ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
আপনারা অনেকেই ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেন কখন ছাড়ে তার সময় জানতে
চেয়েছেন। তাই আমি আপনাদেরকে এখন ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী সহ এই
ট্রেনে কত টাকা ভাড়া লাগবে তা জানাবো।
আপনারা আজকের এই আলোচনা থেকে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া ট্রেনের তালিকা,
সাপ্তাহিক ছুটির দিন, কিভাবে ট্রেনের টিকিট কাটবেন এবং ট্রেনে যাওয়ার আগে কি
করতে হবে। এই তথ্যগুলো জানতে পারবেন। যারা এই তথ্যগুলো জানতে চান পুরো
আলোচনাটি ভালোভাবে পড়ে নিবেন।
পেজ সুচিপত্রঃ ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী
-
ঢাকা টু কুমিল্লা যে ট্রেনগুলো চলাচল করে
- ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
- ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
-
ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের স্টপিস স্টেশন
- ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেন বন্ধের দিন
-
এই পথ কত কিলোমিটার এবং যেতে কতক্ষন লাগবে
-
ট্রেনের টিকিট কিভাবে কাটবেন
-
ট্রেনের সুবিধা এবং অসুবিধা গুলো
-
ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনে না বাসে যাওয়া ভালো হবে
-
কোন সময় ট্রেনে যাওয়া ভালো হবে
-
ট্রেনে কুমিল্লা যাওয়ার আগে যা করবেন
-
ট্রেন সম্পর্কিত কিছু সমস্যা ও সমাধান
- FAQ/সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
-
শেষ কথাঃ ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী
ঢাকা টু কুমিল্লা যে ট্রেনগুলো চলাচল করে
এখন আমি আপনাদেরকে ঢাকা থেকে কমিল্লা যে ট্রেনগুলো যাই তার তালিকা
জানাবো। এই পথে যে ট্রেনগুলো প্রতিদিন চলাচল করে, সেগুলোর নাম যদি আপনি
জানেন। তবে আপনি নিশ্চিন্তে কোন ট্রেনে যাবেন তা নির্বাচন করতে পারবেন।
তাছাড়া এমনিতেই যদি এই তালিকা সম্পর্কে ধারণা থাকে। তাহলে ঢাকা থেকে কুমিল্লা
ট্রেনে ভ্রমণ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। ঢাকা থেকে কুমিল্লা প্রতিদিন ৯ টি আন্তনগর
ট্রেন যাই। এই ট্রেনগুলো দিনের বিভিন্ন সময়ে ঢাকা স্টেশন থেকে ছেড়ে
কুমিল্লা যায়।
এই ট্রেনগুলো অনেক আধুনিক হওয়ার কারণে। আপনারা খুব আরামে এই ট্রেনগুলোতে চলাচল করতে পারবেন। এতে ভ্রমনে
আপনার ক্লান্তিও কম হবে। ঢাকা থেকে কুমিল্লা যদি ট্রেনে যেতে চান। তবে
চলেন ট্রেন ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ করার জন্য। ঢাকা থেকে কুমিল্লা প্রতিদিন
কোন ট্রেনগুলো চলে সেগুলোর নাম জেনে নিই।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা যে সকল ট্রেন চলাচল করে তার তালিকা
| সিরিয়াল নাম্বার | ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেন তালিকা |
|---|---|
| ১ | মহানগর প্রভাতী (৭০৪) |
| ২ | চট্টালা এক্সপ্রেস (৮০২) |
