ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়
ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। যারা
ওয়েবসাইট খুলে ইনকাম করতে চাইছেন, তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলে থাকবে ওয়েবসাইট
কি, সত্যিই এখান থেকে আয় করা সম্ভব কি না, ওয়েবসাইট খুলতে কি কি প্রয়োজন,
আয় শুরু হতে কতদিন লাগবে এবং তৈরি করা ওয়েবসাইট কোথা থেকে কিনবে? এসব বিষয়গুলো।
যারা বাড়িতে বসে থেকে ইনকাম করতে চান, তাদের জন্য এই আলোচনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ
হবে। তাই দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেল পড়ার চেষ্টা করবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়
- ওয়েবসাইট কি?
-
সত্যি কি ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা যায়
-
ওয়েবসাইট খোলার জন্য কি কি প্রয়োজন
- ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়
-
ওয়েবসাইট থেকে আয় শুরু হতে কতদিন লাগে
-
নতুনরা যেসব ভুল বেশি করে
- সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
- মন্তব্যঃ ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়
ওয়েবসাইট কি?
ওয়েবসাইট হচ্ছে ইন্টারনেটে থাকা কিছু পেজের সমষ্টি। যেখানে একটা নির্দিষ্ট
ঠিকানা দিয়ে যেকেউ ব্রাউজ করে দেখতে পারবে। আপনি এখন যে লেখাটা পড়ছেন এটাও একটা
ওয়েবসাইটের অংশ। লেখা, ছবি, ভিডিও সবকিছু মিলে একটা ওয়েবসাইট তৈরি হয়। আপনারা
অনেকে আছেন যারা ওয়েবসাইট,
আরো পড়ুনঃ আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা
আর ব্লগকে এক জিনিস ভাবেন। কিন্তু এদের মধ্যে ছোট একটা পার্থক্য আছে। ব্লগ হচ্ছে
ওয়েবসাইটের একটি ধরন, যেখানে নিয়মিত আর্টিকেল বা পোস্ট পাবলিশ করতে হয়। আর ই
কমার্স ওয়েবসাইটে ব্লগ থাকে না, এখানে মূলত প্রোডাক্ট লিস্টিং করা থাকে। দুটোই
ওয়েবসাইট কিন্তু এদের উদ্দেশ্য আলাদা।
বর্তমান সময়ে আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় হোক বা ব্যবসা এই দুটো জিনিস দাঁড় করানোর
জন্য প্রয়োজন ওয়েবসাইটের। আশাকরছি ওয়েবসাইট মানে কি বুঝতে পারছেন। আমরা কিন্তু
আর একটু পরেই ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে আয় করা যায় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। তাই
শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা পড়ার চেষ্টা করবেন।
সত্যি কি ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা যায়
ওয়েবসাইট খুললে টাকা ইনকাম শুরু হয়ে যাবে এ ধারণা ভুল হবে। প্রথমেই বলি
আপনারা যদি এ ধারণা করেন, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই হাল ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা
থাকবে। বাস্তব কথা হচ্ছে ওয়েবসাইট থেকে আয় করাটা হচ্ছে দোকানের মত। অর্থাৎ
আমি বলছি দোকান খুলে দিলেই আপনার দোকানে কাস্টমার আসা শুরু করেনা।
প্রথমে দোকানের লোকেশন ঠিক করতে হয়। এরপর দোকানে পণ্য তুলে সেগুলোকে সাজাতে
হয় এবং প্রচার করতে হয়। এসবের পর আস্তে আস্তে দোকানে কাস্টমার আসতে শুরু করে।
ওয়েবসাইটও ঠিক এমনটাই। এখানে প্রথমে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ভালো
মানের কনটেন্ট বা আর্টিকেল তৈরি করতে হবে।
সেটাকে সার্চ ইঞ্জিনে রেঙ্ক করাতে হবে। নিয়মিত যখন আপনার ওয়েবসাইটে মানুষ
আসতে শুরু করবে। তখন এখান থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। আপনারা অনেক সফল
