বিদেশ ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করার নিয়ম

বিদেশ ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করার নিয়ম যারা জানতে চান? তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি। এখানে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করার নিয়ম সহ ট্রাভেল ইন্সুরেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন, ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করতে কত টাকা লাগে? ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের প্রধান সুবিধাগুলো,
বিদেশ-ভ্রমণের-জন্য-ট্রাভেল-ইন্স্যুরেন্স-করার-নিয়ম
ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সে কী কী কভার করা হয় এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পদ্ধতির সম্পর্কে জানানো হবে। তাই আপনারা যারা বিদেশ ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য আজকের এই আলোচনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই পুরো আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ার চেষ্টা করবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ বিদেশ ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করার নিয়ম

বিদেশ ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করার নিয়ম

অনেকেই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় পাসপোর্ট, ভিসা, বিমানের টিকিট এবং হোটেল বুকিং করা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু তারা এই ব্যস্ততার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল করে না, যেটি হলো বিদেশ ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করার নিয়ম। বিদেশ ভ্রমণ করার আগে যদি ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করা হয়।
তবে আপনি অপ্রত্যাশিত চিকিৎসা ব্যয়, লাগেজ হারানো, ফ্লাইট বাতিল বা জরুরী পরিস্থিতিতে বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন। আপনারা অনেকেই ট্রাভেলস ইন্সুরেন্স কিভাবে করতে হয়, তার নিয়ম জানতে চেয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণ করার জন্য ট্রাভেলস ইন্সুরেন্স করার নিয়ম খুব বেশি কঠিন নয়।

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা কোম্পানি এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে আপনারা সহজেই ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করতে পারবেন। এইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইনের মাধ্যমেও আবেদন করার সুযোগ রেখেছে। ট্রাভেলস ইন্সুরেন্স করার আগে প্রথমে আপনি কোন দেশে ভ্রমণ করবেন,

কতদিন থাকবেন এবং কেন যাচ্ছেন এর উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হবে। এরপর একটি নির্ভরযোগ্য ট্রাভেলস এজেন্সি নির্বাচন করতে হবে। ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করার সময় এজেন্সির পলিসি শর্তাবলীগুলো ভালোভাবে পড়ে নিবেন। তারা আপনাকে কি কি সুবিধা দিবে? কোন বিষয়গুলো তারা কভার করবে? আর কোন বিষয়গুলো কভার করবে না এবং

জরুরী অবস্থায় কোথায় যোগাযোগ করতে হবে? এসব তথ্য আগেই জেনে নিবেন। বিদেশ ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করতে প্রয়োজন পড়বে। পাসপোর্টের ফটোকপি, ভ্রমণের তারিখ, ভিসে, কোন দেশ ভ্রমণ করবেন তার নাম, আপনার বয়স এবং বর্তমানে কোথায় থাকেন, সে ঠিকানা। চলেন কিভাবে অনলাইনে ট্রাভেলস ইন্সুরেন্স করবেন সে নিয়ম দেখিয়ে দিই।

অনলাইনে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করার নিয়ম

অনলাইনে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স আবেদন করতে প্রথমে আপনারা গুগলে Green Delta Insurance লিখে সার্চ করবেন। এর পরের ধাপে আপনারা প্রথম যে ওয়েবসাইট আসবে এতে ক্লিক করবেন। তৃতীয় ধাপে PRODUCTS এ ক্লিক করে all product ক্লিক করবেন।

এরপর ট্রাভেল ইন্সুরেন্স সিলেক্ট করবেন। তারপর আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী একটি অপশন নির্বাচন করবেন। এরপর আপনি কোন দেশ যাবেন সে দেশের নাম, আপনার জন্ম তারিখ, ডিপার্টচার ডেট এবং কতদিন থাকবেন তা, লিখে ফরম পূরণ করে Get quote ক্লিক করলেই আপনি দেখতে পাবেন।

আপনার দেওয়া তথ্যগুলো আপনার বয়স, কবে যাবেন এবং ইন্সুরেন্সের খরচ কত টাকা তার হিসাব। আপনি চাইলে এখান থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন করার পর আপনার পাসপোর্ট নিয়ে। তাদের নির্ধারিত ব্রাঞ্চে যেতে হবে এবং সেখানে গিয়ে আপনার ইন্সুরেন্স কপি উঠাতে হবে।

ইন্সুরেন্স যখন উঠাবেন, তখন অবশ্যই আপনি যে দেশে যেতে চাচ্ছেন। সে দেশের কিউআর কোড সহ যাবেন তা, উল্লেখ করবেন। আপনারা সহজে যেন ধাপে ধাপে ট্রাভেল ইন্সুরেন্সে আবেদন করতে পারেন, এজন্য নিচে একটি স্ক্রিনশট দিলাম।
বিদেশ-ভ্রমণের-জন্য-ট্রাভেল-ইন্স্যুরেন্স-করার-নিয়ম

