দীর্ঘদিন বাইক ব্যবহার না করলে কি হয়

দীর্ঘদিন বাইক ব্যবহার না করলে কি হয় এ বিষয়ে আজকে আমি আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবো। সেই সাথে দীর্ঘদিন বাইক ব্যবহার করা না হলে যেসব সমস্যা হতে পারে।
দীর্ঘদিন-বাইক-ব্যবহার-না-করলে-কি-হয়
এই সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করবেন তাও জানাবো। আপনাদের যাদের পুরনো বাইক আছে এবং অনেকদিন ধরে বাইক ব্যবহার করছেন না। তারা কিভাবে এই বাইকের যত্ন নিবেন চলেন জেনে নেওয়া যাক।

পেজ সূচিপত্রঃ  দীর্ঘদিন বাইক ব্যবহার না করলে কি হয়

দীর্ঘদিন বাইক ব্যবহার না করলে কি হয়

দীর্ঘদিন বাইক ব্যবহার না করলে কি হয় তা আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন। অনেক সময় আমরা আমাদের ব্যস্ততার কারণে অনেকদিন ধরে বাইক বন্ধ করে ফেলে রাখি। তারপর সাম্প্রতিক আমাদের দেশে তেলের যে সংকট দেখা দিয়েছে। এর জন্য অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাইক ফেলে রেখেছে। বাইক অনেকদিন ধরে না চালালে, এতে বাইকের অনেক সমস্যা হবে।
কারণ বাইক অনেকদিন ধরে পড়ে থাকলে, বাইকের  গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। যেটা শুরুতে ছোট হলেও পরবর্তীতে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি করে বসে। বাইক অনেকদিন ধরে ফেলে রাখলে, সব থেকে বেশি সমস্যা হয় ব্যাটারির চার্জ বসে যেয়ে, আস্তে আস্তে ব্যাটারী নষ্ট হয়ে যাওয়ার। বাইকের ব্যাটারি নষ্ট হলে সেলফে স্টার্ট দিতে পারবেন না, হেডলাইট জলবে না, 

হর্ন বাজবে না আরো অনেক ধরনের সমস্যা হবে। তাছাড়া অনেক দিন বাইক না চালালে ইঞ্জিনের ভিতরে মবিলের গাদ জমে যাবে। বাইকের ইঞ্জিনে ভালোভাবে তেল চলাচল করতে পারবে না । এতে বাইকের ইঞ্জিনের স্মুথনেস কম হয়ে যাবে এবং ইঞ্জিনের অংশগুলো শুকিয়ে থাকবে। পরবর্তীতে স্টার্ট দিতে গেলে সেটা ইঞ্জিনের উপর চাপ বাড়াবে।

তাছাড়া অনেকদিন ধরে বাইক বন্ধ হয়ে পড়ে থাকলে। বাইকের টায়ারের পাম্প কমে টায়ার দুর্বল হয়ে ফেটে যাবে। এগুলা ছাড়াও আরো একটি বড় সমস্যা এখন বর্তমানে বেশি দেখা যাচ্ছে। যেমন বাইক অনেকদিন ফেলে রাখলে ফুয়েল ট্যাংকিতে এবং বাইকের চেন সহ আরও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রে জং লেগে যায়। আর বাইকের ট্যাংকিতে জং লাগলে, এটা ঠিক করতে আপনার বাইকে অনেক টাকা খরচ হবে।

অনেক সময় বন্ধ পড়ে থাকা বাইকের মধ্যে ইঁদুর বাসা বাঁধে, এতে বাইকের ভেতরের ইলেকট্রিক্যাল তার সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র গুলো নষ্ট করে দেয়। অনেক সময় আবার পড়ে থাকা বাইকের ব্রেক শক্ত হয়ে যায় এবং আগের মত কাজও করেনা। বাইক যদি অনেকদিন ধরে পড়ে থাকে, তবে বন্ধ থাকা বাইক আবার ব্যবহার করার আগে কি করতে হবে তা নিচের পয়েন্ট থেকে জেনে নিবেন।

