আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম
আজকে আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম, ব্যাটারিতে পানি কমে যাওয়ার
লক্ষণ, ব্যাটারিতে কোন পানি ব্যবহার করতে হয়, পানি বেশি দিলে কি ক্ষতি হতে পারে
এবং কিভাবে ব্যাটারি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে এসব বিষয় জানানো হবে।
তাই আপনাদের যাদের আইপিএস ব্যাটারি আছে, কিভাবে এই ব্যাটারি যত্ন নিবেন, ব্যাটারি
গরম হলে করণীয় কি এসব বিষয়ে জানতে চাইলে। আজকের আর্টিকেল আপনার জন্য অনেক
গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই মনোযোগ সহকারে পুরো আলোচনা পড়ার চেষ্টা করবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম
- আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম
- আইপিএস ব্যাটারিতে পানি কমে যাওয়ার লক্ষণ কি?
- আইপিএস ব্যাটারিতে কোন পানি ব্যবহার করা হয়?
- বেশি পানি দিলে আইপিএস ব্যাটারির কী ক্ষতি হতে পারে
- আইপিএস এর ব্যাটারি গরম হয় কেন
- আইপিএস এর ব্যাটারি গরম হলে করণীয় কি
- ব্যাটারির পানি কতদিন পর পর পরীক্ষা করা প্রয়োজন
- আইপিএস ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর কার্যকরী কিছু টিপস
- আইপিএস ব্যাটারিতে মিনারেল পানি দেওয়া যাবে?
- (FAQ) আলোচিত কিছু সাধারণ প্রশ্নোত্তর
- মন্তব্যঃ আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম
আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম
ব্যাটারির ব্যাকআপ এবং আয়ু দীর্ঘদিন বাড়ানোর জন্য আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি
দেওয়ার সঠিক নিয়ম আমাদেরকে জানতে হবে। ব্যাটারীতে সঠিক সময় সঠিক পরিমাণ পানি
ব্যবহার না করলে। আস্তে আস্তে ব্যাটারির ব্যাকআপ কমে যাবে এবং দীর্ঘদিন এরকম চলতে
থাকলে ব্যাটারি খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে।
আরো পড়ুনঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা অসুবিধা
আইপিএস ব্যাটারির ভিতরে ইলেকট্রোলাইট হিসেবে, সালফিউরিক এসিড ও ডিস্টিলড পানির
একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ থাকে। ব্যাটারি যখন চার্জ হয় বা ডিসচার্জ হয়, তখন এই
পানি আস্তে আস্তে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। এ কারণেই মাঝেমধ্যে ব্যাটারির পানি
পরীক্ষা করে ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। আইপিএস এর ব্যাটারীতে যদি
পানি কমে যায়,
তবে ব্যাটারীতে পানি দেওয়ার আগে, আপনি আইপিএস বন্ধ করে নিবেন। এরপর বিদ্যুতের
সংযোগ থাকলে তা, বিচ্ছিন্ন করে ব্যাটারির উপরের ক্যাপ খুলবেন। ভেতরে দেখতে পাবেন
প্রতিটি সেলের ভেতরে মিনিমাম ও ম্যাক্সিমাম লেভেলের চিহ্ন থাকবে। যদি পানি
মিনিমাম লাইনের নিচে নেমে যায়, তাহলে আপনাকে পানি দিতে হবে।
পানি দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, পানি যেন ম্যাক্সিমাম লেভেলের উপরে না যায়।
কারণ অতিরিক্ত পানি দিলে চার্জ হওয়ার সময় ব্যাটারির পানি এবং এসিড বাইরে বের
হয়ে ব্যাটারির ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও কম পানি থাকলে ব্যাটারির প্লেট শুকিয়ে
