নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা ও অসুবিধা

নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা ও অসুবিধা এবং কয়লা কি নবায়নযোগ্য শক্তি এই বিষয়ে এখন আমি আমার আর্টিকেলের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
নবায়নযোগ্য-শক্তির-সুবিধা-ও-অসুবিধা
আপনি যদি নবায়নযোগ্য শক্তি কোনটি জানতে চান? তাহলে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। চলুন তাহলে আর দেরি না করে নবায়নযোগ্য শক্তির সকল তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

পেজ সুচিপত্রঃ নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা ও অসুবিধা

নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা ও অসুবিধা

এই আলোচনাতে এখন আমরা জানবো নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে। নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা অনেক বেশি। সেই সাথে এই শক্তি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব একটি ব্যবস্থা। আমরা যদি সঠিক ভাবে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করতে পারি।
তবে এখান থেকে অনেক সুবিধা ও উপকার পাওয়া যাবে। কিন্তু ভুল নিয়মে বা ভুল ব্যবহারে, এতে আবার অসুবিধা হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। তাই নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে কি সব সুবিধা পাওয়া যায় এবং কি অসুবিধা গুলো হয় চলুন বিস্তারিত জেনে নেই।

নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা

  • নবায়নযোগ্য শক্তি প্রাকৃতিক হওয়ায়, এতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এই শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হয়। বিশেষ করে বাসা বাড়ি অথবা বিভিন্ন শিল্পকারখানাতে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর জন্য এই শক্তি ভালো মাধ্যম হতে পারে। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে যদি কারখানা, বাসা বাড়িতে সৌর প্যানেল বসানো যায়, তবে বিদ্যুৎ খরচ কমবে।
  • যেসব স্থানে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি সেসব স্থানে যদি এই সৌর প্যানেল বা ছোট বায়ু টারবাইন বসানোর হয় তাহলে তারা খুব সহজেই সেখান থেকে বিদ্যুৎ পাবে। যেটা কেবলমাত্র নবায়নযোগ্য শক্তির দ্বারাই সম্ভব। এর কথা বলা যায় যে যেসব গ্রামে বা স্থানে বিদ্যুৎ নাই সেসব স্থানে সৌর শক্তির সুবিধা অনেক।
  • নবায়নযোগ্য শক্তি কখনো শেষ হবে না। কারণ এই শক্তি উৎপন্ন হয় প্রকৃতি থেকে প্রকৃতি বলতে সূর্য, বাতাস, পানি, জৈববস্তু ইত্যাদি। একটা সময় পর তেল গ্যাস কয়লা এসব ফুরিয়ে যাবে কিন্তু সূর্য বাতাস পানি জৈব বস্তু এগুলো ফুরাবে না। তাই বলা যায় নবায়নযোগ্য শক্তির সবথেকে বড় সুবিধা হচ্ছে এটা কখনো ফুরাবে না।
  • নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশের ক্ষতি করে না। এই শক্তি পরিবেশ বান্ধব শক্তি। জ্বালানি শক্তি যেমন কয়লা, তেল, বিদ্যুৎ পরিবেশের ক্ষতি করে। যা বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করে এবং জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটায়। কিন্তু অপরদিকে নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ পরিষ্কার রাখে।
  • এই শক্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনেক ভালো নিরাপদ ও সুবিধা বয়ে আনবে। কারন এই শক্তি পরিবেশের ক্ষতি করেনা এবং এই শক্তি কখনো শেষ হবে না। তাই ভবিষ্যতে যদি কখনো জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানুষেরা প্রাকৃতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সকল ধরনের কাজ কাম করতে পারবে।
  • নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়। কারণ এই শক্তি ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের মেশিন ও জিনিসপত্র তৈরি করা হয়। যা পরিচালনা, পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য মানুষের প্রয়োজন। যার কারণে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। তাই বলা যায় কর্মসংস্থান তৈরি করতে নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা অনেক।
  • এই শক্তি ব্যবহারে জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমে। এতে অন্য দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা থেকে সাশ্রয় হয়। তাছাড়া এই শক্তি সাধারণ মানুষেরা ব্যবহার করতে পারে। কারণ এই শক্তি ব্যবহার করতে খুব ভালো বা বড় কোন প্রযুক্তিগত জ্ঞান বা বুদ্ধি লাগে না। সৌর প্যানেল, সোলার কুকার, সোলার লাইট এই সকল জিনিস মানুষ খুব সহজে ব্যবহার করতে পারে।
  • নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করলে অসুখ-বিসুখ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু জ্বালানি শক্তি ব্যবহার করলে এগুলো থেকে শ্বাসকষ্ট হাঁপানি ফুসফুস সহ আরো অনেক ধরনের অসুখ হতে পারে। তাই প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করাই নিরাপদ এবং সুবিধাজনক।
  • তাছাড়া এই শক্তি ব্যবহার করার সময় প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয় না কিন্তু জ্বালানি শক্তি ব্যবহার করতে গেলে এগুলো সংরক্ষণ করতে হয় মাটির অথবা পানির নিচ থেকে। যা থেকে জমি খনন নদী দখলে এমন জীবন কাটা পর্যন্ত হতে পারে। তাই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষাতেও নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা অনেক বেশি।

