বড় ও শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
বড় ও শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এই বিষয়ে আমাদের জানা বাধ্যতা হয়ে পড়েছে। কারণ
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে হামের প্রভাব বাড়ার জন্য। এখন পর্যন্ত চারশোর বেশি
শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এজন্য হামকে অবহেলা করা যাবে না। কিভাবে শিশু ও
বড়দেরকে হাম থেকে বাঁচাবেন,
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন, কিভাবে এই রোগ প্রতিরোধ করবেন এবং হাম হলে কি ভুল করা
যাবে না, এই বিষয়গুলো এখন আপনাদেরকে জানানো হবে। যেগুলো জানার পর শিশু
ও বড়রা হাম থেকে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচতে পারবেন। তাই দেরি না
করে চলেন হাম হলে কি করতে হবে জেনে নিই।
পেজ সূচিপত্রঃ বড় ও শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
- বড় ও শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
-
বড়দের হাম হওয়ার লক্ষণ যেভাবে বুঝবেন
-
শিশুদের হাম হওয়ার লক্ষণ যেভাবে বুঝবেন
-
হাম কি কারনে এত বিপদজনক
- হাম হলে কোন খাবার খাওয়া ভালো
-
হাম হলে কোন খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো
-
হাম হলে কত দিনে ভালো হয়
-
হাম হলে কখন ডাক্তার দেখানো জরুরী
- বড়দের ও শিশুদের জন্য বিশেষ সর্তকতা
-
হাম রোগ প্রতিরোধ করার উপায়
-
হাম প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব কতটুকু
-
হাম সম্পর্কে মানুষের কিছু ভুল ধারণা
-
হাম হলে যেসব ভুল করা যাবে না
- FAQ/বড় ও শিশুদের হাম নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর
-
শেষ কথাঃ বড় ও শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
বড় ও শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
হাম রোগ হচ্ছে ভাইরাসের একটি জাত। যেটা এখন অনেক বড় আকার ধারণ করেছে
আমাদের দেশে। এই রোগ শুধু যে শিশুদের হয় তা না, এই রোগ শিশুদের পাশাপাশি
বড়দেরও হচ্ছে। প্রথমে জ্বর, সর্দি, কাশি, তারপর চোখ লাল হওয়ার মতো
সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এরপর শরীরের লাল ছোট ছোট দাগ দেখা দিচ্ছে।
আরো পড়ুনঃ মাথার উকুন মারার উপায় জেনে নিন
এইগুলোই মূলত হাম হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করে। এ সময় যদি শিশু ও বড়দের
সঠিক ভাবে যত্ন নেওয়া যায়। তাহলে অনেক ক্ষেত্রে হামে আক্রান্ত রোগীরা
আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু এই রোগ হলে যদি ভুলক্রমে বুঝতে না
পারা যায়। আর আক্রান্ত রোগীদের যদি ঠিকমতো যত্ন না নেওয়া হয়। তাহলে আস্তে
আস্তে এই রোগ শরীরের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
পড়ে আস্তে আস্তে শিশু ও বড়দের শরীর দুর্বল হয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হতে
পারে। তাই এ সময় আমাদের সকলকে বড় ও শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এই
বিষয়গুলো জানতে হবে। তারপর সে মোতাবেক আমাদেরকে বড় ও শিশুদের শরীরের
যত্ন নিতে হবে। তাহলে এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। হাম হলে
কি করবেন, তার সঠিক পদ্ধতি গুলো নিচে বলা হলো।
হাম হলে শিশু ও বড়দের যা করতে হবে
ক) হাম যদি হয়ে যায়, তাহলে তাকে বিশ্রাম নিতে হবে অনেক বেশি। কারণ হাম হলে
শরীরকে অনেক দুর্বল করে দেয়। এ সময় বাইরে গেলে বা দৌড়াদৌড়ি করলে
শরীরের ক্লান্তি আরো বেড়ে যেতে পারে। এতে শরীর আরো অসুস্থ হয়ে ক্ষতি হতে
পারে। তাই শিশু বা বড় যারাই হাম রোগে আক্রান্ত হবেন। তারাই ভালোভাবে
বিশ্রাম নেবেন এবং শারীরিক পরিশ্রম কম করবেন।
খ) বড়দের অথবা শিশুদের যদি হাম হয়। তবে দিনে প্রচুর করে পানি খেতে হবে।
কারণ হাম হলে শরীরে জ্বর হয়। আর জ্বর হওয়ার কারণে শরীরে পানি শূন্যতা তৈরি হয়।
এ সময় বেশি করে পানি না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে বড় সমস্যা হতে পারে। তাই হাম যদি
