বিকাশ থেকে লোন পাওয়ার যোগ্যতা ২০২৬ - লোন নেওয়ার নিয়ম

বিকাশ থেকে লোন পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে আজকের এই আর্টিকেল লেখা হয়েছে। এতে আমরা বিকাশ লোন কি, বিকাশ থেকে লোন পাওয়ার যোগ্যতা, বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার উপায় এবং কত টাকা লোন নেওয়া যায় আলোচনা করবো।
বিকাশ-থেকে-লোন-পাওয়ার-যোগ্যতা
পাশাপাশি বিকাশ লোন সুদের হার, প্রসেসিং ফি, পরিশোধের নিয়ম সহ সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতা নিয়েও আলোচনা করবো। এজন্য যারা বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার কথা ভাবছেন, এই আলোচনা গুরুত্ব সহকারে পড়বেন।

পেজ সূচিপত্রঃ বিকাশ থেকে লোন পাওয়ার যোগ্যতা

বিকাশ লোন (bkash loan) কি?

অনেকেই বিকাশ লোন কি এবং বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার উপায় জানে না বিকাশ লোন হচ্ছে, বিকাশ অ্যাপ এর ভেতর থেকে নেওয়া এমন একটি ডিজিটাল ঋণ, যা ডিজিটাল ন্যানো লোন নামে বেশি পরিচিত। এখানে অনেকেই একটি বিষয় ভুল বোঝে, ঋণটি বিকাশ নিজে দেয় দেয় না। এই ঋণ বিকাশ প্ল্যাটফর্মকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক থেকে দেওয়া হয়।
বিকাশ শুধুমাত্র এখানে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। বিকাশ থেকে এ ঋণ নিতে হলে কোন কাগজপত্র জামানত লাগে না। এখানে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ঋণ পাওয়া যায়। এই ঋণের কিস্তির টাকা নির্ধারিত তারিখ হলেই বিকাশ থেকে অটোমেটিক কেটে নেওয়া হয়।

বিকাশের ঋণ সেবা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিলে এতে যোগ হয়েছিল Pay Later সুবিধা। এই সেবার ব্যবহার ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যে ১০ লাখ গ্রাহক ৫৫ লাখ বারের বেশি এই ঋণ নিয়েছেন। যার মোট পরিমাণ প্রায় ২৮০০ কোটি টাকা ছিল।

বিকাশ থেকে লোন পাওয়ার যোগ্যতা

এখন আমরা আলোচনা করবো বিকাশ থেকে লোন পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে। বিকাশ থেকে লোন পাবেন কিনা এটা ঠিক করে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান, বিকাশ নয়। তাই বিকাশ থেকে লোন নিতে হলে যেসব শর্তগুলো আপনাকে পূরণ করতে হবে, সেগুলো নিচে দেওয়া হল।

১) বিকাশ অ্যাপ ব্যবহারকারী হতে হবে
২) বিকাশ অ্যাপে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আপনার ই কেওয়াইসি সম্পূর্ণ থাকতে হবে।
৩) বিকাশ একাউন্টের লেনদেনের ইতিহাস, একাউন্টের অবস্থা এবং ব্যবহারের ধরন ভালো হতে হবে।

অনেকেই ই কেওয়াইসি মানে বোঝেন না। এটার মানে হচ্ছে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে পরিচয় যাচাই। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙ্গুলের ছাপ বা চেহারা মিলিয়ে এনআইডির তথ্যের সঙ্গে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। আপনার বিকাশ একাউন্টে এইসব ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা আছে কিনা চেক করে দেখবেন, যদি না থাকে তবে করে নিবেন।

যেভাবে যোগ্যতা নির্ধারিত হয়

এই ঋণ নেওয়ার জন্য কোনো আবেদন ফরম পূরণ করতে হয় না। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ একাউন্ট কেমন চলছে এটা দেখেই ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তারা মাসে কত টাকা, কতবার লেনদেন, আইডি বা একাউন্ট কত পুরনো এ বিষয়গুলো বিবেচনা করতে পারে।

