি মেথি দানা ভেজানো পানি, ডুমুর ফল, চর্বিযুক্ত মাছ, আমপাতার ফোটানো পানি, কালোজিরা ও দারুচিন খান। তবে এতে আপনারা ডায়াবেটিসকে ঘরোয়া পদ্ধতিতে কমাতে পারবেন। আপনারা ডায়াবেটিস কমানোর জন্য সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমাবেন। মানসিক চাপ বা টেনশন করবেন না। খাওয়ার পর প্রতিদিন হাঁটবেন এবং শারীরিক ব্যায়াম করবেন।

চিনিযুক্ত খাবার কম খাবেন, এইভাবে নিয়ম মেনে চলতে পারলে। আপনারা ঘরোয়া উপায়ে ডায়াবেটিস আস্তে আস্তে কমাতে পারবেন। কিন্তু ডায়াবেটিস যদি অনেক বেশি হয়, তবে ঘরোয়া এই নিয়মগুলো মানার পাশাপাশি। আপনারা তাড়াতাড়ি ডাক্তারের চিকিৎসা নিবেন ও ওষুধ খাবেন। যখন ডায়াবেটিসের ওষুধ ও চিকিৎসা নেওয়ার সাথে ঘরোয়া উপায় ফলো করবেন। তখন দেখবেন আপনাদের ডায়াবেটিস কমে যাবে এবং নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ডায়াবেটিস কেন হয়?

যদি আমাদের শরীরে ইনসুলিন নামের হরমোন ভালোভাবে তৈরি না হয় বা কাজ না করে। আস্তে আস্তে এখান থেকে শরীরে ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া ডায়াবেটিস হওয়ার পেছনে আরো অনেকগুলো কারণ থাকে। তাই শুধুমাত্র একটি কারণের ওপর ডায়াবেটিয়া হওয়া নির্ভর করে না। ডায়াবেটিস হয় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, বেশি মিষ্টি, ফাস্টফুড ও ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার জন্যেও। 

কারণ এইসব খাবার খেলে শরীরের ওজন বেশি বেড়ে যেতে পারে। এতে পেটের চর্বি বাড়তে পারে, ফলে ইনসুলিন ঠিক ভাবে কাজ করবে না এবং ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। তাছাড়া ডায়াবেটিস হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণগুলো হতে পারে। শারীরিক পরিশ্রম না করা, পরিবারে কারো আগে থেকে ডায়াবেটিস থাকা, মানসিক চাপ নেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম না পারা এবং শরীর দুর্বল থাকা।

তারপর না জানাতে রক্তে আস্তে আস্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া। পরবর্তীতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমনকি এইসব কারণগুলোর জন্যই মানুষের শরীরে ডায়াবেটিস দেখা দেয়। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করবেন, পর্যাপ্ত ঘুম পারবেন, মানসিক টেনশন কম করবেন এবং জীবনযাপনের সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলবেন। তবেই আপনি সুস্থ থাকবেন এবং ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুকি কমবে।

যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডায়াবেটিস বেড়েছে

শরীরে এমন কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখা দিলে আপনি বুঝবেন ডায়াবেটিস বেড়েছে। এই লক্ষণ গুলো যদি আমাদের আগেই জানা থাকে। তাহলে আমরা সকলেই সতর্ক হয়ে থাকতে পারবো এবং সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা নিতে পারবো। যদি শরীর হঠাৎ দুর্বল হয়ে যায়। আর শরীরের শক্তি না পান ও গলা যদি শুকিয়ে থাকে এবং বারবার যদি পানি খাওয়া হয়। 

তাহলে বুঝবেন এটা ডায়াবেটিস বাড়ার লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় ডায়াবেটিস বাড়লে ঘন ঘন প্রসব হয়, রাতে ভালোভাবে ঘুম হয় না, কোন কাজ না করে শরীর ক্লান্ত হয়ে থাকে, ক্ষিদা বেড়ে যায় বা খিদা খুব কমে যায়। হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, কাজের ওপর মনোযোগ কমে যাওয়া, 

