প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬
আজকে প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম অফলাইন ও অনলাইন দুই ভাবেই
দেখানো হবে। পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার যোগ্যতা, একাউন্ট কত প্রকার,
কাদের জন্য কোন একাউন্ট ভালো, একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে এসব বিষয় আলোচনা করা
হবে।
আপনারা যারা প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলবেন, অবশ্যই একাউন্ট খোলার আগে আজকের
পুরো তথ্য ভালোভাবে পড়বেন। এই তথ্যগুলো জানা থাকলে আপনারা সহজে ঝামেলা ছাড়া
নিজের প্রয়োজন বুঝে একাউন্ট খুলতে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
- প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
- অনলাইনে প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
- প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার যোগ্যতা
- প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কী কী লাগে
- প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট কত প্রকার
- কাদের জন্য কোন একাউন্ট ভালো হবে
- প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে
- প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কত সময় লাগে
- প্রাইম ব্যাংক একাউন্টের সুবিধা
- প্রাইম ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট কী
- প্রাইম ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট চার্জ
- একাউন্ট খোলার আবেদন কেন বাতিল হয়
- একাউন্ট খোলার আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন
- প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম
- (FAQ)আলোচিত কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর
- মন্তব্যঃ প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম আপনি কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলবেন তার ওপর
নির্ভর করে। কারণ প্রাইম ব্যাংকে বিভিন্ন রকমের একাউন্ট সুবিধা রয়েছে। সব
একাউন্টে একই রকম নিয়ম প্রযোজ্য হয় না। তাই প্রথমে আপনি কোন ধরনের একাউন্ট
খুলবেন, তা নির্বাচন করা জরুরী। যাই হোক চলুন কিভাবে ধাপে ধাপে প্রাইম ব্যাংকে
আপনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী একাউন্ট খুলবেন জেনে নিন।
আরো পড়ুনঃ ব্র্যাক ব্যাংক প্রবাসী একাউন্ট খোলার নিয়ম
প্রথম ধাপঃ কোন একাউন্ট খোলা আপনার জন্য প্রয়োজন প্রথমে তা নির্বাচন
করুন। ভুল একাউন্ট নির্বাচন করলে, পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট চার্জ ফি সহ বিভিন্ন
সমস্যার মধ্যে পড়তে পারেন।
দ্বিতীয় ধাপঃ দরকারি কাগজপত্র ঠিক করবেন। বিশেষ করে একাউন্ট খুলতে ভোটার
আইডি কার্ড, রঙিন ছবি নমিনির তথ্য, মোবাইল নাম্বার, আয়ের উৎস বা পেশা,
ব্যবসায়িক হলে ট্রেড লাইসেন্স এরকম কাগজপত্র রেডি রাখবেন।
তৃতীয় ধাপঃ সব ডকুমেন্ট সঙ্গে নিয়ে নিকটে থাকা প্রাইম ব্যাংক শাখাতে
যাবেন। সেখানে গিয়ে অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ম্যানেজারের সাথে কথা বলে একাউন্ট
খোলার ফর্ম তুলে তা সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করবেন।
চতুর্থ ধাপঃ ফরম পূরণ করার পর ফর্মের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। যেমন
এনআইডির ফটোকপি, ছবি, নমিনের তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র ব্যাংকে জমা দিবেন।
পঞ্চম ধাপঃ কাগজপত্র ও আবেদন জমা দেওয়ার পর। কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট
নির্বাচন করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে এনটিয়াল ডিপোজিট জমা দিতে হবে। কারেন্ট
একাউন্ট খুললে ১০০০ টাকা, প্রাইম ওয়ান একাউন্ট খুললে ৫০০ টাকা এবং প্রাইম ফাস্ট
একাউন্ট খুললে ১০০ টাকা লাগতে পারে।