তবে লেনদেন করলেই যে লোন পাওয়া যাবে, এ ধরনের নিশ্চিত প্রমাণ নেই। শুধুমাত্র সাধারণ বুদ্ধিতে বলা যায়, যে একাউন্টে নিয়মিত পেমেন্ট হয়, টাকা এড করা হয় এবং ব্যালেন্সও থাকে। সে একাউন্টে সহজে ঋণ পাওয়া যায়।

একই কারণে দুই বন্ধুর একজন অফার পাই এবং অন্যজন অফার পাইনা। আবার একজন পাঁচ হাজার টাকার সীমা পেলে অন্যজন পেতে পারে ২০ হাজার টাকা পেতে পারে। তাই কে কত টাকা ঋণ পাবে, এটা বলা কঠিন।

আপনি বিকাশ লোন পাবেন কিনা যেভাবে বুঝবেন

বিকাশ অ্যাপে পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করবেন। তারপর ড্যাশবোর্ডে লোন আইকনে চাপ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবেন। যদি আপনি লোন নেওয়ার যোগ্য হন, তবে আপনি এখানে দেখতে পাবেন কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন এবং এই ঋণের শর্ত কি থাকবে।

আর যদি যোগ্য না হন একটি বাত্রা দেখাবে, যেখানে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা থাকবে লোন পেতে ব্যালেন্স রাখুন এবং পেমেন্ট ও অ্যাড মানি বেশি বেশি করুন। এর বাইরে আলাদা করে যোগ্যতা পরীক্ষা করার কোন উপায় নেই।

বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার উপায়

বিকাশের অফিসিয়াল তথ্য মতে লোন নিতে হলে বা লোন নেওয়ার জন্য নিজেকে যোগ্য করতে চাইলে। অ্যাড মানি, সেভিংস, পেমেন্ট সহ বিকাশের সেবাগুলো নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। একাউন্টে নিয়মিত টাকা রাখতে হবে, লোন নেওয়ার পর সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।

তাই বলে অকারনে লোন নেওয়ার আশায় লেনদেন করা যাবে না। চেষ্টা করবেন স্বাভাবিকভাবে নিয়মিত লেনদেন করার। এসব নিয়ম সঠিকভাবে মেনে চললে আশা করা যায় বিকাশ অ্যাপ থেকে লোন নেওয়ার জন্য আপনি ইলিজিবল হবেন। আশা করি বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার উপায় জানতে পেরেছেন।

বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার প্রক্রিয়া

বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার প্রক্রিয়া খুব কঠিন নয়। আপনি এই লোন নিতে পারবেন ফরম পূরণ করা বা কোথাও যাওয়া ছাড়াই। এর জন্য আপনাকে ব্যবহার করতে হবে বিকাশ অ্যাপ। চলুন ধাপে ধাপে বিকাশ লোন আবেদন করার নিয়ম জেনে নিই।
  • প্রথমে বিকাশ অ্যাপে বিকাশ একাউন্টের পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করবেন।
  • অ্যাপে লগইন করার পর বিকাশ ড্যাশবোর্ডে Loan অপশনে ক্লিক করবেন। যদি যোগ্য হন, তবে কত টাকা লোন নিতে পারবেন তার পরিমাণ ও শর্ত দেখাবে।
  • কত টাকা নিবেন সে পরিমাণ ঠিক করবেন। তারপর প্রসেসিং ফি, সুদের হার, কিস্তির পরিমাণ ও তারিখ ভালোভাবে দেখবেন। সব ঠিক থাকলে শর্তে সম্মতি দিয়ে বিকাশ পিন নাম্বার দিয়ে নিশ্চিত করবেন।
  • পিন নাম্বার দিয়ে নিশ্চিত করলেই আপনার বিকাশ একাউন্টে টাকা জমা হয়ে যাবে।
  • পরবর্তীতে লোন ডিটেলস পেজে আপনি কিস্তির তালিকা ও বাকি পাওনা দেখে নিতে পারবেন
পরামর্শঃ একজনের অ্যাপে, মোবাইলে একেক রকম বা আলাদা স্ক্রিন হতে পারে। এজন্য উপরের ধাপগুলো নিজের অ্যাপ স্ক্রিনের সাথে মিলিয়ে নিবেন। আর পিন দেবেন শুধু অ্যাপের মধ্যেই অন্য কোথাও না।

