চুল পড়া বন্ধ করার কার্যকর ৯টি উপায়

চুল পড়া বন্ধ করার কার্যকর ৯টি উপায় জানতে চাইলে আর্টিকেলটি পড়তে পারেন। আপনারা আজকের এই আর্টিকেলে চুল পড়ার কারণ, কতটুকু চুল পড়া স্বাভাবিক, কোন ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে এবং চুলের যত্নে যে ভুলগুলো করা যাবে না, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
চুল-পড়া-বন্ধ-করার-কার্যকর-৯টি-উপায়
পাশাপাশি চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় এবং কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। সেটাও জানানো হয়েছে, তাই আপনাদের যাদের চুল পড়ার সমস্যা দূর হচ্ছে না, তাদের জন্য আজকের এই আলোচনা অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই সম্পন্ন আলোচনাটি পড়ার চেষ্টা করবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ চুল পড়া বন্ধ করার কার্যকর ৯টি উপায়

চুল পড়ার কারণ কি?

আপনারা অনেকেই চুল পড়ার কারণ কি জানতে চেয়েছেন। চুল পড়ার একক কোনো কারণ থাকে না। যখন একসাথে কয়েকটি কারণ কাজ করে। তখন চুল পড়ার মত সমস্যা দেখা দেয়। চলেন কোন কারণগুলোর জন্য চুল পাতলা হয়ে কমে যেতে শুরু করে, সে কারণগুলো জেনে নিই।
১.জেনেটিক কারণঃ পরিবারে বাপ দাদার যদি কম বয়সে মাথার চুল পাতলা হয়ে যায়, তাহলে আপনার ক্ষেত্রেও এমন হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এটাকে ডাক্তারি ভাষায় এন্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া বলা হয়। এই সমস্যাতে ছেলেদের কপালের দুই পাশ এবং মাথার মাঝখান থেকে চুল পাতলা হয়ে পড়তে শুরু করে। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে মাথার উপরের অংশ পাতলা হয়ে চুল কমতে শুরু করে।

২.পুষ্টির ঘাটতি থাকলেঃ শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুল পড়ার সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে শরীরে যদি কেরাটিন নামের প্রোটিনের অভাব হয়। তাহলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল পড়ে, কারণ চুল পুরোটাই কেরাটিন নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। তাই দীর্ঘদিন প্রোটিন জাতীয় খাবার কম খাওয়া হলে চুল উঠে যেতে পারে। এছাড়া আইরন ও জিংকের ঘাটতিতেও একই সমস্যা হতে পারে।

৩.হরমনজনিত কারণঃ থাইরয়েডের সমস্যা ও সন্তান জন্মর পর, যে সময় পার হয়। এই সময়ে হরমোন পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ চুল পড়ে যেতে পারে। সন্তান জন্মের তিন থেকে চার মাস পর অনেক মায়ের হঠাৎ করে অনেক চুল পড়া শুরু করে। এই সমস্যা প্রায় এক বছর মত থাকে। তারপর নিজে নিজেই তা, ঠিক হয়ে যায়।

৪.ঘুমের অভাব ও মানসিক চাপঃ শরীরের ওপর বড় ধকল পড়লে সাধারণত চুল ওঠার মতো সমস্যা হতে পারে। যেমন চাকরি হারানো, পরীক্ষার চাপ, পারিবারিক সমস্যা ইত্যাদির কারণে, এই সমস্যাগুলো বেশি হয়। এসব বিষয়ে চিন্তা করার কারণে স্ট্রেস তৈরি হয়, ফলে চুল গজানোর যে প্রক্রিয়া সেটা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।

৫.যত্নের ভুল এবং ত্বকের সমস্যাঃ চুল ঘন ঘন রং করলে এবং চুলে হিট দিলে চুল পড়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়াও মাথার ত্বকে খুশকি বা ইনফেকশন হলে এ সমস্যা হয়।

প্রতিদিন কতটুকু চুল পড়া স্বাভাবিক?