নবায়নযোগ্য শক্তির অসুবিধা

  • নবায়নযোগ্য শক্তির সবথেকে বড় একটি অসুবিধা হচ্ছে যে এটা অনেক ব্যয়বহুল। কারণ প্রথমেই বায়ো টারবাইন, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সৌর প্যানেল বানানো বা বসানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে টাকা খরচ করতে হয়। যেটা সাধারণ মানুষের কাছে সম্ভব হয় না। এমনকি অনেক উন্নয়নশীল দেশগুলোও এগুলোর খরচ বহন করতে পারে না।
  • এই শক্তির আরও একটি সমস্যা বা অসুবিধা হলো যে এটা প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। কারণ সৌর বিদ্যুৎ উৎপন্ন করার জন্য সূর্যের আলোর প্রয়োজন হয়। যদি সূর্যের আলো না থাকে, তাহলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায় না। এবং বাতাস যদি না থাকে তাহলে বায়ু টার্বিয়ানো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না। যার কারণে এটা পুরোপুরি প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। আর প্রকৃতি তো সবসময় একরকম থাকে না তাই বলা যায় যে এই শক্তির এটি একটি বড় সমস্যা।
  • এই শক্তির আরো একটি সমস্যা হচ্ছে যে এটা যে স্থানে তৈরি বা স্থাপন করা হয় সেখানে প্রচুর জায়গার দরকার পড়ে। যার কারণে যেসব জায়গায় কৃষি জমি বা প্রাকৃতিক পরিবেশবান্ধব জায়গা সেই জায়গাগুলো নষ্ট হতে পারে।
  • এই শক্তির আরো একটি বড় সমস্যা হচ্ছে যে এই এই শক্তি দ্বারা উৎপাদিত বিদ্যুৎ জমা রাখার জন্য কোন ব্যবস্থা সেরকম থাকে না। কারণ এই বিদ্যুৎকে জমা রাখার জন্য প্রয়োজন অনেক বড় ধরনের ব্যাটারি। কিন্তু এই ব্যাটারি অনেক ব্যয়বহুল এবং একটা সময় গিয়ে এই ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। যার কারণে এ বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা যায় না যা একটি বড় অসুবিধা।
  • এই শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন সব সময় একই রকম হয় না। কারণ এই শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা নির্ভর করে মূলত আবহাওয়ার উপর। যদি মেঘলা দিন হয় তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হয়। যার কারণে ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না যেটা একটি বড় অসুবিধা।
  • এই শব্দের আরও একটি অসুবিধা হচ্ছে যে এটা মাঝে মধ্যেই রক্ষাণুবীক্ষণ করতে হয় অর্থাৎ সুর প্যানেল বায়ু টারবাইন নিয়মিত পরিষ্কার ও মেরামত করা লাগে। তা না হলে এটা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক কমে যায়।
  • জ্বালানি শক্তির থেকে নবায়নযোগ্য শক্তির ঘনত্ব অনেক কম থাকে। জ্বালানি শক্তির বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে যে শক্তি থাকে তার থেকে তুলনামূলক অনেক কম শক্তি থাকে এই নবায়নযোগ্য শক্তি যারা উৎপাদিত বিদ্যুতে। তাই প্রাকৃতিক শক্তি থেকে বেশি বিদ্যুতের শক্তি নিতে চাইলে প্রয়োজন হবে বিশাল বড় প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্র।

