মহিষের মাংসে কি এলার্জি আছে ডাক্তার কি বলে জানুন
এখন আমি মহিষের মাংসে কি এলার্জি আছে এবং মহিষের মাংসের উপকারিতা ও অপকারিতা
সম্পর্কে আমার এই আর্টিকেল এর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
আপনি যদি মহিষের মাংস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে অবশ্যই আমার এই
আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়বেন। চলুন তাহলে দেরি না করে মহিষের মাংস সম্পর্কিত
সকল তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
পেজ সুচিপত্রঃ মহিষের মাংসে কি এলার্জি আছে
- মহিষের মাংসে কি এলার্জি আছে
- মহিষের মাংসের উপকারিতা ও অপকারিতা
- মহিষের মাংস খেলে কি মোটা হয়
- মহিষের মাংস খেলে কি ওজন কমে
- মহিষের মাংস কি খাওয়া যাবে
- মহিষের মাংস কাঁচা খাওয়া যাবে কি
- মহিষের মাংসের স্বাদ কেমন
- মহিষের মাংস খাওয়ার নিয়ম
- মহিষের মাংসে কি কোলেস্টেরল কম
- মহিষের মাংস খেলে কি প্রেসার বাড়ে
- হার্টের রোগী কি মহিষের মাংস খেতে পারবে
- মহিষের মাংস কিভাবে রান্না করতে হয়
- মহিষের মাংসের দাম
- ভেড়ার মাংসের চেয়ে মহিষের মাংস কি ভালো
- লেখকের মন্তব্যঃ মহিষের মাংসে কি এলার্জি আছে
মহিষের মাংসে কি এলার্জি আছে
মহিষের মাংসে কি এলার্জি আছে এই সম্পর্কে অনেকেই জানতে চেয়েছেন। মহিষের মাংসে
এলার্জি আছে, তবে এই এলার্জি সবার ক্ষেত্রে হয় না। কারণ অনেক মানুষ আছে যারা
মহিষের মাংস পছন্দ করে এবং নিয়মিত খেয়ে থাকে, তাদের কোন ধরনের সমস্যা হয় না।
আর এই এলার্জির সমস্যা মূলত তাদেরই বেশি দেখা যায়, যাদের আগে থেকেই মাংস খাওয়ার
পর এলার্জি হয়।
মহিষের মাংস খাওয়ার পর আপনার শরীরে যদি চুলকানি, গোটা ধরা, ঠোঁট ফোলা, গলা
ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মত সমস্যা হয়, তাহলে বুঝে নিতে হবে এটা অ্যালার্জিজনিত
সমস্যা। যাদের আগে থেকেই মাংস খেলে এলার্জি হয়, তাদের ক্ষেত্রেই এ সমস্যা দেখার
সম্ভাবনা বেশি থাকে। আপনার যদি মাংসে এলার্জি থাকে তাহলে মহিষের মাংস
খাওয়ার সময় সতর্ক থাকবেন।
আপনি যদি মহিষের মাংস প্রথম খান, তাহলে প্রথমে বেশি না খেয়ে, অল্প খেয়ে দেখবেন।
যদি কোন অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া না হয়, তাহলে আপনি এটা ইচ্ছামত খেতে পারেন। আর
যদি এটি খাওয়ার পর এলার্জিজনিত সমস্যার লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে এটা খাওয়া বন্ধ
করবেন এবং বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।
মহিষের মাংসের উপকারিতা ও অপকারিতা
মহিষের মাংস অনেক মানুষ আছে যাদের কাছে এটি অনেক প্রিয় একটি খাবার। এই মাংস গরুর
মাংসের থেকে গাড়ো ও ঘন হয় যেটা অনেকেই পছন্দ করে খেতে। মহিষের মাংস স্বাস্থ্যের
জন্য অনেক উপকারী। এই মাংসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। এছাড়াও এটার
মধ্যে আইরন, ভিটামিন বি১২ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকে।
মহিষের মাংস যদি খাওয়া হয়, তাহলে এটা শরীরে শক্তি এবং বেশি গঠন করতে সাহায্য
করে। যারা ব্যায়াম করে বা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করে তাদের জন্য এই মাংস অনেক
উপকারী কারণ এই মাংসের মধ্যে প্রোটিন ভালো পরিমাণে থাকে। যা শরীরের শক্তি উৎপন্ন
করতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি দূর করে। এর এত উপকারিতা থাকার পরেও এর কিছু খারাপ
দিক রয়েছে। তাই চলুন মহিষের মাংসের ভালো দিক এবং খারাপ দিক সম্পর্কে জেনে নিন
মহিষের মাংসের উপকারিতা
- মহিষের মাংসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিন গুলো শরীরের মধ্যে শক্তি বাড়ায় এবং শরীরের বেশি গঠন করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই প্রোটিনের কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায় এবং শরীরকে রাখে সুস্থ ও সবল।
