বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা ও ফুল ফ্রী স্কলারশিপ

এখনকার অনেক ছাত্র ছাত্রীরা উন্নত মানের পড়ালেখার জন্য বিদেশে যেতে চাই। কিন্তু বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা থাকে না। তাই অনেকেই বিদেশে স্কলারশিপ এর জন্য আবেদন করার সময় অনেক ভুল করে বসে।
বিদেশে-স্কলারশিপ-পাওয়ার-যোগ্যতা
তাই আজকে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা কেমন হতে হবে। কিভাবে আবেদন করতে হবে এবং এই স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগবে, এই পুরো বিষয়গুলো আপনাদের জানানো হবে। তাই যারা বিদেশে স্কলারশিপ নেওয়ার জন্য আগ্রহী। তারা আজকের এই আলোচনা ভালোভাবে পড়বেন।

পেজ সূচিপত্রঃ বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা

বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা

বিদেশে পড়ালেখা করার জন্য অনেকের সপ্ন থাকে। কিন্তু অনেকেই কিভাবে বিদেশে পড়ালেখা করতে যাওয়া যায় এবং বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা কেমন লাগে তা জানে না। এজন্য তারা অনেকেই গুগলে এবং ইউটিউবে এ বিষয়গুলো নিয়ে খোঁজাখুজি করে থাকে। অনেকেই ভাবে যে বিদেশে স্কলারশিপ পেতে হলে ভালো রেজাল্ট থাকা লাগবে।
কিন্তু শুধু যে ভালো রেজাল্ট থাকলেই বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়া যাবে, এটা ভুল। ভালো রেজাল্টের পাশাপাশি কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং লক্ষ্য থাকা লাগবে। স্কলারশিপের শর্ত বিভিন্ন দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্ভর করে আলাদা হতে পারে। তবে এমন কিছু যোগ্যতা আছে, যেগুলো প্রায়ই কম বেশি সব জায়গাতেই প্রয়োজন হয়।

ক) একাডেমিক রেজাল্ট ভালো হতে হবে। এসএসসি, এইচএসসি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিপিএ এবং সিজিপিএ ভালো থাকতে হবে। তাহলে বিদেশে পরালিখার জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। বেশিরভাগ বাইরের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদেরকেই অগ্রাধিকার বেশি দেওয়া হয়।

খ) ইংরেজি ভাষাতে ভালো দক্ষ হওয়া লাগবে। বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য আপনাকে IELTS অথবা TOEFL পরীক্ষা দিয়ে ইংরেজি ভাষায় আপনি যে দক্ষ তা প্রমাণ করতে হবে। যদি এই পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারেন। তাহলে আপনার স্কলারশিপে আবেদন করা ফরম আরো শক্তিশালী হবে। এতে আপনার স্কলারশিপ পাওয়ার চান্সও বেড়ে যাবে।

গ) আপনার সকল তথ্য সঠিক দিয়ে একটি সিভি বানাতে হবে। এই সিভিতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা আপনার কাজের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি আপনাকে একটি SOP অর্থাৎ মোটিভেশনাল লেটার বানাতে হবে। এই লেটারে আপনাকে বোঝাতে হবে আপনি এই বিষয় নিয়ে কেন পড়তে চাইছেন। আপনার লক্ষ্য কি এবং আপনাকে কেন স্কলারশিপ দেওয়া উচিত।

ঘ) বিদেশে স্কলারশিপ নেওয়ার জন্য আপনাকে শিক্ষক বা কোন অফিসারের কাছ থেকে সুপারিশপত্র নিতে হবে। এদের কাছ থেকে আপনি যদি আপনার পক্ষ থেকে সুপারিশপত্র নিয়ে জমা দেন। তবে এই সুপারিশপত্র আপনার যোগ্যতা এবং আপনার চরিত্রের ওপর ভালো প্রভাব ফেলবে বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কিছু কিছু স্কলারশিপে আপনাকে আবার আর্থিক স্বচ্ছলতাও প্রমাণ করতে হতে পারে।

স্কলারশিপ মানে কি

স্কলারশিপ মানে হচ্ছে আর্থিক ভাবে সাহায্য করা। যেসব ছাত্র ছাত্রীরা অনেক বুদ্ধিমান। কিন্তু তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ। এদের জন্য এই স্কলারশিপ ব্যবস্থা অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু করা আছে। স্কলারশিপ এমন একটি প্রক্রিয়া যেটা শুধুমাত্র বুদ্ধিমান ছাত্র ছাত্রীদের দেওয়া হয়।

