ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোন ২০২৬ - যোগ্যতা ও আবেদনের নিয়ম
ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোন কী, এতে সুদের হার কিভাবে যোগ হয়, কারা এই লোনের
জন্য আবেদন করতে পারবেন, কি কি কাগজপত্র লাগবে এবং কিভাবে আবেদন করতে হবে এসব
বিষয় আজকের আর্টিকেলে জানানো হবে।
পাশাপাশি এই ব্যাংকের মাসিক কিস্তি কত টাকা হতে পারে, এখানে পার্সোনাল লোন নিলে
কি সুবিধা রয়েছে এবং কি সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে সেগুলো বলবো। তাই পারসোনাল লোন
সম্পর্কিত সকল তথ্য জানতে চাইলে আজকের এই আলোচনা ভালোভাবে পড়বেন।
পেজ সূচিপত্রঃ ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোন
- ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোন কী?
- ব্র্যাক ব্যাংক থেকে কত টাকা পার্সোনাল লোন পাওয়া যায়?
- কারা আবেদন করতে পারবেন?
- পার্সোনাল লোন নিতে কি কি লাগে?
-
পার্সোনাল লোন নেওয়ার নিয়ম
- ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোনের সুদের হার কত?
- ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোনের মাসিক কিস্তি কত?
- ব্র্যাক ব্যাংকের পার্সোনাল লোনের সুবিধা ও সতর্কতা
- পার্সোনাল লোন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
-
মন্তব্যঃ ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোন
ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোন কী
ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোন হচ্ছে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নেওয়া জামানতবিহীন ঋণ।
ঋণের জন্য অনুমোদন দেওয়া হলে ব্যাংক থেকে পুরো টাকা একসাথে আপনাকে দেওয়া
হবে। তারপর লোনের টাকার পরিমানের উপর ভিত্তি করে, এতে সুদ যোগ হবে এবং
আরো পড়ুনঃ দিশা এনজিও লোন আবেদনের পদ্ধতি
তা কিস্তির মাধ্যমে আপনাকে পরিশোধ করতে হবে। ব্র্যাক ব্যাংকের নিজস্ব তথ্য মতে
ব্যবসার সামগ্রী কেনার জন্য, বাড়িঘর সাজানো বা তৈরি করার জন্য, বিয়ের খরচের
জন্য এবং জরুরী চিকিৎসার জন্য এই ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া যায়।
এই ঋণের বৈশিষ্ট্য
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী
-
ঋণের পরিমাণ এক লাখ থেকে, ৪০ লাখ টাকা।
-
জামানত বা ক্যাশ সিকিউরিটি হিসেবে লাগে না।
-
মেয়াদ ১২ থেকে ৬০ মাস, যা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়।
-
পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জামিনদার বা গ্যারান্টার লাগেনা, তবে শর্ত
প্রযোজ্য।
-
প্রথম কিস্তি শুরুর জন্য বেশি সময় পাওয়া যায়।
-
এই ঋণ ইন্সুরেন্স শিল্ডের আওতায় সুরক্ষিত।
- সুদের হার পরিবর্তনশীল।
-
আবেদনের বয়স সর্বনিম্ন ২৫ এবং সর্বোচ্চ ৬৫ বছর।
ব্যক্তিগত ঋণের কয়েকটি ধরন
ব্র্যাক ব্যাংকে একাধিক ব্যক্তিগত ঋণের ব্যবস্থা আছে। তবে আজকে আমরা আলোচনা
করছি সাধারণ পারসোনাল লোন নিয়ে। কিন্তু আমাদের উচিত এই লোনের পাশাপাশি আরো কিছু
ব্যক্তিগত ঋণের ধরন সম্পর্কে জানা। তাই চলুন ব্যক্তিগত ঋণের আরো কয়েকটি ধরন
সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
১) আগামী ঋণঃ এই ঋণ উচ্চশিক্ষার জন্য নেওয়া হয়। মোট টিউশন ফির ১৩০
পার্সেন্ট পর্যন্ত লোন পাওয়া যায় এবং এই টাকা কয়েক ধাপে ছাড় হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সন্তানদের জন্য বাবা মা বা অভিভাবক এই লোনের জন্য আবেদন
