ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার ১০টি উপায়

ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায় জানা না থাকলে, যেকোন সময় অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আজকের আলোচনা পুরোটাই পড়বেন। কারণ আজকে আমরা ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায় সহ হ্যাক হওয়ার কারণ,
ফেসবুক-আইডি-নিরাপদ-রাখার-উপায়
হ্যাক হলে কিভাবে বুঝবেন এবং হ্যাক হয়ে গেলে কি পদক্ষেপ নিবেন এসব বিষয়গুলো আলোচনা করবো। তাই পরামর্শ থাকবে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে দেখার। আশাকরি তথ্যগুলো জানার পর, এই পদক্ষেপগুলো নিলে আপনাদের আইডি সুরক্ষিত থাকবে।

পেজ সূচিপত্রঃ ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায়

এখন আমরা জানবো ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার প্রধান কারণগুলো কি। আমরা হ্যাকারের কথা বা হেকার নাম শুনলেই ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু আমাদের জানা উচিত হ্যাকাররা কোন জাদুকর কৌশল ব্যবহার করে না, আইডি হ্যাক করার জন্য। তারা আমাদের সাধারণ কিছু ভুলগুলোর সুযোগ নিয়ে আইডি হ্যাক করে থাকে। যাই হোক চলুন ফেসবুক আইডি কেন হ্যাক হয়, সে কারণগুলো জেনে নিই।
১.দুর্বল বা একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাঃ আমরা অনেকে নাম ও জন্ম সালের কম্বিনেশনে পাসওয়ার্ড দেই যেমন (Nokib2009), যা অনুমান করা খুব কঠিন না। এর চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা একই পাসওয়ার্ড সব ধরনের একাউন্টে ব্যবহার করি। যেমন ই মেইল, ফেসবুক, ওয়েবসাইট ইত্যাদি। এজন্য কোন একটি সাইটের ডাটা ফাঁস হলেই হ্যাকাররা সেই পাসওয়ার্ড দিয়ে ফেসবুকে ঢোকার চেষ্টা করে।

২.ফিশিং লিংকঃ অজানা লিংকে ক্লিক করার কারণে বর্তমান সময়ে আইডি অনেক হ্যাক হচ্ছে। অনেক লোভনীয় মেসেজ যেমন আপনি ১৫ হাজার টাকা জিতেছেন বা ফেসবুকের মত হুবহু পেজে ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার জন্য হ্যাকারের কাছে আপনার ইমেইল পাসওয়ার্ড চলে যাচ্ছে। এভাবে অজান্তে আইডি হ্যাক হয়ে যাচ্ছে। তাই অপরিচিত বা সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ না করায় ভালো।

৩.থার্ড পার্টি অ্যাপঃ আপনি কোন সেলিব্রেটির মতো দেখতে, এরকম মজার কুইজ অ্যাপগুলোতে অনেক সময় প্রোফাইল তথ্য, ফ্রেন্ড লিস্ট ও পোস্ট করার অনুমতি চাই। তখন অনেকেই প্রোফাইলে তথ্য দিয়ে অনুমতি দিয়ে বসে। ফলে আইডির গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।

৪.অপরিচিত ওয়াইফাই ব্যবহারেঃ কোন রেস্টুরেন্ট, বাস স্ট্যান্ড অথবা ফ্রী কোথাও ওয়াইফাই দিয়ে। আপনার ফোনে কোনো অ্যাপে লগইন করলে। আপনার গোপন ডাটা চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাছাড়া অন্যের ডিভাইস থেকে লগইন করে লগ আউট করতে ভুলে গেলেও গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে।

৫.পুরনো ফোন নাম্বার বা ইমেল যুক্ত থাকা এবং টু ফ্যাক্টর পাসকি চালু না রাখাঃ শুধু পাসওয়ার্ড এর উপর ভরসা করে অনেকে টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করে না। যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে আটকানোর কোন উপায় থাকে না। তাছাড়া বছরের পর বছর যে নাম্বার ব্যবহার হয় না, সেটা যদি রিকভারির একমাত্র মাধ্যম হয়ে থাকে, তাহলে সমস্যা হলে আইডি ফিরে পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায়

