লাইটের পোকা তাড়ানোর ১০টি উপায় জানুন এখনই
লাইটের পোকা তাড়ানোর উপায় সম্পর্কে এখন আমি আমার এই আর্টিকেলের মধ্যে
বিস্তারিত আলোচনা করবো। এর পাশাপাশি ঘর থেকে পোকামাকড় তাড়ানোর
উপায় সম্পর্কেও আপনাদের জানাবো।
এছাড়াও আপনি যদি ঘর থেকে মুরগির পোকা তাড়ানোর উপায় সম্পর্কে জানতে
চান। তাহলে আমার এই আর্টিকেলটি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। চলুন
তাহলে পোকা তাড়ানোর উপায় সম্পর্কে সকল তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
পেজ সূচিপত্রঃ লাইটের পোকা তাড়ানোর উপায়
-
লাইটের পোকা তাড়ানোর উপায়
-
ঘর থেকে পোকামাকড় তাড়ানোর উপায়
-
বিছানার পোকা দূর করার উপায়
-
বাথরুমের পোকা তাড়ানোর উপায়
-
ঘর থেকে মুরগির পোকা তাড়ানোর উপায়
- শুয়োপোকা তাড়ানোর উপায়
- উনকি পোকা তাড়ানোর উপায়
-
কোন ধরনের লাইটে পোকা কম আসে
- লাইটের পোকা বেশি হওয়ার কারণ
- FAQ/পোকা তাড়ানো নিয়ে কিছু আলোচিত প্রশ্নের উত্তর
- কেরা পোকা দমনের উপায়
-
লেখকের মন্তব্যঃ লাইটের পোকা তাড়ানোর উপায়
লাইটের পোকা তাড়ানোর উপায়
লাইটের পোকা তাড়ানোর উপায় জানেন কি? রাতের বেলায় ঘরের মধ্যে লাইট জ্বললে সেই
লাইটের আলোতে অনেক পোকামাকড় ঘরে ঢুকে পড়ে এবং লাইটের চারপাশ ঘিরে নেয়। যেগুলো
ঘরকে অপরিষ্কার করে ও গন্ধ জাতীয় পোকা ঘরকে গন্ধ করে দেয়।
এসব পোকার জ্বালায় ঘরের মধ্যে থাকা যায় না। খেতে বসলে খাবারের উপর এই পোকাগুলো
পড়ে যায়। এ জন্য অনেকেই এই পোকাগুলোকে তাড়ানোর অনেক রকম পদ্ধতি অবলম্বন করে।
কেউ ভালো ফলাফল পায়। আবার কেউ ভালো ফলাফল পায় না।
আবার অনেকেই আছে যারা জানেই না যে, এই পোকা কিভাবে তাড়াতে হয়। তাই এখন আমি আমার
এই আলোচনার মধ্যে এমন কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে বলবো। যে পদ্ধতি গুলো আপনি যদি সঠিক
নিয়ম মানেন, তাহলে আপনার ঘর থেকে লাইটের পোকা খুব সহজেই দূর হয়ে যাবে।
১/পোকা তাড়ানোর জন্য আপনি আপনার ঘরে হলুদ লাইট জ্বালাতে পারেন। হলুদ
লাইটের কারণে ঘরের মধ্যে পোকামাকড় কম আসে। সাদা লাইটের বা নীল
লাইটে পোকামাকড় বেশি আকৃষ্ট হয়। যার কারণে ঘরের মধ্যে অনেক পোকামাকড়
লাইটের চারপাশে ঘিরে ফেলে।
আর হলুদ লাইটের মধ্যে কোন নীল আলোর ছাঁটা থাকে না। যার কারণে এই
লাইটে পোকামাকড় আসে না। আপনি লাইটের পোকা কম করার জন্য বাজার থেকে হলুদ
বাল্প কিনে নিয়ে আসতে পারেন এবং ঘরে জ্বালাতে পারেন।
২/আপনি লাইটের পোকা কম করার জন্য লবঙ্গ এবং লেবু ব্যবহার করতে পারেন। লবঙ্গ
আর লেবুর সুগন্ধ লাইটের পোকা সহ্য করতে পারে না। যার কারণে তারা এই
গন্ধ থেকে দূরে দূরে থাকে। এটা মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে পোকামাকড়ের জন্য
ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। আপনি যদি আপনার ঘরে।
অথবা লাইটের পাশে একটা লেবু অর্ধেক করে কেটে, সেই অর্ধেক লেবুতে ৪ থেকে ৫টা
