মাথার উকুন মারার উপায় সম্পর্কে জেনে নিন

আজকে মাথার উকুন মারার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে। যাদের মাথায় উকুন আছে, তারা কিভাবে তাদের এই মাথার উকুন দূর করবে তার সঠিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হবে।
মাথার-উকুন-মারার-উপায়
মাথায় উকুন কেন হয়, মাথায় উকুন হলে কি ক্ষতি হয়, মাথায় উকুন হলে যেসব ভুল করা যাবে না এবং কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এইগুলো জানতে চাইলে আজকের আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়বেন।

পেজ সূচিপত্রঃ মাথার উকুন মারার উপায়

মাথার উকুন মারার উপায়

এখন আমি আপনাদেরকে মাথার উকুন মারার উপায় গুলো বলবো। যে উপায় গুলো আপনি সঠিকভাবে মানলে আপনার মাথার উকুন সহজে দূর করতে পারবেন। আপনি যদি তাড়াতাড়ি আপনার মাথার উকুন তাড়াতে চান, তবে আপনি ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।
বাজারে উকুন মারার অনেকগুলো ওষুধ পাওয়া যায়। কিন্তু আমি আপনাকে উকুন মারার জন্য এখন যে ওষুধের নাম বলবো। এটা আপনি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন। এই ওষুধ আপনি বাজারে Alice ও Licnil নামে পেয়ে যাবেন।

Alice এর ব্যবহার বিধিঃ এই ওষুধ যাদের বয়স ৬ মাসের বেশি তারা ব্যবহার করতে পারবেন। প্রথমে এই ওষুধটা ভালোভাবে মাথার তালুতে লাগাবেন অবশ্যই চুল শুকনো থাকতে হবে। মাথার তালুতে লাগানোর পর চুলের গোড়া থেকে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে এই ওষুধ লাগাবেন। তারপর ১০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু বা সাবান ব্যবহার না করে চুল ধুয়ে ফেলবেন। শ্যাম্পু বা সাবান দিতে হলে ২৪ ঘন্টা পর দিবেন।

Alice ব্যবহারে সতর্কতাঃ যারা গর্ভবতী মহিলা এবং যারা ছোট বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছেন। তারা এই ওষুধ ব্যবহার করার আগে ডাক্তার পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন। আর এটি চুলে দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন চোখে যেন না যায়। চোখে গেলে চোখ জ্বলা পড়া করতে পারে। যদি চোখে লেগে যায়, তবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।

যেভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে উকুন দূর করবেন

উকুনের চিরুনি দিয়ে চুল আচড়ালে উকুন দূর হবে। তবে এটি করার একটি নিয়ম আছে। এই নিয়মে যদি চুল আঁচড়াতে পারেন, তবে আপনার মাথার উকুন এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে দূর হবে। প্রথমে আপনি আপনার চুল ভালোভাবে পানি দিয়ে অথবা তেল দিয়ে ভিজিয়ে নেবেন।

চুল ভেজানো হয়ে গেলে উকুনের চিরুনি দিয়ে ভালোভাবে চুল আঁচড়াবেন। এতে করে আপনার চুলে থাকা উকুনগুলো ঝরে পড়বে। এভাবে আপনাকে ১৪ দিনে ৪দিন চিরনি দিয়ে আঁচড়াতে হবে। প্রথম চুল আচড়ানোর ৩ দিনের দিন।

তারপর ৭ দিনের দিন তারপর ১০ দিনের দিন লাস্ট ১৩ দিনের দিন আবার আঁচড়াতে হবে। এভাবে মোট ১৪ দিনে ৪ দিন চুল আঁচড়াতে হবে। দিনে ৭ থেকে ৮ বার চুল আঁচড়াবেন। এতে করে বড় উকুন সহ ছোট উকুন ও উকুনের ডিম দূর হবে এবং নতুন করে উকুন হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

ভেষজ দিয়ে উকুন দূর করার উপায়

অনেকেই বলে ভেষজ যেমন রসুন, ভিনেগার, পিয়াজের রস, নারিকেল তেল, নিমপাতা, লেবুর রস ইত্যাদি চুলে ব্যবহার করলে উকুন মরে যায় বা দূর হয়ে যায়। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোন শক্ত প্রমান পাওয়া যায়নি।