হয়, তাহলে তরল খাবার বেশি খেতে হবে। তরল খাবার হিসেবে আপনারা সাধারণ পানি,
ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও স্যুপ খেতে পারেন। তাছাড়া তরল খাবার শিশুদের খাওয়ানো
সহজ হবে।
গ) হাম যদি হয়, তবে শরীরে জ্বর বেশ কিছুদিন থাকতে পারে। যদি জ্বর অনেক
বেশি হয়, আর এতে যদি অনেক কষ্ট হয়। তাহলে আপনারা কখনোই নিজে জ্বরের জন্য কোন
এন্টিবায়োটিক বা অতিরিক্ত ওষুধ খাবেন না। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে
ওষুধ খাওয়ার চেষ্টা করবেন। আর হাত পা ও শরীরের যদি বেশি তাপ হয়। তাহলে
আপনি মাথা পানি দিয়ে ধোয়াবেন এবং ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছবেন।
গ) যদি হাম হয়, তবে হামে আক্রান্ত রোগীকে খোলামেলা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঘরে
থাকতে হবে। সব সময় রোগীর বিছানা, চাদর, বালিশ এবং ব্যবহার করা
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। এ সময় চোখ লাল হয়ে যাওয়া
এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যা হয়। এজন্য আপনারা ঘরে বেশি তীব্র আলো
জ্বালাবেন না। আর পরিষ্কার পানি এবং নরম কাপড় দিয়ে মাঝেমধ্যে চোখ পরিষ্কার
করবেন।
ঘ) হাম হলে খাবার খাওয়ার উপর রুচি কমে যায়। এ সময় নরম ও পুষ্টিকর খাবার
খেতে হবে। তবে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খেলে তা শরীরের জন্য বেশি ভালো হবে। হাম
হলে আপনারা ভাত, খিচুড়ি, ডিম, কলা, দুধ, ফলমূল, শাক সবজি ও স্যুপ খাবেন। যারা
হাম রোগে আক্রান্ত, তাদেরকে ছোট শিশু, যাদের বয়স বেশি। আর যাদের শরীরের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের থেকে দূরে রাখবেন।
ঙ) যাদের হাম হয়েছে, তাদের যদি শ্বাসকষ্ট, অনেক বেশি জ্বর, খিঁচুনি, খাওয়ার উপর
অরুচি হয়। তারপর শরীর দুর্বল, শরীরে পানির ঘাটটি এবং বারবার যদি বমি হয়,
তবে অবহেলা করবেন না। হলে কখনোই নিজে কোন ওষুধ খাবেন না। তাড়াতাড়ি
ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিবেন। আর শিশুদের হাম যেন না হয়। তাই আগেই
হামের টিকা দিয়ে নিবেন। আর বড়রা প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টিকা
দিবেন।
বড়দের হাম হওয়ার লক্ষণ যেভাবে বুঝবেন
আমরা অনেকেই জানি যে হাম শুধু ছোট বাচ্চাদের হয়। কিন্তু বড়রাও যে হাম রোগে
আক্রান্ত হতে পারে এই বিষয়ে আমরা জানতাম না। বড়দের হাম হতে পারে
ছোটবেলায় হামের টিকানা না দেওয়ার জন্য। বড়দের হাম শুরু হয় প্রথমেই
জ্বর দিয়ে। হঠাৎ করে শরীরে অনেক জ্বর চলে আসে। আর এ জ্বর বেশ কয়েকদিন
থাকে।
প্রথমে এই সমস্যাগুলো দেখে জ্বর ও সর্দি মনে হলেও, আস্তে আস্তে অন্য সব লক্ষণ
গুলো দেখা দিতে শুরু করে। যেমন গলা খুসখুস করে, পানি খেতে বা কোন খাবার খেতে
গলা ব্যথা করে, শুকনো কাশি হতে পারে, নাক দিয়ে পানি পড়ে, বারবার হাঁচি পরে,
চোখের ভিতর লাল হয়ে যায় এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে। তারপর শরীরে গোল গোল লাল
দাগ হয়।
বিশেষ করে পিঠে, বুকে ও হাতে, অনেকের আবার পায়ে এবং পুরো শরীরেও এই লাল দাগ
দেখা দেয়। বড়দের হাম হওয়ার আরো কিছু লক্ষণ আছে। যেমন হুট করে শরীর অনেক
দুর্বল এবং শরীরের শক্তি কমে যেতে পারে। যার কারণে সারাদিন কাজ না করেও
শরীর অনেক ক্লান্ত লাগে। আবার কাজ করার ইচ্ছাও হয় না, খাবার খাওয়ার উপর রুচিও
কমে যায়।
অনেক সময় মুখের গালের সাইডে সাদা ঘা এর মত গোল দাগ হতে পারে। এটা অনেক ব্যথা
করে এবং কোন কিছু খেলে মুখ জলে। যদি হাম সত্যি হয় তাহলে শরীরের জ্বর আসলে
চোখ লাল হয়ে যাবে, কাশি হবে এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিবে। যা আস্তে আস্তে
পুরো শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে। এই লক্ষণগুলো যদি আপনারা আপনাদের শরীরে
দেখতে পান।
তাহলে বুঝবেন বড়দের হাম হয়েছে। আর এই হাম হওয়ার কারণে যদি আপনাদের
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকে ব্যথা করে, পানি খেতে সমস্যা হয়, শরীর যদি বেশি
