অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬ আপডেট
অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম অনলাইন ও অফলাইন দুই ভাবে জানানো হবে।
পাশাপাশি অগ্রণী ব্যাংক একাউন্টের ধরন, একাউন্ট খুলতে কি কি লাগবে, অগ্রণী ব্যাংক
একাউন্ট চেক কিভাবে চেক করবেন, এই একাউন্টের সুবিধা এবং কিভাবে একাউন্ট আবেদন ফরম
ডাউনলোড করবেন জানাবো।
যারা নতুন অগ্রণী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে চান, তারা আজকের আলোচনা ভালোভাবে পড়বেন।
এখানে কিভাবে একাউন্ট খুলতে হবে, তার পুরো প্রসেস দেখানো হয়েছে। মনোযোগ সহকারে
পড়লে অগ্রণী ব্যাংকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী একাউন্ট বাছাই করা ও অ্যাকাউন্ট
খোলা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
পেজ সূচিপত্রঃ অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
- অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
- অগ্রণী ব্যাংক একাউন্টের ধরন
- অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে
- অনলাইনে অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
- অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে
- অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট চেক করার নিয়ম
- অগ্রণী ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট সুবিধা
- অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার ফরম
- অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম
- (FAQ)আলোচিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- মন্তব্যঃ অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
আপনারা অনেকেই অনলাইনে অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম জানার জন্য সার্চ করে
থাকেন। তাই অগ্রণী ব্যাংকে কিভাবে একাউন্ট খুলবেন এই বিষয়ে আজকে আলোচনা করবো।
অগ্রণী ব্যাংকে সঞ্চয় হিসাব খোলার জন্য আপনারা শাখায় গিয়ে একাউন্ট খোলার
পাশাপাশি
আরো পড়ুনঃ ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
(Agrani e Account) অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসে একাউন্ট খুলে নিতে পারবেন। অগ্রণী
ব্যাংকের ২০২৫ সালের Citizen Charter এ উল্লেখ রয়েছে (Agrani eAccount) অ্যাপের
মাধ্যমে আপনারা যেকোন শাখায় সেভিংস একাউন্ট খুলতে পারবেন, যার কোন মেনটেনেন্স
খরচ নেই।
সাধারণ সেভিংস একাউন্ট খোলার জন্য আপনারা অগ্রণী ব্যাংকের নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ
করবেন। অগ্রণী ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্য মতে, শাখায় গিয়ে একাউন্ট খুলতে
আবেদনকারীর নাম, বাবা ও মার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, জন্মসনদ, ভোটার আইডি
কার্ড ফটোকপি, টিন সার্টিফিকেট, ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স সহ নমিনির ভোটার আইডি
কার্ড,
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সহ আবেদনকারী দুই কপি ও নমিনির এক কপি পাসপোর্ট ছবি
লাগবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গিয়ে ব্যাংক থেকে একাউন্ট খোলার ফর্ম তুলে,
তা সঠিকভাবে পূরণ করে জমা দিলে। ব্যাংক আপনার তথ্যগুলো যাচাই বাছাই করার পর
একাউন্ট খুলে দেবে। এখন হয়তো ভাবছেন একাউন্ট খুলতে কি কি লাগবে?