করতে পারে।
২) দিশারী লোনঃ এটা শিক্ষকদের ব্যক্তিগত লোন। বেসরকারি ও এমপি ভুক্ত,
সরকারি স্কুল কলেজ এবং ব্যাংকের তালিকা ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম
স্কুলের শিক্ষকরা এই লোনের আওতাভুক্ত।
৩) সুবিধা অ্যাপঃ ব্যাংকের ডিজিটাল অ্যাপে ছোট অংকের টাকা ঋণ নেওয়া যায়।
এই টাকা বেতন একাউন্ট ধারী নির্বাচিত গ্রাহকদের জন্য। এই সুবিধা এখন চালু
আছে কিনা ব্যাংক থেকে জেনে নিবেন।
ব্র্যাক ব্যাংক থেকে কত টাকা পার্সোনাল লোন পাওয়া যায়
ব্র্যাক ব্যাংকের বর্তমান অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এখান থেকে পার্সোনাল
লোন সর্বনিম্ন এক লক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত উল্লেখ আছে।
কিন্তু সবাই যে সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ পাবেন, বিষয়টা এমন না। ব্যাংক সাধারণত
আবেদনকারীর মাসিক আয়, চাকরি,
ব্যবসার স্থায়িত্ব সহ আগে কোন ঋণ বাকি আছে কিনা বা আগের রেকর্ড দেখে
কত টাকা আপনাকে ঋণ দেওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করা হয়। ব্র্যাক ব্যাংক
নিজেও জানিয়েছে, সুদের মার্জিন ঠিক করা হয় ঋণ
গ্রহণকারীর ঝুঁকি, ঋণের ধরন এবং ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক দেখে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
ব্যাংকের প্রকাশিত যোগ্যতার তালিকায় অনুযায়ী, যারা এই লোনের জন্য আবেদন করতে
পারবে। তাদের কি কি শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা নিচে বলা হলো।
-
যাদের বয়স ২৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে তারা আবেদন করতে পারবে।
-
স্থায়ী চাকরিজীবী বা কর্মচারী হতে হবে এবং মোট কাজের অভিজ্ঞতা কমপক্ষে এক
বছর।
-
মাসিক আয় সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা হতে হবে।
-
ব্যবসায়ীদের ব্যবসা অন্তত তিন বছরের হতে হবে।
-
ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, শিক্ষক, ডাক্তার ইত্যাদি
ব্যাংক জানিয়েছে তাদের এই শর্ত প্রোডাক্ট পলেসি অনুযায়ী বদলাতে পারে।
পার্সোনাল লোন নিতে কি কি লাগে?
ব্র্যাক ব্যাংকের পার্সোনাল লোন বিভিন্ন ক্যাটাগরির হয়। তাই এখানে ক্যাটাগরি
হিসেবে কাগজপত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এখন আমরা পার্সোনাল লোনে কি কি
কাগজপত্র প্রয়োজন হবে, সেগুলো আলাদা আলাদা ভাবে জানাবো, যেন আপনাদের বুঝতে সহজ
হয়।
সবার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ
১) আবেদনকারী ও জামিনদারের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
২) আবেদনকারী ও জামিনদারের দুই কপি করে পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
৩) ভিজিটিং কার্ড বা অফিস আইডি কার্ডের কপি (প্রযোজ্য হলে)।
৪) ইউটিলিটি বিলের কাগজ।
৫) ই টিন সার্টিফিকেট (লোনের পরিমাণ পাঁচ লাখের বেশি হলে)।
চাকরিজীবীদের জন্য
১) প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া পরিচিতি পত্র (Letter of introduction)
২) বেতনের স্লিপ বা ভাউচার।
৩) ব্যাংকের শেষ ছয় মাসের স্টেটমেন্ট।
স্বনিয়োজিত পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীর জন্য
১) শেষ ১২ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
২) পেশাগত সদস্য পদ কার্ড বা সনদের ফটোকপি (পেশাজীবীদের জন্য)।