দুর্বল হয় এবং জ্বর যদি অনেক সময় ধরে থাকে। তাহলে দেরি করবেন না খুব
তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করবেন।
শিশুদের হাম হওয়ার লক্ষণ যেভাবে বুঝবেন
শিশুদের হাম হলে সহজে বুঝতে পারা যায় না। কারণ ছোট শিশুদের মাঝে মধ্যেই
জ্বর, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি লেগেই থাকে। তাই অনেক সময় এই সব লক্ষণগুলোকে অনেক
মা বাবা ছোটখাটো বিষয় বলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু এই ছোটখাটো বিষয়গুলোই হামের
প্রথম লক্ষণ হয়। শিশুদের হাম হলে সর্দি কাশি এবং জ্বরের মতো সমস্যা প্রথমে দেখা
দেয়।
এগুলো যদি মা বাবা আগে থেকেই বুঝতে পারে। তাহলে হামে আক্রান্ত শিশুর ভালোভাবে
যত্ন নিতে পারা যায়। আর এইভাবে আগে থেকে যত্ন নিলে শিশুদের বড় ধরনের ক্ষতি
হওয়ার ঝুঁকিও কমবে। তাই যেসব লক্ষণ দেখে শিশুদের হাম হয়েছে বুঝা যাবে।
এই লক্ষণ গুলো মা বাবাদের আগে থেকে জানতে হবে। নিচে এই লক্ষণগুলো কেমন হবে তা
বলা হলো। যদি ছোট বাচ্চাদের হঠাৎ করে জ্বর আসে,
আর এই জ্বর যদি কয়েক দিনের মধ্যেও না কমে। তাহলে বুঝবেন এটা হাম হওয়ার
একটি লক্ষ্য। তাছাড়া হাম হলে ছোট বাচ্চাদের সর্দি, কাশি, নাক দিয়ে পানি এবং
বারবার হাঁচি পড়বে। ছোট বাচ্চাদের জ্বরের পাশাপাশি শুকনো কাশিও হতে
পারে। বাচ্চাদের চোখ যদি লাল হয়ে যায় এবং চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরে। আলোর
দিকে তাকাতে না পারে, শরীরের লাল দাগ যদি বার হয়।
আবার এইসব চলাকালীন সময়ে যদি খাবারের ওপর রুচি কমতে থাকে। অনেক বেশি বিরক্ত
করে এবং কান্নাকাটি করে। শরীর যদি আগের থেকে দুর্বল ক্লান্ত হয়ে থাকে, মুখের
ভেতরে যদি সাদা দাগ হয়। তাহলে বুঝবেন শিশুদের হাম রোগের লক্ষণ এগুলো। এরকম
লক্ষণ দেখা দিলে আপনারা শিশুর পিঠ ও বুক ভালোভাবে লক্ষ্য করবেন। লাল ফুসকুড়ির
মত দাগ হয়েছে কিনা। অনেক শিশুর পুরো শরীরেও এই দাগ হতে পারে।
যদি এরকম সমস্যা হয়, তবে সাবধান হতে হবে। শিশুর যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে। আর
তরল খাবার বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। কিন্তু শিশুদের যদি এই লক্ষণ দেখার পরে
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, যদি একেবারেই খাওয়া বন্ধ করে দেয়। তারপর শরীর যদি
অনেক দুর্বল হয়ে যায় বা খিচুনির মত সমস্যা হয়। আর বার বার বমি যদি করে।
তাহলে দেরি করবেন না তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করে দিবেন।
হাম কি কারনে এত বিপদজনক
হাম আমরা ছোট ভাবে দেখলেও, এই হাম কিন্তু খুব একটা ছোট বিষয় নয়। হামকে
ছোট ভাবে কখনো দেখা উচিত না হোক এটা বড়দের বা ছোটদের। যদি হাম হয়, তবে
তাড়াতাড়ি আমাদেরকে আমাদের পাশে থাকা হাসপাতাল অথবা একজন বিশেষজ্ঞ
ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে তাদের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিতে
হবে। কারণ হাম রোগকে অবহেলা করলে,
এখান থেকে আমাদের শরীরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি ছোট শিশুদের মৃত্যু
পর্যন্ত হতে পারে। তাই এ বিষয়টাকে অনেক সতর্কের সাথে দেখতে হবে। হাম অনেক
বিপদজনক কারণ হাম একজনের শরীর থেকে আর একজনের শরীরে খুব তাড়াতাড়ি ছড়াতে
পারে। তারপর হাম হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমে যায়, চোখ,
গলা ও শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি করে, জ্বর অনেকদিন থেকে থাকে এবং শরীরে
অপুষ্টি ও পানি শূন্যতা তৈরি হয়। আর যদি ছোট শিশু বা বড়দের আগে থেকে হামের
টিকা দেওয়া না থাকে। তবে এই অসুখ আরো বেশি হতে পারে। তাই হাম যদি শরীরে দেখা
দেয়, তাহলে আপনারা সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া শুরু করবেন এবং নিয়মিত ডাক্তারের
কাছে চেকআপ করাবেন।
হাম হলে কোন খাবার খাওয়া ভালো