মাথা ভারী হয়ে থাকা, শরীর চুলকানো, শরীরে ঘা বা ক্ষত তাড়াতাড়ি না শুকানো। হাত পা ঝিমঝিম করা। শরীরে ফোড়াবার হওয়া, অনেক ঘুম আসলেও ঘুম না হওয়া, অলস হয়ে যাওয়া এইসব লক্ষণগুলো যদি একসাথে দেখতে পান। তাহলে বুঝবেন ডায়াবেটিস বেড়েছে। আর এরকম লক্ষণ দেখা দিলে কখনোই আপনারা দেরি করবেন না। তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাবেন।

ডায়াবেটিস হলে তাড়াতাড়ি যেভাবে কমাবেন

আপনাদের যাদের ডায়াবেটিস আছে এবং মাঝে মধ্যেই যাদের ডায়াবেটিস হুটহাট করে বেড়ে যায়। তারা আজকের এই নিয়মটা ফলো করতে পারেন। কারণ এই নিয়মগুলো ফলো করলে আপনারা বেড়ে যাওয়া ডাইবেটিস তাড়াতাড়ি কমাতে পারবেন। যদি ডায়াবেটিস বেড়ে যায় বা ডায়াবেটিস থাকে। তবে আপনারা বেশি বেশি হাঁটবেন এবং ব্যায়াম করবেন।

খাবারের পর শুয়ে যাবেন না বা বসবেন না। খাবার খাওয়ার পর একটু হাঁটার অভ্যাস করবেন। ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টি খাওয়া কমাতে হবে। তাই অতিরিক্ত মিষ্টি ও ড্রিঙ্কস যেমন সেভেন আপ, কোকাকোলা, স্প্রাইট, টাইগার এই ধরনের কমল পানি খাওয়া বাদ দেবেন। ভাজাপোড়া ও তেলের খাবার বেশি খাওয়া বন্ধ করবেন।

একটানা অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকবেন না। ধূমপানসহ খারাপ অভ্যাসগুলো বাদ দিবেন। সবুজ শাকসবজি, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খাবেন। সাদা ভাত এবং ময়দাযুক্ত খাবার অল্প করে খাবেন। দিনে বেশি বেশি পানি খাওয়ার অভ্যাস করবেন। প্রতিদিন একসময়ে খাওয়ার নিয়ম করবেন। অতিরিক্ত মানসিক টেনশন করবেন না।

পরিবারের সাথে গল্প করবেন, প্রয়োজনে বাইরে একটু ঘুরবেন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবেন এবং প্রতিদিন ঘুম কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘন্টা পাড়বেন। এই নিয়মগুলো মানার পাশাপাশি আপনারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ওষুধ নিয়ম করে খাবেন। কয়েক দিনে দেখবেন ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে চলে এসেছে।

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

ডায়াবেটিস থাকলে এই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে খাবারের তালিকা। আপনারা যদি সঠিক খাবার তালিকা নির্বাচন করতে পারেন এবং সেই খাবার তালিকা অনুযায়ী খাবার খেতে পারেন। তবে আপনাদের ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
ডায়াবেটিস-রোগীর-খাদ্য-তালিকা
তাই বলে ডায়াবেটিস হলে যে সব ধরনের খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে, এটা সঠিক না। ডায়াবেটিস হলে সঠিক পরিমাণে সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই ডাইবেটিস রোগীদের জন্য তা স্বাস্থ্যকর হবে। নিচে ডায়াবেটিস রোগীরা কখন কোন খাবার কতটুকু খাবেন, তার একটি তালিকা দেওয়া হলো।

ডায়াবেটিস রোগীদের সকালের খাবার

সবজি ইচ্ছামতো খেতে পারবেন, লাল আটার রুটি ১ থকে ২টি খাবেন, একটি সেদ্ধ করা ডিম, ফল অল্প খাবেন, চিনি ছাড়া দুধ ও চিড়া সকালে খাবার অভ্যাস করবেন। ডায়াবেটিস রোগীরা সকালবেলায় নাস্তার সাথে চিনি যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলবেন এবং যেসব খাবারের তেল বেশি। এই খাবারগুলো কম খাবেন। আর সকাল ১১ঃ০০ টার সময় হালকা খাবার হিসেবে আপনি ফলমূল। অথবা মুড়ি বা বিস্কুট যেকোনো একটি পরিমাণে ৩০ গ্রাম খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস রোগীদের দুপুরের খাবার