নবায়নযোগ্য শক্তি কোনটি

আপনারা যারা নবায়নযোগ্য শক্তি কাকে বলে জানেন না। তারা এখনকার পুরো আলোচনাটি পড়বেন। নবায়নযোগ্য শক্তি মূলত সেই সব শক্তিকে বোঝায়। যেগুলো প্রকৃতি থেকে জন্ম নেয় অর্থাৎ প্রকৃতিকে ব্যবহার করে যেসব শক্তি উৎপন্ন করা হয়। তাকেই নবায়নযোগ্য শক্তি বলে।

নবায়নযোগ্য শক্তির মধ্যে পড়ে সৌরশক্তি, জলবিদ্যুৎ শক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব শক্তি ও ভূতাপীয় শক্তি। এই শক্তি কখনো শেষ হয় না এগুলোকে বারবার ব্যবহার করা যায়। এ শক্তি ব্যবহার করলে পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হয় না। এই শক্তিকে বলা হয় পরিবেশবান্ধব শক্তি।

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস কোনটি

এখন আমি আপনাদেরকে জানাবো যে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস কোনটি। এই শক্তি এমন একটি শক্তি যেটা মূলত প্রকৃতির মধ্য থেকে উৎপন্ন করা হয়। অর্থাৎ নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। প্রকৃতিকে ব্যবহার করে, এই শক্তি উৎপাদন করা হয়। এই শক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত শক্তি হচ্ছে সৌরশক্তি।

এই সৌরশক্তি উৎপন্ন করা হয় সূর্যের আলো ও সূর্যের তাপ থেকে। এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের শক্তি আছে যেগুলো হচ্ছে, বায়ু শক্তি, জৈবশক্তি, জলবিদ্যুৎ শক্তি ও ভূতাপীয় শক্তি। বায়ু শক্তির মূল উৎস হচ্ছে। এটা বাতাসের গতিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।

বাতাস যত তীব্র হয় বিদ্যুৎ তত ভালো উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এরপর জৈব শক্তির উৎস হচ্ছে গরুর গোবর, খড়কুটো, কাঠ এবং বিভিন্ন ফসলের আবর্জনা থেকে। এইগুলো দিয়ে এই জৈবশক্তি উৎপাদন করা হয়। যেটার নাম বলা হয় বায়োগ্যাস। আর জলবিদ্যুতের উৎস হচ্ছে নদীর পানির স্রোত।

নদীর স্রোতকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘোরানো হয়। যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। আর এই বিদ্যুৎকে কাজে লাগানো হয়। এছাড়াও ভূতাপীয় শক্তির মূল উৎস হচ্ছে পৃথিবীর ভেতরের তাপ এবং সমুদ্রের জোয়ার ভাটা থেকে এই শক্তি উৎপাদন করা হয়। এই সকলশক্তি গুলোই মূলত নবায়নযোগ্য শক্তি।

নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ

নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণগুলো হচ্ছে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলশক্তি, জৈবশক্তি, জোয়ার বা ভাটা শক্তি, সমুদ্রের ঢেউ শক্তি ইত্যাদি। এই শক্তিগুলো পুরোটাই প্রকৃতি ব্যবহার করে করা হয়। এই শক্তি ব্যবহার করে মানুষ, তাদের জীবনকে আরো সহজ ও সুন্দর করে তুলেছে।

বিভিন্ন দেশ এইসব নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে। তাদের আর্থিক অবস্থাকে অনেক উন্নত করেছে এবং তাদের পরিবেশকেও তারা রক্ষা করে চলেছে। তারা মূলত প্রকৃতিকে ব্যবহার করে। তাদের বিভিন্ন কাজ কর্মের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস উৎপাদন সহ আরো বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সুবিধা নিয়ে থাকে।

সৌর শক্তিকে মানুষ কাজে লাগিয়ে বাড়ির টিভি, ফ্যান ইত্যাদি ব্যবহার করছে। এটা নির্ভর করে সূর্যের আলোর ওপর। এছাড়াও বাতাস থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। উপরে আমি যে শক্তির উদাহরণ দিলাম, এই শক্তিগুলো হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ।