প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ টা চুল পড়া স্বাভাবিক কারণ বেশ কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, মাথায় গড়ে এক লাখ চুল থাকে। সে হিসাবে প্রতিদিন মাথা থেকে ১০০ চুল পড়ে যাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বিষয়। তবে সমস্যা তখনই বেশি যখন দেখবেন, চুল পড়ার পরিমাণ আগের চেয়ে স্পষ্টভাবে অনেক বেড়ে গেছে। মাথার চান্দিতে চুল ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে

এবং চুল আগের থেকে পাতলা হয়ে যাচ্ছে। এই তিনটা সমস্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যেমন পুরো মাথাতে সমানভাবে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সাধারণ কারণ স্ট্রেস বা পুষ্টির ঘাটতি। আর প্রতিদিন একটা নিয়ম মেনে চুল কমে যাওয়া সাধারণত জেনেটিক সমস্যা। তাই এ সমস্যা দুটো আলাদা এবং এই সমস্যা দুটোর চিকিৎসাও আলাদা।

চুল পড়া বন্ধ করার কার্যকর উপায়

এখন আমি আপনাদেরকে জানাবো চুল পড়া বন্ধ করার কার্যকর উপায় সম্পর্কে। চুল পড়ার যেহেতু কারণ অনেকগুলো, তাই আগে আমাদেরকে জানতে হবে কি কারনে চুল পড়ছে। এজন্য জেনেটিক কারণ, পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের সমস্যা, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, চুলের ভুল যত্ন এবং মাথার ত্বকের ইনফেকশন বা সমস্যা আছে কিনা দেখতে হবে। 

এখানে চুল পড়ার কারণগুলো আলাদা আলাদা হওয়ায় এর চিকিৎসাও কিন্তু আলাদা এজন্যই আমাদেরকে চুল পড়ার সমস্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে এবং আসলে কোন কারণে চুল পড়ছে, সেই বিষয়ের উপর চিকিৎসা শুরু করতে হবে। চলেন কোন উপায় গুলো মানলে চুল পড়া বন্ধ করা যাবে সে উপায়গুলো জেনে নিই।

প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন ও আয়রন রাখতে হবে

যেহেতু প্রোটিন ও আয়রন দিয়ে চুল তৈরি হয়। তাই শরীরে যখন প্রোটিন আয়রনের ঘাটতি হয়, তখন চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়। যদি দেখেন চুল হঠাৎ পড়তে শুরু করেছে, তাহলে নিশ্চিত হবেন এটা আসলে শরীরে প্রোটিন ও আয়রনের ঘাটতির জন্য হয়েছে কিনা। এ সময় আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকাতে

আয়রন ও প্রোটিন রাখার চেষ্টা করবেন। আয়রন ও প্রোটিন যুক্ত খাবার হিসেবে আপনারা দুধ, মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, পালং শাক, কলিজা, খেজুর এই খাবারগুলো খাবেন। এই খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়ার ফলে আপনাদের শরীরে আয়রন ও প্রোটিন কম থাকলে পূরণ হবে এবং চুল পড়ার সমস্যা দূর হবে।

নিয়মিত চুলের গোড়া ম্যাসাজ করতে হবে

নিয়মিত বলতে অন্তত আপনারা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন, নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল তেল হাতে নিয়ে মাথায় হালকা চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করবেন। এভাবে পাঁচ থেকে দশ মিনিট নিয়মিত মাসাজ করলে, চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল বাড়বে।

ফলে চুলের গোড়াতে পুষ্টি সহজে পৌঁছাবে। খুব বেশি জোরে চুলের গোড়া ঘষবেন না, হালকা করে মাসাজ করবেন। এতে চুল ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে এবং এক দেড় মাস পরেই এটার ভালো ফলাফল আপনারা দেখতে পাবেন। অর্থাৎ চুল পড়ার সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

ভালো মানের সঠিক শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার

কোন সময় বেশি সালফেট যুক্ত শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না। কারণ বেশি সালফেট যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে মাথার ত্বকে প্রাকৃতিক যে তেল থাকে, এটা নষ্ট হয়ে যায়। এতে চুল শুষ্ক এবং রুক্ষ হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ফলে চুল অতিরিক্ত পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই আপনারা সালফেট মুক্ত শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কন্ডিশনার চুলের উপরের ভাগে লাগাবেন না। কারণ চুলের গোড়াতে কন্ডিশনার লাগালে, তেল তেল ভাব হয়ে চুল আরও উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

