প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন ২০২৬
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন করতে চাইলে আজকের আলোচনা ভালোভাবে
পড়বেন। আজকে আমরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য অনলাইনে কিভাবে
আবেদন করতে হবে, তা ধাপে ধাপে দেখাবো।
এর পাশাপাশি কারা এই লোন নিতে পারবে, লোন নিতে কি কি লাগবে, আবেদন ফরম কোথায়
পাবে, সুদের হার কত, পরিশোধের নিয়ম কি এবং আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ সম্পর্কে
বিস্তারিত জানাবো। তাই দেরি না করে চলেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন আবেদন বিষয়ে
সব তথ্য জেনে নিই।
পেজ সূচিপত্রঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন
-
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের লোনের ধরন
-
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন কারা নিতে পারবে
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নিতে কি কি লাগে
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন আবেদন ফরম কোথায় পাবেন
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন সুদের হার
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন পরিশোধের নিয়ম
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন সুবিধা
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কত টাকা লোন দেয়
-
আলোচিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
-
মন্তব্যঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন
আপনাদের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন এই প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে গিয়ে
আমি বেশ কিছু আর্টিকেল দেখলাম, তারা সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। কোন
আর্টিকেলে বলছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে এখনো অনলাইন লোন আবেদন প্রক্রিয়া চালু
হয়নি। আবার কোন কোন আর্টিকেলে বলা হয়েছে অনলাইন প্রক্রিয়া আছে,
আরো পড়ুনঃ কর্মসংস্থান ব্যাংক অনলাইন লোন আবেদন পদ্ধতি
তবে কিভাবে সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে সে বিষয়ে সমাধান দেওয়া হয়নি। এজন্য
আজকে আমরা সঠিক পদ্ধতিতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে অনলাইনে কিভাবে লোনের জন্য আবেদন
করবেন তা জানাবো। অবশ্যই প্রতিটা ধাপ গুরুত্ব সহকারে পড়ার চেষ্টা করবেন। নয়তো
আবেদনের সময় ভুল হতে পারে।
যেসব ঋণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন
১. অভিবাসন ঋণঃ আপনারা সরাসরি মাইগভে গিয়ে এই লোনের
জন্য আবেদন করতে পারবেন।
২. নারী অভিবাসন ঋণঃ এই ঋণের জন্য আপনারা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদন করতে পারবেন।
৩. বিশেষ দক্ষতা অর্জনের ঋণঃ কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর সে
প্রশিক্ষণের ওপর ঋণের আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইনে আবেদন শুরুর আগে যা নিয়ে বসবেন
১. আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ পাসপোর্ট সাইজের
ছবি, পাসপোর্ট এর কপি, ভিসার ফটোকপি, বিএমইটি কার্ডের ফটোকপি, জাতীয়
পরিচয় পত্রের ফটোকপি এবং সচল মোবাইল নম্বর।
২. জামিনদারের কাগজপত্রঃ জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট
সাইজের ছবি, নাগরিক সনদপত্র।
৩. ফাইলের নিয়মঃ সব ফাইল JPEG, JPG, PNG ফরমেটে তৈরি করতে হবে এবং এই
ফাইলের সাইজ সর্বোচ্চ এক মেগাবাইট হতে হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদনের ধাপ