এর কারণে তার পড়াশোনার খরচ কিছুটা হলেও কমে। স্কলারশিপ পেলে টিউশন ফি, থাকা খাওয়ার খরচ ও পড়ালেখার বই সহ যাবতীয় জিনিসপত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহন করা হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যাতায়াত খরচও তারা চালায়। স্কলারশিপ দুই ধরনের হয়, প্রথমটি হচ্ছে ফুল স্কলারশিপ। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে আংশিক স্কলারশিপ।

যেটা ফুল স্কলারশিপ, এখানে পড়ালেখা সহ যাবতীয় সব খরচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহন করবে। আর যেটা আংশিক স্কলারশিপ। সেখানে পড়ালেখার জন্য কিছু খরচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহন করবে। অর্থাৎ সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে না। তাই বলা যায় স্কলারশিপ মানে হচ্ছে, এমন একটি সুযোগ। যার জন্য একজন মেধাবী ছাত্র, ছাত্রী কম খরচে বা খরচ ছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ পায়।

কোন দেশগুলোতে সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায়

কোন দেশে সহজে স্কলারশিপ পাবেন তা নির্ভর করবে। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোন বিষয়ে পড়তে চাচ্ছেন, কিভাবে আবেদন করছেন ও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার ওপর। কিন্তু এগুলো ছাড়াও এমন কিছু দেশ আছে, যেগুলোতে আপনি স্কলারশিপ সহজে পেতে পারেন। কারণ এইসব দেশগুলোতে সুযোগ বেশি দেয়, প্রতিযোগিতা কিছু ক্ষেত্রে কম থাকে।

তারপর কিছু দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিট অনেক বেশি থাকে। তাই এই দেশগুলোতে আপনি সহজে স্কলারশিপ পেতে পারেন। আপনি জার্মানিতে বেশ কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব সহজে স্কলারশিপ পেয়ে যেতে পারেন। কারণ এখানে টিউশন ফি খুব কম বা নেয় বললেই চলে। তাছাড়া তুরস্ক, হাঙ্গেরি, মালয়েশিয়া, চীন, কানাডা, গ্রিস, সুইডেন,

ফ্রান্স ও তাইওয়ানের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতা কম থাকে। এমনকি কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিট সংখ্যাও বেশি থাকে। যদি আপনার প্রোফাইল ভালো থাকে। অর্থাৎ আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং আপনার দক্ষতা ভালো হয়। তবে আপনি সহজেই এই দেশগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কলারশিপ পেয়ে যাবেন।

স্কলারশিপ পেতে যেসব ডকুমেন্ট লাগবে

আপনারা যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য যেতে চাচ্ছেন। আর এ কারণে যারা স্কলারশিপ এ আবেদন করতে চাইছেন বা করবেন ভাবছেন। তাদের কিছু কাগজপত্র বা ডকুমেন্ট জমা দেওয়া লাগবে। এই কাগজপত্রগুলো ছাড়া আপনি স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন না। তাই এই ডকুমেন্টগুলো স্কলারশিপে আবেদন করার আগে গুছিয়ে নিবেন।

আপনার স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ও মার্কশিট লাগবে। আপনি যে ইংরেজিতে দক্ষ তার জন্য আপনাকে IELTS অথবা TOEFL পরীক্ষা দিয়ে। আপনার রেজাল্টের প্রমাণপত্র দিতে হবে। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সকল তথ্য দিয়ে, নিজের একটি সিভি তৈরি করতে হবে। SOP ভালোভাবে লিখতে হবে।

এখানে আপনি কেন এ বিষয়ে পড়তে চান, আপনার এই বিষয় নিয়ে ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কি, কেন আপনাকে স্কলারশিপ দেওয়া উচিত এসব বিষয়গুলো উল্লেখ করবেন। যারা ইতোমধ্যে বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করতে গেছে। তাদের কাছ থেকে তাদের SOP সম্পর্কে জেনে আইডিয়া নিবেন। তারপর আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আপনার ভালো আচরণ নিয়ে একটা সুপারিশপত্র নিতে হবে।

এই পত্র আপনাকে আপনার শিক্ষক অথবা কোন বড় অফিসারের কাছ থেকে নিতে হবে। স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য আপনার একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের স্ক্যান কপিও চাইতে পারে। অনেকগুলো দেশ আছে, যেখানে স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য।