হাম হলে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায়। কারণ হামে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীর
খাবার ওপর রুচি কমে যায়, শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়, চোখে সমস্যা হয় ও
শরীর দুর্বল হয়ে শরীরের শক্তি কমে যায়। এজন্য এ সময় আমাদেরকে পেট ভরানোর
জন্য খাবার খেলেই হবে না। বরং আমাদেরকে এমন কিছু খাবার খেতে হবে, যে খাবারগুলো
খাওয়ার পর।
আমাদের শরীরের শক্তি আসবে এবং আমাদের শরীর আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে
উঠবে। যদি হাম হয়, তবে কি খাবার খাওয়া উচিত চলেন সেগুলো আলোচনা করি। হাম
হলে শরীরে অনেক জ্বর হয়। আর এ সময় শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই আপনারা এ
সময় বেশি করে পানি খাবেন এবং তরল খাবার বেশি বেশি খাবেন। শরীরে পানির
ঘাটতি পূরণ করার জন্য আপনারা লেবুর শরবত,
ফলের রস, ওরালস্যালাইন, পাতলা ডাল, ভাতের মাড় ও ফাইবার যুক্ত খাবার
খাবেন। এতে আপনাদের শরীরে পানির ঘাটতি কমবে এবং শরীরের দুর্বলতা কমবে।
তারপর হাম হলে খাবার খাওয়ার ওপর রুচি কমে যায়। তাই সহজে যে খাবারগুলো হজম হয়
এবং পুষ্টি পাওয়া যায় এসব খাবার খেতে হবে। এইসব খাবার হিসেবে আপনারা লাকটা
ভাত, খিচুড়ি, সুজি, কাঁচা শাকসবজি ও কলা খেতে পারেন।
এই খাবারগুলো খেলে তাড়াতাড়ি হজম হবে এবং পেটের কোন সমস্যা হবে না। অনেক
সময় এই খাবারগুলো শরীরের দুর্বলতা কমাতেও ভালো কাজ করে। তাছাড়া হাম হলে
শরীরের পুষ্টির অভাব হয় ও শরীর অনেক দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি শরীরের অনেক
সমস্যাও দেখা দেয়। এ সময় আপনাদের শরীরে শক্তি বাড়াতে, পুষ্টির ঘাটতি পূরণ
করতে এবং শরীরের বিভিন্ন সমস্যা ভালো করতে।
পুষ্টিকর ও ভিটামিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। এই পুষ্টিকর এবং ভিটামিন যুক্ত খাবার
হিসেবে আপনারা গাজর, মাছ, দুধ, মিষ্টি আলু, ডিমের কুসুম, পেঁপে,
পেয়ারা, খাসির মাংস, কাঁচা শাকসবজি, কুমড়ো, ডিম, বাদাম, খেজুর, মুরগির
মাংস, গরুর মাংস খেতে পারেন। হাম রোগে আক্রান্ত থাকলে, এইসব খাবার খেলে
শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে। সেই সাথে ভিটামিনের অভাব থাকলে তাও পূরণ হবে
এবং খুব তাড়াতাড়ি রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে।
হাম ভালো হওয়ার পর শক্তি বাড়াতে যা খাবেন
হাম রোগে আক্রান্ত হলে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায়। এমনকি শরীরে অনেক রকম
সমস্যাও দেখা দেয়। কিন্তু সঠিকভাবে যত্ন নিলে এবং চিকিৎসা নিলে এই অসুখ
কিছুদিন পর আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যায়। আর অসুখ ভালো হয়ে যাওয়ার পর
শরীর অনেক দুর্বল থাকে।
তাই শরীরের এই দুর্বলতা কমাতে আপনারা ডিম, মাছ, গরুর মাংস, খাসির মাংস, দুধ,
ডাল, মুরগির মাংস, ফলমূল সহ পালং শাক, গাজর কুমড়ো, খিচুড়ি, ভাত ও ডাল খাওয়ার
চেষ্টা করবেন। খাবার খাওয়ার আগে নিশ্চিত হবেন, সেই খাবারে যেন পরিপূর্ণ পুষ্টি
এবং ভিটামিন থাকে। প্রয়োজনে আপনারা ডাক্তারের কাছ থেকে ভিটামিনের সাপ্লিমেন্ট
খেতে পারে।
তাছাড়া হাম রোগ ভালো হওয়ার পর, আপনারা প্রতিদিন বেশি বেশি পানি খাবেন।
সময় মতো ঘুমাবেন, বাইরে ঘুরাঘুরি কম করবেন। আর শিশুদেরকে জোর করে খাওয়াবেন
না। উপরে হাম হলে যেসব খাবার খেতে হবে এবং হাম ভালো হওয়ার পর যেসব খাবার খেতে
হবে। এই খাবারগুলো শিশু ও বড় উভয়ের জন্যই।
হাম হলে কোন খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো
শরীর হামে আক্রান্ত হলে আমাদেরকে খাবারের ওপর গুরুত্ব ভালোভাবে দিতে
হবে। কারণ এ সময় সঠিক খাবার আমাদের শরীরের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ সময় ভুল খাবার বা যেগুলো খাবার খাওয়া এড়িয়ে
চলতে হবে, এই খাবারগুলো যদি খাওয়া হয়। তবে শারীরিক সমস্যা ও অসুখ আরো বেড়ে
যেতে পারে। বড়দের বা শিশুদের যদি হাম রোগ হয়।
আরো পড়ুনঃ কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি?
