বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ২০২৬ আপডেট তালিকা

আপনারা যারা বরিশাল থেকে ঢাকা লঞ্চে করে যান। তাদের নিশ্চিন্তে লঞ্চে ঢাকা যাওয়ার জন্য আগে বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ২০২৬ জানা লাগবে। আপনারা যেন নিশ্চিন্তে আপনাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। এজন্য এখন আমি আপনাদেরকে এই লঞ্চগুলোর সময়সূচী জানাবো।

আজকে এই পুরো আলোচনা থেকে আপনারা বরিশাল থেকে ঢাকা লঞ্চে যেতে লঞ্চের ভাড়া কত, লঞ্চগুলোর যোগাযোগ নাম্বার এবং লঞ্চে করে বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে কত সময় লাগবে, তা জানানো হবে। তাই আপনারা যারা বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে চাচ্ছেন। তারা আজকে এই লঞ্চগুলোর 2026 সালের আপডেট তথ্য ভালোভাবে দেখে নিবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ২০২৬

  • বরিশাল টু ঢাকা যেসব লঞ্চ চলাচল করে
  • বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ২০২৬
  • বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ ভাড়া ২০২৬
  • বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ বুকিং ও যোগাযোগ নাম্বার
  • বরিশাল টু ঢাকা কত কিলোমিটার
  • বরিশাল থেকে ঢাকা লঞ্চে যেতে কত সময় লাগে
  • বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া লঞ্চগুলোর পরিবেশ কেমন
  • লঞ্চ ভ্রমণ করার আগে যা করতে হবে
  • লঞ্চে যাওয়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
  • FAQ/সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর
  • শেষ কথাঃ বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ২০২৬

বরিশাল টু ঢাকা যেসব লঞ্চ চলাচল করে

আপনারা জেনে খুশি হবেন। কারণ বরিশাল থেকে ঢাকা এখন প্রতিদিন অনেকগুলো লঞ্চ চলাচল করছে। এই লঞ্চগুলো দিনের বিভিন্ন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে। যার কারণে যাত্রীরা যেকোনো সময় এই লঞ্চগুলোতে বরিশাল যেতে পারে। কিন্তু যাত্রা সহজ করার জন্য এবং সঠিক লঞ্চে যাওয়ার জন্য। আপনাদেরকে আগে বরিশাল থেকে ঢাকা চলাচল করা লঞ্চগুলোর তালিকা জানতে হবে।
বরিশাল থেকে ঢাকা কোন কোন লঞ্চগুলো যাই। এগুলো আগে থেকে জানলে আপনারা নিশ্চিন্তে ঝামেলা মুক্তভাবে, এই লঞ্চগুলোতে করে বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে পারবেন। আপনাদের সুবিধার জন্য তাই আমি ২০২৬ সালে যেসব লঞ্চ চলাচল করছে, তার তালিকা দিবো। তাই দেরি না করে চলেন এই নদীপথে কোন লঞ্চ গুলো চলে তার নামগুলো দেখে নিই।

বরিশাল থেকে ঢাকা চলাচল করা লঞ্চের তালিকা
সিরিয়াল নাম্বার চলাচল করা লঞ্চের তালিকা
এম.ভি পারাবত ২
এম.ভি পারাবত ৭
এম.ভি পারাবত ৯
এম.ভি পারাবত ১১
এম.ভি সুন্দরবন ৭
এম.ভি সুন্দরবন ৮
এম.ভি কামাল খান ১
এম.ভি সুরভি ৭
এম.ভি সুরভী ৮
১০ মানামী
১১ সুন্দরবন ১৬
১২ সুন্দরবন ১৫
১৩ এম.ভি পারাবত ১৮
১৪ এম.ভি পারাবত ১২
১৫ অ্যাডভেঞ্চার ৯
১৬ কুয়াকাটা ২
১৭ কীর্তনখোলা ১০
১৮ প্রিন্স আওলাদ ১০
১৯ শুভরাজ ৯

বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ২০২৬

আপনারা যারা বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ২০২৬ জানতে চাচ্ছেন। তারা নিচের তথ্যগুলো ভালোভাবে দেখে নিবেন। এই তথ্যগুলো লঞ্চে যাওয়ার আগে আপনারা যদি দেখে নেন। তবে হুট করে লঞ্চঘাটে গিয়ে লঞ্চ ছুটে যাওয়ার সমস্যা হবে না।