আমরা ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার কারণগুলো জানলাম। এবার আমরা জানবো ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায় সম্পর্কে। আমরা যদি এই উপায়গুলো ফেসবুক হ্যাক হওয়ার আগে জেনে থাকি

এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারি, তবে হ্যাকার সহজে আমাদের আইডি হ্যাক করতে পারবে না। যাইহোক দেরি না করে চলুন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার ১০টি উপায় জেনে নিই।

১. শক্তিশালী ও আনকমন পাসওয়ার্ড

আমরা পাসওয়ার্ড যত জটিল ভাবে তৈরি করব হ্যাকারদের এটা হ্যাকিং করতে বা অনুমান করতে, তত বেশি কঠিন হবে। আমাদের পাসওয়ার্ড অন্তত ১২ ক্যারেক্টারের রাখতে হবে। যেখানে বড় ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং চিহ্ন মেশানো থাকবে, উদাহরণ (MeRi@01_cIty30)।

পাসওয়ার্ড যেন মনে রাখা সহজ হয় এবং অনুমান করা কঠিন হয় এভাবে সাজাবেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময় পরপর পাসওয়ার্ড পাল্টানোর চেয়ে। প্রতিটি আলাদা সাইটের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। আর কোন সন্দেহজনক প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারলে সাথে সাথে পাসওয়ার্ড বদলে ফেলতে হবে।

অনেক সময় বারবার নিয়ম করে পাসওয়ার্ড পাল্টানোর জন্য পাসওয়ার্ড গুলো আবার সহজ হয়ে যায়। এর কারণে আইডি হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাছাড়া পাসওয়ার্ড যেন ভুলে না যান। তাই নিজের একটি ডাইরি করে, এই ডাইরিতে পাসওয়ার্ড লিখে রাখবেন।

২. টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু

আপনি যদি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২ ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করে রাখেন। তবে আপনার পাসওয়ার্ড যদি কোন কারণে কেউ জেনে যায় বা ফাঁস হয়ে যায়। তবুও কখনো হ্যাকাররা আপনার আইডিতে ঢুকতে পারবে না।

কারণ আইডিতে ঢুকতে হলে শুধু পাসওয়ার্ড দিলেই চলবে না। বরং দ্বিতীয় একটি কোড প্রয়োজন হবে, যেটা শুধু আপনার ফোনে বা আপনার কাছেই থাকবে। ফেসবুকে টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করে রাখলে, আপনারা তিনটি অপশন বেছে নিতে পারবেন। যেমন,

ক. (Security key) সিকিউরিটি কী
খ. (Authenticator App) অথেন্টিকেশন অ্যাপ
গ. SMS কোড

এই টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন আপনার ফেসবুক আইডিতে চালু করার জন্য, প্রথমে আপনি সিকিউরিটি এন্ড প্রাইভেসি অপশনে যাবেন। তারপর পাসওয়ার্ড এন্ড সিকিউরিটি অপশনে ক্লিক করলে Two Factor Authentication দেখতে পাবেন, এটাই মূলত অন করতে হবে।

৩. Passkey সেটাপ করা

পাসকি হচ্ছে পাসওয়ার্ডের বিকল্প পদ্ধতি। এখানে একাউন্টের সেফটির জন্য আপনার আঙ্গুলের ছাপ, ফেস বা ডিভাইসের পিন দিয়ে সেটআপ করতে হয়। এর সবথেকে বড় সুবিধা হচ্ছে, এটা কেউ চুরি করতে পারে না, অনুমানও করতে পারে না।

