দিশা এনজিও লোন আবেদনের পদ্ধতি ২০২৬
আজকে দিশা এনজিও লোন আবেদনের পদ্ধতি, এই লোনের সুবিধা, যোগ্যতা, কি কি
কাগজপত্র লাগবে, সুদের হার এবং প্রসেসিং ফি কত, কিস্তি কিভাবে পরিশোধ করতে হবে,
তা আলোচনা করা হবে।
পাশাপাশি এখান থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা লোন নিতে পারবেন? একবার ঋণ নিয়ে পরবর্তীতে
ঋণ নিতে পারব কিনা? ঋণ পেতে কতদিন সময় লাগবে জানাবো। তাই আপনারা যারা এই
প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ভাবছেন, তারা আজকের আলোচনা ভালোভাবে পড়বেন।
পেজ সূচিপত্রঃ দিশা এনজিও লোন
- দিশা এনজিও লোন কী?
-
দিশা এনজিও লোনের সুবিধা
-
দিশা এনজিও কী কী ধরনের লোন প্রদান করে?
-
দিশা এনজিও লোনের যোগ্যতা
-
দিশা এনজিও লোনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে
-
দিশা এনজিও লোন আবেদন পদ্ধতি
-
দিশা এনজিও লোনের সুদের হার ও প্রসেসিং ফি
-
দিশা এনজিও লোন কিস্তি পরিশোধের নিয়ম
-
দিশা এনজিও থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা লোন নেওয়া যায়?
-
দিশা এনজিও লোন রিনিউ বা পুনরায় লোন নেওয়ার পদ্ধতি
-
দিশা এনজিও লোন পেতে কতদিন সময় লাগে?
-
কেন দিশা এনজিও থেকে লোন নিবেন?
- দিশা এনজিও লোন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
- মন্তব্যঃ দিশা এনজিও লোন আবেদন করার নিয়ম ২০২৬
দিশা এনজিও লোন কী?
দিশা এনজিও লোন বলতে দিশার ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম থেকে সদস্যরা যে ঋণ সহায়তা
পায়, একে বোঝায়। দিশা এনজিও লোন সাধারণ ব্যাংকঋণের মতো একক ভাবে আবেদন করে
পাওয়া যায় না। এখানে ঋণ নিতে হলে এলাকার সদস্যদের নিয়ে সমিতি তৈরি করতে
হয়।
আরো পড়ুনঃ বুরো বাংলাদেশ এনজিও লোন পদ্ধতি
এরপর সদস্যরা এখানে নিয়মিত সঞ্চয় জমা করে। পরে প্রয়োজনমতো ঋণ নেয় এবং
কিস্তিতে এই টাকা ফেরত দেয়। দিশা এনজিওর অফিসিয়াল তথ্য মতে, তাদের ঋণ
কার্যক্রমের ভিত্তি তিনটি যেমন, দলভিত্তিক ঋণ, সদস্যদের পারস্পরিক জবাবদিহি এবং
নিয়মিত ও সহজ কিস্তি।
দিশা এনজিও লোনের সুবিধা
দিশা এনজিও লোনের সুবিধা আছে বলেই, দিশা এনজিও ঋণ আজ এতো বেশি জনপ্রিয়। যাইহোক
চলুন দিশা এনজিও লোনের প্রধান সুবিধাগুলো জেনে নিন।
-
কাছে শাখা ও সমিতিঃ দিশা এনজিওর ১১১ টি শাখার মাধ্যমে ১৯ জেলার
প্রত্যন্ত এলাকাতেও তাদের সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। এতে ব্যাংকের মতো
দূরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
-
প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণঃ ছোট ব্যবসা, পশু পালন, কৃষি কাজ,
স্যানিটেশন ও বড় উদ্যোক্তা ঋণের মতো আলাদা আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।
-
ধাপে ধাপে বড় ঋণের সুযোগঃ ছোট ছোট ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিশোধ ও শর্ত
পূরণ করতে পারলে পরবর্তীতে বড় ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকে।
-
বিকাশে কিস্তি পরিশোধঃ বিকাশ অ্যাপ থেকেই দিশা এনজিও লোনের কিস্তি
পরিশোধ করতে পারা যায়। এতে বাইরে শাখা বা অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন
পড়ে না।