গিয়ে স্থায়ী ক্ষতি হবে। ব্যাটারিতে পানি কমে গেলে যাই তাই পানি ব্যবহার করলে
হবে না।
ব্যাটারিতে ডিস্টিলড পানি ব্যবহার করতে হবে। ব্যাটারিতে পানি ব্যবহার করবেন, তখন
পরিষ্কার ফানেল বা প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করবেন। যেন ব্যাটারিতে কোন ময়লা বা
ধুলাবালি না যায়। সঠিক পরিমাণে ব্যাটারিতে পানি দেওয়া হয়ে গেলে, ব্যাটারির
ক্যাপগুলো ভালোভাবে বন্ধ করে ব্যাটারির বাইরের অংশ পরিষ্কার করে নিবেন। অনেকেই
ব্যাটারীতে এসিড দেয় কিন্তু এটা ভুল।
কারণ ব্যাটারিতে এসিড কমে না বরং পানির পরিমাণ কমে। তাই ব্যাটারিতে কেবলমাত্র
ডিস্টিলড পানি দিতে হবে। আপনারা যদি এভাবে আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার
নিয়ম মেনে চলতে পারেন। তবে ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক দিন ভালো
থাকবে, ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হওয়ার সম্ভাবনা কমবে এবং দীর্ঘদিন ব্যাটারির আইয়ু
বাড়বে।
সতর্কতাঃ আইপিএস ব্যাটারি চার্জ অবস্থায় বা চার্জ শেষ হওয়ার পর গরম
অবস্থাতে পানি দিবেন না। মাসে কম করে হলেও একবার ব্যাটারির পানি লেভেল চেক
করবেন। গরমকালে বেশি বেশি পানির লেভেল চেক করতে হবে। ব্যাটারীতে যখন পানি দিবেন
হাতে গ্লাভস পড়বেন। যেন ব্যাটারির পানি বা অ্যাসিড ত্বকে না লাগে এবং জামা
কাপড়ে না লাগে।
আইপিএস ব্যাটারিতে পানি কমে যাওয়ার লক্ষণ কি?
আইপিএস ব্যাটারীতে পানি কমে যাওয়ার লক্ষণ আমাদের প্রত্যেকেরও জানা উচিত। কারণ
এই লক্ষণ যদি আমরা না জানি বা বুঝতে না পারি। তাহলে ব্যাটারির ভেতরের লিড প্লেট
ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আইপিএস ব্যাটারীতে পানি আস্তে
আস্তে কমে যাওয়ার ব্যাপার স্বাভাবিক।
কিন্তু এটা সময়মতো শনাক্ত না করতে পারলে সমস্যা হবে। আইপিএস ব্যাটারীতে পানি
কমে যাওয়ার প্রধান লক্ষণ হচ্ছে, ব্যাটারি ব্যাকআপের সময় আগের থেকে অনেক কমে
যাওয়া। যদি দেখেন ব্যাটারি আগের তুলনায় কম ব্যাকআপ দিচ্ছে এবং ব্যাটারি চার্জ
হতে বেশি সময় নিচ্ছে,
তাহলে বুঝবেন ব্যাটারীতে পানি কমে গেছে। অনেক সময় ব্যাটারি চার্জ হওয়ার সময়
অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। কারণ ব্যাটারিতে পানি কমে গেলে ইলেকট্রোলাইটের
কার্যকারিতা কমে যায়। এতে ব্যাটারির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। যদি দেখেন
ব্যাটারির গায়ে অস্বাভাবিক গরম, তাহলে বুঝতে হবে ব্যাটারীতে পানি কম।
আরো কয়েকটি লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন ব্যাটারিতে পানি কমে
গেছে। যেমন, ব্যাটারির ক্যাপ খুলে যদি দেখেন মিনিমাম লেভেলের নিচে পানি, তাহলে
বুঝতে হবে পানি কম। তখন দ্রুত ডিস্টিলড পানি দিতে হবে। আরও লক্ষণ হচ্ছে
চার্জিংয়ের সময় অস্বাভাবিক গ্যাস বা বুদবুদ তৈরি সহ দুর্গন্ধ হওয়া।
যদিও চার্জিং অবস্থায় অল্প একটু গ্যাস হওয়ার স্বাভাবিক কিন্তু অতিরিক্ত হলে
ব্যাটারি পরীক্ষা করতে হবে। অনেক সময় আইপিএসের ওয়াটার লেভেলের জন্য ইন্টিকেটর
থাকে। যদি অস্বাভাবিকভাবে লাইট বা ইন্টিকেটর জলতে থাকে বা সংকেত দিতে থাকে।
তাহলে দেরি না করে দ্রুত ব্যাটারির পানি চেক করা ভালো।
আইপিএস ব্যাটারিতে কোন পানি ব্যবহার করা হয়?