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয় কোনটি

উপরের আলোচনাগুলো থেকে আমরা অনেকেই জানতে পেরেছি যে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস আসলে কোনগুলো। আসলে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হচ্ছে, এমন শক্তি যে শক্তিগুলো প্রকৃতি থেকে পাওয়া যায় এবং এই শক্তিগুলো কখনো শেষ হয় না। কিন্তু যেসব শক্তি একবার ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায়। সেসব শক্তিকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বলা যাবে না। 
যেমন ধরেন তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম, পেট্রোলিয়াম। এই শক্তিগুলো একবার ব্যবহার করলেই শেষ হয়ে যায়। তাই এই শক্তিগুলো নবায়নযোগ্য শক্তি না। এই শক্তিগুলো প্রকৃতি থেকে অনেক কম পাওয়া যায়। এমনকি এই শক্তিগুলো সংরক্ষণ করার জন্য দীর্ঘ একটা সময় ব্যয় করতে হয় এবং নতুন ভাবে উৎপন্ন হতে অনেক সময় লাগে। তাই এসব শক্তিকে অনবায়নযোগ্য শক্তি বলা হয়।

নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য শক্তির পার্থক্য

  • নবায়নযোগ্য শক্তির মূল উৎস হচ্ছে প্রকৃতি। এজন্য নবায়নযোগ্য শক্তি কখনো শেষ হবে না। কিন্তু অনবায়নযোগ্য শক্তি প্রকৃতিতে অনেক কম পরিমাণে পাওয়া যায়। যা একটা সময় পর ফুরিয়ে যাবে।
  • নবায়নযোগ্য শক্তি বারবার ব্যবহার করা যায়। কারণ এই শক্তি শেষ হয় না। কিন্তু অনবায়নযোগ্য শক্তি বারবার ব্যবহার করা যায় না। একবার ব্যবহার করলেই তা শেষ হয়ে যায়। এমনকি এই শক্তি যেখান থেকে উত্তোলন করা হয়। একদিন সেটাও শেষ হয়ে যাবে।
  • নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সূর্য, আলো, বাতাস, তাপ, পানি। আর অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস তেল, গ্যাস, কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও ইউরোনিয়াম। এই দুইটা শক্তি প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন করা হয়। কিন্তু নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে বারবার ব্যবহার করা যায়। যা অনবায়নযোগ্য শক্তির দ্বারা সম্ভব না।
  • নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি করে না। নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব। অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে সুবিধা পাওয়া যায় কিন্তু এই শক্তিগুলো পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। কারণ এই শক্তি ব্যবহার করলে বায়ু দূষণ, পানি দূষণ এবং কি জলবায়ু পরিবর্তন পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
  • নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার সাশ্রয়ী। এই শক্তি ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র একবার বসানো হয়ে গেলে। তা থেকে অনেক সময় পর্যন্ত নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা যায়। আর অনবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করার জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় না। তবে এই শক্তি একবার ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায়। যার কারণে এই শক্তি ব্যবহার করার জন্য বারবার অর্থ খরচ করতে হয়।
    উপরোক্ত আলোচনা থেকে আশাকরছি আপনি নবায়নযোগ্য এবং নবায়নযোগ্য শক্তির পার্থক্য গুলো ভালোভাবে জানতে পেরেছেন। এছাড়াও আমি উপরে নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আপনি যদি জানতে চান, তবে উপরের প্রথম আলোচনাটি পড়ে আসতে পারেন।

    কয়লা কি নবায়নযোগ্য শক্তি

    কয়লা কি নবায়নযোগ্য শক্তি এই সম্পর্কে এখন আমি আপনাদেরকে বিস্তারিত জানাবো। আপনারা অনেকেই আছেন যারা কয়লা কে মনে করেন নবায়নযোগ্য শক্তি। কিন্তু এটা আসলে নবায়নযোগ্য শক্তি নয়। কারণ এই শক্তি ব্যবহার করলেই শেষ হয়ে যায় এবং এই শক্তি বারবার ব্যবহার করা যায় না।

    এই কয়লা মাটির নিচে বহু বছর ধরে তৈরি হয়। বিশেষ করে জীবজন্তুর অবশিষ্টাংশ, গাছপালা মাটির নিচে পচে এবং মাটির নিচের এগুলোর মধ্যে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। আর এই পরিবর্তনের কারণেই মূলত কয়লা তৈরি হয়। কয়লা তৈরি হতে বহুবছর লাগে। কিন্তু এই কয়লা মানুষ খুব তাড়াতাড়ি ব্যবহার করে ফেলে।