১. প্রথমে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করুন এই অপশনে ক্লিক করবেন। যদি আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে লগইন করবেন। আর
যদি একাউন্ট না থাকে, তবে রেজিস্ট্রেশন করে নতুন একাউন্ট খুলবেন।
২. একাউন্টে লগইন করলে একটি নতুন পেজ বা ফরম আসবে। এরপর কোন শাখাতে আবেদন
এবং অধিবাসন ঋণ নির্বাচন করবেন। সব সঠিক তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।
ফর্মে যে লাল চিহ্ন গুলো দেওয়া আছে, এইসব তথ্যগুলো বাধ্যতামূলক পূরণ করতে হবে।
তথ্যগুলোর ভোটার আইডি কার্ডের সাথে মিল থাকতে হবে।
৩. আবেদনকারীর এবং জামিনদারের ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, সহ
প্রয়োজনীয় সব ফাইল একটা একটা করে আপলোড করবেন। প্রতিটি ফাইল আপলোড
শেষ না হওয়ার আগে পরের ধাপে যাবেন না।
৪. সব তথ্য সঠিক দিয়েছেন কিনা ভালোভাবে যাচাই করার পর চূড়ান্তভাবে আবেদন ফরম
জমা দিবেন। অর্থাৎ (আবেদন দপ্তরে দাখিল করুন) অপশনে ক্লিক করবেন।
৫. আবেদন ফরম জমা দেওয়ার পর আপনার ড্যাশবোর্ডে আবেদনের নম্বর ও ট্রেকিং
নম্বর দেখা যাবে এবং আপনার মোবাইল নাম্বারে ব্যাংক থেকে এসএমএস আসবে এই দুইটি
নাম্বার অন্য কোথাও লিখে রাখবেন।
৬. পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের হোমপেজে মোবাইল
নম্বর ও ট্র্যাকিং নাম্বার দিয়ে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন।
মাথায় রাখবেন, ঋণের জন্য আবেদন করার পর ঋণ মঞ্জুর বা বাতিল যতক্ষণ না হবে।
ততক্ষণ পর্যন্ত একজন ব্যক্তি শুধু একবারই আবেদন করতে পারবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের লোনের ধরন
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরনের ঋণ সেবা দিয়ে থাকে। যেমন
বিদেশ যাওয়ার আগে ও বিদেশ থেকে ফেরার পরে। তাই আপনি কোন ধরনের লোন নিবেন, এটা
আপনার অবস্থা অনুযায়ী বেছে নেওয়া উচিত। যাই হোক চলুন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে
কি ধরনের লোন পাওয়া যায়, তার তালিকা দেখে নিই।
| ঋণের ধরন | কাদের জন্য এই ঋণ | জামানত কি লাগবে |
|---|---|---|
| অভিবাসন ঋণ | বৈধ ভিসা নিয়ে বিদেশ যাচ্ছে, এরকম কর্মীদের জন্য | জামানত লাগবেনা, তবে গ্যারান্টার লাগবে |
| নারী অভিবাসন ঋণ | বিদেশ যাবে এরকম নারী কর্মীদের জন্য | জামানত লাগবেনা, তবে গ্যারান্টার লাগবে |
| পূর্ণবাসন ঋণ | বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে কর্মসংস্থান বা প্রকল্প শুরু করতে চাই এরকমদের জন্য | ৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে জমি বা সম্পত্তি জামানত লাগবে |
| বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ | প্রবাসী বা প্রবাস ফেরত ব্যক্তি, যার উপর তার পরিবার নির্ভরশীল | ৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে জামানত লাগবে |
| বিশেষ দক্ষতা অর্জনের ঋণ | বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে চান, এরকম ব্যক্তিদের | শর্ত ও নিয়ম ব্যাংক শাখা অথবা ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখতে পারেন |
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন কারা নিতে পারবে
চলেন এই পর্বে আমরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কারা কারা লোন নিতে পারবে, তাদের
বিষয়ে জানব।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে অভিবাসন ঋণ যারা নিতে পারবেঃ বৈধ ভিসা নিয়ে
যারা বিদেশে কর্মী হিসেবে যাচ্ছেন, তারা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে অভিবাসন ঋণ
নিতে পারবেন। এই ঋণ নিতে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও বিএমইটি স্মার্ট কার্ড থাকতে হবে।
