জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস এর গুরুত্ব
জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস এর গুরুত্ব কতটুকু তা এখন আপনাদেরকে জানানো
হবে। আপনারা আজকের এই আলোচনা থেকে জানতে পারবেন ভোক্তা অধিকার দিবস কি ও কবে
পালিত হয়, ভোক্তার মৌলিক অধিকার কি এবং ভোক্তা অধিকারে কিভাবে অভিযোগ করবেন।
আজকের এই আলোচনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যা জানা আমাদের সকলেরই অনেক
প্রয়োজন। তাই আজকের এই ভোক্তা অধিকার নিয়ে পুরো আলোচনাটি ভালোভাবে
পড়বেন। এতে আপনারা সজাগ থাকতে পারবেন এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেকে
গড়তে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস এর গুরুত্ব
- জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস এর গুরুত্ব
- জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস কি এবং কবে পালিত হয়
- ভোক্তা অধিকার বলতে কি বোঝায়
- ভোক্তার যেসব মৌলিক অধিকার থাকে
- বাস্তব জীবনে এর প্রভাব কতটুকু
- বাংলাদেশের ভোক্তা সমস্যার বাস্তব কিছু চিত্র
- কারা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের জন্য কাজ করে
- একজন সচেতন ভোক্তা হিসেবে আমাদের করণীয় কি
- ভোক্তা অধিকারে কিভাবে অভিযোগ করবেন
- ভোক্তা অধিকার রক্ষায় শিক্ষার ভূমিকা কতটুকু
- FAQ/সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- শেষ কথাঃ জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস এর গুরুত্ব
জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস এর গুরুত্ব
জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ এই দিবস আমাদেরকে
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। ভোক্তা অধিকার দিবসকে
শুধুমাত্র একটি দিন বললে ভুল হবে। কারণ এই দিনটি শুধুমাত্র একটি দিন না। বরং
এই দিন আমাদের দেশের মানুষকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার একটি মাধ্যম।
আমরা সকলেই প্রতিদিন আমাদের প্রয়োজনীয় পণ্য, দোকান থেকে কিনি এবং বিভিন্ন ধরনের
সেবা ব্যবহার করি। কিন্তু আমরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে না জানার কারণে
প্রতারণার শিকার হয়। এই প্রতারণার শিকার যেন আমাদেরকে না হতে হয়। এ কারণেই
মানুস্কে সচেতন করার জন্য এই ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হয়ে থাকে, যার গুরুত্ব
অনেক বেশি।
ভোক্তা অধিকার দিবসে মানুষকে জানানো হয়। যে তারা নিরাপদ পণ্য ব্যবহার করার
অধিকার রাখে। এই পণ্য ব্যবহার করার সময় যদি, তাদের কোন ক্ষতি হয় বা এই পণ্য যদি
তাদের জন্য নিরাপদ না হয়। তবে তারা এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করারও অধিকার
রাখে। এইসব বিষয়গুলো সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য এই দিবস পালন করা
হয়।
এই দিবস মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে বাজারে জিনিসপত্রের দাম সঠিক থাকে। এতে
ভোক্তারা সচেতন হতে পারে, ব্যবসায়ীরা সহজে প্রতারণা করতে পারে না। যার কারণে
ভেজাল পণ্য, জিনিসপত্রের দাম বেশি চাওয়া দূর হয়। ফলে বাজার থাকে সচ্ছ। আগের
মানুষ সচেতন কম ছিল। যার কারণে অনেকেই অনেক ধরনের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও চুপ
থাকতেন।
এমনকি অনেক সময় ব্যবসায়ীরা প্রতারণা করলেও, ভোক্তারা চুপচাপ তা সহ্য