বন্ধ থাকা বাইক আবার ব্যবহার করার আগে যা করবেন

হঠাৎ করেই বন্ধ থাকা বাইক চালানো শুরু করবেন না। অনেকদিন থেকে বাইক বন্ধ থাকলে চালানোর আগে বাইকের সব যন্ত্রাংশ ভালোভাবে চেক করে সব ঠিক আছে, কিনা তা দেখে নেওয়া ভালো। এতে বন্ধ থাকা বাইক হঠাৎ করে চালালে কোন দুর্ঘটনা বা বাইকের কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। অনেকদিন ধরে বাইক বন্ধ থাকলে।

বাইকের ব্যাটারির চার্জ শেষ বা ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বন্ধ থাকা বাইক চালানোর আগে ব্যাটারি ঠিক আছে, কিনা তা দেখে নিবেন। যদি ব্যাটারির চার্জ কমে যায়, তবে ব্যাটারি চার্জ করতে হবে। আর যদি ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ব্যাটারি নতুন লাগিয়ে নিতে হবে। বন্ধ থাকা বাইকের ইঞ্জিন অয়েল ঠিক আছে কিনা, তা দেখে নিবেন।

অনেক সময় বন্ধ থাকা বাইকের ইঞ্জিল অয়েল নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য আপনি দরকার হলে নতুন ইঞ্জিল অয়েল ব্যবহার করবেন। টায়ারের হাওয়া ও টায়ারের অবস্থা ঠিক আছে কিনা তা দেখতে হবে। যদি টায়ারে হাওয়া কম থাকে। আর টায়ারের অবস্থা ভালো থাকে, তবে হাওয়া ভরে নিবেন। আর টায়ার নষ্ট হলে নতুন টায়ার লাগিয়ে নিবেন।

অবশ্যই বন্ধ থাকা বাইকের টায়ারে হঠাৎ করে বেশি হাওয়া দিবেন না। বন্ধ থাকা বাইকের আবার ব্রেক শক্ত হয়ে যায়। তাই চালানোর আগে ব্রেক ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে। যদি ব্রেকের সমস্যা হয়, তবে তা সার্ভিসিং করাতে হবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বন্ধ থাকা বাইকের মাঝে মাঝে ট্যাংকির দিকে খেয়াল রাখবেন। আর বন্ধ রাখা বাইকের ফুয়েল ট্যাংকিতে যেন তেল ভর্তি করে রাখবেন। 

কারণ তেল কম থাকলে ট্যাংকিতে জং লেগে যায়। ফেলে রাখা বাইকের চেনে ও অন্যান্য যন্ত্রের লুব্রিকেশন দিয়ে নেবেন। তেল দিলে তখন এই জং দূর হবে ও বাইকের চেন ভেজা থাকবে। ফলে বাইক চালানোর সময় শব্দ কম হবে এবং আপনি ভালো পারফরম্যান্স পাবেন। বন্ধ থাকা বাইকটি স্টার্ট দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিবেন। এতে আপনার বাইকের ইঞ্জিনে ভালোভাবে তেল ছড়িয়ে পড়বে।

তখন আপনার বাইক আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, অনেক সময় বন্ধ থাকা বাইকে ইঁদুর বাসা বাধে। তারপর বাইকের গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রিক্যাল তার সহ আরো যন্ত্রাংশ নষ্ট করে দেয়। তাই অনেকদিন পর বাইক চালানর আগে, এগুলো ভালোভাবে চেক করে নিবেন। যদি কোন দরকারি তার কেটে যায়, তবে সেটা সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে গিয়ে সার্ভিস করিয়ে নিবেন।