বরং বৈজ্ঞানিকভাবে এগুলোকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা যায়। এইসব ভেষজ উপাদান গুলো মাথার উকুন দূর করতে কোন শক্ত প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে আপনি চাইলে এই ভেষজ উপাদান গুলো আপনার চুলে ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

১/রসুনের ব্যবহারঃ রসুনের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে এটাকে ভালোভাবে পেস্ট করে মাথার তালুতে এবং চুলের গোড়া থেকে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে লাগাবেন। এই উপাদান এক ঘন্টা বা তার বেশি লাগিয়ে রাখার পর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।

২/লেবুর রস ব্যবহারঃ মাথার উকুন দূর করতে লেবুর রস সরাসরি মাথার তালুতে এবং চুলের গোড়া থেকে পুরো চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে মালিশ করবেন। এই উপাদান আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা লাগিয়ে রাখার পর চুল ধুয়ে ফেলবেন।

৩/নারিকেল তেল ব্যবহারঃ নারিকেল তেল মাথায় দিয়ে ভালোভাবে মাসাজ করবেন এবং পুরো চুলে নারিকেল তেল রাতে দিয়ে ঘুমিয়ে যাবেন সকালে উঠে চুল ধুয়ে ফেলবেন চুল ধোয়ার পর চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াবেন এতে করে মাথার উকুন তাড়াতাড়ি দূর হবে।

৪/নিমের রস ব্যবহারঃ নিমপাতা ভালোভাবে বাটবেন। তারপর নিম পাতার পেস্ট মাথার তালুতে এবং পুরো চুলে ভালোভাবে লাগাবেন। এটি লাগানোর এক থেকে দুই ঘন্টা পর চুল ধুয়ে ফেলবেন এবং চুল ধুয়ে ফেলার পর চিরুনি দিয়ে চুল আচড়াবেন। আপনি চাইলে নিমপাতার তেলও ব্যবহার করতে পারেন।

মাথায় উকুন কেন হয়

মাথার উকুন অনেকগুলো কারণে হয়। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে, যাদের মাথায় আগে থেকে উকুন থাকে। তাদের আশেপাশে গেলে বা তাদের মাথার সাথে মাথা লাগলে। তাদের মাথা থেকে উকুন অন্যের মাথায় চলে আসে।

তারপর যাদের মাথায় উকুন আছে, তাদের চিরুনি, গামছা, ক্যাপ, হিজাব, বালিশ, বিছানার চাদর ইত্যাদি ব্যবহার করলে মাথায় উকুন ছড়ায়। তারপর নিয়মিত চুল পরিষ্কার না করলে। আবার অনেক সময় পরিস্কার চুলেও উকুন হয়।

মাথায় উকুন হলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়

এমন কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখলে বুঝা যাবে যে মাথায় উকুন হয়েছে। তাছাড়া এমনিতেই মাথায় উকুন হলে এই উকুন দেখা যায় চুলে ছোট উকুন এবং উকুনের সাদা ডিম দেখতে পাওয়া যায়। মাথায় উকুন হলে মাথা চুলকাবে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এই চুলকানি বেশি হয়।

উকুন হলে মাথায় নড়াচড়া করে বোঝা যায় পোকা মাথায় নড়াচড়া করছে। অনেক সময় এই উকুন মাথায় হলে কামড়াই। যার কারণে মাথার ত্বকে অস্বস্তি ভাব দেখা দেয় এবং মেজাজ খিট মেটে থাকে। যদি অনেকদিন ধরে মাথায় উকুন থাকে এবং ঘন ঘন মাথা চুলকালে মাথায় ঘা হতে পারে। এছাড়াও রাতের বেলায় উকুনের জন্য ঠিকমতো ঘুম হয় না।

এরকম লক্ষণগুলো যদি দেখা দেয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার মাথায় উকুন হয়েছে। আর মাথায় উকুন হলে তাড়াতাড়ি উকুন মারার ব্যবস্থা করবেন আর এই উকুন যেহেতু একজনের মাথা থেকে আরেকজনের মাথায় সংস্পর্শের কারণে চলে যায় তাই পরিবারের সকলকে এটা থেকে সাবধান থাকতে হবে এবং একসাথে সবাই এর চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