করতো। কিন্তু এই দিবস মানুষকে তার অধিকার নিয়ে সচেতন করেছে। যেকোনো
অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তার সমাধান পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছে। এতে
মানুষজন প্রতারণা হওয়া থেকে বাঁচছে। সেই সাথে মানুষজন, তাদের অধিকার
সম্পর্কে সচেতন হয়েছে।
ফলে ভোক্তা অধিকার থেকে প্রতারণা কমানো সুষ্ঠু এবং নিরাপদ একটি বাজার গড়ে উঠেছে।
তাই বলা যায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবসের গুরুত্ব অনেক বেশি। যা
আমাদের দেশের সব নাগরিকদের জানা দরকারি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস কি এবং কবে পালিত হয়
জাতীয় উদ্ভোক্তা অধিকার দিবস বলতে বোঝায়। এমন একটি দিন, যে দিনে মানুষকে তার
অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা মূলক কিছু বিষয় জানানো হয়। যেন ভোক্তারা তাদের
অধিকার, তাদের নিরাপত্তা এবং তাদের নায্য পণ্য ও সেবা পাওয়ার বিষয়গুলো
সম্পর্কে জানতে পারে।
এই দিবসে মানুষকে জানানো হয়। কোনো ব্যক্তি যদি পণ্য বা সেবা নেওয়ার সময়
প্রতারিত বা অন্যায়ের শিকার হয়। তবে তারা এর বিরুদ্ধে কিভাবে লড়বে, কিভাবে
অভিযোগ করবে এবং কিভাবে তাদের অধিকার আদায় করবে। আমাদের দেশে জাতীয় ভোক্তা
অধিকার দিবস পালিত প্রতি বছর ১৫ মার্চে। এমনকি আন্তর্জাতিকভাবেও,
এই তারিখে গোটা বিশ্বে ভোক্তা অধিকার দিবস পালন করা হয়। এই দিবস পালন করার
উদ্দেশ্যই হচ্ছে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। বাজারের জিনিসপত্রের দাম
নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের অধিকার সম্পর্কে জানানো। এছাড়াও এই দিনে
ব্যবসায়িকদের দায়িত্বশীল হতে, সুন্দর আচরণ করতে, পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিতে
এবং নিরাপদ পণ্য সরবরাহ করতে উৎসাহ দেওয়া হয়
ভোক্তা অধিকার বলতে কি বোঝায়
ভোক্তা অধিকার বলতে বুঝানো হচ্ছে, আপনি যখন বাজার থেকে কোন পণ্য কিনবেন বা সেবা
নিবেন। তখন সেই পণ্য বা সেবা ভালো না খারাপ। এই বিষয়গুলো আপনার জানার অধিকার
আছে এবং আপনার ভালো পণ্য পাওয়ার অধিকার আছে। ধরেন আপনি বাজার থেকে যদি
কোন খাবার বা পণ্য কিনেন। তবে সেই খাবার যদি নষ্ট হয় বা খারাপ হয়।
অথবা মেয়াদউত্তীর্ণ হয়, তাহলে আপনি এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবেন। আর এই
অভিযোগ করার অধিকার কেই বলা হয় ভোক্তা অধিকার। আপনার কাছে যদি কোন পণ্যের
দাম বেশি চাওয়া হয় বা ভুল তথ্য দিয়ে ভেজাল পণ্য বিক্রি করা হয়। তবে সেখানেও
আপনি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারবেন এবং অভিযোগ করতে পারবেন। এই
অধিকারগুলোকেই আসলে ভোক্তা অধিকার বলা হয়ে থাকে।
ভোক্তার যেসব মৌলিক অধিকার থাকে
প্রত্যেকটি মানুষেরই নিজেদের ভোক্তা হিসেবে কিছু অধিকার থাকে। এই অধিকারগুলোই
একজন মানুষকে সঠিক দামে পণ্য কিনতে বা সেবা নিতে সাহায্য করে এবং প্রতারণা থেকে
দূরে রাখে। এই অধিকারগুলো একজন মানুষ যদি আগে থেকে জানতে পারে।
তবে তারা ভোক্তা হিসেবে কখনোই প্রতারণার শিকার হবে না এবং যেখানেই অন্যায় হবে,
সেখানেই তারা প্রতিবাদ করতে পারবে ও তাদের ন্যায্য অধিকার। তারা সেখান থেকে
ছিনিয়ে আনতে পারবে। ভোক্তাদের যেসব মৌলিক অধিকারগুলো থাকে সেগুলো বলা
হলো।
১) নিরাপদ পণ্য ও সেবা নেওয়ার অধিকারঃ একজন ভোক্তার মৌলিক অধিকার
হিসেবে প্রথমেই থাকে। নিরাপদ খাদ্য বা পণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের সেবা