বাইক ব্যবহার না করলে কিভাবে সংরক্ষণ করবেন

বাইক হঠাৎ করে অনেক দিনের জন্য বন্ধ রাখার পর যদি সংরক্ষণ করা না হয়। তবে এই বাইক বেশিদিন লাস্টিং করবে না। কারণ সংরক্ষণ ঠিক মত নিতে না পারলে, আস্তে আস্তে বাইকের সব গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাবে। এতে আপনার বাইকের বড় ধরনের সমস্যা হবে। যা ঠিক করতে আপনাকে পরবর্তীতে অনেক টাকা খরচ করতে হবে। তাই আপনি যদি আপনার বাইক ব্যবহার না করেন।

তবে কিভাবে সংরক্ষণ করবেন সে বিষয়ে জেনে নিতে হবে। যদি অনেকদিন ব্যবহার না করতে চান, তবে প্রথমে এই বাইকটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে করে নিবেন। খেয়াল রাখবেন যেন বাইকে কোন ধুলা, ময়লা না জমে থাকে, এতে বাইকে জং লেগে যেতে পারে। বাইকটি যে স্থানে রাখবেন, সেই জায়গা পরিষ্কার, শুকনো এবং বৃষ্টির পানি যেন না পড়ে খেয়াল করবেন। নয়তো আপনার বাইকের রং,
দীর্ঘদিন-বাইক-ব্যবহার-না-করলে-কি-হয়
ইলেকট্রিকাল ও মেটাল অংশ নষ্ট হয়ে যাবে। অবশ্যই সংরক্ষণ করার জন্য বাইক ঢেকে রাখার কভার কিনতে হবে এবং সেই কভার দিয়ে বাইক ঢেকে রাখতে হবে। এতে বাইরের পরিবেশ থেকে বাইকটা সংরক্ষণ করা সহজ হবে। বাইক দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে মাঝে মধ্যে স্টার্ট দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দেবেন। এতে আপনার বাইকের ইঞ্জিন সচল থাকবে এবং আপনার ব্যাটারিও ভালো থাকবে।

তবে বাইক স্টার্ট দিয়ে অল্প কিছুক্ষণ চালালে আরো ভালো হবে। টায়ারের দিকে খেয়াল রাখবেন মাঝেমধ্যে গাড়িটি নড়াচড়া করাবেন। দরকার হলে ডাবল স্ট্যান্ড করে বাইকটি রাখবেন। এতে টায়ারের উপর চাপ কম থাকবে এবং টায়ার নষ্ট হওয়ার সমস্যা থাকবে না। বাইকের যেসব চলমান অংশ বিশেষ করে চেনে যেন জং না ধরে এবং শুকিয়ে না থাকে। এজন্য তেল দিবেন,

এতে বাইকের চেইন ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রে জং লাগবে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যদি আপনি অনেক বেশি সময় যেমন দুই থেকে তিন মাস বাইকটি বন্ধ রাখতে চাইলে আমার মতে আপনার বাইকের ব্যাটারিটা খুলে রেখে দেওয়াই ভালো হবে। এতে ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকবে। উপরে যে কথাগুলো বললাম, এগুলো মেনে চললে আপনি আপনার বাইক ব্যবহার না করেও অনেকদিন সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।

কতদিন বাইক না চালালে সমস্যা শুরু হতে পারে

বাইক ইঞ্জিনিয়ারদের মতে বাইক যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহ বন্ধ করে রাখা হয়। তবে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। কিন্তু এক মাসের বেশি যদি এই বাইক বন্ধ করে রাখা হয়। তবে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তারা আরো বলে এক মাসের বেশি বাইক বন্ধ রাখলে সব সমস্যা একসাথে শুরু হয় না।

