সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় ২০২৬
সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় জানতে চাইলে আজকের আর্টিকেল পুরো পড়বেন। কারণ
আজকের আর্টিকেলে কিভাবে সিটি ব্যাংকে লোনের জন্য আবেদন করতে হয়, এখানে কি কি
ধরনের লোন পাওয়া যায়, লোন পেতে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কি লাগবে এই
বিষয়গুলো জানানো হবে।
পাশাপাশিলোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে কি করবেন এবং যেকোন সমস্যা বা প্রয়োজনে
কোথায় যোগাযোগ করবেন জানানো হয়েছে। আশাকরি আজকের তথ্য আপনাদের অনেক
উপকারে আসবে।
পেজ সচিপত্রঃ সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়
- সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়
-
সিটি ব্যাংক থেকে কি কি ধরনের লোন পাওয়া যায়
-
সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন পাওয়ার যোগ্যতা
-
লোন পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- সিটি ব্যাংক লোনের সুদের হার ও অন্যান্য চার্জ
- সিটি ব্যাংক লোনের মাসিক কিস্তি কিভাবে হিসাব হয়
-
সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন এর জন্য আবেদন প্রক্রিয়া
- সিটি ব্যাংক লোন না পাওয়ার সম্ভাব্য কারণ
- লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে কি করবেন
- সিটি ব্যাংক লোন বনাম অন্যান্য ব্যাংক
-
যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে কোথায় যোগাযোগ করবেন
-
আলোচিত কিছু সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
- মন্তব্যঃ সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়
সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়
আজকের এই পুরো আলোচনা শুধুমাত্র একটা বিষয় নিয়ে আর তা হচ্ছে, আপনি কিভাবে সিটি
ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবেন। অনেকে আমাদের কাছে সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়
জানতে চেয়েছেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, সিটি ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন
করলেই লোন পেয়ে যাবেন, বিষয়টা এত সহজ নয়।
আরো পড়ুনঃ আশা এনজিও লোন নেওয়ার পদ্ধতি
সিটি ব্যাংক থেকে লোন নিতে হলে আপনাকে এই ব্যাংকের নিয়ম ও শর্ত মানতে হবে। আপনি
যখন সিটি ব্যাংকের শর্ত এবং নিয়ম মেনে আবেদন করবেন। তখন ব্যাংক থেকে আপনার লোন
পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। তাই চলেন কিভাবে বা কোন উপায়ে আপনারা সিটি ব্যাংক
থেকে লোন পাবেন, সে বিষয়গুলো আমরা ধাপে ধাপে জেনে নেই।
সিটি ব্যাংক থেকে কি কি ধরনের লোন পাওয়া যায়
সিটি ব্যাংকের লোনগুলো পাঁচ থেকে ছয় ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এই
ক্যাটাগরিগুলো বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সাধারণত সিটি
ব্যাংক থেকে যেসব ধরনের লোন পাওয়া যায় সেগুলো হচ্ছে,
১. পার্সোনাল ঋণঃ এই ক্যাটাগরিতে বিয়ে চিকিৎসা শিক্ষা ভ্রমণ সহ
যেকোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লোন পাওয়া যায়। এ লোন নিতে কোন জামানত
দিতে হয় না।
২. অটো ঋণঃ এই ক্যাটাগরিতে নতুন গাড়ি বা রিকন্ডিশন গাড়ি
কিনতে গাড়ির বাজার মূল্যের একটা অংশ ব্যাংক থেকে বহন করা হয়, বাকি টাকা নিজের
পকেট থেকে দিতে হয়।
৩. হোম লোনঃ বাড়ি কেনা বা নির্মাণের জন্য এই ক্যাটাগরিতে লোন দেওয়া