৩) হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, শেষ পাঁচ বছরের।
৪) ব্যবসায় কারো শেয়ার বা অংশীদারী থাকলে নিবন্ধিত পার্টনারশিপ ডিড।
৫) লিমিটেড কোম্পানি হলে মেমোরান্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ও সার্টিফিকেট অব
ইনকর্পোরেশন।
আর আপনি যদি ৫ লক্ষ টাকার বেশি ঋণ নেন, আপনার লাগবে হালনাগাদ ট্যাক্স
ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট অথবা সর্বশেষ আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকার।
কাগজ গোছাতে কিছু পরামর্শ
সব কাগজে নাম, জন্ম তারিখ এবং ঠিকানা একটাই রাখবেন। কাগজের সামান্য অমিল থাকলে
যাচাই প্রক্রিয়াতে সমস্যা হতে পারে। আর আয় যেন ব্যাংক স্টেটমেন্টে স্পষ্ট দেখা
যায়, এটাও খেয়াল রাখবেন। পাশাপাশি আপনি কোন ধরনের লোন নিচ্ছেন এই লোনের
ক্যাটাগরিতে বাড়তি কোন কাগজপত্র লাগবে কিনা, এটা আবেদন করার আগে ব্যাংক থেকে
চেক লিস্ট চেয়ে নিবেন।
পার্সোনাল লোন নেওয়ার নিয়ম
এখন আমি জানাবো কিভাবে আপনারা পারসোনাল লোন নেওয়ার জন্য আবেদন করবেন, তার
প্রক্রিয়া।
১ ধাপঃ আপনি এই লোন নেওয়ার জন্য যোগ্য কিনা তা মিলিয়ে নিবেন।
যেমন বয়স, চাকরি বা ব্যবসার অভিজ্ঞতা এবং মাসিক আয় ও ব্যাংকের শর্ত।
২ ধাপঃ আপনি কি ধরনের লোন নিবেন এবং এই লোনের জন্য কি কি কাগজপত্র
প্রয়োজন হবে সেসব কাগজ গুছিয়ে রাখবেন।
৩ ধাপঃ সকল কাগজপত্র ও তথ্য মেলানো হলে আবেদন করতে হবে। আবেদনের
জন্য আপনারা ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের পারসোনাল লোন পেজে
গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিতে পারবেন। অথবা নিকটস্থ ব্র্যাক ব্যাংক
শাখাতে গিয়ে আবেদন করবেন।
৪ ধাপঃ আবেদন করার পর ব্যাংক থেকে আপনার দেওয়া কাগজপত্র যাচাই বাছাই
করবে। বিশেষ করে আপনার আয়ের প্রমাণ এবং সিআইবি রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করা
হবে।
৫ ধাপঃ এরপর সব তথ্য সঠিক থাকলে, ব্যাংক থেকে ঋণের জন্য অনুমোদন দেওয়া
হবে। অবশ্যই ঋণ নেওয়ার আগে ঋণের পরিমাণ, মেয়াদ, সুদের হার এবং কত টাকা ফি
দিতে হবে এসব লিখিতভাবে দেখে নিবেন।
আবেদন বাতিল বা দেরি হওয়ার সাধারণ কারণ
অনেকেই আছে যাদের আবেদন করার পর আবেদন বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু তারা অনেকেই
জানতে পারে না, যে কি কারণে তাদের আবেদন বাতিল হয়েছে। তাই আমি এখন বেশ কিছু
কারণ বলবো।
আরো পড়ুনঃ বিকাশ থেকে লোন পাওয়ার যোগ্যতা
যে কারণগুলোর জন্য আবেদন বাতিল হয়ে যায়। তাই এই কারণগুলো আগে থেকেই জেনে
থাকবেন এবং আগে থেকেই নিজের রিপোর্ট ক্লিয়ার করে রাখবেন। তাহলে আবেদন বাতিল
হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকবে।
-
পূর্বে ঋণ নিয়ে থাকলে সেই ঋণ খেলাপি বা কিস্তি দিতে অনিয়ম থাকলে।
-
ব্যাংক স্টেটমেন্টে আয়ের লেনদেন স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকার কারণে।
-
আগের ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি আয়ের থেকে অনেক বেশি হওয়ায়।
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নাম জন্ম তারিখ এবং ঠিকানা একরকম না থাকলে।
-
বয়স, চাকরির মেয়াদ বা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা সহ আয়ের শর্ত পূরণ না
হলে।
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ না থাকলে।
পার্সোনাল লোনের সুদের হার কত?
