শীতে ত্বকের যত্ন কেন জরুরি - শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়
শীতে ত্বকের যত্ন কেন জরুরি এই বিষয়ে জানা থাকলে ত্বক ফেটে যাওয়া, ত্বকের
শুষ্কতা এবং ত্বকের অন্যান্য সমস্যাগুলো সহজেই প্রতিরোধ করা যাবে। এজন্য
আজকের এই আর্টিকেলে শীতকালে ত্বকের ক্ষতির কারণ,
ত্বকের সঠিক যত্ন এবং শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায় নিয়ে বিস্তারিত
আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও যেসব পদক্ষেপ নিলে আপনাদের ত্বক সুস্থ, কোমল ও সুন্দর
থাকবে, সেসব বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। তাই চলেন শীতকালে কিভাবে ত্বকের যত্ন
নিতে হবে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
পেজ সূচিপত্রঃ শীতে ত্বকের যত্ন কেন জরুরি
- শীতে ত্বকের যত্ন কেন জরুরি
- শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়
- শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয় কেন?
- শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়
-
শীতে ত্বকের যত্নে যে ভুলগুলো করা যাবে না
-
শীতকালে পুরুষ ও নারীর ত্বকের যত্নে পার্থক্য
-
শীতে ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা কিভাবে কাজ করে
- (FAQ) শীতে ত্বকের যত্ন নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর
- মন্তব্যঃ শীতে ত্বকের যত্ন কেন জরুরি - শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়
শীতে ত্বকের যত্ন কেন জরুরি
শীতে ত্বকের যত্ন কেন জরুরি এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেই জানতে চান। তাই চলেন
শীতকালে কেন ত্বকের যত্ন নেওয়া দরকার, তা জেনে নিই। শীতের সময় বাতাসের মধ্যে
আদ্রতা অনেক কমে যায়। আর বাতাসে আদ্রতা কমার কারণেই ত্বক তার
স্বাভাবিক আদ্রতা আস্তে আস্তে হারাতে থাকে।
আরো পড়ুনঃ সরিষার তেল গায়ে মাখলে কি হয় জানেন কি?
যার কারণে শীতকালে ত্বক অনেক শুষ্ক ও অনেক রুক্ষ হয়ে পড়ে। শীতকালে
অনেকের ত্বক ফেটে যায়, ত্বকে চুলকানি দেখা দেয়, হাত পায়ের ত্বক শক্ত ও
উস্কোখুস্কো হয়ে থাকে। শীতে ত্বকের যেন সমস্যা না হয়। এজন্য আগে
থেকে আমাদের ত্বকের যত্ন নিতে হবে।
শুধু যে বাইরের ঠান্ডা পরিবেশের কারণে ত্বকের এই সমস্যা হয়, তা কিন্তু না।
ত্বকের সমস্যা বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করলে, পানি কম খেলে এবং ত্বকের জন্য
প্রয়োজনীয় মশ্চারাইজার ব্যবহার না করলেও হতে পারে। শীতকালে আমরা যদি
নিয়মিত আমাদের ত্বকের যত্ন নিতে পারি। তাহলে আমাদের ত্বকের আদ্রতা স্বাভাবিক
থাকবে।
ত্বকের শুষ্কতা কমবে এবং ত্বক কোমল ও সুন্দর থাকবে। ত্বকের যত্ন নেওয়ার
পাশাপাশি বেশি বেশি পানি খেতে হবে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং ত্বকের ধরন
অনুযায়ী লোশন ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজন পড়লে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে
পারেন। এতে শীতকালেও ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখা যাবে এবং ত্বক
থাকবে সুস্থ ও সুন্দর।
শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়
আপনারা যদি শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায় মেনে চলতে পারেন। তাহলে আপনাদের
ত্বকের প্রাকৃতিক আদ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। এতে আপনাদের ত্বকের শুষ্কতা,
রক্ষভাবে ও ত্বক ফেটে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমবে। আমাদের ঘরের মধ্যে এমন
কিছু উপাদান থাকে। যা দিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া যাবে। কিন্তু এটা আমরা
অনেকে জানি না। তাই চলেন কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে আপনি আপনার ত্বকের যত্ন
নিবেন, তা জেনে নিন।
ক) নারিকেল তেলঃ শীতের সময় আপনারা ত্বকের শুষ্কভাব কমাতে এবং ত্বককে
