বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম জেনে নাও

আপনারা যারা আপনাদের বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে চাচ্ছেন। তারা অনেকেই আছেন এই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে জানেন না। তাই এখন আমি আপনাদেরকে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম জানাবো।
বিকাশ-একাউন্ট-বন্ধ-করার-নিয়ম
বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করলে কি সমস্যা হতে পারে। এর পাশাপাশি বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬ এবং বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয় কি এটাও জানাবো। তাই যারা বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার পাশাপাশি, বিকাশ সম্পর্কিত সকল তথ্য জানতে চান। তারা এই পুরো আলোচনা ভালোভাবে পড়বেন।

পেজ সূচিপত্রঃ বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

আপনি যদি আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার চিন্তা করেন বা বন্ধ করতে চান। তাহলে এটা হুট করেই আপনি বন্ধ করতে পারবেন না। এর জন্য আপনাকে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম জানতে হবে। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য, আপনি যে এই বিকাশের মালিক তার পরিচয় দিতে হবে। অনলাইনে প্রতারণা করে বিকাশ একাউন্ট যেন কেউ বন্ধ করতে না পারে।
এজন্য অনলাইনে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার কোন অপশন রাখা হয়নি। এই ব্যবস্থা বা নিয়ম বিকাশ একাউন্টের নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে। তাই আপনাকে কয়েকটি ধাপে আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে হবে। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার আগে আপনাকে কয়েকটি কাজ করতে হবে। প্রথমে আপনার বিকাশ একাউন্টে টাকা থাকলে তা উঠিয়ে নিতে হবে।

খেয়াল রাখবেন যেন বিকাশে এক টাকাও না থাকে। তারপর আপনি যদি বিকাশ থেকে লোন নিয়ে থাকেন। তবে সেই লোনের টাকা পরিশোধ করে দিবেন। আপনার যদি বিকাশ একাউন্টে কোন সেভিংস একাউন্ট করা থাকে। তাহলে সেই অ্যাকাউন্ট বা অন্য কোনো সাবস্ক্রিপশন থাকলে তা বন্ধ করে দিবেন। তারপর আপনি যদি একাউন্টের মালিক হন। তবে আপনি আপনার এলাকার বিকাশ অফিসে যাবেন। 

সাথে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে যাবেন, আইডি কার্ডের দুই কপি ফটোকপি নিবেন ও যে সিমে বিকাশ একাউন্ট করা আছে, সেই সিম নিয়ে যাবেন। বিকাশ অফিসে যাওয়ার পর, তাদেরকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার কথা বললে। তারা আপনাকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য একটি ফর্ম পূরণ করতে দিতে পারে। ফরম পূরণ করা হলে, আপনি যে বিকাশের মালিক তার পরিচয় দিতে হবে।

বিকাশ অফিসের লোক সকল তথ্য যাচাই করার পর। তখন আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য কাজ শুরু করে দিবে। সবকিছু ঠিক থাকলে তখন আপনার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর আপনি যদি, আবার কখনো এই একই সিম থেকে বিকাশ খুলেন। তবে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে একটু সমস্যা হতে পারে। এমনকি অনেক সময় এই অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে অনেকক্ষণ অপেক্ষাও করা লাগতে পারে।

একাউন্ট বন্ধ করার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

আপনি যদি আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে চান। তাহলে বন্ধ করার আগে আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ে জানতে হবে। কারণ আপনি যদি আপনার একাউন্ট একবার বন্ধ করে দেন, তাহলে পরবর্তীতে আগের মত তথ্য ও সুবিধা পাবেন না। তাই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আগে একাউন্টে যদি টাকা থাকে।

তাহলে সেই টাকা উঠিয়ে নিবেন। কারণ একাউন্টে টাকা থাকলে একাউন্ট বন্ধ করা যাবে না। তাছাড়া আপনার একাউন্টে যদি কোন লেনদেন চলমান অবস্থায় থাকে। তাহলে সেটাও পূরণ হাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। তারপর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আগে, যে নাম বা ব্যাক্তির তথ্য দিয়ে একাউন্ট খোলা হয়েছিল।