তবে তাদের কখনো ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া উচিত হবে না। কারণ তেলে ভাজাপোড়া
খাবারে পুষ্টি কম থাকে এবং এগুলো হজমেও সমস্যা করে। যার কারণে হামে আক্রান্ত
হওয়া শরীর পুষ্টির অভাবে আরো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই যেসব খাবার তেলে ভাজা
হয় এবং ঝাল ও মসলা বেশি ব্যবহার করা হয়। এসব খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে।
তাছাড়া চিপস, বার্গার, ইনস্ট্যান্ট নুডুলস,
বরফের পানি বা ঠান্ডা পানি এবং আইসক্রিম খাওয়া বন্ধ করতে হবে। তারপর অতিরিক্ত
মিষ্টি খাবার এবং সফট ড্রিঙ্কস খাওয়া যাবে না। তাছাড়া হাম হাওয়া রোগীদেরকে
খাবার খাওয়ানোর সময় খেয়ালে রাখবেন। যেন তাদেরকে খুব ভারী খাবার খেতে না
দেওয়া হয়। এ সময় অল্প অল্প করে খাবার খেতে হবে। যে খাবারগুলো সহজে হজম হবে
এবং যে খাবারগুলো বাড়িতে তৈরি করা হবে, এইসব খাবার খেতে হবে।
হাম হলে কত দিনে ভালো হয়
বড় ও শিশুরা হাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর যদি সঠিক যত্ন পায় এবং সঠিক নিয়মে
ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে পারে। তবে বেশিরভাগ সময় এক সপ্তাহের মধ্যে হাম রোগ
ভালো হতে লাগে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ রোগ ভালো হতে এক সপ্তাহ থেকে দুই
সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু এটা বেশি নির্ভর করে হামে আক্রান্ত হওয়ার সময় রোগীর
যত্ন কিভাবে নেওয়া হয়েছে,
তারা কি খাবার খেয়েছে এবং চিকিৎসা কিভাবে নিয়েছে তার ওপর। হাম রোগ ভালো
হওয়ার পরেও শরীর অনেকদিন দুর্বল হয়ে থাকে। আর এই দুর্বলতা কাটাতে বেশ কিছুদিন
সময় লাগতে পারে। তবে পুষ্টিকর ও ভিটামিনযুক্ত খাবার খেলে এই দুর্বলতা খুব
তাড়াতাড়ি দূর হয়ে যাবে। আর হাম রোগ যদি এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ভালো না
হয়। তাহলে একজন ভালো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
হাম হলে কখন ডাক্তার দেখানো জরুরী
হামের টিকা যদি আগে থেকে নেওয়া থাকে। আর হাম যদি বড় ও শিশুদের হয়। তবে
সঠিক যত্ন নিলে এবং পুষ্টিকর ও ভিটামিনযুক্ত খাবার খেলে খুব তাড়াতাড়ি এই অসুখ
ভালো হয়ে যায়। কিন্তু আগে থেকে যদি হামের টিকা দেওয়া না থাকে। আর হাম
হওয়ার পর যদি সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া না হয়। বা সঠিকভাবে যত্ন নেওয়ার
পরেও যদি শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে।
যেমন শরীর দুর্বল হলে, শরীরে পানির ঘাটতি হলে, চোখের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, টানা
অনেকদিন জ্বর থাকলে, খাওয়ার উপর রুচি হারিয়ে গেলে, খিচুনি হলে,
ডায়রিয়া ও বারবার বমি হলে খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখাতে হবে। অনেক সময়
হামে আক্রান্ত হওয়া শিশু ও বড় রোগীরাও অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ হয়ে যেতে
পারে। এ সমস্যা দেখা দিলেও দেরি করবেন না চিকিৎসা নিতে।
বড়দের ও শিশুদের জন্য বিশেষ সর্তকতা
হামে আক্রান্ত রোগীদেরকে শুধু খাবারের দিকে এবং চিকিৎসার দিকে তাকালেই হবে না।
এ সময় তাদেরকে বেশ কিছু সতর্কতাও অবলম্বন করতে হবে। তাহলে হাম রোগ থেকে
তাড়াতাড়ি ভালো হবে। আর এইসব সর্তকতা যদি না মানা হয়। তবে এই অসুখ আরও বেশি
হতে পারে এবং এখান থেকেই আবার শরীরের অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই
এই অসুখকে কখনোই অবহেলা করা উচিত হবে না।
শিশুদের যেসব বিষয় সতর্ক থাকতে হবে
ছোট বাচ্চা বা শিশুরা যদি হাম রোগে আক্রান্ত হয়। তবে তাদেরকে সব সময় চোখের
সামনে রাখবেন। নিয়মিত তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নজরে রাখবেন। তাদের
শরীরের জ্বর, তাদের খাওয়া দাওয়া এবং তাদের আচরণে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা, এসব
বিষয়গুলো লক্ষ্য করবেন। যদি দেখেন তাদের সমস্যা বাড়ছে,
