প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত ডাক্তার কি বলে
প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত তা আপনি এই আর্টিকেল থেকে জানতে পারবেন। এর
পাশাপাশি কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পারবেন।
তাই এই আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়বেন। তাহলে আপনি
জানতে পারবেন কিসমিস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে সকল বিষয়। তাই আর দেরি না করে চলুন
জেনে নিই বিস্তারিত।
পেজ সূচিপত্রঃ প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
- প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
- কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা
- কিসমিস খাওয়ার অপকারিতা
- প্রতিদিন কিসমিস খেলে কি হয়
- শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়
- অতিরিক্ত কিসমিস খেলে কি হয়
- কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা
- কিসমিস খেলে কি ফর্সা হয়
- কিসমিস খেলে কি মোটা হয়
- গর্ভাবস্থায় কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা
- সকালে খালি পেটে কিসমিস খেলে কি হয়
- রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়
- কিসমিসে কত ক্যালরি
- কিসমিস কাদের খাওয়া উচিত নয়
- কিসমিস কত টাকা কেজি
- কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
- লেখকের মন্তব্যঃ প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত তা আপনার অনেকেই জানতে চেয়েছেন। একজন সুস্থ
ব্যক্তি প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ গ্রাম কিসমিস খেতে পারবে। যেটা ১৮ থেকে ২২ টি কিসমিস
হলেই হয়ে যায। আর শিশুদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ কিছুটা কম হবে সাধারণত ১২ থেকে ১৫
টি কিসমিস খেলেই হবে। আর যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ টি কিসমিস
খেতে পারবে। তবে অবশ্যই এটা খেতে হবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে।
কারণ কিসমিসে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে
পারে। এমনকি কিসমিসের মধ্যে প্রচুর ক্যালরি থাকে। যদি বেশি পরিমাণে কিসমিস খাওয়া
হয়, তাহলে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে। আবার এটা যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়,
তাহলে পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই উপরে
যে পরিমাণে কিসমিস খেতে বলা হয়েছে সে পরিমাণে খাওয়া টাই নিরাপদ হবে।
কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা
কিসমিস অনেক উপকারী একটি খাবার এটি আমাদের শরীরের অনেক উপকার করে থাকে। কিসমিসের
মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান গুলো আমাদের শরীরের যে উপকার করে তা হচ্ছে।
- কিসমিস রক্তশূন্যতা দূর করে। কিসমিসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ভিটামিন বি এবং তামা আছে। এগুলো রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে এবং রক্তশূন্যতা দূর করে। কিসমিস হজমে সাহায্য করে। কারণ কিসমিসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। যা পেটের খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
- কিসমিসের মধ্যে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা আমাদের শরীরে দ্রুত শক্তি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং শরীর ও মনকে সতেজ ও চাঙ্গা রাখে। কিসমিস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও কিসমিসের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যেগুলো রক্তনালী পরিষ্কার রাখে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। কিসমিস শরীরের হাড় গঠনে সহায়তা করে এবং অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
- কিসমিস আমাদের চোখের কোষগুলোর ক্ষয় প্রতিরোধ করে এবং আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিসমিস আমাদের ত্বক ও চুলের জন্য অনেক উপকারী। কিসমিস আমাদের ত্বক উজ্জ্বল করে এবং চুল পড়া কমিয় নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। কিসমিস আমাদের শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে অনেক শক্তিশালী করে। ফলে শরীরের সর্দি কাশি বা সংক্রমণের মতো সমস্যাগুলো অনেক কম হয়।