ট্রাভেল ইন্সুরেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন

ধরেন আপনি বিদেশ গেলেন। এবার ওখানে গিয়ে হঠাৎ আপনি কোনো আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়লেন। যেমন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, দুর্ঘটনা, বিমানের টিকিট বাতিল সহ ধরুন আপনার লাগেজ হারিয়ে গেল, পাসপোর্ট চুরি হয়ে গেল, কিংবা জরুরী চিকিৎসার প্রয়োজন হলো।

এরকম সমস্যায় আর্থিক ভাবে সাহায্য পেতে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স আপনাকে সুরক্ষা প্রদান করবে। বিদেশে চিকিৎসা করা অনেক ব্যয়বহুল। তাই বিদেশ ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করার নিয়ম জেনে সঠিকভাবে বীমা করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও বিদেশ ভ্রমণের জন্য অনেকগুলো দেশে শেনজেন ভিসার জন্য,

নির্দিষ্ট পরিমাণ কভারেজযুক্ত ট্রাভেল ইন্সুরেন্স বাধ্যতামূলক করা আছে। আপনি ব্যবসা, শিক্ষা, ঘুরাঘুরি বা চিকিৎসা যে কারণেই বিদেশ যান না কেন, ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করা আপনার জন্য অনেক দরকারি। বিদেশ ভ্রমণের জন্য যদি ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করে রাখেন। তবে বিদেশ ভ্রমণ নিশ্চিন্তে করতে পারবেন এবং আর্থিক জটিলতা হলে সাহায্য পাবেন।

ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করতে কত টাকা লাগে?

ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করতে কত টাকা লাগে? এটা কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন আপনি কোন দেশ যাবেন, কতদিন বিদেশে থাকবেন, আপনার বয়স কত, কি ধরনের প্যাকেজ নিচ্ছেন এবং আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য কি।

বাংলাদেশ থেকে সাধারণ পর্যটক ভ্রমণের জন্য অনেক সময় কম মেয়াদের ট্রাভেল ইন্সুরেন্স কয়েক হাজার টাকার মধ্যেই করা যায়। কিন্তু অনেকদিন ভ্রমণ করলে, উচ্চ কভারেজ অথবা বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য প্রিমিয়াম ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করতে হবে এতে টাকা বেশি লাগবে।

এজন্য কম খরচ দেখে পলিসি নির্বাচন না করে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে তা বিবেচনা করতে হবে। কম মূল্যের ট্রাভেল ইন্সুরেন্স বা পলিসিতে চিকিৎসা বা জরুরী সহায়তা অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে। তাই টাকা এবং সুবিধা দুটোর ভারসাম্য রেখে সঠিক পলিসি বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ট্রাভেল ইন্সুরেন্সর প্রিমিয়াম কিভাবে নির্ধারিত হয়

ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম নির্ধারণ কয়েকটি বিষয়ের উপর বিবেচনা করে হয়। যেমন, ভ্রমণকারীর বয়স, ভ্রমণের দেশ, ভ্রমণের সময়কাল, কভারেজ এর পরিমাণ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য।
  • ভ্রমণকারীর বয়স যত বাড়বে বা বেশি হবে, তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তত বেশি থাকে। এজন্য প্রিমিয়ামের হারও বেশি হয়।
  • ভ্রমণের দেশ যত উন্নত মানের হবে। অর্থাৎ কানাডা ও আমেরিকা গেলে এর প্রিমিয়াম খরচ একটু বেশি হবে যা ইউরোপ ও এশিয়ার থেকে বেশি।
  • ভ্রমণের সময়কাল যত দিন বাড়বে প্রিমিয়াম তত বেশি হবে।
  • কভারেজের পরিমাণ অর্থাৎ আপনি যত বেশি টাকার সুরক্ষা নিবেন। তার জন্য প্রিমিয়ামও একটু বেশি দিতে হবে।
  • ভ্রমণের উদ্দেশ্যের উপর প্রিমিয়াম কমবেশি হতে পারে।

ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের প্রধান সুবিধাগুলো

বিদেশ ভ্রমণের জন্য আপনি যদি একটি ভালো ট্রাভেল ইন্সুরেন্স নির্বাচন করেন। তবে এই ইন্সুরেন্সে শুধু চিকিৎসা ব্যয় নয়। আরো অনেক ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। চলুন ট্রাভেল ইন্সুরেন্সের প্রধান সুবিধা গুলো জেনে নিই।
ক) জরুরী চিকিৎসা ব্যয়ঃ হঠাৎ আপনি বিদেশে অসুস্থ হয়ে পড়লে। সেখানে চিকিৎসার জন্য আপনাকে অনেক টাকা খরচ করতে হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করে থাকেন, তবে এই টাকা ট্রাভেল ইন্সুরেন্স থেকে বহন করা হবে।

খ) লাগেজ ও পাসপোর্ট হারালে ক্ষতিপূরণঃ বিদেশে গিয়ে যদি আপনার পাসপোর্ট বা লাগে হারিয়ে যায়। তবে এর ক্ষতিপূরণ ট্রাভেল ইন্সুরেন্স থেকে বহন করা হবে।

গ) ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলজনিত ক্ষতিপূরণঃ যদি কোন কারণে আপনার ফ্লাইট দেরি হয় বা টিকিট বাতিল হয়ে যায়। তবে আপনার বুকিং করা হোটেলের খরচ এবং টিকিটের ক্ষতিপূরণ ট্রাভেল ইন্সুরেন্স এর পক্ষ থেকে বহন করা হবে।

ঘ) ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বা জরুরী সেবাঃ বিদেশে গিয়ে আর্থিকভাবে কোন সমস্যার মধ্যে পড়লে বা দুর্ঘটনা ঘটলে। ট্রাভেল ইন্সুরেন্স থেকে আপনাকে আর্থিকভাবে সহায়তা দান করা হবে এবং ব্যক্তিগত কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সেখান থেকে উদ্ধারে সাহায্য পাবেন।

ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করার আগে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন

আপনারা যারা বিদেশ ভ্রমণ করবেন এবং ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করার কথা ভাবছেন। তারা অবশ্যই ট্রাভেল ইন্সুরেন্স কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যাচাই করে নিবেন।
  • কভারেজের সময়সীমা দেখে নিবেন।
  • ট্রাভেল ইন্সুরেন্স এর মধ্যে কোন কোন বিষয়গুলো কভার করা হবে না তা, জেনে নিবেন।
  • ক্লেইম করার সময়সীমা দেখে নিবেন।
  • হঠাৎ কোন দরকার প্রয়োজন হলে, তাদের জরুরী যোগাযোগ নম্বর নিয়ে রাখবেন।
  • যে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স কিনছেন, এতে কোন কোন হাসপাতালে নেটওয়ার্ক আছে তা দেখবেন।
  • পূর্ব বিদ্যমান রোগের কভারেজ।
  • ট্রাভেল ইন্সুরেন্সে অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা।

ভিন্ন ধরনের ট্রাভেল ইন্সুরেন্স কি কি

আপনারা অনেকে আমাদের কাছে ভিন্ন ধরনের ট্রাভেল ইন্সুরেন্স কি তা, জানতে চেয়েছেন। আপনাদের সুবিধার্থে এখন আমরা এ বিষয়ে সুন্দরভাবে আলোচনা করবো। যা থেকে আপনারা এই বিষয়টা সম্পর্কে ভালো একটি ধারণা পেয়ে যাবেন।

ভিন্ন ধরনের ট্রাভেল ইন্সুরেন্স বলতে ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ট্রাভেল ইন্সুরেন্সের ধরন আলাদা হয়। যেমন ধরেন, একা ভ্রমণ করতে চাইলে আপনাকে নিতে হবে সিঙ্গেল ট্রিপ ইন্সুরেন্স। বেশি জন ভ্রমণ করতে চাইলে মাল্টি টিপ ইন্সুরেন্স। আর স্টুডেন্ট হলে স্টুডেন্ট ট্রাভেল ইন্সুরেন্স।

এরকমভাবে ব্যবসায়িক কাজে বিজনেস ট্রাভেল ইন্সুরেন্স, পরিবার নিয়ে ভ্রমনে গেলে ফ্যামিলি ট্রাভেল ইন্সুরেন্স এবং সিনিয়র সিটিজেন ট্রাভেল ইন্সুরেন্স ও গ্রুপ ট্রাভেল ইন্সুরেন্স। এক কথায় আপনি কি ধরনের ভ্রমণ করতে চাইছেন। তার ওপর ভিত্তি করেই ট্রাভেল ইন্সুরেন্স ভিন্ন ধরনের হবে।

ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সে কী কী কভার করা হয়

ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় কভার করা হয়। এজন্য সব পলিসিতে এক রকম সুবিধা থাকে না। কিন্তু ট্রাভেল ইন্সুরেন্সে সাধারণ যেসব বিষয় কভার করা হয়। সেগুলো হচ্ছে, জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ বহন, কোনো দুর্ঘটনারজনিত কারণে ক্ষতিপূরণ, হাসপাতালে ভর্তির খরচ, পাসপোর্ট বা