ঋণ নেওয়ার আগে ব্যাংকে একটি একাউন্ট তৈরি করতে হবে। দুইজন জামিনদার বা
গ্যারান্টার লাগবে। কাজের প্রমাণ হিসেবে চুক্তিপত্র, নিয়োগপত্র, ওয়ার্ক
পারমিট লাগবে।
পূর্ণবাসন ঋণ যারা নিতে পারবেঃ কর্মসংস্থান, ব্যবসা বা প্রকল্প শুরু করতে চাই,
এরকম ব্যক্তিরা বা প্রবাসীরা এই ঋণ নিতে পারবে। এই ঋণ নিতে হলে বিদেশ থেকে আসার
পাঁচ বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। অবশ্যই বৈধ ব্যবসা ও প্রকল্প ঋণ নেওয়ার আগে
থেকে চালু থাকা লাগবে। জামানত হিসেবে সম্পত্তি নিজের বা পিতার নামে থাকতে
হবে।
বৃহৎ পরিবার ঋণ যারা নিতে পারবেঃ বিদেশে বৈধভাবে কর্মরত ব্যক্তির উপর, তার
পরিবারের সদস্যরা এই ঋণ নিতে পারবে। আবার বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী, তার নিজের নামে
বা তার পরিবারের সদস্যরাও এ ঋণ নিতে পারবে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নিতে কি কি লাগে
অনেকেই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য কি লাগবে তা লিখে সার্চ
করেন গুগলে। আমরা মূলত সেসব ব্যক্তিদের জন্যই উক্ত আলোচনাটি করব যেখানে
আপনারা জানতে পারবেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে হলে কি কি প্রয়োজন
হবে সে সব বিষয়ে।
এই ঋণ নিতে আবেদনকারীর যা প্রয়োজন হবে
১. ব্যাংক থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম তুলতে হবে। এই ফরম বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
২. আবেদনকারীর চার কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে।
৩. ভোটার আইডি কার্ডের দুই কপি ফটোকপি। প্রয়োজনে আরো লাগতে পারে।
৪. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সহ নাগরিক সনদপত্র (পৌরসভা বা ইউনিয়ন থেকে
পাওয়া যায়)
৫. পাসপোর্ট ও ভিসার ফটোকপি।
৭. বিএমইটি স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি।
৮. বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রমাণ হিসেবে নিয়োগপত্র, ওয়ার্ক পারমিট বা
চুক্তিপত্র যদি থাকে।
জামিনদার বা গ্যারান্টারের যা লাগবে
১. নতুন তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে।
২. জাতীয় পরিচয় পত্রের ২ কপি ফটোকপি লাগবে। প্রয়োজনে বেশি লাগতে পারে।
৩. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সহ নাগরিক সনদপত্র পৌরসভা বা ইউনিয়ন থেকে পাওয়া
যায়।
৪. পাসপোর্ট এর ফটোকপি, যদি থাকে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন আবেদন ফরম কোথায় পাবেন
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে হলে আপনাদেরকে প্রথমে ব্যাংকের আবেদন ফরম
তুলতে হবে এবং তা পূরণ করে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। তবে অনেকেই জানে না প্রবাসী
কল্যাণ ব্যাংকের লোন আবেদন ফরম কোথায় পাওয়া যায়। আপনারা প্রবাসী কল্যাণ
ব্যাংকের লোন আবেদন ফরম অনলাইনে,
তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাবেন।
এখানে সরাসরি আপনি ফরম
ডাউনলোড করতে পারবেন আবার লোনের জন্য আবেদনও করতে পারবেন। আপনি অনলাইনে আবেদন
ফরম বা আবেদন করতে না চাইলে। সরাসরি আপনার নিকটস্থ শাখায় গিয়ে বিনামূল্যে এই
ফরম নিতে পারবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন সুদের হার
| ঋণের ধরন | সুদের হার |
|---|---|
| অভিবাসন ঋণ | এই ঋণে বার্ষিক ৯% সরল সুদ রাখা হয়েছে |
| বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ | পুরুষ ঋণগ্রহীতার জন্য ৯% এবং নারী ঋণগ্রহীতার জন্য ৭% সরল সুদ রাখা হয়েছে |
| পূর্ণবাসন ঋণ | ৯% সরল সুদ রাখা হয়েছে |
এখানে একটি বিষয় আপনাদের জানা উচিত। সেটা হচ্ছে, কোন ঋণে কত টাকা সুদ যোগ হবে।