| ৩ | উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) |
| ৪ | মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) |
| ৫ | তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) |
| ৬ | ঢাকা মেইল |
| ৭ | কর্ণফুলী এক্সপ্রেস মেইল |
| ৮ | ঢাকা এক্সপ্রেস মেইল |
| ৯ | কুমিল্লা কামিউটার |
ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
আপনারা কি ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনে করে যেতে চাচ্ছেন। কিন্তু আপনারা কি
এই ট্রেনগুলো কখন ঢাকা থেকে কুমিল্লা ছেড়ে যায়, তার সময় জানেন
না। তাহলে আপনাদেরকে ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে আগে
জানতে হবে। আগে এই ট্রেনগুলোর সময়সূচী যদি জানতে পারেন। তবে আপনারা সঠিক
সময়ে ঢাকা থেকে ট্রেন ধরে কুমিল্লা যেতে পারবেন।
অনেকেই আছে যারা ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া ট্রেনগুলোর সময় জানেনা। আর এই
সময় না জানার কারণে, তারা সঠিক সময়ে সঠিক ট্রেন ধরতে পারে না। যার
কারণে ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে যায়। তবে একটি
ভালো খবর যে ঢাকা থেকে কুমিল্লা প্রতিদিন নয়টি আনন্দনগর ট্রেন চলে। তাই
দিনের যেকোনো সময়ে আপনি একটা না হলেও ট্রেন পাবেন।
যাই হোক তারপরেও ট্রেনের সময়সূচী জানা দরকার। কারণ ট্রেনের সময়সূচী জানতে
পারলে সর্বপ্রথম ট্রেন কয়টার সময় ছাড়ে এবং সর্বশেষ ট্রেন কয়টার সময় তা
আপনারা জানতে পারবেন। এর মাধ্যমে আপনি পছন্দ মত সময় বাছাই করে ট্রেন নির্বাচন
করতে পারবেন। আপনাদের সুবিধার জন্য নিচে আমি ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া
ট্রেনের সময়গুলোর তালিকা দিলাম।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া ট্রেনের সময়সূচীর তালিকা ২০২৬
| সিরিয়াল নাম্বার | ট্রেনের নাম ও নাম্বার | ট্রেন ছাড়ার সময় | গন্তব্য স্থানে পৌঁছানোর সময় | ট্রেনে সাপ্তাহিক ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|
| ১ | মহানগর প্রভাতী (৭০৪) | সকাল ০৭ঃ৪৫ মিনিট | সকাল ১০ঃ৫১ মিনিট | প্রতিদিন চলাচল করে |
| ২ | চট্টালা এক্সপ্রেস (৮০২) | দুপুর ০২ঃ১৫ মিনিট | বিকাল ০৫ঃ৪০ মিনিট | শুক্রবার |
| ৩ | উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) | দুপুর ০৩ঃ১০ মিনিট | সন্ধ্যা ৬ঃ৩৮ মিনিট | বুধবার |
| ৪ | মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) | রাত ০৯ঃ২০ মিনিট | রাত ১২ঃ৪৬ মিনিট | রবিবার |
| ৫ | তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) | রাত ১১ঃ১৫ মিনিট | রাত ০২ঃ৩৩ মিনিট | প্রতিদিন চলাচল করে |
| ৬ | ঢাকা মেইল | রাত ০১ঃ৩০ মিনিট | সকাল ০৬ঃ৫৫ মিনিট | প্রতিদিন চলাচল করে |
| ৭ | কর্ণফুলী এক্সপ্রেস মেইল | দুপুর ০১ঃ৩০ মিনিট | সন্ধা ০৭ঃ৪৫ মিনিট | প্রতিদিন চলাচল করে |
| ৮ | ঢাকা এক্সপ্রেস মেইল | রাত ১১ঃ৩৩ মিনিট | সকাল ০৬ঃ৪০ মিনিট | প্রতিদিন চলাচল করে |