বরং আস্তে আস্তে সমস্যা বাড়তে থাকে। তারা বলে বাইক একমাস বন্ধ থাকলে সাধারণত ব্যাটারির চার্জ কিছুটা কমতে পারে এবং টায়ারে হাওয়া কম হতে পারে। তবে এক মাস পর চালালে আবার ব্যাটারি চার্জ হয়ে যাবে এবং টায়ারে বাতাস দিলে তা ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু আপনারা যদি দুই থেকে তিন মাসের বেশি বাইক টানা বন্ধ করে রাখেন। তবে এতে বাইকের অনেক বড় ধরনের সমস্যা হয়ে যাবে। বেশিরভাগ দেখা যায় দুই থেকে তিন মাসের বেশি বাইক বন্ধ রাখলে। ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়, বাইক স্টার্ট হয় না এবং ব্রেকেও ভালোভাবে কাজ করে না।

তাই অনেক দিন টানা বাইক বন্ধ করে ফেলে না রেখে। মাঝেমধ্যে বাইক স্টার্ট দিবেন, হালকা একটু চালাবেন এবং ইঞ্জিন অয়েল চেক করবেন। বাইক যদি বন্ধ রেখেও ঠিক মত সংরক্ষণ করা যায়। তবে অনেকদিন বাইক ভালো রাখা সম্ভব। তাই বাইক বন্ধ করে রাখলে অবশ্যই এর যত্ন ভালোভাবে নিবেন।

বাইকের ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি

অনেক দিন ধরে বাইক যদি বন্ধ করে ফেলে রাখা হয়। তবে হঠাৎ করেই ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাবে না। কিন্তু অনেকদিন ধরে বাইক বন্ধ থাকলে, বাইকের ইঞ্জিনের কিছু সমস্যা হতে পারে। যেমন ধরেন অনেকদিন ধরে যদি বাইক স্টার্ট দেওয়া না হয়। তবে ইঞ্জিনের অয়েল নিচে নেমে যেতে পারে।

যার কারণে ইঞ্জিনের কিছু অংশ শুকিয়ে যায়, এতে হঠাৎ করে বাইক স্টার্ট দিলে ইঞ্জিনের ভেতরের অংশ ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। এতে পরবর্তীতে ইঞ্জিনের বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিবে। তাছাড়া অনেক দিন বাইক না চালানোর জন্য, বাইকের ইঞ্জিন এর মধ্যে হালকা জং লাগতে পারে।

যদি ইঞ্জিনে জং লেগে যায়, তবে বাইকের পারফরম্যান্স কমে যাবে। তাছাড়া অনেকদিন ধরে ট্যাংকিতে তেল থাকলে। সেই তেলের মান কমে যাওয়ার কারণে, এটা ইঞ্জিলের ক্ষতি করতে পারে। ফলে গাড়ি সহজে স্টার্ট হবে না। তবে ভালো খবর হচ্ছে, আপনারা যদি ফেলে রাখা বাইক মাঝেমধ্যেই স্টার্ট দিয়ে রাখেন।

আর হালকা একটু চালান ও নিয়মিত যদি ফুয়েল ট্যাংকির তেল এবং ইঞ্জিল অয়েল চেক করেন। তবে আপনার ইঞ্জিন ভালো অবস্থাতে থাকবে এবং এতে ইঞ্জিনের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। তাছাড়া আপনি চাইলে দীর্ঘদিন বাইক ব্যবহার না করলে কি হয় তা উপরের প্রথম পয়েন্ট থেকে জেনে নিতে পারেন।

দুই বছর বাইক স্টার্ট না দিলে কি হয়?

দুই বছর যদি টানা বাইক স্টার্ট না দিয়ে রাখা হয়। তবে এই ক্ষেত্রে আপনার বাইকের অনেক বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। এমনকি বাইকের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বিশেষ করে আপনার বাইকের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, ইঞ্জিনের ভেতরের অংশ নষ্ট হয়ে যাবে এবং বাইক চালানোর সময় অনেক শব্দ করবে।