Agrani Bank Online Account Opening কি? এবং অগ্রণী ব্যাংক একাউন্টের ধরন কত
প্রকার? চিন্তার কোন বিষয় নেই, আমি নিচে পয়েন্ট পয়েন্ট করে আপনাদের সকল
প্রশ্নের উত্তর দিবো। তাই চেষ্টা করবেন নিচের পয়েন্টগুলো ধাপে ধাপে পড়ে
যাওয়ার। তাহলে একাউন্ট কিভাবে খুলতে হবে, কোন একাউন্ট আপনার জন্য ভালো হবে এসব
বিষয়গুলো জানতে পারবেন।
অগ্রণী ব্যাংক একাউন্টের ধরন
অগ্রণী ব্যাংকে একাউন্ট বলতে শুধু সাধারণ সেভিংস একাউন্টকে বোঝায় না। আপনারা
কি উদ্দেশ্যে টাকা রাখবেন? লেনদেনের ধরন কি? কত সময়ের জন্য টাকা রাখবেন? বা
আপনাদের প্রয়োজন কি? এর ওপর বিবেচনা করে অগ্রণী ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের হিসাব ও
ডিপোজিট স্কিম চালু করেছে।
অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এর ডিপোজিট প্রোডাক্টের মধ্যে Savings Bank Account,
Special Notice Deposit Account, Current Deposit Account ও Fixed Deposit
Account রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত, প্রবাসী, মহিলা
এবং প্রবীণ নাগরিক সহ বিভিন্ন প্রয়োজনের জন্য আলাদা সঞ্চয় স্কিমের ব্যবস্থা
রাখা আছে।
-
সেভিংস ব্যাংক একাউন্টঃ নিজের ব্যক্তিগত টাকা জমা ও প্রয়োজনে টাকা
উত্তোলনের জন্য সেভিংস একাউন্ট অনেক ভালো। সেভিংস একাউন্টে সঞ্চয়ের
পাশাপাশি চেকবুক, এটিএম এবং অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা নিতে পারবেন। এ একাউন্ট
সাধারণ মানুষ, যৌথ হিসাবকারী এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কমবয়সীরাও খুলতে
পারবে।
- কারেন্ট ডিপোজিট একাউন্টঃ যাদের নিয়মিত ও বেশি টাকা লেনদেন করতে হয়, বিশেষ করে ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন করার জন্য কারেন্ট একাউন্ট সবথেকে ভালো। এই একাউন্টে টাকা তোলার পরিমাণ, সেভিংস একাউন্টের মতো সীমাবদ্ধতা নেই।
-
স্পেশাল নোটিস ডিপোজিট একাউন্টঃ অল্প মেয়াদে টাকা রাখার জন্য এই একাউন্ট
বেশি ব্যবহার করা হয়। তবে একাউন্ট থেকে টাকা তোলার জন্য কমপক্ষে সাত দিন
আগে নোটিশ দিতে হবে। এই একাউন্ট সব ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান
খুলতে পারবে।
-
ফিক্সড ডিপোজিট একাউন্টঃ যারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এককালীন টাকা জমা
রাখতে চান। তাদের জন্য এই অ্যাকাউন্ট উপকারী। এখানে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ
না হওয়া পর্যন্ত টাকা না তোলার শর্ত থাকে এবং মেয়াদ অনুযায়ী এই টাকার
ওপর মুনাফা প্রযোজ্য হয়। অগ্রণী ব্যাংকে ৩ মাস, ৬ মাস ও এক বছর
বা তার বেশি মেয়াদের এফডিআর ব্যবস্থা রয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে
অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে, এটা নির্ভর করবে আপনি কোন ধরনের
একাউন্ট খুলবেন তার ওপর। তবে সাধারণ সেভিংস একাউন্ট খোলার জন্য, আগে থেকে
কিছু কাগজপত্র ও তথ্য রেডি রাখলে একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ ও
ঝামেলা মুক্ত হবে। চলেন অগ্রণী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে সাধারণত যেসব কাগজপত্র
প্রয়োজন হবে তা জেনে নিই।
১. আবেদনকারীর ভোটের আইডি কার্ড, জন্ম নিবন্ধন বা পাসপোর্ট এর ফটোকপি লাগবে।
২. আবেদনকারীর দুই কপি এবং নমিনের এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে।
৩. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা বা ইউটিলিটি বিলের কাগজ লাগবে।
৪. নমিনির ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি লাগবে।
৫. একাউন্ট খুলতে প্রাথমিক জমার টাকা লাগবে (একাউন্ট ভেদে টাকার পরিমান আলাদা
হতে পারে)।
৬. টিন সার্টিফিকেট (প্রয়োজন পড়লে)।
৭. ব্যবসায়িক হলে ট্রেড লাইসেন্স আর স্টুডেন্ট হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড
লাগবে।
৮. একটি সচল মোবাইল নাম্বার লাগবে।
সাধারণত এ কাগজগুলো দিয়ে অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায়, তবে একাউন্টের ধরন
অনুযায়ী এসব কাগজপত্র বাদেও অতিরিক্ত কিছু কাগজপত্র ব্যাংক থেকে চাওয়া
হতে পারে। এজন্য একাউন্ট খোলার আগে একাউন্টের ধরন অনুযায়ী কি কি
ডকুমেন্ট লাগবে, তা ব্যাংক শাখা থেকে জেনে নেওয়া উচিত।
অনলাইনে অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
আপনারা যদি বাড়িতে বসে থেকে অনলাইনে অগ্রণী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার আবেদন
করতে চান তবে আপনার হাতে থাকা ফোনে মাধ্যমে play store থেকে Agrani
eAccount ডাউনলোড বা ইন্সটল করে নেবেন। তারপর এই অ্যাপ মোবাইল
নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিবেন। এবার আমরা কিভাবে এই অ্যাপের
মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট খুলবো চলুন, তা ধাপে ধাপে দেখে নিই।
প্রথম ধাপঃ Agrani eAccount অ্যাপে লগইন করার পর হোম স্ক্রিনে
Account Opening অপশনে ক্লিক করবেন। তারপর কোন একাউন্ট খুলবেন, সে
ধরনের অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করবেন।
দ্বিতীয় ধাপঃ পছন্দের যেকোনো একটি একাউন্ট নির্বাচন
করবেন। তারপর একটি ফরম আপনার সামনে আসবে, এই ফরমে আপনার ব্যক্তিগত
তথ্য দিয়ে NEXT করবেন। অবশ্যই আপনার ভোটার আইডি কার্ডের
সাথে তথ্যগুলোর মিল থাকতে হবে।
তৃতীয় ধাপঃ ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার পর Next করলে, আপনার সামনে KYC
Verfication পেজ আসবে এখানে ভোটার আইডি কার্ড নাম্বার, জন্ম তারিখ সহ
এনআইডি কার্ডের সামনের ও পিছনের ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। পরের ধাপে
আপনার মুখের ছবি আপলোড, আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সহ অতিরিক্ত
তথ্য দিয়ে NEXT বাটনে ক্লিক করবেন।
চতুর্থ ধাপঃ এরপর আপনার দেওয়া তথ্যগুলো সঠিক আছে কিনা তা ভালোভাবে
যাচাই করবেন। যদি তথ্য সব সঠিক থাকে, তবে I agree তে টিক
দিয়ে অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট বা কনফার্ম বাটনে ক্লিক
করলে আপনার একাউন্ট খোলা হয়ে যাবে। পরবর্তীতে গ্রাহককে তিন
মাসের মধ্যে শাখায় গিয়ে KYC সম্পূর্ণ করতে হবে।
অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে
অগ্রণী ব্যাংকে ভিন্ন ক্যাটাগরিতে একাউন্ট খোলা যায়। এখানে একাউন্টের
ধরন অনুযায়ী একাউন্ট তৈরি করতে টাকা কম বেশি লাগতে পারে। এমন কিছু একাউন্ট
আছে, যেসব একাউন্ট খুলতে নূন্যতম ১০০ টাকা ডিপোজিট করলে হয়ে যায়। আবার এমন
কিছু একাউন্ট আছে, যেগুলোতে ৫০০, ১০০০ বা এর থেকে বেশি টাকা লাগতে
পারে। এজন্য নিচে আমি কোন একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগবে, এর একটি তালিকা
দিলাম।
আরো পড়ুনঃ ব্র্যাক ব্যাংক প্রবাসী একাউন্ট খোলার নিয়ম
| একাউন্টের ধরন | একাউন্টে ন্যূনতম জমার পরিমাণ |
|---|---|
| সেভিংস একাউন্ট | ৫০০ টাকা |
| কারেন্ট একাউন্ট | ১০০০ টাকা |
| স্টুডেন্ট একাউন্ট | ১০০ টাকা |
অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট চেক করার নিয়ম
বর্তমান সময়ে অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট চেক করার জন্য ব্যাংক শাখা না গেলেও হবে।
কারণ আপনি আপনার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপ ইন্সটল
করে। একাউন্টের ব্যালেন্স সহ একাউন্ট সম্পর্কিত সকল তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
তাছাড়া আপনারা চাইলে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও একাউন্টের সকল তথ্য জেনে
নিতে পারবেন।
আপনার স্মার্টফোন থাকলে প্লেস্টোর থেকে Agrani eAccount এই অ্যাপ ইন্সটল করে।
