বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট

আজকে আপনারা বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। পাশাপাশি বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন কী? কারা এই লোন পাওয়ার যোগ্য? লোন পেতে কি কি যোগ্যতা ও শর্তাবলী রয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ লোনের সুবিধা,
বুরো-বাংলাদেশ-এনজিও-লোন-পদ্ধতি
সুদের হার ও সর্বোচ্চ কত টাকা লোন পাওয়া যাবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আপনারা যারা বুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে লোন নিতে চাচ্ছেন। তারা আজকের পুরো আলোচনা ভালোভাবে পড়ার চেষ্টা করবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি

  • বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি
  • বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন কী?
  • কারা এই লোন পাওয়ার যোগ্য?
  • লোন পেতে কী কী যোগ্যতা ও শর্তাবলী রয়েছে?
  • লোন পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
  • বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন সুদের হার
  • বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোনের সুবিধা
  • বুরো বাংলাদেশ কি কি ধরনের লোন প্রদান করে
  • এখানে সর্বোচ্চ কত টাকা লোন নেওয়া যায়?
  • লোন নেওয়ার আগে যেসব বিষয় খেয়াল করবেন
  • (FAQ) সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
  • মন্তব্যঃ বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি

বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি

আপনারা অনেকে বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এখান থেকে ঋণ নিতে হলে প্রথমে আপনাদেরকে এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে সদস্য হতে হবে। এরপর নিজের প্রয়োজন ও কাজের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ঋণ নির্বাচন করতে হবে।
তারপর বুরো বাংলাদেশ এনজিও শাখাতে যোগাযোগ করতে হবে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীর সদস্যপদ, সঞ্চয়ের অভ্যাস, ব্যবসা বা কাজ, ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্য এবং পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই বাছাই করে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিবে। বুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে লোন নিতে হলে,

প্রতিষ্ঠানের শর্তে নিজেদের অ্যাক্টিভিটি দেখাতে হবে। যেমন নিয়মিত সঞ্চয় জমা দেওয়া, কেন্দ্রসভায় উপস্থিত থাকা, নির্ধারিত আর্থিক নিরাপত্তা তহবিলে জমা দেওয়া ইত্যাদি। কেন্দ্রবহির্ভুত সদস্যদের জন্য নির্ধারিত নিয়মে সদস্য হতে হবে, দৃশ্যমান কাজ বা ব্যবসা দেখাতে হবে এবং

নির্ধারিত টাকা তহবিলে সঞ্চয় করতে হবে। এজন্য শুধু টাকা দরকার হলেই ঋণ পাওয়া যাবে না। এখানে টাকা পেতে হলে, আবেদনকারীর যোগ্যতা, ঋণের উদ্দেশ্য এবং প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত শর্ত মানতে হবে। এরপর ব্যাংক থেকে আবেদন যাচাই করে কত টাকা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

বুরো বাংলাদেশ লোন পাওয়ার সহজ পদ্ধতি

বুরো বাংলাদেশ থেকে লোন নিতে হলে প্রথমে আপনাদের উপযুক্ত ঋণ নির্বাচন করতে হবে। তারপর নিকটে থাকা বুরো বাংলাদেশ শাখায় গিয়ে, সদস্য হয়ে ঋণের জন্য আবেদন করতে হবে। কিভাবে বুরো বাংলাদেশ থেকে লোন নিবেন, ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া দেখানো হলো।

প্রথম ধাপঃ স্থানীয় বুরো বাংলাদেশ শাখায় যেতে হবে। অর্থাৎ আপনার এলাকায় বা নিকটে থাকা অফিস গিয়ে কর্মকর্তার সঙ্গে ঋণের বিষয়ে কথা বলতে হবে। তারা তখন আপনাকে বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন নেওয়ার পদ্ধতি বিষয়ে বুঝিয়ে দিবেন।

দ্বিতীয় ধাপঃ ঋণের ধরন নির্বাচন করতে হবে। বুরো বাংলাদেশ সাধারণ ঋণ, কৃষি ঋণ, SME ঋণ, জরুরী ঋণ, মৌসুমি ঋণ, দুর্যোগ ঋণ সহ বিভিন্ন ধরনের ঋণ সেবা রয়েছে। আপনি যদি কৃষিকাজ করেন, তবে কৃষি ঋণ, যদি ব্যবসা করেন, তবে ব্যবসায়ীক ঋণ বা SME ঋণ। আর তাড়াতাড়ি টাকার প্রয়োজন হলে জরুরী ঋণ নির্বাচন করবেন।