| ৯ | কুমিল্লা কামিউটার | সকাল ০৬ঃ১০ মিনিট | দুপুর ১২ঃ৫৫ মিনিট | প্রতিদিন চলাচল করে |
ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে যেগুলো ট্রেন চলাচল করছে। কম বেশি সবগুলোই অনেক
উন্নতমানের। ঢাকা থেকে কুমিল্লা যে ট্রেনগুলো চলাচল করছে। এগুলো আন্তঃনগর ট্রেন
এবং অনেক উন্নতমানের। এই ট্রেনগুলোতে আপনি অনেক ধরনের সুবিধা
পাবেন। তাছাড়া যেসব মানুষের বাসে উঠলে সমস্যা হয়।
তাদের জন্য সবথেকে ভালো হবে ট্রেনে চলাচল করা। এই ট্রেনগুলোতে অনেক ধরনের সিটের
ব্যবস্থা করা থাকে। যার কারণে আপনারা আপনাদের পছন্দমত চেয়ারের টিকিট
কিনতে পারবেন। এখানে আপনি যত ভালো চেয়ার নিবেন। আপনাকে তত বেশি টাকা দিয়ে
টিকিট কিনতে হবে। কারণ এই ট্রেনগুলোতে সাধারণ চেয়ারের পাশাপাশি এসি
চেয়ার,
এসি কেবিন, এসি বার্থ, স্নিগ্ধা সহ আরো অনেক ধরনের সিট থাকে। যারা আরামে
ট্রেনে করে যেতে চাই এবং গরম সহ্য হয় না। তারা এসি টিকিট কিনতে
পারেন। যাইহোক আপনারা যেন ভাড়ার তালিকা জেনে, আপনাদের পছন্দমত টিকিট
কিনতে পারেন। তাই নিচে আমি এই ট্রেনগুলোর ভাড়া কত তা লিখে দিলাম।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া ট্রেনগুলোর আপডেট ভাড়ার তালিকা ২০২৬
| সিটের ধরন | সিটের ভাড়ার পরিমাণ |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ২৫০ টাকা |
| ফার্স্ট সিট | ৩৮৬ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ৪৮৩ টাকা |
| এসি সিট | ৫৭৫ টাকা |
| ফার্স্ট বার্থ | ৬২৫ টাকা |
| এসি বার্থ | ৯১৩ টাকা |
ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের স্টপিস স্টেশন
আপনারা যারা ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনে যেতে চাইছেন। তারা অবশ্যই ট্রেনে
যাওয়ার আগে, এই ট্রেনগুলো যাত্রাপথে কোন স্টেশনে দাঁড়ায়। সেই স্টেশনগুলোর
নাম জেনে নিবেন। এই স্টেশনগুলোর নাম জানা থাকলে। কখন কোন স্টেশনে এই
ট্রেনগুলো দাঁড়ায়, তখন আপনারা সে স্টেশনগুলোতে নেমে সুবিধা নিতে পারবেন।
এই ট্রেনগুলো যাত্রাপথে বেশ কিছু স্টেশনে দাঁড়াই কারণ। সে স্টেশনগুলো থেকে
ট্রেনে আরো যাত্রী উঠানোর জন্য এবং যাত্রী নামানোর জন্য। বলা তো যায় না, কখন
কিসের দরকার পড়ে যায়। তাই আমার মতে নিরাপদে, ঝামেলা ছাড়া ভ্রমণ করার জন্য। এই
ট্রেনগুলোর স্টপিস স্টেশন এর নাম জানা উচিত।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া ট্রেনগুলোর স্টপিস স্টেশনের তালিকা
| মহানগর প্রভাতী (৭০৪) স্টপিস স্টেশন | চট্টালা এক্সপ্রেস (৮০২) স্টপিস স্টেশন | উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) স্টপিস স্টেশন | মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) স্টপিস স্টেশন | তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) স্টপিস স্টেশন |
|---|---|---|---|---|
| ঢাকা কমলাপুর স্টেশন | ঢাকা কমলাপুর স্টেশন | ঢাকা কমলাপুর স্টেশন | ঢাকা কমলাপুর স্টেশন | ঢাকা কমলাপুর স্টেশন |