এমনকি ফিশিং সাইটে বা অপরিচিত লিংকে ক্লিক করলেও কাজ করে না। কারণ এটা শুধুমাত্র আপনার ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত থাকে। তাই ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখতে, আপনাদের ফোনে পাসকি সেটাপ দিয়ে রাখতে পারেন।

৪. সিকিউরিটি চেকাপ দিয়ে একাউন্ট রিভিউ

বর্তমানে ফেসবুক সিকিউরিটিতে বড় আপগ্রেড এনেছে এবং সিকিউরিটি চেকআপকে নতুন করে সাজিয়েছে। এর জন্য আপনারা কয়েক মিনিটে পাসওয়ার্ড, ২ ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন, লগইন অ্যালার্ট এবং

আপনার আইডি কোন ডিভাইসে লগইন আছে দেখতে পাবেন। তাই অন্তত আপনারা মাসে একবার সেটিং এ গিয়ে সিকিউরিটি চেকআপ করে দেখবেন। এভাবে মাসে একবার সিকিউরিটি চেকআপ দিলে আপনারা বড় ধরনের বিপদ বা ঝুঁকি থেকে সহজেই বাঁচতে পারবেন।

৫. লগইন অ্যালার্ট চালু রাখা

ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখতে আপনারা লগইন অ্যালার্ট চালু করে রাখবেন। এতে আপনার আইডিতে অচেনা কোন ডিভাইস বা লোকেশন থেকে কেউ যদি লগইন করার চেষ্টা করে। তাহলে সাথে সাথে আপনি নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

তাছাড়া মাঝেমধ্যে Where You'r Logged In এই অপশনে গিয়ে কোন কোন ডিভাইসে আপনার আইডি লগইন করা আছে দেখে নিবেন। যদি অপরিচিত কোন ডিভাইসে আইডি লগইন করা থাকে, তবে দ্রুত সেটা সরিয়ে ফেলবেন এবং পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করবেন।

উদাহরণঃ ধরুন হোস্টেল, কলেজ বা স্কুলের কম্পিউটার থেকে আপনি একাউন্টে লগইন করেছেন এবং কাজ শেষে লগ আউট করতে ভুলে গেছে। পরবর্তীতে অন্য স্টুডেন্ট সে কম্পিউটারে বসে চাইলেই আপনার আইডিতে ঢুকতে পারবে। এজন্য শেয়ার্ড ডিভাইস ব্যবহারের পর লগ আউট করাটা যত সহজ শোনায়, বাস্তবে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।

৬. ফিশিং লিংক বা সন্দেহজনক নোটিফিকেশন বা মেসেজ এড়িয়ে চলা

কোন নোটিফিকেশন বা লিংকে ক্লিক করার আগে ইউআরএল ভালো করে দেখবেন। যদি facebook.com এর বদলে facebook-sefty-login.com বা এরকম লিংক দেখেন, তবে বুঝবেন এটা ভুয়া। শুধুমাত্র অচেনা বা সন্দেহজনক লিংক না, বন্ধু বা পরিচিত মানুষদের পাঠানো লিংক নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ পরিচিত মানুষের আইডি যদি হ্যাক হয়ে থাকে,

তবে সেখান থেকেই আপনার কাছে এই লিংক আসতে পারে। তাই কোনো লিংকে ঢোকার আগে অবশ্যই চিন্তাভাবনা করবেন। অনেকেই একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা ভুলে যায়, ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত থাকা ইমেইল একাউন্টও নিরাপদ রাখা প্রয়োজন। কারণ ইমেইল হ্যাক হয়ে গেলে সেখান থেকে ফেসবুকের পাসওয়ার্ড রিসেট করা যায়। তাই ফেসবুকের এর পাশাপাশি ইমেইলের সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।

৭. থার্ড পার্টি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট পারমিশন কমানো