ষষ্ঠ ধাপঃ আপনার তথ্য যাচাই বাছাই করার পর অ্যাকাউন্ট খোলা হলে। এই ব্যাংক
থেকে ডেবিট কার্ড, চেকবুক ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর প্রয়োজনীয় সুবিধা নিতে
পারবেন।
অনলাইনে প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
আপনারা আপনাদের সময় বাঁচাতে ঘরে বসে থেকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক
একাউন্ট, তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে খুলে নিতে পারবেন। কিভাবে
খুলবেন চলুন তা ধাপে ধাপে জেনে নিই।
প্রথম ধাপঃ প্রথমে আপনি প্রাইম ব্যাংকের
ওয়েবসাইটে যাবেন তারপর (Open an Account) সিলেক্ট করে Get
Started চাপ দিয়ে এগিয়ে যাবেন।
দ্বিতীয় ধাপঃ এরপর আপনার মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল এড্রেস দিয়ে Sing
in বা Continue করতে হবে। এরপর ফোন নাম্বারে ছয় সংখ্যার ওটিপি কোড
যাবে। ছয় সংখ্যার কোড দিয়ে Verify করতে হবে।
তৃতীয় ধাপঃ ভেরিফাই করার পর আপনার এনআইডি কার্ডের নাম্বার এবং জন্ম
নিবন্ধনের তারিখ দিয়ে Continue করে এগিয়ে যেতে হবে। পরবর্তী ধাপে আপনার এনআইডি
কার্ডের সামনের এবং পেছনের ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। ছবি আপলোড করা
হলে Continue করতে হবে।
চতুর্থ ধাপঃ তারপর আপনার পার্সোনাল ইনফরমেশন ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী সব
তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করবেন। ফরম পূরণ করা হলে Continue করে
এগিয়ে যাবেন।
পঞ্চম ধাপঃ পূর্বের তথ্য সব সঠিক আছে কিনা ভালোভাবে যাচাই করবেন। তারপর সব
তথ্য ঠিক থাকলে Submit Application অপশনে ক্লিক করে ফর্ম জমা
দিবেন। এপ্লিকেশন ফর্ম জমা দিলে (Congratulations! Your Prime Bank account has
been created successfully) এই লেখাটা দেখাবে। এ লেখা দেখালে বুঝবেন
একাউন্ট খোলা হয়ে গেছে। নিচে আপনার অ্যাকাউন্ট নাম্বার দেওয়া হবে। পরবর্তীতে
এটি ব্যবহার করে আপনি ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার যোগ্যতা
প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খোলার যোগ্যতা নির্ভর করবে, আপনি কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট
খুলছেন তার ওপর। সাধারণ কারেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য, প্রাইম ব্যাংক অফিসিয়ালি
জানিয়েছে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। আবার
স্টুডেন্টদের জন্য বয়স ভেদে আলাদা একাউন্ট তৈরি করার সুবিধা রয়েছে।
প্রাইম ফাস্ট একাউন্ট ১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স, তারা খুলতে পারবে। পরে ১৮ বছর
হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিভাবক এ একাউন্ট পরিচালনা করবে। এছাড়াও প্রাইম ৫০ ও প্লাস
সেভিংস একাউন্টের জন্য। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকরা খুলতে
পারবে। তাই কি ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলছেন, তার ওপর ভিত্তি করে নিজের বয়স,
নাগরিকত্ব, রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস সহ নিজের আয়ের উৎস, একাউন্ট ব্যবহারের
উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মিলিয়ে দেখা উচিত। শুধুমাত্র বয়সের শর্ত
পূরণ করলেই একাউন্টের যোগ্য হওয়া যাবে না। তাই কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলছেন।
এই অ্যাকাউন্ট খুলতে কি শর্ত ও যোগ্যতা লাগবে, তা জেনেশুনে আবেদন করা উচিত।
প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কী কী লাগে
আগে থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি থাকলে। প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কোন
সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে না। অনেকে আছে যারা প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খোলার