- কিসমিসে ক্যালরি রয়েছে যা ওজন বৃদ্ধি করে থাকে। তবে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে করতেও ভালো কাজ করে। পরিমাণ অনুযায়ী যদি কিসমিস খাওয়া হয়, তাহলে কিসমিস ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। কিসমিস আমাদের পেটের বদহজম ও গ্যাসের সমস্যা কমায়। কিসমিস আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কিসমিস দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করে এবং মুখের দুর্গন্ধ কমিয়ে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
- কিসমিস ত্বককে দীর্ঘদিন চাঙ্গা করে রাখে এবং বয়সের ছাপ দূর করে দেয়। কিসমিস আমাদের শরীরের ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ গুলো বের করতে সাহায্য করে এবং লিভারকে পরিষ্কার করে। কিসমিস দেহের কিডনির কার্যক্রম ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এবং সঠিকভাবে কিডনিকে পরিচালনা করে।
কিসমিস খাওয়ার অপকারিতা
কিসমিস উপকারি খাদ্য হলেও এটি যদি সঠিক নিয়মে না খাওয়া হয়। তাহলে এর কিছু
অপকারিতা লক্ষ্য করা যায় যেমনঃ
- কিসমিস যদি পরিমাণ এর চেয়ে বেশি খাওয়া হয়, তাহলে এটি ওজন বৃদ্ধি করতে পারে। কারণ কিসমিসের মধ্যে প্রাকৃতিক শর্করা এবং উচ্চ পরিমাণে ক্যালরি থাকে। যদি বেশি পরিমাণে কিসমিস খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমা হবেএবং ওজন বেড়ে যাবে।
- ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ কিসমিসের মধ্যে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে যেগুলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বিপদজনক হতে পারে।
- কিসমিস যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়, তাহলে হজমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন পেট ফাঁপা, বদহজম, পেটে গ্যাস ইত্যাদি। তাছাড়া কিসমিস বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে, তাহলে ডায়রিয়াব, পাতলা পায়খানার মত সমস্যা হতে পারে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল তাদের কিসমিসে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ত্বকে চুলকানি, শরীরে ফুসকুড়ি, চোখ জ্বালাপোড়া এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা।
- কিসমিস যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় সেক্ষেত্রে এটি হজমের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন পেট ভারী লাগে, পেটে ব্যথা হয় এবং অতিরিক্ত গ্যাস হতে পারে। এমনকি অনেক সময় অনেক অসাধু ব্যবসায়ী কিসমিসকে অনেকদিন ধরে ভালো রাখার জন্য কিছু রাসায়নিক ব্যবহার করে থাকে, যার নাম সালফার ডাইঅক্সাইড। এই রাসায়নিক ব্যবহার করা কিসমিস গুলো যদি খাওয়া হয় সেক্ষেত্রে এটি লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
প্রতিদিন কিসমিস খেলে কি হয়
প্রতিদিন যদি কিসমিস নিয়ম করে খাওয়া হয়, তাহলে এটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য
ভালো কাজ করে। এমনকি শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এই কিসমিসের পুষ্টিগুণাগুণের
কারণে ভালো হয়। যেমন কিসমিস যদি প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে খাওয়া যায়, তাহলে এর
মধ্যে থাকা আয়রন, ভিটামিন বি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বোরন, খনিজ ইত্যাদি।
আমাদের শরীরের রক্তের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। হজম শক্তি বাড়ায়, পেটকে
পরিষ্কার রাখে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং হার্টকে সুস্থ রাখে। মস্তিষ্কের
কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ প্রক্রিয়া উন্নত করে। এছাড়াও
এই কিসমিস নিয়মিত খাওয়া হলে, এটা চোখের কোষগুলোর ক্ষয় রোধ করে এবং দৃষ্টি
শক্তি ভালো রাখে,
চুলের স্বাস্থ্য ভালো করে এবং শরীরে শক্তি ধরে রাখে। এক কথায় বলা যায় যে এই
কিসমিস যদি নিয়মিত প্রতিদিন খাওয়া হয়, তাহলে এর উপকারিতা অনেক তাই প্রতিদিন
নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের
এটি খাওয়াতে সতর্ক অবলম্বন করতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়