একাউন্টের তথ্য দিয়ে লগইন করবেন। তাহলে একাউন্টের ব্যালেন্স সহ সব তথ্য
দেখতে পাবেন। আর এসএমএস এর মাধ্যমে জানতে চাইলে, মোবাইল ফোনের এসএমএস অপশনে গিয়ে
BAL<SPACE> শেষে ৫ ডিজিটের নাম্বার লিখে ০১৯৬৯৯০০০৫৯ নাম্বারে এসএমএস
পাঠিয়ে দিতে হবে।
অগ্রণী ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট সুবিধা
অগ্রণী ব্যাংকে সেভিংস একাউন্টে টাকা যেমন নিরাপদ থাকে। পাশাপাশি এ একাউন্টের
মাধ্যমে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। এই একাউন্টে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা জমা এবং
টাকা উঠানো যায় এবং ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী জমানো টাকার উপর মুনাফাও পাওয়া
যায়।
তাছাড়া সেভিংস একাউন্টে আপনারা এটিএম কার্ড, চেকবুক সহ অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা
পাবেন। তবে এখানে আমাদেরকে একটি বিষয়ে পরিষ্কার জেনে নেওয়া দরকার, তা হচ্ছে
সাধারণ সেভিংস একাউন্ট এবং Agrani Super Savings Scheme একাউন্ট দুইটা আলাদা।
Agrani Super Savings Scheme এই একাউন্টে জমানো টাকার উপর নির্ভর করে সুদের হার
নির্ধারণ করা হয়। Agrani Super Savings Scheme এই একাউন্টে জমা রাখা টাকার উপর
সুদের হার কত সে সম্পর্কে বর্তমান সময়ে অগ্রণী ব্যাংক একটি তথ্য প্রকাশ করেছে।
চলুন এই তালিকাটি দেখে নিই।
| টাকার পরিমান | মুনাফার হার |
|---|---|
| ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে | ২.৭৫% |
| ১ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে | ৩% |
| ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে | ৩.৫০% |
| ১০ লক্ষ বা এর থেকে বেশি হলে | ৩.৭৫% |
অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার ফরম
অগ্রণী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য যে ফর্মটি পূরণ করতে হয়। এটা আপনারা সরাসরি
ব্যাংক শাখাতে গিয়ে তুলতে পারবেন। আবার আপনি চাইলে অনলাইনে তাদের অফিসিয়াল
ওয়েবসাইট থেকে একাউন্ট খোলার ফর্ম ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনারা যদি অগ্রণী
ব্যাংকে অনলাইন থেকে ফরম তুলতে
চান, তাহলে
একাউন্ট খোলার ফরম
এই লিংকে ক্লিক করে। আপনি কোন ধরনের একাউন্ট খুলবেন, তা নির্বাচন করে ওই
একাউন্টের ফরম ডাউনলোড করে নিবেন। পরবর্তীতে এই ফর্ম পূরণ করে প্রিন্ট করবেন।
এরপর প্রিন্ট করা ফরম অগ্রণী ব্যাংক শাখাই জমা দিতে হবে।
অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম
অগ্রণী ব্যাংকে একাউন্ট বন্ধ করতে চাইলে, যে শাখাতে একাউন্ট খোলা হয়েছিল। সে
শাখায় গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। একাউন্ট বন্ধ করার আগে একাউন্টে থাকা অবশিষ্ট
টাকা, বকেয়া চার্জ সহ অন্যান্য পাওনা থাকলে পরিশোধ করতে হবে। এই ব্যাংকে
এমন কিছু বিশেষ একাউন্ট আছে, যেগুলো বন্ধ করার সময় চার্জ ফি লাগতে পারে।
যাই হোক চলেন কিভাবে অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করবেন তার
নিয়ম জানাবো।
১. অগ্রণী ব্যাংকের শাখাতে যোগাযোগ করতে হবে এবং একাউন্ট বন্ধের ফর্ম তুলে পূরণ
করতে হবে।
২. একাউন্ট বন্ধ করতে নিজের জাতীয় পরিচয় এনআইডি কার্ড সাথে নিতে হবে।
প্রয়োজনে আরো কিছু কাগজপত্র লাগতে পারে।
৩. একাউন্টের চেক বুক এটিএম কার্ড বা ডেবিট কার্ড থাকলে জমা দিতে হবে।
৪. একাউন্টের সম্পূর্ণ টাকা উঠিয়ে নিতে হবে এবং বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে হবে।
৫. একাউন্ট বন্ধ বন্ধের আবেদন করলে। ব্যাংক তথ্য যাচাই করবে। সব ঠিক থাকলে
একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আপনাদের উপকারে আসবে এরকম আরো কিছু পোস্টের তালিকা
(FAQ)আলোচিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগবে?