পাওয়ার। এখানে একজন ব্যবসায়ীকে এই বিষয়গুলোর উপর সতর্ক থাকতে হবে।
যেন একজন ভোক্তা কখনোই তার কাছ থেকে প্রতারণা শিকার না হয় এবং তাদেরকে যেন
কখনোই নষ্ট বা ভেজালযুক্ত খাবার বিক্রি করা না হয়।
২) সঠিক তথ্য জানার অধিকারঃ একজন ভোক্তার মৌলিক অধিকার আছে কোন
পণ্য কেনার সময় তার সঠিক দাম, পণ্যের গুণগত মান কেমন, পণ্যের মেয়াদ এবং পন্য
ব্যবহার ও পরিষ্কার সম্পর্কিত সকল তথ্য সম্পর্কে জানার। যদি একজন ভোক্তাকে
ভুল তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করা হয় তবে এতে ভোক্তাদের মৌলিক অধিকার নষ্ট হয়।
৩) পছন্দ করার অধিকার এবং অভিযোগ করার অধিকারঃ বাজারে আপনি যেকোনো জিনিস
পছন্দ করতে পারবেন এবং ইচ্ছামত বাজার করতে পারবেন। এখানে যেকোন পণ্য ইচ্ছামত
বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে। এটাকেই ভোক্তার আরেকটি মৌলিক অধিকার বলা হয়।
এখানে আপনাকে কেউ জোর করতে পারবে না। আর যদি কেউ জোর করে বা কোন সমস্যার
সম্মুখীন হন। তবে এখানে অভিযোগ করারও অধিকার আছে।
৪) ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারঃ কোনো পণ্য বা সেবা নেওয়ার পর,
যদি সেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাহলে সেখান থেকে আপনার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার
অধিকার আছে। ধরেন বাজার থেকে আপনাকে দোকানদার ভেজালযুক্ত পণ্য দিলো। আর
এখান থেকে আপনার যদি স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হয়। তবে এই ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে,
এটাই ভোক্তার মৌলিক অধিকার।
বাস্তব জীবনে এর প্রভাব কতটুকু
আগের মানুষ তাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে খুব কম জানতো। আগে তারা অন্যায় বা
প্রতারণার শিকার হলেও চুপ থাকতেন, কোন প্রতিবাদ করতেন না। কিন্তু বর্তমান
সময়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবসের জন্য অনেক মানুষ সচেতন হয়েছে। তারা
এখন যেকোনো সেবা এবং পণ্য কেনার আগে পণ্যের মান,
পন্যের দাম, পন্যের মেয়াদ এবং পন্য সম্পর্কিত সকল তথ্য যাচাই করছে। এ
কারণে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে গেছে। এখন
ভোক্তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পেরেছে। এখন কোন রকম সমস্যা হলেই, তারা
এই সমস্যা গুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে এবং অভিযোগ করছে।
এতে ব্যবসায়ীকেরাও অন্যায় করা থেকে বিরত থাকছে এবং পণ্যের দাম ও পণ্যের মান
নিয়ে অনেক সতর্ক থাকছে। ভোক্তা অধিকার দিবসের জন্য এখন বাজারে প্রতারণা হওয়ার
সমস্যা এবং বাজারের বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমেছে। এতে ভেজাল পণ্য এবং পণ্যের
দাম বেশি নেওয়ার ঘটনা কমেছে। তাছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে,
এখনকার এই সময়ে ভোক্তা অধিকার দিবসের সচেতনতামূলক বিষয়গুলো। ভবিষ্যৎ
প্রজন্মের ওপর ভালো একটা প্রভাব ফেলেছে। এতে নতুন প্রজন্ম ছোট থেকেই, নিজেদের
অধিকার সম্পর্কে জানতে পারছে। যার কারণে পরবর্তী সমাজ হবে একটি সচেতন মূলক
সমাজ। আপনারা চাইলে কিন্তু উপর থেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস এর গুরুত্ব
সম্পর্কেও জেনে নিতে পারেন।
বাংলাদেশের ভোক্তা সমস্যার বাস্তব কিছু চিত্র
আমাদের বাংলাদেশে ভোক্তা সমস্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এখন এই সমস্যাগুলো