আপনাকে আপনার বাপ মায়ের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণপত্র দেখাতে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে আপনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে। মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে হতে পারে। এছাড়াও আপনাকে অতিরিক্তভাবে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা থাকার প্রমাণ দেওয়া লাগতে পারে। তাছাড়া আপনারা যদি মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে যান। তবে এক্ষেত্রে আপনাদের গবেষণাপত্র লাগবে। যা স্কলারশিপে আবেদন করার সময় জমা দিতে হবে।

স্কলারশিপ নেওয়ার আগে নিজেকে যেভাবে প্রস্তুত করবেন

স্কলারশিপ নিতে চাইলে আপনাদেরকে আগে থেকেই প্রস্তুত হতে হবে। যদি নিজেকে আগে থেকেই স্কলারশিপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে পারেন। তবে এখানে চান্স পাওয়ার আশা বাড়বে। আপনারা যখন স্কলারশিপ নেওয়ার কথা ভাববেন। তার আগে থেকেই আপনারা আপনাদের লক্ষ্যকে ঠিক করবেন।

যেমন কোন দেশে পড়তে চান, কি সাবজেক্ট নিয়ে পড়তে চান এবং ভবিষ্যতে কি করতে চান। অনেক সময় একাডেমিক রেজাল্ট ভালো রাখতে হয়। কারণ অনেকগুলো বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, যারা একাডেমিক রেজাল্টের ওপর স্কলারশিপ দেয়। তাই আপনি এসএসসি, এইচএসসি আর বিশ্ববিদ্যালয় হলে সিজিপিএ রেজাল্ট ভালো করার চেষ্টা করবেন।

বিদেশে পড়তে গেলে ইংরেজি ভাষার ওপর ভালো দক্ষ হতে হবে। তাই ইংরেজি ভাষা শিখার উপর চর্চা করবেন। শুধুমাত্র সার্টিফিকেটের আশাকরলে চলবে না। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, যারা বাস্তব কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর স্কলারশিপ দেয়। তাই নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়াবেন। আপনার ব্যক্তিগত ও প্রফেশনাল সব তথ্য দিয়ে।
বিদেশে-স্কলারশিপ-পাওয়ার-যোগ্যতা
একটি সুন্দর ও ইনফরমেসনাল সিভি তৈরি করবেন। এই সিভি অনেক প্রফেশনাল ও পরিষ্কার হতে হবে। যেন এর মধ্যেই আপনার অভিজ্ঞতা ও দক্ষার তথ্য উল্লেখ থাকে। স্কলারশিপ নেওয়ার আগে থেকেই আপনি SOP বা মোটিভেশনাল লেটার লেখার প্র্যাকটিস করবেন। দরকার হলে যারা স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে গেছে, তাদের কাছ থেকে,

তাদের SOP বিষয়ে ধারনা নিবেন। আপনি আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অথবা কোনো অফিসারের কাছ থেকে সুপারিশপত্র লিখে নিবেন। স্কলারশিপ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত করবেন। এগুলো ছাড়াও আপনাকে নিয়মিত স্কলারশিপের খোজখবর নিতে হবে। আবেদন করার আগে সঠিক সময় নির্বাচন করতে হবে।

কিছু কিছু স্কলারসিপে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। তাই আগেই ইন্টারভিউের প্রস্তুতি নিতে হবে। স্কলারশিপের খরচ এবং এর সকল তথ্য সম্পর্কে আগে জানতে হবে। বিদেশে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কলারশিপ নিবেন, তাদের ভর্তির শর্ত আগে জানতে হবে। উপরের এইসব তথ্যগুলো ঠিক থাকলে। তখন আপনি আপনার স্কলারশিপ আবেদন পত্র জমা দিবেন।

স্কলারশিপ নেওয়ার জন্য আবেদন করার ধাপ

আপনি যখন স্কলারশিপ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে যাবেন। তার আগে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো আপনি ঠিক করে নিবেন। যখন আপনার সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা শেষ হয়ে যাবে। তারপর আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বা কোন দেশে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করবেন তা খুজবেন।

যখন আপনি আপনার উপযুক্ত স্কলারশিপ খুঁজে পাবেন, তখন সেখানে আবেদন করার আগে। ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের জন্য IELTS অথবা TOEFL পরীক্ষা দিবেন। একটি সুন্দর প্রফেশনাল সিভি তৈরি করবেন। এখানে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিগত তথ্য এবং আপনার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা উল্লেখ করবেন।
তারপর একটি মোটিভেশনাল লেটার(SOP) লিখবেন। আপনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষকের বা কোন দক্ষ অফিসারের রিকমেন্ডেশন লেটার বা সুপারিশপত্র নিবেন। স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেলে। তখন আপনি আবেদন করার আগে, আরো একবার সব তথ্য এবং কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা যাচাই করবেন।