নরম ও কোমল রাখতে নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। নারিকেল তেল ব্যবহার করলে
আপনাদের ত্বক নরম ও সুন্দর থাকবে। দুপুরে গোসলের পর বা রাতে ঘুমানোর আগে। অল্প
একটু নারিকেল তেল নিয়ে ত্বকে লাগাবেন। এতে ত্বকের রুক্ষ ভাব কমবে।
খ) এলোভেরার জেলঃ শীতের সময় ত্বকের আদ্রতা এবং ত্বকের শুষ্কভাব কমাতে।
আপনি এলোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। এলোভেরার জেল আপনি যদি মুখে বা আপনার
শরীরের ত্বকে ২০ থেকে ২৫ মিনিট লাগিয়ে রাখেন। তাহলে আপনার
ত্বকের শুষ্কতা দূর হয়ে, ত্বক সতেজ হয়ে উঠবে এবং ত্বক অনেক কোমল ও
সুন্দর থাকবে।
গ) মধু দিয়ে ফেসপ্যাকঃ ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখার জন্য মধু অনেক
উপকারী হতে পারে। কারণ মধু হচ্ছে, প্রাকৃতিক হিউমেকট্যান্ট। তাই মধু যদি
আপনি সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন মুখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখেন। তবে এতে
আপনার মুখের ত্বক নরম হবে এবং মুখ উজ্জ্বল দেখাবে। আর ত্বকের রুক্ষ
ভাব দূর হবে।
ঘ) দুধ ও মধু একসাথেঃ আপনারা শীতের সময় ত্বকের শুষ্কতা দূর
করার জন্য কাঁচা দুধের সাথে অল্প একটু
মধু মিশিয়ে ত্বকে
লাগিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত আপনারা যদি দুধ ও মধু মিশিয়ে
ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন তবে এতে আপনার শুষ্ক ত্বক নরম হবে এবং ত্বক
উজ্জ্বল দেখাবে। কিন্তু ত্বক যদি সংবেদনশীল হয়, তবে অল্প একটু মেখে
পরীক্ষা করতে হবে।
ঙ) বেশি বেশি পানি খাওয়াঃ আপনারা অনেকে জানেন না। যে পানি খেয়েও
ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। শীতের সময় তৃষা কম লাগে। এতে শরীরে পানির চাহিদা কমে
যায়। ফলে শরীর পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ার কারণে ত্বক তার স্বাভাবিক আদ্রতা
ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু শীতকালে যদি আপনি বেশি পানি খেতে পারেন।
তবে ত্বক স্বাভাবিক আদ্রতা ধরে রাখতে পারে। এতে ত্বক সুন্দর ও নরম
থাকে।
চ) ত্বকে লোশন ব্যবহারঃ শীতের সময় হাত পা ফেটে যাওয়ার সমস্যা
দেখা দেয়। এমনকি সব সময় ত্বক শুষ্ক হয়ে থাকে। এই সমস্যা দূর করার জন্য
আপনারা আপনাদের ত্বকের ধরন অনুযায়ী লোশন বা মশ্চেরাইজার ব্যবহার
করতে পারেন। গোসল করার পর অথবা রাতের বেলায়। লোশন আপনার ত্বকে মাখলে
শীতের সময়ও ত্বক নরম ও সুন্দর থাকবে।
ছ) গরম পানি দিয়ে গোসলঃ হালকা গরম কুসুম পানিতে গোসল করার পর দশ
মিনিটের মধ্যে আপনি আপনার ত্বকে ব্যবহার করা লোশন ভালোভাবে মেখে
নিবেন। নিয়মিত এই অভ্যাস গড়ে তুললে শীতকালে আপনি আপনার ত্বকের আদ্রতা
ধরে রাখতে পারবেন এতে ত্বক নরম ও সুন্দর থাকবে।
জ) কলার ফেসপ্যাকঃ কলার সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে ভালোভাবে ত্বকে
মাখালে। আপনার ত্বকের রুক্ষভাব কমবে এবং ত্বক এখান থেকে কিছুটা পুষ্টি
পাবে। পাকা কলাতে ভিটামিন এবং প্রাকৃতিক বেশ কিছু উপাদান থাকে। এগুলো
ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। তাই সপ্তাহে এর থেকে দুই দিন কলা ও মধু একসঙ্গে
মিশিয়ে ত্বকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখবেন।
ঝ) পুষ্টিকর খাবারঃ শীতের সময় আপনারা ত্বকের যত্নে ভালো
পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন। যেসব খাবারে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই সহ
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। সেসব খাবার শীতের সময়
খেলে ত্বক ভেতর থেকে পুষ্টি পাবে। এতে ত্বকের শুষ্কভাব সহ শীতকালে হওয়ার
ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা অনেকটা কমবে এবং ত্বক সুস্থ থাকবে।
শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয় কেন?
