নগদ থেকে লোন নেওয়ার উপায় ২০২৬ - সত্যতা, প্রতারণা ও বৈধ বিকল্প

নগদ থেকে লোন নেওয়ার উপায় অনেকে খুঁজছেন। কিন্তু নগদ লোন দেয় কিনা জানেন কি? যাইহোক আজকে আমরা নগদ থেকে লোন পাওয়া যায় কিনা, প্রতারকদের কৌশল, ভুয়া লোন অ্যাপ চেনার উপায় এবং বৈধভাবে লোন কিভাবে নিবেন, তা জানানো হবে।
নগদ-থেকে-লোন-নেওয়ার-উপায়
পাশাপাশি এখানে আমরা জানতে পারবো প্রতারিত বা ব্ল্যাকমেলের শিকার হলে করণীয়, নগদ দিয়ে ব্যাংক লোনের কিস্তি পরিশোধ সহ নগদ একাউন্ট নিরাপদ রাখার জরুরি কিছু টিপস। তাই নগস থেকে লোন এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করে নেওয়া চেষ্টা করবেন, এতে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।

পেজ সূচিপত্রঃ নগদ থেকে লোন নেওয়ার উপায় ২০২৬

নগদ থেকে লোন নেওয়ার উপায়: সত্যিই কি সম্ভব?

নগদ থেকে লোন নেওয়ার উপায় সত্যিই কি সম্ভব চলুন এ বিষয়ে জেনে নিই। নগদ একটি মোবাইল আর্থিক সেবা। নগদের প্রধান কাজ হচ্ছে টাকা জমা, টাকা তোলা, টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জ ও বিভিন্ন অনলাইন বিল পরিশোধের মত লেনদেন।
নগদ অ্যাপের ভাষায় এগুলোকে ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, সেন্ডমানি, বিল পেমেন্ট ও মাচেন্ট পেমেন্ট বলে। নগদ অ্যাপে এই সেবাগুলোর পাশাপাশি আপনারা ব্যাংক বা কার্ড থেকে টাকা যোগ করতে পারবেন, রেমিটেন্স গ্রহণ করতে পারবেন এবং ভাতা পাওয়ার মত সেবা নিতে পারবেন।

তবে এখানে ঋণের কোন কথা উল্লেখ নেই। অর্থাৎ নগদ থেকে লোন নেওয়ার উপায় নামে এমন কোন আবেদন ফরম নেই। যা অনুসরণ করলে নগদ থেকে আপনাকে সরাসরি টাকা ধার দেবে। তাই এরকম নির্দেশনা যদি কোন পেজে বা ভিডিওতে দেখেন, তাহলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখবেন।

নিজে যেভাবে যাচাই করবেন

অন্যের কথা শুনে বিশ্বাস না করে নিজেই এ বিষয়ে যাচাই করতে পারবেন। কিভাবে যাচাই করতে হবে সেগুলো ধাপে ধাপে বলা হলো।

ক) নগদ অ্যাপ থেকে বা *১৬৭# ডায়াল করে ড্যাশবোর্ড বা মেনু দেখবেন। সেখানে যেসব সেবাগুলো আছে, সেগুলোই নগদের আসল সেবা। এই সেবাগুলো বাদে অন্য কোন সেবার কথা বাইরে বা কোথাও শুনলে বিশ্বাস করবেন না।
খ) নগদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (nagad.com.bd) সেবার তালিকা দেখতে পারেন। অবশ্যই নগদ এর ওয়েবসাইটের বানান ভালোভাবে চেক করবেন। কারণ প্রতারকরা ওয়েবসাইটের বানানের মতো সাইট খুলে প্রতারণা করে।
গ) ফোনে কোন রকম ফাইল বা লিংক পাঠালে খুলবেন না। যদি অ্যাপ নামাতে হয়, প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ইন্সটল করবেন।

নগদ কেন নিজে লোন দেয় না

আমাদের দেশের মোবাইল ওয়ালেট কোম্পানীর প্রধান কাজ হচ্ছে লেনদেন করা। আর ঋণ দেওয়ার কাজ হচ্ছে ব্যাংকের। তবে যেসব ওয়ালেটে ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়, সেখানেও ঋণের টাকা আসে ব্যাংক থেকে। এখানে ওয়ালেট কোম্পানির কাজ শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে।