- নিবন্ধিত ও নিয়ন্ত্রিতঃ দিশা এনজিওর MRA লাইসেন্স এর জন্য প্রতিষ্ঠানটি সরকারের আন্ডারে পরিচালিত হয়।
-
ঋণের বাইরে সাহায্যঃ দিশার অফিসিয়াল তথ্য মতে সদস্য যারা, তাদের
স্বামী বা স্ত্রীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা সহ মেধাবী শিক্ষার্থীদের
জন্য বৃত্তির কথা উল্লেখ আছে।
কার জন্য উপযোগী, কার জন্য নয়
যাদের নির্দিষ্ট আয়ের পরিকল্পনা আছে যেমন দোকান, হাঁস মুরগি পালন, সবজি চাষ,
ছোট পরিবহন ক্রয় করে ইনকাম করার। তারা দিশা এনজিও থেকে লোন নেওয়ার কথা চিন্তা
করতে পারেন। অর্থাৎ ঋণ যে কাজের জন্য নিবেন, সেখান থেকে যেন আয় হয় এবং
সে আয় থেকে যেন নিয়মিত কিস্তি দিতে পারেন এরকম অবস্থা থাকলে ঋণ নেওয়া উচিত।
কিন্তু যারা শুধুমাত্র সংসারের জরুরি খরচ মেটানোর জন্য একাধিক ঋণ নেয় বা পুরনো
ঋণ শোধ করতে পারেনা, নতুন ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের জন্য ঋণ নেওয়া মোটেও
উপযোগী না।
দিশা এনজিও কী কী ধরনের লোন প্রদান করে?
২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিশা এনজিও ৬ ধরনের লোন
প্রদান করে।
১) জাগরণ (সাধারণ ক্ষুদ্রঋণ)
ইনকাম হয় বা নিয়মিত আয় আসে এরকম কাজের জন্য এই সাধারন ঋণ। যেমন ছোট ব্যবসা,
ছাগল পালন, হাঁস মুরগি পালন, সবজি চাষ, পরিবহন ক্রয়, গরু পালন, মাছ চাষ এ ধরনের
কাজে এই ঋণ বেশি নেওয়া হয়।
২) অগ্রসর (ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ)
যাদের ব্যবসা আগে থেকেই চলমান যেমন মাছ চাষ, গরু, হাঁস মুরগি, দোকান বা ব্যবসা
রয়েছে এবং এই ব্যবসা ভবিষ্যতে বাড়ানোর জন্য যারা ঋণ নিতে চান, তাদের জন্য এই
ব্যবস্থা। কিন্তু শর্ত হচ্ছে জাগরণ ঋণের অন্তত দুটি চক্র ভালোভাবে শেষ করতে হবে
এবং সমিতির সদস্যদের গ্যারান্টি লাগবে।
৩) সুফলন কৃষি ও মৌসুমী ঋণ
এই ঋণ কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট কাজ করে তাদের জন্য। অফিসিয়াল তথ্য মতে তিন ভাগের
কথা আছে, কৃষি ঋণ, কৃষি পণ্য ক্রয়ের ঋণ এবং বিশেষ কৃষি কাজের জন্য ঋণ। যারা
মৌসুমী সবজি ফল বা গরু মোটাতাজাকরণের কাজ করে, তারাই সাধারণত এই ঋণ বেশি নিয়ে
থাকে।
৪) উদ্যোক্তা ঋণ
এ লোন ২০২৪ সালে চালু হয়েছিল। এ ঋণ ছোট ও মাঝারি যারা উদ্যোক্তাদের জন্য, যারা
যন্ত্রপাতি, পণ্যের মজুদ বা অবকাঠাময় বিনিয়োগ করতে চাই, তারা এই ঋণ নিয়ে
থাকে।
৫) বুনিয়াদ (অতি দরিদ্রদের ঋণ)
অনেক দরিদ্র অর্থাৎ যাদের খাবারের অভাব এবং দৈনিক খাদ্য শক্তি ১৬০০
কিলোক্যালরির কম, তারা অতি দরিদ্র। শুধুমাত্র এইসব ব্যক্তিরাই এই ঋণের
আওতাভুক্ত হয়ে থাকে। এই ঋণ দিশার সব শাখাতেই পাওয়া যায়।
৬) ওয়াটার ক্রেডিট (নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ঋণ)
নিরাপদ পানি ও স্যানিটারি ল্যাট্রিনের জন্য এই ঋণ নেওয়া হয়। ইনস্টিটিউট ফর
ইনক্লুসিভ ফিনান্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর সঙ্গে অংশীদারিতে ২০২১ সালের জুলাই থেকে
চলছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নলকূপ ও টয়লেট
মিলিয়ে প্রায় ২১,৬০০ জন এই ঋণ নিয়েছে।
দিশা এনজিও লোনের যোগ্যতা
দিশা এনজিও থেকে লোন নিতে হলে, আপনাকে বেশ কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেয়, এই লোন নেওয়ার জন্য নিয়ম অনেক সাধারন রাখা হয়েছে।