জন্য কি কাগজপত্র লাগবে, তা জানে না যার কারণে একাউন্ট খুলতে অহেতুক ঝামেলার
মধ্যে পড়তে হয়। এই ঝামেলা দূর করার জন্য নিচে আমি প্রাইম ব্যাংকে
একাউন্ট খুলতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দিলাম।
-
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কার্ডের ফটোকপি
-
আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি
-
যিনি নমিনে হবে তার এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
-
নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
- একটি সচল মোবাইল নাম্বার
- বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র বা ইউটিলিটি বিলের কাগজ
- টিন সার্টিফিকেট বা আয়ের উৎসের প্রমাণপত্র
- একাউন্টে প্রথম ডিপোজিট
উপরে যে কাগজপত্রের তালিকা দিলাম। এই কাগজপত্র ব্যতীত অ্যাকাউন্টের ধরন
অনুযায়ী আরো কিছু কাগজপত্র ব্যাংক থেকে চাওয়া হতে পারে। এজন্য একাউন্ট
খোলার আগে কোন একাউন্ট খুলবেন এবং সে অ্যাকাউন্ট খুলতে কি কি কাগজপত্র
লাগবে। এ বিষয়ে ব্যাংকের শাখা থেকে জানার চেষ্টা করবেন।
প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট কত প্রকার
আপনারা অনেকে প্রশ্ন করেছেন প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট কত প্রকার। আসলে প্রাইম
ব্যাংকে গ্রাহকের বিভিন্ন প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলার
ব্যবস্থা আছে। এজন্য অ্যাকাউন্টটি কত প্রকার এমন সংখ্যা বলা ঠিক হবে না।
প্রাইম ব্যাংকের সেভিংস ক্যাটাগরিতেই অনেক রকমের একাউন্ট খোলার সুবিধা আছে।
যেমন প্রাইম সেভিংস, প্রাইম অন সেভিংস, প্রাইম ইয়োথ ইত্যাদি। চলুন প্রাইম
ব্যাংকের একাউন্ট কত প্রকার তার তালিকা জেনে নিন।
১. Prime Savings Account
২. Prime One Savings Account
৩. Prime Youth Account
৪. Prime First Account
৫. Prime 50 & Plus Account
৬. Prime Porijon Account
৭. Prime Women’s Savings Account
৮. Current Account
৯. Personal Retail Account
১০. Islamic Account
কাদের জন্য কোন একাউন্ট ভালো হবে
অনেকে ভুল একাউন্ট খুলে পরে সমস্যার মধ্যে পড়ে। এজন্য লেনদেনের ধরন এবং
নিজের সুবিধার কথা ভেবে একাউন্ট খুলবেন। কারণ ভিন্ন পেশার মানুষের চাহিদা
ভিন্ন রকম। যেমন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, অবসরপ্রাপ্ত ও
প্রবাসীদের এক রকম ব্যাংক একাউন্ট প্রয়োজন হয় না।
এজন্য নিজের লেনদেন ও সুবিধার প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তারপরেও
অনেকে আছে যারা একাউন্ট নির্বাচন করতে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে। তাই চলুন
একাউন্ট নির্বাচন করা সহজ করতে। কাদের জন্য কোন একাউন্ট খোলা ভালো হবে তা
জেনে নিই।
১. সাধারণ সঞ্চয়ের জন্যঃ যারা সাধারন সঞ্চয় করতে চান। তাদের জন্য
Savings Account উপযুক্ত হতে পারে। Prime One Savings Account সাধারণ
সঞ্চয়ের জন্য খুলতে পারেন। এই একাউন্ট খুলতে আপনাকে ৫০০ টাকা ডিপোজিট করতে
হবে। একাউন্ট খোলা হলে, এখান থেকে আপনি MyPrime Internet Banking
সুবিধা নিতে পারবেন।
২. ব্যবসায়ী বা বেশি লেনদেন কারীদের জন্যঃ যারা ব্যবসায়ী প্রতিদিন
অনেক টাকা লেনদেন করেন। তাদের জন্য Current Account খোলা ভালো
হবে। Prime Current Account যদি খুলেন, তবে এই একাউন্ট দিয়ে
আনলিমিটেড ট্রানজেকশন ফ্যাসিলিটি সুবিধা নিতে পারবেন। এই একাউন্টে ন্যূনতম
এক হাজার টাকা জমা লাগবে।
৩. ১৮ বছর নিচের বয়সীদের জন্যঃ যাদের ১৮ বছরের নিচে বয়স, তাদের
জন্য Prime First Account খোলা ভালো হবে। প্রাইম ব্যাংকে এই
একাউন্টটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে। এই একাউন্ট মূলত
শিক্ষার্থী বা কিশোরদের অভিভাবকরা পরিচালনা করবে। একাউন্ট খুলতে প্রাথমিক
জমা ১০০ টাকা লাগে এবং ডেবিট কার্ড, চেকবুক ও মেনটেনেন্স খরচ ফ্রি রয়েছে।