শীতকালে অনেকের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। কিন্তু আমরা কি জানি এর কারণ
কি? শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। এর মধ্যে কয়েকটি
কারণ হচ্ছে শীতকালে বাতাসের আদ্রতা অনেক কম থাকে। এতে ত্বকের পানি দ্রুত
বাষ্প হয়ে বেরিয়ে যাই। এমনকি এ সময় ত্বকের প্রাকৃতিক তেল উৎপাদন কিছুটা কমে
যায়।
এই দুই কারণে ত্বকের স্বাভাবিক আদ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয় না এবং আস্তে
আস্তে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। তাছাড়া শীতে ঠান্ডা আবহাওয়ার
পাশাপাশি ঘরের ভেতরে গরম হিটার ব্যবহার করলে। বেশি গরম পানিতে গোসল করলে এবং ঘন
ঘন সাবান মাখলে ত্বকের উপরের চামড়া দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ত্বকের আদ্রতা নষ্ট
হয়ে ত্বক ফেটে যায়।
তারপর শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে ত্বক ফেটে যাওয়া, ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া সহ
ত্বকের আরো অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর
চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়ার কারণেও, ত্বক রুক্ষ ও খসখসে হয়ে পড়ে। কারণ
ভিটামিন ও পুষ্টিকর খাবার না খাওয়ার কারণে। ত্বক প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়
না। ফলে এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়।
তাই শীতকালে ত্বক শুষ্ক হওয়ার ব্যাপারটা স্বাভাবিক হলেও। নিয়মিত যদি আপনারা
বডি লোশন ব্যবহার ও কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করেন। পরিমাণ মতো পানি ও
স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারে। তাহলে ত্বকের এই শুষ্কভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব
হবে। শীতে ত্বকের যত্ন কেন জরুরি এ বিষয়েও উপরে আলোচনা করা হয়েছে, আপনি
চাইলে দেখে আসতে পারেন।
শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়
শীতকালে ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়ার সমস্যা সকলেরই দেখা দেয়। এতে ত্বকের
উজ্জ্বলতা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যেতে পারে। কিন্তু আপনারা চাইলে, এই
সমস্যা কিছুটা হলেও কমাতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাদেরকে বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক
থাকতে হবে এবং নিয়ম মেনে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। কিভাবে আপনারা শীতে ত্বকের
উজ্জ্বলতা ধরে রাখার জন্য ত্বকের যত্ন নিবেন। চলেন কয়েকটি পদ্ধতি
সম্পর্কে জেনে নিন।
মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবেঃ শীতকালে ত্বকের স্বাভাবিক আদ্রতা ধরে রাখার
জন্য। আপনাদের ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি ভালো মানের মশ্চারাইজার ব্যবহার
করতে হবে। এ ময়শ্চেরাইজার গোসল বা মুখ ধোয়ার পাঁচ সাত মিনিট পরে। ত্বকে
ভালোভাবে মেখে নিবেন। এতে আপনাদের ত্বক কোমল থাকবে এবং ত্বক উজ্জ্বল
হবে।
পানি খেতে হবেঃ শীতের সময় শরীরে পানির ঘাটতি হলে। ত্বক ফেটে যাওয়া এবং ত্বকের
উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার মত সমস্যা হয়। তাই এই সময় বেশি বেশি পানি খেতে হবে, যেন