হয়। যেখানে সম্পত্তি নিজেই জামানত হিসেবে থাকে বলে সুদের হার কম লাগে।
৪. ব্যবসা বা SME লোনঃ ব্যবসা বড় করতে বা নতুন ব্যবসা শুরু করতে এই লোন
দেওয়া হয়। এই লোন আপনারা জামানত সহ এবং জামানত ছাড়া দুই ধরনের
অপশনেই নিতে পারবেন।
৫. ওভারড্রাফট সুবিধাঃ যারা নিয়মিত লেনদেন করেন তারা একটা নির্দিষ্ট
পরিমাণে অ্যাকাউন্ট থেকে বাড়তি টাকা তুলতে পারবেন এবং পরবর্তীতে তা জমা দিতে
পারবেন। এটা ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক কাজের।
৬. DPS বা FD বিপরীতে সিকিউরড কুইক লোনঃ এ ক্যাটাগরিতে নিজের সঞ্চয়
না ভেবে এটার বিপরীতে দ্রুত লোন নিতে পারবেন। এই লোন আপনি সিটি টাচ অ্যাপ
থেকেই আবেদন করতে পারবেন।
৭. বিকাশের মাধ্যমে ডিজিটাল ন্যানো লোনঃ এই ক্যাটাগরিতে আপনারা কোন
কাগজপত্র ছাড়াই ছোট অংকের লোন নিতে পারবেন। এই লোন মূলত আপনার লেনদেনের
ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।
এই ধরনের লোন বাদেও যারা প্রবাসী, তাদের জন্য আলাদা লোনের সুবিধা রাখা হয়েছে।
বিশেষ করে যেসব মানুষ বিদেশ যাওয়ার খরচ বহন করতে পারছেন না, তাদেরকে
আর্থিকভাবে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সিটি ব্যাংক ঋণ দিয়ে থাকে।
সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন পাওয়ার যোগ্যতা
সিটি ব্যাংকে লোন পাওয়ার যোগ্যতার শর্ত ব্যক্তির পেশার ওপর নির্ভর করে
বদলায়। মূল কথা হচ্ছে সিটি ব্যাংক আপনার একটা স্থিতিশীল ও যাচাইযোগ্য
আয়ের উৎস আছে কিনা দেখবে। তারপর তারা আপনাকে পার্সোনাল লোন দেওয়ার কথা চিন্তা
করবে। সাধারণত সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন পেতে হলে যেসব যোগ্যতা লাগে
সেগুলো হচ্ছে,
| পেশা | ন্যূনতম আয় (মাসিক) | অভিজ্ঞতা |
|---|---|---|
| বেতনভোগী কর্মী | সাধারণত ২০ থেকে ৪০ হাজার | ন্যূনতম এক দুই বছরে চাকরি হতে হবে |
| ব্যবসায়ী | ব্যবসার আকারের ওপর নির্ভরশীল | ব্যবসার বয়স ন্যূনতম দুই তিন বছর হতে হবে |
| পেশাজীবী (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি) | নির্দিষ্ট সীমা বা প্রফেশনের ওপর নির্ভরশীল | কম করে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে |
| বাড়িওয়ালা | বাড়ি ভাড়ার উপর ভিত্তি করে | সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণ থাকতে হবে |
লোন পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আগে থেকেই সঠিক কাগজপত্র রেডি করে রাখলে লোনের জন্য আবেদন করা
অনেক সহজ হয়ে যায়। চলেন সচরাচর যেসব কাগজপত্রগুলো লাগতে পারে। সেসব
কাগজপত্রের তালিকা সহ পেশাভেদে বাড়তি কাগজপত্রের তালিকাও দেখে নেয়া
যাক।
সচরাচর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো
১. আবেদনকারী ও গ্যারান্টারের এনআইডি কার্ড বা পাসপোর্ট এর ফটোকপি।
২. সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি আবেদনকারীর এবং গ্যারান্টারের।
৩. ইউটিলিটি বিলের কাগজ। আবেদনকারীর এবং গ্যারান্টারের।
৪. ই টিন সার্টিফিকেট।
৫. গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এক বছরের ব্যাংক
স্টেটমেন্ট।
চাকরিজীবীদের বাড়তি যা লাগবে
১. স্যালারির সার্টিফিকেট বা পে স্লিপ।
২. আগের চাকরির অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র হিসেবে অফার লেটার বা রিলিজ লেটার
লাগবে।
ব্যবসায়ীদের বাড়তি যা লাগবে
১. ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স।
২. পার্টনারশিপ ডিড বা কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের কাগজ।
বাড়িওয়ালাদের বাড়তি যা লাগবে
১. বাড়ির সম্পত্তির মালিকানার দলিল।
২. ভাড়ার চুক্তিপত্র। বাড়ি ভাড়া দিয়ে মাসে কত টাকা আয় তার
প্রমাণপত্র।
সিটি ব্যাংক লোনের সুদের হার ও অন্যান্য চার্জ
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০২০ সালে একটি নিয়ম করা হয়েছিল। যেখানে বেশিরভাগ লোনে
সুদের হার ৯% হয়েছিল। পরবর্তীতে এই নিয়ম ২০২৪ সালের মে মাসে তুলে দেওয়া হয়।
বর্তমান সময়ে সুদের হার নির্ধারণ হয় মার্কেট বেসড রেফারেন্স সিস্টেম
স্মার্টরেট অনুযায়ী। এর সাথে ব্যাংকের নিজস্ব স্প্রেড যোগ হয়।
এই পরিবর্তনের ফলে ব্যাংক লোনের সুদের হার অনেক বেড়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি এখনো
আশা করেন সিটি ব্যাংক আপনাকে ৯% সুদে পার্সোনাল লোন দেবে, তবে তার সম্ভাবনা
অনেক কম। বর্তমানে সুদের হার প্রায় ১৩ থেকে ১৪ পারসেন্টের আশেপাশে। তবে হোম
লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার কিছুটা কম হতে পারে। কারণ এখানে সম্পত্তি জামানত
হিসেবে থাকে।
পরামর্শঃ সিটি ব্যাংকের সুদের হার নির্দিষ্ট নয়। ব্যাংকের নীতি ও
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় সুদের হার পরিবর্তন হতে পারে। এজন্য আবেদন করার
আগে সিটি ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া উচিত।
সিটি ব্যাংক লোনের অন্যান্য চার্জ
১. প্রসেসিং ফিঃ লোন যত টাকা নিবেন তার ০.৫% থেকে ১ পার্সেন্ট পর্যন্ত প্রসেসিং
ফি লাগতে পারে।
২. আর্লি সেটেলমেন্ট ফিঃ প্রয়োজনে নেওয়া লোন মেয়াদের আগে পরিশোধ করতে চাইলে।
আপনাকে এই লোনের উপর নির্দিষ্ট পরিমাণে ফি বা চার্জ দেওয়া লাগতে পারে। এই
তথ্যটা লোনের শর্তের মধ্যেই উল্লেখ করা থাকে। তাই লোন শর্তে সম্মত
দেওয়ার আগে শর্তগুলো ভালোভাবে পড়ে নিবেন।
সিটি ব্যাংক লোনের মাসিক কিস্তি কিভাবে হিসাব হয়
সিটি ব্যাংক লোনের মাসিক কিস্তি দুইভাবে হিসাব করা হয়। একটি হচ্ছে ফ্লাট রেট
আর আরেকটি হচ্ছে ডিক্লাইনিং ব্যালেন্স। সুদের হার আপনারা একই রকম শুনলেও এই
দুইটা পদ্ধতিতে বাস্তব খরচ পুরোটাই আলাদা হয়ে যায়। যেটা ফ্ল্যাট রেট পদ্ধতি
এতে পুরো লোনের টাকার উপর প্রতি বছর একই সুদ হিসাব হয়।
অর্থাৎ আপনি প্রতি মাসে কিস্তি দিয়ে ঋণের পরিমাণ কমালেও একই রকম সুদ যোগ করা
হবে। আর ডিক্লাইনিং ব্যালেন্স পদ্ধতিতে প্রতি মাসে যা বকেয়া থাকে, শুধু তার
ওপরই সুদ ধরা হয়। এতে মাস যত যায় সুদের হার তত কমে। বেশিরভাগ ব্যাংকে
পার্সোনাল লোনে ডিক্লাইনিং ব্যালেন্স পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
আরো পড়ুনঃ বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি
বাস্তব উদাহরণঃ ধরেন ডিক্লাইনিং ব্যালেন্স পদ্ধতিতে ৩ লক্ষ টাকা লোন
নিলেন, ৩বছরের মেয়াদে ১৩% সুদে। তাহলে এই লোনের মাসিক কিস্তি হবে
১০১০৮.১৯ টাকা। ৩বছরে ৩৬ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে
৩৬৩৮৯৪.৮৪ টাকা। তিন বছরে টোটাল সুদ গুনতে হবে প্রায় ৬৩ হাজার ৮৯৫
টাকা।
আমি শুধু আপনাদেরকে ১৩% সুদ হারের একটি হিসাব দেখালাম। আপনার ক্ষেত্রে সুদের
হার কমবেশি হতে পারে। অর্থাৎ ব্যাংক থেকে আপনাকে যে সুদের হার অফার করা হবে।
আপনার কিস্তির পরিমাণ তার ওপর নির্ভর করে বদলাবে। তবে এই হিসাবটা আপনার জানা