ডায়াবেটিস রোগীরা দুপুরে অল্প একটু ভাত বা লাল আটার রুটি খেতে পারেন। মাছ বা মুরগির মাংস সাথে ডাল। ইচ্ছা মত শাক সবজি ও সালাদ খেতে পারেন। পাশাপাশি চিনি ছাড়া টক দই খেতে পারেন। সবজি হিসেবে আপনারা লাউ, পালং শাক, ফুলকপি, করলা, ঢেঁড়স, লাল শাক খেতে পারেন। এই সবজিগুলো ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়া অনেক ভালো।

ডায়াবেটিস রোগীদের বিকেলের খাবার

ডায়াবেটিস রোগীরা বিকেলে হালকা খাবার হিসেবে চিনা বাদাম, ডাল, চিনি ছাড়া দুধ, চিনি ছাড়া চা, আপেল, পেয়ারা বা শসা যেকোনো একটি খেতে পারেন। যদি দুধ খান, দুধের পরিমাণ যেন ১২০ গ্রামের বেশি না হয় এবং চিনা বাদাম বা অন্যান্য খাবার ৩০ গ্রাম পরিমাণে যেন খাওয়া হয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের রাতের খাবার

ডায়াবেটিস রোগীরা রাতে লাল আটার রুটি ১ থেকে ২টি খাওয়ার খেতে পাড়বেন। এর সাথে মাছ বা মাংস ৩০ গ্রাম খেতে পারেন। পাশাপাশি ডাল ১৫ গ্রাম, সালাদ এবং সবজি ইচ্ছামতো খেতে পারেন। ডায়াবেটিস রোগীরা রাতে ভারী খাবার খাবেন না এবং খুব দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিবেন।
ডায়াবেটিসের রোগীরা ফল হিসেবে জাম, আমড়া, জলপাই, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, আমলকি, লেবু, বাংগি কচি ডাবের পানি, জামরুল, পেপে, পিয়ারা, মাল্টা, কমলা অল্প করে খেতে পারেন। অনেকেই এইসব ফল জুস বানিয়ে খাই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন ফলের জুস বানিয়ে খাওয়ার থেকে সরাসরি ফল চিবিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

ডায়াবেটিস হলে যেসব খাবার কম খাওয়া ভালো

ডায়াবেটিস হলে একেবারেই সব খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে হয় না। কিন্তু এ সময় কিছু খাবার মেনে বেছে খেতে হয়। নয়তো ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস হলে খাবার মেনে বেছে খেতে হবে এবং কিছু খাবার অল্প করে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। নিয়ম মেনে খাবার মেনে বেছে খেতে পারলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

যেসব খাবারগুলো ডায়াবেটিস হলে কম খাওয়া ভালো হবে। সেগুলো হচ্ছে মিষ্টি জাতীয় খাবার। যেমন চকলেট, কেক, মিষ্টি, সেমাই, ক্ষীর, আইসক্রিম ইত্যাদি চিনি বা গুড় দিয়ে বানানো খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। তারপর কোকাকোলা, সেভেন আপ, স্প্রাইট এই এনার্জি ড্রিংস খাওয়া কমাতে হবে। পরোটা, নুডুলস ও বিস্কুট খাওয়া কমাতে হবে।

ভাজাপোড়া বা তেলের খাবার যেমন পুরি, সমচা, সিঙ্গারা, চিপস বার্গার ফাস্টফুড কম খেতে হবে। ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকে তাই যেসব ফল বেশি মিষ্টি এই ফলগুলো বেশি না খেয়ে কম করে খেতে হবে। সব সময় মাথায় রাখবেন চিনির খাবার ডায়াবেটিস থাকলে কম খেতে হবে। এই খাবারগুলো মেনে বেছে খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ডাক্তারের কাছে রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসা নিতে হবে।