তারপর যে দেশে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপনি স্কলারশিপ আবেদন করছেন। তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আবেদন জমা দিবেন। যখন আপনি আবেদন জমা দিবেন। তখন আপনাকে সব তথ্য সঠিক দিতে হবে এবং সেখানে বানান ভুল করা এড়িয়ে চলতে হবে। যদি আপনি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেন। তবে ডকুমেন্টগুলো সব পিডিএফ আকারে আপলোড করতে হবে।

আবেদন করা শেষ হয়ে গেলে পরবর্তীতে আপনি ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিবেন। নিয়মিত আপনার ইমেইল চেক করবেন, ভিসা, মেডিকেল টেস্ট, প্লেনের টিকিট ইত্যাদি প্রস্তুতি নিয়ে থাকবেন। কখনোই আবেদন করার সময় ভুল তথ্য দিবেন না। অন্যের SOP দেখে কপি করে জমা দিবেন না।

আবেদন করার সময় যেসব ভুলগুলো করা যাবে না

অনেক সময় স্কলারশিপে আবেদন করার সময় বেশিরভাগ আবেদন রিজেক্ট হয়ে যায়। শুধুমাত্র ভুল তথ্য এবং অন্যের কপি করা তথ্য ব্যবহার করার জন্য। তাছাড়া আবেদন করতে দেরি করলে আবেদন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই আবেদন করার সময় দেরি করে আবেদন করবেন না।

স্কলারশিপে কি কি যোগ্যতা লাগবে, সে তথ্যগুলো দেখে। তাদের শর্ত মেনে আবেদন করতে হবে। ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না। অন্যের SOP ব্যবহার করা যাবে না, একটা সিভি বারবার সব জায়গায় জমা দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ না থাকা পর্যন্ত আবেদন জমা দিবেন না। আবেদন করার সময় এই আবেদনপত্রে কোন বানান ভুল করা যাবে না।

শিক্ষকের বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সুপারিশ পত্র নিয়ে অবহেলা করা যাবে না। শুধুমাত্র একটি স্কলারশিপ এর উপর নির্ভর করে থাকবেন না। প্রতিটি স্কলারশিপের আলাদা আলাদা শর্ত থাকে। তাই এই শর্তগুলো না দেখে আবেদন করবেন না। আপনি যখন স্কলারশিপের জন্য আবেদন করবেন। তখন ভালোভাবে স্কলারশিপ সম্পর্কে তাদের শর্ত এবং তাদের সকল তথ্য সম্পর্কে জেনে নিবেন।

শেষ সময়ে গিয়ে আবেদন করবেন না, তাড়াতাড়ি আবেদন করবেন। ভুয়া তথ্য দিবেন না সিভি অনেক প্রফেশনাল হতে হবে। (SOP) নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে প্রফেশনাল ভাবে লিখবেন। সব কাগজপত্র ঠিক করবেন, তারপর যে দেশে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন। তাদের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে। আপনার আবেদন পত্র জমা দিবেন।

স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়ালেখা করতে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলে। আগে থেকেই আপনি নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করবেন। প্রথমে আপনি আপনার একাডেমিক রেজাল্ট ভালো করার চেষ্টা করবেন। তারপর আগে থেকেই আপনি আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো ঠিক করবেন। ইংরেজি ভাষা শিখার চেষ্টা করবেন। কেন আপনি এই বিষয়ে পড়তে চাইছেন, 

কেন আপনি বিদেশে পড়তে চাইছেন, কি করবেন ভবিষ্যতে, আপনি কেন এই স্কলারশিপের যোগ্য। এই বিষয় নিয়ে একটি সুন্দর করে SOP লিখার অভ্যাস করবেন। একটি প্রফেশনাল সিভি তৈরি করবেন। এই সিভিতে আপনার যত দক্ষতা এবং একাডেমিক অর্জন ও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য আছে তা উল্লেখ করবেন। চেষ্টা করবেন সামাজিক কাজে বা

স্বেচ্ছাসেবক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার। এই বিষয়গুলো সিভিতে বসাবেন। এতে আপনার সিভি আরও শক্তিশালী হবে এবং স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। নিয়মিত স্কলারশিপ নিয়ে রিসার্চ করবেন। অনেক সময় ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ না খোঁজার কারণে মিস হয়ে যায়। শুধুমাত্র একটি জায়গায় স্কলারশিপের জন্য আবেদন করবেন না।