উত্তরঃ অগ্রণী ব্যাংকে অনেক রকমের একাউন্ট রয়েছে, যেগুলোতে অ্যাকাউন্ট
খুলতে টাকার পরিমাণ ভিন্ন লাগতে পারে। তবে সাধারণ সেভিংস একাউন্ট সহ বিশেষ
কিছু কাউন্ট আছে, যেগুলোতে ন্যূনতম ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা জমা পর্যন্ত
লাগতে পারে।
প্রশ্নঃ অনলাইনে খোলা একাউন্ট কত দিনের মধ্যে ব্যাংকে KYC করতে হবে?
উত্তরঃ অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট যদি খুলে থাকেন, তবে এই অ্যাকাউন্ট খোলার
পর তিন মাসের মধ্যে ব্যাংক শাখাতে গিয়ে KYC সম্পূর্ণ করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ জনতা ব্যাংক কৃষি লোন নেওয়ার পদ্ধতি
প্রশ্নঃ অগ্রণী ব্যাংকে অনলাইন সুবিধা আছে কি?
উত্তরঃ অগ্রণী ব্যাংকে আপনারা শাখা থেকে সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট
ব্যাংকিং এবং তাদের অফিসিয়াল অ্যাপের মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্লেস্টোর থেকে Agrani eAccount এই অ্যাপ ইন্সটল করে আপনাদের
একাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন এবং অনলাইন বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করতে
পারবেন।
মন্তব্যঃ অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
অগ্রণী ব্যাংকে একাউন্ট খোলা খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। প্রথমে আপনি প্রয়োজন
অনুযায়ী একটি একাউন্ট নির্বাচন করবেন। তারপর এই একাউন্ট খুলতে প্রয়োজনীয়
কাগজপত্র রেডি করবেন। সকল কাগজপত্র রেডি করা হলে। আপনি আপনার নিকটে থাকা
অগ্রণী ব্যাংক শাখা অথবা অনলাইনে অগ্রণী ব্যাংকের অফিসিয়াল Agrani eAccount
অ্যাপ ব্যবহার করে একাউন্ট খুলে নিবেন।
একাউন্ট খুলতে কি কি লাগবে, কত টাকা জমা দিতে হবে, কোন একাউন্ট আপনার জন্য
উপযোগী এবং ভবিষ্যতে একাউন্ট কিভাবে পরিচালনা করবেন, এসব বিষয় একাউন্ট খোলার
আগে জেনে নিবেন। আপনাদের সুবিধার্থে এসব তথ্যগুলো আজকের আলোচনাতে বলা হয়েছে।
তাই সঠিকভাবে আজকের আলোচনা অনুসরণ করলে, আপনারা অগ্রণী ব্যাংকে নিজের
প্রয়োজন অনুযায়ী একাউন্ট বেছে খুলতে পারবেন।






অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url