মানুষের স্বাস্থ্য, অর্থ এবং নিরাপত্তার উপরেও প্রভাব ফেলেছে। আমাদের
দেশে সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে যে ভেজাল যুক্ত এবং নিম্নমানের পণ্য
বাজারে দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান সময়ে অনেক খাবারে রাসায়নিক পদার্থ
মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এতে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি
হয়েছে এবং অনেক মানুষ মনে করে বাইরের বেশিরভাগ পণ্য বা খাবারে ভেজাল
থাকে। তাছাড়া আমাদের দেশের আরও কিছু ভোক্তা সমস্যা আছে, যেমন দিন দিন নকল
পণ্য বাড়ছে। যার কারনে আমাদের দেশের বাজারগুলোতে এখন আসল
পণ্য বাদে, নকল পণ্যই বেশি হয়ে গেছে।
তারপর ব্যবসায়ীরা বেশি টাকা ইনকাম করার লোভে। ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি
করার সময় অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে এবং তাদের সাথে প্রতারণা করে ভুল তথ্য দিয়ে
পণ্য বিক্রি করছে। এখন বর্তমান সময়ে সবথেকে বড় যে সমস্যা হচ্ছে। অনলাইনে
ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। অনেক মানুষ আছে, যারা অনলাইনে পণ্য
অর্ডার করে প্রতারিত হচ্ছে।
কখনো তারা পণ্য পায় না, কখনো আবার পণ্য পেলেও নিম্নমানের পণ্য বা আলাদা পণ্য
তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে। তারপর অনেক সময় এ সমস্যা গুলোর জন্য। মানুষ ভোক্তা
অধিকারে অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায় না। এমনকি অভিযোগ করার কারণে
ভোক্তারায় অনেক সময় অনেক সমস্যার মধ্যে পড়ে।
এজন্য অনেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে না। এতে এ সমস্যা দিন দিন আরো
বেড়েছে। এসব বিষয়গুলো বা সমস্যাগুলোর জন্য। অনেক সময় অনেক এলাকায়, অনেক
অসাধু ব্যবসায়ীকে হাজার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারপরেও এই সমস্যা কমার
বদলে দিন দিন বাড়ছে। যা আমাদের দেশে ভোক্তাদের বড় একটি সমস্যা হয়ে
দাঁড়িয়েছে।
কারা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের জন্য কাজ করে
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য। শুধুমাত্র যে একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করবে বা
করে, এটা বলা যাবে না। এখানে ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য, দেশের সরকার সহ
সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সংস্থাকে একসাথে কাজ করতে হয়। আমাদের দেশে
ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য, কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান আছে।
যেমন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মোবাইল কোর্ট ও প্রশাসনিক
টিম, আদালত ও আইন ব্যবস্থা এবং কিছু বেসরকারি ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠান।
ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য সবথেকে বড় ভূমিকা রাখে জাতীয় ভোক্তা
অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সরকারি এই প্রতিষ্ঠান বাজারে নজর রাখে ও বাজারের সকল
তথ্য তদন্ত করে।
ভোক্তারা কোনো অভিযোগ করলে তা গ্রহণ করে এবং প্রমাণ পেলে। সে অন্যায় বা
প্রতারণার বিরুদ্ধে, তারা আইনগত ব্যবস্থা নেয়। মোবাইল কোর্ট বা প্রশাসনিক
টিম বাজারে মাঝেমধ্যে অভিযান চালায়। তারা বাজারে পন্যের অতিরিক্ত দাম,