- অন্যান্য সব মাংসর তুলনায় মহিষের মাংসের মধ্যে কোলেস্টেরল এর মাত্রা অনেক কম থাকে। তাই মহিষের মাংস যদি পরিমাণ অনুযায়ী খাওয়া হয়, তাহলে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।
- মহিষের মাংসের মধ্যে আয়রন থাকে। যার কারণে শরীরে রক্তের ঘাটতি থাকলে তা পূরণ হয়ে যায়। কারণ এই আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায় ফলে শরীরে রক্ত উৎপন্ন হয়।
- মহিষের মাংসের মধ্যে ভিটামিন বি১২ থাকার কারণে এই মাংস খেলে মস্তিষ্ক ভালো থাকে এবং যেকোনো কাজে ভাল মনোযোগ পাওয়া যায়।
- মহিষের মাংস শরীরের মধ্যে অনেকক্ষণ শক্তি ধরে রাখে। কারণ মহিষের মাংস হজম হতে একটু সময় লাগে। যার কারণে এটি অনেক সময় ধরে শরীরের শক্তি সরবরাহ করতে পারে। যেটা শরীরের জন্য অনেক ভালো।
- মহিষের মাংসের মধ্যে থাকা ফসফরাস, জিংক ও আরো অন্যান্য খনিজ উপাদান গুলো শরীরের হাড়ের ও দাঁতের গঠন করে এবং দাঁত ও হাড়কে করে শক্ত। যাদের হাড় ও দাঁত দুর্বল তারা মহিষের মাংস খেতে পারেন।
- মহিষের মাংস পুরুষের টেস্টোস্টারন বাড়ানোর জন্য অনেক উপকারী। যাদের যৌন দুর্বলতা আছে, তাদের এটি খাওয়া উচিত। কারণ মহিষের মাংসের মধ্যে জিংক থাকে। যেটা টেস্টোস্টরনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং টেস্টোস্টরনের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। যার ফলে যৌনশক্তি বৃদ্ধি হয় এবং যৌন সমস্যা থাকলে সেটা দূর হয়ে যায়।
- মহিষের মাংস শরীরের কোষ গুলোকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
মহিষের মাংসের অপকারিতা
- মহিষের মাংস যদি অতিরিক্ত খাওয়া হয়, তাহলে এটা হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাছাড়া মহিষের মাংস অন্যান্য সকল মাংস থেকে শক্ত হয় এবং এটা হজম হতে সময় লাগে। যার কারণে পেটের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস, বদহজম এবং পেট ব্যাথা। এছাড়াও এর মধ্যে প্রোটিন অনেক বেশি থাকে। তাই এই মাংস বেশি খেলে এটা কিডনির উপর পড়তে পারে যা কিডনির সমস্যা করবে। তাই এই মাংস বেশি না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
- মহিষের মাংস গরম প্রকৃতি হওয়ার কারণে এই মাংস যদি বেশি খাওয়া হয়, তাহলে মেজাজ খিট মিটে থাকে এবং শরীরে ফোড়া ও মুখে ঘা হতে পারে। বিশেষ করে এই সমস্যাটা গরমকালে বেশি দেখা যায়। এছাড়াও যাদের মাংসে এলার্জি আছে তারা মহিষের মাংস খেলে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। মহিষের মাংস অনেক শক্ত।,যার কারণে এটা অনেকক্ষণ ধরে রান্না করতে হয়, ফলে এর পুষ্টি গুনাগুন কিছুটা কমে যায়।
- মহিষের মাংস বেশি খেলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের অল্প পরিমাণে মহিষের মাংস খাওয়া উচিত। এমনকি মহিষের মাংস বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে, এটা শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমিয়ে ফেলতে পারে। যার কারণে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
-
মহিষের মাংস অনেক শক্ত হওয়ার কারণে এটাকে ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করতে
হবে। যদি ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না না করা হয়, তাহলে এটা শরীরের ক্ষতি
করতে পারে। তাই মহিষের মাংস ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে।
মহিষের মাংস খেলে কি মোটা হয়
মহিষের মাংস খেলে মোটা হয়। কিন্তু সেটা নির্ভর করে আপনি কি পরিমানে মহিষের
মাংস খাচ্ছেন নিয়মিত খাচ্ছেন কিনা এবং কিভাবে রান্না করে খাচ্ছেন তার ওপর।