    এই কয়লা মাটির নিচ থেকে উত্তোলন করার পর সেগুলো যদি ব্যবহার করা হয়ে যায়। তাহলে সেই জায়গায় আবার ওই কয়লা সহজে উৎপন্ন হয় না। যার কারণে কয়লা কে অনবায়নযোগ্য শক্তি বলা হয়। কেননা নবায়নযোগ্য শক্তি কখনোই শেষ হবার নয়। আর কয়লা যেহেতু শেষ হয়ে যায়, সেহেতু এটা কখনোই নবায়নযোগ্য শক্তি নয়।

    নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার

    নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। যেগুলোর নাম হচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, জোয়ার ভাটা বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ। আর এই বিদ্যুৎগুলোকে মানুষ। তাদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে সুবিধা নিয়ে থাকে। এছাড়াও যেসব এলাকায় এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের সুব্যবস্থা নেই। সেসব এলাকায় সৌর প্যানেলের ব্যবহার করা হয়।

    এটির ব্যবহার করে ঘরবাড়ি, স্কুল রাস্তাঘাট এবং বাজারে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি এই শক্তি ব্যবহার করে রান্নাঘরের যাবতীয় সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। যার কারণে খুব সহজেই মা বোনেরা, তাদের রান্নার কাজ সম্পন্ন করে। বর্তমানে অনেক আধুনিক যানবহন গুলোতেও সৌর শক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সৌরশক্তি ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক গাড়ি চলাচল করে।

    শুধুই যে বৈদ্যুতিক গাড়ি চালানো হয়, তা কিন্তু নয়। যেসব যানবাহন জ্বালানি তেলে চালানো হয়। সেসব যানবাহনেও মূলত এই সৌর শক্তির ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কৃষি কাজেও এই সৌরশক্তির ব্যবহার করা হয়। এই সৌর শক্তিকে ব্যবহার করে ফসলের জমিতে পাম্প লাগিয়ে সেচ দেওয়া হয়। এমনকি এই শক্তি ব্যবহার করে খাদ্যশস্যকে শুকানো পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    সৌরশক্তি ব্যবহার করে ঘরকে গরম করা অথবা ঘরকে ঠান্ডা করা হয়। এছাড়াও এই শক্তি ব্যবহার করে পানি গরম করা সহ আরো বিভিন্ন কাজ করা হয়ে থাকে। কারখানায় প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যুতের ঘাটতি থাকার কারণে কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ পায়না। যার কারণে কারখানাগুলো, তাদের উৎপাদন কাজে এই নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

    এই শক্তি তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিতেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন সৌর শক্তি দিয়ে মোবাইল টাওয়ার চালানো, কম্পিউটার চালানো, ইন্টারনেট চালানো হয়। সৌরশক্তি ব্যবহার করে বাড়ির টিভি, ফ্রিজ ও ফ্যান চালানো হয়। এছাড়াও নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমায়। যার কারণে এটা পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে দেয় ও বায়ু দূষণ সহ জলবায়ু স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

    নবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতা

    নবায়নযোগ্য শক্তি যদিও একটি পরিবেশ বান্ধব এবং টেকসই তারপরেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতার মধ্যে অন্যতম একটি সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, এটা প্রকৃতিতে নির্ভরশীল। প্রকৃতি ছাড়া এই শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব না।

    যেমন ধরেন সৌরশক্তি এটা শুধুমাত্র সূর্যের আলো ও তাপে কার্যকরী। কিন্তু প্রকৃতির যদি বিরূপ প্রভাব পড়ে। যেমন ধরেন মেঘলা আকাশ ও রাতের বেলায় এই শক্তি কম বা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও এর আরো একটি সীমাবদ্ধতা আছে, সেটা হচ্ছে প্রাথমিক খরচ অনেক বেশি।

    এই শক্তি ব্যবহার করার জন্য যে সৌর প্যানেল, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বায়ু টারবাইন বানাতে হয়। সেগুলোতে প্রচুর টাকা লাগে। এই নবায়নযোগ্য শক্তি যেখান সেখানে ব্যবহার বা উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। যেমন যে জায়গায় বাতাস নেই, সেই জায়গায় যদি বায়ু টারবাইন বানানো হয়। তাহলে এখান থেকে ভালো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় না।

    তাই যে জায়গায় বেশি বাতাস, সেই জায়গার প্রয়োজন হয়। এমনকি জলবিদ্যুৎ কেবলমাত্র পাহাড়ি নদী বা এলাকাতেই উৎপন্ন করা সম্ভব হয়। এর আরও একটি প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা আছে। অনেক বড় বড় দেশগুলোও এই শক্তি উৎপাদন করার জন্য। উন্নত মানের প্রযুক্তির অভাবের কারণে তারা এই শক্তির পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেনা।

