কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি?

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়বেন। আজকের এই আলোচনা থেকে আপনি যেসব কারণে কোমরের দুই পাশে ব্যথা হতে পারে এবং কোমরের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় জানতে পারবেন।
কোমরের-দুই-পাশে-ব্যথার-কারণ-কি
কিভাবে কোমরের ব্যথা প্রতিরোধ করবেন, কখন কোমরের ব্যথা হলে ডাক্তারের কাছে যাবেন। এই সকল বিষয় নিয়ে আজকে আলোচনা করা হবে। কোমরের ব্যথা যাদের আছে, তাদের জন্য এই আর্টিকেলটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেরি না করে চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

পেজ সূচিপত্রঃ কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি? এগুলো নিয়ে এখন আলোচনা করবো। কোমরের দুই পাশে ব্যথা এটা অনেকগুলো কারণের জন্য হতে পারে। কোমরের এই ব্যথা এখন কম বেশি অনেক মানুষেরই হচ্ছে। এই ব্যথা বেশিরভাগ জীবন যাপনে অনিয়ম ভাবে চলাচল করার কারণে হয়ে থাকে। ভুল ভাবে বসলে বেশিতে, চাপ পড়লে, কিডনির সমস্যা থাকলে, হাড়ের বা মেরুদন্ডের সমস্যা থাকলে। কোমরের এই ব্যথা দেখা দিতে পারে।
১/কোমরের দুই পাশে ব্যথার অন্যতম কারণ হচ্ছে পেশিতে টান ধরা। হঠাৎ করে অনেক ভারী কাজ করলে বা অনেকক্ষণ যদি ভুল ভাবে বসে থাকেন। যেমন ধরেন কম্পিউটারের সামনে বা অন্য বিভিন্ন ধরনের কাজে অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকলে। আবার হঠাৎ করে নিচু হয়ে কাজ করলে পেশিতে চাপ পড়তে পারে। আর এ রকম অবস্থায় তখন কোমরে ব্যথা হয়। বেশিরভাগ কোমরের ব্যথা অনেকক্ষণ এক রকমভাবে বসে থাকার কারণে হয়।

২/কিডনির সমস্যার কারনেও কিন্তু কোমরের ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে যদি কিডনিতে পাথর হয় তাহলে কোমরের দুই পাশে ব্যথা হতে পারে। অথবা কিডনির সংক্রমণজনিত কারণেও কিন্তু কোমরের ব্যথা উঠতে পারে। যদি কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণ থাকে, তাহলে কোমরের ব্যথার পাশাপাশি। যখন প্রসব করবেন, তখন প্রসাবে জ্বালা হতে পারে। শরীরে জ্বর আসতে পারে এবং বমি ভাব দেখা দিতে পারে।

৩/জয়েন্টের বা মেরুদণ্ডের যদি সমস্যা হয়, তবে কোমরের ব্যথা হতে পারে। এই সমস্যাগুলো বেশিরভাগ বয়স বাড়লে দেখা যায়। বয়স বাড়লে হাড়ের ক্ষয় হয় এবং জয়েন্টে ব্যথা থেকে কোমরের দুই পাশে ব্যথা হয়। এছাড়াও কোমরের ব্যথা শরীরে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এইসব খনিজ ও ভিটামিনের অভাব থাকলে হাড় ও বেশি দুর্বল হয়ে যায়। তখন কোমরের ব্যথা উঠতে পারে।

৪/পেটের যদি কোনো ধরনের সমস্যা থাকে। সেই সমস্যার কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়। যদি হজমের সমস্যা থাকে তাহলে কোমরে ব্যাথা হতে পারে। কারণ হজমের সমস্যা থাকলে পেটে গ্যাস হয়। আর এই গ্যাস হওয়ার কারণে পেটে চাপ পড়ে এবং ব্যথা শুরু হয়। আর এই ব্যথা থেকেই তখন কোমরে ব্যথা ছড়াতে পারে।