তৃতীয় ধাপঃ বুরো বাংলাদেশের সদস্য হতে হবে। ঋণ নেওয়ার আগে নির্ধারিত নিয়ম মেনে বুরো বাংলাদেশের সদস্য হবেন। তারপর নিয়মিত এই একাউন্টে সঞ্চয় জমা করতে হবে। এখান থেকেই আপনি ঋণ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন।

চতুর্থ ধাপঃ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে ঋণের জন্য আবেদন করতে হবে। সাধারণত জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগে। তবে ঋণের ধরন ও আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য ও কাগজপত্র লাগতে পারে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে আবেদন ফরম তুলে পূরণ করে একসাথে জমা দিতে হবে

পঞ্চম ধাপঃ যাচাই বাছাই অর্থাৎ আপনি যে আবেদন ফরম পূরণ করেছেন এবং তার সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। এগুলো বুরো বাংলাদেশ শাখা থেকে একজন ফিল্ড অফিসার যাচাই করবে। তারপর আপনি ঋণ নেওয়ার জন্য উপযুক্ত কিনা তা নির্ধারণ করা হবে।

ষষ্ঠ ধাপঃ লোন অনুমোদন করা। যদি আবেদন ফরম ও আপনার দেওয়া তথ্য সঠিক হয় এবং এখানে কোন সমস্যা না থাকে, তাহলে শাখা থেকে আপনার উপর ঋণ অনুমোদিত করা হবে। যা ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে অনুমোদনের পরেই আপনার হাতে ঋণের টাকা পৌঁছে যাবে।

বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন কী?

বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন এমন এক ধরনের ঋণ, যা কম ইনকাম করা মানুষদের দেওয়া হয়। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক এবং আয়মূলক কাজে জড়িত মানুষদের এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বুরো বাংলাদেশ লোনের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি করা।

যেমন ছোট ব্যবসা পরিচালনা, কৃষি কাজে বিনিয়োগ এবং আত্মকর্মসংস্থান তৈরিতে সাহায্য করা। বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোনের মধ্যে সাধারণ ঋণ, কৃষি ঋণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার ঋণ সহ জরুরী ঋণের মত বিভিন্ন ধরনের ঋণ সেবা রয়েছে। যা আপনারা প্রয়োজন মত নির্ধারণ করে আবেদন করতে পারবেন।

তবে আবেদন করলেই যে এই ঋণ পেয়ে যাবেন তা না। এই ঋণ নিতে হলে আপনাকে তাদের নির্দিষ্ট শর্ত ও যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। যখন আবেদনকারীর প্রয়োজন, লোন নেওয়ার উদ্দেশ্য এবং ঋণ পরিশোধ করার সক্ষমতা থাকবে। তখন সংশ্লিষ্ট লোনের নিয়ম বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কারা এই লোন পাওয়ার যোগ্য?

বুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে যে কেউ চাইলেই ঋণ নিতে পারবে না কারণ এখানে ঋণ নিতে হলে বেশ কিছু শর্ত ও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। এখানে নিজের যোগ্যতা ও শর্ত মানার পরেও কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষদের বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কারা এই লোন পাওয়ার যোগ্য চলেন তাদের তালিকা দেখে নেওয়া যাক।
  • কৃষক গোষ্ঠীঃ যারা পশুপালন, মাছ চাষ, খামার, ফসল সহ কৃষি কাজে জড়িত কাজগুলো করে। তাদেরকে বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পেতে অগ্রাধিকার বেশি দেওয়া হয়।
  • ছোট উদ্যোক্তাঃ যারা ছোটখাটো ব্যবসা করে। যেমন কাঁচা সবজির বিক্রি, দোকান পরিচালনা বা নতুন ব্যবসা করতে চাই।
  • নারী উদ্যোক্তাঃ যেসব মহিলারা নিজেদের আয়ের উৎস তৈরি করতে চাই।
  • উৎপাদনমুখী কর্মীঃ যেসব মানুষ তাদের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে চাই এবং এই আর্থিক সচ্ছলতা আনার জন্য যারা উৎপাদনমুখী কাজ করতে চাই।
  • দুর্যোগকবলিত গোষ্ঠীঃ যারা দুর্যোগে, তাদের সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে। তাদেরকে পূর্ণবাসন করার জন্য বা আগের অবস্থায় ফেরাতে এই ঋণ দেওয়া হয়।

লোন পেতে কী কী যোগ্যতা ও শর্তাবলী রয়েছে?

বুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে লোন নিতে হলে আপনাকে তাদের কিছু যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ব্যাংক তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করার পর ঋণ অনুমোদন করবে। চলেন কি কি শর্ত ও যোগ্যতা প্রয়োজন হবে তা জেনে নিই।
বুরো-বাংলাদেশ-এনজিও-লোন-পদ্ধতি
লোন পাওয়ার শর্তগুলো হলো,

১. বয়সঃ যে ঋণের জন্য আবেদন করবে তার বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
২. জাতীয়তাঃ আবেদনকারী কে বাংলাদেশের একজন বৈধ নাগরিক হতে হবে।
৩. সদস্যপদঃ এই লোন নেওয়ার জন্য বুরো বাংলাদেশ ঋণ সমিতির সদস্য হতে হবে।
৪. আয়ের উৎসঃ লোন নেওয়ার পর, পরিশোধ করার সক্ষমতা প্রমাণ করার জন্য। আপনাকে বৈধ আয়ের উৎস দেখাতে হবে।
৫. আর্থিক রেকর্ডঃ পূর্বে লোন বাকি থাকলে পরিশোধ করতে হবে এবং আর্থিক লেনদেন করার ভালো রেকর্ড থাকা লাগবে।

লোন পাওয়ার যোগ্যতাগুলো হলো,

১. কেন্দ্রে যোগদানের নির্দিষ্ট সময় পূরণ করা।
২. নিয়মিত সঞ্চয় জমা করার অভ্যাস।
৩. নির্ধারিত আর্থিক নিরাপত্তা তহবিলে জমা দেওয়া।
৪. নিয়মিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা।
৫. যে উদ্দেশ্যে টাকা নিবেন সে কাজেই টাকা ব্যবহার করা।
৬. তাদের নিয়ম এবং ঋণ নেওয়ার পর তাদের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত থাকা।
৭. ঋণ নেওয়ার মতো কার্যক্ষমতা থাকা।

লোন পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি অনুযায়ী আবেদন করার আগে যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়, তবে এতে অনেক সময় বাঁচবে। এখন আমি আপনাদেরকে বুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে লোন নেওয়ার জন্য যেসব কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে, সেগুলোর নাম বলবো।
  • আবেদনকারী ও জামিনদারের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি লাগবে।
  • আবেদনকারীর দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে।
  • পরিচয় বা ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল, পানি বিল। অথবা পৌরসভা বা ইউনিয়নের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র লাগবে।
  • ব্যবসায়িক হলে ট্রেড লাইসেন্স লাগবে যদি থাকে।
  • জামিনদার হিসেবে আপনার এলাকার একজন পরিচিত বা গণ্যমান্য ব্যক্তির তথ্য দিতে হবে। যেমন নাম, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং তার ঠিকানা।

বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন সুদের হার

বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোনের বর্তমান অফিশিয়াল তথ্য মতে এখানে সাধারণ ঋণে সার্ভিস চার্জ ২৪% সহ জরুরী ঋণ, পানি নিষ্কাশন ঋণ, কৃষি ঋণ, কনজ্যুমার ঋণ এবং SME ঋণে সার্ভিস চার্জ ২৪% উল্লেখ রয়েছে। তবে SMAP ঋণে ১৯% এবং দুর্যোগ ঋণে ১৮% উল্লেখ রয়েছে।
এখানে ক্রমহার্সম্যান বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এজন্য শুধু ২৪% দেখে টোটাল কত টাকা ফেরত দিতে হবে, তা ভাবা উচিত হবে না। লোনের পরিমাণ, কিস্তির ধরন, মেয়াদ ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব পদ্ধতিতে, টাকা পরিশোধ করার পরিমাণ আলাদা হতে পারে। তাছাড়া বুরো বাংলাদেশ এনজিও জানিয়েছে,