শুকনো কিসমিস খেলে এই কিসমিশে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান গুলো আমাদের শরীরে শক্তি
উৎপন্ন করে, হজম প্রক্রিয়া ভালো করে, শরীরের রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে, চুলের
গোড়া শক্ত করে ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হৃদরোগের
ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এছাড়া আরো অসংখ্য উপকারিতা পাওয়া যায়।
তবে শুকনো কিসমিস উপকারিতার পাশাপাশি বেশ কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যদি শুকনো
কিসমিস খাওয়ার পর পানি কম খাওয়া হয়, তাহলে এটা পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা,
পেটব্যথা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও শুকনো কিসমিসে
ক্যালরি বেশি থাকে। যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়, তাহলে ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে।
অতিরিক্ত কিসমিস খেলে কি হয়
প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত তা আগে জানতে হবে। কারন কিসমিস উপকারী
হলেও এটি যদি অতিরিক্ত বা বেশি খাওয়া হয়, তাহলে উপকারের বদলে এটি স্বাস্থ্যের
ক্ষতি করতে পারে। কারণ কিসমিসের মধ্যে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে, ক্যালরি রয়েছে,
ফাইবারও আছে। অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়ার কারণে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে। হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানার মত সমস্যা তৈরি হতে পারে।
দাঁতের ক্ষয় ও মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে। হৃদস্পন্দনের সমস্যা তৈরি করতে
পারে। আসলে কোন কিছুই পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত খাওয়া বা ব্যবহার করা মোটেও উচিত
না। কিসমিস যদি সঠিক পরিমাণে নিয়ম করে খাওয়া যায়, তাহলে এটা স্বাস্থ্যের অনেক
উপকার করবে। কিন্তু এটাই যদি অতিরিক্ত বা অনিয়মে খাওয়া হয়, তাহলে এটা
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। তাই অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমাণে খাওয়াই
নিরাপদ।
কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা
কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়া সাধারণ শুকনো কিসমিস খাওয়ার চেয়ে আরও অনেক উপকারী বলা
হয়ে থাকে। কিসমিস যদি ভিজিয়ে খাওয়া হয়, তাহলে কিসমিস টি নরম হয় এবং
কিসমিসের মধ্যে থাকা পুষ্টি শরীরে সহজে শোষিত হয় এবং হজম শক্তিকেও বাড়ে।
কিসমিস যদি ভিজিয়ে খাওয়া হয়, তাহলে এটা আমাদের শরীরের দুর্বলতা দূর করে এবং
মাথা ঘোরার মত সমস্যা ভালো করে। হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য
দূর করে।
কিসমিস ভেজানোর পর এর উপকার দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং সেটা আমাদের শরীরের জন্য
অনেক উপকারী হিসেবে কাজ করে থাকে। কিসমিসের পানি এবং ভেজানো কিসমিস আমাদের
লিভার ও শরীরকে পরিষ্কার রাখে। কিসমিস ভিজিয়ে খেলে শরীর সহজে এর পুষ্টিগুণ
গ্রহণ করতে পারে এবং ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়। তাই কিসমিস শুকনা না খেয়ে
ভিজিয়ে খাওয়া অনেক ভালো। নিয়মিত কিসমিস ভিজিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া
যাবে।
কিসমিস খেলে কি ফর্সা হয়
অনেকেই আছে যারা মনে করে কিসমিস খাওয়ার ফলে ফর্সা হওয়া যায়। আসলে ব্যাপারটা
এমন নয় কিসমিস যে ত্বককে ফর্সা করে দেয় এই কথা বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। আবার
এটা যে ফর্সা করে না এটাও পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ কিসমিস খেলে ত্বক ফর্সা না
হলেও এটি খাওয়ার ফলে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়। যার কারণে মানুষের ত্বক
ফর্সা বা উজ্জ্বল দেখতে লাগে। কিসমিসের মধ্যে এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি ও
আয়রন আছে, এগুলো শরীরের রক্ত পরিষ্কার রাখে এবং ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
যার কারণে ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি হয়। কিসমিস রক্ত পরিষ্কার করে,
ফলে মুখের ব্রণ, ফুসকুড়ি এবং কালো দাগ কমে যায়। কিসমিস এর মধ্যে থাকা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষ রক্ষা করে। যার ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ দূর হয়