তাকে তার আইডি কার্ড সাথে নিয়ে এবং যে নাম্বারে বিকাশ খোলা হয়েছিল সেই নাম্বার নিয়ে অফিসে যেতে হবে। এই তথ্যগুলো বিকাশ অফিসে চাইবে। সঠিক তথ্য না দিতে পারলে, আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হবে না। তাছাড়া আপনার সিম যদি হারিয়ে গেলে, আগে সেই সিম নতুন করে উঠাতে হবে।

তারপর বিকাশ অফিসে গিয়ে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য আবেদন করতে হবে। আপনাদের সুবিধার জন্য আরেকটি কথা আমি বলব সেটা হচ্ছে একাউন্ট একবার বন্ধ করার পর আগের লেনদেনের হিস্টরি আপনি পাবেন না তাই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আগেই আপনার দরকারি লেনদেনের স্ক্রিনশট নিয়ে রাখবেন।

হেল্পলাইনে কল করে একাউন্ট বন্ধ করা যায় কি

আপনারা হয়তো অনেকেই ভাবেন যে হেল্পলাইনে কল করে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করা যায়। আসলে কি হেল্প লাইনে কল করে একাউন্ট বন্ধ করা যায়? শোনেন আপনি যদি আপনার বিকাশ একাউন্টটি বন্ধ করতে চান। তবে হেল্পলাইনে কল করে আপনি আপনার একাউন্ট বন্ধ করতে পারবেন না। আপনার অ্যাকাউন্ট যদি বন্ধ করতে হয়।

তাহলে আপনাকে বিকাশ অফিসে যেতেই হবে। বিকাশ কোম্পানি কাস্টমারের একাউন্ট নিরাপদে রাখার জন্য এই নিয়ম করা হয়েছে। এতে যে কেউ প্রতারণা করতে পারবে না। একাউন্ট বন্ধ করার জন্য বিকাশ অফিসে একাউন্টের মালিক, একাউন্ট যে আইডি কার্ড দিয়ে খোলা হয়েছে, সেই আইডি কার্ড এবং যে নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খোলা হয়েছে, 

সেই নাম্বার নিয়ে যেতে হবে। এই তথ্যগুলো দিয়ে একাউন্টে যে আপনার তা প্রমাণ করতে হবে। তারপর বিকাশ অফিসের লোক আপনার তথ্যগুলোকে যাচাই করে একাউন্ট বন্ধ করবে। যদি তথ্য ভুল হয় তাহলে একাউন্ট বন্ধ করা যাবে না। এখন হয়তো ভাবছেন হেল্পলাইনে কল করে কি করবো তাহলে? আপনি হেল্পলাইনে কল করে একাউন্ট বন্ধ করতে না পারলেও।

আপনি হেল্পলাইনে কল করে কিভাবে এই একাউন্ট বন্ধ করতে হবে, একাউন্ট বন্ধ করার জন্য কি কি লাগবে এবং কোথায় যেতে হবে। এইসব তথ্যগুলো, তাদের কাছ থেকে জানতে পারবেন। হেল্পলাইন কাস্টমারের সমস্যা সমাধান করার জন্য বেশি কার্যকর। তবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে চাইলে, হেল্পলাইনে কল করে বন্ধ করতে পারবেন না। অ্যাকাউন্ট যদি বন্ধ করতে হয় তাহলে অফিসে যেতে হবে।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে কি কি লাগবে

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য আপনার কয়েকটি জিনিস লাগবে। যে জিনিসগুলো না থাকলে আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে পারবেন না। কোন জিনিস গুলো লাগবে চলুন জেনে নিই। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য প্রথমে আপনার লাগবে ভোটার আইডি কার্ড এবং এই কার্ডের দুইটা ফটোকপি লাগবে। অবশ্যই যে এনআইডি কার্ড দিয়ে একাউন্ট খুলেছেন, সেটা লাগবে।