    সৌরশক্তি উৎপাদন করার জন্য বড় সীমানার প্রয়োজন হয়, যেটা সব জায়গায় করা সম্ভব হয় না। প্রকৃতির আবহাওয়া সব সময় এক রকম থাকে না। যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ সব সময় একই রকম হয় না। কখনো কম কখনো বেশি সরবরাহ হয়। আবার কখনো উৎপাদনে বন্ধ হয়ে থাকে। এটা মূলত পানির প্রবাহ, আলো ও বাতাসের উপর নির্ভরশীল।

    (FAQ)নবায়নযোগ্য শক্তি সম্পর্কিত কিছু আলোচিত প্রশ্ন ও উত্তর

    প্রশ্নঃ নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস কোনটি নয়?
    উত্তরঃ আপনারা অনেকেই প্রশ্ন করেছেন যে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস কোনটি নয়। এর উত্তর হচ্ছে কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও পেট্রোলিয়াম। এসব উপাদানগুলো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয়। এগুলো মূলত অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

    প্রশ্নঃ শক্তির কত প্রকারভেদ রয়েছে?
    উত্তরঃ শক্তি মূলত দুই ভাগ হয়। একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি আর আরেকটি হচ্ছে অনবয়নযোগ্য শক্তি। নবায়নযোগ্য শক্তিগুলো হচ্ছে, যেগুলো প্রকৃতি থেকে উৎপাদন করা হয় এবং অনবায়নযোগ্য শক্তিগুলো হচ্ছে, যেগুলো বারবার শেষ হয়ে যায় এবং একবার ব্যবহার হলে সেগুলোকে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
    নবায়নযোগ্য-শক্তির-সুবিধা-ও-অসুবিধা
    প্রশ্নঃ তিনটি অনবায়নযোগ্য সম্পদের নাম কি কি?
    উত্তরঃ আপনারা অনেকেই আছেন যারা তিনটি অনবায়নযোগ্য সম্পদের নাম সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। সেই তিনটি অনবায়নযোগ্য সম্পদের নাম গুলো হচ্ছে তেল, কয়লা ও ইউরেনিয়াম।

    প্রশ্নঃ সৌরশক্তিকে নবায়নযোগ্য শক্তি কেন বলা হয়?
    উত্তরঃ যে শক্তি প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন হয় এবং শেষ হয় না বরং এই শক্তি বারবার ব্যবহার করা যায়। এই শক্তিকেই মূলত নবায়নযোগ্য শক্তি বলা হয়। আর সৌরশক্তি যেহেতু একটি প্রাকৃতিক শক্তি এবং এই শক্তি কখনো শেষ হবে না। তার জন্য সৌরশক্তিকে নবায়নযোগ্য শক্তি বলা হয়।
    প্রশ্নঃ মাটি কি নবায়নযোগ্য সম্পদ?
    উত্তরঃ আপনারা অনেকেই মাটিকি নবায়নযোগ্য সম্পদ শেষ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। মাটি একটি নবায়নযোগ্য সম্পদ। তবে মানুষ তার ভুল ব্যবহার করে তাকে অনবায়নযোগ্য সম্পদ করে ফেলেছে।

    লেখকের মন্তব্যঃ নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা ও অসুবিধা

    নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে আজকে আমি আলোচনা করেছি পুরো আলোচনাটি পড়ার পর আশাকরি আপনারা নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। নবায়নযোগ্য শক্তি এমন একটি শক্তি যা পরিবেশবান্ধব এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি আশীর্বাদ। নবায়নযোগ্য শক্তির কোন শেষ নেই প্রকৃতি যতদিন আছে নবায়নযোগ্য শক্তি ততদিন আছে।

    কারণ নবায়নযোগ্য শক্তির মূল উৎসই হচ্ছে প্রকৃতি। বর্তমান বিশ্বে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে অনেকগুলো দেশ নিজেদেরকে আর্থিকভাবে উন্নত করে যাচ্ছে। নবায়নযোগ্য শক্তির ভালো দিক অনেক আছে কিন্তু এর ব্যবহার সঠিক নিয়মে করতে হবে। কেননা যে কোন জিনিসেরই ভুল নিয়ম বা অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url