আইপিএস ব্যাটারীতে সব সময় ডিস্টিলড পানি ব্যবহার করা উচিত। অনেক মানুষ আছে
যারা টিউবলের বা ফিল্টারের পানি ব্যাটারিতে ব্যবহার করে যা মোটেও উচিত না। এই
পানি ব্যবহার করলে ব্যাটারি ক্ষতি হতে পারে। কারণ এসব পানিতে বিভিন্ন ধরনের
খনিজ পদার্থ লবণ এবং ধাতব কণা থাকে যা ব্যাটারীতে জমে ব্যাটারির মধ্যে
রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাতে পারে।
আপনারা আইপিএস ব্যাটারিতে যদি ডিস্টিলড পানি ব্যবহার করেন। তবে ব্যাটারির
ভেতরের রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।
কারণ এই
পানি সম্পূর্ণ
বিশুদ্ধ। বর্তমান সময়ে ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক কিংবা সুপার শপে গেলে সহজেই
ডিস্টিলড পানি পেয়ে যাবেন। যখন পানি কিনবেন পানির বোতলে Distilled Water বা
Battery Water লেখা আছে কিনা চেক করবেন।
অনেকে জন আইপিএস ব্যাটারীতে RO পানি বা ফিল্টার পানি ব্যবহারের কথা ভাবেন।
যদিও এই পানি পরিষ্কার তার পরেও ডিস্টিলড পানির মতো হবে না। কারণ ফিল্টার
পানিতেও কিছু দ্রবীভূত খনিজ পদার্থ থাকার সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া গ্রাম অঞ্চলে
অনেকেই আছে যারা ব্যাটারীতে মিনারেল ওয়াটার, বৃষ্টির, পানি ফুটানো পানি
কিংবা পুকুরের পানি ব্যবহার করে।
এগুলা কখনোই আপনারা আইপিএস ব্যাটারিতে ব্যবহার করবেন না। কারণ এইসব পানি
আপনার ব্যাটারির ভেতরে সালফেশন, ক্ষয় এবং রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে
পারে। এজন্য সব সময় আপনারা আইপিএস ব্যাটারীতে মানসম্মত ডিস্টিলড পানি
ব্যবহার করবেন এবং অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন।
সতর্কতাঃ বাজারে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী আছে, যারা সাধারণ পানিকে বোতলে
ঢুকিয়ে রাখে এবং সে পানিকে ডিস্টিলড পানি বলে বিক্রি করে। তাই
ব্যাটারির জন্য পানি কেনার সময় পরিচিত দোকান থেকে কেনার চেষ্টা
করবেন। এতে নকল পানি কেনার ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকবে।
বেশি পানি দিলে আইপিএস ব্যাটারির কী ক্ষতি হতে পারে
অনেকের অসতর্কতা ও ভুল ধারণার কারণে মনে করেন বেশি পানি দিলে ব্যাটারি ভালো
থাকবে কিন্তু বাস্তবে এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ব্যাটারিতে পরিমাণের চেয়ে
বেশি পানি দিলে ব্যাটারির অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে
এভাবে চলতে থাকলে ও ব্যাটারির আয়ু কমে গিয়ে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যেতে
পারে। চলেন বেশি পানি দিলে আইপিএস ব্যাটারির কি ক্ষতি হতে পারে তা জেনে
নিন।
প্রথম ক্ষতিঃ যদি ব্যাটারিতে অতিরিক্ত পানি দেওয়া হয়, তবে চার্জিংয়ের
সময় ব্যাটারির পানি বা ইলেকট্রোলাইট ফুলে ওঠে ব্যাটারির মুখ দিয়ে বাইরে
বেরিয়ে আসতে পারে। এর ফলে ব্যাটারির গায়ে এসিড জমে গিয়ে ক্ষয় হয় এবং
টার্মিনালের সাদা বা সবুজ রঙের স্তর জমে যেতে পারে।