চুলে হিট এবং কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট

চুলে হিট দেওয়া এবং ঘন ঘন কালার করা কমাতে হবে। কারণ এইসব জিনিস চুলের প্রোটিন স্ট্রাকচার নষ্ট করে দেয়। যদি কালার করা এবং চুল হিট করা একেবারেই বাদ দিতে না পারেন। তবে আস্তে আস্তে এটা ব্যবহার করা কমাতে হবে এবং প্রটেক্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহার করতে হবে।

আর চেষ্টা করবেন সপ্তাহে একবারের বেশি হিট স্টাইলিং না করার। এসব কারণে চুল উঠে অনেকের মাথা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকবেন।

মানসিক চিন্তা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

মানসিক চিন্তা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। তাই সর্বপ্রথম আপনাকে মানসিক চিন্তা দূর করতে হবে এবং পর্যাপ্ত ঘুম পারতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমাবেন। আর দিনে কম করে হলেও দশ থেকে পনেরো মিনিট হাটাহাটি করবেন।

নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো ফলো করলে স্ট্রেস হরমোন কমবে। মানসিক চিন্তা বেশি করলে এর ফল এক থেকে দুই মাস পর দেখা দেয়। অর্থাৎ আজকে যদি মানসিক চিন্তা বেশি করেন, তবে আগামী মাসে চুল পড়া দেখা যাবে। তাই সব সময় চিন্তা মুক্ত থাকবেন এবং নিয়মিত ঘুমাবেন।

প্রমাণিত মেডিকেল সমাধান বিবেচনা

যদি চুল পড়ার আসল কারণ জেনেটিক সমস্যা হয়। তবে আপনি যতই ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করুন, এতে ভালো ফল পাওয়া যাবে না। তাই জেনেটিক কারণে চুল উঠলে আপনারা মিনক্সিডিল ফোম ব্যবহার করতে পারেন। এটা এখন পর্যন্ত সবথেকে বেশি গবেষণা সমর্থিত ঔষধ। যা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

পুরুষের এরকম সমস্যায় ফিনাস্টেরাইড ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই ওষুধগুলো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মোটেও সেবন বা ব্যবহার করবেন না। কারণ এই ওষুধগুলোর হরমোনাল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। আপনারা এই দুটো ওষুধই ফার্মেসিতে পেয়ে যাবেন। কিন্তু ব্যবহার করার আগে একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিবেন।

চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়

সব ঘরোয়া টোটকা সমানভাবে কাজ করে না। কিছু গবেষণাতে পেঁয়াজের রস চুলে ব্যবহার করলে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে বলে দেখা গেছে। কারণ পেঁয়াজের রসে সালফার থাকে, যা চুলের ফলিকলে কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। এর ফলেই নতুন চুল গজায়।
চুল-পড়া-বন্ধ-করার-ঘরোয়া-উপায়
আপনারা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন চুলের গোড়ায় পেঁয়াজের রস লাগাবেন এবং এটা কমপক্ষে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলবেন। কিভাবে পেঁয়াজের রস চুল পড়া বন্ধ করতে ব্যবহার করবেন এই পোস্ট পড়তে পারেন। এছাড়াও আপনারা যদি মেথি ভিজিয়ে পেস্ট বানান এবং এটা চুলের গোড়ায় লাগান।

তবে মেথিতে থাকা প্রোটিন ও নিকোটিনিক এসিড আপনার চুলের গোড়া শক্ত করবে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখবেন, এগুলো প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায়। তাই ফল পেতে সময় লাগবে।