যদি আপনার কোমরের দুই পাশে ব্যথা করে। আর উপরের এই কারণগুলো থেকে যদি এই ব্যথা হয়, তবে আপনি সতর্ক থাকবেন। যদি দেখেন আপনার কোমরের ব্যথা ভুলভাবে বসলে, ভারী জিনিস তুললে হয়। তাহলে কাজ করার সময় বা বসার সময় সতর্ক থাকবেন। আর যদি পেটে গ্যাসজনিত কারণে। অথবা মেরুদন্ডে, কিডনিতে যদি কোন সমস্যা থাকে। আপনি দেরি করবেন না তাড়াতাড়ি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন।

কোমরের দুই পাশে ব্যথার লক্ষণ

কোন লক্ষণ গুলো দেখলে বুঝবেন যে কোমরের ব্যথা? চলুন সেই লক্ষণগুলো জেনে নিন। আপনার যদি কোমরের দুই পাশে আস্তে আস্তে ব্যথা শুরু হয় এবং এই ব্যথা যদি বাড়ে, তাহলে বুঝতে হবে যে এটা আসলে কোমরের ব্যথা। এছাড়াও হঠাৎ করে বেশি হাঁটলে। অনেকক্ষণ ধরে একই পজিশনে বসে থাকলে বা শরীরের কোন পরিশ্রম না করে হুট করে পরিশ্রম করলে পেশিতে টান পড়ে।

আর এর জন্য কোমরের আশেপাশে ব্যথার লক্ষন দেখা দিতে পারে। এক কথায় যদি শরীরের পেশিতে টান ধরে এবং পেশি শক্ত হয়ে যায়। নড়াচড়া করলে কোমরে ব্যথা বেশি হয়, পিঠে ব্যথা ছড়ায় এবং প্রসাব করার সময় এই ব্যথা বাড়ে, জ্বালাপোড়া করে, রক্ত দেখা দেয় এগুলোই কোমরে ব্যথার লক্ষণ।

কোমরের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

আপনার যদি কোমরে ব্যথা হয়, তাহলে আপনি কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চলতে পারেন। অনেক সময় কোমরের ব্যথা কাজকামের চাপে ভুল ভাবে শুইলে বা বসলে শরীরের পেশিতে টান ধরতে পারে। যার কারণে কোমরের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও অনিয়মিত জীবনযাপন করলে অনেক সময় এই ব্যথা দেখা দেয়। 

কোন জটিল কারণে যদি আপনার কোমর ব্যথা না হয়। আপনি বাড়িতে বসে থেকেই কিছু ঘরোয়া উপায়ে ব্যবস্থা নিলেই আপনার কোমরের ব্যথা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। আপনার যদি কোমরে ব্যথা হয়, তবে আপনি গরম পানির ব্যাগ দিয়ে কোমরের ব্যথা করা জায়গায় সেক দিবেন। এতে বাথা করা জায়গায় আরাম পাবেন এবং ব্যথা হালকা হবে।

এছাড়াও কোমরে ব্যথা হলে, আপনি ভালোভাবে বিশ্রাম নিবেন। হালকা ব্যায়াম করতে পারেন, এতে ব্যথা কিছুটা কমতে পারে। অনেকক্ষণ বসে থাকার কারণে যদি কোমরে ব্যথা বাড়ে, তাহলে একটু দাঁড়াবেন অথবা হাটাহাটি করবেন। এগুলো করার পরও যদি ব্যথা আপনার থাকে, তাহলে আপনি সরিষার তেলে অল্প একটু আদা এবং রসুন বাটা দিবেন। তারপর গরম করে হালকা ঠান্ডা হবে, 

তখন কোমরে দিয়ে মালিশ করবেন। এতে করে কোমরে রক্ত চলাচল বাড়বে এবং ব্যথা কমতে সাহায্য করবে। অনেক সময় নরম বিছানে ঘুমালে কোমরের ব্যথা হতে পারে। তাই কোমরের ব্যথা হলে শক্ত ও সলিড বিছানায় ঘুমাতে হবে। এগুলো ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করার পরেও যদি আপনার ব্যথা না কমে। তবে দেরি না করে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যাবেন এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা নিবেন।

কি খেলে কোমর ব্যথা ভালো হয়?