লবঙ্গ গেথে দিতে হবে। এরপর এটা থেকে যে সুগন্ধ বার হবে, সেটা থেকে পোকা অনেক
দূরে থাকবে। আপনি চাইলে এই পদ্ধতিটা অবলম্বন করতে পারেন। এটা অনেক
কার্যকরী একটি পদ্ধতি।
৩/আপনি চাইলে রসুন ব্যবহার করেও লাইটের পোকা তাড়াতে পারবেন। প্রথমে একটি
মাটির হাড়ি নিতে হবে। সেই হাঁড়িতে চুলা থেকে কিছু আগুন অথবা কয়লা নিতে
হবে। এবার এই আগুনের মধ্যে কিছু শুকনো রসুন ফেলে দিতে হবে। এরপর এটাকে আস্তে
আস্তে পোড়াতে হবে।
পোরানোর পর এটা থেকে কিন্তু একটা ধোয়া বার হবে। আর এই ধোয়া লাইটের পোকা তাড়াতে
সাহায্য করবে। কারণ রসুনের মধ্যে সালফার যৌগ থাকে। রসুনের মধ্যে থাকা
এই উপাদানটি লাইটের পোকামাকড় সহ্য করতে পারে না। ফলে লাইটের পোকা দূরে
থাকে।
৪/নিমপাতা ব্যবহার করেও লাইটের পোকা দূর করতে পারবেন। নিমের পাতা
পোকামাকড় দূর করার একটি প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে পরিচিত। নিমপাতার
মধ্যে থাকে প্রাকৃতিক আজাদীরাক্টিন। এই উপাদানটি লাইটের পোকা দূর করতে
সাহায্য করে।
এই পাতাকে আপনি আগুনের মধ্যে পুড়িয়ে তার ধোয়ায় পোকামাকড় দূর করতে
পারবেন। নিম পাতার ধোঁয়া আপনি সন্ধ্যাবেলায় বা রাতে দরজার সামনে।
অথবা লাইটের আশেপাশে রেখে দিতে পারেন। এতে লাইটের পোকা আসবে না।
পোকা তাড়ানোর আরো কিছু পদ্ধতি
৫/লাইটের পোকা দূর করার জন্য তুলসী পাতা অনেক উপকারী হিসেবে কাজ করতে
পারে। সন্ধ্যা বেলায় লাইট দেওয়ার সাথে সাথেই লাইটের পোকা ঘরে চলে
আসে। এ সময় যদি তুলসীর পাতা দরজা বা জানালার পাশে রাখা হয়। তাহলে লাইটের পোকা
আসতে পারে না।
কারণ তুলসী পাতার তীব্র গন্ধ পোকামাকড় সহ্য করতে পারে না। তাই
আপনি চাইলে আপনার বাড়ির দরজা নইত জানালার সামনে তুলসী পাতার গাছ লাগাতে
পারেন। অথবা একটি টবে তুলসী পাতার গাছ লাগিয়ে সেই টপ লাইটের নিচে রেখে
দিতে পারেন।
৬/পেঁয়াজের রস দিয়ে লাইটের পোকামাকড় দূর করা যায়। পেঁয়াজের
রসের গন্ধ লাইটের পোকা নিতে পারে না। যার কারণে পেঁয়াজ রসের গন্ধ যেখানে
থাকে, সেখান থেকে দূরে থাকে এই পোকামাকড়। আপনি সন্ধ্যা বেলায় বা রাতে লাইট
দেওয়ার পর লাইটের আশেপাশে পেঁয়াজের রস স্প্রে করবেন, এতে লাইটের
পোকামাকড়ের উপদ্রব কমবে।
৭/আপনি চাইলে মশার কয়েল জ্বালিয়েও এই পোকা দূর করতে
পারবেন। মশার কোয়েলের বিষাক্ত গন্ধ পোকামাকড় কে দূরে রাখতে
সাহায্য করে। সন্ধ্যাবেলায় যদি মশার কয়েল ঘরে অথবা লাইট এর আশেপাশে
জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে লাইটের আশেপাশেও পোকামাকড় আসতে পারে না। তাই
পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য এটি একটি ভালো উপায় হতে পারে। তবে এটা
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা ভালো না।
৮/লাইটের পোকা যেন কম হয়। তার জন্য আপনাকে আপনার বাড়ির পাসগুলা ভালোভাবে
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে। কারণ বাড়ির আশপাশগুলা যদি ভালোভাবে পরিষ্কার