ব্যক্তিদের কে দেখবেন। তারা প্রথমে একটা নির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন করে, এর পিছে
লেগে থেকেছে এবং নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ করেছে। দীর্ঘদিন আয় না থাকার পরেও কাজ
চালিয়ে গেছে।
যারা মাঝ পথে থেমে গেছে, তাদের বেশিরভাগ প্রথম দুই মাসে ফলাফল না দেখে হতাশ
হয়ে গেছে। তাই শুরু করার আগে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। যে এটা ধৈর্যের বিষয়
রাতারাতি বড় হওয়ার বিষয় নয়। তাই আপনি যদি সত্যি ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার
কথা চিন্তা করেন। তাহলে পরিশ্রম অনেক করতে হবে এবং ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়ে যেতে
হবে।
ওয়েবসাইট খোলার জন্য কি কি প্রয়োজন
একটা ওয়েবসাইট খুলতে ডোমইন, হোস্টিং সহ নির্দিষ্ট বিষয় এবং প্ল্যাটফর্ম
নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ এগুলো ছাড়া একটা ওয়েবসাইট কখনো কল্পনা করা যায়
না। চলেন ওয়েবসাইট খোলার জন্য কি লাগবে এবং এগুলোর কাজ কি সে বিষয়ে
জেনে নিই।
১. ডোমেইন ও হোস্টিংঃ ডোমেইন মানে হচ্ছে একটি নাম বা ঠিকানা। যা
লিখে ব্যবহারকারীরা আপনাকে গুগলে সার্চ করে পাবে। যেমন
(www.aparajitait.com) এই ইংরেজি নামকেই ডোমেইন বলা হয়। আর হোস্টিং
হচ্ছে, এই ঠিকানাতে কনটেন্ট বা আর্টিকেল লিখে রাখার জন্য,
যে জায়গার প্রয়োজন হয় সেটা। অর্থাৎ হোস্টিং মানে হচ্ছে, স্টোরেজ বা
মেমোরি। ডোমেইন এবং হোস্টিং ছাড়া আপনি ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন না।
ওয়েবসাইট বানাতে আপনাকে ডোমেন এবং হোস্টিং ক্রয় করতে হবে।
২. নিশ নির্বাচনঃ আপনি কোন বিষয়ে কাজ করবেন বা লিখবেন, এটা প্রথমে
নির্বাচন করতে হবে। এটা কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অবশ্যই আপনি যে
বিষয়ে আগ্রহ এবং আপনার জ্ঞান ভালো আছে, এরকম সাবজেক্ট বিষয় নির্বাচন
করা ভালো।
শুধুমাত্র জনপ্রিয় বিষয় দেখে নিশ নির্বাচন করা উচিত নয়। কারণ জনপ্রিয়
নিশে প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি থাকে, এক্ষেত্রে নতুন অবস্থায় অনেক কঠিন হবে।
তাই আপনারা ওয়েবসাইট খোলার আগে কি নিয়ে কাজ করবেন এ বিষয়ে নিশ্চিত হবেন।
৩. প্ল্যাটফর্ম নির্বাচনঃ ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস এবং ব্লগার দুটাই
জনপ্রিয়। ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে কাস্টমাইজেশনের সুযোগ বেশি পাওয়া যায়
এবং প্লাগিন অনেক ফিচার যোগ করা যায়। কিন্তু এখানে হোস্টিং আলাদাভাবে কিনতে
হয়। কিন্তু ব্লগার গুগলের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম হওয়াতে,
এটি কম খরচে শুরু করা যায়, শুধুমাত্র ডোমেইন ক্রয় করতে হয়। তবে
কাস্টমাইজেশনের সুযোগ এখানে সীমিত। তাই নতুন যদি হন বা বাজেট কম থাকে,
সেক্ষেত্রে ব্লগার দিয়ে শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে কাজ নিয়ে সিরিয়াস হলে
ওয়ার্ডপ্রেসে যেতে করতে পারেন।
ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়
আপনারা যদি ওয়েবসাইট খুলে টাকা ইনকাম করার কথা চিন্তা করেন, তবে এটা আপনার
জন্য ভালো একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে। আমরা এই পর্বে আলোচনা করব ওয়েবসাইট খুলে
কিভাবে টাকা আয় করা যায়। ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করার একাধিক মাধ্যম আছে।
আর ওয়েবসাইট থেকে সফল বা ভালো ফলাফল তখনই পাওয়া যাবে। যখন এই একাধিক
মাধ্যমগুলো আমরা একসাথে ব্যবহার করতে পারবো। তাই চলুন ওয়েবসাইট খুলে কোন