৪. ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্যঃ যেসব শিক্ষার্থীদের বা কিশোর
কিশোরীদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে, তাদের জন্য Prime Youth
Account খোলা বেস্ট অপশন হতে পারে। এই অ্যাকাউন্ট খুললে আপনারা
৪% প্রফিট পাবেন, ফ্রিতে ডুয়েল কারেন্সি কার্ড, প্রথম চেকবুক
ফ্রী, অ্যাকাউন্ট মেন্টেন্স খরচ ফ্রি। পাশাপাশি আপনারা MyPrime
Internet Banking ও ইন্সুরেন্স সুবিধা ও নিতে পারবেন।
৫. নারী, শিক্ষক ও ৫০+ বয়সীদের জন্যঃ যারা মহিলা, শিক্ষক বা ৫০ এর
বেশি বয়স, তাদের জন্য Specialised Savings Account নির্বাচন করা যেতে
পারে। Prime 50 & Plus Account এই অ্যাকাউন্ট খুললে লকার চার্জ ৫০
পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট, হাসপাতালের খরচ সুবিধা পাবেন এবং ডুয়েল কারেন্সি
কার্ডের সুবিধা ফ্রিতে নিতে পারবেন।
৬. প্রবাসী পরিবারের জন্যঃ যদি নিয়মিত বিদেশ থেকে পরিবারের কাছে টাকা
পাঠান, তবে আপনার জন্য Prime Porijon Account ভালো হতে পারে। এই
একাউন্ট খুললে চেকবুক, ডুয়েল কারেন্সি কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, লাইফ
ইন্সুরেন্স সহ remittance incentive সুবিধা নিতে পারবেন।
প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে
প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে প্রাথমিক জমা এবং সার্ভিস চার্জ
দুইটা আলাদা। প্রাথমিক জমা হচ্ছে, একাউন্ট চালু করার সময় একাউন্টে
জমা করতে হয়। আর ডেবিট কার্ড, চেক বুক, একাউন্ট মেন্টেনেন্স
খরচ এগুলোর আলাদা চার্জ রয়েছে।
আরো পড়ুনঃ
মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খোলার নিয়ম
প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে তার অফিসিয়ালি তথ্য
- Prime Current Account খোলার জন্য নূন্যতম ১০০০ টাকা জমার কথা উল্লেখ রয়েছে।
- Prime One Savings Account খোলার জন্য প্রাথমিক জমা ৫০০ টাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
- Prime First Account খোলার জন্য প্রাথমিক জমা ১০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাইম ব্যাংকে ভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এজন্য একাউন্টের ধরন
অনুযায়ী প্রাথমিক জমার পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। প্রাইম ব্যাংকের
বিভিন্ন একাউন্টের তথ্য অনুযায়ী, কিছু একাউন্ট মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে
খোলা যায়।
আবার কিছু একাউন্ট খুলতে ১ হাজার টাকা বা তার বেশি লাগতে পারে। এজন্য
একাউন্ট খোলার আগে, আপনি কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট নিতে চান, সেটা নির্ধারণ
করবেন। তারপর প্রাইম ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ওই একাউন্টে খুলতে প্রাথমিক
কত টাকা জমা দিতে হবে, তার পরিমাণ যেনে নিবেন।
প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কত সময় লাগে
প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার সময় নির্ভর করে আপনি কীভাবে আবেদন করেছেন
তার ওপর। অনেক সময় আপনার আবেদনের ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং
ভেরিফিকেশনের ওপর নির্ভর করে সময় কম বেশি হতে পারে। তবে অনলাইনে আবেদন
করলে সাথে সাথে অ্যাকাউন্ট খুলে নেওয়া যায়। অনলাইনে একাউন্ট করলে
ডিজিটাল ভেরিফিকেশন,
ইনস্ট্যান্ট একাউন্ট নাম্বার এবং রিয়েল টাইম ট্রানজেকশন ফেসিলিটি পেয়ে
যাবেন। তবুও অনলাইনে আবেদন করলেই যে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্ট সাথে সাথে
চালু হবে এমন না। তথ্যের ভুল থাকলে, ভেরিফিকেশনের সমস্যা হলে একাউন্ট
খুলতে সময় বেশি লাগতে পারে। এজন্য একাউন্ট দ্রুত খুলতে সব তথ্য ও
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ভালোভাবে রেডি করবেন।