থাকলে আপনি সঠিকভাবে কিস্তির হিসাব যাচাই করতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শঃ লোন নেওয়ার আগে ব্যাংকের কর্মকর্তার কাছে সুদের হার
জানার পর, তার কাছে জানতে চাইবেন সুদের হার ফ্লাট রেট নাকি
ডিক্লাইনিং ব্যালেন্স পদ্ধতিতে হিসাব হবে। এই একটা প্রশ্নই আপনার
হাজার হাজার টাকা বাঁচাতে সাহায্য করবে।
সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন এর জন্য আবেদন প্রক্রিয়া
সিটি ব্যাংক থেকে পার্সোনাল লোনের জন্য আবেদন করতে চাচ্ছেন? কিন্তু
কিভাবে আবেদন করতে হবে তা জানেন না চলেন এ বিষয়টা জেনে
নিই। সিটি ব্যাংকে ৩ পদ্ধতিতে আপনি লোনের জন্য আবেদন করতে
পারবেন। পদ্ধতিগুলো হচ্ছে,
সরাসরি ব্যাংক শাখায় গিয়ে আবেদনঃ আপনি সরাসরি সিটি ব্যাংকের শাখাই গিয়ে
অফিসারের সাথে কথা বলবেন। তারা আপনাকে লোনের জন্য একটি ফরম দিবে, সাথে
কি কি কাগজ লাগবে তা জানিয়ে দেবে। পরবর্তীতে সেসব কাগজপত্র এবং তাদের
শর্ত মেনে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
City টাচ অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেঃ যাদের আগে থেকে সিটি
ব্যাংকে একাউন্ট আছে, তারা ডিপিএসের বিপরীতে কুইক লোনের জন্য আবেদন করতে
পারবেন। অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে আবেদন করতে কাগজপত্র স্ক্যান করে ছবি আপলোড
করতে হয়।
বিকাশের মাধ্যমেঃ জরুরী প্রয়োজনে অল্প পরিমাণে অর্থ প্রয়োজন হলে বিকাশ
অ্যাপ থেকে লোন নিতে পারবেন। তবে বিকাশ অ্যাপে লোনের এই অপশন সবার
একাউন্টে থাকে না। এটা মূলত বিকাশের লেনদেনের ইতিহাস ও ব্যবহারের ওপর
ভিত্তি করে চালু থাকে। যাদের এই অপশন আছে, তারা এখানে আবেদন করে লোন
নিতে পারবেন।
সিটি ব্যাংক লোন না পাওয়ার সম্ভাব্য কারণ
সিটি ব্যাংকে লোন নেওয়ার জন্য আবেদন করে অনেকেই লোন পায়। আবার অনেকের লোন
আবেদন বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু অনেকেই জানতে পারেনা, তাদের লোন আবেদন বাতিল
কেন হয়। আসলে আবেদন বাতিল অনেকগুলো কারণে হতে পারে। তাই এখন আমরা
জানবো কি কারণে জন্য বেশিরভাগ আবেদন বাতিল হয়, সেসব সম্ভাব্য কারণগুলো
সম্পর্কে।
-
আপনার ইনকামের চাইতে কিস্তির ভার যদি বেশি হয়। অর্থাৎ আপনি ইনকাম করেন
মাসে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু আপনার মাসিক কিস্তি ৩৫ হাজার টাকা।
এক্ষেত্রে লোন আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
-
ব্যাংক স্টেটমেন্ট সন্দেহজনক হলে যেমন ধরেন হুটহাট করে ব্যাংক একাউন্টে
টাকা জমা বা হঠাৎ বড় অংকের লেনদেন করা ইত্যাদি বিষয়গুলো ব্যাংক
সন্দেহের চোখে দেখে। এজন্য অনেক ক্ষেত্রে লোনের আবেদন বাতিল হয়ে
যায়।
-
যদি পূর্বের লোন থাকে বা পূর্বে লোন নিয়ে থাকলে সেই লোনের কিস্তি দিতে
অবহেলা বা লেনদেনে ঝামেলা থাকলে। ব্যাংক থেকে আপনার আবেদন বাতিল
করা হতে পারে।
-
সঠিক কাগজপত্র জমা না দিলে এবং যিনি গ্যারানটার হবে। তার আর্থিক
পরিস্থিতি খারাপ এবং পূর্বে তার লেনদেনের ইতিহাস খারাপ থাকলে,
আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।
লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে কি করবেন
লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে আপনারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারেন এবং কিছু
বিষয় মেনে চলতে পারেন। প্রথমত আপনি যখন লোনের জন্য আবেদন করবেন, তার