প্রতিদিন চুলের যত্নে সতর্কতা

আমাদের অজান্তেই প্রতিদিন চুল পড়ার সমস্যা বেশি হয়। বিশেষ করে আমরা অনেকেই চুল ভেজা অবস্থায় জোরে জোরে আচড়ায়, যা করা মোটেও ঠিক না। অর্থাৎ ভেজা চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে, তাই ভেজা অবস্থাতে কখনোই চুল আঁচড়াবেন না। প্রথমে তোয়ালে দিয়ে হালকাভাবে চুল শুকিয়ে নিবেন,

তারপর বেশি ফাক দাঁতের চিরুনি দিয়ে আস্তে আস্তে চুল আঁচড়াবেন। আরেকটি বিষয় চুল গোসল করার পর খুব জোরে বা শক্ত করে বাধবেন না, নয়তো ট্রাকসন এলোপেসিয়া হতে পারে। ট্রাকশন এলোপেসিয়া মানে হচ্ছে, চুলের গোড়া স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরী

আমি আগেই বলেছি চুল কিন্তু একটা কারণে পড়ে না, চুল পড়ার কারণ অনেক থাকে। আর এই কারণগুলোর মধ্যে একটা কারণ হচ্ছে, শারীরিক সমস্যা। শারীরিক সমস্যা থাকলে চুল পড়ার মত সমস্যা দেখা দেয়। তাই নিয়মিত বা বছরে একবার হলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো।
বিশেষ করে থাইরয়েড, ফেরিটিন ও ভিটামিন ডি এই তিনটি টেস্ট করা উচিত। যদি দেখেন চুল পড়ার পাশাপাশি শরীরে ক্লান্ত হচ্ছে এবং ওজন কমে যাচ্ছে। তাহলে এই পরীক্ষাগুলো করানোর পর একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

চুল ঘন ও মজবুত রাখতে কোন খাবার খাবেন

চুল কিন্তু পুষ্টিকর খাবার না খাওয়ার অভাবেও ঝরে পড়ে। তাই প্রতিদিনের খাবারে ভালো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। প্রতিদিন ভালো পুষ্টিকর খাবার খেতে পারলে, আস্তে আস্তে চুল ঘন ও মজবুত হবে। চলুন চুল ঘন ও মজবুত রাখতে কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত সেগুলো জেনে নিই। আপনারা প্রতিদিন প্রোটিন, আয়রন, জিংক এবং ওমেগা থ্রি আছে,

এরকম খাবারগুলো খাদ্য তালিকায় রাখবেন। ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, পালংশাক, কলিজা, খেজুর, কুমড়ার বিচি, চিনা বাদাম, ডিম, ইলিশ, রুই মাছ ও চিয়াসিডে আপনারা প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক এবং ওমেগা থ্রি পাবেন। তাই এই খাবারগুলো নিয়ম মেনে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এইসব খাবার যদি এক মাস নিয়মিত খেতে পারেন। তাহলেই দেখবেন আপনার চুলের মধ্যে একটা সুন্দর পরিবর্তন।

কোন ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে যায়

অনেকেই জানিনা যে আমাদের শরীরে যদি ভিটামিনের অভাব হয়। সেক্ষেত্রে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আমাদেরকে এসব ভিটামিন সম্পর্কে জানতে হবে এবং এই ভিটামিন যুক্ত খাবারগুলো নিয়মিত খেতে হবে। যাই হোক আপনারা জানতে চেয়েছেন, কোন ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে যায়।

তাই আজকে আমরা কোন ভিটামিনগুলোর কারণে চুল পড়ার সমস্যা হয় এর নাম জানবো। শরীরে যদি ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, বায়োটিন ও আয়রনের অভাব হয়, তাহলে চুল পড়তে শুরু করবে। কারণ ভিটামিন ডি এর ঘাটতি যদি থাকে, তবে মাথায় নতুন চুলের ফলিকল তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।

ফলে নতুন চুল গজাবে না এবং চুল দুর্বল হয়ে পড়বে। এই সমস্যা যারা রোদে কম বের হয়, তাদের বেশি দেখা দেয়। ভিটামিন বি১২ রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে। এটা মাথার ত্বকে অর্থাৎ চুলের গোড়াতে অক্সিজেন পৌঁছায়। বায়োটিন চুলের কেরাটিন তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