চলুন কি কি যোগ্যতা থাকলে আপনারা এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন, সেই
যোগ্যতাগুলো জেনে নেওয়া যাক।
-
প্রথম যোগ্যতা হিসেবে আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে থাকতে
হবে।
- আবেদনকারীকে এদেশের নাগরিক হতে হবে।
- যে শাখায় লোনের জন্য আবেদন করবেন, সে শাখার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- দিশা এনজিওর অধীনে একটি সমিতি তৈরি করে সে সমিতির সদস্য হতে হবে।
- এনজিওর সদস্য হওয়ার পর, তাদের মিটিংয়ে উপস্থিত থেকে নিয়মিত সঞ্চয় জমা করতে হবে।
-
আবেদনকারী কি জন্য লোন নিবে, তার উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট ভাবে দেখাতে হবে।
- কৃষক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নারীদেরকে বেশি অগ্রধিকার দেওয়া হবে।
দিশা এনজিও লোনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে
দিশা এনজিও তে লোনের জন্য আবেদন করতে হলে অবশ্যই আপনাকে কিছু কাগজ অগ্রিম রেডি
করে রাখতে হবে এই কাগজগুলো যদি অগ্রিম আপনি রেডি করে রাখেন তাহলে আবেদন করার
সময় ঝামেলার মধ্যে পড়া সম্ভাবনা অনেকটা কমবে। নিচের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের
তালিকা দিলাম।
ক) জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি (তিন চার কপি করে রাখবেন)।
খ) পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (দুই কপি প্রয়োজন হতে পারে, তবে চার কপি করে
রাখবে)।
গ) ঋণ কি কাজে লাগাবেন, এর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করবেন। যেমন
কত টাকা কোন খাতে খরচ হবে এবং মাসে কি রকম ইনকাম হবে।
ঘ) নমিনির জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
ঙ) বসবাস করা বর্তমান ঠিকানা প্রমাণ বা ইউটিলিটি বিলের কাগজ।
চ) প্রয়োজনে ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স বা অন্যান্য কাগজ প্রয়োজন হতে পারে।
পরামর্শঃ ঋণের জন্য আবেদন করার আগে শাখা থেকে ঋণের ধরন অনুযায়ী আলাদা কোনো
কাগজ লাগবে কিনা জেনে নিবে এবং শাখা থেকে আবেদন ফরম তুলবেন। আরো একটি কথা,
এসব কাগজপত্র নিতে কোন টাকা দিতে হবে কিনা, সেটাও জেনে নিবেন।
দিশা এনজিও লোন আবেদন পদ্ধতি
১) নিকটস্থ শাখাঃ প্রথমে আপনি আপনার এলাকার নিকটস্থ দিশা এনজিও শাখাতে
যোগাযোগ করবেন এবং তাদেরকে লোনের কথা জানাবেন। তারপর তাদের সমিতিতে যোগদান করে
সদস্য হবেন।
২) নিয়মিত সঞ্চয় ও পর্যবেক্ষণঃ সদস্য হওয়ার পর নিয়মিত সাপ্তাহিক
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং সঞ্চয় একাউন্টে টাকা জমা দিবেন। আপনার উপস্থিতি
ও নিয়মিত সঞ্চয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ওপর লোন পাবেন কিনা, তা নির্ভর করবে।
৩) আবেদনঃ উপস্থিতি ও নিয়মিত সঞ্চয় কোটা পূরণ হলে। লোনের জন্য আবেদন
করতে পারবেন। এরপর ব্যবসার পরিকল্পনা, লোনের পরিমাণ এবং আয়ের সম্ভাবনা বিষয়ে
ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানাতে হবে।
৪) যাচাই বাছাই ও অনুমোদনঃ আবেদন করার পর আপনার আবেদন, পরিকল্পনা,
আয়ের সম্ভাবনা এবং আপনার আর্থিক অবস্থা যাচাই করবে ও সমিতির অন্য সদস্যদের