ডায়াবেটিস কমাতে ব্যায়ামের ভূমিকা কতটুকু

ডায়াবেটিস যাদের হয়েছে তাদের ব্যায়াম করা আবশ্যক হয়ে গেছে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম হয় এবং শরীরকে ইনসুলিনের প্রতি আরো সংবেদনশীল করতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের ইনসুলিন আরো ভালোভাবে কাজ করে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিস রোগীর শরীরের দুর্বলতা দূর হয়ে শরীর সচল থাকে। হুটহাট করে ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে 

এবং ডায়াবেটিসে হওয়া ক্ষতি অনেকটাই কমে। তাই ডাক্তারেরাও ডায়াবেটিস রোগীদের সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দিয়ে থাকে এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেয়। ডায়াবেটিস কমাতে ও সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যায়ামের ভূমিকা অনেক। তাই যাদের ডায়াবেটিস আছে, তারা নিয়মিত ব্যায়াম করবেন এবং সঠিকভাবে খাবার মেনে বেছে খাওয়ার অভ্যাস করবেন।

কি কি খাবার খেলে ডায়াবেটিস বাড়ে

যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা যদি রসগোল্লা, মিষ্টি, দই, চকলেট, কেক, ক্ষীর, সেমাই, গুড়ের তৈরি পিঠা, আইসক্রিম, কোকাকোলা, স্প্রাইট, সেভেন আপ, প্রাণ আপ, এনার্জি ড্রিংকস। তারপর পরোটা, নুডুলস, বিস্কুট, পিজ্জা, বার্গার, চিপস, সমুচা, পুরি, সিঙ্গারা, আঙ্গুর।

আবার যেসব ফল অনেক মিষ্টি এইসব ফলগুলো যদি অনেক বেশি খাওয়া হয় এবং অনেকদিন ধরে যদি এই খাবারগুলো খেতে থাকা হয়। তবে হুট করেই একটা সময় পর দেখবেন ডায়াবেটিস বেড়ে গেছে। তাই সব সময় এই খাবারগুলো খাওয়া এড়িয়ে চলবেন।

ডায়াবেটিস রোগীদের যেসব ভুল করা উচিত নয়

অনেকেই আছে যাদের ডায়াবেটিস থাকার পরেও তারা কিছু ভুল করে। এই ভুলের কারণে তাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এতে স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের কখনোই কোনো বিষয় নিয়ে ভুল করা উচিত নয়। সব সময় তাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের যদি পায়ে কোন ক্ষত হয়, এটাকে অবহেলা করা উচিত নয়।

কারণ অনেক সময় এইসব ক্ষত বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। অনিয়মিত ওষুধ খাওয়া যাবে না। সব সময় ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে থাকতে হবে। অস্বাস্থ্যকর এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া উচিত না। তারপর খাবার খেয়ে শুয়ে যাওয়া, নিয়মিত না হাঁটা, শারীরিক ব্যায়াম না করা, ঠিকমতো না ঘুমানো, মানসিক চিন্তা বেশি করা,

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘরোয়া উপায়ে বেশি নির্ভর করা উচিত নয়। এইসব কাজগুলো কখনোই ডায়াবেটিস রোগীদের করা উচিত হবে না। এসব কাজগুলো করতে থাকলে ডায়াবেটিস রোগীদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই সবসময় সঠিক নিয়মে খাবার বেছে খাবেন। নিয়মিত ডাক্তারের কাছে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাবেন এবং নিয়ম মেনে ওষুধ খাবেন।

ডায়াবেটিস রোগীকে কখন ডাক্তার দেখাতে হবে

যদি দেখেন খাবার এবং ওষুধ নিয়ম মেনে খাওয়ার পরেও আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা কমছে না। তাহলে আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। হঠাৎ করে যদি মাথা ব্যথা করে, মাথা ঘোরে, শরীর দুর্বল হয় বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভব করেন। আবার শরীর যদি কাঁপে কখনোই আপনারা দেরি করবেন না। কারণ এই লক্ষণ ডায়াবেটিসের গুরুতর সমস্যা হলে দেখা দেয়।