বিকাশ থেকে কত টাকা লোন নেওয়া যায়

অনেকের প্রশ্ন বিকাশ থেকে কত টাকা লোন নেওয়া যায়। আমরা বিকাশের অফিসিয়াল তথ্য থেকে পেয়েছি একজন গ্রাহক সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন নিতে পারবে। এই সীমাটা সর্বোচ্চ, কিন্তু আপনার নিজের সীমা বা আপনি কত টাকা লোন পাবেন,
বিকাশ-থেকে-লোন-নেওয়ার-উপায়
তা ঠিক করবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। আপনার একাউন্টের অবস্থা ও ব্যবহার দেখে ঋণের পরিমাণ ঠিক করা হবে। ২০২৪ সালের মার্চে বিকাশ লোনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ২০ হাজার টাকা। যা সময়ের সাথে বেড়ে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে Pay Later যুক্ত হওয়ার পর লোন Pay Later মিলিয়ে সীমা দাঁড়িয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা হয়েছিল।
২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সীমার মধ্যে থাকলে একাধিকবার লোন পাওয়া যায়। আগের লোন শোধ না করেও। ধরেন আপনার সীমা ২০ হাজার টাকা। আপনি একটি লোন নিয়েছেন ৯ হাজার টাকার, তাহলে বাকি সীমার মধ্যে আপনি আরো একটি লোন নিতে পারবেন।

সুদের হার, প্রসেসিং ফি এবং পরিশোধের নিয়ম

১) প্রসেসিং ফিঃ ঋণের উপর ০.৫৭৫% এর সাথে ভ্যাট যুক্ত হবে।

২) সুদের হারঃ সুদের হার দৈনিক ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। সুদের হার কত টাকা তা ঋণ দেওয়ার সময় অ্যাপের মধ্যেই দেখাবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা সূত্রে এ ধরনের ডিজিটাল ঋণে সর্বোচ্চ ৯% বার্ষিক সুদের কথা উল্লেখ করা আছে। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুদের হার অ্যাপে, যা দেখাবে সেটি চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

৩) দেরিতে পরিশোধে জরিমানাঃ আপনি যদি বিকাশ অ্যাপ থেকে লোন নেন। আর সঠিক সময়ে এই লোনের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারেন। তাহলে আপনার বিলম্বিত পরিমাণের ওপর আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক বার্ষিক ০.৫০% হারে জরিমানা বা লেট প্ল্যানটি ইন্টারেস্ট বসাবে।

লোনের টাকা পরিশোধের নিয়ম

  • বিকাশ অ্যাপ থেকে ঋণ নিলে এই ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন মাস হয়। অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে আপনাকে এই লোনের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।
  • নির্ধারিত তারিখে কিস্তির টাকা আপনার বিকাশ একাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে। তাই কবে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হবে, ওই দিনের আগে ব্যালেন্স ঠিক আছে কিনা চেক করে নিবেন।
  • সময়ের আগে লোনের টাকা যদি পরিশোধ করেন। তবে যতদিন ঋণ ব্যবহার করেছেন, শুধুমাত্র ততদিনের ওপর সুদ দিতে হবে।
  • বিকাশ অ্যাপ থেকে লোন নেওয়ার পর কিস্তির অংক ও মেয়াদ পাল্টানো যাবে না। কিন্তু কিছু টাকা পরিশোধ করলে পরের কিস্তিগুলো সেই অনুযায়ী সমন্বয় হবে।

বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার সুবিধা

বিকাশ থেকে লোন নিলে আপনারা অনেক সুবিধা পাবেন সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে,

ক) কাগজপত্র বা জামানত দেওয়ার মত ঝামেলা নেই, অর্থাৎ ব্যাংকে গিয়ে ফাইল জমা দেওয়ার মত বা কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
খ) বিকাশ অ্যাপে মাধ্যমে সব কাজ করা যায়, অর্থাৎ অ্যাপেই আপনি অফার, শর্ত এবং কিস্তির পরিমাণ দেখতে পাবেন।
গ) তারিক মনে রেখে আলাদা ভাবে টাকা পাঠানোর ঝামেলা থাকে না সময় হলে অটোমেটিক বিকাশ ব্যালেন্স থেকে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়া হয়।
ঘ) জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় এই টাকা পাওয়া যায়। এর বেশি সুবিধা হচ্ছে, এখানে ছোট অংকের টাকাও লোন নেওয়া যায়।

বিকাশ লোনের সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতা

  • বিকাশ লোনের সুবিধা থাকার পরেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতা রয়েছে, যেগুলো আমাদের জানা দরকার যাতে লোন নেওয়ার পর ও অপ্রত্যাশিত বা কোন ঝামেলার মধ্যে পড়তে না হয়।
  • বিকাশ লোনের বড় যে সীমাবদ্ধতা তার মধ্যে একটি হচ্ছে, এই লোন সবাই পায় না। এই লোন পাওয়ার যোগ্যতা ঠিক করে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। এখানে আবেদন করে লোন চালু করার উপায় নেই।
  • লোনের মেয়াদ অনেক কম এবং ঋণের পরিমাণও অনেক ছোট, তাই যারা ব্যবসা বা বড় খরচের জন্য ঋণ নিতে চাই, তাদের জন্য এটা যথেষ্ট নাও হতে পারে।
  • এই ঋণ ছোট হলেও খরচ রয়েছে। এই ঋণ নিলে প্রসেসিং ফি দিতে হয়, সাথে এই টাকার উপর সুদ যোগ হয়। এমনকি একবার লোন নেওয়ার পর কিস্তির পরিমাণ ও মেয়াদ পরিবর্তন করা যায় না।
  • আরো একটি সমস্যা সেটা হচ্ছে, এখান থেকে নেওয়া লোনের সুদের হার সবার জন্য একরকম নাও হতে পারে। অর্থাৎ ঋণদাতা ও গ্রাহক ভেদে সুদের হার আলাদা হয়ে থাকে।
  • কিস্তি দেওয়ার সময় বা তারিখে যদি ব্যালেন্সে টাকা না থাকে, তাহলে কিস্তি বকেয়া পড়তে পারে এবং এই লোনের উপর জরিমানা যোগ হবে।
  • লোনের টাকা ঠিকমতো পরিশোধ না করার জন্য ভবিষ্যতে এর প্রভাব ওপর পড়ে এবং পরবর্তীতে লোন পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

সতর্কতা

বিকাশের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাশ কৃতপক্ষে কখনো আপনার পিন বা সিকিউরিটি কোড চাইবে না। তাই আপনাকে কেউ ফোনে মেসেজ বা ফোন করে সময়সীমা বাড়িয়ে দেব, লোন নিয়ে দেব বলে ওটিপি বা ভেরিফিকেশন কোড চাইলে কখনো দিবেন না। কখনোই উপহার বা বিশেষ অফার নামে কোন মেসেজ বা লিংক আসলে ক্লিক করবেন না।