প্রাইম ব্যাংক একাউন্টের সুবিধা
প্রাইম ব্যাংকে আপনি যদি একাউন্ট খোলেন তবে এখান থেকে আপনারা ভালো
সুবিধা নিতে পারবেন আপনারা আপনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা সঞ্চয় করতে
পারবেন টাকা লেনদেন এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং এর সুবিধা ও নিতে পারবেন।
চলুন কি কি সুবিধা নিতে পারবেন এই ব্যাংকে একাউন্ট থাকলে।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধাঃ এই ব্যাংকে একাউন্ট থাকলে, আপনারা বাড়িতে
বসে একাউন্টে কত টাকা আছে ফোনের মাধ্যমে দেখতে পারবেন, টাকা ট্রান্সফার
করতে পারবেন এবং অনলাইন বিল পরিশোধ সহ অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা নিতে
পারবেন।
ডেবিট কার্ডের সুবিধাঃ এই ব্যাংকে একাউন্ট খুললে আপনারা ডেবিট কার্ডের
সুবিধা নিতে পারবেন। যদিও সব একাউন্টে ডেবিট কার্ডের সুবিধা নেই।
তাছাড়া এমন কিছু একাউন্ট আছে, যে একাউন্টে প্রথম বছরের ডেবিট কার্ডের
চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে।
চেক বুক সুবিধাঃ সেভিংস একাউন্ট সহ আরো ভিন্ন ধরনের একাউন্টে আপনারা
চেক বুক সুবিধা নিতে পারবেন। এমনকি কিছু নির্দিষ্ট একাউন্টও আছে, যাতে
চেক বুক বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
সঞ্চয়ের ওপর মুনাফাঃ Prime Savings Account এর মতো আরো কিছু নির্দিষ্ট
একাউন্ট আছে, যেগুলোতে দৈনিক ব্যালেন্সের উপর ভিত্তি করে মুনাফা পাওয়া
যায়।
ভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট সুবিধাঃ প্রাইম ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের একাউন্ট
খোলার সুবিধা রয়েছে। যেমন এই ব্যাংকে প্রবাসী স্টুডেন্ট, নারী, যুবক,
প্রবীণদের জন্য সাধারণ সেভিংস ও কারেন্ট একাউন্ট এর মতো বিভিন্ন ধরনের
একাউন্ট সুবিধা রয়েছে। যার কারণে বিভিন্ন পেশার মানুষ, তাদের প্রয়োজন
অনুযায়ী এখানে একাউন্ট বেছে নিতে পারে।
কম টাকা দিয়ে একাউন্ট খোলার সুযোগঃ প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্যে,
এই ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যা খোলার জন্য ১০০ টাকা
থেকে ১ হাজার টাকা প্রাথমিক জমা লাগতে পারে। যেমন Prime Savings
Account এবং Prime One Savings Account খোলার জন্য প্রাথমিক জমা ৫০০
টাকা থেকে শুরু হয়।
বিশেষ একাউন্টে অতিরিক্ত সুবিধাঃ প্রাইম ব্যাংকে এমন বিশেষ কিছু
অ্যাকাউন্ট আছে, যেগুলোতে প্রাথমিক জমা লাগে না এবং একাউন্ট মেনটেনেন্স
খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি। যেমন, (Prime First Account)
কিছু একাউন্টে বীমা সুবিধাঃ (Prime One Savings Account) এর মতো
একাউন্টে শর্তসাপেক্ষে জীবন বীমা বা লাইফ ইন্সুরেন্স সুবিধা পাওয়া
যায়।
প্রাইম ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট কী
প্রাইম ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট মানে হচ্ছে, নিজের ব্যক্তিগত টাকা জমা
রাখা এবং এই একাউন্টের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ
করাকে বোঝায়। তবে প্রাইম ব্যাংক সেভিংস একাউন্টের মধ্যে অনেকগুলো
ক্যাটাগরি রয়েছে।
এখানে মূলত বয়স, পেশা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ক্যাটাগরি বেছে
নিতে হয়। তাই পরামর্শ থাকবে প্রাইম ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে চাইলে,
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ক্যাটাগরি বেছে একাউন্ট খুলবেন।
প্রাইম ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট চার্জ
প্রাইম ব্যাংকে সেভিংস একাউন্টের মধ্যে ভিন্ন রকম ক্যাটাগরি আছে।
এজন্য সেভিংস একাউন্টের ক্যাটাগরি ও একাউন্টে থাকা ব্যালেন্সের উপর
নির্ভর করবে চার্জ কত টাকা হবে। ২০২৬ সালের প্রথমদিকে প্রকাশিত
কনভার্শনাল সিডিউলে সেভিংস একাউন্টে,