এরকম সমস্যা দেখা দিলে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে রোগীকে নিয়ে যাবেন। চোখে ঝাপসা দেখা, শরীরের ঘা শুকাতে দেরি হলে, হাত বা পা ঝিমঝিম করলে এবং ওষুধ খাওয়ার পরেও ডায়াবেটিস না কমলে ডায়াবেটিস রোগীকে ডাক্তার দেখাতে হবে। আর যাদের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস আছে, তারা নিয়মিত ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে থাকবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন।

(FAQ) ডায়াবেটিস নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নঃ ডায়াবেটিস রোগী সকালে কি খাবে?
উত্তরঃ ডায়াবেটিস রোগীর সকালে ভাজাপোড়া এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো হবে। তারা সকালে লাল আটার রুটি ২টি, একটি সেদ্ধ ডিম, শাকসবজি এবং অল্প ফল খেতে পারবে।
দ্রুত-ডায়াবেটিস-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়
প্রশ্নঃ আঙ্গুর খেলে কি ডায়াবেটিস বাড়ে?
উত্তরঃ আঙ্গুরে ভিটামিন সহ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভালো পাওয়া যায়। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস রোগীর শরীরের জন্য অনেক উপকারী। কিন্তু আঙ্গুরের প্রাকৃতিক চিনি থাকে। এজন্য বেশি খেলে ডায়াবেটিস বাড়বে। অতএব ডায়াবেটিস রোগীরা আঙ্গুর যদি খান অল্প করে খাবেন।

প্রশ্নঃ প্রতিদিন কতটুকু হাঁটতে হবে?
উত্তরঃ ডায়াবেটিস যাদের আছে, তাদেরকে ডাক্তারেরা কমপক্ষে প্রতিদিন ২০ থেকে 30 মিনিট হাঁটার পরামর্শ দেন। তাই আপনাদের যাদের ডায়াবেটিস আছে, প্রতিদিন খাবার খাওয়ার পর একটু হাঁটার অভ্যাস করবেন। প্রতিদিন কম করে হলেও ২৫ মিনিট হাঁটাচলা করবেন এবং শারীরিক ব্যায়াম করবেন।

প্রশ্নঃ ডায়াবেটিসে মধু খাওয়া যাবে কি?
উত্তরঃ সব ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মধু খাওয়া উচিত না। কারণ মধুতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকে। তাই যাদের ডায়াবেটিস অনেক বেশি, তাদের মধু খাওয়া যাবেনা। কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। তারা চাইলে মাঝে মধ্যে অল্প একটু মধু খেতে পারবে। তবে নিরাপদ হবে ডায়াবেটিস থাকলে মধু খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া।
প্রশ্নঃ ফল খেলে কি সুগার বাড়বে?
উত্তরঃ অল্প করে নিয়ম মেনে যদি ফল খেতে পারেন। তাহলে রক্তে সুগার বাড়বে না। কিন্তু একসাথে যদি অনেক বেশি করে মিষ্টি ফল খান। তবে আপনার শরীরে সুগার বাড়তে পারে। তাই সব সময় ফল খাওয়ার সময় সতর্ক থাকবেন এবং অল্প করে মাঝেমধ্যে ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

মন্তব্যঃদ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায়

দ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় মেনে আপনারা নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খাবেন। দেখবেন ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে থাকবে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীরা সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করতে পারবে। ডায়াবেটিস থাকলে কখনোই অনিয়মিত জীবন যাপন করা যাবে না এবং যেগুলো খারাপ অভ্যাস বিশেষ করে ধূমপান বাদ দিতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি ও তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলবেন। সব সময় সুষম খাদ্যের দিকে নজর দিবেন। খাবার বেশি না খেয়ে, 

অল্প করে খাওয়ার অভ্যাস করবেন। ঘরোয়া উপায় মেনে যদি ডায়াবেটিস না কমে, হুট করে যদি ডায়াবেটিস বেড়ে যায়, শরীর দুর্বল হয়ে যায়, মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাহলে বাড়িতে বসে না থেকে ডাক্তারের কাছে তাড়াতাড়ি যেতে হবে। খাবার মেনে বেছে খেতে পারলে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাই যাদের ডায়াবেটিস আছে সবসময় সতর্ক থাকবেন এবং নিয়মিত ডাক্তারের কাছে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করিয়ে নিয়মিত ওষুধ খাবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url