মিনিমাম ৩ থেকে ৬মাস আগে ব্যাংক একাউন্টে নিয়মিত টাকা লেনদেনের একটি
রেকর্ড তৈরি করবেন।
অন্য কোন ব্যাংক থেকে যদি আপনি লোন বা কিস্তি নিয়ে থাকেন। সেগুলো সময় মতো
পরিশোধ করবেন। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু অর্থের জন্য আবেদন করবেন। অর্থাৎ
আপনি যে পরিমাণ ইনকাম করেন, সে টাকা দিয়ে যেন আরামে লোনের কিস্তি পরিশোধ
করা যায়।
যদি কোন কারণে আপনার লোন আবেদন রিজেক্ট হয়ে যায়, তবে সরাসরি অন্য ব্যাংকে
গিয়ে আবেদন না করে। কি কারণে আপনার আবেদন বাতিল হয়েছে, তার কারণটি খুঁজে
বার করবেন। আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ খুঁজে বের করে, তা ঠিক করে আবার আবেদন
করবেন।
সিটি ব্যাংক লোন বনাম অন্যান্য ব্যাংক
ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক বা ইস্টার্ন ব্যাংকের মত প্রতিষ্ঠানগুলো
ঠিক একই রকম পার্সোনাল ও অটো লোন সিস্টেম ফলো করে কাজ করে। এসব ব্যাংকের
সুদের হার প্রায় একই থাকে। কারণ সবাই স্মার্টরেট পদ্ধতিতে এই লোন পরিচালনা
করে। এখানে ব্যাংকগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য তৈরি হয়, তাদের প্রসেসিং
স্পিড,
ইন্সুরেন্স কভারেজের মতো বাড়তি কিছু সুবিধা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং
সুবিধায়। সিটি ব্যাংকের একটা আলাদা সুবিধা রয়েছে। আর তা হচ্ছে বীমা
কভারেজ লোন নেওয়া ব্যক্তির মৃত্যু বা স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে
সিটি ব্যাংক থেকে ডাবল বেনিফিট ইন্সুরেন্স দিয়ে থাকে, যা সব ব্যাংক দেয়
না। আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে,
আপনারা সিটি ব্যাংকের টাচআপ অ্যাপের মাধ্যমে ডিপিএসের বিপরীতে দ্রুত লোন
নিতে পারবেন। তবে আমার পরামর্শ থাকবে, কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে
অন্তত আপনি দুই থেকে তিনটি ব্যাংকে সরাসরি গিয়ে অথবা তাদের শাখায় কল করে
সুদের হার ও শর্ত জানার চেষ্টা করবেন। কারণ ব্যাংকের অফার ব্যক্তির
প্রোফাইলের ওপর ভিত্তি করে আলাদা হতে পারে।
যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে কোথায় যোগাযোগ করবেন
সিটি ব্যাংকে লোন আবেদন করার পর যেকোনো যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে
আপনারা সরাসরি সিটি ব্যাংকের কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে ফোন করতে পারেন।
অথবা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা
সিটিটাচ অ্যাপের সাপোর্ট অপশনে গিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। তাদের
যোগাযোগের হটলাইন নাম্বার সময়ে সময় আপডেট হয়। তাই আপনাদের উচিত হবে
সিটি ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে বর্তমান কন্টাক্ট নাম্বার দেখে
নেওয়া।
১. সিটি ব্যাংকের হটলাইন নাম্বার ১৬২৩৪
২. বিদেশ থেকে কল করলে +৮৮-০২-৮৩৩১০৪০
৩. সিটি ব্যাংকে অভিযোগ বা সমস্যার জন্য ইমেইল এড্রেস
complaint.cell@thecitybank.com
৪. সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অ্যাড্রেসঃ সিটি ব্যাংক
সেন্টার, ১৩৬, গুলশান এভিনিউ, গুলশান ২ ঢাকা ১২১২
৫. সিটি ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.thecitybank.com
আপনাদের উপকারে আসবে এরকম আরো কিছু পোস্টের তালিকা
আলোচিত কিছু সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্নঃ সিআইবি রিপোর্ট খারাপ থাকলে কি লোন পাবো?