তারপর যে সিমে বা নাম্বারে একাউন্ট খুলেছেন, সেই সিম লাগবে। সিম চালু রাখতে হবে। কারণ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সময়। আপনার সিমে ওটিপি কোড অথবা কল আসবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য। এইগুলোর পাশাপাশি যে ব্যক্তির নামে একাউন্ট খোলা আছে। সে ব্যক্তিকে অফিসে যেতে হবে। কারণ অনেক সময় নিরাপত্তার জন্য আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন লাগতে পারে।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হতে কত সময় লাগতে পারে

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য। আপনি যদি প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করতে পারেন। তাহলে বিকাশ অফিস থেকে তারা আপনার একাউন্টটি তখনই বন্ধ করে দেবে। তাছাড়া বেশিরভাগ বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হতে এক থেকে তিন দিন সময় লাগে। কিন্তু অফিসের বিশেষ কোনো সমস্যা থাকলে।

অথবা অ্যাকাউন্টের তথ্য ভালোভাবে না দিলে বা বিকাশ অফিসের সার্ভার ডাউন থাকলে। আপনার একাউন্টটি বন্ধ হতে কিছু সময় বেশি লাগতে পারে। কিন্তু আপনি যদি বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য যা যা লাগে। তা সঠিকভাবে দিতে পারেন। তবে নিশ্চিত থাকবেন, আপনার অ্যাকাউন্ট খুব তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে।

অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে কি সমস্যা হতে পারে

আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার পর যে সব সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে, বিকাশের লেনদেন করার হিস্টরি হারিয়ে যাবে। পরবর্তীতে এই তথ্যগুলো পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সময় ভুল তথ্য দিয়ে একাউন্ট বন্ধ করলে।

পরে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে। একি তথ্য দিলে একাউন্ট খুলতে সমস্যার মধ্যে পড়তে পারেন। একাউন্ট বন্ধ করলে এই অ্যাকাউন্ট আবার ব্যবহার করার জন্য। আপনাকে প্রথম থেকে আবার নতুন করে একাউন্ট তৈরি করতে হবে, যেটা অনেক ঝামেলা। তাই আমার পরামর্শ থাকবে,

আপনি যদি বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার চিন্তা করেন। তবে আগে থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সেভ করে রাখবেন। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করবেন কিনা তা ভালোভাবে সময় নিয়ে চিন্তাভাবনা করে দেখবেন। কারণ অনেক সময় অনেক জন তাড়াহুড়ো করে, এই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে ফেলে। যার কারণে তাকে পরবর্তীতে অনেক ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়।

বিকাশ একাউন্ট সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

যারা বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে চাইছেন বা ব্যবহার করছেন। তাদেরকে এখন আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবো। যেগুলো আপনার অনেক উপকারে আসবে। আপনার যদি বিকাশ একাউন্ট থাকে, তাহলে সেই একাউন্টের গোপন তথ্যগুলো কাউকে দিবেন না বা জানাবেন না।

বিশেষ করে বিকাশের পাসওয়ার্ড ও ওটিপি। যে নাম্বারে বিকাশ একাউন্ট খোলা আছে, এই নাম্বারটি সব সময় চালু করে রাখবেন। কারণ বিকাশ সম্পর্কিত কোন তথ্য বা অফিস থেকে একাউন্টটি সম্পর্কে জানতে চাইলে। সেই নাম্বারে এসএমএস বা কল আসতে পারে।

প্রয়োজন ছাড়া বেশি একাউন্ট তৈরি করবেন না। এতে একাউন্ট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। পরে এই অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করতেও ঝামেলার মধ্যে পড়তে হবে। আর আপনার সিম যদি হারিয়ে যায়। তাহলে তাড়াতাড়ি নতুন করে সিম তুলবেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, একাউন্ট বন্ধ করার চিন্তা করলে ভালোভাবে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিবেন। আর অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কোন সমস্যা হলে। নিজে নিজে সমস্যার সমাধান না করে। বিকাশ অফিসে বা হটলাইনে কল করে, তাদের পরামর্শ নিবেন।