প্রতারণা ও ভেজাল পণ্য সনাক্ত করে। আর তাৎক্ষণিক তারা তখন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
নেয় এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে।
তাছাড়া ভোক্তারা যদি কোন বাজার থেকে পণ্য বা সেবা নেওয়ার সময়
ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাহলে তাদেরকে আইনগত ভাবে আদালত ক্ষতিপূরণ বা সঠিক বিচার
পেতে সাহায্য করে। এই সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলা বাদেও বেশ কিছু বেসরকারি
প্রতিষ্ঠান আছে। যারা সমাজে ভোক্তা অধিকার নিয়ে সচেতনমূলক প্রোগ্রাম করে থাকে
এবং মানুষকে সচেতন করে তাদের অধিকার সম্পর্কে।কারণ মানুষ যদি সচেতন না
হয়।
তাহলে কখনোই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করা আইন সফল হবে না। কিন্তু ভোক্তারা যদি
তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং তারা যদি অন্যায় বা প্রতারণার
বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। তাহলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থাটি
আরো কার্যকর হবে। তাই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন হতে
হবে, তাদের অধিকার সম্পর্কে। তবেই ভোক্তার অধিকার সংরক্ষন করা সম্ভব হবে।
একজন সচেতন ভোক্তা হিসেবে আমাদের করণীয় কি
আমরা অনেকেই ভাবি যে আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য সরকার কাজ করবে বা করে। কিন্তু
এটা ভাবা আমাদের ঠিক হবে না। কারণ আমরা যদি আমাদের অধিকার নিয়ে সচেতন না থাকি।
তাহলে সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কখনোই ভালোভাবে কাজ করতে পারবে না। তাই
তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার জন্য। আর আমাদের অধিকার ভালোভাবে নেওয়ার
জন্য।
আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। যেমন আমরা যদি সঠিকভাবে সচেতন হয়ে বাজার থেকে
পণ্য কিনি বা অন্য সকল সেবা গ্রহণ করি, তাহলে অনেক সমস্যা থেকে বাঁচা
যাবে। বাজার থেকে কোন পণ্য বা সেবা নেওয়ার সময়। একজন সচেতন ভোক্তা হিসেবে
আমাদেরকে প্রথমেই পণ্য যাচাই করতে হবে, পণ্যের মেয়াদ, পণ্যের গুণগত মান পণ্যের
দাম। আর পণ্যের লেভেলে থাকা তথ্য সঠিক কিনা দেখতে হবে।
এতে ভেজালযুক্ত পণ্য পাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং ব্যবসায়িকরাও সচেতন থাকে।
বাজার থেকে কোনো জিনিস কেনার সময়। দোকান থেকে কেনাকাটা করার রশিদ নিতে হবে।
কারণ পরবর্তীতে পণ্যে ভেজাল থাকলে বা কোন সমস্যা হলে, প্রমাণ হিসেবে এই
রশিদ কাজে লাগবে। বাজার থেকে কোন জিনিসপত্র কেনার সময়, যদি পণ্যের দাম অনেক কম
হয়। তবে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা অনেক সময় অফারের আড়ালে,
নিম্নমানের নকল পণ্য বা মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করা হয়। যদি বাজারে
জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আবার আপনারা যদি কোন প্রতারণার
শিকার হন, তবে চুপ হয়ে বসে না থেকে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ জানাতে
হবে। এতে শুধু নিজের সমস্যা সমাধান হবে না। বরং অন্যেরাও এখান থেকে সুবিধা
নিতে পারবে। আবার এর ভয়ে অন্য ব্যবসায়িকরাও প্রতারণা করা থেকে বিরত
থাকবে।
সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, একজন সচেতন ভোক্তা হিসেবে। প্রথমেই আমাদেরকে
আমাদের অধিকার সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। কারণ আমরা যদি আমাদের অধিকার