আপনার যদি কোমর ব্যথা হয়, তাহলে আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকাতে কিছু পরিবর্তন আনলেই এই ব্যথা থেকে আপনি কিছুটা হলেও আরাম পেতে পারেন। আপনি যদি প্রতিদিনের খাবারে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন।

তাহলে এগুলো আপনার কোমর ব্যথা সমস্যা দূর করতে এবং ব্যাথা ভালো করতে সাহায্য করবে। নিয়মিত দুধ, দই ও ছোট মাছ খাওয়ার অভ্যাস করবেন। এইগুলোতে অনেক ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। যা হাড়কে শক্ত করে। তারপর ডিম, চর্বিযুক্ত মাছ, মাংস এগুলো খেতে পারেন। এগুলোতে ভিটামিন ডি ভালো থাকে।

এরপর প্রতিদিনের খাবারে সবুজ শাকসবজি গুলো বেশি বেশি খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে আপনি ম্যাগনেসিয়াম ভালো পাবেন। আর প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডাল, ডিম এগুলো নিয়মিত খাবেন, তাহলে শরীরের পেশি শক্ত এবং সুস্থ থাকবে। এছাড়াও নিয়মিত বিটরুট, গাজর,

আমলকি ও বিভিন্ন ধরনের ফল নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করবেন। উপরে যে খাবারগুলোর কথা আমি বললাম, এ খাবারগুলো যদি নিয়মিত খেতে পারেন। তাহলে আপনার শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে এবং কোমরের ব্যথা থেকে আপনি অনেকটাই আরাম পাবেন। আর এই বাথা হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকবে।

যে খাবারগুলোর কথা আমি বললাম, এ খাবারগুলো কিন্তু চিকিৎসা হিসেবে নেওয়া উচিত হবে না। যদি কোমরের ব্যথা অনেক জটিল হয়, তাহলে এই খাবার গুলোর উপর নির্ভর না করে। তাড়াতাড়ি ডাক্তারের চিকিৎসা নিবেন। আর এই খাবারগুলো আগে থেকে খাবেন। যেন ভবিষ্যতে আপনার কোমরের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

কোমরের একপাশে ব্যাথার কারণ কি হতে পারে?

বেশিরভাগ কোমরের একপাশে ব্যথা হয় এর কারণ হচ্ছে চলাফেরা ভুল ভাবে করলে। ভুল নিয়মে ঘুমালে বা বসলে অথবা শরীরের কিছু অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোমরের একপাশে ব্যথা হওয়ার কারণ হতে পারে। পেসিতে টান ধরা, অনেকক্ষণ বসে থাকা, মেরুদন্ডে হাড়ের সমস্যা হলে,

কিডনিতে পাথর বা কিডনির সমস্যা হলে। অথবা পিত্তথলিতে পাথর হলে কোমরের একপাশে ব্যথা হওয়ার কারণ হতে পারে। কোমরের ব্যথা হঠাৎ করে হলে বা অনেকদিন ধরে এই ব্যথা থাকলে দেরি করা উচিত হবে না। দেরি করলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই অল্প থাকতেই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া ভালো।

কিভাবে কোমরের ব্যথা প্রতিরোধ করবেন

কোমরে ব্যথা হলে এই ব্যথা আপনি খুব সহজেই প্রতিরোধ করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। আপনি যদি নিয়মগুলো মেনে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, তবে আপনার কোমরের ব্যথা অনেকটাই প্রতিরোধ করা যাবে। কোমরে ব্যথার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে সঠিকভাবে না বসা বা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা।
তাই বসার সময় চেয়ারে সোজা হয়ে বসবেন ও পা মাটিতে সোজা করে রাখবেন। আর অনেকক্ষণ ধরে বসে না থেকে একটু হাঁটাহাঁটি করবেন। তারপর প্রতিদিন নিয়মিত কোমরের কিছু ব্যায়াম করবেন। যেমন সকালবেলায় হাঁটা, হালকা স্ট্রেসিং করা অথবা কোমর ও পিঠের যেগুলো ব্যায়াম সেগুলো করা। এই ব্যায়ামগুলো আপনি ইউটিউবে পাবেন।

সার্চ করবেন কোমর ব্যথা কমানোর ব্যায়াম লিখে। এরপর কোমরে ব্যথা দেখা দিলে কখনোই ভারী জিনিস হুট করে তুলতে যাবেন না। আস্তে আস্তে ভারী জিনিস তোলার চেষ্টা করবেন। অনেক সময় ওজন বেশি থাকলেও কোমরের ব্যথা বাড়তে পারে। তাই ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবেন। কোমরের ব্যথা ভালো করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিছানা।