অনেক সময় আমরা ভুলবশত Continue with Facebook লেখায় ক্লিক করে লগইন করে বসি। এটাতে সেই অ্যাপ আমাদের প্রোফাইল তথ্য, আমাদের ছবি, এমনকি ফ্রেন্ডলিস্ট পর্যন্ত দেখতে পারে। এজন্য কোনো অ্যাপে লগইন করার পর বা লগইন করার আগে। কি পারমিশন চাইছে দেখে Allow করা উচিত।
ফেসবুক-আইডি-নিরাপদ-রাখার-উপায়
নয়তো গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এজন্য সেটিংয়ের App and website সেকশনে গিয়ে মাঝেমধ্যে চেক করে দেখবেন। কোন অ্যাপে আপনার অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত আছে। যেগুলোতে আর ব্যবহার করেন না, সেগুলোর পারমিশন অফ করে দিবেন।

৮. ব্যক্তিগত তথ্য প্রাইভেসি সেটিংয়ে কমান

ফেসবুকে দেওয়া নিজের তথ্যগুলো যেমন ফোন নাম্বার, ইমেইল, জন্মতারিখ অনলি মি করে রাখবেন। কারণ ফোন নাম্বার পাবলিক করা থাকলে প্রতারকরা, এই নাম্বারে সরাসরি কল করে ভুয়া পরিচয়ে ওটিপি হাতানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই ব্যক্তিগত এই তথ্যগুলো হাইড করে রাখবেন।
তাছাড়া আপনারা যারা ফেসবুক পেজ চালিয়ে ব্যবসা করেন। তাদের জন্য পরামর্শ থাকবে, ব্যক্তিগত প্রোফাইল আর বিজনেস পেজ যতটা সম্ভব আলাদা রাখবেন। ব্যক্তিগত প্রোফাইল হ্যাক হয়ে গেলে, যেন আপনার পুরো ব্যবসার পেজটা হাতছাড়া না হয়ে যায়।

৯. রিকভারি ইমেইল ও ফোন নাম্বার

ফেসবুকে আগে Trusted Contacts নামের একটি ফিচার ছিল। এখানে কয়েকজন বন্ধুকে নির্বাচন করে তাদের সাহায্যে আইডি রিকভার করা যেত। কিন্তু বর্তমানে এই ফিচারটি মেটা বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এখন আইডি রিকভার করার মূল ভরসা হচ্ছে, ইমেইল এবং ফোন নাম্বার। এজন্য আপনার ইমেইল এবং

ফোন নাম্বার সব সময় সচল রাখবেন, যেন অ্যাক্সেস করা যায়। বছরে অন্তত একবার এই তথ্য চেক করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আর ফেসবুকের দেওয়া ব্যাকআপ কোডগুলো নিরাপদ জায়গায় বা ডাইরিতে লিখে রাখবেন। আগে থেকেই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকলে আইডি হারানো ঝুঁকি থাকবে না।

১০. পাবলিক ওয়াইফাই ও অপরিচিত ডিভাইসে সতর্কতা

রেস্টুরেন্ট, শপিংমল, রেলস্টেশন, বাস বা পাবলিক ফ্রি ওয়াইফাই দিয়ে ফেসবুকে লগইন করা উচিত না। যদি খুব প্রয়োজন হয়, তবে ভিপিএন অন করে ব্যবহার করবেন। নয়তো আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অর্থাৎ ফেসবুকের পাসওয়ার্ড, ইমেইল ফাঁস হয়ে যেতে পারে। আর গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, আপনি যদি আপনার কোন বন্ধুর ফোনে

বা কলেজের কম্পিউটারে অথবা অফিসের কম্পিউটারে লগইন করেন। তাহলে অবশ্যই কাজ শেষে লগ আউট করে দিবেন। অনেক সময় কাজ শেষে লগ আউট করা হয় না এবং এর কারণে ব্যক্তিগত তথ্য হুমকির মধ্যে পড়ে। এমনকি আইডি হারিয়ে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দেয়। তাই এসব বিষয়গুলোতে একটু সচেতন থাকবেন।

ফেসবুক হ্যাক হওয়ার লক্ষণ কী?