যেগুলো ভালো জায়গা, আর আপনার সে জায়গায় পড়ার সক্ষমতা আছে কি না। তা দেখে সেসব জায়গায় স্কলারশিপের জন্য আবেদন করবেন। আপনি আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক অথবা দক্ষ অফিসারের রিকমেন্ডেশন লেটার নিবেন। নিজেকে আগে থেকে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করবেন।  আর স্কলারশিপে আবেদন খুব তাড়াতাড়ি করবেন, 

শেষ সময়ে গিয়ে আবেদন করবেন না। এইসব বিষয়গুলো নিয়ে আপনি যদি আগে থেকে সতর্ক এবং নিজেকে প্রস্তুত রাখেন। তবে আপনার জন্য স্কলারশিপ পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু স্কলারশিপ নেওয়ার আগে, আপনাদেরকে বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে হবে। যা উপরের প্রথম পয়েন্ট থেকে আপনারা জানতে পারবেন।

ফুল ফ্রী স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়

ফুল ফ্রী স্কলারশিপ কে না চায়। ফুল ফ্রি স্কলারশিপ পাওয়ার স্বপ্ন অনেক ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আছে। কিন্তু এটা পাওয়া খুব একটা সহজ ব্যাপার না। এর জন্য একজন শিক্ষার্থীকে অনেক বিষয়ে ভালো করতে হয়। একজন ছাত্র ও ছাত্রী যদি ফুল ফ্রি স্কলারশিপ পাই। তবে এই স্কলারশিপে, তাদের পড়াশোনার খরচ, থাকা খাওয়া খরচ সহ ছাত্র ছাত্রীদেরকে মাসিক ভাতা পর্যন্ত দেওয়া হয়।

ফুল ফ্রী স্কলারশিপ পেতে হলে, আপনাদের একাডেমিক রেজাল্ট ভালো রাখতে হবে। অনেক বিদেশী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, যারা মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে বেশি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। তাই একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই অনেক মেধাবী হতে হবে। সেই সাথে বিদেশে পড়াশোনা করার জন্য ইংরেজি ভাষায় ভালো হতে হবে। ফুল ফ্রী স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য আপনাকে আপনার সকল অভিজ্ঞতা।

একাডেমিক সার্টিফিকেট ও আপনার দক্ষতা সহ সব তথ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী সিভি বানাতে হবে। সেই সাথে এখানে প্রমাণ করতে হবে, যে আপনার দক্ষতা আছে। আপনি নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং আপনি স্বেচ্ছাসেবক মূলক কাজে জড়িত। তারপর আপনাকে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কেন আপনি এই বিষয় নিয়ে পড়তে চান, আপনাকে কেন তারা স্কলারশিপ দিবে।

তা নিয়ে একটি সুন্দর করে SOP বানাতে হবে। আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা দেশে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ দেয়। আর আপনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ নেওয়ার জন্য আগ্রহী। সেইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নজরে রাখবেন। মাঝেমধ্যে চেক করবেন, তাদের স্কলারশিপ সম্পর্কে আপডেট তথ্য। এতে আপনি সঠিক সময়ে,

তাদের স্কলারশিপ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং দ্রুত সময়ে আবেদন করতে পারবেন। এইভাবে অনেক সময় ফুল ফ্রী স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ফুল ফ্রী স্কলারশিপে আবেদন করার আগে সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্ট চেক করে নিবেন। কারণ আবেদনে একটু ভুল থাকার জন্য অনেক আবেদন বাতিল হয়ে যায়।

FAQ/আলোচিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ স্কলারশিপ পেতে কি যোগ্যতা লাগে?
উত্তরঃ স্কলারশিপ পেতে আপনাকে আপনার একাডেমিক রেজাল্ট ভালো রাখতে হবে। তারপর পড়ালেখায় অনেক মেধাবী হতে হবে। অন্যান্য সামাজিক কাজগুলোতে অভিজ্ঞ ও জড়িত থাকতে হবে। সেই সাথে ভালো SOP লিখার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে এবং স্কলারশিপ পাওয়ার যে শর্তগুলো। সেই শর্ত অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
বিদেশে-স্কলারশিপ-পাওয়ার-যোগ্যতা
প্রশ্নঃ IELTS এ কত পেলে স্কলারশিপ পাওয়া যায়?
উত্তরঃ স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য আপনাকে IELTS এ সর্বনিম্ন ৬.৫ স্কয়ার পাওয়া লাগবে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার IELTS এ স্কোর সর্বনিম্ন ৬ থাকলেও হয়। কিন্তু আপনি যদি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং ফুল ফ্রি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেন। তাহলে এখানে আপনার IELTS স্কোর ৭ থেকে ৭.৫ থাকতে হবে। আর এর সাথে যদি ভালো একাডেমিক রেজাল্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো ঠিক থাকে। তবে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