তবে তাদেরকে তরল খাবার এবং পানি একটু পর পর খাওয়াতে থাকবেন। আক্রান্ত শিশুকে
কিছুদিন বাইরে বার হতে দিবেন না এবং অন্য শিশুদের সাথে মিশতে দেবেন
না। চোখ দিয়ে পানি পড়লে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে দিবে। এই
অবস্থায় আপনারা নিজে থেকেই কোন ওষুধ বাচ্চাদেরকে খাওয়াবেন না। হাম হলে কোন
ওষুধ খাওয়ানোর আগে,
আপনারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানবেন, তারপর ওষুধ খাওয়াবেন। আর হামের
লক্ষণ যদি বেশি হয় এবং আপনার বাচ্চার যদি নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় অনেক
বেশি ঘুম পারে খাওয়া-দাওয়া করা ছেড়ে দেয় শরীরে খিচুনি হয়
এবং জ্বরে যদি শরীর গরম হয়ে যায় তবে আপনারা তাড়াতাড়ি আপনাদের কাছে
থাকা হাসপাতালে অথবা একজন ভালো ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া শুরু
করবেন।
বড়দের যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
বড় মানুষরা যদি হাম রোগে আক্রান্ত হয়। তবে কিছুদিন বাইরে পরিশ্রম করা বাদ
দিতে হবে এবং বাড়িতে বিশ্রাম নিতে হবে। হাম ভাইরাসজনিত অসুখ, তাই এ রোগে
আক্রান্ত হলে বাইরে চলাফেরা কম করবেন। এ সময় শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায় এবং
শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়।
তাই আপনারা যেসব খাবার সহজে হজম হয় এবং পুষ্টি ও ভিটামিন ভালো পাওয়া যায়।
সেসব খাবারগুলো বেশি বেশি খাবেন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দিনে অনেক
পানি খাওয়ার চেষ্টা করবেন। যদি আপনাদের কোন খারাপ অভ্যাস থাকে। যেমন
ধূমপান করা, তাহলে এই অভ্যাস বন্ধ করবেন।
যদি হামে আক্রান্ত হওয়া রোগী গর্ভবতী হয়। তাদেরকে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে এবং
তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বড়দের কেউ এ রোগে আক্রান্ত হলে কোন
কিছু খাবার আগে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করবেন। খোলামেলা পরিবেশ এবং পরিষ্কার
রুমে বিশ্রাম নিবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাবেন।
হাম রোগ প্রতিরোধ করার উপায়
হাম রোগ হওয়ার আগেই আপনারা হামের টিকা দিয়ে নেবেন। এতে হাম রোগ প্রতিরোধ
করা যাবে। তাছাড়া হাম রোগ একটি ভাইরাস জনিত অসুখ। তাই এই অসুখ সংস্পর্শের
কারণে একজনের কাছ থেকে আরেক জনের কাছে যায়। তাই কেউ হাম রোগে আক্রান্ত হলে
তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঘরে রাখবেন এবং কিছুদিন তার কাছ থেকে দূরে
থাকবেন।
এতে কিছুটা হলেও হাম রোগ প্রতিরোধ করা যাবে। তাছাড়া হাম রোগ প্রতিরোধ করতে
আপনারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন এবং নিয়মিত হাত ধুবেন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাবেন। ঘর সবসময় পরিষ্কার
রাখবেন, ঠিকমতো ঘুমাবেন ও পানি বেশি খাবেন। আর হামে হওয়া লক্ষন বাড়লে দ্রুত
ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন।
হাম প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব কতটুকু
হাম রোগে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি বা শিশুর রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়াতে
এবং এই হাম প্রতিরোধ করতে টিকার গুরুত্ব কতটুকু তা বলে শেষ করা যাবে
না। হামের টিকা শরীরকে হাম ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ভবিষ্যতে
হাম ভাইরাস যদিও শরীরের মধ্যে প্রবেশ। আর এ টিকা যদি দেওয়া থাকে,
তবে শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি খুব একটা হবে না। তাই হাম প্রতিরোধে টিকার
গুরুত্ব অনেক মানে অনেক বেশি।
এই হামের টিকা দেওয়া থাকলে হাম হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। রোগের জটিলতা কমে এবং
পরবর্তীতে ডাক্তারের চিকিৎসা নিলে সহজেই সুস্থ হওয়া যায়। কিন্তু এ