বিকাশ একাউন্টের নাম্বার পাল্টাবেন যেভাবে

বিকাশ একাউন্টের নিরাপত্তার জন্য। বিকাশ কোম্পানি, এই একাউন্টের নাম্বার পাল্টানোর জন্য বিকাশ অ্যাপে কোন অপশন দেয়নি। কেননা বিকাশ অ্যাপের মধ্যে যদি নাম্বার পাল্টানোর অপশন দেওয়া হতো। তাহলে এটা থেকে অনেকের প্রতারণা হওয়ার ঝুঁকি থাকতো।
বিকাশ-একাউন্ট-বন্ধ-করার-নিয়ম
তাই অ্যাকাউন্টের নাম্বার পাল্টানোর জন্য, আপনাকে কিছু নিয়মে কাজ করতে হবে। যদি আপনি আপনার বিকাশ একাউন্টের নাম্বার পাল্টাতে চান? তাহলে আপনার এলাকায় কাছে থাকা বিকাশ অফিসে যাবেন। তারপর অফিসের কর্মকর্তাদের আপনি বলবেন। আপনার একাউন্টের মোবাইল নাম্বার পাল্টানোর জন্য।

তাদেরকে জানানোর পর তারা আপনার পরিচয় নিশ্চিত করবে। যে আসলেই আপনি এই একাউন্টের মালিক কি না। এই পরিচয় যাচাইয়ের জন্য, তারা আপনার কাছে। আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র দেখতে চাইবে। সেই সাথে আপনার আগের সিমে থাকা একাউন্টের তথ্য যাচাই করবে। আপনার বিকাশের নাম্বার পাল্টানোর জন্য।

নতুন নাম্বারও আপনার নামেই থাকতে হবে এবং সেই নাম্বার বিকাশ অফিসে নিয়ে যেতে হবে। নাম্বারটি চালু রাখতে হবে, কারণ তথ্য যাচাই করার জন্য। আপনার সেই নাম্বারে ওটিপি বা কল আসতে পারে। আপনার তথ্যগুলো যদি সঠিক থাকে। তাহলে বিকাশ অফিস থেকে আপনার একাউন্টে পুরনো নাম্বার পাল্টিয়ে নতুন নাম্বার যুক্ত করে দিবে।

বন্ধ বিকাশ একাউন্ট পুনরায় চালু করা যাবে কি

আপনারা যারা জানতে চান যে বিকাশ একবার বন্ধ করলে পুনরায় চালু করা যাবে কিনা। তাদেরকে বলতে চাই যে বিকাশ একবার বন্ধ হয়ে গেলে, সেই বিকাশ সরাসরি চালু করা যাবে না। আপনি যদি একবার আপনার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে দেন। তাহলে বিকাশ অফিস থেকে আপনার বন্ধ করা একাউন্টটি স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করে দিবে।
সেই সাথে এই অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্য। আবার চালু করার অপশন তারা রাখে না। আপনারা যারা ভাবছেন বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে। আবার কিছুদিন পর চালু করে নিবেন। তারা ভুল ভাবছেন, কারণ একবার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করলে। সেটা পুনরায় চালু করা যাবে না। কিন্তু আপনি নতুন করে আবার অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।

আপনার একই ভোটার কার্ড ব্যবহার করে। এই অ্যাকাউন্ট একেবারে নতুন হবে, যেখানে আগের একাউন্টের কোন লেনদেনের তথ্য থাকবে না। তবে সাময়িকভাবে বা কোন সমস্যার কারণে, যদি আপনার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। তাহলে আপনি বিকাশ অফিসের হটলাইন নাম্বারে অথবা কাস্টমার কেয়ারে কল করে। আবার চালু করে নিতে পারবেন।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হলে করনীয়

হঠাৎ করে বা না জানাতে আপনার বিকাশ একাউন্ট যদি বন্ধ হয়ে যায়। তাহলে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। কারণ অনেক সময় অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কোন কার্যক্রম দেখা গেলে। অফিস থেকে সাময়িকভাবে এই একাউন্টটি বন্ধ করা হয়। এটি করার কারণ অ্যাকাউন্টের মালিকের এবং একাউন্ট নিরাপদ রাখার জন্য।