দ্বিতীয় ক্ষতিঃ ইলেকট্রোলাইটের ঘনত্ব কমে গিয়ে ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার
ক্ষমতা কমে যাবে। এতে কারেন্ট চলে গেলে আগের মতো আর অনেক সময় ধরে ব্যাটারি
ব্যাকআপ পাওয়া যাবে না।
তৃতীয় ক্ষতিঃ ব্যাটারীতে বেশি পানি দিলে ব্যাটারির ভেতরে চাপ বাড়তে পারে
কিছু কিছু ক্ষেত্রে এতে সেল এর কার্যকারিতা কমে গিয়ে বারবার চার্জ বা
ডিসচার্জ এর সময় ব্যাটারি অনেক গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চতুর্থ ক্ষতিঃ ব্যাটারীতে বেশি পানি দিলে চার্জ হওয়ার সময় ব্যাটারির
ভেতরের পানি উপচে পড়ে এতে ব্যাটারির সংযোগস্থলে বা তারে মরিচা পড়ার ঝুঁকি
তৈরি হয় সময় মত পরিষ্কার না করলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
আশাকরছি আইপিএস ব্যাটারিতে বেশি পানি দিলে কি ক্ষতি হয় জানতে পেরেছেন।
এজন্য আপনারা ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সময় ব্যাটারির ভেতরে ম্যাক্সিমাম ও
মিনিমাম লেভেল দেখে। ম্যাক্সিমাম লেভেল এর মধ্যে পানি রাখার চেষ্টা করবেন।
খুব বেশি পানি দিলেও সমস্যা আবার খুব কম পানি দিলেও সমস্যা। এজন্য লেবেলের
মধ্যে পানি রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।
আইপিএস এর ব্যাটারি গরম হয় কেন
চার্জ হওয়া অবস্থায় যদি ব্যাটারি গরম হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এটা
স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাটারি যদি অতিরিক্ত গরম হয়, তাহলে ব্যাটারির সমস্যা
থাকতে পারে। ব্যাটারি গরম হওয়ার প্রধান কারণ ধরা হয় ব্যাটারীতে পানির পরিমাণ
কমে যাওয়া। কারণ ব্যাটারিতে যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি থাকে না,
তখন ব্যাটারির সেলে রাসায়নিক বিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম করতে পারে না
এবং অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়। তাছাড়া অনেক সময় ধরে আইপিএস এর ব্যাটারি চার্জ
করা হলে ভেতরে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হয়ে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এই সমস্যা বেশি
নিম্নমানের চার্জার বা নিম্নমানের আইপিএস হওয়ার কারণে হয়।
আইপিএস এর ব্যাটারি আরও একটি কারণে গরম হয় তা, হচ্ছে অতিরিক্ত লোড। হঠাৎ
আইপিএস এর ক্ষমতার চেয়ে, বেশি বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করলে ব্যাটারি
অতিরিক্ত গরম হতে পারে। এতে ব্যাটারির আয়ুও অনেকটা কমে যায়। অনেক সময়
ব্যাটারি টার্মিনাল ঢিলা বা মরিচা যুক্ত হলেও ব্যাটারি গরম হওয়ার সমস্যা দেখা
দেয়।
আরো পড়ুনঃ চ্যাট জিপিটি কিভাবে ব্যবহার করবো
এজন্য ব্যাটারি এমন স্থানে রাখার চেষ্টা করবেন, যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল
করে। সরাসরি রোদে, রান্না ঘরে বা বন্ধ ঘরে ব্যাটারি রাখবেন না। নয়তো ব্যাটারি