সাধারণ পার্সোনাল লোনে ব্র্যাক ব্যাংকের সুদ পরিবর্তনশীল। ব্যাংকের
নোটিশ অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন ঠিক হচ্ছে কার্যকর সুদের হার,
বেস রেট প্লাস মার্জিন। চলুন বেস রেট এবং মার্জিন সম্পর্কে জেনে নিন।
ক) বেস রেটঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য থেকে নেওয়া। ইসলামিক বিদেশী ও
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলো বাদে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস
মেয়াদী এফডিআর এর সর্বোচ্চ সুদের গড়ই বেস রেট। পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে এটি
প্রতি ১ বছরে পর্যালোচনা করা হয়।
খ) মার্জিনঃ এটা নির্ধারণ করা হয় ঋণ গ্রহণকারীর ঝুঁকি ঋণের ধরন এবং
ব্যাংকের সাথে তার সম্পর্ক দেখে। এটা ঋণের গুরু মেয়াদে বদলায় না।
ব্যাংকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক বেস রেট
ক) ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ৯.১১ পার্সেন্ট
খ) ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৮.৭২ পার্সেন্ট
গ) ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ৮.৪৯ পার্সেন্ট
সুদের হার, ফি ও অন্যান্য চার্জ
ব্যাংকের রিটেইল লেন্ডিং চার্জ তালিকা অনুযায়ী পার্সোনাল লোনের সব ফি ও
কমিশনের উপর ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।
ক) প্রসেসিং ফিঃ ঋণের পরিমাণের ০.৫০%। অর্থাৎ আপনি যদি ৫ লক্ষ টাকা ঋণ
নেন, এই ঋণে ২৫০০ টাকা ভ্যাটসহ ২৮৭৫ টাকা খরচ হবে।
খ) টপ আপ লোনঃ এল নিলে এর ওপর অতিরিক্ত জিরো পয়েন্ট ৫০% যোগ হবে।
গ) আর্লি সেটেলমেন্ট ফিঃ বকেয়ার ০.৫০% পর্যন্ত।
ঘ) আংশিক পরিশোধ ফিঃ পরিশোধিত অংকের জিরো পয়েন্ট ৫০% পর্যন্ত।
ঙ) স্ট্যাম্প খরচ ও সিআইবি চার্জঃ ঋণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে।
চ) কিস্তির তারিখ বদলঃ প্রতিবারে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা।
ছ) জামিনদার বদলঃ সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা।
জ) দেরিতে পরিশোধ জরিমানাঃ বাকি থাকা ঋণের ওপর বছরে ১.৫% পর্যন্ত।
পরামর্শঃ ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে তারা না জানিয়েও ফি বদলাতে পারে। এজন্য
আবেদনের আগে সুদের হার, ফি ও অন্যান্য চার্জ তালিকা ব্যাংকের অফিসিয়াল
ওয়েবসাইট অথবা ব্যাংক শাখা থেকে জেনে নিবেন।
ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোনের মাসিক কিস্তি কত?