অনেকেই আছে যারা আগে থেকে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া লঞ্চগুলো কোন সময় ছাড়ে তা জানে না। আর এ না জানার কারণে তাদেরকে ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়। অনেক সময় এমনও হয় যে যাত্রীরা সঠিক সময় না জানার কারণে লঞ্চ ছুটে যায়।

যার কারণে তাদের গন্তব্যে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে যায়। আপনারা যেন সঠিক সময় এই লঞ্চগুলো ধরতে পারেন এবং নিশ্চিন্তে যেন আপনারা বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে পারেন। তার জন্য আমি আপনাদেরকে এখন বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া লঞ্চগুলোর সময়সূচী জানাবো। তাই দেরি না করে নিচে এই সময়সূচির তথ্যগুলো জেনে আসি।

বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া সকল লঞ্চের আপডেট সময়সূচী ২০২৬
সিরিয়াল নাম্বার লঞ্চের নাম বরিশাল থেকে লঞ্চ ছাড়ার সময়
এম.ভি পারাবত ২ রাত ৮ঃ১৫ মিনিট
এম.ভি পারাবত ৭ রাত ৮ঃ৩০ মিনিট
এম.ভি পারাবত ৯ রাত ৮ঃ৪৫ মিনিট
এম.ভি পারাবত ১১ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
এম.ভি সুন্দরবন ৭ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
এম.ভি সুন্দরবন ৮ রাত ৮ঃ৩০ মিনিট
এম.ভি কামাল খান ১ রাত ৮ঃ৪৫ মিনিট
এম.ভি সুরভি ৭ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
এম.ভি সুরভী ৮ রাত ৮ঃ৪৫ মিনিট
১০ মানামী রাত ৮ঃ৪৫ মিনিট
১১ সুন্দরবন ১৬ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
১২ সুন্দরবন ১৫ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
১৩ এম.ভি পারাবত ১৮ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
১৪ এম.ভি পারাবত ১২ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
১৫ অ্যাডভেঞ্চার ৯ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
১৬ কুয়াকাটা ২ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
১৭ কীর্তনখোলা ১০ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
১৮ প্রিন্স আওলাদ ১০ রাত ৯ঃ০০ মিনিট
১৯ শুভরাজ ৯ রাত ৯ঃ০০ মিনিট

বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ ভাড়া ২০২৬

আপনারা যারা বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া লঞ্চগুলোর ভাড়া কত তা জানেন না। তারা এখানকার এই আলোচনাটি পড়ে নিতে পারেন। কারণ এই পয়েন্টে এখন বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া লঞ্চগুলোর কোন চেয়ারের ভাড়া কেমন, তা আপনাদেরকে জানানো হবে। আপনারা অনেকেই আছেন যারা শুধু এই লঞ্চগুলোর ডেকের ভাড়া জানেন।

কিন্তু অনেকেই এই লঞ্চগুলোর কেবিন, সোফা, সিঙ্গেল কেবিন, ডাবল কেবিন, ফ্যামিলি কেবিন ও ভিআইপি কেবিনগুলোর ভাড়া কত তা জানেন না। আপনারা যেন আরামে এই লঞ্চগুলোতে যেতে পারেন। এ জন্য আপনাদেরকে আগে বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে। আর বাজেট পরিকল্পনা করার জন্য।

আপনাদের জানা লাগবে এই লঞ্চগুলোর কোন চেয়ারের ভাড়া কেমন। আপনারা আগে থেকে এই ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারলে। আপনারা তখন এই লঞ্চগুলোর কোন সিট নিবেন তা নির্ধারণ করতে পারবেন এবং আরামে তখন গন্তব্যে যেতে পারবে। এ জন্য নিচে আপনাদেরকে এই লঞ্চগুলোর ভাড়ার তালিকা বলা হলো।

বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া লঞ্চগুলোর ভাড়ার তালিকা
সিরিয়াল নাম্বার সিটের নাম সিটের ভাড়া
ডেক ৩০০ টাকা
সোফা ৫০০/৬০০ টাকা
সিঙ্গেল কেবিন ১০০০ টাকা
ডাবল কেবিন ২০০০ টাকা
ফ্যামিলি কেবিন ২৫০০ টাকা
সেমি ভিআইপি কেবিন ৩০০০ টাকা
ভিআইপি কেবিন ৫০০০ টাকা

বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ বুকিং ও যোগাযোগ নাম্বার

আপনারা যারা বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার আগে লঞ্চের বুকিং করতে চান বা লঞ্চ সম্পর্কে কোন তথ্য জানতে চান। তাহলে আপনাদের দরকার হবে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া লঞ্চ গুলোর যোগাযোগ নাম্বার জানা। লঞ্চগুলোর যোগাযোগ নাম্বার আপনাদের কাছে থাকলে। আপনারা এই নাম্বার গুলোতে কল করে আগে থেকে লঞ্চগুলোর টিকিট বুকিং করে নিতে পারবেন।

এতে আপনাদের লঞ্চঘাটে যেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বা টিকিট নিয়ে ঝামেলার মধ্যে পড়তে হবে না। আপনারা যেন এই লঞ্চ গুলোর কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তাই আমি বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া সব লঞ্চের যোগাযোগ নাম্বার দিলাম। অবশ্যই বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার আগে, এই নাম্বার গুলোতে কল করে আপডেট তথ্য জেনে টিকিট কেটে নেবেন।

বরিশাল থেকে ঢাকা লঞ্চগুলোর যোগাযোগ নাম্বার
সিরিয়াল নাম্বার লঞ্চের নাম লঞ্চের যোগাযোগ নাম্বার
এম.ভি পারাবত ২ ম্যানেজারঃ ০১৭১৫৩৮৪১৩১ - ০১৭১১৩৪৬০৮০ - ০১৫৫২৪২৯৭৪৬
এম.ভি পারাবত ৭ ম্যানেজারঃ ০১৭১৫৩৮৪১৩১ - ০১৭১১৩৪৬০৮০ - ০১৫৫২৪২৯৭৪৬
এম.ভি পারাবত ৯ ম্যানেজারঃ ০১৭১৫৩৮৪১৩১ - ০১৭১১৩৪৬০৮০ - ০১৫৫২৪২৯৭৪৬
এম.ভি পারাবত ১১ ম্যানেজারঃ ০১৭১৫৩৮৪১৩১ - ০১৭১১৩৪৬০৮০ - ০১৫৫২৪২৯৭৪৬ - ০১৭১১৩৩০৬৪২
এম.ভি সুন্দরবন ৭ কাউন্টারঃ ০১৭১১৩৫৮৮৩৮ ম্যানেজারঃ ০১৭৫৮১১৩০১১ - ০১৭১৮০২৪০৬৭
এম.ভি সুন্দরবন ৮ কাউন্টারঃ ০১৭১১৩৫৮৮৩৮ ম্যানেজারঃ ০১৭৫৮১১৩০১১ - ০১৭১৮০২৪০৬৭
এম.ভি কামাল খান ১ কাউন্টারঃ ০১৭২০৬৭৬৯১৩
এম.ভি সুরভি ৭ কাউন্টারঃ ০১৭১২৭৭২৭৮৬ - ০১৭১১৪৫৩৯৮৯
এম.ভি সুরভী ৮ কাউন্টারঃ ০১৭১২৭৭২৭৮৬
১০ মানামী কাউন্টারঃ ০১৩০৯০৩৩৫৮৬ - ০১৩২৯৬৪৩৭৭১
১১ সুন্দরবন ১৬ কাউন্টারঃ ০১৭১১৩৫৮৮৩৮ ম্যানেজারঃ ০১৭৫৮১১৩০১১ - ০১৭১৮০২৪০৬৭ - ০১৭৫২৫৫৫৩২৫
১২ সুন্দরবন ১৫ কাউন্টারঃ ০১৭১১৩৫৮৮৩৮ ম্যানেজারঃ ০১৭৫৮১১৩০১১ - ০১৭১৮০২৪০৬৭ - ০১৩২২৮৫৯৯১৫
১৩ এম.ভি পারাবত ১৮ ম্যানেজারঃ ০১৭১৫৩৮৪১৩১ - ০১৭১১৩৪৬০৮০ - ০১৫৫২৪২৯৭৪৬ - ০১৭১১২৭৬৫৯৭
১৪ এম.ভি পারাবত ১২ ম্যানেজারঃ ০১৭১৫৩৮৪১৩১ - ০১৭১১৩৪৬০৮০ - ০১৫৫২৪২৯৭৪৬ - ০১৭৮৯৪৪৮০৮৮
১৫ অ্যাডভেঞ্চার ৯ ম্যানেজারঃ ০১৭২১৯৪৪৬৬৯ - ০১৭১৪২৩৩৯০০ - ০১৯১১৬৬৭৩১৮ - ০১৭৪৬১৭৪৫৯৪
১৬ কুয়াকাটা ২ কাউন্টারঃ ০১৭১১৩২৫৯১৭ - ০১৭৮৬০৬১৫৮৫
১৭ কীর্তনখোলা ১০ ম্যানেজারঃ ০১৭১১৩৩৬৮৭১ সুপারভাইজারঃ ০১৭১৭৮৬০৩৩৩ - ০১৭৭৮৭৮৬৯৫৪
১৮ প্রিন্স আওলাদ ১০ কাউন্টারঃ ০১৭৭৫১৫১২২১
১৯ শুভরাজ ৯ কাউন্টারঃ ০১৭৫৭৬১৬৬৬৭