আরো গরম হয়ে যেতে পারে। এজন্য আইপিএস এর ব্যাটারি গরম হওয়া থেকে বাঁচাতে
নিয়মিত যত্ন নেওয়া উচিত।
আইপিএস এর ব্যাটারি গরম হলে করণীয় কি
আপনার আইপিএস এর ব্যাটারি যদি অতিরিক্ত গরম হয়। তবে টেনশন না করে প্রথমে
আপনি ব্যাটারি গরম হওয়ার কারণ খুঁজে বার করার চেষ্টা করবেন। আর এ সময়
ব্যাটারির ব্যবহার বন্ধ রাখবেন। কারণ অতিরিক্ত গরম অবস্থায় ব্যাটারি ব্যবহার
করতে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
প্রথমে আপনারা আইপিএস বন্ধ করে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবেন। এরপর
কিছুক্ষন ব্যাটারি ঠান্ডা হতে দিবেন। ভুল করেও গরম অবস্থাতে ব্যাটারির ক্যাপ
খুলবেন না। ব্যাটারি ঠান্ডা হয়ে গেলে ব্যাটারির ক্যাপ খুলবেন এবং ব্যাটারির
প্রতিটি সেলের পানির পরিমাণ পরীক্ষা করবেন। যদি পানির লেভেল কম থাকে,
তবে ব্যাটারিতে পরিমাণ মতো পানি দিবেন। ম্যাক্সিমাম লেভেল এর উপরে অর্থাৎ
অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। এরপর ব্যাটারির টার্মিনালে মরিচা বা সাদা
আস্তরণ যদি জমে থাকে পরিষ্কার করবেন। সংযোগ ঢিলা থাকলে ভালোভাবে শক্ত করে
লাগাবেন। আর যদি দেখেন আইপিএস বারবার ওভারলোড হচ্ছে,
তাহলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ খুলে দেবেন। চেষ্টা করবেন আইপিএসের
ধারণক্ষমতা যতোটুকু ততটুকু লোড ব্যবহার করার। যদি আপনার ব্যাটারি দীর্ঘদিন
ব্যবহার করার কারণে দুর্বল হয়ে যাই বা বারবার গরম হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
তাহলে একজন অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিবেন। প্রয়োজন পড়লে
ব্যাটারি পরিবর্তন করে নিবেন।
ব্যাটারির পানি কতদিন পর পর পরীক্ষা করা প্রয়োজন
আমাদের কমবেশি অনেকেরই একটি বদ অভ্যাস আছে। আর তা হচ্ছে, যতক্ষণ সমস্যা না
হয়। ততক্ষণ আমরা কোন জিনিসের যত্ন নি না। যেমন ধরেন আইপিএস এর ব্যাটারি
দীর্ঘদিন ব্যবহার করার জন্য নিয়মিত পানির লেভেল পরীক্ষা করা উচিত।
সাধারণভাবে এক দুই মাস পর পর ব্যাটারির পানির লেভেল পরীক্ষা করার পরামর্শ
অভিজ্ঞরা দিয়ে থাকে।
কিন্তু আবহাওয়া এবং এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং সহ বেশ কিছু বিষয়ের উপর ভিত্তি
করে ব্যাটারির পানির লেভেল পরীক্ষা করা উচিত। ধরেন যেসব এলাকায় লোডশেডিং
বেশি হয় এবং ব্যাটারি বেশি ব্যবহার করা হয়। সেসব এলাকার ব্যাটারিতে
কতটুকু পানি আছে তা, মাসে অন্তত একবার পরীক্ষা করা উচিত। তারপর গরমকালে
ব্যাটারির পানি তুলনামূলকভাবে দ্রুত কমে যায়।
তাই গরমকালেও ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা উচিত। পানি পরীক্ষা করার সময়
প্রতিটি সেলে পানির লেভেল আলাদাভাবে চেক করবেন। কোনো সেলে পানি কম থাকলে,
শুধুমাত্র সেই সেলে পানি পরিমাণ মতো দিবেন। আপনারা যদি আইপিএস এর
ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম ঠিকভাবে মেনে চলেন। তাহলে ব্যাটারি দীর্ঘদিন