৬ মাসের মেন্টেনেন্স খরচ সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত ছিল। আর একাউন্টে
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ ফ্রি ছিল। যেহেতু সেভিংস
একাউন্টের ক্যাটাগরি অনেক রকম। তাই আপনি কোন ক্যাটাগরিতে একাউন্ট
খুলছেন, লেনদেনের পরিমাণ ও বাৎসরিক মেনটেনেন্স খরচ কত টাকা, তা জেনে
অ্যাকাউন্ট খুলবেন।
একাউন্ট খোলার আবেদন কেন বাতিল হয়
প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খোলার আবেদন অনেক ক্ষেত্রে বাতিল হয়ে
যায়। তবে এর কারণ অনেকেই বুঝতে পারে না। এজন্য একাউন্ট খোলার আগে
সতর্ক থাকা ভালো। আগে থেকে সতর্ক থাকলে একাউন্ট খোলার আবেদন বাতিল
হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমবে। চলুন কি কারনে একাউন্ট খোলার আবেদন
বাতিল হয় জেনে নিই।
১. অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন ফরমে ভুল তথ্য দিলে।
২. জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য এবং আবেদন ফরমের তথ্যে অমিল
থাকলে।
৩. আয়ের উৎস বা পেশা সম্পর্কে সঠিক তথ্য না দিলে।
৪. নমিনির তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে।
৫. একাউন্টের শর্ত ও যোগ্যতা পূরণ না হলে।
তাই আবেদন করার আগে আপনার জন্ম তারিখ, এনআইডি কার্ডের নাম্বার,
সঠিক ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার, নমিনীর সম্পূর্ণ তথ্য ও প্রয়োজনীয়
ডকুমেন্ট ভালোভাবে দেখে মিলিয়ে নেবেন। এতে আবেদন বাতিল হওয়ার
ঝুঁকি থাকবে না।
একাউন্ট খোলার আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন
একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হুট করে না বুঝে শুনে খুলে নেওয়া উচিত নয়
কারণ এই অ্যাকাউন্ট আপনি দীর্ঘদিন ব্যবহার করবে তাই শুধুমাত্র
প্রাথমিক জমা দেখে একাউন্ট খুলে নেওয়া উচিত নয়। একটি
অ্যাকাউন্ট খোলার আগে অবশ্যই এসব তথ্যগুলো যাচাই করলে
একাউন্টের খরচ অপ্রত্যাশিত অসুবিধা থেকে বাঁচা যাবে।
- আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একাউন্ট নির্বাচন করবেন।
- একাউন্ট খুলতে কত টাকা প্রাথমিক জমা লাগবে জানবেন।
- সর্বনিম্ন ব্যালেন্স কত টাকা জানবেন।
- বাৎসরিক একাউন্ট চার্জ ফি কত জেনে নিবেন।
- ডেবিট কার্ডের সার্ভিস চার্জ কত জানবেন।
- চেকবুকের চার্জ কত জানবেন।
- এটিএম ট্রানজেকশন চার্জ সম্পর্কে জানবেন।
- ইন্টারসিটি ট্রানজেকশন চার্জ আছে কিনা জানবেন।
- মুনাফা কিভাবে হিসাব করা হয় জানবেন।
- একাউন্ট বন্ধ করতে কোন চার্জ আছে কি? জানবেন।
- একাউন্ট খুলতে কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন জানবেন।
এসব তথ্য একাউন্ট খোলার আগে যাচাই করার পর। সুবিধা অনুযায়ী
একাউন্টের ক্যাটাগরি নির্বাচন করে অ্যাকাউন্ট খুলবেন। এতে
পরবর্তীতে কোন সমস্যা বা অসুবিধা হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।
প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম
যদি প্রাইম ব্যাংকে আপনার একাউন্ট থাকে। আর এটি যদি আপনি বন্ধ করতে
চান, তবে সব থেকে নিরাপদ ও কার্যকরী উপায় হবে প্রাইম ব্যাংকের
নিকটস্থ শাখাতে যাওয়া। প্রাইম ব্যাংকের শাখাতে গিয়ে ব্যাংক
কর্মকর্তাদেরকে জানাবেন আপনি একাউন্ট ক্লোজ বা বন্ধ করতে চাচ্ছেন।
তখন ব্যাংক থেকে আপনাকে একাউন্ট বন্ধ করার একটি ফর্ম দিবে। এই ফর্ম
সঠিকভাবে পূরণ করে ব্যাংকে জমা দিবেন। তবে ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ
করার আগে ব্যাংকের সকল লেনদেন সম্পূর্ণ করবেন এবং একাউন্টে থাকা
টাকা উঠিয়ে নিবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনেক ব্যাংকে
একাউন্ট বন্ধ করতে সার্ভিস চার্জ লাগে। তাই এ বিষয়টি ব্যাংক থেকে
নিশ্চিত হবেন।
আপনাদের উপকারে আসবে এরকম আরো কিছু পোস্টের তালিকা
(FAQ)আলোচিত কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নঃ প্রাইম ব্যাংক সরকারি নাকি বেসরকারি?