এছাড়াও আপনার বাইকের পারফরম্যান্স কমে যাবে। তাছাড়া বাইকের ট্যাংকিতে জং ধরে যেতে পারে। ফুয়েল লাইনের কার্বুরেটর নষ্ট হয়ে যেতে পারে। চেন ব্রেক এবং অন্যান্য সব মেটাল অংশগুলোতে জং ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অনেকদিন ধরে বাইক ব্যবহার না করার কারণে। বাইকের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে থাকা গ্রিজ কমে যেতে পারে।

এতে স্বাভাবিকভাবেই বাইকে কাজ করবে না। এমনকি টানা ২বছর বাইক ফেলে রাখলে টায়ারও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই টানা দুই বছর বা এক মাসের বেশি বাইক স্টার্ট না দিয়ে ফেলে রাখবেন না। মাঝেমধ্যে বাইক স্টার্ট দিবেন, হালকা চালাবেন এবং বাইকের তেল ও ইঞ্জিল অয়েল চেক করবেন। এতে আপনার বাইক ভালো থাকবে অনেকদিন ধরে।

হঠাৎ বাইক বন্ধ হয়ে যায় কেন?

অনেক সময় বাইক চলতে চলতে বন্ধ হয়ে যায়, এতে ঘাবরাবেন না। কারণ অনেক সময় বাইক হঠাৎ চলতে চলতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এটা সাধারণত ছোটখাটো কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা থাকলে হয়। বেশিরভাগ এই সমস্যা তখন দেখা যায়, যখন বাইকে ভেজাল যুক্ত তেল ভরা হয়। অনেক সময় বাইকে তেল না থাকলে হঠাৎ বাইক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই বাইক বন্ধ হলে আগে,

এই দুইটি বিষয় চেক করবেন। (১)ট্যাংকিতে তেল আছে কিনা (২) তেল নিম্নমানের কি না। যদি ট্যাংকিতে তেল থাকে এবং তেল যদি ভালো মানের হয়। তারপরেও যদি স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়, তবে এটা ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক্যাল সমস্যার কারণে হতে পারে। তাছাড়া বাইকের ফ্ল্যাগ নষ্ট হয়ে গেলে স্টার্ট বন্ধ হতে পারে। অনেক সময় আবার বাইকের ফুয়েল কার্বুরেটরে ময়লা জমে থাকলে বা সমস্যা থাকলে।

তেল ইঞ্জিনে ভালোভাবে পৌঁছাতে পারেনা, এতে স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় বাইকের এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার না থাকলে, বাইকের ইঞ্জিনে বাতাস ভালোভাবে যেতে পারে না। এতে বাইক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই বাইক যদি বন্ধ হয়, তবে উপরে যে বিষয়গুলোর কথা আমি বললাম, এগুলো ভালোভাবে চেক করে নিবেন। বেশিরভাগ এসব সমস্যাগুলোর জন্যই বাইক হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

FAQ/সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্নঃ দীর্ঘদিন পর বাইক স্টার্ট হচ্ছে না কেন?
উত্তরঃ অনেকদিন পর বাইক স্টার্ট দেওয়ার সময় বাইক স্টার্ট হয় না। এর অনেকগুলো কারণ হতে পারে। যেমন ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ইলেকট্রিক্যাল তার গুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া বাইকের ফুয়েল কার্বুরেটরে ময়লা জমলে বা নষ্ট হলে। অথবা স্পার্ক প্লাগে জং লাগলে বা নষ্ট হয়ে গেলে অনেক সময় বাইক স্টার্ট নেয় না।
দীর্ঘদিন-বাইক-ব্যবহার-না-করলে-কি-হয়
প্রশ্নঃ বাইক স্টার্ট না দিয়ে কতক্ষণ রাখা যায়?
উত্তরঃ দুই থেকে তিন সপ্তাহ বাইক স্টার্ট না দিলে বড় ধরনের ক্ষতি হয় না। তবে ব্যাটারির চার্জ এবং টায়ারের হাওয়া কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু পরে স্টার্ট দিলে বা চালালে আবার ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু এক মাসের বেশি যদি বাইক স্টার্ট না দেওয়া হয়। তাহলে আস্তে আস্তে বাইকের বড় ধরনের সমস্যা হবে। বিশেষ করে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ একটি বাইকের আয়ুকাল কত হতে পারে?
উত্তরঃ একটি বাইক কত দিন ভালো থাকবে তা নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর উপর। কারণ বাইকের যত্ন নিলে বাইকের আয়ুবাল বাড়বে। তাই নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না, যে একটি বাইকের আয়ুকাল আসলে কত। আমি এমন অনেক দেখেছি বাইকের যত্ন নিলে ১৫ থেকে ২০ বছরের বেশি বাইক ভালো থাকে। এমনকি অনেকেই আছে, যারা তাদের জীবন পার করে দিয়েছে একটি বাইকে। তাই আপনি যত যত্নে আপনার বাইক ব্যবহার করবেন, বাইকের আয়ুকাল তত বাড়বে।