সময় শুধু হামের টিকার উপর নির্ভর করলে হবে না। টিকার পাশাপাশি বড় ও শিশুদের
হাম হলে কি করনীয় এ বিষয়েও আমাদেরকে জানতে হবে। তাহলে হাম প্রতিরোধ করা সহজ
হবে এবং রোগী খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে।
হাম সম্পর্কে মানুষের কিছু ভুল ধারণা
আগের মানুষের হাম নিয়ে অনেক ভুল ধারণা ছিল। এখনো অনেক মানুষের মধ্যে হাম নিয়ে
এই ভুল ধারণাগুলো থেকে গেছে। আর এই ভুল ধারণা গুলো মানুষের মধ্যে থাকার
জন্য। অনেক সময় হাম রোগে আক্রান্ত মানুষের সঠিক চিকিৎসা নেওয়া যায় না। এর
কারণে শিশু ও বড়দের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
যেমন ধরেন আগের মানুষ মনে করত হাম রোগ শুধুমাত্র ছোট বাচ্চাদের হয়। তারপর হাম
হলে শুধু বাড়িতে যত্ন নিলেই ঠিক হয়ে যাবে, ডাক্তার দেখাতে হবে না। হাম হলে
গোসল করা যাবেনা, খাবার খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। টিকার দেওয়ার দরকার নেই, শরীরে
ফোড়া বার হলেই হাম রোগ ভালো হয়ে যাই। হাম রোগে এন্ড্রোবেটিক খেলে ভালো হয়ে
যায় ইত্যাদি।
এইসব ভুল ধারণা গুলো এখনো অনেক মানুষ আছে। এর কারণেই বর্তমান সময়ে আমাদের
দেশে হাম রোগের প্রভাব অনেক বেড়ে গেছে। কারণ অনেকেই হাম হলে এটাকে
ছোট অসুখ বলে কোন গুরুত্ব দেয় না। অথচ হাম হলে আমাদেরকে অনেক সতর্কতা অবলম্বন
করা উচিত। এ সময় ডাক্তারের কাছে গিয়ে তার পরামর্শ মত চিকিৎসা নিতে
হবে। এই রোগ শুধু ছোট শিশুর হয় না বরং বড়দেরও হয়।
হাম রোগ হলে নিয়মিত গোসল করতে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে
হবে। সহজে যেন হজম হয় এরকম পুষ্টিকর ও ভিটামিনযুক্ত খাবার বেশি খেতে
হবে। হালকা সুস্থ হলেই হামের টিকা দিয়ে নিতে হবে। তবে হাম প্রতিরোধে
আগে টিকা নেওয়ায় ভালো। অনেকের ভুল ধারণা থাকে যে এন্টিবায়োটিক ওষুধ খেলেই
হাম রোগ ভালো হবে। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে
হবে।
হাম হলে যেসব ভুল করা যাবে না
হাম রোগে আক্রান্ত হবার পরেও অনেকে আছে, যারা হাম রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে
জানেনা এবং এই রোগকে অবহেলা করে। আর এ সময় অনেকে অনেক রকম ভুল পদক্ষেপ নেয়।
যেগুলো হাম রোগে আক্রান্ত হওয়া অবস্থায় একজন রোগীর জন্য মোটেও ভালো
না। যদি কোন শিশু বা বড় মানুষ হাম রোগে আক্রান্ত হয়।
তবে তাদেরকে কখনোই অন্যের পরামর্শে বা নিজে নিজেই ওষুধ খাওয়া যাবে না। সব সময়
ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ সময় ভারী খাবার খাওয়া যাবে
না। যে খাবার সহজে হজম হয় এবং পুষ্টিকর ও ভিটামিনযুক্ত খাবার। এই খাবারগুলো
বেশি বেশি খেতে হবে। তারপর পানি কম খাওয়া যাবেনা, কারণ এ সময় শরীরে পানি
শূন্যতা হতে পারে। তাই দিনে অনেক বেশি করে পানি খেতে হবে।
আম রোগে আক্রান্ত হলে বাইরে যাওয়া যাবে না, ঘরে বিশ্রাম নিতে হবে। ঘরের
পরিবেশ হতে হবে পরিষ্কার এবং আলো বাতাস যেন থাকে। এ সময় অতিরিক্ত তেলে ভাজা বা
ফাস্টফুড খাবার খাওয়া যাবে না। চোখে সমস্যা হলে কখনো অবহেলা করবেন না,
পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চোখ মুছবেন। দরকার পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। যদি হাম
রোগের লক্ষণ শরীরে বেশি দেখা দেয়,
বিশেষ করে যদি নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, জ্বর অনেক বেশি আসে, খাওয়া বন্ধ হয়ে
যায়, শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায় এবং খিচুনি হয়। তবে বাড়িতে বসে না
থেকে খুব তাড়াতাড়ি হাসপাতালে অথবা ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। আর সব সময়
চেষ্টা করবেন হাম হবার আগেই টিকা নেওয়ার। যদি হাম রোগ হয়ে যায়, তাহলে
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে হাম রোগের টিকা নিয়ে নিতে হবে।
FAQ/বড় ও শিশুদের হাম নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্নঃ শিশুদের হামের চিকিৎসা কী?