ভালো থাকবে এবং ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।
আইপিএস ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর কার্যকরী কিছু টিপস
আপনারা যদি ভালো মানের বা ভালো কোম্পানির একটি আইপিএস ব্যাটারি কিনেন এবং
তা ব্যবহার করেন। তবে সাধারণত এই ব্যাটারি ৩ থেকে ৫ বছর ভালোভাবে ব্যবহার
করা যাবে। কিন্তু আপনারা যদি এই ব্যাটারির সঠিক যত্ন নিতে পারেন। তাহলে
এর চেয়েও বেশি সময় ব্যবহার করা যাবে।
আপনাদের যদি আইপিএস ব্যাটারি থাকে। তবে এই ব্যাটারির আইয়ু বাড়ানোর জন্য
আপনারা নিয়মিত ব্যাটারির পানির লেভেল চেক করবেন। যদি পানি কম থাকে
পরিমাণ মতো ডিস্টিলড পানি দিবেন। আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক
নিয়ম সব সময় মেনে চলবেন। ব্যাটারির ধারণক্ষমতার বেশি লোড দিবেন না।
ব্যাটারি সব সময় পরিষ্কার এবং শুকনো স্থানে রাখবেন। ব্যাটারী টার্মিনালে
মরিচা জমলে ভালোভাবে শুকনো কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করবেন। বন্ধ ঘরে,
রান্নাঘরে বা গরম স্থানে ব্যাটারি রাখবেন না। যে ঠান্ডা বাতাস চলাচল করে,
রোদ লাগবেনা এমন জায়গায় ব্যাটারি রাখবেন। ব্যাটারি কখনোই
দীর্ঘদিন বন্ধ ফেলে রাখবেন না। যদি ব্যবহার নাই থাকে,
তারপরেও নির্দিষ্ট সময়ে আপনারা ব্যাটারি চার্জ দিবেন।
নয়তো ব্যাটারির পাওয়ার বসে গিয়ে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
অবশ্যই কোম্পানির নির্ধারিত চার্জার ব্যবহার করবেন। বাজারে নিম্নমানের
চার্জার বা আইপিএস ব্যবহার করবেন না। সব থেকে ভালো হয় বছরে একবার ভালো
টেকনিশিয়ান দিয়ে ব্যাটারি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ব্যাটারির আয়ু কমে নিয়মিত পানির
লেভেল চেক না করলে। তাই আপনারা মাসে অন্তত একবার পানির লেভেল চেক করবেন।
এভাবে যদি আপনারা একটু সতর্ক হয়ে নিয়মিত ব্যাটারি যত্ন নেন তবে
অনায়াসে অনেক বছর ব্যাটারী ভালো থাকবে এবং ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া
যাবে।
আইপিএস ব্যাটারিতে মিনারেল পানি দেওয়া যাবে?
অনেকে প্রশ্ন করেছেন যে আইপিএস ব্যাটারিতে মিনারেল পানি দেওয়া যাবে
কিনা। এই প্রশ্ন বেশিরভাগ মানুষ করেন। কারণ তারা মনে করেন মিনারেল পানি
বিশুদ্ধ। কিন্তু এখানে একটি বিষয় আছে, মিনারেল পানি বিশুদ্ধ হলেও, এটা
ব্যাটারির জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ মিনারেল পানিতে অনেক ধরনের খনিজ পদার্থ
থাকে।
এই খনিজ পদার্থগুলো মানুষের শরীর অর্থাৎ আমাদের শরীরের জন্য উপকারী।
কিন্তু ব্যাটারির জন্য এগুলো ক্ষতিকর। তাই আপনার আইপিএস ব্যাটারিতে কখনোই
মিনারেল পানি ব্যবহার করবেন না। সব সময় আপনারা ব্যাটারিতে ডিস্টিলড পানি
ব্যবহার করবেন। এতে আপনার ব্যাটারির ভেতরের সেল ভালো থাকবে ও
ব্যাটারির আয়ু বাড়বে।
(FAQ) আলোচিত কিছু সাধারণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্নঃ আইপিএস এর ব্যাটারির পানির দাম?