অস্বাভাবিকভাবে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হওয়ার কারণ হচ্ছে, হঠাৎ করে অনেক টাকা লেনদেন করলে। আলাদা আলাদা ফোনে অ্যাকাউন্ট লগইন করলে, বিকাশের পাসওয়ার্ড কয়েকবার ভুল দিলে, সিমের কোন সমস্যা থাকলে। একাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। যদি একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়।

তাহলে আপনি বিকাশ অফিসের কাস্টমার কেয়ারে কল করে। আপনার সমস্যা, তাদেরকে জানাবেন। তারা তখন আপনার অ্যাকাউন্টের সমস্যা আপনাকে বলবে এবং কেন বন্ধ হয়েছে, সেটাও তারা ব্যাখ্যা করবে। তারপর অ্যাকাউন্টটি আবার চালু করতে, তারা আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কিছু তথ্য চাইবে। বিশেষ করে আপনার এনআইডি কার্ড। 

আপনার নাম্বারে আসা ওটিপি কোড বা কল। সব তথ্য ঠিক থাকলে, অফিস থেকে আবার আপনার অ্যাকাউন্ট চালু করে দেওয়া হবে। তবে একাউন্টের সমস্যা যদি বেশি থাকে। তাহলে আপনাকে সরাসরি বিকাশ অফিসে যেতে হতে পারে। তারপর সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে। তারা তখন আপনাকে সমাধান দিবে। পরবর্তীতে বিকাশ একাউন্ট যেন বন্ধ না হয়ে যায়।

তাই আগে থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বিকাশ একাউন্ট অপরিচিত বা আলাদা ফোনে বারবার লগইন করবেন না। আপনার বিকাশের পাসওয়ার্ড কাউকে দিবেন না ও লগইন করার জন্য পাসওয়ার্ড দেওয়ার সময় ভুল করবেন না। আর আপনি যদি স্থায়ীভাবে একাউন্ট বন্ধ করতে চান। তবে উপরে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম দেখে আসতে পারেন।

বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬

আপনাদের যাদের স্মার্টফোন আছে, তারা খুব তাড়াতাড়ি এবং খুব সহজে বাড়িতে বসেই। বিকাশ একাউন্ট খুলে নিতে পারবেন। শুধুমাত্র একটি সিমের দরকার হবে। আর আপনি যদি স্মার্ট ফোনে অ্যাপের মাধ্যমে বিকাশ না খুলতে চান। তবে সরাসরি বিকাশ অফিসে বা কাস্টমার কেয়ারে গেলেও। তারা আপনাকে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে দিবে। আপনি যদি বিকাশ অ্যাপ এর মাধ্যমে একাউন্ট খুলেন।

তাহলে খুব সহজে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। প্রথমে গুগল প্লে স্টোর থেকে, আপনার ফোনে বিকাশ অ্যাপ ইন্সটল করতে হবে। যখন বিকাশ একাউন্ট খুলতে বসবেন। তখন সাথে ভোটার আইডি কার্ড ও সিম নাম্বার নিয়ে বসবেন। যে সিমে অ্যাকাউন্ট খুলবেন, সেই সিম চালু রাখতে হবে। কারণ ভেরিফিকেশনের জন্য সেই সিমে কোড যাবে। বিকাশ অ্যাপ এ রেজিস্টার অপশনে ক্লিক করে।

আপনি কোন কোম্পানির সিম ব্যবহার করছেন। সে কোম্পানি সিলেক্ট করবেন, তারপর আপনার মোবাইল নাম্বারটি সেখানে দিবেন। পরের ধাপে আপনার মোবাইল নাম্বারে একটি কোড যাবে, ওই কোড বসাবেন। তারপর বিকাশ একাউন্ট এর শর্ত গুলা ভালোভাবে পড়ে নিবেন। সেখানে এগ্রি বা সম্মতি দিয়ে পরের ধাপে যাবেন। তারপর আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের সামনের ও পেছনের ছবি তুলে দিতে হবে।