উত্তরঃ শিশুদের হাম প্রতিরোধে সব থেকে বড় ভূমিকা রাখে হামের টিকা।
তাছাড়া এ সময় হামের লক্ষণ দেখে সেই লক্ষণ মোতাবেক সেবা নিতে হয়। এটাই
মূলত শিশুদের হামের মূল চিকিৎসা। ছোট শিশুদের হাম হলে আপনারা ডাক্তারের
চিকিৎসা নিবেন। আর বাড়িতে তরল ও পুষ্টিকর খাবার এবং ভিটামিনযুক্ত খাবার
খাওয়াবেন। বাচ্চাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। বাইরে যেতে দিবেন না। হাম
রোগের আসল চিকিৎসা হচ্ছে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং বাড়িতে শিশুর সঠিকভাবে
যত্ন নেওয়া।
প্রশ্নঃ হাম হলে কি কি খাওয়া যায় না?
উত্তরঃ শিশু বা বড়দের যদি হাম হয়। তবে এ সময় বেশি ঝাল খাবার খাওয়া
যাবে না। ঝাল খাবারের পাশাপাশি তেলে ভাজা খাবার এবং যেসব খাবার
সহজে হজম হয় না, পেটে গ্যাস হয়, পেটের ওপর চাপ বাড়ে এইসব খাবার খাওয়া যাবে
না। তাছাড়া এ সময় সফট ড্রিংকস, শক্ত খাবার, চিপস, চানাচুর, আচার খাওয়া
যাবে না। এ সময় যেসব খাবার সহজে হজম হবে পুষ্টি ও ভিটামিন ভালো পাওয়া
যাবে। সেসব খাবার খেতে হবে।
প্রশ্নঃ হাম হলে কি ডিম খাওয়া যাবে?
উত্তরঃ হাম হলে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায়। এজন্য এ সময়ে পুষ্টিকর খাবার
এবং ভিটামিনযুক্ত খাবার খাওয়া অনেক জরুরী। তাই ছোট বাচ্চা বা বড়দের যদি হাম
রোগ হয়। তবে এ সময় ডিম বা ডিমের কুসুম খাওয়া ভালো। এতে শরীর তার প্রয়োজনীয়
পুষ্টি পাবে, যা শরীরকে দুর্বল হতে দিবে না।
প্রশ্নঃ বাচ্চাদের হাম কি ছোঁয়াচে?
উত্তরঃ হাম হচ্ছে ভাইরাসজনিত একটা অসুখ। তাই বাচ্চাদের হাম হলে, তাদেরকে
অন্য বাচ্চাদের থেকে দূরে রাখবেন। এ সময় বাচ্চাদের হাঁচি কাশি এবং সংস্পর্শের
কারণে বাতাসের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে এজন্য সতর্ক থাকতে হবে। তাই
বাচ্চাদের হামকে ছোঁয়াচে বলা হয়। বাচ্চাদের হাম হলে তাড়াতাড়ি ডাক্তারে
চিকিৎসা নিতে হবে।
আরো পড়ুনঃ ঘুম না আসার কারণ এবং এর সমাধান
প্রশ্নঃ হাম হলে কি চুলকায়?
উত্তরঃ হাম হলে সব মানুষের শরীর চুলকায় না। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে
চুলকানি হতে পারে। এ চুলকানি তখনই হয়, যখন শরীরে লাল ছোট ছোট ফোড়ার মতো
ফুসকুড়ি বার হয় এবং সেগুলো যখন আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। তবে এই
চুলকানি খুব বেশি হয় না। কিন্তু কারো কাছে এই চুলকানি বেশি কষ্টকর মনে হতে
পারে। এ সময় হাতের নখ দিয়ে শরীর চুলকাবে না। যদি চুলকানি বেশি
বেড়ে যায়। তবে ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিতে হবে।
শেষ কথাঃ বড় ও শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
হাম রোগ যদি হয়, তবে এই রোগকে কখনোই অবহেলা করা আমাদের উচিত হবে না। এই রোগে
যদি শিশু বা বড়রা আক্রান্ত হয়। তাদেরকে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া শুরু করে
দিতে হবে। এর পাশাপাশি বাড়িতেও তার সঠিক যত্ন নিতে হবে। অনেক সময় ডাক্তারের
চিকিৎসা এবং বাড়িতে সঠিক যত্ন নেওয়ার কারণে। খুব সহজে এবং খুব তাড়াতাড়ি
আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। তাই সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। যেন এ সময় কোন
ভুল পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।
এজন্য আমাদের সবাইকে বড় ও শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এ বিষয়ে জানতে হবে। হাম
রোগ থেকে বাঁচার সবথেকে কার্যকর উপায় হচ্ছে অগ্রিম হামের টিকা দিয়ে নেওয়া।
যদি হামের টিকা দেওয়া না থাকে, আর হাম যদি হয়ে যায়। তাহলে ডাক্তারের কাছে
যেনে হামের টিকা দেওয়া যেতে পারে। শিশু ও বড়দের হাম হলে সব সময় সচেতন থাকতে
হবে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে একটু বেশি সাবধান থাকতে হবে। এ
সময় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে কোন ওষুধ ব্যবহার করবেন না।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url