সম্মতি নেবে, সবকিছু ঠিক থাকলে তারা আপনাকে লোন দিবে।
৫) লোনের টাকা বিতরণঃ লোন অনুমোদন করা হলে, লোনের টাকা সাপ্তাহিক
অনুষ্ঠানে সমিতির সকল সদস্যদের সামনে আপনাকে দেওয়া হবে।
দিশা এনজিও লোনের সুদের হার ও প্রসেসিং ফি
ক্ষুদ্র ঋণের উপর যে চার্জ নেওয়া হয়, তাকে বলা হয় সার্ভিস চার্জ বা সুদের
হার সরকারি নিয়মে এই সীমা বা সুদের হার সর্বোচ্চ ২৪ শতাংশ রাখা হয়েছে। এর
পরিমাণ আগে ২৭ শতাংশ ছিল পরবর্তীতে, তা কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরের
একটি সংবাদ প্রতিবেদনে এর সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে
২৪% এর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে দিশা এনজিওর অফিসিয়াল তথ্যে, তাদের সুদের হার
এবং প্রসেসিং ফি সম্পর্কে কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই আমি নির্দিষ্ট করে এই
তথ্য বলতে পারছি না। বিভিন্ন আর্টিকেলে ১২ থেকে ১৫ পার্সেন্ট সুদের
কথা বলা হয়েছে,
আরো পড়ুনঃ কর্মসংস্থান ব্যাংক অনলাইন লোন আবেদন
তবে তার কোন অফিসিয়াল সূত্র নেই। তাই আমার পরামর্শ থাকবে, দিশা এনজিওতে আপনি
কি ধরনের লোন নিবেন এবং এই লোন নিতে প্রসেসিং ফি কত টাকা, সুদের হার কত হবে এবং
টোটাল কত টাকা পরিশোধ করতে হবে এসবের হিসাবগুলো ভালোভাবে জেনে নিবেন।
ঋণ নেওয়ার আগে শাখাতে যে প্রশ্নগুলো করবেন
-
আমি যে ঋণ নেবো এর সার্ভিস চার্জ কত এবং এটাতে ডিসক্লাইং না ফ্ল্যাট পদ্ধতি
যোগ হবে?
-
ঋণ নেওয়ার পর তা সুদে আসলে টোটাল কত টাকা ফেরত দেওয়া লাগবে। আর
কয়টি কিস্তি দিতে হবে এবং কিস্তির পরিমাণ কত হবে।
- লোনের সার্ভিস চার্জ ছাড়া অন্য কোন ফি আছে কিনা।
-
বাধ্যতামূলক সঞ্চয় কত টাকা জমা দিতে হবে আর তা কখন ফেরত পাওয়া যাবে?
-
নির্ধারিত সময়ের আগে ঋণ পরিশোধ করলে কোন সুবিধা পাওয়া যাবে কি?
দিশা এনজিও লোন কিস্তি পরিশোধের নিয়ম
যেহেতু দিশা এনজিও তে লোনের ধরন বিভিন্ন রকম হয়। তাই লোনের ওপর ভিত্তি করে
কিস্তির নিয়মও ভিন্ন হয়। তবে দিশা এনজিও তে সাধারণ ক্ষুদ্রঋণ এবং কৃষিঋণ গুলো
সাপ্তাহিক কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়।
এই ঋণ গুলো সাপ্তাহিক কিস্তিতে পরিশোধ করার কারণ, কম ইনকাম করা মানুষরা যেন
এই কিস্তি সহজে পরিশোধ করতে পারে। কিন্তু আপনি যদি বড় ধরনের ঋণ নিতে চান,
সেক্ষেত্রে ভিসা এনজিওর শাখাতে যোগাযোগ করে কিস্তির পরিমাণ এবং কিভাবে পরিশোধ
করতে হবে জেনে নেওয়া উচিত।
কিস্তি দিতে না পারলে কি করবেন?
যদি কোন কারনে কিস্তি দিতে না পারে, তাহলে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে। যেগুলো
আগে করলে ঋণ খেলাপির সমস্যা কিছুটা এড়ানোর সম্ভব হবে। কিস্তির তারিখ আসার আগেই
ক্রেডিট অফিসার বা শাখাতে বিষয়টি জানাবেন। তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন,
কিস্তি পুনবিনাশের সুযোগ আছে কিনা। কিস্তির চাপে কখনোই অন্য সংস্থা বা
কারো কাছে খুব বেশি সুদে ঋণ নেবেন না। যদি কিস্তি দিতে সমস্যা হয়, তবে
সমিতির অন্য সদস্যদের সাথে বিষয়টি আলোচনা করবেন। নয়তো আপনার সমস্যা পুরো
সমিতির ওপর পড়তে পারে।
দিশা এনজিও থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা লোন নেওয়া যায়?