ব্যাক ব্যাংক বলে কোন কথা নয়। যেকোন ব্যাংকের ঋণ নেওয়ার পর এর কিস্তি কত
টাকা হবে, তা মূলত তিনটি জিনিসের উপর নির্ভর করে (১) ঋণের পরিমাণ (২) সুদের
হার এবং (৩) ঋণের মেয়াদ। তাই আপনি কত টাকা ঋণ নিচ্ছেন, এই টাকার সুদ কত
ও কত দিন মেয়াদে
তার ওপর নির্ভর করে আপনাকে মাসিক কিস্তি কত টাকা দিতে হবে নির্ধারণ করা
হবে। আরেকটু সহজ ভাবে বুঝতে হলে চলুন উদাহরণ হিসেবে আমি আপনাকে একটি হিসাব
দেখায়। ১২% সুদ ধরে নিচে একটি হিসাবের উদাহরণ দেওয়া হল।
মাসিক কিস্তির উদাহরণ একঃ ১২% সুদ ধরে তিন লক্ষ টাকা নিলে। ২৪ মাস
মেয়াদে ১৪,১২২ টাকা মাসিক কিস্তি দিতে হবে। ৩৬ মাস মেয়াদে ৯৯৬৪ টাকা
এবং ৬০ মাসে ৬৬৭৩ টাকা কিস্তি দিতে হবে।
মাসিক কিস্তির উদাহরণ দুইঃ ১২% সুদ ধরে পাঁচ লক্ষ টাকা নিলে। ২৪ মাসে ২৩,৫৩৭
টাকা ৩৬ মাসে ১৬,৬০৭ টাকা এবং ৬০ মাস মেয়াদে ১১,১২২ টাকা মাসিক কিস্তি দিতে
হবে।
বুঝতে যেন সহজ হয়, এজন্য মোট খরচের একটি হিসাব
পাঁচ লক্ষ টাকা ৩৬ মাস মেয়াদে ১২% সুদে নেওয়া হলে, মোট কিস্তি দিতে হবে ৫
লক্ষ ৯৭ হাজার ৮৫৭ টাকা। এর প্রসেসিং ফি এবং ভ্যাট কাটা হবে ২৮৭৫ টাকা।
স্ট্যাম্প খরচ ও সিআইবি চার্জ প্রকৃত খরচ অনুযায়ী আলাদা হয়। অর্থাৎ এই
হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, পাঁচ লাখ টাকা যদি আপনি লোন দেন,
তবে আপনাকে মোট প্রায় ৬ লক্ষ ৭৩২ টাকা পরিশোধ করতে হবে, যা মূল টাকা
থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা বেশি। এমনকি আমি স্টাম্প ও সিআইবি খরচ বাদে বলেছি।
তাই ঋণ নেওয়ার আগে শুধু কিস্তি কত টাকা হবে, তা না দেখে মোট কত টাকা ফেরত
দিতে হবে, এই হিসাবটাও দেখে নিবেন।
ব্র্যাক ব্যাংকের পার্সোনাল লোনের সুবিধা ও সতর্কতা
আপনারা অবশ্যই ব্র্যাক ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার আগে এর সুবিধা এবং সতর্কতা
গুলো পড়ে নিবেন। এগুলো জানা থাকলে এখান থেকে সুবিধাগুলো সঠিকভাবে পাবেন এবং
বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবেন।
এই লোনের সুবিধা সমূহ
১) সম্পত্তি বন্দুক বা জামানত ছাড়াই ঋণ পাওয়া যায়।
২) ১২ থেকে ৭ মাসের মধ্যে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী লোনের মেয়াদ বেছে নেওয়া
যায়।
৩) ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কোন গ্যারান্টার লাগেনা, তবে শর্ত রয়েছে।
৪) প্রথম কিস্তি দেওয়ার জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যায়। এমনকি এই ঋণ
ইন্সুরেন্স সিল্ডের আওতায়।
৫) লোনের সুদের হার ও বিভিন্ন চার্জ ফি এর তালিকা ব্যাংকে প্রকাশ্যে রাখা
হয়। তাই আগেই খরচের হিসাব করতে পারা যায়।
৬) অন্য ব্যাংকের ঋণ ব্র্যাক ব্যাংকে টেকওভার করলে প্রসেসিং ফি লাগে না।
সতর্কতা
১) সুদ পরিবর্তনশীল। যদি বেস রেট বদলায় তবে কার্যকর সুদও বদলাতে পারে।
২) মোট খরচ সুদ নয়। এতে প্রসেসিং ফি, ভ্যাট, স্টাম্প, সিআইবি চার্জ ও
ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম প্রয়োজনে যোগ হয়।
৩) জামানতবিহীন ঋণে জামানত যুক্ত ঋণের চেয়ে সুদ বেশি হয়। তাই ঋণ খুব
প্রয়োজন কিনা ভেবে দেখবেন।
৪) বিদ্যমান সব কিস্তি মিলিয়ে যদি আয়ের বড় অংশ কিস্তিতে চলে যায়, তবে
সমস্যা হতে পারে।
৫) দেরিতে কিস্তি দিলে বকেয়া অংকের উপর বছরে ১.৫ পারসেন্ট জরিমানা লাগতে
পারে।
৬) মাঝে মধ্যেই ব্যাংকের ফি ও শর্ত। বদলায় তাই আবেদনের আগে বা মাঝে মধ্যেই
এসব শর্ত ব্যাংক থেকে জেনে নিবেন।
আপনাদের উপকারে আসবে এরকম আরো কিছু পোস্টের তালিকা
পার্সোনাল লোন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্নঃ ব্রাক ব্যাংক পার্সোনাল লোনে জামানত লাগে কি?