না থাকে, তাহলে সেখানে পোকামাকড় জন্ম নিতে পারে। যার কারণে রাতে বা সন্ধ্যা
বেলায় যদি বাড়িতে লাইট জলে, তাহলে তারা দ্রুত সেই লাইটের আকর্ষণে
বাড়িতে চলে আসবে। তাই বাড়ির চারপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে।
৯/যেখানে লাইট জ্বলবে তার আশেপাশে আপনি লেবুর রস করে, এতে পানি মিশিয়ে
স্প্রে করতে পারেন।এতে করে লাইটের আশেপাশে পোকা আসবে না।
ঘর থেকে পোকামাকড় তাড়ানোর উপায়
১/ঘর থেকে পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য পাখির বাসা আপনার ঘরের পাশে বানাতে
পারেন। আপনি যদি পাখির বাসা আপনার ঘরের পাশে অথবা বাড়িতে বানাতে পারেন।
তাহলে সেখানে থাকা পাখিগুলো, আপনার ঘরের ও বাড়ির যত পোকামাকড়
থাকবে, সেগুলো খেয়ে ফেলবে। এতে করে পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হবে।
২/আপনার ঘরে যদি তেলাপোকা ও পিঁপড়া বেশি আসে। তাহলে আপনি বোরিক
পাউডার এবং লবণ ব্যবহার করতে পারেন। যে জায়গায় তেলাপোকার ও পিপড়ার
উপদ্রব বেশি সেই জায়গায় যদি আপনি লবণ ও বোরিক পাউডার একসাথে
মিশিয়ে ছিটিয়ে দিলে খুব তাড়াতাড়ি পিঁপড়া ও তেলাপোকা মরবে
এবং পালিয়ে যাবে।
৩/মশা ও ছোট পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য শুকনো মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করতে
পারেন। আপনি যদি আপনার ঘরের মধ্যে শুকনো মরিচের গুঁড়া পোড়াতে
পারেন। তবে এর গন্ধ আপনার ঘরের মশা ও ছোটখাটো পোকামাকড়কে দূর করতে
সাহায্য করবে। এছাড়াও আপনি চাইলে তুলসী পাতার রস ও নিম পাতার রস ঘরে স্প্রে
করতে পারেন। এর গন্ধে আপনার ঘর থেকে পোকামাকড় ও মশা দূরে থাকবে।
৪/আপনার ঘরের মাছি তাড়ানোর জন্য লেবু ও লবঙ্গ ব্যবহার করতে পারেন। লেবু ও
লবঙ্গ যদি আপনি মাছি তাড়ানোর জন্য ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি ভালো ফলাফল
পাবেন। কারণ লেবু ও লবঙ্গের যে প্রাকৃতিক গন্ধ আছে, এটা থেকে মাছি দূরে
থাকে। আপনি একটি লেবু অর্ধেক করে কেটে সেই অর্ধেক লেবুতে ৪ থেকে
৫টা লবঙ্গ পুতে দিবেন। এর ফলে যে গন্ধটা বার হবে এই গন্ধের
কারণে মাছি ঘর থেকে পালিয়ে যাবে।
৫/ঘরের ছারপোকা দেখা দিলে আপনি ঘরোয়া উপায় হিসেবে লেবুর রস ব্যবহার করতে
পারেন। লেবুর রসে ছারপোকা দূরে থাকে। আপনি একটি বোতলে লেবুর রস ও পানি
মিশিয়ে ছারপোকার স্থানে ভালোভাবে স্প্রে করবেন। এইভাবে নিয়মিত
স্প্রে করলে ঘর থেকে ছারপোকা আস্তে আস্তে কমে যাবে। একটা সময়
এগুলো ঘর থেকে হারিয়ে যাবে। আপনার যদি ঘরে ছারপোকা হয়ে থাকে, তাহলে এটা
ব্যবহার করতে পারেন।
৬/ঘরের পোকামাকড় তাড়ানো বা মারার জন্য আপনি স্প্রে
ইনসেক্টিসাইডের একটি কীটনাশক এর বোতল বাজার থেকে কিনে আনবেন। যদি
আপনি মশা, মাছি, তেলাপোকার ওপর এই স্প্রে করেন খুব তাড়াতাড়ি এই পোকা
গুলো মরে যাবে। যাদের ঘরে বেশি তেলাপোকা ও মাছি বেশি, তাদের জন্য এটা