| বিমানবন্দর | বিমানবন্দর | বিমানবন্দর | বিমানবন্দর | বিমানবন্দর |
| নরসিংদী | নরসিংদী | নরসিংদী | নরসিংদী | ভৈরব বাজার |
| ভৈরব বাজার | মেথিকান্দা | ভৈরব বাজার | ভৈরব বাজার | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ভৈরব বাজার | আশুগঞ্জ | আশুগঞ্জ | আখাউড়া |
| আখাউড়া | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | কুমিল্লা |
| কুমিল্লা | আখাউড়া | আখাউড়া | আখাউড়া | - |
| - | কসবা | কসবা | কসবা | - |
| - | শশীদল | কুমিল্লা | কুমিল্লা | - |
| - | কুমিল্লা | - | - | - |
ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেন বন্ধের দিন
আপনারা যারা ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনে করে যেতে চাচ্ছেন। তাদের উচিত হবে, এই
ট্রেনগুলো কোন দিনে বন্ধ থাকে, তার তালিকা জানা। কারণ অনেক সময় এমন হয়, যে
ট্রেন কি বারের দিন বন্ধ থাকে তা না জানার কারণে। হুট করে ঢাকা থেকে
কুমিল্লা যাওয়ার পরিকল্পনা করে, স্টেশনে গিয়ে ফিরে আসতে হয়।
এমনকি গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজের জন্য যদি ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া লাগে। তবে সে
যাত্রা করা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু এই সমস্যাটা তখনই
এড়ানো যাবে। যখন আপনি ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া ট্রেনগুলো কোন দিনে বন্ধ থাকে,
তা জেনে নিবেন। আপনারা যেন নিশ্চিন্তে ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনে যেতে
পারেন। তাই এ ট্রেনগুলো কোন দিনে বন্ধ থাকে, তার তালিকা নিচে দিলাম।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির তালিকা
| ট্রেনের নাম | সাপ্তাহিক ছুটির দিন |
|---|---|
| মহানগর প্রভাতী (৭০৪) | প্রতিদিন চলাচল করে |
| চট্টালা এক্সপ্রেস (৮০২) | শুক্রবার |
| উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) | বুধবার |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) | রবিবার |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) | প্রতিদিন চলাচল করে |
| ঢাকা মেইল | প্রতিদিন চলাচল করে |
| কর্ণফুলী এক্সপ্রেস মেইল | প্রতিদিন চলাচল করে |
| ঢাকা এক্সপ্রেস মেইল | প্রতিদিন চলাচল করে |
| কুমিল্লা কামিউটার | প্রতিদিন চলাচল করে |
এই পথ কত কিলোমিটার এবং যেতে কতক্ষন লাগবে
আমি গুগল ম্যাপ থেকে ঢাকা থেকে কুমিল্লা ১০৯ কিলোমিটার জেনেছি। আপনারা
যারা এই পথের দূরত্ব কত কিলোমিটার জানতে চেয়েছিলেন আশাকরছি উত্তর
পেয়েছে। এই ১০৯ কিলোমিটার পথ আপনি যদি ট্রেনে করে যান। তবে আপনার সময়
লাগবে আড়াই ঘণ্টা থেকে তিন ঘন্টার মত। মাঝেমধ্যে এই সময়টা কম বা বেশি হতে
পারে।
এ সময় বেশি বা কম লাগার অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। যেমন অনেকগুলো স্টেশনে