উত্তরঃ ব্র্যাক ব্যাংক থেকে পার্সোনাল লোনে কোন জামানত লাগে
না। তবে এই টাকা নিতে হলে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে। আরেকটি বিষয়
এই ঋণে যেহেতু জামানত লাগে না তাই সুদের পরিমাণ অনেক বেশি হবে। এজন্য ঋণ
নেওয়ার আগে হিসাব মিলিয়ে দেখবেন এটা আপনার আয়ত্তে আছে কিনা।
প্রশ্নঃ সর্বোচ্চ কত টাকা পার্সোনাল লোন পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ সর্বোচ্চ কত টাকা পার্সোনাল লোন পাওয়া যাবে। এটা আপনার আর্থিক অবস্থা
ও ব্যবসার পরিস্থিতি উপর নির্ভর করবে। তবে ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্যে
পার্সোনাল লোন সর্বোচ্চ ১ থেকে ৪০ লাখ টাকার কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্নঃ জামিনদার কখন লাগে?
উত্তরঃ যদি আপনি পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি ঋণ দেন তাহলে আপনার গ্যারান্টার
হিসেবে জামিনদার বা বাড়তি কাগজ লাগতে পারে। তবে পাঁচ লক্ষ টাকার নিচে ঋণ
নিলে কোন জামিনদার লাগে না। কিন্তু শর্ত প্রযোজ্য হয়।
প্রশ্নঃ এই কিস্তির মেয়াদ কত?
উত্তরঃ ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্যে বলা হয়েছে পার্সোনাল লোনের
কিস্তির মেয়াদ ১২ থেকে ৬০ মাস। যা আপনাকে মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ
করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন
প্রশ্নঃ ব্র্যাক ব্যাংকে বেতনের একাউন্ট না থাকলে আবেদন করা যাবে?
উত্তরঃ সাধারণ পার্সোনাল লোনের প্রকাশিত তথ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের একাউন্ট
থাকতে হবে, এমন কথা উল্লেখ নেই। কিন্তু এমন কিছু সুবিধা আছে যেগুলো নিতে হলে
অবশ্যই ব্র্যাক ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। আপনার ক্ষেত্রে কি প্রযোজ্য
হবে এটা ব্যাংক থেকে নিশ্চিত করাই ভালো।
মন্তব্যঃ ব্র্যাক ব্যাংক পার্সোনাল লোন
আপনারা যদি ব্র্যাক ব্যাংক থেকে পার্সোনাল লোন নিতে চান, তবে জামানত ছাড়া এক
থেকে চল্লিশ লক্ষ টাকা সর্বনিম্ন ১২ এবং সর্বোচ্চ ৬০ মাসের
কিস্তিতে নিতে পারবেন। এই টাকার উপর সুদ কত টাকা হবে তা, ঠিক হয় বেস
রেট ও মার্জিনের ওপর ভিত্তি করে। যদি সাম্প্রতিক বেস রেট নিচের
দিকে থাকে, তবুও আপনার মার্জিন কত হবে,
তার ওপর চূড়ান্ত হার নির্ভর করবে। প্রসেসিং, ফি ভ্যাট এবং অন্যান্য খরচ যোগ
করলে মোট কত টাকা কিস্তি হবে সে খরচ বেরিয়ে আসবে। তাই আবেদনের আগে এসব
হিসাব করে নিবেন। নিজের যোগ্যতা এবং কাগজ মিলিয়ে মোট কত টাকা ফেরত দিতে
হবে এবং এতে ঝুঁকি কেমন এগুলো আগেই নিশ্চিত হবেন, তারপর এই লোনের জন্য
আবেদন করবেন।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url