মাথার উকুন দূর করার সঠিক প্রক্রিয়া

Alice নামের একটা ওষুধ আছে যেটা উকুন মারার জন্য অনেক গবেষণা করা হয়েছে। ফলাফল পাওয়া গেছে এটা মাথায় ব্যবহার করলে উকুন মরে যায় এবং এটা স্বাস্থ্যের জন্যেও নিরাপদ। আপনি এই ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই মাথার উকুন মারার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

যদি প্রাকৃতিক উপায়ে উকুন দূর করতে চান, তবে সেটাও পারবেন। এর জন্য আপনাকে উকুনের চিরুনি নিতে হবে। তারপর চুল পানি দিয়ে অথবা তেল দিয়ে ভিজিয়ে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ বার চুল আঁচড়াতে হবে। এইভাবে ১২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে আপনার মাথা থেকে উকুন আস্তে আস্তে কমে যাবে।

অনেকেই ভেষজ উপায়ে মাথার উকুন দূর করার পরামর্শ দিয়ে থাকে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এগুলোর ওপর গবেষণা করার পর খুব ভালো একটা ফলাফল পাওয়া যায়নি। যার কারণে মাথার উকুন মারতে বা দূর করতে ভেষজ প্রক্রিয়ার শক্ত কোন প্রভাব নেই বললেই চলে,

তবে আপনি আপনার মাথার উকুন দূর করতে এই ভেষজ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এসব উপাদানগুলো হচ্ছে রসুন, লেবুর রস, ভিনেগার, নারিকেল তেল, নিমপাতা, পিয়াজের রস ইত্যাদি। কিভাবে এই উপাদান গুলো ব্যবহার করবেন। তার ব্যবহার বিধি সম্পর্কে উপরে ভালোভাবে বলা হয়েছে। আপনি চাইলে পড়ে আসতে পারেন।

মাথায় উকুন থাকলে কি ক্ষতি হয়

উকুন মাথার রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। এই উকুন যদি মাথায় অনেকদিন ধরে থাকে। তাহলে অনেকগুলো সমস্যা হতে পারে। যেগুলো স্বাভাবিক জীবনের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকদিন থেকে যদি মাথায় উকুন থাকে। তবে মাথায় ঘা হতে পারে, যার কারণে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও মাথায় উকুন থাকলে অনেক চুলকায়।
মাথার-উকুন-দূর-করার-উপায়
এই চুলকানোর কারণে কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়া যায় না ও ঘুমের সমস্যা হয়। যার কারণে শরীরের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে। অনেক সময় মাথার ত্বকে ফুসকুড়ি বার হয়। আর অনেক বেশি চুলকানোর কারণে মেজাজ ভালো থাকে না এবং অস্বস্তি লাগে। তাই মাথায় যদি উকুন হয়, তবে দেরি না করে এর জন্য তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে হবে।

মাথার উকুন প্রতিরোধ করার উপায়

মাথায় যেন উকুন না হয় এর জন্য আগে থেকেই আপনি যদি সতর্ক থাকেন। তবে মাথার উকুন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এখন আমি আপনাদেরকে এমন কিছু উপায় বলবো যেগুলো মানলে আপনি আপনার মাথায় উকুন হাওয়া প্রতিরোধ করতে পারবেন।
যেহেতু উকুন একজনের কাছ থেকে অন্য জনের কাছে সংস্পর্শের কারণে ছড়িয়ে যায়। তাই যাদের মাথায় উকুন আছে, তাদের মাথার সাথে মাথা লাগাবেন না। অন্যের চিরুনি, বালিশ, হিজাব, তোয়ালে, ক্যাপ এইগুলো ব্যবহার করবেন না। চেষ্টা করবেন নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখার এবং তেল বা পানি দিয়ে চুল ভিজিয়ে আঁচড়ানোর। 

এতে করে চুলে সহজে উকুন হবে না, উকুন থাকলেও দূর হবে। নিয়মিত আপনি আপনার বিছানার চাদর, কাপড়, বালিশের কাপড় এগুলো গরম পানিতে ভিজিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে রোদে শুকাবেন। তারপর যে চিরুনি ব্যবহার করেন। সেগুলো গরম পানিতে দশ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুবেন।