প্রশ্নঃ বাইকের ব্যাটারি কেন নষ্ট হয়ে যায়?
উত্তরঃ অনেকদিন বাইক না চালালে ব্যাটারি চার্জ শেষ হয়ে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে বাইক একেবারে বন্ধ করে ফেলে না রেখে মাঝেমধ্যে চালালে ব্যাটারি আবার ভালো থাকে। তাই চেষ্টা করবেন অনেকদিন ধরে বাইক ফেলে না রেখে মাঝেমধ্যে স্টার্ট দিয়ে হালকা চালানোর। এতে ব্যাটারি আবার চার্জ হয়ে ব্যাটারি ভালো থাকবে।
প্রশ্নঃ কতদিন বাইক না চালালে সমস্যা হতে পারে?
উত্তরঃ যারা বাইকের ইঞ্জিনিয়ার আছে, তারা বলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ বাইক না চালালে খুব বড় ধরনের সমস্যা হবে না। তবে ব্যাটারির চার্জ কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরে যদি আবার বাইক চালানো হয়। তাহলে সমস্যা ভালো হয়ে যাবে, তবে এক মাসের বেশি যদি বাইক চালানো না হয়। তাহলে বাইকের ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার, পাশাপাশি ইঞ্জিনেরও ক্ষতি হতে পারে।

শেষ কথাঃ দীর্ঘদিন বাইক ব্যবহার না করলে কি হয়

যারা বাইক অনেকদিন থেকে ব্যবহার করছে বা অভিজ্ঞতা বেশি। তারা অনেকেই জানে যে দীর্ঘদিন বাইক ব্যবহার না করলে কি হয়। তাছাড়া আমিও আজকে অনেকদিন ধরে বাইক বন্ধ করে রাখলে কি হয় এ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেছি। আপনাদের যাদের বাইক আছে। তারা কখনোই দীর্ঘদিন ধরে বাইক বন্ধ করে ফেলে রাখবেন না। অনেক দিন ধরে বাইক বন্ধ করে ফেলে রাখলে। আপনাদের বাইকের ছোট সমস্যা থেকে বড় ধরনের সমস্যা শুরু হবে।

কিন্তু আপনি যদি মাঝেমধ্যে বাইক স্টার্ট দিয়ে রাখেন, একটু চালান, বাইকের তেল ও ইঞ্জিন অয়েল চেক করেন। তবে আপনার বাইক আপনি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারবেন। তাছাড়া আপনার যদি বাইক বন্ধ করে রাখতেই হয়। তাহলে উপর থেকে আপনি বাইক বন্ধ রাখলে কিভাবে সংরক্ষণ করবেন সে পয়েন্টটি দেখে নিবেন। আর সে নিয়ম মেনে আপনি আপনার বাইকে যত্ন নিবেন। এতে আপনার বাইকের বড় ধরনের সমস্যা হবে না এবং দীর্ঘদিন ধরে বাইক ভালো থাকবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url