উপরের আলোচনায় আমরা ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করলাম। এবার আমরা জানবো ফেসবুক হ্যাক হওয়ার লক্ষণ কি অর্থাৎ ফেসবুক হ্যাক হলে কিভাবে বুঝবেন। সাধারণত কিছু সংকেত আইডিতে দেখা দিলেই বুঝে নিতে হবে অ্যাকাউন্টের সমস্যা হয়েছে। এই লক্ষণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো,

ক) যদি দেখেন আপনার অজান্তে কোন পোস্ট বা মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। তাছাড়া বন্ধুরা যদি জিজ্ঞেস করে তুই এই লিংক বা ভিডিও পাঠিয়েছিস। আর এই ভিডিও বা লিঙ্ক আপনি যদি না পাঠিয়ে থাকেন, তবে বুঝবেন আপনার আইডি হ্যাক বা আইডিতে সমস্যা হয়েছে।

খ) প্রোফাইলের নাম, ছবি সাথে ইমেইল বা ফোন নাম্বার নিজে থেকে যদি বদলে যায়। তারপর হঠাৎ যদি দেখেন অচেনা ডিভাইস বা লোকেশন থেকে লগইনের অ্যালার্ট মেসেজ পাচ্ছেন। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মানে হচ্ছে আপনার আইডি কেউ হ্যাক করার চেষ্টা করছে বা হ্যাক করে নিয়েছে।

গ) যদি দেখেন আপনার পাসওয়ার্ড দিয়ে ফেসবুক আইডিতে লগইন হচ্ছে না এবং আপনার অজান্তে নতুন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট যাচ্ছে বা অচেনা গ্রুপে জয়েন হচ্ছেন লক্ষণ বা সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে আইডি হ্যাক হওয়ার লক্ষণ এটা।

উপরে যে তিনটি পয়েন্ট উল্লেখ করলাম, এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি লক্ষণ যদি আপনি আপনার আইডির মধ্যে দেখতে পান, তবে দেরি না করে দ্রুত আপনার পাসওয়ার্ড, ইমেইল পাল্টিয়ে ফেলবেন এবং টু ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন চালু করে দিবেন। আরো বেশ কিছু নিয়ম আছে আইডিকে সুরক্ষিত রাখার যেগুলো আমি উপরে আলোচনা করেছি।

ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে কি করবেন?

যদি অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে যায়। তবে ঘাবড়ে না গিয়ে আপনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। অবশ্যই এই পদক্ষেপগুলো খুব দ্রুত নিতে হবে। যদি দেখেন আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে গেছে, দ্রুত আপনি আপনার ফেসবুক পেজে যাবেন

এবং সেখানে রিকভারি প্রক্রিয়া শুরু করবেন। প্রমাণ হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব স্ক্রিনশট নিবেন। খেয়াল রাখবেন যেন স্ক্রিনশটে অ্যাড্রেসবারের ইউআরএল দেখা যায়। যদি কোন সন্দেহজনক লিংক বা মেসেজ, আইডি হ্যাক হওয়ার আগে আপনার কাছে আসে,

সেগুলো সেভ করে রাখবেন। এরপর দ্রুত ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত থাকা ইমেইলের পাসওয়ার্ড পাল্টে নিবেন। কারণ ইমেইল দিয়েও আপনি ফেসবুক আইডি রিকভার করতে পারবেন। এবার চলুন আইনি প্রক্রিয়াতে কিভাবে অভিযোগ করবেন জেনে নিই,
 
১. যদি ফেসবুক হ্যাক হয়ে যায় পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর সিটিজেন, এই পেজে ইনবক্স করে অভিযোগ পাঠাতে পারবেন।
২. নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা ও গোপনীয় প্ল্যাটফর্ম পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন রয়েছে, এখানে অভিযোগ করতে পারেন।
৩. সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টার বা নিকটস্থ থানায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ বা জিডি করতে পারেন।
৪. জরুরি প্রয়োজনে আইনের সহায়তা পেতে ৯৯৯ কল করতে পারেন।