তাই এর অভাব হলে চুল স্বাভাবিকভাবেই নষ্ট হয়ে ঝরে পড়বে। আয়রন এর ঘাটতিতেও চুল পড়ে, এই সমস্যা বেশি মেয়েদের হয়। কারণ ঋতুস্রাব জনিত কারণে আয়রন বেশি নষ্ট হয়। আর এ কারণে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়।

পরামর্শঃ যদি আপনার চুল নিয়মিত ঝরতে থাকে। তাহলে ভিটামিনের অভাব কি পরীক্ষা করবেন। কারণ পরীক্ষা ছাড়া ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত হবে না। অতিরিক্ত ভিটামিনে উল্টো চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে, তাই সতর্ক থাকবেন।

চুলের যত্নে যে ভুলগুলো করবেন না

প্রতিদিন গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া যাবেনা। কারণ গরম পানিতে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই ভুলটা করা থেকে বিরত থাকবেন। ভেজা চুল টাওয়েল দিয়ে জোরে জোরে ঘুষা যাবেনা। কারণ ভেজা চুল এমনিতেই দুর্বল থাকে। আর এ সময় তোয়ালে দিয়ে চুল ঘষলে চুলের গোড়া আরো দুর্বল হয়ে চুল উঠে যাবে। শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন দেখে বা ভালোভাবে যাচাই বাছাই না করে।

চুলের যত্নে কোন প্রোডাক্ট বা ক্যামিকেল ব্যবহার করবেন না। কারণ নিম্নমানের এই প্রোডাক্টগুলো আপনার চুলের সব থেকে বড় ক্ষতি করতে পারে। আরেকটি বড় ভুল যেটা মেয়েরা বেশি করে, রাতে চুল বেঁধে ঘুমানো। রাতে কখনোই চুল বেঁধে ঘুমানো উচিত না। কারণ চুল বেঁধে ঘুমালে তা ঘর্ষণে ভেঙে যেতে পারে। এসব ভুল উপায়ে কখনোই চুলের যত্ন নিবেন না, আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।

কখন ডাক্তার বা ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যেতে হবে

আমি আপনাকে কিছু লক্ষণের কথা বলবো। এই লক্ষণগুলো যদি আপনি দেখতে পান, তবে কখনোই দেরি করবেন না। দ্রুত একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার বা ডার্মাটোলজিস্ট এর কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিবেন।
  • মাথার তালুতে হঠাৎ গোল প্যাচ দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
  • চুলের সাথে মাথার ত্বকে বা গোড়ায় ব্যথা করলে চুলকালে বা লাল ভাব দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
  • ঘরোয়া উপায়ে তিন থেকে চার মাস চুলের যত্ন নেওয়ার পরেও, চুল পড়া যদি না কমে। তাহলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
  • শুধু চুল পড়া নয়, চুল পড়ার পাশাপাশি যদি শরীর অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত থাকে, ওজন পরিবর্তন হয় বা মাসিক জনিত সমস্যা থাকে, তবে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার বা ডার্মাটোলজিস্ট এর কাছে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে, তিনি ত্বকের পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করার পর চুল ওঠার মূল কারণ শনাক্ত করে এবং এরপর সে নির্দিষ্ট চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এটা কখনোই নিজে নিজে অনুমান করা যায় না। করলেও তা সঠিক না হলে অযথা টাকা সময় নষ্ট হয়। এজন্যই মূলত একজন ডার্মাটোলজিস্ট ডাক্তারের কাছে যাওয়া নিরাপদ।

ফলাফল পেতে কত সময় লাগবে

চিকিৎসা হোক অথবা ঘরোয়া উপায় হোক, যেটাই করেন না কেন অন্তত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগবে ফলাফল বোঝার জন্য। কারণ চুলের গ্রোথ সাইকেল হতে কয়েক মাস সময় লাগে। তাই আপনারা যারা দুই সপ্তাহ ঘরোয়া উপায় অথবা চিকিৎসা নিয়ে থেমে যান এবং বলেন কাজ করছে না। তারা মূলত বেশিরভাগই ভুল করে।