প্রশ্নঃ বিদেশে পড়তে সিজিপিএ কত লাগে?
উত্তরঃ বিদেশে পড়ার জন্য বা আবেদন করার জন্য। আপনার সর্বনিম্ন সিজিপি ২.৫০ থাকতে হবে। আবার অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা দেশে এই আবেদন করার জন্য সবচেয়ে কম ৩ পয়েন্ট সিজিপি চাওয়া হয়। তবে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বনিম্ন সিজিপি ২.৫০ চাওয়া হয়। কিন্তু বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য বা আবেদন করার জন্য। আপনার যদি ৩.৫০ এর ওপর সিজিপি থাকে, তাহলে সুযোগ বেশি পাওয়া যাবে। তাই ৩.৫০ বা ৪ পয়েন্ট হলে সব থেকে ভালো হয়।

প্রশ্নঃ কোন দেশে ১০০% স্কলারশিপ দেওয়া হয়?
উত্তরঃ এখনকার সময়ে অনেকগুলো দেশে ১০০% স্কলারশিপ দেওয়া হয়। এ দেশগুলো হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, হাঙ্গেরি, চীন, জার্মান সহ আরো বেশ কিছু দেশ। এ দেশগুলোতে স্কলার্শিপ পাওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। কিন্তু আপনি যদি ১০০% স্কলারশিপ পেতে চান। তাহলে আপনাকে ভালো মেধাবী হতে হবে, রেজাল্ট ভালো থাকতে হবে, ইংরেজি ভাষা জানতে হবে। সেই সাথে আরো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা লাগবে।
প্রশ্নঃ স্কলারশিপ পেলে কি নিজের টাকা খরচ করতে হয়?
উত্তরঃ স্কলারশিপ দুই রকমের হয়। প্রথম স্কলারশিপ হচ্ছে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে আংশিক স্কলারশিপ। এখন আপনি যদি ফুল ফ্রী স্কলারশিপ পান, তাহলে আপনার নিজের টাকা খরচ করা লাগবে না। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই আপনার পড়ালেখার সব খরচ তারা বহন করবে। এমনকি আপনাকে মাসিক ভাতাও দিতে পারে। তবে আপনি যদি আংশিক স্কলারশিপ পান। সেক্ষেত্রে কিছু টাকা আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দিবে। আর কিছু টাকা আপনাকে বহন করতে হবে।

শেষ কথাঃ বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা

বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা বিষয়ে যদি আগে থেকে জানা যায়। তাহলে বিদেশে পড়ালেখা করার জন্য স্কলারশিপ পাওয়া এবং নিজেদেরকে ওইভাবে প্রস্তুত করা সহজ হয়ে যায়। যেসব শিক্ষার্থীদের বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে। তারা ভালোভাবে পড়ালেখা করবেন। আপনাদের একাডেমিক রেজাল্ট যেন ভালো থাকে। সেই সাথে আপনারা যেন বেশ কিছু কাজে অভিজ্ঞ ও দক্ষ হতে পারেন। তাছাড়া বিদেশে পড়াশোনা করার জন্য আপনাদেরকে ইংরেজি ভাষা শিখতে হবে।

ইংরেজি ভাষা শেখার কারণে অনেকেই স্কলারশিপ পেয়ে যায়। এগুলোর পাশাপাশি আপনারা এক্সট্রা দক্ষতা হিসেবে ইন্টারভিউ দেওয়া শিখবেন, ভালো SOP লেখা শিখবেন। আর নিয়মিত স্কলারশিপ সম্পর্কিত তথ্য গুলো নজরে রাখবেন। একটা কথা মাথায় রাখবেন স্কলারশিপ পেতে হলে। আপনাকে অনেক চেষ্টা করতে হবে। আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে এবং সব ডকুমেন্ট প্রস্তুত করে আবেদন করতে হবে। তাহলে আপনি বিদেশে স্কলারশিপ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url