এটা পুরোটাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম এবং ঋণের ধরনের উপর নির্ভর করবে। তবে একটা
কথা মাথায় রাখবেন।
আরো পড়ুনঃ আশা এনজিও লোন নেওয়ার পদ্ধতি
ঋণ খেলাপি বা কিস্তি দিতে না পারলে, আপনার ঋণের ওপর সুদের হার বাড়তে
থাকবে। তবে আপনি কি ধরনের ঋণ নিবেন এবং এই ঋণের জন্য সুদের হার কত হবে, এটা
ব্যাংকের শাখা থেকে জেনে নেওয়াই ভালো।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন পরিশোধের নিয়ম
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নিলে, টাকা প্রতি মাসে কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ
করতে হবে। তবে কিস্তি নেওয়ার প্রথম দুই মাস গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে বাদ যায়। এই
ঋণ যদি নতুন ভিসা নেন, তবে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং রি এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে
সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদ পাবেন।
আর যদি কোন কারণে কিস্তি নিয়মিত দিতে না পারেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের
নিয়ম অনুযায়ী আপনার সুদের ওপর বাড়তি সুদ যোগ হবে।
বাস্তব একটা কিস্তির হিসাব
আপনি যদি তিন লক্ষ টাকা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেন এবং এর মেয়াদ যদি
তিন বছর হয়। তবে ৩৬ মাস থেকে দুই মাস গ্রেস বাদ দিলে কিস্তি থাকবে ৩৪ টি। যদি
পুরো মূলধনের ওপর ৯ শতাংশ সুদ ধরা হয়, তাহলে তিন বছরের সুদ হবে ৮১ হাজার টাকা।
অর্থাৎ আপনাকে ৩ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা টোটাল তিন বছরে পরিশোধ করতে হবে। ৩ লক্ষ ৮১
হাজার টাকা ৩৪ কিস্তিতে ভাগ করলে, প্রতি মাসে প্রায় ১১২০০ টাকার মত পরিশোধ
করতে হবে। আমি যে হিসাবটা বললাম, এটা শুধুমাত্র উদাহরণ।
কিন্তু আপনি কি পরিমানে ঋণ ব্যাংক থেকে নিবেন এবং কত পার্সেন্ট সুদে নিবেন। তার
ওপর নির্ভর করে কিস্তির পরিমাণ পাল্টাতে পারে। এজন্য কিস্তি নেওয়ার আগে ব্যাংক
থেকে ভালোভাবে এ বিষয়ে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে পরবর্তীতে ঝামেলা
হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
অনলাইনে কিস্তি কিভাবে দেবেন
আপনারা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে গিয়ে (কিস্তির টাকা জমা দিন) এই
পেজে ক্লিক করে সহজেই কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। তাছাড়া ব্যাংকের ঘোষণা
অনুযায়ী আপনারা সোনালী ব্যাংকের যেকোন শাখায় গিয়ে কিস্তি পরিশোধ করতে
পারবেন।
এছাড়াও বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় সহ যেকোন মোবাইল ব্যাংকিং। অথবা ভিসা ও
মাস্টার কার্ডের মাধ্যমেও কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। তাছাড়া প্রবাসী
কল্যাণ ব্যাংকের ই ব্যাংকিং মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। যার মাধ্যমেও কিস্তি পরিশোধ
করা যায়।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ
আপনারা অনেকেই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ সম্পর্কে
জানতে চেয়েছেন। আসলে বিষয়টা হচ্ছে, আমাদের অজান্তেই বেশ কিছু ভুলের কারণে
লোন আবেদন বাতিল হয়ে যায়। আমরা যদি আগে থেকে এইসব ভুলগুলো জেনে নিতে পারি।
তাহলে আবেদন করার সময় সতর্ক থাকতে পারব।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকাঃ যেসব কাগজপত্র লোন আবেদন করার জন্য জমা
দিতে হয়। সেগুলো যদি স্পষ্ট বা সঠিক কাগজপত্র না হয়, তাহলে লোনের আবেদন
বাতিল হয়ে যেতে পারে।
তথ্যের অমিলঃ আপনি যেসব তথ্য ব্যবহার করে আবেদন করেছেন। এসব তথ্য যদি ভুল