মাধ্যমগুলোর দ্বারা আয় করবেন, সে মাধ্যমগুলোর বিষয়ে জেনে নিই,
গুগল এডসেন্স (Google AdSense) দিয়ে আয়
গুগল এডসেন্স যারা নতুন তাদের জন্য অনেক ভালো। গুগল এডসেন্স ওয়েবসাইটে
অটোমেটিক ভাবে বিজ্ঞাপন দেখায়। ওয়েবসাইটে যখন ভিজিটর এসে সেই বিজ্ঞাপন গুলো
দেখে বা ক্লিক করে, তখন টাকা পাওয়া যায়। গুগল এডসেন্স কাজ করে সিপিসি এবং
ইম্প্রেশনের ভিত্তিতে। এখানে যত ক্লিক ও ভিউ তত বেশি টাকা আয় করা যায়।
আপনার ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পেতে পর্যাপ্ত হাই কোয়ালিটির এবং
অরজিনাল নিজস্ব কন্টেন্ট থাকা লাগবে। সেই সাথে গুগলের কন্টেন্ট পলিসি মানতে
হবে এবং মিনিমাম তিন থেকে ছয় মাস ভালোভাবে কনটেন্ট লেখার পর গুগল এডসেন্সের
জন্য আবেদন করতে হবে। নয়তো এডসেন্স রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা অনেক আর্টিকেলেই ঠিকমতো বলা হয় না। বাংলায়
আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখলে সিপিসি ইংরেজি কন্টেন্ট এর চেয়ে কম হয়। কারণ ইংরেজি
কনটেন্টের জন্য বিজ্ঞাপনদাতার সংখ্যা ও প্রতিযোগিতা অনেক বেশি থাকে। ফলে গুগোল
এসব বিজ্ঞাপন বেশি দামে দেখায়। তাই চেষ্টা করবেন ইংরেজিতে কন্টেন্ট তৈরি
করার।
অ্যাডস্টেরা (AdSterra) দিয়ে আয়
যদি গুগল এডসেন্স না পান, তবে আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইটে এডস্টেরা চালু করে আয়
করতে পারবেন। প্রথমে নিয়মিত আপনার ওয়েবসাইটে কনটেন্ট পাবলিশ করতে থাকবেন।
কন্টেনগুলো গুগলে রান করে ভালো ট্রাফিক নিয়ে আসবেন। আপনার ওয়েবসাইটে যত মানুষ
ভিজিট করবে ইনকাম তত বাড়বে। তবে মানুষ যেন বিরক্ত না হয়, তাই ওয়েবসাইটে বেশি
অ্যাড লাগাবেন না।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
আপনারা যেকোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিজের ওয়েবসাইটে প্রমোট করতে পারেন।
অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটে দেওয়া পণ্যের লিংক থেকে কেউ কিছু কিনলে, সেখান
থেকে আপনি একটা কমিশন পাবেন।
ধরেন আপনি ফোনের চার্জার নিয়ে রিভিউ করলেন শেষে দারাজ বা অ্যামাজনের
অ্যাফিলিয়েট লিংক এড করে দিলেন। এক্ষেত্রে কেউ যদি ওই লিংকে ক্লিক করে ফোনের
চার্জার কিনে, তাহলে এখান থেকে আপনি নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন পাবেন।
এই কমিশন বা লাভের পরিমাণ প্রোগ্রাম ও প্রোডাক্টের ওপর নির্ভর করে আলাদা হয়।
দারাজ, এমাজন ও বিক্রয় প্লাটফর্মের নিজস্ব অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম আছে, যা
ফ্রিতে জয়েন করা যায়। ওয়েবসাইট নতুন হলে আয় কম হতে পারে। কিন্তু ওয়েবসাইটে
ভিজিটর যত বাড়বে তত আয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
ই কমার্স ওয়েবসাইট দিয়ে আয়
যদি আপনার নিজস্ব কোন পণ্য বা প্রোডাক্ট থাকে, তবে সরাসরি এই প্রোডাক্ট বিক্রি
করার জন্য একটা ই কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে পারেন। এখানে দুইটি মডেল থাকে, একটি
নিজে স্টক রেখে বিক্রি করা আরেকটি ড্রপ শিপিংয়ের মাধ্যমে বিক্রি করা। ই কমার্স
সাইটে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য বিকাশ,
নগদ, কার্ড, ক্যাশ অন ডেলিভারি এই অপশন গুলো রাখা উচিত। এইসব অপশনগুলো যত বেশি
থাকবে, কাস্টমার তত সহজে কিনতে পারবে। আমাদের দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পেমেন্ট
করার প্রবণতা বেশি। তাই এ অপশনগুলো না থাকলে, অনেক কাস্টমার পণ্য না কিনে ফিরে