বরিশাল টু ঢাকা কত কিলোমিটার

আপনাদের যাদের মনে প্রশ্ন আছে যে বরিশাল থেকে ঢাকা আসলে কত কিলোমিটার। তারা এখন এই উত্তর পাবেন। কারণ আমি আপনাদের এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য। গুগল ম্যাপে গিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকা কত কিলোমিটার দূরত্ব সে সম্পর্কে জেনেছি।
আমি গুগল ম্যাপ থেকে বরিশাল থেকে ঢাকা প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার দেখতে পেয়েছি। তাই আপনাদের যাদের প্রশ্ন ছিল বরিশাল থেকে ঢাকা কত কিলোমিটার। তাদেরকে বলতে চাই যে বরিশাল থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার।

বরিশাল থেকে ঢাকা লঞ্চে যেতে কত সময় লাগে

আপনারা যারা অনেক আগে লঞ্চে করে বরিশাল থেকে ঢাকা গেছেন। তারা হয়তো জানেন আগে লঞ্চে যেতে সময় অনেক বেশি লাগতো। কিন্তু এখন বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে আগের মতো বেশি সময় লাগে না। কারণ আগের লঞ্চগুলো থেকে এখনকার লঞ্চগুলো অনেক আধুনিক এবং উন্নত মানের করা হয়েছে।

এই লঞ্চগুলো আগের লঞ্চ থেকে অনেক তাড়াতাড়ি যেতে পারে। যার কারণে আপনি এই লঞ্চগুলোতে বরিশাল থেকে ঢাকা খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারবেন। এখনকার সময়ে আপনি ছয় থেকে সাত ঘন্টার মধ্যেই ঢাকা পৌঁছাতে পারবেন এই লঞ্চে করে। অনেক সময় এই সময়ের আগেও পৌঁছানো যায়। কিন্তু আবহাওয়া এবং সময়সূচির উপর নির্ভর করে সময় কিছুটা কম বা বেশি হয়ে যায়।

বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া লঞ্চগুলোর পরিবেশ কেমন

বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া লঞ্চ গুলোর পরিবেশ সুন্দর কিন্তু মাঝেমধ্যে এই লঞ্চ গুলোতে অনেক ভিড় হয়। আর এই ভিড় হওয়ার কারণে তখন পরিবেশটা একটু নষ্ট হয়ে যায়। কারণ এইসব লঞ্চে অনেক রকমের মানুষ ওঠে। তাছাড়া অনেকেই আছে যারা এই লঞ্চগুলোর মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

আমার যে বিষয়টা সবচেয়ে খারাপ লেগেছে, সেটা হচ্ছে এই লঞ্চ গুলোর ডেকে কিছু মানুষ সরাসরি ধূমপান করে এবং সেই ধোঁয়া আবার অন্য মানুষের নাকে গিয়ে লাগে। যেটা আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি। তবে এই সমস্যাটা সবসময় দেখা যায় না।