ত্বক তার প্রাকৃতিক আদ্রতা ধরে রাখতে পারে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য যেন ভালো
থাকে। শীতের সময় পরিপূর্ণ পানি খেতে পারলে। ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেট থাকে
এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকে।
নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবেঃ অনেকে মনে করেন শীতে সূর্যের অতিবেগুনি
রশ্মি থাকে না। কিন্তু শীতের কুয়াশা ও মেঘলা আবহাওয়া থাকার পরেও। সূর্যের অতি
বেগুনি রশ্মি ত্বকের উপর পড়ে। এতে ত্বকে কালচে দাগ এবং ত্বকের স্বাভাবিক
উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়। তাই শীতকালে নিয়মিত আপনার ত্বকে একটি ভালো মানের
সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন।
আরো পড়ুনঃ মুখে লেবু দিলে কি ক্ষতি হয়?
মধু ও কাঁচা দুধঃ শীতকালে আপনি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে। সপ্তাহে এক থেকে
দুই দিন কাঁচা দুধ এবং মধু পরিমাণ মতো নিবেন। ভালোভাবে এই দুইটা উপকরণ
মেশানো হলে, তা আপনার ত্বকে ভালোভাবে লাগাবেন। এভাবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট ত্বকে
লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিবেন। এতে আপনার ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর হবে,
ত্বক নরম থাকবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
নারিকেল তেল ও অ্যালোভেরাঃ শীতকালে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে বা
বাড়াতে। আপনারা অ্যালোভেরা নিয়ে, এতে নারিকেল তেল মিক্স
করবেন। তারপর আপনার ত্বকে এই উপকরণ ভালোভাবে লাগিয়ে ২০ মিনিট
রাখবেন। ২০ মিনিট হওয়ার পর হালকা গরম কুসুম পানি দিয়ে ধুয়ে
ফেলবেন। এতে আপনার ত্বকের খসখসে ভাব দূর হবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে
আসবে।
এক্সফোলিয়েশনঃ শীতের সময় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে। সপ্তাহে এক থেকে দুই
দিন এক্সফোলিয়েশন করতে পারেন। এটা যদি সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন
করেন, তবে ত্বকের উপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর হবে। ত্বক পরিষ্কার ও ত্বকের
উজ্জ্বলতা ফুটে উঠবে। কিন্তু এটা আবার অতিরিক্ত করা যাবে না। নয়তো আপনার
ত্বকের উপরের সুরক্ষামূলক স্তর নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
শীতে ত্বকের যত্নে যে ভুলগুলো করা যাবে না
শীতের সময় ত্বক অনেক সেনসিটিভ হয়ে থাকে। এ সময় আপনারা যদি ত্বকের যত্নে কোন
ভুল করেন। তাহলে ত্বকের শুষ্কতা, ত্বকের রুক্ষভাব, ত্বকে চুলকানি সহ ত্বক ফেটে
যাওয়ার মত সমস্যা হতে পারে। এজন্য শীতে ত্বকের যত্নে যে ভুলগুলো করা যাবে না।
এ বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে এখন বেশ কিছু আলোচনা করবো। নিচে এই বিষয়গুলো উল্লেখ
করা হলো,
শীতের সময় বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন না। কারণ বেশি গরম পানিতে গোসল
করলে, ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হতে পারে। এতে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে গিয়ে
ত্বক ফেটে যাওয়ার মত সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া অনেকে গোসলের পর বডিলোশন বা
মশ্চারাইজার ব্যবহার করে না। গোসলের পর অবশ্যই ত্বকে মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে
হবে।
তা না হলে ত্বক, তার আদ্রতা হারিয়ে ফেলতে পারে। ফলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে
পারে। শীতের সময় কম পানি খাওয়া যাবে না। শীতের সময় পানি কম খাওয়া হলে
ত্বক তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করতে পারবেনা। তখন ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে
যেতে পারে। ত্বকে ক্ষারযুক্ত সাবান বেশি মাখবেন না এবং যেসব পণ্য
অ্যালকোহলযুক্ত বা কেমিক্যালযুক্ত এসব পণ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত
থাকবেন।
নয়তো ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অনেকে শীতের সময়
সানস্ক্রিন ব্যবহার করে না। তারা মনে করে শীতের সময় সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি,
ত্বকের কোন ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু এটা ভাবা ভুল, আর এ ভুলের কারণেই ত্বকের
বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই শীতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। শীতের
সময় পুষ্টিকর খাবার বেশি বেশি খাবেন।
যদি আপনাদের ত্বক সংবেদনশীল হয়। তবে যেকোন ক্রিম বা ফেসপ্যাক পরীক্ষা করে
ত্বকে ব্যবহার করবেন। ত্বক যদি অনেকদিন থেকে শুষ্ক থাকে এবং ত্বক ফেটে যদি রক্ত
বের হয়, চুলকানি হয় বা লালচে ভাব দেখা দেয়। তবে আপনারা শুধু ঘরোয়া উপায়ের
উপর নির্ভর করে থাকবেন না। তাড়াতাড়ি একজন চর্মবিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়ে
পরামর্শ নিবেন।
শীতকালে পুরুষ ও নারীর ত্বকের যত্নে পার্থক্য
পুরুষ নারী বলে কথা নেই, শীতকালে উভয়ের ত্বকেই কম বেশি একই ধরনের সমস্যা
দেখা দেয়। যেমন ত্বক খসখসে হওয়া, ত্বকে চুলকানি হওয়া এবং ত্বক ফেটে
যাওয়া। কিন্তু ত্বকের গঠন অনুযায়ী এবং শরীরে হরমোনের প্রভাব ও
দৈনন্দিন জীবনে। বেশ কিছু অভ্যাসের কারণেও ত্বকের যত্নে কিছুটা পার্থক্য
আছে। তাই সবার জন্য একরকম ত্বকের যত্ন কাজ নাও করতে পারে।
১) পুরুষের ত্বকের যত্নঃ পুরুষদের ত্বক নারীদের থেকে শক্ত এবং তেলভাব
বেশি থাকে। কিন্তু শীতকালে ঠান্ডা বাতাসে এবং কম আদ্রতার জন্য এই
ত্বকও খসখসে হয়ে যায়। অনেক পুরুষের নিয়মিত দাঁড়ি কাটার পর,
ত্বকের উপরের সুরক্ষাস্তরে চাপ পড়ে। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব
এবং
খসখসে ভাব দেখা দেয়। তাই শীতকালে পুরুষকে কেমিক্যালমুক্ত মশ্চারাইজার
ব্যবহার করতে হবে। আর বাইরে গেলে ত্বকে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। যদি
দাড়ি থাকে, তবে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং দাড়ির নিচেও
মশ্চারাইজার লাগাতে হবে। তাহলে ত্বকের শুষ্ক ভাব কমবে এবং ত্বক ফেটে
যাওয়ার সমস্যা দূর হবে।
২) মেয়েদের ত্বকের যত্নঃ ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ত্বক পাতলা বেশি
হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি, এদের ত্বক শীতের সময় আদ্রতা হারিয়ে
ফেলে। তাছাড়া শীতের সময় মেকআপ ব্যবহার করলে। তাদের ত্বক আরো শুষ্ক
হয়ে যায়। বিশেষ করে এই সমস্যাগুলো ত্বকের যত্ন না নিলে, বেশি দেখা
দেয়।
শীতের সময় মেয়েদের উচিত ত্বকের ধরন অনুযায়ী মশ্চারাইজার ব্যবহার
করা। এতে ত্বক নরম ও সুন্দর থাকবে। তাছাড়া সপ্তাহে তাদের এক থেকে