তাই আপনি যে বিছানায় ঘুমান সে বিছানা খুব নরম বা শক্ত যেন না হয় মাঝারি এবং সলিড যেন থাকে। আপনি যদি অফিসের কাজ করেন এবং অনেকক্ষণ টানা বসে থাকা লাগে। তাহলে অবশ্যই আপনি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর পর একটু উঠে হাটাহাটি করবেন। আর আপনার যদি ধূমপানের অভ্যাস থাকে, তবে এই অভ্যাস ছাড়ার চেষ্টা করবেন। কারণ ধূমপান করলে কোমরের ব্যথা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

কোমরের ডান পাশে ব্যথার ব্যায়াম

আপনার যদি কোমরে ডান পাশে ব্যথা থাকে এবং এই ব্যথা যদি এক বছরেরও বেশি থাকে তবে আপনি আমার দেখানো এই ব্যায়ামটা করলে ভালো উপকার পেতে পারেন। প্রথম ব্যায়াম উবুর হয়ে শুয়ে পড়বেন অর্থাৎ পেটপাড়া দিয়ে শুবেন। তারপর আপনার কোমরের উপর সরিষা বা নারিকেল তেল দিয়ে আস্তে আস্তে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মালিশ করবেন এইভাবে মালিশ করা হলে।

গরম পানিতে একটি তোয়ালে ভিজিয়ে তোয়ালের পানি ঝরিয়ে নিবেন। তারপর তোয়ালটা কোমরের উপর ২০ মিনিট রেখে দিবেন। ২০ মিনিট হয়ে গেলে, তখন তয়লাটা সরিয়ে নিবেন। দ্বিতীয় ব্যায়াম পেটপাড়া দিয়ে শোয়া অবস্থায় আপনি দুই হাত সোল্ডার বরাবর মেঝেতে বা বিছানায় রেখে শুধু বুক উপর দিকে উঠাবেন নাভি বিছানায় লেগে থাকবে।

এইভাবে পাঁচ থেকে ছয় সেকেন্ড থাকবেন। তৃতীয় ব্যায়াম যে ব্যায়াম করবেন তা হচ্ছে উলটা হয়ে সুয়ে থাকা অবস্থায় আপনার দুই হাত পেছনের দিকে দিয়ে নাভি বিছানায় লেগে থাকবে মাথা ও বুক উপরের দিকে উঠাবেন। চতুর্থ ব্যায়াম চিত হয়ে শুবেন ডান দিকের হাটু বুকের দিকে টেনে ধরবেন প্রায় ৫ থেকে ৭ সেকেন্ড। দরকার হলে কাওকে পা টা টেনে ধরতে বলবেন।

কোমরের ব্যথা হলে কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

অনেক সময় ভারী কাজ করলে বা শারীরিক বেশি পরিশ্রম করলে কোমরে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্রাম নিলে ভালো খাবার খাওয়া হলে এই ব্যথা কমে যায়। কিন্তু ব্যথা যদি অনেক বেশি হয় এবং এই ব্যথা যদি অনেক দিন ধরে থাকে, তাহলে এটাকে অবহেলা করা উচিত হবে না। এই সমস্যা হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। এছাড়াও কোমরের ব্যথা যদি পায়ে চলে যায়।
কোমরের-দুই-পাশে-ব্যথার-কারণ-কি
পা যদি ঝিমঝিম করে বা অবশ হয়ে যায়, তাহলে এটা মেরুদন্ড সমস্যা জনিত লক্ষণ হতে পারে। তাছাড়া কোমরের ব্যথা হওয়ার সাথে যদি প্রসাবে জালা করে শরীর দুর্বল হয়, শরীরে জর আসে ও বমি ভাব হয়, তবে আপনার দেরি করা উচিত হবে না। এই লক্ষন দেখা দিলেই আপনি তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যাবেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিবেন।