সম্পর্কে না জানি। তবে আমরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হবো। তাই প্রথমে
আমাদেরকে সচেতন হতে হবে, আমাদের অধিকার নিয়ে। তাছাড়া অনলাইনে কেনাকাটা করার
সময় আমাদেরকে আরো সতর্ক হতে হবে।
ভোক্তা অধিকারে কিভাবে অভিযোগ করবেন
আপনি যদি একজন ভোক্তা হয়ে থাকেন। আর আপনি যদি কোন পণ্য বা সেবা নেওয়ার সময়
প্রতারণার শিকার হন। যেমন আপনাকে যদি ভেজাল যুক্ত পণ্য দেয়। আবার পণ্যের দাম
আপনার কাছে যদি বেশি চাওয়া হয় বা ভুল তথ্যের শিকার হন। তবে আপনি বসে না থেকে
ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করতে পারবেন।
আপনার অভিযোগ যদি সঠিক হয় এবং আপনি যদি ঠিকভাবে আপনার অভিযোগ করতে পারেন।
তাহলে অনেক সময় খুব তাড়াতাড়ি আপনার অভিযোগের সমাধান পেতে
পারেন। পরবর্তীতে আপনার জন্য অন্য ভোক্তারাও এই ধরনের সমস্যার হাত থেকে
বাঁচতে পারে। ভোক্তা অধিকারের অভিযোগ করার জন্য প্রথমেই আপনাকে প্রমাণ
দেখাতে হবে।
যেমন পণ্য কিনার রশিদ, পণ্যের ছবি, পণ্যের প্যাকেট ও লেভেল। এরপর আপনার
নিকটস্থ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে এইসব অভিযোগ ও প্রমাণ জমা দিতে
হবে। এই অভিযোগ করার জন্য আপনাকে সরাসরি অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করা লাগবে।
আপনি চাইলে অনলাইনেও এই অভিযোগ করতে পারেন।
অথবা ভোক্তা অধিদপ্তরের হেল্পলাইন নাম্বারে, তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
অভিযোগ করার সময় খেয়াল রাখবেন যেন অভিযোগটা সুন্দরভাবে লিখা হয়। যেমন কোথা
থেকে পণ্য কিনেছেন, পণ্যের কি সমস্যা হয়েছে, কবে এ সমস্যা হয়েছে। এই তথ্যগুলো
যেন সঠিকভাবে দেওয়া থাকে।
ভোক্তা অধিকার রক্ষায় শিক্ষার ভূমিকা কতটুকু
ভোক্তার অধিকার রক্ষায় শিক্ষার ভূমিকা অনেক বেশি। কারণ একজন ভোক্তা যত
বেশি শিক্ষিত হবে, সে তত তার অধিকার সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তার সাথে কোন
অন্যায় হলে সে অন্যায়ের বিরোধিতা করতে পারবে। ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য
শিক্ষা যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে চলেন, সেগুলো জেনে নিই।
শিক্ষিত মানুষ কোনটা সঠিক এবং কোনটা ভুল তা ধরতে পারে। যার কারণে বাজারের কোন
পণ্য ভালো। আর কোন পণ্যতে ভেজাল আছে ও কোন পণ্য নিম্নমানের তা ভালোভাবে বুঝতে
পারে এবং পন্যের সত্যতা যাচাই করতে পারে। যেমন পন্যের লেভেল, মেয়াদ এবং দাম
সঠিক কি না তা বুঝতে পারে। তাছাড়াও শিক্ষার অভাবে অনেক মানুষ আছে।
যারা জানে না যে তারা যদি প্রতারিত হয় বা তাদের কাছে যদি ভেজাল যুক্ত পণ্য
বিক্রি করা হয়। তবে তারা এর জন্য অভিযোগ করতে পারবে এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করতে
পারবে। কিন্তু একজন মানুষ শিক্ষিত হলে, তারা এই অধিকার সম্পর্কে জানতে
পারবে এবং তারা তাদের অধিকার আদায় করতে পারবে।
তাই বলা যায় ভোক্তা অধিকার রক্ষায় শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা
শিক্ষা মানুষকে তার কাজের ওপর দায়িত্বশীল করতে সাহায্য করে। আর এই
শিক্ষার কারণে মানুষ নিজের অধিকার এবং অন্যের অধিকার কেউ সমানভাবে দেখতে
পারে। যেটা একটি সুষ্ঠু বাজার, সুষ্ঠু সমাজ এবং সুষ্ঠু জীবন ব্যবস্থা করতে অনেক
সাহায্য করে।
FAQ/সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ ভোক্তা অধিকার আইনের ফোন নাম্বার কত?