দাঁড়ানোর কারণে, স্টেশনে অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে। তাছাড়া কোন
টেকনিক্যাল সমস্যা থাকলে। সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। কিন্তু আপনি
যদি ট্রেনে যান, তাহলে কমবেশি আড়াই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন আশা
করা যায়।
ট্রেনের টিকিট কিভাবে কাটবেন
আপনারা যারা ট্রেনের টিকিট কাটতে জানেন না। তারা সহজে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট
কেটে নিতে পারবেন। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে হলে। প্রথমে আপনাদেরকে
ticket.railway.gov.bd এই ওয়েবসাইটে গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে,
একটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে হবে।
অ্যাকাউন্ট খোলা হলে আপনারা এই ওয়েবসাইটে ঢুকে লগইন করবেন। লগইন করার
পর From এবং To লিখা থাকবে। From অপশনে আপনি কোন স্টেশন থেকে
ট্রেনে উঠবেন। সেই স্টেশন বা জায়গার নাম সিলেট করবেন। আর To অপশনে
আপনি কোথায় যাবেন। মানে আপনার গন্তব্য কোথায় সেই জায়গাটার নাম সিলেক্ট
করবেন।
তারপর ডেট অফ জার্নি অপশনে আপনি কোন দিন ট্রেনে যাবেন। সেই তারিখ দিবেন এবং
আপনি কোন সিটের টিকিট কিনবেন, সেই চেয়ার সিলেক্ট করবেন। তারপর সার্চ
করবেন, সার্চ করলে অনেকগুলো ট্রেন আসবে। কোন ট্রেনে যাবেন এবং কোন সিটের
টিকিট কাটবেন, সেই অপশনে সিলেক্ট করলে টাকা পেমেন্টের অপশন আসবে।
CONTINUE PURCHASE এখানে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে গিয়ে বিকাশ, রকেট, নগদের
মাধ্যমে টাকা পেমেন্ট করলে। আপনি আপনার টিকিট পেয়ে যাবেন। আপনার টিকিটের
পিডিএফ সেভ করে নিবেন। তাছাড়া আপনি যদি অনলাইন থেকে টিকিট না কাটেন। তবে
সরাসরি স্টেশনে গিয়ে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে নিতে পারবেন।
ট্রেনের সুবিধা এবং অসুবিধা গুলো
আপনাদেরকে ট্রেনের সুবিধা আমি কোনটা রেখে কোনটা বলবো বলেন। কারণ ট্রেনে
ভ্রমণ করার সুবিধা যে অনেক। তবে ট্রেনে ভ্রমণ করার আবার বেশ কিছু
অসুবিধাও আছে। সুবিধা গুলো হচ্ছে কম খরচে আপনি ট্রেনে যেতে
পারছেন। সেই সাথে ট্রেনে আপনি চলাফেরা করতে পারবেন এবং আরামে ভ্রমণ করতে
পারবেন। ট্রেনে গেলে যানজটের কোন ঝামেলা থাকে না।
আবার বাসের থেকে দুর্ঘটনা অনেক কম বা দুর্ঘটনা হওয়ার ঝুঁকি নাই বললেই
চলে। আপনি ট্রেনে কোনো জায়গা গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে
পারবেন। কোন কিছু খাবার মন করলে আপনি ট্রেনের ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে
খেতে পারবেন। তাছাড়া অনেক মানুষজন আছে, যারা অনেক ধরনের খাবার নিয়ে
ট্রেনে ওঠে এবং বিক্রি করে।
তাদের কাছ থেকেও আপনি খাবার কিনে নিতে পারবেন। আরো অনেক সুবিধা আপনি এই
ট্রেনে পাবেন, যেটা আপনি সড়ক পথে পাবেন না। এত সুবিধা থাকার পরেও এর কয়েকটি
অসুবিধা আছে, যেমন এই ট্রেন অনেক সময় বিভিন্ন কারণে গন্তব্যে যেতে দেরি হতে