তারপর এগিয়ে যান অপশনে ক্লিক করলে, ফোনের ক্যামেরা চালু হবে। সেই ক্যামেরায় নিজের চেহারার ছবি তুলে দিবেন। এবার এই তথ্য সেখানে সাবমিট করে এগিয়ে যাবেন। আপনার অ্যাকাউন্টটি ভেরিফিকেশন করার জন্য। তারা ৪৮ ঘন্টা মতো সময় নিতে পারে। একাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে, আপনার ফোনে তারা কনফার্মেশন এসএমএস পাঠাবে।

এই এসএমএস আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। আপনাকে বিকাশের পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে। পাসওয়ার্ড সেট করার জন্য বিকাশ অ্যাপে গিয়ে পিন সেট করুন, এই অপশনে ক্লিক করে। আপনার বিকাশ পাসওয়ার্ড বসাবেন। তারপর আপনার একাউন্টটি পুরোপুরি রেডি হয়ে যাবে। তখন আপনি যেকোনো সময় আপনার বিকাশ অ্যাপে নাম্বার ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে পারবেন।

বিকাশ একাউন্ট সম্পর্কিত কিছু সমস্যা ও সমাধান

যারা বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করছেন। তাদের কম বেশি অনেকেরই অনেক সময় বেশ কিছু কমন সমস্যাগুলো দেখা দেয়। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে যেগুলো বেশি দেখা দেয়। সেগুলো হচ্ছে, ওটিপি না আসা, ভুল পিন নাম্বার বারবার দেওয়ার কারণে একাউন্ট লক হয়ে যাওয়া। একাউন্টে ঢুকতে না পারা, লেনদেন করতে না পারা,

সিম হারিয়ে গেলে একাউন্টে ঢুকতে না পারা। সাময়িকভাবে একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই সমস্যা গুলো যদি আপনার বিকাশ একাউন্টে হয়। তাহলে আপনাকে কয়েকটি নিয়ম মেনে, এই সমস্যা সমাধান করতে হবে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এই সমস্যাগুলো হলে খুব সহজেই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। এই সমস্যাগুলো হলে কিভাবে সমাধান করবেন চলেন জেনে নি।

সমাধানঃ বিকাশ একাউন্ট রেজিস্টার করার সময় ওটিপি না আসলে। নেটওয়ার্ক ঠিক আছে কিনা চেক করবেন, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন। দরকার হলে ফোনটি অফ করে আবার অন করবেন। যদি পিন নাম্বার ভুল দেওয়ার কারণে অ্যাকাউন্ট লক হয়। তাহলে কিছু সময় অপেক্ষা করবেন। যদি একাউন্ট লক না ছুটে, তাহলে বিকাশ অফিসে কল দিয়ে। 

তাদেরকে সমস্যা জানিয়ে সমাধান নিবেন। একাউন্টে যদি ঢুকতে না পারেন। তাহলে বিকাশ অ্যাপ আপডেট করবেন, ইন্টারনেট ঠিক আছে কিনা চেক করবেন, দরকার হলে অ্যাপ আনইন্সটল করে, আবার ইন্সটল করবেন। আর যদি লেনদেন করতে না পারেন, তাহলে বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে কল দিয়ে সমস্যা জানাবেন।

যদি একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কাস্টমার কেয়ারে কল করবেন এবং পরিচয় নিশ্চিত করে। তাদেরকে তথ্য যাচাই করার জন্য সাহায্য করবেন। পরবর্তীতে তারা আপনার অ্যাকাউন্ট আবার চালু করে দিবে। আর বিকাশ একাউন্ট যদি ভুল তথ্য বা ভুল নাম দিয়ে খুলে থাকেন তবে পরবর্তীতে বিকাশ অফিসে গিয়ে সেই তথ্যগুলো সঠিক করে নিবেন।