ভালো। এটি রুমে স্প্রে করে ৩০ মিনিট ধুকবেন না। এর রাসায়নিক ক্ষতিকর
প্রভাব মানুষের শরীরের উপর ও পরে।
৭/আপনি চাইলে চুন বা ব্লিচিং পাউডার পানিতে মিশিয়ে আপনার রুমে স্প্রে
করতে পারেন। অথবা এই পাউডার গুলো আপনি আপনার ঘরের যেখানে পোকামাকড়ের
আস্তানা সেখানে ছিটিয়ে দিতে পারেন। এতে পোকামাকড়কে মেরে ফেলে, তার সাথে
পোকামাকড় জন্ম নেওয়ার ব্যাকটেরিয়া গুলো ধ্বংস করে। এছাড়াও উপরে
আমি লাইটের পোকা তাড়ানোর উপায় নিয়ে কিছু তথ্য দিয়েছি দরকার হলে পড়ে আসতে
পারেন
বিছানার পোকা দূর করার উপায়
বর্তমানে অনেকেরই বিছানায় পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। যে
পোকামাকড় গুলো সাধারণত রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় বার হয়ে আসে এসে শরীরে
কামড় দেয় এবং রক্ত চুষে খায়। এই পোকা গুলো বিছানার চাদরে, বালিশে, গদিতে বা
তোসকে, খাটের ফাঁকে অথবা পর্দায় বাসা বাঁধে। বিছানায় বেশিরভাগ
ছারপোকার উপদ্রব হয়। ছারপোকা অনেক বিষাক্ত,
বিছানার এই পোকা দূর করার জন্য আপনি কিছু উপায়ে কাজ করতে পারেন। আপনার বিছানায়
যদি পোকা হয়। বিশেষ করে ছারপোকা। তাহলে প্রথমে আপনাকে আপনার ঘরের আপনার
বিছানার চাদর, বালিশ, কোলবালিশ ও ক্যাথা গরম পানিতে ডিটারজেন্ট দিয়ে
ভালোভাবে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এগুলো ভালোভাবে ধুয়ে ফেলার পর এই
কাপড় গুলোকে কড়া রোদে মেলে দিতে হবে।
সেই সাথে বিছানার তোষক বা গদি রোদে দিতে হবে। এতে করে বিছানায় পোকা
থাকলে রোদের তাপে এবং গরম পানিতে মরে যাবে। আপনি চাইলে আপনার
বিছানার পোকা মারার জন্য গরম স্টিম মেশিন চালাতে পারেন। বিছানার উপরে
যদি এই গরম হাওয়ার তাপ দিলে বিছানার পোকা ও পোকার ডিম নষ্ট হবে। আপনি
বিছানার পোকা দূর করার জন্য লবঙ্গ বা লেবেনডারে তেল,
পানির সাথে মিশিয়ে বিছানায় স্প্রে করতে পারেন। লবঙ্গ বা
লেভেন্ডারের তেলের গন্ধ বিছানার পোকা সহ্য করতে পারে না।
ফলে এটি যদি স্প্রে করা হয়, তাহলে বিছানা থেকে পোকা দূর হয়ে
যায়। আপনার বিছানায় যদি ছারপোকার উপদ্রব বেশি হলে আপনি বেকিং
সোডা ব্যবহার করতে পারেন। খাটের চারপাশে অথবা বিছানার গদির চারদিকে।
এই বেকিং সোডা এই পোকার শরীরকে শুকিয়ে মেরে ফেলে। এছাড়াও আপনি চাইলে
বাজার থেকে বিছানার পোকা মারার জন্য বিভিন্ন কেমিক্যাল বা
স্প্রে কিনে নিয়ে আসতে পারেন। বাজারে এমন কিছু স্প্রে পাওয়া
যায়, যেগুলো বিছানার পোকাগুলোকে খুব সহজে মেরে
ফেলতে পারে। স্প্রে ব্যবহার করার পর ঘরের মধ্যে আধা ঘন্টা
প্রবেশ করা যাবে না। কারণ এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
এছাড়াও ছারপোকা দূর করার জন্য বাজারে একটা পাউডার পাওয়া যায়। এই
পাউডার যদি বিছানা চারপাশে ছিটানো যায় তাহলে বিছানার পোকা গুলো মরে
যাই। আপনার বিছানে যদি এই পোকার উপদ্রব হয়। আপনি উপরের এই উপায় গুলো