কখনোই কাজ করছে না বলে দুই সপ্তাহ বা তিন সপ্তাহের মধ্যেই চুলের যত্ন নেওয়া ছেড়ে দেবেন না। নিয়মিত তিন থেকে চার মাস চুলের যত্ন নেওয়ার পর, আপনারা এর ফলাফল দেখতে পাবেন। আপনারা চাইলে কিন্তু উপর থেকে অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জেনে আসতে পারেন।

আলোচিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্নঃ কি দিলে চুল পড়া বন্ধ হবে?
উত্তরঃ সাধারণত চুলের নিয়মিত যত্ন, সঠিক পুষ্টিকর খাবার এবং বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের চিকিৎসা নিলেই চুল পড়া বন্ধ হয়। তাই চুলের যেকোন সমস্যায়, আপনারা একজন অভিজ্ঞ ডার্মাটোলজিস্ট এর সাথে যোগাযোগ করবেন।

প্রশ্নঃ প্রসবের পর কি চুল পড়া নিজে থেকে ঠিক হয়ে যায়?
উত্তরঃ বাচ্চা প্রসবের পর মায়েদের চুল ওঠার সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এটা সাধারণত হরমোন জনিত কারণে হয়ে থাকে। যা পাঁচ থেকে ১২ মাসের মধ্যে নিজে থেকেই আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাই এ সময় অতিরিক্ত চিন্তা না করে পুষ্টিকর খাবারে মনোযোগ দেওয়া ভালো।

প্রশ্নঃ নারিকেল তেল কি সত্যিই চুল পড়া কমায়?
উত্তরঃ নারিকেল তেল চুলের প্রোটিন লস কমাতে সাহায্য করে এবং চুলকে শক্তিশালী করে, চুলের গোড়া শক্ত করে। কিন্তু চুল যদি জেনেটিক কারণে পড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে নারিকেল তেল ব্যবহার করে চুল পড়া বন্ধ করার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তাই নারিকেল তেলকে চুল পড়া কমাতে সহায়ক হিসেবে দেখা উচিত।
চুল-পড়া-বন্ধ-করার-কার্যকর-উপায়
প্রশ্নঃ চুল পড়া কি বয়সের সাথে বাড়তে থাকে?
উত্তরঃ যদি চুলের অযত্নে চুল পড়ে সেক্ষেত্রে যত্ন নিলে চুল পড়া কমবে। কিন্তু জেনেটিক কারণে যদি চুল পড়া শুরু হয়, তবে বয়স বাড়ার পাশাপাশি চুল কমতে পারে। কিন্তু সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে চুল পড়ার গতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই এরকম সমস্যা হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রশ্নঃ কোন ভিটামিন খেলে চুল পড়া বন্ধ হবে?
উত্তরঃ কোন পরীক্ষা ছাড়া ভিটামিন খাওয়া উচিত নয়। কারণ চুল কিন্তু অনেকগুলো কারণে পড়ে, তাই প্রথমে কি কারণে চুল পড়ছে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। তারপর যদি দেখেন ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ছে, সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। কিন্তু কখনোই নিজে থেকে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট বা ভিটামিন খেতে যাবেন না।

মন্তব্যঃ চুল পড়া বন্ধ করার কার্যকর ৯টি উপায়

আশাকরছি উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনারা চুল পড়া বন্ধ করার কার্যকর উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আমরা কিন্তু এখানে ডাক্তারি এবং ঘরোয়া উপায়ে চুল পড়া বন্ধ করার কথা বলেছি। তাই এই নিয়মগুলো আপনারা ফলো করবেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, চুল পড়া রাতারাতি বন্ধ হয় না। তাই সঠিক খাবার খাবেন, পর্যাপ্ত ঘুমাবেন,

শারীরিক ব্যায়াম করবেন, মানসিক টেনশন কম করবেন এবং চুলের সঠিকভাবে যত্ন নিবেন। এই নিয়মগুলো একসাথে ফলো করলে, আপনি কয়েক মাসের মধ্যেই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। তবে চুল পড়া যদি অতিরিক্ত হয়, আর এটা যদি আপনি বুঝতে পারেন। তাহলে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url