এবং দেখতে ইয়াং লাগে। এক কথায় বলতে গেলে কিসমিস ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার,
উজ্জ্বল, হাইড্রেট এবং দাগ মুক্ত করে থাকে। যার কারণে শরীরের ত্বক
তুলনামূলকভাবে ফর্সা ও সুন্দর দেখায়।
কিসমিস খেলে কি মোটা হয়
কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে। ফলে কিসমিস যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়,
সেক্ষেত্রে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিসমিস খেলে মোটা হওয়া যায়। কারণ ১০০
গ্রাম কিসমিসের মধ্যে প্রায় ৩০০ গ্রাম ক্যালরি থাকে, যেটা অনেক বেশি। তাই বলা
যায় যে কিসমিস যদি বেশি খাওয়া হয়, তাহলে মোটা হওয়া যায়। তবে কিসমিস যদি
পরিমিত খাওয়া হয়, সেক্ষেত্রে মোটা হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। তাই অতিরিক্ত
না খেয়ে পরিমাণ মতো খেতে হবে।
গর্ভাবস্থায় কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় যদি কিসমিস খাওয়া হয়, তাহলে সেটা গর্ভবতী মা এবং পেটে থাকা
সন্তানের জন্য অনেক উপকারী। এ সময়ে গর্ভবতী মায়ের শরীরের চাহিদা অনেক বেড়ে
যায়। সে চাহিদাগুলো মেটানোর জন্য কিসমিস অনেক উপকারী হিসেবে কাজ করে থাকে।
কারণ কিসমিসের মধ্যে থাকে আইরন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম, ফাইবারসহ আরো
অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
- গর্ভকালীন সময়ে অনেক গর্ভবতী মায়ের হিমোগ্লোবিন কমে যায়। এ সময় যদি গর্ভবতী মা কিসমিস খায়, তাহলে কিসমিস শরীরের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে রক্ত তৈরি করে এবং রক্তশূন্যতা দূর করে। গর্ভকালীন সময়ে অনেক মা কোষ্ঠকাঠিন্যতে ভোগেন। এ সময় যদি কিসমিস খাওয়া হয়, তাহলে কিসমিসে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করবে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে।
- গর্ভাবস্থায় যদি কিসমিস খাওয়া হলে গর্ভে থাকা শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠনে সহায়তা করবে। কিসমিস গর্ভবতী মায়ের শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে। কিসমিস গর্ভবতী মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীর সুস্থ রাখে। এটা গর্ভবতী মা এবং গর্ভে থাকা শিশুর ত্বক ভালো রাখে, ত্বক উজ্জ্বল করে এবং শিশুর ত্বক গঠন করে। কিসমিস মস্তিষ্ককে ঠান্ডা রাখে।
-
গর্ভাবস্থায় মুখে দুর্গন্ধ এবং দাঁতের অনেক রকম সমস্যা দেখা দিয়ে
থাকে। কিসমিস এর মধ্যে থাকে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যেগুলো মুখ
পরিষ্কার করে থাকে।
সকালে খালি পেটে কিসমিস খেলে কি হয়
সকালে খালি পেটে কিসমিস খাওয়া হলে কিসমিস শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করবে এবং
হজম শক্তি ভালো করবে, শরীরে রক্ত বৃদ্ধি করবে এবং ত্বক উজ্জ্বল ও সারা দিন শরীরে
শক্তি পাওয়া যাবে। শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলো কিসমিসে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান বার
করে দেয় এবং কিডনি ও লিভার কে ভালো রাখে। সকালে খালি পেটে কিসমিস খেলে ওজন
নিয়ন্ত্রণে থাকে। কারণ কিসমিস খাওয়ার পর অনেকক্ষণ খিদা লাগে না যার কারণে
বারবার খাওয়ার প্রবণতা কম হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়
রাতে ঘুমানোর আগে সঠিক নিয়মে কিসমিস খাওয়া হলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে। কারণ
কিসমিসে থাকা পুষ্টি গুনাগুন মস্তিষ্কের স্নায়ুকে শান্ত করে। যার কারণে ঘুম ভালো
হয় এবং পেট হালকা থাকে। রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে এছাড়া আরো উপকার পাওয়া
যায়। তবে রাতে অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়া উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত কিসমিস
খাওয়া হলে, এটা ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে।
এমনকি পেটে গ্যাস বা বদ হজমের মতো সমস্যাও হতে পারে। এছাড়াও রাতে কিসমিস খাওয়ার
পর ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে ঘুমাতে হবে, তা না হলে দাঁতের ক্ষয় সৃষ্টি হতে