পারে। আবার ট্রেনে ভিড়ও অনেক থাকে। যার কারণে অনেক সময় এই ট্রেনগুলোর টিকিট
পাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়।
ট্রেন সব জায়গায় দাঁড়ায় না, শুধুমাত্র ইস্টিশনে দাঁড়ায়। যার কারণে যারা
যাত্রী আছে, তারাকে স্টেশনে নেমে আবার অন্য কোন গাড়িতে করে গন্তব্যে যেতে
হয়। ট্রেনে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে ট্রেনের কোন সমস্যা হলে বা দেরী হলে।
বিকল্প হিসেবে আপনি যে অন্য কোন গাড়িতে বা ট্রেনে যাবেন সেটা পাবেন
না। এই সমস্যাগুলো বাদে ট্রেনের সুবিধাগুলোই অনেক। যদিও এই সমস্যাগুলো
খুব কম থাকে।
ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনে না বাসে যাওয়া ভালো হবে
যদি কারো বাস সহ্য না হয়, তবে তাদের জন্য ট্রেনে যাওয়াই ভালো। তাছাড়া
আমার মতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা আপনাদের ট্রেনে যাওয়াই ভালো হবে। কারণ
ট্রেনে অনেক আপনি সুবিধা পাবেন এবং নিশ্চিন্তে নিরাপদে, আপনার গন্তব্যে আপনি
পৌঁছাতে পারবেন।
তবে অনেক সময় হুট করে আপনার যদি ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার দরকার পড়ে। তবে
ট্রেনের সময়সূচির সাথে আপনার সময় মিলতে নাও পারে। সেক্ষেত্রে আপনি ট্রেন
বাদে বাসে যেতে পারেন। তবে সময় থাকলে বা আরামে কুমিল্লা যেতে চাইলে।
আপনার জন্য ট্রেনে যাওয়াই ভালো হবে।
কোন সময় ট্রেনে যাওয়া ভালো হবে
যদি কোন গন্তব্যে যেতে চান, আর আপনার হাতে যদি অনেক সময় থাকে। যেমন ধরেন দুই
একদিনের মধ্যে আপনি যেকোন সময় যেতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনার ট্রেনে যাওয়া ভালো
হবে। তবে এমন কিছু সময় আছে, যে সময়গুলোতে আপনার ট্রেনের টিকিট পেতে সমস্যা
হতে পারে।
তাছাড়া ট্রেনে অনেক ভিড়ও থাকতে পারে। তাই আরামে ভিড় ছাড়া
ট্রেনে যেতে চাইলে। সরকারি ছুটির দিন বাদে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। আরেকটি
বিষয় রাতের সময় ট্রেনে গেলে কিন্তু ভিড় কম থাকে। এ সময় আপনি ট্রেনে গেলে
আরামে যেতে পারবেন। তাই আমার রাতে ট্রেনে যাওয়া ভালো হবে। তাই চেষ্টা করবেন
রাতে ট্রেনে যাওয়ার।
ট্রেনে কুমিল্লা যাওয়ার আগে যা করবেন
ট্রেনে কুমিল্লা যাওয়ার আগে আপনাকে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনি
ট্রেনে কুমিল্লা যাওয়ার জন্য। এক থেকে দুই দিন আগেই ট্রেনের টিকিট কেটে
নেবেন। ট্রেন কয়টার সময় সেটা ভালোভাবে জেনে নিবেন। তারপর যেদিন ট্রেনে
যাবেন,
ইস্টিশনে ট্রেন আসার আধা ঘন্টা আগে সেখানে উপস্থিত হবেন। কুমিল্লা যাওয়ার
আগে আপনার যেগুলো দরকারী জিনিস। সেগুলো ব্যাগে ভালোভাবে গুছিয়ে
নেবেন। এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে আরেকবার সব জিনিসপত্র
নিয়েছেন কিনা তা দেখে নিবেন।
বাড়ি থেকে হালকা খাবার এবং পানি নিয়ে নেবেন। স্টেশনে মানুষের ভিড়
বেশি থাকলে সাবধানে থাকবেন নিজের জিনিসপত্র অন্য কাউকে ধরে রাখার জন্য