উদাহরণ হিসেবে বিকাশের কথা ধরা যায়। ২০২১ সালে ডিসেম্বরে সিটি ব্যাংক এবং বিকাশ মিলে ডিজিটাল ন্যানো লোন চালু করে। ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সিটি ব্যাংক প্রায় ৯.৫ লাখ বিকাশ ব্যবহারকারীদেরকে মোট ২৩০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। যার পরিমাণ গড়ে প্রায় চার হাজার টাকা।

এখানে লোন বা ঋণের টাকা বিকাশ কিন্তু দেয়নি, দিয়েছে ব্যাংক। কিন্তু বিকাশ এখানে টাকাটা পৌঁছানোর জন্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই খাতের রিফাইনান্স স্কিমেও ব্যাংকগুলোকে এমএফএস প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা সই করে ন্যানো লোন দিতে বলা হয়েছিল। তবে নগদের ক্ষেত্রে এমন কোন ঋণ বা অংশীদারিত্বের ঘোষণা হয়নি।

নগদের বর্তমান অবস্থা

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী নগদ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন নিয়ে এমএফএস সেবা চালাচ্ছে। নগদে ডাকবিভাগের কোন মালিকানা নেই, কিন্তু ডাক বিভাগের সেবা হিসেবে ব্যবসা করার লাইসেন্স আছে। এর বিনিময়ে ডাক বিভাগ রাজস্বের ভাগও পায়।

২০২৪ সালে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেয়েছিল। বর্তমান সময়ে এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চলছে বলে সাম্প্রতিক সংবাদে দেখা গেছে। কিন্তু এই কাঠামো থেকে ঋণ দেওয়ার কোন ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। তাই ভবিষ্যতে কি হবে, তা জানতে চাইলে নগদের অফিসিয়াল ঘোষণার দিকে নজর রাখা উচিত।

প্রতারকরা কীভাবে নগদের নাম ব্যবহার করে?

নগদ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক। তাই নগদ নাম অনেক মানুষ চেনে এবং বিশ্বাস করে। আর এই বিশ্বাসকে প্রতারকরা কাজে লাগিয়ে থাকে। নগদের লোগো, রং ও পরিচিত ভাষা ব্যবহার করে, তারা এমন বিজ্ঞাপন বা পেজ বানায়, যা দেখে মনে হয় এটা আসলেই নগদ।

প্রতারকরা মানুষকে প্রলোভন হিসেবে মেসেজ বা বিজ্ঞাপন দেখায় যেমন, কোন কাগজ ছাড়া ১০ মিনিটের মধ্যে ৩০ হাজার টাকা লোন নিন। তারা আবেদন করার নামে আবেদনকারীর নাম, ফোন নাম্বার ও এনআইডি কার্ডের ছবি চেয়ে নেয়। এমন কি তারা প্রসেসিং ফি হিসেবে প্রথমে ছোট অংকের টাকা চাই এবং

পরবর্তীতে ঋণ অনুমোদনের চার্জ, বীমা বা ভেরিফিকেশনের টাকা বলে বড় এমাউন্ট হাতিয়ে নেয়। এইভাবে অনেক মানুষ তাদের প্রতারণায় পড়ে। পরবর্তীতে টাকা পাঠানোর পর ঋণ আসে না, তারা ব্লক করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ওদের হাতেই থেকে যায়।

প্রতারক এসব প্রতারণা ফেসবুক, ইউটিউব ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে করে থাকে এবং মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে লিংক ও এসএমএস পাঠাই। এমনকি তারা নাম্বারে কল দিয়ে পরিচয় দেয় নগদ থেকে বলছি। আরেকটি বড় ঝুঁকি তারা নগদের মতো দেখতে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে। এমনকি নগদের মতো অ্যাপ তৈরি করে।