FAQ/কোমরের ব্যথা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ কিডনির ব্যথা কিভাবে বুঝবেন?
উত্তরঃ যদি আপনার কোমরের ভেতর সাইডে ব্যাথা করে। আর এই ব্যথা যদি আস্তে আস্তে বাড়ে বা অস্বস্তি লাগে, তাহলে এটা কিডনির ব্যথা হতে পারে। এছাড়াও যদি এই ব্যথা প্রসব করার সময় বেশি হয় বা জ্বালা করে প্রসবের রং যদি পাল্টে যায়, শরীরে জ্বর ও বমি ভাব যদি হয়। আর এই ব্যথা হলে প্রসাবে যদি রক্ত দেখা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে এই ব্যথা কিডনিজনিত ব্যথা।

প্রশ্নঃ কোমরে ব্যথা কেন হয়?
উত্তরঃ কোমরের ব্যথা অনেকগুলো কারণে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এক ধেয়ে বসে থাকা, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা। অথবা হঠাৎ করে ভারী কোন জিনিস তুলা। এছাড়াও কিডনির সমস্যা থাকলে, ওজন বেশি হলে ও মেরুদন্ডের সমস্যা থাকলে এবং শরীরে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এ সকল খনিজ উপাদানের ঘাটতি থাকলে কোমরে ব্যথা হতে পারে।

প্রশ্নঃ কিডনের সমস্যায় কি কোমর ব্যথা হয়?
উত্তরঃ যদি আপনার কিডনিতে ইনফেকশন হয়। অথবা পাথর থাকে, তাহলে এর ব্যথা আপনার কোমরের আশেপাশে হতে পারে। যদি কিডনির সমস্যা থাকে, তাহলে কোমরের ব্যথার পাশাপাশি শরীরে জ্বর আসতে পারে, প্রসাব করার সময় ব্যাথা হতে পারে এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার মত সমস্যা হতে পারে। এরকম লক্ষণ দেখা দিলে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের চিকিৎসা নিবেন।

প্রশ্নঃ কোমর ব্যথা হলে কোন ডাক্তার দেখাতে হবে?
উত্তরঃ কোমর ব্যথা অনেক রকম কারণে হয়। তাই আগে কি কারনে কোমর ব্যথা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তারপর সে অনুযায়ী ডাক্তার দেখাতে হবে। যদি কিডনির সমস্যায় কোমর ব্যথা হয়, তবে নেফ্রলজিস্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখাতে হবে। যদি মেরুদন্ডের সমস্যায় কোমর ব্যথা হয়, তবে অর্থোপেডিক সার্জন ডাক্তারকে দেখাতে হবে।
প্রশ্নঃ ঘুমের কারণে কি কোমর ব্যথা হতে পারে?
উত্তরঃ ঘুমের সময় যদি ভুল ভাবে শোয়া হয় এবং এভাবেই যদি অনেকক্ষণ ধরে ঘুমানো হয়। তবে কোমরের হাড়ের উপর চাপ পড়তে পারে। আর অনেকক্ষণ যদি এই কোমরের হাড়ের উপর চাপ পড়ে, তবে ঘুমের কারণে কোমর ব্যথা হওয়ার সমস্যা হতে পারে। তাই ঘুমানোর সময় সঠিকভাবে ঘুমাতে হবে এবং একভাবে অনেকক্ষণ শুয়ে থাকা যাবে না। মাঝেমধ্যে পজিশন পাল্টাতে হবে।

মন্তব্যঃ কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি

কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি, এই ব্যথা অনেক ধরনের হতে পারে। যা আমরা উপরে আলোচনা করে এসেছি। কোমরের ব্যথা খাওয়া দাওয়াতে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে, অনেকক্ষণ বসে থাকলে, অনেক দাঁড়িয়ে থাকলে, ভুল ভাবে ঘুমালে, হঠাৎ ভারি কোন জিনিস তুললে, ওজন বেশি হলে এই ব্যথা দেখা দিতে পারে। আর এইসব কারণে যদি কোমরে ব্যথা হয়,

তবে তা পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং বিশ্রাম নিলেই ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এই ব্যথা যদি তাও না কমে এবং এই ব্যথা যদি অনেক দিন ধরে থাকে। আবার এই ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি যদি উপরের লক্ষণগুলো আপনি দেখতে পান। সেক্ষেত্রে বাড়িতে বসে না থেকে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url