দুইবার হাইড্রেটিং ফেসপ্যাক ব্যবহার করা উচিত। আর বাইরে গেলে
সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। তাহলে ত্বকের রুক্ষভাবে কমবে, ত্বক সুন্দর ও
মোলায়েম থাকবে।
নারী পুরুষ উভয়ের ত্বকের যত্ন
শীতের সময় নারী পুরুষ দুজনেরই ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ
সময় যদি আগে থেকে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। তাহলে এইসব সমস্যা অনেকটাই কম
হবে। তাই নারী পুরুষ উভয়ের ত্বকের যত্ন নিতে হলে, শীতের সময় পর্যাপ্ত
পরিমাণে পানি খেতে হবে।
পুষ্টিকর খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। খুব বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল না করে।
হালকা গরম কুসুম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। ক্ষার যুক্ত সাবান বেশি ব্যবহার
করা যাবে না এবং নিয়মিত মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। মশ্চারাইজার ব্যবহার
করতে হবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী।
আর যখন বাইরে বের হবেন, তখন ভালো মানের সানস্ক্রিন কিনে তা,
ত্বকে লাগিয়ে বাইরে বার হবেন। শীতকালে ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য লিঙ্গ
বড় বিষয় নয়। বরং ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন নিলে ত্বক নরম, সুন্দর ও সুস্থ
থাকবে। নারী পুরুষ উভয়েই চাইলে শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়
অবলম্বন করতে পারেন, যা আমি উপরে সুন্দরভাবে জানিয়েছি।
শীতে ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা কিভাবে কাজ করে
অ্যালোভেরা শীতের সময় ত্বকের যত্নে অনেক ব্যবহার করা হয়। অনেকে জানে না
অ্যালোভেরা আসলে ত্বকের জন্য কিভাবে কাজ করে। এলোভেরাতে অনেক প্রাকৃতিক
পানি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান
থাকে। যেগুলো ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে
এবং ত্বকের রুক্ষভাব কমাতে সাহায্য করে। আপনারা যদি শীতের সময়
নিয়মিত এলোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। আপনাদের ত্বক হবে নরম ও
সুন্দর। এলোভেরা ব্যবহার করলে ত্বকের আদ্রতা স্বাভাবিক থাকে এবং
ত্বকের উপরের চামড়া ভালো থাকে। ফলে ত্বকের শুষ্কভাব, টানটান ভাব সহ
ত্বকের চুলকানি কমে। শীতের সময় এলোভেরা ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা
বাড়বে এবং আরাম অনুভূতি পাওয়া যাবে। তবে ত্বক যদি আপনার
সংবেদনশীল হয়। তাহলে অ্যালোভেরা ব্যবহার করার আগে পরীক্ষা করবেন। আর
ত্বকে যদি এলার্জি বা জ্বালাপোড়া হয়। তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।
(FAQ) শীতে ত্বকের যত্ন নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্নঃ শীতকালে ছেলেদের মুখে কি মাখা উচিত?
উত্তরঃ শীতকালে ত্বক ফাটা ও ত্বক শুষ্ক হওয়ার মতো সমস্যা হয়।
তাই শীতকালে ছেলেদের ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো মানের
মশ্চরাইজার বা লোশন ব্যবহার করতে হবে। আর বাইরে বার হলে ভালো
মানের সানস্ক্রিন ত্বকে লাগাতে হবে। আর ত্বক যদি বেশি শুষ্ক থাকে,
তাহলে রাতে এলোভেরার জেল মুখে বা ত্বকে লাগিয়ে মাসাজ করবেন। এতে
ত্বক নরম ও সুন্দর থাকবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
প্রশ্নঃ পুরুষরা কি মহিলাদের মত ত্বকের যত্ন নিতে পারে?