প্রতারণার লক্ষণ যেভাবে বুঝবেন

  • ঋণ দেওয়ার আগে যদি টাকা চাই, তবে বুঝবেন এটা প্রতারক না
  • যদি পিন নাম্বার ওটিপি বা এনআইডি কার্ডের ছবি চাওয়া হয়। তবে বুঝবেন এটা একটি প্রতারণার লক্ষণ। কারণ ওটিপি ও পিন একান্তই গোপন তথ্য। ফোনে কেউ চাইলে পরিচয় যাই হোক না কেন দেবেন না।
  • অফিসিয়াল নয় এরকম ওয়েবসাইট বা অ্যাপ এর ঠিকানায় কখনোই প্রবেশ করবেন না।
  • তাড়াহুড়া করে, যেমন আজকে আবেদন না করলে অফার শেষ হয়ে যাবে।
  • কাগজপত্র ছাড়া অস্বাভাবিক সহজ শর্তে, ঋণ দিতে রাজি হলে।
  • নগদের লোগো আছে, কিন্তু অফিসিয়াল অ্যাপে সেবার কোন ঘোষণা না থাকলে।

অবৈধ লোন অ্যাপ ও ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ

নগদের নাম ছাড়াও ইনস্ট্যান্ট লোন নামে অনেক অ্যাপ রয়েছে, যেগুলোতে ঋণ দেওয়ার নামে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হয়। বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ৩১টি অনুমোদনহীন ঋণ অ্যাপের তালিকা দিয়েছে এবং বলেছে সেগুলোর সঙ্গে লেনদেন না করার কথা। এই তালিকাতে সাথী লোন, পপ ক্যাশ, উইক লোন ও ফিনক্যাশের মতো নাম আছে।
নগদ-থেকে-লোন
এই তালিকা বদলাতে পারে, তাই নতুন কোন ঋণ অ্যাপ ব্যবহারের আগে বিএফআইইউর ওয়েবসাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিবেন। প্রতিবেদনে এসেছে এসব অ্যাপের পেছনে ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আগে কয়েকটি অ্যাপ চিহ্নিত করেছিল,
যেগুলোতে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত সুদ আদায়ের তথ্য মিলেছে। এমনকি রাজশাহীতে মোবাইল ঋণের অ্যাপ ফাঁদ পেতে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতারের খবর এসেছে। আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষকে বিশ্বাস করাতে অনেক সময় নিবন্ধিত ও সুপরিচিত ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার নামও ব্যবহার করা হয়।

বৈধ ঋণ অ্যাপ চেনার উপায়

ক) ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রতিষ্ঠানে ঠিকানা এবং তাদের নিবন্ধন স্পষ্টভাবে দেওয়া থাকবে।
খ) ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলে, তার বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন থাকবে।
গ) অবশ্যই বৈধ ঋণ অ্যাপ অফিশিয়াল স্টোরে, যেমন play store এ থাকবে।
ঘ) কখনোই ঋণের জন্য আপনার ছবি ও কন্টাক্ট লিস্টে ঢোকার অনুমতি চাওয়া হবে না। যদি চাই তবে সন্দেহ রয়েছে।
ঙ) মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সুদ কত এবং ফি কত টাকা লাগবে, সেগুলো লিখিতভাবে জানানো হবে।

প্রতারিত বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে করণীয়

প্রতারিত বা ব্ল্যাকমেল এর শিকার যদি হয়ে যান, তবে কখনোই দ্বিতীয়বার টাকা পাঠাবেন না। প্রতারকের সঙ্গে তর্কে জড়াবেন না। প্রথমে লেনদেনের প্রমাণ জমিয়ে রাখবেন, যেমন এসএমএস, ফোন নম্বর, পেজ বা ওয়েবসাইটের লিংক, স্ক্রিনশট ও লেনদেনের রশিদ। এসব তথ্য ডিলিট করবেন না। 

যদি নগদ একাউন্ট ঝুঁকিতে রয়েছে মনে হয় দ্রুত পিন নাম্বার বদলাবেন এবং সাম্প্রতিক লেনদেনের হিস্টরি চেক করবেন। যদি প্রতারককে ব্যাংক কার্ডের তথ্য দিয়ে থাকেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জানিয়ে সুরক্ষা নিবেন। প্রতারিত বা ব্ল্যাকমেলের শিকার হলে, নগদের হেল্পলাইনে, 

নিকটস্থ থানায় বা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করবেন। যদি অনুমোদনহীন ঋণ অ্যাপ বা প্লাটফর্মের তথ্য থাকে বিএফআইইউর ওয়েবসাইটেও অভিযোগ জানাবেন। যদি প্রতারক আপনাকে ব্ল্যাকমেল করে হুমকি দেয় কখনোই ভয় পেয়ে টাকা দিবেন না। 