পারে। আর যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের রাতে খাওয়া উচিত না, রাতে খেলে ডায়াবেটিস
বেড়ে যেতে পারে। তাই এটি খাওয়ার সময় একটু সতর্কতা অবলম্বন করবেন এবং নিয়ম
মেনে খাবেন।
কিসমিসে কত ক্যালরি
কিসমিস উচ্চ ক্যালরিযুক্ত ফল। এটি আমাদের শরীরে ভালো শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
কিসমিস যদি পরিমাণ অনুযায়ী খাওয়া যায়, তাহলে এটি থেকে ভালো উপকার পাওয়া যায়।
তবে এটি অতিরিক্ত খাওয়া হলে, ওজন বাড়াসহ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকে। সাধারণত
আপনারা জানতে চেয়েছেন যে কিসমিসে কত ক্যালরি থাকে।
এখন মূলত আমি কিসমিসে কত ক্যালরি থাকে সেটা আপনাদের বিস্তারিত বলবো। একটি
ছোট কিসমিসে প্রায় দেড় থেকে দুই ক্যালোরি পাওয়া যায়। যদি ১০ টি কিসমিস
একসাথে খাওয়া যায়, তাহলে সেখান থেকে ১৫ থেকে ২০ ক্যালোরি পাওয়া যায়। ১০০
গ্রাম কিসমিসে প্রায় ৩০০ থেকে ৩২৫ গ্রাম ক্যালরি পাওয়া যায়।
কিসমিস কাদের খাওয়া উচিত নয়
কিসমিস অনেক উপকারী হওয়ার সত্ত্বেও এটি সব মানুষের খাওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত
নয়। এমন কিছু নির্দিষ্ট রোগ বা অসুখ থাকলে কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি আছে, যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অনেক
ক্ষতিকর হতে পারে। যদিও খায় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে। যাদের শরীরের
ওজন অনেক বেশি তাদের এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ কিসমিস উচ্চ
ক্যালরিযুক্ত ও চিনি সমৃদ্ধ একটি খাবার,
যা শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে পারে। তাই যারা মোটা বেশি তারা এটি খাওয়া থেকে বিরত
থাকবেন, আর খেলেও অল্প পরিমাণে খাবেন। যাদের কিডনির সমস্যা বা কিডনির রোগ আছে
তাদের এটি খাওয়া উচিত নয়। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে। তাদের এটি খাওয়া
উচিত নয় কারণ এটি বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে শরীরে এলার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যাদের দাঁতের সমস্যা রয়েছে তাদেরও এটি পরিমাণে কম খাওয়া উচিত। আর খেলেও
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
কিসমিস কত টাকা কেজি
বাজারে কিসমিসের দাম স্থান অনুযায়ী একটু কম বা বেশি হতে পারে। তবে কমবেশি বাজারে
বর্তমানে কিসমিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা প্রতি ১০০ গ্রাম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। সে
অনুযায়ী ১ কেজি কিসমিসের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এই দামটি একটু কম বা বেশি হতে
পারে। তবে বাজার থেকে আপনি এই দামের আশেপাশেই কিসমিস কিনতে পারবেন।
কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
রাতে এক গ্লাস পানিতে ২০ থেকে ২৫ টি কিসমিস ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর সকালে
উঠে খালি পেটে সেই ভেজানো কিসমিস গুলোকে ভালো করে চিবিয়ে খেয়ে নিতে হবে। তারপর
সেই পানিগুলো পান করতে হবে।
এভাবে যদি নিয়ম মেনে প্রতিদিন সকালে কিসমিস ভেজানো পানি খেতে পারেন। তাহলে
কিসমিসের যে উপকারিতা গুলো রয়েছে সেগুলো পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যাবে এবং এতে
শরীরের অনেক উপকার হবে।
লেখকের মন্তব্যঃ প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
আশা করছি আমার উক্ত আলোচনা থেকে আপনি প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত তা
জানতে পেরেছেন। আপনি যদি উপরের নিয়ম গুলো ভালোভাবে ফলো করে নিয়মিত খেতে পারেন,
তাহলে এটা আপনার শারীরিক অবস্থার অনেক উন্নতি ঘটাবে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন
না। তবে অবশ্যই যাদের ডায়াবেটিস বা অন্যান্য সমস্যা রয়েছে।
তারা এটি খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। এছাড়াও এই আর্টিকেলটি থেকে
উপকৃত হয়ে থাকেন, তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনি আপনার পরিচিত মানুষদেরকে শেয়ার
করবেন। যেন তারাও এই কিসমিস সম্পর্কে সকল অজানা তথ্য জানতে পারে। আপনি যদি এরকম
বিষয়ের উপর আরো তথ্য জানতে চান, তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন।


অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url