তাদের ঋণের সার্ভিস চার্জ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ মোতাবেক নির্ধারণ করা হয়। এছাড়াও তারা পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের বা সদস্যদের জন্য বিশেষ সার্ভিস চার্জ সুবিধা রেখেছে  তাই ঋণ নেওয়ার আগে নিকটস্থ শাখায় ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী কত টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং কিস্তির পরিমাণ কত টাকা, তা লিখিতভাবে ও পরিষ্কার ভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোনের সুবিধা

ছোট উদ্যোক্তা ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ব্যুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ এই ঋণের বিভিন্ন ক্যাটাগরি নির্দিষ্ট প্রয়োজনকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়েছে। বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোনের সুবিধা অনেক রয়েছে চলুন জেনে নিই।

ক) সাধারণ ঋণ ব্যবসা ও আয়বর্ধক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
খ) কৃষকদের জন্য আলাদাভাবে কৃষি ও মৌসুমী ঋণের ব্যবস্থা আছে।
গ) হঠাৎ টাকার দরকার হলে জরুরি প্রয়োজনে ছোট অংকের ঋণের সুযোগ আছে।
ঘ) SME ঋণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক উন্নতির সুযোগ।
ঙ) দুর্যোগের পর ব্যবসার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিষেশ লোন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
চ) নির্দিষ্ট পণ্য কিস্তিতে কেনার জন্য কনজ্যুমার লোনের ব্যবস্থা আছে।
ছ) বুরো বাংলাদেশ এনজিওর তথ্য মতে ঋণ নিতে জামানত বা প্রসেসিং ফি লাগে না।
জ) কিস্তির টাকা বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
ঝ) পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত সানিটেশন ব্যবহারে আলাদা ঋণের ব্যবস্থা করা আছে।

পরামর্শঃ বুরো বাংলাদেশ এনজিও ঋণ সুবিধা থাকলেও, এই ঋণ নেওয়ার আগে আপনার মাসিক ইনকাম কত তা দেখবেন এবং ব্যবসার সম্ভাব্য লাভ ও কিস্তির চাপ নিতে পারবেন কিনা হিসাব করবেন।

বুরো বাংলাদেশ কি কি ধরনের লোন প্রদান করে

আপনারা অনেকে জানতে চেয়েছেন বুরো বাংলাদেশ কি ধরনের লোন প্রদান করে থাকে। বর্তমান সময়ে অফিসিয়াল তথ্য মতে ব্যুরো বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের ঋণ সেবা পরিচালনা করে যাচ্ছে। এই লোনগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধারণ ঋণ, জরুরী ঋণ, কৃষি ঋণ, দুর্যোগ ঋণ,

পানি ও পয়নিষ্কাশন ঋণ, কনজ্যুমার লোন, মৌসুমী ঋণ, SMAP ঋণ ও SME ঋণ। এখানে প্রতিটি ঋণের ক্যাটাগরি নির্দিষ্ট চাহিদা মেটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই আপনার চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি একটি ক্যাটাগরি বেছে, এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এখানে সর্বোচ্চ কত টাকা লোন নেওয়া যায়?

এখানে সর্বোচ্চ কত টাকা লোন পাওয়া যায় এর কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা নেই। কারণ লোন কত টাকা পাওয়া যাবে, পুরোটাই লোনের ধরন এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। তবে বর্তমান অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী সাধারণ ঋণ ও SMAP ঋণে এক বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পাওয়া যেতে পারে।

এছাড়াও কনজ্যুমার লোনে ৮ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, জরুরী ঋণে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা এবং দুর্যোগ ঋণে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। তবে কৃষি ঋণ ও SME ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কত টাকা লোন পাওয়া যাবে। এর কোন উল্লেখ নেই, এখানে বলা হয়েছে সদস্য বা

আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা দেখে ঋণ নির্ধারণ করা হবে। আর্থিক সক্ষমতার ওপর বিবেচনা করে লোনের পরিমাণ কম বেশি হতে পারে। এজন্য লোন নেওয়ার আগে আপনার ব্যবসা বা কাজের ধরন এবং কি জন্য লোন নিবেন, তার উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে। সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে যোগাযোগ করে আবেদন করা উচিত হবে।