উত্তরঃ ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে অভিযোগ করার জন্য হট লাইন নাম্বার
১৬২১১ আর তাদের মোবাইল নাম্বার হচ্ছে ০১৭৭৭-৭৫৩৬৬৮ আপনাদের যদি
অধিকার লঙ্ঘন হয়। আর আপনাদেরকে যদি প্রতারণা বা ভেজাল পণ্য দেওয়া হয়। তাহলে
অভিযোগ করতে, তাদের হটলাইন নাম্বার এবং মোবাইল নাম্বারে ফোন করতে পারেন।
প্রশ্নঃ ভোক্তা অধিকার কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?
উত্তরঃ ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। তারা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা করে, বাজার পর্যবেক্ষণ করে,
ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণ করে এবং তথ্য প্রমাণ নিয়ে অভিযান পরিচালনা
করে। এতে অশৃঙ্খল বাজার কে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা হয়।
প্রশ্নঃ কিভাবে ভোক্তা সেবার সাথে যোগাযোগ করব?
উত্তরঃ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে কোন সেবা নিতে চাইলে বা তাদের
সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে। আপনি তাদের হট লাইন নাম্বার ১৬১২১ নাম্বারে কল করতে
পারেন। এখানে কল করে আপনি আপনার সমস্যা বা সেবা সম্পর্কে যেকোনো তথ্য
জানতে পারবেন। কোন প্রতারণা বা পন্যের দাম বেশি চাওয়া, ভেজালযুক্ত পণ্য নিয়ে
সমস্যা হলে অভিযোগও করতে পারবেন।
প্রশ্নঃ ভোক্তা অধিকার এর কাজ কি?
উত্তরঃ মানুষ যেন নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাদের অধিকার
তারা গ্রহণ করতে পারে। এজন্য ভোক্তা অধিকার কাজ করে। মানুষ যেন নায্য দামে
স্বাস্থ্যকর পণ্য কিনতে পারে এবং ভেজাল যুক্ত পণ্য থেকে দূরে থাকতে পারে। এজন্য
ভোক্তা অধিকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। বাজারে প্রতারণার ঝুঁকি কমায়। আর
ভোক্তাদের অভিযোগ নিয়ে সমস্যা সমাধান করে।
আরো পড়ুনঃ পল্লী বিদ্যুৎ বিল অনলাইনে চেক করুন
প্রশ্নঃ অধিকার লংঘন হলে কি করবেন?
উত্তরঃ ভোক্তার অধিকার যদি লঙ্ঘন হয়। তাহলে চুপচাপ বসে না থেকে সঠিক তথ্য
প্রমাণ নিয়ে, আপনি ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করবেন। দরকার হলে, তাদের হট লাইন
নাম্বারে ১৬১২১ কল করবেন। সরাসরি আপনি অফিসে গিয়েও লিখিত অভিযোগ করতে পারবেন।
অথবা অনলাইনে ভোক্তা অধিদপ্তর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অভিযোগ জমা দিবেন।
শেষ কথাঃ জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস এর গুরুত্ব
আমরা যারা ভোক্তা আছি আমাদের সবাইকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানা দরকার। কেননা
আমরা যখন আমাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকবো। তখন আমরা প্রতারণার শিকার কম হবো
এবং আমরা যেকোনো বিষয়ে সতর্ক থাকতে পারবো। এতে করে আমরা একজন সচেতন
নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারবো।
অনেকেই জাতীয় ভোক্তা অধিকার দিবস এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানে না।
কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের প্রত্যেকেরই জানা দরকার। এ বিষয়ে আগে থেকে
ধারণা থাকলে। ভোক্তারা সচেতন থাকতে পারবে। এতে বাজার থেকে ভেজাল যুক্তপণ্য,
নিম্নমানের পণ্য, প্রতারণা হওয়া এবং অন্যায় হওয়ার সমস্যা কমে
যাবে। এজন্য ভোক্তা হিসেবে আমাদের অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে এবং আমাদের
দায়িত্ব বুঝতে হবে।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url