বাড়ির ছোট বাচ্চা যারা স্কুল যায়, তাদের চুল মাঝে মধ্যে দেখবেন। যদি পরিবারের কারো মাথায় উকুন দেখা দেয়। তবে তাড়াতাড়ি উকুন দূর করার ব্যবস্থা নিবেন। তা না হলে পরিবারের সবার মাথায় উকুন ছড়িয়ে যাবে। যদি পরিবারে কারো মাথায় উকুন দেখা দেয়। তবে পরিবারের সকলকে একসাথে উকুন মারার চিকিৎসা নিতে হবে।

শিশুদের মাথায় উকুন হলে যা করবেন

শিশুদের মাথায় যদি উকুন হয়, তাহলে আপনি দেরি করবেন না। তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যাবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে উকুন মারার ওষুধ ব্যবহার করবেন। তাছাড়া আপনি চাইলে বাড়িতে যেগুলো উকুনের চিরুনি সেই চিরুনি দিয়ে। তার চুল পানি দিয়ে বা তেল দিয়ে ভালোভাবে ভিজিয়ে নিয়মিত আচড়াবেন। আপনি চাইলে প্রাকৃতিক উপায়েও ব্যবহার করতে পারেন।

যদি শিশুদের মাথায় উকুন হয়। তবে তার ব্যবহার করা জিনিসপত্র আলাদা করে গরম পানিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে ধুবেন ও ভালোভাবে রোদে শুকাবেন। শিশুদের মাথা দেখবেন এবং উকুন বেছে মারবেন। খেয়াল করবেন পরিবারের আরো কোনো সদস্যের মাথায় উকুন হয়েছে কিনা। সব থেকে ভালো হবে। যদি পরিবারের সবাই একসঙ্গে উকুন দূর করার চিকিৎসা নেন।

উকুন হলে যেসব ভুল করা যাবে না

আপনার মাথায় যদি উকুন হয়, তাহলে অন্যের চিরুনি ব্যবহার করবেন না। অন্যের জিনিসপত্র যেমন বালিশ, তোয়ালে, বিছানা, চিরুনি ব্যবহার করবেন না। উকুন মারার জন্য চুলে বেশি কেমিক্যাল যুক্ত ওষুধ বা শ্যাম্পু দিবেন না। মাথায় উকুন হলে মাথা চুলকায়, তাই বেশি মাথা চুলকাবেন না। বেশি মাথা চুলকালে ঘা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

একবার উকুন মারার ওষুধ ব্যবহার করার পর থেমে যাবেন না। কারণ চুলে উকুনের ডিম থাকতে পারে। পরিবারের কারো মাথায় উকুন দেখা দিলে পরিবারের সবার মাথা পর্যবেক্ষণ করবেন। উকুন মারার চিকিৎসা মাঝপথে গিয়ে বন্ধ করে দিবেন না। যতক্ষণ না উকুন মাথা থেকে একদম নির্মল না হয়ে যাচ্ছে। ততক্ষণ এই চিকিৎসা চালাতে থাকবেন।

নিয়মিত বিছানার চাদর, বালিশের চাদর, চিরুনি এগুলো পরিষ্কার করবেন। উকুন যদি মাথায় হয় আর এ সময় যদি অসতর্ক থাকেন। তবে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এমনকি পরিবারের অন্যদের মাথাও ছড়াতে পারে তাই সতর্ক থাকবেন এবং কোনো রকম ভুল করবেন না। সবাই একসাথে উকুন মারার চিকিৎসা নিবেন।

উকুন হলে কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে

যদি অনেকদিন ধরে মাথায় উকুন থাকে। আর মাথার উকুন দূর করার জন্য অনেক রকম পদ্ধতি ব্যবহার করেও যদি উকুন না কমে। উকুনের কারনে চুলকাতে চুলকাতে যদি মাথায় ঘা হয় ও অনেক চুলকায় এবং শরীর খারাপ করে। তবে দেরি করবেন না তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিবেন।
মাথার-উকুন-মারার-উপায়
তাছাড়া ছোট বাচ্চাদের যদি মাথায় উকুন দেখা দেয়। তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাবেন। তারপর উকুন মারার জন্য বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু বা ওষুধ ব্যবহার করার পর। যদি মাথার ত্বকের সমস্যা হয়। অথবা উকুন দূর করার পর যদি বারবার উকুন হয়।