বিশেষ করে কোন ছুটির দিনে বা ঈদের ছুটিতে মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য যখন ভিড় করে। তখন এই সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায়। তাছাড়া এই লঞ্চগুলোর পরিবেশ অনেক সুন্দর এবং এই লঞ্চগুলোতে অনেক ধরনের আসনের ব্যবস্থা করা থাকে, যেগুলো অনেক উন্নতমানের।

আপনি যদি এই লঞ্চগুলোতে বরিশাল থেকে ঢাকা যান। তাহলে ভালো আনন্দ পাবেন, সেই সাথে এই লঞ্চগুলোতে খাবারের দোকান তো আছেই। ইচ্ছা হলে হাঁটাহাঁটি করতে পারবেন এবং সেখানে খাবার কিনে খেতেও পারবেন। তবে আমার পরামর্শ থাকবে বাইরের খাবার খুব একটা বেশি না খাওয়াই ভালো।

লঞ্চ ভ্রমণ করার আগে যা করতে হবে

আপনি যখন লঞ্চে কোথাও যাবেন। তার আগে আপনাকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। যখন কোথাও লঞ্চে করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিবেন। চেষ্টা করবেন লঞ্চের টিকিট আগে থেকেই কেটে নেওয়ার। কারণ অনেক সময় এই টিকিটগুলো লঞ্চঘাটে গিয়ে কিনতে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়।

তাই আগে থেকে টিকিট কিনলে আপনি এ সমস্যা থেকে বাঁচবেন। তাছাড়া যখন লঞ্চে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বার হবেন। তখন বাসা থেকে হালকা খাবার এবং পানি নিয়ে নেবেন। অবশ্যই আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলো আগে ব্যাগে ভালোভাবে গুছিয়ে নেবেন। তারপর যখন বাড়ি থেকে বের হবেন তার আগে। 

আবার সবকিছু ঠিকমতো নিয়েছেন কিনা চেক করে নিবেন। তারপর লঞ্চ ছাড়ার আধা ঘন্টা আগে আপনি লঞ্চঘাটে উপস্থিত হবেন। সেখানে গিয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না। ভালোভাবে লঞ্চে দেখে উঠবেন। তারপর আপনার আসনে গিয়ে বসবেন। লঞ্চ ভ্রমণ করার আগে এ বিষয়গুলো মেনে লঞ্চ ভ্রমণের প্রস্তুতি নিলে আপনি আরামে নিশ্চিন্তে ঝামেলা ছাড়াই আনন্দে ভ্রমণ করতে পারবেন।

লঞ্চে যাওয়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

লঞ্চে যখন যাবেন তখন আপনার ব্যাগ বা লাগেজ লঞ্চে দেখে নিয়ে থাকবেন। অনেক সময় চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া মোবাইল ফোন নিয়ে লঞ্চের ধারে দাঁড়াবেন না। এতে ফোন পানিতে পড়ে যেতে পারে। বুক পকেটে ফোন রাখবেন না। আর লঞ্চে অনেক ভিড় থাকে।

তাই ভিড়ের মধ্যে নিজের পকেট এবং জিনিসপত্র ভালোভাবে দেখে নিয়ে থাকবেন। লঞ্চে খাবারের ব্যবস্থা করা থাকে, আপনি সেখানে খাবার কিনে খেতে পারবেন। কিন্তু লঞ্চের খাবার না খাওয়াই ভালো। কারণ সেগুলো মানসম্মত হয় না। এই খাবারগুলো খেলে আপনার পেট খারাপ হতে পারে। ক্যান্টিন থাকে।

তাই সেখানে খুব বেশি খাবার খাবেন না। যখন লঞ্চে উঠবেন তাড়াহুড়ো করে উঠবেন না, এতে পড়ে যেতে পারেন। তাছাড়া লঞ্চের নিয়ম গুলো আগে জেনে নিবেন ও সে নিয়ম মেনে লঞ্চে ভ্রমণ করবেন। আগে থেকে লঞ্চের টিকিট কেটে নিবেন। যদি লঞ্চের মধ্যে কোন সমস্যা হয়। তাহলে লঞ্চ কৃতপক্ষদের জানাবেন।