উত্তরঃ প্রাইম ব্যাংক হচ্ছে একটি বেসরকারি কমার্শিয়াল
ব্যাংক অর্থাৎ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ১৯৯৫ সালে এই
ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্য
অনুযায়ী এটি একটি সেকেন্ড জেনারেশন লোকাল কমার্শিয়াল ব্যাংক
হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্নঃ ব্যাংকে না গিয়ে অনলাইন একাউন্ট খোলা যায়?
উত্তরঃ এমন কিছু একাউন্ট আছে, যেগুলো ব্যাংকের অফিসিয়াল
ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করে খুলতে পারবেন। তবে কিছু
নির্দিষ্ট একাউন্ট আছে, যা আপনাকে সরাসরি ব্যাংক শাখাতে
গিয়ে খুলতে হবে। তাই কোন ধরনের একাউন্ট খুলছেন, এর অনলাইনে
এলিজিবিলিটি ও ভেরিফিকেশন রিকোয়ারমেন্ট আছে কিনা দেখে নিবেন।
প্রশ্নঃ প্রাইম ব্যাংকের শাখার তালিকা কোথায় পাব?
উত্তরঃ আপনারা প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে
Find a Location সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। এই অপশন
ব্যবহার করলে প্রাইম ব্যাংকের ব্রাঞ্চ এবং এটিএম কোথায়
কোথায় রয়েছে, তার লোকেশন দেখতে পাবেন। লোকেশন ফাইন্ডিং এই
সুবিধাটি আপনারা ব্যাংকের ওয়েবসাইটের সরাসরি পেয়ে যাবেন।
আরো পড়ুনঃ বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি
প্রশ্নঃ NID ছাড়া প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায় কি?
উত্তরঃ কিছু একাউন্টে এনআইডি কার্ড না থাকলে জন্ম সনদ বা
পাসপোর্ট দিয়ে খুলতে পারবেন। তবে এমন কিছু একাউন্ট আছে, যা
খোলার জন্য জন্ম সনদ, এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট এর
পাশাপাশি আরো অতিরিক্ত কিছু কাগজপত্র লাগতে পারে। এজন্য কোন
একাউন্ট খুলবেন। ওই অ্যাকাউন্ট খুলতে কি কি কাগজপত্র লাগবে, তা
শাখা থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
মন্তব্যঃ প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খোলার নিয়ম জেনে অ্যাকাউন্ট খুললে
পরবর্তীতে ঝামেলা কম হয়। অনেকে না বুঝে না জেনে অ্যাকাউন্ট খুলে
বসে থাকে। ফলে পরবর্তীতে অনেক ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়। এজন্য
ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে শুধু কত টাকা লাগে দেখলে হবে
না। আপনার বয়স, পেশা, লেনদেনের ধরন, সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য,
ডিজিটাল সুবিধা ও একাউন্ট রিলেটেড চার্জ সবকিছু মিলিয়ে কোন
একাউন্ট আপনার জন্য ভালো হবে,
সে একাউন্ট খুলতে হবে। আশাকরি উপরোক্ত আলোচনা থেকে আজকে
আপনারা প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খোলার বিষয়, কাদের জন্য কোন
একাউন্ট ভালো, একাউন্ট খুলতে কি কি লাগবে, একাউন্ট খোলার
যোগ্যতা, কেন আবেদন বাতিল হয় এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে
পেরেছেন। আপনারা যারা প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খোলার কথা ভাবছেন।
তারা অবশ্যই পুরো আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়বেন।







অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url