লোন নেওয়ার আগে যেসব বিষয় খেয়াল করবেন

ঋণ নেওয়ার আগে শুধু টাকা পাবেন এ বিষয়টি দেখলে হবে না। এখানে মোট কত টাকা ফেরত দিতে হবে কিস্তির মেয়াদ কতদিন এবং ঋণ নেওয়া টাকা যে কাজে ব্যবহার করবে সেখান থেকে ইনকাম করা যাবে কিনা এ বিষয়গুলো দেখা দরকার।

লোন নেওয়ার আগে যেসব বিষয় ভালোভাবে খেয়াল করবেন তা হচ্ছে,

১. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টাকা ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
২. লোনের সার্ভিস চার্জ ও মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা জেনে নিবেন।
৩. সপ্তাহে না মাসিক কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে হবে জেনে নিবেন।
৪. এক উদ্দেশ্যে ঋণ নিয়ে অন্য উদ্দেশ্যে কখনোই খরচ করবেন না।
৫. ব্যাংকের কোন কর্মীকে ব্যক্তিগত নাম্বারে অতিরিক্ত টাকা দিবেন না।
৬. সব সময় টাকা লেনদেন করবেন টাকার রশিদ নিয়ে।
৭. শাখা থেকে বর্তমান নিয়ম, লোনের চার্জ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নিবেন।
আপনাদের উপকারে আসবে এরকম আরো কিছু পোস্টের তালিকা

(FAQ) সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ লোন পেতে কি জামানত লাগে?
উত্তরঃ বুরো বাংলাদেশের অফিশিয়াল তথ্য মতে, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে জামানত বা প্রসেসিং ফি লাগে না। তবে জামানত না লাগলেও সদস্যপদ, ঋণের উদ্দেশ্য, সঞ্চয় সক্ষমতা ও অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট ঋণ নিতে জামানত লাগবে কিনা, তা সরাসরি শাখা থেকে জেনে নেওয়া ভালো।

প্রশ্নঃ নারীদের জন্য বিশেষ কোন সুবিধা আছে কী?
উত্তরঃ বুরো বাংলাদেশ এনজিওতে নারীদের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ লোনের সুবিধা দেওয়া হয়। যেন তারা আয়ের উৎস তৈরি করে, নিজেদেরকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে।
বুরো-বাংলাদেশ-এনজিও-লোন-সুদের-হার
প্রশ্নঃ অনলাইনে আবেদন করা যায় কি?
উত্তরঃ বুরো বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবাতে তাদের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে। তবে তাদের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী সাধারণ ঋণ নেওয়ার জন্য। এই অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই শুধু অনলাইনে ফরম পূরণ করলে ঋণ অনুমোদন হবে না। আবেদন করার পর নিকটস্থ শাখাতে যোগাযোগ করতে হবে।
প্রশ্নঃ লোন পরিশোধের সময়সীমা কেমন?
উত্তরঃ আপনি কোন ধরনের ঋণ নিবেন তার ওপর নির্ভর করে সময় আলাদা হবে। আপনি যদি সাধারন ঋণ নেন, তবে মেয়াদ পাবেন এক বছর। জরুরী ঋণের জন্য তিন মাস এবং অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় হতে পারে। তাই ঋণ নেওয়ার সময় নিকটস্থ শাখা থেকে লোন পরিশোধ করার সময়সীমা জেনে নিবেন।

মন্তব্যঃ বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি

বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি অনুযায়ী লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করা কৃষি কাজে টাকা লাগানো কিংবা নিজের আর্থিক আয় বাড়ানোর একটি বড় সুযোগ হতে পারে। কিন্তু লোন নেওয়ার আগে শুধু টাকার পরিমাণ দেখলেই হবে না। আপনার প্রয়োজন কতটুকু সেই টাকা কোথায় ব্যবহার করবেন এবং নিয়মিত আপনি স্ত্রীর টাকা পরিশোধ করতে পারবেন কিনা দেখা উচিত।

এছাড়াও ঋণ নেওয়ার জন্য আবেদন করার আগে লোনের শর্ত, সার্ভিস চার্জ, কিস্তির পরিমাণ, কত দিনে পরিশোধ করতে হবে এবং কি কাগজ প্রয়োজন হবে। এইসব বিষয় পরিষ্কার ভাবে জেনে নেওয়া উচিত। তাই আপনারা লোন নেওয়ার আগে উপরে দেওয়া তথ্যগুলো ভালোভাবে পড়ে নিবেন। এই তথ্যগুলো পড়ে নিলে বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন নেওয়া সহজ হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url