FAQ/সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্নঃ বরিশাল থেকে ঢাকার প্রথম লঞ্চ কখন?
উত্তরঃ বরিশাল থেকে এম ভি পারাবত ২ নামের একটি লঞ্চ। প্রতিদিন রাত ৮ঃ১৫ মিনিটে বরিশাল থেকে ঢাকা যাই। আপনারা চাইলে এই লঞ্চে বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে পারেন। অথবা এর পরের আরেকটি লঞ্চ আছে এম ভি পারাবত নামের ৭, যেটা রাত ৮ঃ৩০ মিনিটে ছাড়ে।

প্রশ্নঃ এম ভি পারাবত লঞ্চের ম্যানেজারের নাম্বার কত?
উত্তরঃ আপনারা যারা এম ভি পারাবত লঞ্চের ম্যানেজারের নাম্বার চাচ্ছেন। এই ধরেন নাম্বার ০১৭১৫৩৮৪১৩১, ০১৭১১৩৪৬০৮০। আপনারা এই নাম্বারে কল করে টিকিট কাটতে পারবেন এবং লঞ্চ সম্পর্কে আপডেট তথ্যও জানতে পারবেন।

প্রশ্নঃ ফ্যামিলি কেবিন এবং সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া কত?
উত্তরঃ আপনি যদি বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া লঞ্চগুলোতে উঠেন। তাহলে এই লঞ্চগুলোতে ফ্যামিলি কেবিনের ভাড়া ২৫০০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১০০০ টাকা আপনাকে দিতে হবে। চাইলে আপনি অন্য চেয়ারেও যেতে পারেন। যেগুলোতে ভাড়া একটু কম হবে। ডেকে বা সোফায় গেলে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া কোন লঞ্চের সার্ভিস ভালো?
উত্তরঃ আমি একবার বরিশাল থেকে ঢাকা গেছিলাম লঞ্চে করে। তখন আমি (এম ভি পারাবত ৭) লঞ্চে গেছিলাম। আমার কাছে এই লঞ্চটি ভালো লেগেছে। আপনারা চাইলেও এ লঞ্চেও যেতে পারেন। অথবা অন্য যেসব লঞ্চগুলো চলে, সেসব লঞ্চগুলোতেও যেতে পারেন। কারণ এখন যে লঞ্চগুলো এই রুটে চলছে। এইগুলো কম বেশি সব গুলাই উন্নত এবং তাদের সার্ভিসও ভালো।
প্রশ্নঃ বরিশাল থেকে ঢাকা সব শেষ লঞ্চ কখন ছাড়ে?
উত্তরঃ বরিশাল থেকে ঢাকা সব শেষ লঞ্চ ছাড়ে রাত ৯টার সময়। এ সময় অনেকগুলো লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাই। এর মধ্যে এমভি পারাবত১৮, এমভি পারাবত১২, কুয়াকাটা২, শুভরাজ৯ ছাড়াও আরও কয়েকটি লঞ্চ যায়। এই তথ্য জানা থাকলে সর্বশেষ লঞ্চে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়া সম্ভব হবে।

শেষ কথাঃ বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ২০২৬

আপনারা যারা বরিশাল থেকে ঢাকা লঞ্চে যাবেন বলে ভাবছেন। তারা আগেই বরিশাল টু ঢাকা লঞ্চ সময়সূচী ২০২৬ উপরের পয়েন্ট থেকে দেখে নিবেন। সেই সাথে এই লঞ্চগুলোতে ভাড়া কত তাও আগে থেকে জেনে নিবেন। প্রয়োজনে আপনারা উপরের দেওয়া যোগাযোগ নম্বরগুলোতে কল করবেন এবং অগ্রিম টিকিট কাটা সহ আরো তথ্য জানার থাকলে জেনে নিবেন।

যখন লঞ্চে যাবেন তার আগে খাবার পানি বাড়ি থেকে নিয়ে যাবেন। সেই সাথে লঞ্চে ওঠার সময় সাবধানে উঠবেন। লঞ্চ চলাকালে লঞ্চের ধারে দাঁড়াবেন না, এতে বিপদ হতে পারে। লঞ্চে যাবেন তখন সতর্ক থাকবেন। অপরিচিত লোকের কাছে কোন খাবার খাবেন না। আর বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন এবং আপনি লঞ্চে ওঠার আগে বা ভ্রমণ করার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিবেন। এতে লঞ্চ ভ্রমণ করতে সহজ হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url