উত্তরঃ পুরুষরা মহিলাদের মতো ত্বকের যত্ন নিতে পারবে। কিন্তু ত্বকের
ধরন অনুযায়ী পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দরকার হবে উপযুক্ত ফেসওয়াশ,
মশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা। কারণ অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের
ত্বকে ব্যবহার করা পণ্যগুলো, পুরুষের ত্বকে কাজ কম করতে পারে। তাই পুরুষের
ত্বকের ধরন অনুযায়ী ত্বকের যত্ন নিতে হবে।
প্রশ্নঃ ত্বকের যত্নে ভুল হলে কিভাবে বুঝবেন?
উত্তরঃ ত্বকের যত্ন নিতে ভুল হলে আপনারা খুব সহজে, তা বুঝতে পারবেন।
এটি বোঝার জন্য কয়েকটি লক্ষণ আপনার ত্বকে দেখা দিবে। যেমন ত্বকশুষ্ক হয়ে
যাবে, ত্বক অনেক তৈলাক্ত হয়ে যাবে, ত্বকে লাল হবে। ত্বকে ব্রণ বের হবে,
এমনকি ত্বক টানটান এবং কালচে হয়ে যেতে পারে। এরকম সমস্যা দেখা দিলে ত্বকের
যত্নে ব্যবহার করা পণ্যগুলো বাদ দিতে হবে এবং চর্মরোগ ডাক্তারের পরামর্শ
নিতে হবে।
প্রশ্নঃ শীতকালে ত্বক ফেটে যায় কেন?
উত্তরঃ শীতকালে আবহাওয়া অনেক ঠান্ডা থাকে। এতে ত্বকের স্বাভাবিক
ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি শরীরে পানির ঘাটতি হয়, তখন ত্বক
শুষ্ক হয়ে ত্বক ফেটে যাওয়ার মত সমস্যা হয়। এছাড়াও শীতকালে বেশি গরম
পানিতে গোসল করলে, ক্ষারযুক্ত সাবান বেশি ব্যবহার করলে, পানি কম খেলে এবং
পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে অবহেলা করলে। ত্বক রুক্ষ হওয়ার পাশাপাশি ত্বক
ফেটে রক্ত বার হওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।
প্রশ্নঃ শীতে ত্বক হাইড্রেট করার উপায়?
উত্তরঃ শীতে ত্বক হাইড্রেট রাখতে হলে। আপনাকে বেশি পানি খেতে
হবে। সেই সাথে হালকা গরম কুসুম পানিতে গোসল করার পাঁচ সাত মিনিটের
মধ্যে। বডি লোশন বা ভালো মানের মশ্চারাইজার ত্বকে মাখতে
হবে। আপনি চাইলে রাতে এলোভেরা জেল ত্বকে দিয়ে মাসাজ করতে
পারেন। এছাড়াও আপনি শীতে পুষ্টিকর খাবার বেশি খাওয়ার চেষ্টা
করবেন, এতে আপনার ত্বক হাইড্রেট থাকবে।
মন্তব্যঃ শীতে ত্বকের যত্ন কেন জরুরি - শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়
শীতে ত্বকের যত্ন কেন জরুরি এই প্রশ্নের উত্তর আশাকরছি উপরের আলোচনা থেকে
আপনারা জানতে পেরেছেন। শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ত্বকের আদ্রতা
হারিয়ে যাওয়া এবং ত্বক ফেটে যাওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ত্বকের
হয়। এ সময় যদি আপনারা ত্বকের সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারেন। তাহলে ত্বকের
এইসব সমস্যা অনেকটা কমে যাবে এবং ত্বক নরম, সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান থাকবে।
অনেকে আছে, যাদের ত্বক শীত আসলে কালচে হয়ে যায়।
তারা শীতের সময় হালকা গরম কুসুম পানিতে গোসল করার পর ভালো মানের
মশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। আর বাইরে বের হলে ত্বকে সানস্ক্রিন লাগাবেন।
আপনারা শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায় চাইলে ব্যবহার করতে
পারেন। শীতে কিভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন, কি কি করতে হবে এসব বিষয়গুলো
পরিষ্কারভাবে জানতে হলে। পুরো আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে
নিবেন। আর ত্বক যদি সংবেদনশীল হয় বা ত্বকের যদি কোন সমস্যা
থাকে। তাহলে একজন চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url