দিশা এনজিওর ঋণ সিঁড়ির মতো সাজানো হয়েছে। প্রথমে অল্প পরিমাণে জাগরণ
ঋণ। এটা নেওয়ার পর পরিশোধ করে অন্তত দুটি চক্র পূরণ হলে
অগ্রসর ঋণের সুযোগ পাওয়া যায়, যার সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা। আলাদা
নীতিমালার অধীনে উদ্যোক্তা ঋণের সীমা ৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা।
প্রতিটা ধাপে শর্ত রয়েছে। বাস্তবে এই লোনের কাজ কেমন তা ২০২৪ ও
২০২৫ সালের প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনে ধারণা পাওয়া যায়। প্রথম দিকে
৫০ হাজার টাকা নিয়ে হাঁস মুরগির খামার শুরু করেছিলেন দ্বিতীয় ঋণ ১ লক্ষ টাকা
এবং তৃতীয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে বলছে তার মাসিক আয় এখন গড়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। আরেকটি কুমিল্লা
দেবিদ্বারের লাভলী বেগম চার বছর মুরগির খামারের জন্য পাঁচবার ঋণ নিয়েছেন এবং
বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ঋণ চালাচ্ছে। এগুলো দিশার নিজের প্রকাশিত সফলতার
গল্প।
তাই সবার ক্ষেত্রে এই ফল হবে ধরা যাবে না। একটাই কথা আপনার লোন পরিশোধের
রেকর্ড, আপনার ব্যবসা কত বড় এবং ব্যবসা কেমন চলছে এবং আপনার আর্থিক পরিস্থিতি
কেমন এগুলোর ওপর ভিত্তি করে করে কত টাকা ঋণ পাবেন, তা নির্ধারণ করা হয়।
দিশা এনজিও লোন রিনিউ বা পুনরায় লোন নেওয়ার পদ্ধতি
একবার এদের সদস্য হওয়ার পর নতুন করে সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমবার যে
ঋণ নিবেন নেওয়ার পর নিয়মিত সঞ্চয় এবং কিস্তি পরিশোধ করার রেকর্ড থাকলে। আপনি
দ্বিতীয় তৃতীয় এবং পরবর্তী ঋণ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। একটাই কথা
পরবর্তীতে লোন নিতে পারবেন কি পারবেন না,
এটা পুরোটাই নির্ভর করবে আপনার বিগত লোন পরিশোধ করার রেকর্ডে। তাই প্রথম ঋণ
নেওয়ার পর চেষ্টা করবেন নিয়মিত, তাদের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার,
সঞ্চয় করার এবং কিস্তি দেওয়ার। যদি টাকা পরিশোধ রেকর্ড খারাপ থাকে, পরবর্তী
ঋণ পাওয়া কঠিন বা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
দিশা এনজিও লোন পেতে কতদিন সময় লাগে?
লোন আবেদন করার পর লোন পেতে কত দিন সময় লাগে, এর কোন অফিসিয়ালি তথ্য দিশা
এনজিও থেকে প্রকাশ করা হয়নি। তবে শাখা থেকে লোন অনুমোদন করা হলে সাধারণত
৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ঋণের অর্থ সমিতির সদস্যদের সামনে নগদ দেওয়া হয়,
বলে জানা গেছে। তবে আমার পরামর্শ থাকবে, লোন পেতে কতদিন সময় লাগবে, এই
বিষয়ে জানার জন্য সরাসরি তাদের শাখাতে নিযুক্ত থাকা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ
করা। কারণ এটি একমাত্র উপায় যেখানে আপনি শতভাগ সত্য তথ্য জানতে পারবেন।
কেন দিশা এনজিও থেকে লোন নিবেন?
দিশা এনজিও থেকে লোন কেন নিবেন, এর উত্তর বলতে গেলে অনেক আছে। তার মধ্যে আমি
কয়েকটি কথা বলবো, দিশা এনজিও প্রতিষ্ঠান সরকারি নিয়ম নীতি এবং বাংলাদেশ
ব্যাংকের আন্ডারে পরিচালিত হয়, যা মানুষের মনে আস্থার জায়গা করে নিয়েছে। সেই
সাথে এখানে বিভিন্ন ধরনের ঋণের সুবিধা রয়েছে।
এতে মানুষ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ঋণ বেছে নিতে পারে। আরেকটি বড় সুবিধা
লোন দেওয়ার পর নিয়মিত কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করে এবং কিভাবে টাকা কাজে
লাগানো যায় ও আয় বাড়ানো যায় এসব বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। আরও একটি কারণ
এর শাখা বর্তমানে আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে সেবা প্রদান করে চলেছে।
আপনাদের উপকারে আসবে এরকম আরো কিছু পোস্টের তালিকা
দিশা এনজিও লোন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্নঃ দিশা এনজিও লোনে কি জামানত লাগে?