থাকে অর্থাৎ আপনার নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি কার্ডের নম্বর, পাসপোর্ট, ভিসা
ইত্যাদির সাথে মিল না থাকে। তবে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।
বিএমইটি স্মার্ট কার্ডঃ ব্যাংক থেকে এই কার্ডের কপি চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে এই
কার্ড না থাকলে, অনেক সময় ব্যাংক থেকে লোন আবেদন ফরম বাতিল হয়ে যেতে পারে।
ব্যাংকে একাউন্ট না খোলাঃ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার আগে শাখায় গিয়ে
অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। যদি একাউন্ট না খুলে আপনি আবেদন করেন, তবে আবেদন বাতিল
হয়ে যেতে পারে।
আগের আবেদন চলমান থাকলেঃ আপনি যদি আগেই একবার আবেদন করে থাকেন এবং এই আবেদন
মঞ্জুর বা বাতিল না হওয়ার আগে যদি আবার লোনের জন্য আবেদন করেন। সেক্ষেত্রে
আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আবেদন বাতিল হলে যা করবেন
যদি ব্যাংক থেকে আপনার লোনের আবেদন বাতিল করা হয়। তবে ১৬২৩৮ এই নম্বরে কল
করে অথবা ব্যাংকের শাখাতে গিয়ে আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ জেনে নিবেন। আবেদন
বাতিল যদি হয়, তাহলে নতুন আবেদন করতে পারবেন। তাই পরবর্তীতে কাগজ বা
তথ্যের ভুল থাকলে তা ঠিক করবেন। সম্পূর্ণ তথ্য ও কাগজপত্র ঠিক থাকলে, পুনরায়
লোনের জন্য আবেদন করবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন সুবিধা
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার অনেকগুলো সুবিধা আছে যেমন,
১. অভিবাসন ঋণঃ যেসব কর্মী বিদেশ যাবে তাদেরকে জানানো ছাড়াই এই ঋণ
দেওয়া হয়। যা প্রবাসীদের জন্য অনেক সুবিধাজনক।
২. দোড়ঝাঁপ কম করাঃ আগে অনেকবার ব্যাংকে যাওয়া আসা করতে হতো কিন্তু
এখন অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই আবেদন করতে হয় এ কারণে অতিরিক্ত ব্যাংকে
যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
৩. নির্দিষ্ট সময়সীমাঃ কাগজপত্র সঠিক হলে সহজেই লোন আবেদন মঞ্জুর হয়। লোন
আবেদন মঞ্জুর হলে সাত দিনের মধ্যে লোনের অর্থ প্রদান করা হয়।
৪. সরল সুদঃ অভিবাসন ঋণ নিলে ৯%, প্রাক অর্থায়নে ৮%, আর নারী
ঋণগ্রহীতার জন্য বৃহৎ পরিবার ঋণে ৭% সরল সুদ যোগ হয়।
৫. সার্ভিস চার্জঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে হলে, কোন
সার্ভিস চার্জ লাগে না।
৭. গ্রেস পিরিয়ডঃ লোন নেওয়ার পর দুই মাস সময় পাওয়া যায়
কিস্তি শুরু করার জন্য।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কত টাকা লোন দেয়
আপনারা অনেকেই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কত টাকা লোন দেয়? এ বিষয়ে
জানতে চেয়েছেন। যদি অভিবাসন ঋণ নেন, তবে এই ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ
টাকা দেওয়া হবে। যার মেয়াদ নতুন ভিসায় তিন বছর এবং এন্ট্রি ভিসায় দুই
বছর থাকবে।
আর পূর্ণবাসন ঋণে আপনারা সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা ১০ বছর মেয়াদে পাবেন।
এক্ষেত্রে আপনাদেরকে জামানত দিতে হবে। এছাড়াও বৃহৎ পরিবার ঋণে প্রকল্পের
ধরন অনুযায়ী আপনারা ১ থেকে ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে ঋণ পাবেন।
এই লোনের মেয়াদ এবং কিস্তির পরিমাণ কত টাকা হবে। তা লোনের ওপর নির্ভর করে
পরিবর্তন হবে। তাই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার আগে কোন ধরনের ঋণ
আপনার জন্য ভালো হবে, তা নিশ্চিত করার পর ঋণের আবেদন করা উচিত।
আপনাদের উপকারে আসবে এরকম আরো কিছু পোস্টের তালিকা
আলোচিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্নঃ জামানত ছাড়া ঋণ পাওয়া যায় কি?