অবলম্বন করতে পারেন। তবে যাদের এখনও বিছানায় পোকা হয়নি, তাদের উচিত হবে।
নিয়মিত বিছানার চাদর কোলবালিশ তোষক রোদে দেওয়া। এতে
বিছানায় পোকামাকড় হওয়ার চান্স কম থাকে।
বাথরুমের পোকা তাড়ানোর উপায়
আপনি যখন প্রচন্ড গরম পানি আপনার ড্রেনের ঢালবেন তখন আপনার কমোডে ও ড্রেনে
থাকা পোকা এবং পোকার ডিম ধ্বংস হয়ে যাবে। এছাড়াও আপনি আপনার
বাথরুমের পোকা তাড়ানোর জন্য বেকিং সোডা ও ভিনেগার
একসাথে ব্যবহার করতে পারেন। এতে বাথরুমের পোকা দূর করার জন্য
আপনি ভালো ফলাফল পাবেন। প্রথমে আপনি বেকিং সোডা এবং ভিনেগার নিবেন।
এই দুইটা উপাদানকে ভালোভাবে মিক্স করে। আপনার বাথরুমের ড্রেন এবং কমোটে ছিটিয়ে
দিবেন। এগুলো ভালোভাবে ছিটানোর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর আপনি গরম পানি ঢালবেন। এতে
করে আপনার বাথরুমে ড্রেনে ও কমোডের জীবাণু ও পোকা ধ্বংস হয়ে
যাবে। আর আপনার বাথরুম থাকবে পরিষ্কার। এটি আপনি সপ্তাহে এক থেকে দুই
দিন করলে ভালো ফলাফল পাবেন।
আপনি আপনার বাথরুমে পোকা তাড়ানোর জন্য লেবুর রস অথবা লবণ
পানি ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর রস ও লবণ পানি বাথরুমের ড্রেনে ও
কমডে ঢাললে, এগুলো আপনার বাথরুমকে পোকামাকড় থেকে দূরে
রাখবে। এছাড়াও আপনি লবণ এবং লেবুর রস পানিতে মিশিয়ে আপনার বাথরুমে
স্প্রে করতে পারেন। স্প্রে করলে মশা মাছি আপনার বাথরুমে থাকবে না।
আপনি বাথরুমে নিমপাতার রস ব্যবহার করতে পারেন। নিমপাতা
একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আপনি
যদি নিম পাতার রস বাথরুমের ড্রেনে ও কমোডে ঢালেন এবং এই রস দিয়ে আপনি
আপনার বাথরুমে স্প্রে করেন। তবে এগুলো আপনার বাথরুমের পোকাগুলোকে তাড়াতে
সাহায্য করবে।
এছাড়াও আপনি বাথরুমের পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য, বাজার থেকে ব্লিচ অথবা
ফিনাইল কিনে নিয়ে আসতে পারেন। এগুলো অনেক শক্তিশালী
রাসায়নিক উপাদান। এগুলো যদি আপনি আপনার বাথরুমে ব্যবহার করেন।
তাহলে আপনার বাথরুম থাকবে জীবাণু ও পোকামাকড়
মুক্ত। আপনার বাথরুমের পোকার ডিম নষ্ট করার জন্য এবং বাথরুমে
দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।
ঘর থেকে মুরগির পোকা তাড়ানোর উপায়
মুরগির পোকা শুধুমাত্র যে মুরগির জন্য ক্ষতিকর তা কিন্তু না, এটা মানুষের
স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। মুরগির পোকা সাধারণত মুরগির শরীরে, মুরগির
খোপে এবং আশেপাশের পরিবেশে জন্ম নেয়। এই পোকাগুলো মুরগির শরীরের রক্ত
চুষে দুর্বল করে দেয়, এমনকি মুরগি মারাও যায়। মাঝে মধ্যে এই পোকা
গুলো ঘরের মধ্যেও ঢুকে যায়।
আরো পড়ুনঃ কোন মুরগি কত দিনে ডিম দেয়
যা মানুষের শরীরে কামড় দেয়। যা অস্বস্তিকর বা বিরক্তিকর। আপনার যদি
বাড়িতে মুরগির থাকে, তাহলে গরম পানি ও সাবান দিয়ে আগে মুরগির খোপ বা খাচা
ভালো করে ধুয়ে নিবেন। এভাবে মুরগির খাঁচা ধোয়া হলে খাঁচাতে থাকা এই