যেতে পারে।
ফ্রিল্যান্সিং পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট দিয়ে আয়
যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করে, তাদের একটি পোর্টফলিও ওয়েবসাইট থাকা দরকার।
বিশেষ করে যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, ওয়েব ডেভলপার, তাদের জন্য
অনেক দরকারি। এই ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ইনকাম করার আশায় তৈরি করা হয় না।
বরং ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের নমুনা এই ওয়েবসাইটে সাজিয়ে রাখে। পরবর্তীতে
ক্লাইন্ট বা গ্রাহক কাজের ধরন ও কোয়ালিটি দেখতে চাইলে, তাদেরকে এই ওয়েবসাইটের
লিংক পাঠিয়ে দিলে বিসয়টি প্রফেশনাল দেখাবে।
এতে কাজ পাওয়ার চান্স বাড়বে। তাই আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকে,
সেক্ষেত্রে আপনি একটি ওয়েবসাইট খুলে আপনার কাজের নমুনা এখানে পোস্ট করে,
ক্লাইন্টকে দেখিয়ে কাজের অর্ডার নিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।
ডিজিটাল প্রোডাক্ট বা কোর্স বিক্রি
আপনি চাইলে আপনার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে
পারবেন। ধরেন আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ জানেন। আপনি এই
বিষয়ের উপর একটা কোর্স তৈরী করে,
আপনার ওয়েবসাইটে ছেড়ে মানুষের কাছে কোর্স বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
বর্তমান সময়ে এটা অনেকেই করছে এবং ভালো টাকা মাস শেষে ইনকাম করছে। তাই আপনি
চাইলে এই কাজটা করতে পারেন।
মেম্বারশিপ বা সাবস্ক্রিপশন
আপনি মাসিক ফি বা চার্জ নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটের মেম্বারশিপ বিক্রি করতে
পারেন। ধরুন আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে একটি কোর্স তৈরি করেছেন এবং এই
কোর্স বিষয়ে ধাপে ধাপে আপনি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভিডিও বা কনটেন্ট প্রকাশ
করেন।
যেগুলো সাধারণ কোন মেম্বাররা দেখতে পাবে না, শুধুমাত্র তারাই দেখতে পাবে। যারা
আপনার ওয়েবসাইটের মেম্বারশিপ নিবে। তবে এইভাবে ইনকাম করতে চাইলে
আপনাকে নিয়মিত হাই কোয়ালিটির এবং গোপনীয় যেসব তথ্য থাকে, সেগুলো সম্পর্কে
কনটেন্ট আপলোড করে যেতে হবে।
স্পন্সরড পোস্ট ও পেইড রিভিউ করে আয়
আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট খুলবেন এবং এখানে নিয়মিত কাজ করার পর, যখন আপনার
ওয়েবসাইটে অনেক ভিজিটর আসবে। তখন বিভিন্ন কোম্পানি নিজে থেকেই আপনার সাথে
যোগাযোগ করবে, তাদের পণ্যের রিভিউ দেওয়ার জন্য। তারা যোগাযোগ করলে,
আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জনগণের সংখ্যা, ডোমিন অথরিটি ও কি বিষয়ে আপনার
ওয়েবসাইট, তার ওপর বিবেচনা করে টাকার পরিমান নির্ধারণ করবেন। প্রথম দিকে চেষ্টা
করবেন বাজেট বা টাকার পরিমাণ কম নেওয়ার। আস্তে আস্তে যখন আপনার ওপর
বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, তখন টাকার পরিমান বাড়ানো ভালো হবে।
ব্যাকলিংক বিক্রি করে আয়
আপনার ওয়েবসাইট ডোমেন অথরিটি যদি ভালো থাকে, আপনি অন্য ওয়েবসাইটের মালিকদের
কাছে ব্যাকলিংক বিক্রি করতে পারবেন। ব্যাকলিংক অন্য ওয়েবসাইটকে রাঙ্কিং করতে এবং
SEO তে অনেক সাহায্য করে। তাই আপনার ওয়েবসাইটের অথরিটি বেশি থাকলে, অন্য
ওয়েবসাইটের মালিক আপনার থেকে ব্যাকলিংক নিতে চাইবে।
তখন আপনি চাইলে, তাদের কাছে টাকা নিয়ে আপনার সাইটে ব্যাক লিংক দিতে পারেন।
কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে, গুগলের নীতিমালা মেনে নোফলো বা স্পন্সরড ট্যাগ