দিবেন না। ট্রেনে যাওয়ার আগে যদি আপনারা এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করেন
তবে ট্রেনভ্রমণে আপনার কোন সমস্যা হবে না।
ট্রেন সম্পর্কিত কিছু সমস্যা ও সমাধান
ট্রেনের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে, যে সব সময় এই ট্রেনগুলোতে টিকিট পাওয়া যায়
না। তারপর মাঝেমধ্যেই এই ট্রেনগুলো দেরিতে স্টেশনে আসে। যার কারণে গন্তব্যে
যেতে দেরি হয়ে যায়। ট্রেন ভ্রমণ অনেকেই পছন্দ করে। এ কারণে মাঝে মধ্যেই
ট্রেনে অনেক ভিড় হয়। এজন্য ট্রেনে যেতে অনেক সমস্যা হয়।
অনেক সময় চেয়ারের নাম্বার ভুল হওয়ার কারণে, ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়।
তাছাড়া কিছু কিছু ট্রেন অপরিষ্কার থাকে। যার কারণে ট্রেনে যেতে একটু খারাপ
লাগতে পারে। অনেক সময় এমনো হয়। যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লাগেজ, বস্তা,
ব্যাগ ইত্যাদি হারিয়ে যায়। এই সমস্যাগুলো ট্রেনে ভ্রমণ করার সময়
মাঝেমধ্যেই হয়।
তাই আপনারা আগে থেকে ট্রেনের টিকিট কাটার চেষ্টা করবেন। যেহেতু ট্রেনে অনেক
সময় ভিড় বেশি থাকে। তাই আগেই আপনার টিকিটে উল্লেখ করা চেয়ারে বসে যাবেন।
রাতে ট্রেনে গেলে ভিড় একটু কম থাকে। অনেক সময় সিট নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হলে,
ঝামেলা হয়। তাই টিকিট ভালোভাবে দেখবেন, সেখানে কোন সিট নাম্বার দেওয়া আছে।
তা দেখে নিজের আসনে গিয়ে বসবেন। যদি কেউ আপনার সিটে বসে যায়। আর আপনাকে যদি
আপনার চেয়ারে বসতে না দেয়। তাহলে রেলওয়ের দায়িত্ব থাকা লোকদের বলবেন। আর
ট্রেনে জিনিসপত্র বেশি চুরি হয়। এজন্য আপনার জিনিসপত্রগুলো দেখে রাখবেন। আর
ট্রেন ভ্রমণ করার আগে কোন ট্রেনে যাচ্ছেন। সেই ট্রেনের সকল তথ্য ভালোভাবে
জেনে নেবেন।
FAQ/সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ সকালে কি ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার কোন ট্রেন আছে?
উত্তরঃ সকালে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার জন্য ৩টি ট্রেন আছে। একটি
আন্তঃনগর ট্রেন এবং আর ২টি লোকাল ট্রেন। আন্তঃনগর ট্রেনের নাম হচ্ছে (মহানগর
প্রভাতী ৭০৪) এই ট্রেন সকাল ৭:৪৫ মিনিটে ঢাকা স্টেশন থেকে ছাড়ে। আর লোকাল
ট্রেন ২টি হচ্ছে ঢাকা মেইল ট্রেন ও ঢাকা মেইল এক্সপ্রেস। এই ট্রেন সকাল
৬:৫৫ মিনিটে ছাড়ে। আরেকটি সকাল ৬ঃ৪০ মিনিটে ছাড়ে।
প্রশ্নঃ ঢাকা থেকে কুমিল্লা শোভন চেয়ারের ভাড়া কত?
উত্তরঃ ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার জন্য আপনি যদি শোভন চেয়ারের টিকিট
নেন তাহলে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর শোভন চেয়ারের ভাড়া পড়বে ২৫০
টাকা। তাছাড়া আপনি এসিতে যদি যান বা স্নিগ্ধাতে যান। তাহলে স্নিগ্ধা
চেয়ারের জন্য ৪৮৩ টাকা এবং এসির জন্য ৫৭৫ টাকা ভাড়া লাগবে।
প্রশ্নঃ ঢাকা থেকে কুমিল্লা কোন ট্রেনে গেলে ভালো হবে?