উত্তরঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে বেশ কয়েক ধরনের সুবিধা রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে অভিবাসন ও নারী অভিবাসন ঋণ জমানত ছাড়াই দেওয়া হয়।
এগুলো বাদে অন্যান্য সব ঋণের জন্য জামানত লাগতে পারে। যেমন,
পূর্ণবাসন বা বৃহৎ পরিবার ঋণ পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি হলে জামানত লাগবে।
প্রশ্নঃ লোনের আবেদন ফরমের জন্য কত টাকা লাগে?
উত্তরঃ লোন নেওয়ার জন্য যে আবেদন ফরম ব্যাংক থেকে দেওয়া হয় বা
অনলাইনে পূরণ করা হয়। এটা পুরোটাই বিনামূল্যে ব্যাংক থেকে সরবরাহ করা
হয়। এর মানে হচ্ছে ব্যাংক থেকে নেওয়া এই ফরমের জন্য আপনাকে কোন টাকা
দিতে হবে না।
প্রশ্নঃ আবেদন বাতিল হলে কোথায় যোগাযোগ করব?
উত্তরঃ যদি আপনাদের লোনের জন্য করা আবেদন বাতিল হয়ে যায়। তাহলে
১৬২৩৮ এই নম্বরে কল করবেন। অথবা ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করে আবেদন
বাতিল কি কারনে হয়েছে, তা জেনে সব তথ্য ঠিক করে পুনরায় আবেদন করবেন।
প্রশ্নঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সরকারি নাকি বেসরকারি?
উত্তরঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক একটি সরকারি মালিকাধীন
বিশেষায়িত ব্যাংক। এই ব্যাংক তৈরি করার লক্ষ্য হচ্ছে প্রবাসী বা
বিদেশগামী ব্যক্তিদেরকে আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করার জন্য।
আরো পড়ুনঃ বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি
প্রশ্নঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে অনলাইনে আবেদন করা যায় কি?
উত্তরঃ বর্তমান সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে হলে। আর
ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এখন আপনারা সহজে অনলাইনের মাধ্যমে,
তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে লোন এর আবেদন করতে পারবেন।
মন্তব্যঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন
বর্তমান সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন বাস্তবে সম্ভব।
অনলাইনে আবেদন করার আগে আপনাকে বেশ কয়েকটি কাজ আগে থেকেই সম্পন্ন করতে
হবে। প্রথমে নিজের ও জামিনদারের কাগজপত্র স্ক্যান করে সঠিক ফরমেটে রেডি
রাখবেন। তারপর তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফরম পূরণ করে জমা দিবেন।
আবেদন ফরম দাখিল করার পর ট্রেকিং নম্বর সংরক্ষণ করে রাখবেন এবং ফোন
নাম্বার সচল রাখবেন। এভাবে বেশ কয়েকটি ধাপ মানলেই আপনি নিজে থেকেই
অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। আর আবেদন করতে কোন সমস্যায় পড়লে,
অবশ্যই উপরের প্রথম পয়েন্ট ভালোভাবে দেখে নিবেন। যেকোনো সমস্যায় ১৬২৩৮
নম্বরে যোগাযোগ করবেন, অথবা নিকটস্থ ব্যাংক শাখায় যাবেন।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url