আর পরিবারের সবার মাথায় যদি এই উকুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে দেরি না করাই ভালো হবে। তবে আমার পরামর্শ থাকবে উপরে মাথার উকুন মারার উপায় গুলো প্রথমে মেনে চলবেন। যদি উপকার না পান, তাহলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে ভালোভাবে চিকিৎসার শুরু করবেন।

FAQ/সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ চুলে কি দিলে উকুন চলে যায়?
উত্তরঃ চুলে আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে Alice নামের একটি ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। এই ওষুধ সম্পন্ন চুলে ব্যবহার করলে আপনার মাথার উকুন মরে যাবে। তাছাড়া আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে নিয়মিত চুল আঁচড়াতে পারেন এবং ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। 

প্রশ্নঃ উকুন কত দিন বাঁচে?
উত্তরঃ উকুন মাথায় রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। তাই মাথায় উকুন থাকা অবস্থায় প্রায় এক মাস পর্যন্ত বাঁচতে পারে। কিন্তু মাথায় যদি না থাকে, তবে এই উকুন এক থেকে দুই দিনের বেশি বাঁচতে পারে না। যদি মাথায় উকুন হয়, তাহলে সতর্ক হয়ে কিছু ব্যবস্থা নিলে সহজে উকুন মাথা থেকে দূর করা যাবে।

প্রশ্নঃ কোন ভেষজ খেলে উকুন মারা যায়?
উত্তরঃ এমন কোন ভেষজ নেই যেগুলো খেলে মাথার উপর মারা যাবে। তবে এমন কিছু ভেষজ আছে যেগুলো মাথায় দিলে উকুন মাথা থেকে দূর করতে সাহায্য করবে। যেমন ধরেন ভিনেগার, টি ট্রি ওয়েল, নারকেল তেল, নিমের তেল, পিয়াজের রস, রসুন, লেবুর রস ইত্যাদি। কিন্তু মাথায় উকুন হলে এগুলোর উপর নির্ভর না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

প্রশ্নঃ উকুন হতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তরঃ মাথায় উকুন হয় অন্যের মাথা থেকে এসে। মানে উকুন ছড়ায় অন্যের সংস্পর্শ থেকে। মাথায় যদি উকুন থাকে তবে এই উকুন চুলে ডিম পাড়ে এই ডিম ফেটে প্রায় ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নতুনভাবে উকুন জন্মায়। তাই বলা যায় উকুন ডিম থেকে হতে প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন লাগে। আর মাথায় উকুন দেখা দিলে দেরি না করে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।
প্রশ্নঃ নিমপাতা কি উকুন দূর করে?
উত্তরঃ নিমপাতা যে উকুন দূর করে এর কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক নিমপাতা বা নিমপাতার তেল উকুন দূর করার জন্য ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। তাছাড়া এটা লোকজন মাথা থেকে উকুন দূর করে এই বিশ্বাস রেখে ব্যবহার করে। তবে আমার পরামর্শ থাকবে মাথায় উকুন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

মন্তব্যঃ মাথার উকুন মারার উপায়

মাথার উকুন মারার উপায় গুলো উপরে আমি আপনাদেরকে জানিয়েছি। আপনাদের মাথায় যদি উকুন দেখা দেয়, তবে উপরের নিয়মগুলো আপনি মেনে চলবেন। আর আপনি যদি তাড়াতাড়ি মাথার উকুন দূর করতে চান, তবে আপনি Alice নামের এই ওষুধটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে যাদের পেটে বাচ্চা আছে। আর যারা ছোট বাচ্চাদের দুধ পান করায়। তারা এই অশুধ চুলে দেওয়ার আগে ডাক্তারের কাছে জানবেন।

মাথায় যেন উকুন না হয় এর জন্য অগ্রিম সতর্ক থাকবেন এবং নিয়মিত চুল পরিষ্কার করবেন। খেয়াল রাখবেন যদি মাথায় উকুন হয়। তবে তা যেন পরিবারের অন্যদের মাঝে না ছাড়াই। মাথায় উকুন হলে অন্য সদস্যদের মাথায় সরানোর আগেই আপনি উকুন দূর করার চিকিৎসা শুরু করবেন। যদি অনেকদিন ধরে মাথায় উকুনের সমস্যা থাকে। তবে দেরি করবেন না ডাক্তারের কাছে যাবেন এবং তার পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url