লাগিয়ে ব্যাকলিংক ব্যবহার করতে হবে। নয়তো সার্চ রাঙ্কিংয়ে গুগল থেকে পেলেনটি
খাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
ওয়েবসাইট থেকে আয় শুরু হতে কতদিন লাগে
আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতেছি একটি ওয়েবসাইট খোলার ৬ থেকে ১ বছর পর ইনকাম
শুরু হয়। তবে অনেকের এক বছরের বেশি লাগে। ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করার চিন্তা
থাকলে, ধৈর্য হারা যাবে না। কারণ এখানে সফলতা আসতে সময় লাগে।
ওয়েবসাইট খুলে সফল হয়ে ইনকাম করতে চাইলে, আপনাকে নিয়মিত ছয় মাস থেকে এক বছর
কাজ করে যেতে হবে। প্রথম ৩ থেকে ৬ মাস মাস কন্টেন্ট বা পোস্ট তৈরি করে সেগুলো
রেংক করতে সময় লেগে যায়। এ সময় ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বা ভিজিটর প্রাই শুন্য
থাকে,
তবে পাঁচ থেকে ছয় মাস পর আস্তে আস্তে গুগল থেকে ট্রাফিক আসতে শুরু করে। যখন
নিয়মিত আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আসা শুরু করবে, তখন এডসেন্সের জন্য আবেদন
করবেন। এডসেন্স পেলে অল্প করে ইনকাম শুরু হবে। প্রথম দিকে এক হাজার ভিজিটরে
হয়তো সেরকম ইনকাম হবে না।
কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটে যখন ৯ হাজার করে ভিজিটর হবে। তখন ভালো টাকা
ইনকাম করবেন মাস শেষে। আসতে আসতে আপনার কনটেন্ট যত বেশি হবে, আপনার ইনকাম তত
বাড়বে। তাই কমপক্ষে ছয় থেকে এক বছর ধৈর্য ধরে কাজ করার চেষ্টা করবেন।
ওয়েবসাইটে সফল হতে হলে ধৈর্যই সবথেকে বড় অস্ত্র এখানে রাতারাতি বড় হওয়া
যায় না।
নতুনরা যেসব ভুল বেশি করে
নতুনরা অনেকেই ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানে না এবং এই না জানার কারণে তারা অনেকগুলো
ভুল করে এবং কিছু সময় পর ধৈর্য্য হারা হয়ে কাজ ছেড়ে দেয়। চলেন যে সব
ভুলগুলো নতুনরা বেশি করে সেই ভুলগুলো সম্পর্কে আমরা জেনে নিই।
১. নতুনরা ওয়েবসাইট খুলে ৫ থেকে ১০ টা কনটেন্ট বা পোস্ট লেখার পর গুগল
এডসেন্সের জন্য এপ্লাই করে দেয়, যেটা মোটেও ঠিক না। এতে এডসেন্স রিজেক্ট হয়ে
যায়। তাই কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ টা হাই কোয়ালিটির কনটেন্ট বা পোস্ট লিখে
পাবলিশ করবেন। যখন অল্প কিছু ভিজিটর নিয়মিত আপনার ওয়েবসাইটে আসতে থাকবে,
তখন এডসেন্সের জন্য আবেদন করা উচিত।
২. যেকোনো একটি বিষয় টার্গেট করে ওয়েবসাইটে কাজ করা ভালো। ধরেন এক মাস
তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার পর, পরের মাসে ফুড বা ট্রাভেল বিষয় নিয়ে কাজ
করলে। গুগলের চোখে আপনার ওয়েবসাইটের অথরিটি দুর্বল হয়ে পড়বে, এতে সফল হওয়ার
সম্ভাবনা অনেক কম থাকবে।
৩. দ্রুত এবং বেশি পোস্ট করার ফলে কনটেন্ট এর মান কমে যায়। তাই কনটেন্ট
এর কোয়ালিটির চেয়ে কোয়ানটিটিতে জোর দেওয়া উচিত। কারণ বর্তমান সময়ে
গুগল কন্টেন্টের গভীরতা ও সত্যতা বিচার করে র্যাঙ্ক দেয়, শুধু সংখ্যা দেখে
না।
৪. নতুনরা শুধুমাত্র গুগল এডসেন্সের উপর নির্ভর করে, যেটা ভুল
সিদ্ধান্ত। যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় হঠাৎ এডসেন্স নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তাই ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্সের পাশাপাশি এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং স্পন্সরসিপ
নিয়ে কাজ করা নিরাপদ।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্নঃ ওয়েবসাইট থেকে আয়ের উপর ট্যাক্স দিতে হয়?