FAQ/আলোচিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ বিকাশের মালিক কে
উত্তরঃ বিকাশের মালিক কোন একজন নয়। এই বিকাশ সর্বপ্রথম ব্র্যাক ব্যাংকের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আছে। তারা এর সাথে যুক্ত হয়েছে। তাই বিকাশের মালিক কোন এক জন না। এটা একটা কোম্পানি, যেখানে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের মাধ্যমে বিকাশের মালিকআনার অংশীদার হয়ে আছে।
বিকাশ-একাউন্ট-বন্ধ-করার-নিয়ম
প্রশ্নঃ বিকাশের হটলাইন নাম্বার কত?
উত্তরঃ আপনাদের বিকাশ একাউন্টের কোন সমস্যা হলে বা বিকাশ সম্পর্কিত কোন তথ্য জানতে এবং সমাধান নিতে। আপনারা বিকাশের হটলাইন নাম্বারে কল করতে পারেন। বিকাশের হটলাইন নাম্বার হচ্ছে (১৬২৪৭)।

প্রশ্নঃ বিকাশ কবে চালু হয়েছিল?
উত্তরঃ আগে আমাদের দেশে আর্থিক লেনদেন অনেক কঠিন ছিল এবং অনেক সমস্যার মধ্যেও মানুষকে টাকা পয়সার জন্য পড়তে হতো। কিন্তু পরবর্তীতে এই সমস্যার কথা চিন্তা করে ব্র্যাক ব্যাংকের উদ্যোগে ২০১১ সালে রবি নেটওয়ার্কে। আমাদের দেশে বিকাশ চালু করা হয়েছিল। যার কারণে আমাদের দেশে আর্থিক লেনদেন করা। এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে।

প্রশ্নঃ বিকাশ অ্যাপে একাউন্ট বন্ধ করা যাবে কি?
উত্তরঃ কোন অসাধু ব্যক্তি কারো ফোন নিয়ে বিকাশ একাউন্ট, যেন বন্ধ করে দিতে না পারে। আবার কেউ যেন প্রতারণা করে হঠাৎ বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে না  পারে। এজন্য বিকাশ অফিস থেকে বিকাশ অ্যাপে একাউন্ট বন্ধ করার কোন অপশন রাখা হয়নি। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে হলে সরাসরি অফিসে যেতে হবে।
প্রশ্নঃ বিকাশ একাউন্টের নাম্বার পাল্টানো যাবে কি?
উত্তরঃ বিকাশ একাউন্টের নাম্বার পাল্টানো যাবে। কিন্তু এটা আপনি ফোনের মাধ্যমে বা অ্যাপের মাধ্যমে করতে পারবেন না। বিকাশ একাউন্টের নাম্বার পাল্টাতে হলে। আপনাকে আপনার একাউন্টের সকল তথ্য ও প্রমাণপত্র নিয়ে বিকাশ অফিসে যেতে হবে এবং তাদেরকে আপনার পরিচয় যাচাই করার জন্য সাহায্য করতে হবে। সব তথ্য সঠিক থাকলে, তারা আপনার একাউন্টের নাম্বার পাল্টে দিবে।

মন্তব্যঃ বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

আপনারা যেন সঠিক নিয়ম মেনে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে পারেন। এজন্য আমি আপনাদেরকে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম সম্পর্কে জানিয়েছি। বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য বিকাশ এপে কোন অপশন নাই। তাই বিকাশ একাউন্ট অফ করতে হলে। আপনাকে অফিসে যেতে হবে। অফিসে যাওয়ার সময় আপনার এনআইডি কার্ড এবং যে সিমে অ্যাকাউন্টটি তৈরি করেছেন, সেই সিম নিয়ে যাবেন। তাদেরকে আপনার পরিচয় যাচাই করার জন্য সাহায্য করবেন।

সব তথ্য সঠিক থাকলে তারা আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিবে। বিকাশ একাউন্ট একবার বন্ধ হয়ে গেলে। সে একাউন্ট আর দ্বিতীয়বার চালু করা যাবে না। আবার নতুন করে বিকাশ একাউন্ট খুলতে হবে। তাই বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার আগে, ভালোভাবে চিন্তা করে বন্ধ করবেন। আর বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার আগে। অবশ্যই আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য সেভ করে রাখবেন। বিকাশ সম্পর্কিত কোন সমস্যা হলে। বিকাশের হটলাইন নাম্বারে অথবা তাদের অফিসে গিয়ে সাহায্য নিবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url