উত্তরঃ আমাদের দেশে স্থান অনুযায়ী আইপিএস ব্যাটারীতে ব্যবহার করা
ডিস্টিলড পানির দাম ৩০ টাকা থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। এই
টাকার মধ্যে আপনি এক থেকে ৫ লিটার ডিস্টিলড পানি পানি পেতে পারেন।
প্রশ্নঃ বৃষ্টির পানি কি ব্যাটারীতে দেওয়া যায়?
উত্তরঃ কখনোই অপরিষ্কার বা সাধারণ পানি ব্যাটারিতে দেওয়া উচিত
নয়। অনেকে মনে করেন বৃষ্টির পানি ব্যাটারিতে দেওয়া যাবে। কিন্তু
বৃষ্টির পানি পরিষ্কার মনে হলেও, এতে বিভিন্ন ধরনের ধুলাবালি, খনিজ ও
রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। তাই বৃষ্টির পানি ব্যাটারিতে ব্যবহার করা
উচিত করা হবে না। সব সময় ব্যাটারীতে ডিস্টিলড পানি ব্যবহার করবেন।
প্রশ্নঃ ব্যাটারির জল কিভাবে তৈরি হয়?
উত্তরঃ ব্যাটারির জল মেশিনের মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়াতে
destillation করে তৈরি করা হয়। যে কারণে পানির ভেতরে থাকা ধুলাবালি,
খনিজ পদার্থ, লবণ সহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ আলাদা হয়ে যায়। যার
কারণে এই পানি ব্যাটারিতে ব্যবহার করা নিরাপদ হয়।
প্রশ্নঃ ব্যাটারিতে কি এসিড ব্যবহার করা হয়?
উত্তরঃ ব্যাটারীতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয়ে
থাকে। ব্যাটারিতে সাধারণত নতুনভাবে এসিড যুক্ত করতে হয় না।
শুধুমাত্র নিয়ম মেনে ডিস্টিলড পানি দিলেই হবে। তবে
ব্যাটারিতে এসিডজনিত কোন সমস্যা হলে, ভালো টেকনিশিয়ান দেখানো উচিত
হবে।
আরো পড়ুনঃ দ্রুত ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায়
প্রশ্নঃ কোন ব্যাটারিতে পানি দিতে হয় না?
উত্তরঃ যেসব ব্যাটারি মেনটেনেন্স ফ্রি অর্থাৎ যেসব ব্যাটারি শিলড করা
থাকে। এসব ব্যাটারীতে পানি দিতে হয় না। তাই আপনার আইপিএস এর
ব্যাটারিতে পানি দিতে হবে কি? জানার জন্য আপনার ব্যাটারির গায়ে
মেনটেনেন্স ফ্রি লেখা আছে কিনা চেক করবেন। অথবা বুঝতে না পারলে যারা
বুঝে বা জানে, তাদের সাহায্য নিবেন।
মন্তব্যঃ আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম
আইপিএস থেকে কি রকম ব্যাটারি ব্যাকআপ নিবেন। এটা অনেক বেশি নির্ভর
করে ব্যাটারির সঠিক যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের উপর। এজন্য যাদের আইপিএস
আছে, তাদের সকলের আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার নিয়ম জানা ও
নিয়ম মেনে ব্যাটারির যত্ন নেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা যদি সঠিক
সময়ে ডিস্টিলড পানি ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময় পরপর পানির লেভেল পরীক্ষা
সহ
ব্যাটারি পরিষ্কার ও ঠান্ডা জায়গায় রেখে যত্ন নিতে পারেন। তাহলে
সহজেই আইপিএস ব্যাটারির আয়ু কয়েক বছর বেশি বাড়বে। আশাকরি আজকের এই
আলোচনাতে আপনারা আইপিএস ব্যাটারিতে পানি কমে যাওয়ার লক্ষণ, ব্যাটারীতে
কোন পানি ব্যবহার করতে হবে, বেশি পানি দিলে কি ক্ষতি হতে পারে, আইপিএস
ব্যাটারি গরম হয় কেন এবং গরম হলে করণীয় কি ইত্যাদি বিষয়ে জানতে
পেরেছেন।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url