উত্তরঃ বিদেশ থেকে নিজের দেশে মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে সরকারি কিছু নিয়ম কানুন
আছে এবং সময়ের সাথে এটা পরিবর্তন হয়। তাই ওয়েবসাইট থেকে আয় করা টাকার
ওপর ট্যাক্স দিতে হবে, কিনা ব্যাংক থেকে জেনে নেওয়া উচিত। তবে আমার জানামতে
ওয়েবসাইটে এডসেন্সের ইনকাম সরাসরি ব্যাংকে আসে এবং ব্যাংক থেকে সরকারি নিয়ম
অনুযায়ী, এই টাকার উপর কিছু টাকা ট্যাক্স কাটা হয়।
প্রশ্নঃ বাংলা কনটেন্ট লিখে কি আয় করা যায়?
উত্তরঃ বাংলা কনটেন্ট লিখে আয় করা যায়। এমনকি আপনারা এখন যা পড়ছেন, এটা
থেকেও আয় হচ্ছে। তবে ইংরেজি বিষয়ে আর্টিকেল বা কনটেন্ট বানালে CPC বেশি হবে,
এতে বাংলা কনটেন্টের থেকে বেশি টাকা ইনকাম করা সম্ভব।
প্রশ্নঃ ওয়েবসাইট খুলতে কত টাকা লাগে?
উত্তরঃ ওয়েবসাইট খুলতে কত টাকা লাগে, সেটি নির্ভর করে ডোমেইন,
হোস্টিং ও থিমের ওপর। ব্লগারে শুধু ডোমেইন ও থিম কেনা লাগে। এতে খরচ
অল্প হয়, আর ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে ডোমেইন হোস্টিং এবং থিম কেনা
লাগে। এখানে হোস্টিং আলাদাভাবে কিনতে হয়, তাই খরচ বেশি। ওয়েবসাইটে হোস্টিং
প্ল্যান কেমন নিবেন, এটার উপর নির্ভর করে খরচ বেশি হয়।
প্রশ্নঃ ওয়েবসাইট কোথায় কিনবো?
উত্তরঃ আমরাই ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করি। তাই আপনি যদি ব্লগার
বা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট খুলে ইনকাম করতে চান, তবে আমাদের কাছে
ওয়েবসাইট অর্ডার করতে পারেন। আমরা ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ডোমেইন এবং হোস্টিং
আলাদাভাবে বিক্রি করি। তাই ওয়েবসাইট বা ডোমেইন, হোস্টিং কিনতে হোয়াটসঅ্যাপে
অথবা নিচে
যোগাযোগ পেজে
এসএমএস করতে পারেন।
মন্তব্যঃ ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়
ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়, আশাকরছি উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনারা
জানতে পেরেছেন। ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা খুব সহজ এবং খুব কঠিন কাজ নয়। এখানে
সফলতা আসে ধৈর্যের সাথে। প্রথমে একটি ওয়েবসাইট বানাতে হয় এবং এখানে নিয়মিত
ভালো মানের কনটেন্ট বা আর্টিকেল পাবলিশ করতে হয়, যা মানুষের কাজে আসে। নিয়মিত
কাজ করার পর আস্তে আস্তে, এখানে ভিজিটর আসে।
আর যখন ভিজিটর আসে, তখনই ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম প্রসেস শুরু হয়। উপরে আমি
ওয়েবসাইট দিয়ে আয়ের অনেক মাধ্যম বলেছি। এই মাধ্যমগুলো মেনে আপনারা যদি
ওয়েবসাইট পরিচালনা করেন, তাহলে ১ বছরের মধ্যে আশা করা যায় মোটামুটি ইনকাম করা
শুরু করবেন। তবে কম ইনকাম দেখে থেমে গেলে চলবে না। রেডিমেড ওয়েবসাইট কিনে
ইনকাম করতে চাইলে, আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url