পোকাগুলো মরে যাবে এবং এর ডিম নষ্ট হয়ে যাবে। আপনি আপনার ঘরের
বিছানার চাদর, তোষক, বালিশ রোধে শুকাতে দিবেন।
এতে এই পোকাগুলো মরে যাবে। আপনি নিম পাতার স্প্রে আপনার ঘরে করতে পারেন ও
মুরগির ঘরে করবেন। এতে ঘর থেকে মুরগির পোকা পালিয়ে যাবে। এই ঘরোয়া
উপায়ে যদি এই পোকা কম না হয়, তাহলে আপনি বাজার
থেকে পারমেথরিন স্প্রে কিনে নিয়ে আসবেন এবং ঘরে স্প্রে করবেন। এতে
মুরগির পোকা পালিয়ে যাবে ও মরবে।
শুয়োপোকা তাড়ানোর উপায়
শুয়োপোকা সাধারণত গাছপালা, সবজি ও সুজিনা গাছে বেশি হয়ে
থাকে। এগুলো গাছের পাতার ও গাছের ক্ষতি করে। এগুলো গাছে থাকার
পাশাপাশি বাড়ির দেয়ালেও বাসা বাঁধে। শুয়োপোকা তাড়ানোর জন্য আপনি
নিম পাতার রস ব্যবহার করতে পারেন। নিমপাতা কীটনাশক হিসেবে কাজ
করে। নিম পাতার রস শুয়োপোকা সহ্য করতে পারে না। তাই নিম পাতার রস
শুঁয়োপোকার ওপর স্প্রে করবেন।
তাহলে শুয়োপোকা দ্রুত সেখান থেকে পালাবে ও মরবে। এছাড়াও
আপনি রসুনকে ভালোভাবে রস করে পানির সাথে মিশিয়ে পোকার ওপর
স্প্রে করতে পারেন। এতে করে এই পোকা তাড়ানো সম্ভব।
আপনি লবঙ্গ এবং মরিচের গুঁড়া পানির সাথে
মিশিয়ে শুয়োপোকার ওপর স্প্রে করতে পারেন। এইভাবে যদি পোকা
গুলোর উপর মাঝেমধ্যে স্প্রে করা হয়।
তাহলে এগুলো পালিয়ে যাবে। আপনি শুয়োপোকার ওপর ছাই ছিটাতে পারেন। ছাই
ছেটালে শুয়োপোকা দূরে থাকে। এছাড়াও আমি আপনাকে এমন একটি পদ্ধতি
বলবো। যেটা একটু সাবধানতার সাথে আপনাকে করতে হবে। যে স্থানে
শুঁয়োপোকা হয়েছে সেই স্থানে আপনি আগুন দিতে পারেন। আগুন দিলে পোকা
গুলো খুব সহজেই মরে যাবে এবং সেই স্থানে আর হবে না।
উনকি পোকা তাড়ানোর উপায়
উনকি পোকা সাধারণত রান্নাঘরে বেশি দেখা যায় যেটাকে তেলাপোকা
নামে অনেকে জানে। এই পোকা শুধুই যে রান্নাঘরে বাসা বাঁধে তা
কিন্তু না। এটা রান্না ঘরের পাশাপাশি বাথরুমে, অন্ধকার ও অপরিষ্কার জায়গাতে
বসবাস করে। এই পোকা তাড়াতে হলে প্রথমে আপনাকে জানতে হবে যে এ পোকা আসলে
বাসা বেধেছে কোথায়। যদি রান্নাঘরে বাসা বেধে থাকে,
তবে রান্নাঘর ভালোভাবে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করতে হবে। এরপর উনকি
পোকা কোন স্থানে থাকে। সে স্থানগুলোতে বরিক পাউডার আর
চিনি একসাথে মিশিয়ে একটু কাগজে করে রেখে দিতে হবে। এতে করে উনকি
পোকা গুলো চিনি খেতে আসবে এবং চিনির সাথে মিশে থাকা বোরিক
পাউডার খেয়ে তেলাপোকা মারা যাবে। এছাড়াও আপনি তেলাপোকা তাড়ানোর
জন্য রান্না ঘরে লবঙ্গ,
লেবুর রস রাখতে বা ছিটাতে পারেন। রান্না ঘরে যদি লেবুর রস আর লবঙ্গ
থাকে। তাহলে সেখানে উনকি পোকা আসে না। আপনি চাইলে শসার খোসা
রান্নাঘরে রাখতে পারেন। শসার খোসা রান্নাঘরে রাখলে তেলাপোকা দূরে থাকে।
তেলাপোকা তাড়াতে নিমপাতার রস দিয়ে স্প্রে করতে পারেন। এইভাবে
তেলাপোকার স্থানগুলোতে স্প্রে করলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
কোন ধরনের লাইটে পোকা কম আসে