যে চারটি স্টেপের কথা বললাম। অর্থাৎ অভিযোগ জানানোর যে পদক্ষেপগুলো বললাম, এগুলো যদি আইডি হ্যাক হওয়ার পর আপনি দ্রুত অভিযোগ জানান। তাহলে আইডি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন দুর্ঘটনা ঘটলে, পরবর্তীতে আইনি জটিলতা থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন।

ফেসবুক নিরাপদ রাখার বিষয়ে আলোচিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্নঃ আইডি হ্যাক হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ কি?
উত্তরঃ আইডি হ্যাক হওয়ার সব থেকে বড় কারণ হচ্ছে, সহজ ও পুরাতন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। সেই সাথে ফিশিং লিংকে ক্লিক করা। অর্থাৎ অজানা লিংকে ক্লিক করার কারণে বর্তমান সময়ে বেশি আইডি হ্যাক হচ্ছে। তাই অজানা লিংকে ক্লিক করবেন না এবং পাসওয়ার্ড শক্তিশালী ব্যবহার করবেন।

প্রশ্নঃ Passkey কি পাসওয়ার্ড চেয়ে বেশি নিরাপদ?
উত্তরঃ Passkey কখনোই চুরি বা অনুমান করা যায় না। সেই সাথে এটা আপনার ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত থাকে। তাই এটা সহজে হ্যাক করা সম্ভব হয় না, এমনকি এখানে ফিশিং সাইটও কাজ করে না। এজন্য বলা যায় পাসওয়ার্ড এর থেকে Passkey বেশি শক্তিশালী।
ফেসবুক-আইডি-হ্যাক-হলে-করণীয়-কি
প্রশ্নঃ ফেসবুক পাসওয়ার্ড কত দিন পর পরিবর্তন করা উচিত?
উত্তরঃ নির্দিষ্ট সময় মেনে পাসওয়ার্ড বদলানো কখনোই ভালো বিষয় না। কারণ এতে পাসওয়ার্ড আরো দুর্বল হয়ে যায়। তাই আমার পরামর্শ থাকবে নির্দিষ্ট সময় পর পাসওয়ার্ড না বদলে, প্রতিটা সাইটের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখবেন। আর হ্যাক হওয়ার সন্দেহ হলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পাল্টে দিবেন।
প্রশ্নঃ ফেসবুক হ্যাক হলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা যায় কি?
উত্তরঃ ফেসবুক যদি হ্যাক হয়ে গেলে আপনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার নিকটস্থ থানায় গিয়ে জিডি করতে পারেন। এটা করা থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদ থেকে আপনি রক্ষা পাবেন। তাই নিজের সেফটির জন্য অবশ্যই একটি অভিযোগ করে রাখা ভালো।

মন্তব্যঃ ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায়

আশাকরছি উপরোক্ত আলোচনায় ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। যদি উপরের ধাপগুলো আগে থেকেই মেনে চলেন, তবে ফেসবুক আইডি সহজে হারানোর বা হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। তাই অবশ্যই আপনারা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, টু ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন ও নিয়মিত সিকিউরিটি চেকআপ করবেন।

আমরা কিন্তু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার উপায়গুলোর পাশাপাশি ফেসবুক আইডি কেন হ্যাক হয়, ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে কিভাবে বুঝবেন, যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে গেলে কি করবেন, তা নিয়েও আলোচনা করেছি। যারা ফেসবুক আইডি হারানোর ঝুঁকি নিয়ে ভাবছেন, তাদের জন্য এই আর্টিকেল অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে। এজন্য প্রথম থেকে সম্পূর্ণ আলোচনা পড়বেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url