উত্তরঃ অগ্রসর ঋণ নিলে সমিতির বাকি সদস্যদের সম্মতি ও গ্যারান্টি হিসেবে
লাগে। তবে আরও বিভিন্ন ধরনের ঋণ সেবা থাকায় সেগুলোতে জামানত লাগে কিনা, এটার
কোন অফিশিয়ালি তথ্য নেই। তাই এ বিষয়ে শাখা থেকে জেনে নেওয়া নিরাপদ হবে।
প্রশ্নঃ নারীরা কি আলাদা সুবিধা পায়?
উত্তরঃ দিশা এনজিওতে নারীদের বিশেষ সুবিধা রয়েছে এবং ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে
প্রায় ৯৪ থেকে ৯৫ শতাংশ নারী। তাছাড়া তাদের অফিসিয়ালি তথ্যে বলা আছে
নারীদের অগ্রাধিকার বেশি দেওয়া হবে। কিন্তু নারীদের জন্য অন্য কোন সুবিধা বা
ছাড় আছে কিনা, তা শাখাতে জানা উচিত।
প্রশ্নঃ সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ পাওয়া যায়?
উত্তরঃ অগ্রসর ঋণ নিলে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।
উদ্যোক্তা ঋণ নিলে ৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। কিন্তু জাগরণ ঋনে ভিন্ন তথ্য দেওয়া
আছে, তাই ঋণ নেওয়ার আগে শাখা থেকে জেনে নেওয়া উচিত। তবে সর্বোচ্চ কত
টাকা পাবে তা, নির্ভর করে আর্থিক অবস্থা, ব্যবসার পরিধি এবং নিয়মিত
কিস্তির টাকা পরিশোধের ওপর।
প্রশ্নঃ কিস্তি টাকা বিকাশে পরিশোধ করা যায়?
উত্তরঃ বর্তমান সময়ে দিশা এনজিও থেকে লোন নিলে। এই লোনের টাকা বা কিস্তি
প্রতিমাসে শাখায় না গিয়ে আপনার বিকাশ অ্যাপের মাইক্রোফাইন্যান্স অপশন থেকেই
পরিশোধ করতে পারবেন।
আরো পড়ুনঃ সিটি ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়
প্রশ্নঃ ঋণ শোধ করে আবার ঋণ নেওয়া যায় কি?
উত্তরঃ যদি সঠিকভাবে নিয়ম মেনে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে পারেন। তবে অবশ্যই আপনি
একাধিকবার এখান থেকে ঋণ নিতে পারবেন। কিন্তু মাথায় রাখতে হবেম নিয়মিত আগের
লোন পরিশোধ করার পরেই নতুন ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
মন্তব্যঃ দিশা এনজিও লোন আবেদন করার নিয়ম ২০২৬
দিশা এনজিও একটি নিবন্ধিত সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্রঋণ
প্রতিষ্ঠান। এর ঋণ ছোট ব্যবসা, হাঁস মুরগি, পশুপালন, পানি ও
স্যানিটেশন থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা পর্যায় পর্যন্ত রয়েছে। এখানে সমিতির
সদস্য হয়ে ছোট ঋণ নিয়ে পরিশোধ করে ধাপে ধাপে বড় ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং
বিকাশে কিস্তি দেওয়ার সুবিধাও পাওয়া যায়।
এছাড়াও এর সার্ভিস চার্জ সরকারি নিয়মের আওতায় পড়তে পারে। এছাড়াও এর
বাধ্যতামূলক সঞ্চয় রয়েছে এবং কিস্তির চাপও থাকে। তাই লোন নেওয়ার আগে কত
টাকা মোট পরিশোধ করতে হবে। কিস্তির পরিমাণ কত এবং কিস্তি নেওয়ার পর সঠিকভাবে
পরিশোধ করতে পারবেন কিনা, এই বিষয়গুলো হিসাব করবেন, তারপর সিদ্ধান্ত নিবেন।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url