উত্তরঃ আপনি যদি তাড়াতাড়ি যাতে চান এবং ট্রেনের পরিবেশ ভালো চান।
তাহলে সকাল ৭:৪৫ মিনিটে মহানগর প্রভাতী নামের, এই ট্রেনটি আপনার জন্য ভালো
হবে। এই ট্রেনে আপনি খুব তাড়াতাড়ি ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে পারবেন।
সেই সাথে এই ট্রেনের পরিবেশ সুন্দর হওয়ার কারণে। ট্রেনে যেতে আপনার
ভালো লাগবে।
প্রশ্নঃ ঢাকা থেকে কুমিল্লা প্রতিদিন ট্রেন পাবো কি?
উত্তরঃ আপনি যদি ঢাকা থেকে কুমিল্লা যান। তবে প্রতিদিনই আপনি ট্রেন
পাবেন। শুধুমাত্র চট্টালা এক্সপ্রেস (৮০২) উপকূল এক্সপ্রেস এবং মহানগর
এক্সপ্রেস সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকে। চট্টালা এক্সপ্রেস (৮০২) শুক্রবারের দিন,
উপকূল এক্সপ্রেস বুধবারের দিন এবং মহানগর এক্সপ্রেস রবিবারের দিন বন্ধ থাকে।
বাকি সব ট্রেনগুলো প্রতিদিন চলাচল করে। তাই আপনি প্রতিদিনই ঢাকা থেকে
কুমিল্লা যাওয়ার জন্য ট্রেন পাবেন।
আরো পড়ুনঃ কসবা টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
প্রশ্নঃ ঢাকা থেকে কুমিল্লা সব শেষ ট্রেন কখন যাই?
উত্তরঃ ঢাকা থেকে কুমিল্লা সবশেষে দুইটি ট্রেন যায়। একটা হচ্ছে তূর্ণা
এক্সপ্রেস (৭৪২) আরেকটি হচ্ছে ঢাকা মেইল। এখানে তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২)
আন্তঃনগর ট্রেন। আর লোকাল ট্রেন হচ্ছে, ঢাকা মেইল। তূর্ণা এক্সপ্রেস রাত
১১ঃ১৫ মিনিটে ছাড়ে এবং ঢাকা মেইল রাত ১ঃ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যায়।
শেষ কথাঃ ঢাকা টু কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী
আপনারা যারা চাচ্ছেন যে ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনে যাবেন। তারা অবশ্যই
ঢাকা থেকে কুমিল্লা ট্রেনে যাওয়ার জন্য। উপরের প্রথম পয়েন্টে ঢাকা টু
কুমিল্লা ট্রেনের সময়সূচী দেখে নিবেন। ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার জন্য
কোন ট্রেন ভালো হবে, এই ট্রেনগুলোতে ভাড়া কত এবং এই ট্রেনগুলো কবে বন্ধ থাকে।
এই তথ্যগুলো যারা ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাবে, তাদের জানা অনেক দরকার।
এই তথ্যগুলো আগে জানলে সঠিক সময়ে ট্রেন ধরতে পারবেন ও সামর্থ্যের মধ্যে আপনারা
এই ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন। এ সুবিধাগুলো ছাড়াও এই তথ্যগুলো আপনাদের অনেক
সাহায্য করবে। তাই চেষ্টা করবেন ট্রেনে যাওয়ার আগে, যে ট্রেনে যাচ্ছেন। সেই
ট্রেন সম্পর্কে সকল তথ্য জেনে নেওয়ার। আরেকটি বিষয় কোথাও গেলে আপনারা ট্রেনে
যাবেন। কারণ ট্রেনে গেলে আপনি নিরাপদে আনন্দে ভ্রমণ করতে পারবেন।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url