ভুলক্রমে পাসওয়ার্ড বা কোড বলে ফেললে দ্রুত বিকাশ একাউন্টের পিন নাম্বার বদলে ফেলবেন। অথবা বিকাশ হেল্পলাইনে যোগাযোগ করবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা ঋণ নেওয়ার আগে অবশ্যই নিজেকে প্রশ্ন করবেন, তিন মাসের মধ্যে এই টাকা ফেরত দিতে পারবেন কিনা। যদি আয়ের উৎস না থাকে, তবে লোন না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বিকাশ লোন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্নঃ বিকাশ থেকে লোন নিলে কত টাকা লাভ দিতে হয়?
উত্তরঃ বিকাশ থেকে আপনি কি পরিমানে টাকা লোন নিচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে সুদ বসবে এবং সেই পরিমাণে অর্থ আপনাকে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু বিকাশ অ্যাপ থেকে কত টাকা লোন নিচ্ছেন নির্ধারণ করার পর bkash অ্যাপেই দেখাবে, কত টাকা লোন নিলে কত টাকা লাভ দিতে হবে।

প্রশ্নঃ বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার উপায়?
উত্তরঃ বিকাশ লোন আপনি বিকাশ অ্যাপ এর মাধ্যমে নিতে পারবেন। কিভাবে লোন নিবেন বা নিতে হয়, এটা জানতে চাইলে উপরের প্রথম পয়েন্টের আলোচনাটি ভালোভাবে দেখে নিবেন।

প্রশ্নঃ বিকাশ থেকে লোন নেওয়া কি জায়েজ?
উত্তরঃ সিটি ব্যাংক বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করে থাকে। এই ঋণের সুদ বা ইন্টারেস্ট যুক্ত হয় ইসলামী শরিয়া সুদ ভিত্তিক লেনদেন রিবা হিসেবে। তবে ইসলামী আইন ও হাদীস অনুযায়ী যেকোন ঋণের বিপরীতে বেশি টাকা সুদ কিংবা শর্ত থাকলে এটা সম্পূর্ণ হারাম।
বিকাশ-থেকে-লোন-নেওয়ার-উপায়
প্রশ্নঃ বিকাশে ১ দিনে কত টাকা ক্যাশ ইন করা যায়?
উত্তরঃ বিকাশে ১ দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ক্যাশ ইন করতে পারবেন এবং এক মাসের সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত করতে পারবেন।
প্রশ্নঃ কিস্তির পরিমাণ বা মেয়াদ বদলানো যায়?
উত্তরঃ যদি বিকাশ থেকে একবার লোন নিয়ে নেন, তাহলে তা আর বদলানো যাবে না। কিন্তু কিছু টাকা বা পুরো টাকা পরিশোধ করলে পরের কিস্তি কমানো যাবে।

মন্তব্যঃ বিকাশ থেকে লোন পাওয়ার যোগ্যতা

বিকাশ থেকে লোন পাওয়ার যোগ্যতা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের উপর আপনি বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করেন কিনা, বায়োমেট্রিক ই কেওয়াইসি সম্পূর্ণ আছে কিনা এবং আপনার একাউন্টের লেনদেন ও ব্যবহার ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের নীতির মধ্যে আছে কিনা এগুলোর উপর। এই লোনে কোন আবেদন ফরম নেই, তাই যোগ্য হলেই অ্যাপে অফার দেখতে পাবে।

যদি লোনের জন্য যোগ্য না হন, নিয়মিত একাউন্ট ব্যবহার করবেন ও ব্যালেন্স রাখার চেষ্টা করবেন। অবশ্যই লোন নেওয়ার আগে প্রসেসিং ফি, লোনের সুদ ও কিস্তির তারিখ ভালোভাবে পড়ে নিবেন এবং কিস্তির দিন অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স রাখবেন। যদি সঠিক নিয়মে দায়িত্ব নিয়ে ছোট ছোট অংকের এই ঋণ ব্যবহার করে পরিশোধ করতে পারেন, তবে জরুরি প্রয়োজনে এটা অনেক কাজে দিবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url