রাতের বেলায় ঘরের মধ্যে আলো জ্বললে বাইরে থেকে পোকা চলে আসে। এর কারণ
হচ্ছে লাইটের আলো পোকাগুলোকে আকর্ষণ করে। এই পোকাগুলো বেশিরভাগ সাদা আলো
বা নীল আলোতে আকর্ষিত হয়। তাই লাইট জ্বালার পর ঘরে যেন কম পোকা আসে বা
পোকা যেন কম আকর্ষিত হয় এরকম লাইট ঘরে জ্বালাতে হবে। এখন হয়তো ভাবছেন কোন
লাইট লাগালে পোকা কম আসবে।
যেহেতু সাদা লাইট ও নীল লাইটে পোকা বেশি আসে। তাই এই লাইট বাদে আপনি
হলুদ লাইট জালাতে পারেন। হলুদ লাইট ব্যবহার করলে পোকামাকড় কম আকর্ষিত
হয়। এছাড়াও যে লাইট গুলো হলুদ আলো দেয় সে লাইট ঘরে জালাবেন। তাছাড়া
বাজারে পোকামাকড় কম হয় এরকম লাইট অনেক পাওয়া যায়। সেগুলো নিয়ে এসে
ব্যবহার করতে পারেন, এতে পোকামাকড় কম হবে।
লাইটের পোকা বেশি হওয়ার কারণ
লাইটের পোকা বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে বাড়ি ঘরে সাদা লাইট বেশি ব্যবহার
করা। আপনি যদি সাদা লাইট বেশি জালিয়ে রাখেন, তাহলে এই আলো পোকামাকড়কে
দূর থেকে আকর্ষণ করে। যার কারণে ঘরে অনেক বেশি পোকা চলে
আসে। তাছাড়া ঘরের বাইরে বা ঘরে যদি লাইট জলে।
আর ঘরের আশেপাশে যদি নোংরা পরিবেশ থাকে বা পানি জমে থাকে, তাহলে সেই পানিতে
থাকা পোকামাকড় লাইটের আলোতে ঘরে চলে আসতে পারে। এছাড়াও লাইটের পোকা
বেশি হয়, বিশেষ করে বর্ষাকালে। কারণ এ সময় অনেক বেশি পোকামাকড়
জন্মায়। আর লাইট জ্বললেই তখন লাইটের কাছে এসে ভিড় জমাই।
FAQ/পোকা তাড়ানো নিয়ে কিছু আলোচিত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নঃ ঘরের পোকা দূর করার উপায়?
উত্তরঃ আপনার ঘরে যদি পোকার উপদ্রব হয়, তবে এই পোকা গুলোকে দূর করার জন্য
আপনাকে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে, তাতেও যদি কোন কাজ না হয়।
তাহলে বাজার থেকে কীটনাশক কিনে নিয়ে আসতে হবে। ঘরের পোকা দূর
করার জন্য আপনি লেবু ও লবঙ্গ ব্যবহার করবেন। আপনি নিম পাতার রস,
ভিনেগার, লেবুর রস এবং বরিক পাউডারও ব্যবহার করতে পারেন। এগুলোই
পোকা দূর করার ঘরোয়া উপায়।
প্রশ্নঃ কোন রংয়ের বাল্ব পোকা দূর করে?
উত্তরঃ সাদা বাল্ব এবং নীল রঙের বাল্প মূলত প্রকাশে আকর্ষণ
করে। কিন্তু হলুদ রঙের বাল্প পোকা আকর্ষণ করে না যার
কারণে পোকা থাকে দূরে। হলুদ রং এর লাইট পোকাদের পছন্দ
না তাই তারা এই লাইটের থেকে দূরে থাকে। তাই বলা যায় হলুদ রঙের বাল্প
পোকা দূর করতে সাহায্য করে।
প্রশ্নঃ কোন গন্ধে পোকা দূর হয়?
উত্তরঃ এমন অনেক প্রাকৃতিক গন্ধ আছে যেগুলো পোকা দূর করতে সাহায্য
করে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে লেবু ও লবঙ্গের গন্ধ, এছাড়াও আরো প্রাকৃতিক
গন্ধ আছে যেমন তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, নিমপাতা, মরিচের
গুঁড়ো, শসার খোসা এগুলোর গন্ধ পোকামাকড় নিতে পারে না। এগুলো
যদি ঘরে বা বাড়িতে ব্যবহার বা স্প্রে করা হয় তাহলে
পোকামাকড় দূরে থাকে।
প্রশ্নঃ ধোয়া কি পোকা দূর করে?