লাগেজ হারালে, ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব হলে হোটেল খরচ সহ টিকিটের ক্ষতিপূরণ এবং বিদেশে গিয়ে কোন বিপদে পড়লে জরুরি উদ্ধার সহ ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা এর মধ্যে কভার করা হয়। তাই বিদেশ ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করার নিয়ম জেনে সঠিক পলিসি নির্বাচন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ক্লেইম বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পদ্ধতি

ধরন আপনি বিদেশে ভ্রমণে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হলেন। এবার আপনি কিভাবে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স থেকে ক্ষতিপূরণ নিবেন? চলুন এর পদ্ধতি জেনে নিই। যদি ভ্রমণ করার সময় আপনার সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়,

তবে দেরি না করে তাড়াতাড়ি বীমা প্রতিষ্ঠানের জরুরী হেল্প নম্বরে যোগাযোগ করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে এবং সব ধরনের বিল, প্রেসক্রিপশন, প্রয়োজনে পুলিশ রিপোর্ট, বোর্ডিং পাস, লাগেজ রিপোর্ট সহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করবেন।

পরবর্তীতে আপনি বিদেশ থেকে বা দেশে এসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ক্ষতিপূরণ দাবির জন্য জমা দিবেন। পরবর্তীতে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স প্রতিষ্ঠান থেকে আপনার তথ্যগুলো যাচাই শেষে কোম্পানির পলিশির শর্ত অনুযায়ী। আপনার ব্যাংক একাউন্টে ক্ষতিপূরণ বা টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ট্রাভেল ইন্সুরেন্স নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

অন্যান্য দেশে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা কম থাকলেও আমাদের দেশে এটি নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা থেকে গেছে। অনেকেই ট্রাভেল ইন্সুরেন্স মনে করেন ভিসার জন্য প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে এটি ভ্রমণের সময় আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম একটি মাধ্যম।
বিদেশ-ভ্রমণের-জন্য-ট্রাভেল-ইন্স্যুরেন্স-করার-নিয়ম
অনেকে মনে করে বিদেশ ভ্রমণে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করা থাকলে। সব ধরনের রোগ বা ক্ষতিপূরণ ট্রাভেল ইন্সুরেন্স থেকে কভার করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি সঠিক নয়, কারণ প্রকৃতপক্ষে এরো কিছু সীমাবদ্ধতা ও ব্যতিক্রম থাকে। আরেকটি ভুল ধারণা হচ্ছে,
অনেকে মনে করেন এটি করা অনেক খরচ বা ব্যয়বহুল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখতে গেলে ভ্রমণের খরচের তুলনায় ট্রাভেল ইন্সুরেন্স করার খরচ অনেক কম। কিন্তু প্রয়োজন পড়লে বা বিপদে এর সুবিধা অনেক মূল্যবান।

মন্তব্যঃ বিদেশ ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করার নিয়ম

বিদেশ ভ্রমণের জন্য যতই নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করা হোক না কেন। অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা কখনো বলে কয়ে আসে না। তাই বিদেশ ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করার নিয়ম জানা এবং সঠিক ট্রাভেল ইন্সুরেন্স নির্বাচন করা প্রয়োজন। ট্রাভেল ইন্সুরেন্স শুধু মাত্র ভিসার শর্ত পূরণ করেনা। বরং এটা জরুরী প্রয়োজনে চিকিৎসা ব্যয়, পাসপোর্ট ও লাগেজ হারানো, টিকিট বাতিল হয়ে যাওয়া বা ফ্লাইট বিলম্ব হওয়া থেকে শুরু করে যেকোন জরুরী পরিস্থিতিতে আর্থিক ভাবে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।

এজন্য বিদেশ ভ্রমণ করার আগে ট্রাভেল ইন্সুরেন্সের প্রতিষ্ঠান কোনটা ভালো এবং দ্রুত সেবা প্রদান করে তা, যাচাই করবেন এবং প্রতিষ্ঠানের বা ইন্সুরেন্সের শর্তাবলী মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। আরেকটি বিষয় যে ইন্সুরেন্স করছেন এতে কি কি বিষয় কভারেজ করা হয় তা, বুঝে নির্বাচন করবেন। একটি কথা মাথায় রাখবেন সঠিকভাবে ট্রাভেল ইন্সুরেন্স নির্বাচন করতে পারলে। আপনার বিদেশ ভ্রমণ অনেক সহজ হবে, নিরাপদ হবে এবং নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করা সম্ভব হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url