কোন বিশ্বস্ত সজন বা বন্ধুকে বিষয়টি জানাবেন এবং হুমকির মেসেজ ও নম্বর অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে দিবেন। একটি কথা মাথায় রাখবেন অভিযোগ করলেই যে টাকা ফেরত পাবেন, এর কোন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু দ্রুত অভিযোগ করলে, তদন্তকারীদের ঘটনার ধারা বুঝতে সহজ হবে এবং আরো মানুষ যেন এই ফাঁদে না পরে, সে ঝুঁকিও কম থাকবে।

আসল লোন কোথায় পাবেন

জরুরী টাকার দরকার থাকলে বৈধ পথ আছে। তাই সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নেওয়ার চেষ্টা করবেন। উদাহরণ হিসেবে সরকারি ব্যাংক যেমন সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক কৃষি ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকে সুদের হার ৯ থেকে ১২% হয়। 

প্রাইভেট ব্যাংক হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক বা ডাচ বাংলা ব্যাংক রয়েছে, এতে ১০ থেকে ১৫% সুদে দ্রুত লোন নিতে পারবেন। এনবিএফআই থেকেও ছোট লোন নেওয়া যায়, এ ঋণ ব্যবসায়ীদের জন্য বেশি ভালো। মাইক্রো ফাইন্যান্স হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক বা ব্রাক ব্যাংক ভালো। 

এখানে ৪ থেকে ১০% সুদে লোন দেওয়া হয়, এটা গ্রামীন এলাকায় অনেক জনপ্রিয়। অনলাইন প্লাটফর্মে বিকাশে লোন সার্ভিস চালু আছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত। এখানে লোনের জন্য এপ্লাই করা হলে, তাৎক্ষণিক সিটি ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হয়।

ঋণ আবেদনের আগে ছয়টি ধাপ মেনে চলবেন

ঋণদাতার নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কিনা যাচাই করবেন। এই ঋণ নেওয়ার পর টোটাল কত টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং কিস্তি মাসিক না সাপ্তাহিক কিস্তি জেনে নিবেন। প্রসেসিং ফি, দেরিতে কিস্তি দিলে জরিমানা কেমন এবং অন্যান্য চার্জ কত টাকা, তা লিখিতভাবে দেখবেন।

ঋণের শর্ত ভালোভাবে পড়বেন, কোন বিষয়ে না বুঝলে ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করবেন। ঋণ নেওয়ার আগে মাসিক আইয়ের তুলনায় কিস্তি বহন করতে পারবেন কিনা, সে হিসাব করবেন। ঋণ অনুমোদন হবার আগে কোন অচেনা নাম্বারে টাকা পাঠাতে বললে, আবেদন বাতিল করে দিবেন।

নগদ দিয়ে ব্যাংক লোনের কিস্তি পরিশোধ

খুব বেশিদিন হয়নি, এইতো ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নগদ ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) একটা চুক্তি করেছেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই চুক্তির কারণে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ইউসিবির মাধ্যমে নগদ ওয়ালেটে পৌঁছাবে।

একই সঙ্গে আগামীতে ইউসিবির যেকোন ঋণ ডিপিএসের কিস্তি ও ক্রেডিট কার্ডের ইএমআই নগদের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। এই সুবিধাটি চালু হয়েছে কিনা তা ইউসিবি বা নগদ অ্যাপে গিয়ে নিশ্চিত হবেন। একটি কথা মনে রাখবেন, এটি ঋণ পাওয়ার সুবিধা নয় এটা শুধুমাত্র ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার সুবিধা।