উত্তরঃ যদি সিআইবি রিপোর্ট খারাপ থাকে, তাহলে লোন পাওয়ার সম্ভাবনা
অনেকটা কমে যাবে। তাই লোন আবেদন করার আগে অবশ্যই আপনার সিআইবি রিপোর্ট
ক্লিয়ার করবেন। আপনার সিআইবি রিপোর্ট ভালো থাকলে, লোন পাওয়ার সম্ভাবনা
বেশি থাকবে। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।
প্রশ্নঃ বর্তমানে সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোনের সুদের হার কত?
উত্তরঃ নির্দিষ্টভাবে সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোন সুদের হার বলা
যাচ্ছে না। কারণ এটা বর্তমান মার্কেট অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে। তাই
সর্বশেষ আপডেট তথ্য জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে
গিয়ে, তাদের ইন্টারেস্ট রেট অন ল্যান্ডিং পেজে আপডেট তথ্য নিশ্চিত করা
উচিত।
প্রশ্নঃ লোন রিজেক্ট হলে কতদিন পর আবেদন করব?
উত্তরঃ আবেদন করার কোন নির্দিষ্ট সময় সীমা নেই। তবে কি কারনে আবেদন
বাতিল হয়েছে, তার মূল কারণ আগে বার করতে হবে এবং তা ঠিক করতে হবে। সকল
তথ্য এবং পূর্বে যেসব ভুল ছিল সেগুলো সংশোধনের পর পুনরায় আবেদন করতে
পারবেন।
প্রশ্নঃ প্রবাসীরা কি সিটি ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবে?
উত্তরঃ সিটি ব্যাংকে প্রবাসীদের জন্য আলাদা লোন সুবিধা রাখা হয়েছে।
বিশেষ করে বিদেশ যাওয়ার খরচ মেটাতে এই সিস্টেম চালু রয়েছে। এখান থেকে
লোন নিলে শর্তাবলীগুলো সাধারণ পার্সোনাল লোনের চেয়ে ভিন্ন হতে
পারে। তাই নিকটস্থ শাখায় সরাসরি খোঁজ নেওয়া উচিত।
প্রশ্নঃ গ্যারান্টর ছাড়া কি লোন পাওয়া সম্ভব?
উত্তরঃ বেশিরভাগ পার্সোনাল লোনের জন্য একজন গ্যারান্টার লাগে। তবে
আপনার যদি ডিপিএস থাকে, তবে এই অ্যাকাউন্টের বিপরীতে আপনি লোন নিতে
পারবেন। এখানে কোন গ্যারেন্টারের প্রয়োজন হয় না। কারণ এখানে আপনার
একাউন্টে সঞ্চয় করা টাকায় জামানত হিসেবে থাকে।
মন্তব্যঃ সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়
আশাকরছি উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনারা সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় জানতে
পেরেছেন। আসলে সিটি ব্যাংক থেকে লোন পাওয়া যতটা কঠিন মনে হয়, বাস্তবে
ততটা নয়। আপনি যদি সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে আবেদন করেন, তবে আপনার আবেদন
অ্যাপ্রুভ হওয়ার চান্স অনেকটাই বেড়ে যাবে। লোনের জন্য আবেদন করার আগে
অবশ্যই সুদের হার, সুদ কিভাবে যোগ হয় এ বিষয়গুলো যাচাই করবেন।
পাশাপাশি আপনার সিআইবি রিপোর্ট পরিষ্কার রাখবেন। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি
ঋণের আবেদন করবেন না। এসব বিষয়গুলো নিয়ে আগে সচেতন থাকলে, পরবর্তীতে
কোন সমস্যা হবে না। মনে রাখবেন সুদের হার ও ব্যাংকের শর্ত মাঝেমধ্যেই
পরিবর্তন হয়। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সিটি ব্যাংকের
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। অথবা তাদের শাখাতে গিয়ে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে
আবেদন করা নিরাপদ।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url