উত্তরঃ ধোয়া পোকা কে দূর করে। কারণ ধোয়ার তীব্র গন্ধ এবং
কার্বন উপাদান গুলো পোকাদের নিঃশ্বাস নিতে দেয় না। ধোঁয়ার মধ্যে
এমন কিছু বিষাক্ত উপাদান আছে যেগুলো পোকাদের মেরে ফেলে। তাই
ধোয়া যখন হয় তখন এইসব পোকা গুলো সেই স্থান ত্যাগ করে এবং সেখান
থেকে দূর হয়ে যায়।
প্রশ্নঃ ভিনেগার কি পোকা দূর করতে পারে?
উত্তরঃ ভিনেগার তেলাপোকা, গুনগুনি পোকা, মাছি ও পিপড়া দূর
করতে অনেক উপকারী হিসেবে কাজ করে। ভিনেগারের তীব্র গন্ধ অনেক
পোকা আছে যারা সহ্য করতে পারে না। আর এই সহ্য না করতে পারার কারণে তারা
ভিনেগারের গন্ধ থেকে দূরে থাকে বা পালিয়ে যায়। তাই বলা যায় যে ভিনেগার পোকা
দূর করতে পারে।
কেরা পোকা দমনের উপায়
এখন আমি কেরা পোকা দমনের উপায় সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা
করবো। কেরা পোকা সাধারণত আটাতে, চিনিতে, ডালে এবং
চালে হয়ে থাকে। এই পোকা সাধারণত ময়লা ও পানি জমে থাকা নোংরা
স্থানে জন্মায়। এই পোকা দমন করতে এমন কিছু ঘরোয়া উপায় আছে,
যেগুলো জানলে ভালো কাজে দিবে।
সব সময় রান্নাঘর সহ পুরো বাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে। যেহেতু এই পোকাগুলো
নোংরা ও অপরিষ্কার জাগাতে জন্মায়। তাই আগে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে
হবে। এরপর এই পোকা যেখানে দেখা দিবে, সেই স্থানে ভিনেগার বা লেবুর রস
দিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
এতে করে এই পোকা গুলো দূরে থাকবে। এছাড়াও আপনি নিমপাতার রস এই
স্থানগুলোতে ছিটাতে পারেন। নিম পাতার রসের গন্ধ এই পোকা গুলো নিতে
পারেনা। ফলে তারা সেই স্থান ত্যাগ করে এবং পালিয়ে যায় ও মারা
যায়। আপনি চাইলে বেকিং পাউডার।
আরো পড়ুনঃ ফোন হারিয়ে গেলে খুঁজে দেবে বিটিআরসি
অথবা চুন পোকাগুলোর উপর ছিটিয়ে দিতে পারেন। এতে করে সেই পোকা
গুলো শুকিয়ে মারা যাবে। এছাড়াও আপনি বাজার থেকে কেরা পোকা দমন
করার কিছু রাসায়নিক উপাদান কিনে নিয়ে আসতে পারেন। এইগুলো ব্যবহার করলে
কেরা পোকা দ্রুত দমন হবে।
লেখকের মন্তব্যঃ লাইটের পোকা তাড়ানোর উপায়
লাইটের পোকা তাড়ানোর উপায় নিয়ে আমি আপনাদের বলেছি। আশা করা যায় এই উপায় গুলো
ফলো করলে আপনি উপকার পাবেন। আপনার ঘরে যদি রাতে লাইট জ্বালার পর পোকা বেশি
হয়, তবে আপনি আপনার বাড়ির আশপাশ গুলা ভালোভাবে পরিষ্কার করবেন এবং কোথাও যেন
পানি জমে না থাকে তা লক্ষ্য রাখবেন। আর ঘরে বসি সাদা লাইট না জালিয়ে বাজার
থেকে হলুদ লাইট বা পোকা কম হয় এরকম লাইট কিনে এনে ঘরে জালাবেন।
এছাড়াও উপরে আমি লাইটের পোকা তাড়ানোর যে ঘরোয়া উপায় গুলো বললাম। সেগুলো
নিয়ম মেনে আপনি ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো করেও যদি আপনি ফল না পান, তাহলে
বাজার থেকে পোকা মারা কীটনাশক কিনে এনে ঘরে স্প্রে করবেন। স্প্রে
করার ৩০ মিনিটের আগে ঘরে ঢুকবেন না। উপরের যে নিয়মগুলো আমি বলেছি এগুলো
ফলো করলেই। দেখবেন লাইটের পোকা আর বেশি থাকবে না। মারা যাবে ও পালিয়ে
যাবে।


অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url