নগদ একাউন্ট নিরাপদ রাখার জরুরী টিপস

আপনার নগদ একাউন্ট যেন নিরাপদ থাকে, এজন্য আমি কিছু জরুরী টিপস সম্পর্কে আলোচনা করবো। এগুলো জেনে রাখবেন, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি থেকে নিজের একাউন্টকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
  • কেউ ফোন করে বা মেসেজে যাই পরিচয় দেক না কেন কখনোই একাউন্টে পিন নাম্বার ও ওটিপি বলবেন না।
  • শুধুমাত্র অফিসিয়াল নগদ অ্যাপ প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করবেন অথবা *১৬৭# ডায়াল করে ব্যবহার করবেন।
  • অচেনা এসএমএস লিঙ্ক বা ফাইলে ক্লিক করবেন না গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরের বাইরে কোন অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না।
  • সব সময় অ্যাপ ও ফোনের সফটওয়্যার আপডেট রাখবেন এবং ফোনে স্ক্রিন লক দিবেন।
  • টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের নম্বর দুইবার মিলাবেন। একাউন্ট নিয়ে সন্দেহ হলে, পিন বদলিয়ে নিবেন।

আলোচিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্নঃ নগদ কি এখন লোন দিচ্ছে?
উত্তরঃ বর্তমান সময়ে তথ্য যাচাই করে দেখেছি নগদ লোন দিচ্ছে এরকম কোন অফিসিয়াল তথ্য নেই। তাই কেউ নগদের নাম করে লোন দেওয়ার কথা বললে কখনোই বিশ্বাস করবেন না। কারণ নগদে ঋণের কোন ব্যবস্থা নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে নগদ লোন দিবে বা দিচ্ছে কিনা যাচাই করার জন্য। আপনারা নগদ অ্যাপের মেনুতে অথবা অফিসিয়াল তথ্য চেক করে দেখবেন।

প্রশ্নঃ নগদের লোন অ্যাপ কোথা থেকে নামাবো?
উত্তরঃ নগদ নামে ঋণের আলাদা কোন অ্যাপ নামাবেন না। শুধু অফিশিয়াল স্টোর থেকে নগদের মূল অ্যাপ নামাবেন। অবশ্যই কোন ঋণ অ্যাপ ব্যবহার করার আগে, বিএসআইইউর অনুমোদন হীন অ্যাপের তালিকা দেখে নিবেন, এতে প্রতারণার ঝুঁকি থাকবে না।

প্রশ্নঃ নগদে লোন না থাকলে জরুরী টাকা কোথায় পাবো?
উত্তরঃ যেহেতু নগদে লোনের কোন সিস্টেম নেই। তাই আপনারা সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকে খোঁজ নিতে পারেন। অথবা মাইক্রো ফাইনান্স বা বিকাশে লোন নিতে পারেন।
নগদ-থেকে-লোন
প্রশ্নঃ প্রতারিত হলে কোথায় অভিযোগ করব?
উত্তরঃ যদি নগদে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারিত হন, তবে দেরি না করে প্রতারিত হওয়ার সকল তথ্য প্রমান গোছাবেন। কোন তথ্য প্রমাণ ডিলেট করবেন না, সে প্রমাণ গুলো নগদের হেল্পলাইন সেন্টারে অভিযোগ দিবেন, পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় বা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করবেন।
প্রশ্নঃ নগদে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া যায় কি?
উত্তরঃ আপনারা আপনাদের বাড়ীর বিদ্যুৎ বিল নগদের অ্যাপ অথবা ইউ এসএসডি কোড ব্যবহার করে পরিশোধ করতে পারবেন। এর মানে হচ্ছে অবশ্যই আপনি নগদ অ্যাপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া যায়।

মন্তব্যঃ নগদ থেকে লোন নেওয়ার উপায়

সোজা কথা অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী নগদ নিজে ঋণ দেওয়ার কোন সেবা চালু রাখেনি। তাই নগদ থেকে লোন নেওয়ার উপায় বলে কোন বিজ্ঞাপন দেখলে আগে যাচাই করবেন। কখনোই আগাম কোন ফি দেবেন না, এমনকি আপনার একাউন্টের পিন নম্বর এবং ওটিপি বা এনআইডির ছবি কারো কাছে শেয়ার করবেন না। ঋণ নিতে চাইলে বৈধ ব্যাংক অর্থাৎ 

সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বেছে নিবেন। মোট খরচ ও শর্ত সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিবেন। সর্বশেষ একটা পরামর্শ থাকবে, এ ধরনের ঋণ নেওয়ার আগে সতর্কতা অবলম্বন করবেন, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। আরেকটি বিষয় যদি কোন কারণে প্রতারিত হয়ে থাকেন, তবে দ্রুত তথ্য প্রমাণ নিয়ে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url