মহিষের মাংস যদি আপনি নিয়মিত খেতে থাকেন। তাহলে মহিষের মাংসের মধ্যে থাকা উচ্চ
পরিমাণে ক্যালরি আপনার শরীরে জমা হয়ে আপনার শরীরের ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে।
আপনি যদি অতিরিক্ত মহিষের মাংস খান, আর আপনি যদি কোন পরিশ্রমী বা ব্যায়াম না
করে,
তাহলে সেটা আপনার ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি আপনি যদি তেলের পরোটা,
ভাত আরো যেগুলো ফ্যাট জাতীয় খাবার সেগুলোর সাথে মহিষের মাংস খান, তাহলে
এটা আপনার ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে আপনি যদি এই মাংস খাওয়ার পর নিয়মিত
ব্যায়াম করেন বা শারীরিক পরিশ্রম করেন। তাহলে আপনার শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা
ক্যালোরি জমবে না এতে আপনার শরীর মোটা হবে না।
মহিষের মাংস খেলে কি ওজন কমে
অনেকেই মনে করে থাকেন যে মহিষের মাংস খেলে ওজন কমে যায় কিন্তু এই কথাটা
পুরোপুরি সত্য না। মহিষের মাংস খেলে ওজন কমে না কিন্তু কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে
এই মাংস ওজন কমাতে সাহায্য করে। মহিষের মাংস হচ্ছে লীন প্রোটিন জাতীয়, তাই
এটার মধ্যে চর্বি অনেক কম পরিমাণে থাকে কিন্তু প্রোটিনের পরিমাণ আবার বেশি
থাকে। যেহেতু মহিষের মাংসে অন্যান্য মাংসের তুলনায় চর্বি অনেক কম থাকে।
আর চর্বি কম থাকলে এতে ক্যালোরিও কম থাকে, যেটা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক
সাহায্য করে। মহিষের মাংস খাওয়ার পর অনেকক্ষণ খিদা লাগে না, যার কারণে
অতিরিক্ত খাওয়া হয় না। এছাড়াও এই মাংসের মধ্যে প্রোটিন বেশি হওয়াই, এটা হজম
করতে শরীরের বেশি শক্তি লাগে। ফলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ হয়। যা শরীরের
চর্বি গলাতে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে আপনি মহিষের মাংস যদি বেশি তেলে রান্না করেন এবং সেই মাংস আবার চর্বিযুক্ত
খাবারের সাথে খান এবং কোন ধরনের শারীরিক পরিশ্রম না করেন, তাহলে এটা আপনার ওজন
বাড়িয়ে দিবে। তাই এই মাংসের সাথে তেল ব্যবহার কম করবেন এবং সপ্তাহে এক থেকে
দুইবার সবজির সাথে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তাহলে এই মাংস আপনার ওজনকে কমাতে বা
নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
মহিষের মাংস কি খাওয়া যাবে
আপনাদেরকে একটু স্পষ্ট করে দিই যে হ্যাঁ মহিষের মাংস খাওয়া যাবে। এই মাংস
খাওয়া শরীরের জন্য অনেক উপকারী এবং শরীরের বিভিন্ন সমস্যাও ভালো হয়ে থাকে।
আপনি যদি এই মাংস সঠিক নিয়মে ভালোভাবে রান্না করতে পারেন এবং পরিমাণ অনুযায়ী
এটা খান, তাহলে এই মাংস আপনার জন্য অনেক স্বাস্থ্যকর হতে পারে। কারণ মহিষের
মাংসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়,
যেটা পেশি গঠনের জন্য অনেক উপকারী। এই মাংসের মধ্যে অন্যান্য মাংসর থেকে চর্বি
তুলনামূলকভাবে অনেক কম থাকে। এমনকি এই মাংসের মধ্যে থাকা আইরন ও জিংক শরীরের
রক্তশূন্যতা পূরণ করে এবং স্নায়ুতন্ত্র ও শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে। কারো লিভার
বা কিডনির সমস্যা থাকে অথবা অ্যালার্জির সমস্যা আছে এরকম ব্যক্তির মহিষের মাংস
খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।
মহিষের মাংস কাঁচা খাওয়া যাবে কি
এই মাংস রান্না অবস্থায় খাওয়া নিরাপদ, কিন্তু এটা কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যাবে
না। কাঁচা অবস্থায় যদি মহিষের মাংস খাওয়া হয়, তাহলে এটা স্বাস্থ্যের জন্য
অনেক ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপদজনক হতে পারে। কারণ কাঁচা মাংসতে অনেক ধরনের ক্ষতিকর
ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবীর উপস্থিতি থাকে। যেটা চোখের ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে
পারে। এমনকি কাঁচা অবস্থায় এটা সহজে হজম হয় না।
আরো পড়ুনঃ মরিয়ম ফুল কিভাবে খেলে বাচ্চা হয়
যার কারণে পেট ব্যথা, পেটের মধ্যে গ্যাস এমন কি ডায়রিয়াও হতে পারে। এক কথায়
বলা যায় যে মহিষের মাংস কাঁচা খাওয়া যাবেনা। কাঁচা খেলে শরীরের অনেক ক্ষতি
হবে। অতএব সবথেকে ভালো এটা রান্না করে খাওয়া। রান্না করে খেলে সব থেকে নিরাপদ
এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে কাজ করবে। এছাড়াও আপনি মহিষের মাংসে কি
এলার্জি আছে তা জানতে চাইলে উপরে গিয়ে বিস্তারিত পড়তে আসতে পারেন।
মহিষের মাংসের স্বাদ কেমন
মহিষের মাংস সাধারণত গরুর মাংসর চাইতে একটু গারো ও ঘন হয়। এই মাংস অনেক শক্ত
হয় অন্যান্য মাংসের তুলনায়, তাই অনেকক্ষণ ধরে এই মাংস রান্না করা হয়। এই
মাংস অনেকেরই পছন্দ হতে পারে আবার অনেকের পছন্দ হতে নাও পারে। কারণ এই মাংসের
ঝাজ একটু কড়া। এই মাংসের গন্ধ কিছুটা প্রাকৃতিক ও অন্যান্য মাংসের থেকে একটু
আলাদা হতে পারে।
তবে এ মাংস ভালোভাবে মসলা দিয়ে রান্না করলে খেতে অনেক সুস্বাদু এবং
স্বাস্থ্যকর। যারা বেশি ঝাল খেতে পছন্দ করেন, তারা ভাতের বা পরোটার সাথে ঝাল
মাংস খেতে পছন্দ করেন। তাদের জন্য এটি অনেক টেস্টি হতে পারে। তাই আপনিও এই মাংস
একবার খেতে পারেন আশা করছি এই মাংসটি খেয়ে আপনি অনেক স্বাদ পাবেন।
মহিষের মাংস খাওয়ার নিয়ম
মহিষের মাংস অনেক শক্ত ও ঘন হওয়ার কারণে এটা অনেকক্ষণ ধরে রান্না করতে হয়।
এটা যদি ভালোভাবে রান্না করা না হয়, তাহলে এই মাংস স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর
প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মহিষের মাংস খাওয়ার আগে এটাকে ভালোভাবে রান্না করে
নিতে হবে। অবশ্যই রান্না করার সময় এই মাংসতে তেলের ব্যবহার কম করতে হবে এবং
আদা, রসুন, জিরা এই সকল মসলাগুলো বেশি ব্যবহার করতে হবে। এই মাংস ভালোভাবে
রান্না হওয়ার পর, এই মাংসের সাথে আপনি শাক সবজি ও সালাদ খেতে পারেন।
এই মাংস খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে অথবা ৩০ মিনিট পরে পানি পান করতে করবেন, তাহলে
গ্যাসের সমস্যা বা পেটে সমস্যা হবে না। এই মাংস খেয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নেওয়ার পর
একটু হাটা হাটি করা ভালো। এই মাংস পরিমাণ অনুযায়ী সঠিক নিয়মে খেতে হবে। তা না
হলে এটা উপকারের চাইতে ক্ষতি বেশি করতে পারে। আপনি প্রতিদিন এই মাংস না খেয়ে
সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন খেতে পারেন, পরিমানে ১০০গ্রাম থেকে ১৬০গ্রাম খাওয়া সব
থেকে নিরাপদ।
মহিষের মাংসে কি কোলেস্টেরল কম
জি হাঁ মহিষের মাংসে কোলেস্টেরল অনেক কম। এই মাংসতে গরুর মাংসের তুলনায় অনেক
কম কোলেস্টেরল থাকে। এই মাংস স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী এবং খেতেও অনেক
সুস্বাদু। তবে এই মাংস থেকে যদি আপনি ভালো পরিমাণে পুষ্টি বা উপকারিতা পেতে
চান, তাহলে এটাকে ভালোভাবে রান্না করে পরিমাণ অনুযায়ী খেতে হবে। ফলে এটা
খাওয়ার পর স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হবে না এবং কোলেস্টেরল এর মাত্রা
তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। গরুর মাংসের মধ্যে কোলেস্টেরল থাকে প্রায় ৭০ থেকে ৯০
মিলিগ্রাম অপরদিকে মহিষের মাংসের মধ্যে থাকে ৫০ থেকে ৬৫ মিলিগ্রাম।
মহিষের মাংস খেলে কি প্রেসার বাড়ে
মহিষের মাংস খেলে পেশার বাড়ে, তবে সেটা নির্ভর করে আপনার খাওয়ার উপর। কারণ
মহিষের মাংস সরাসরি প্রেসার বাড়ায় না। আপনি যদি এই মাংস সঠিক নিয়মে রান্না
না করেন এবং পরিমাণ অনুযায়ী না খান, তাহলে আপনার পেশার বাড়তে পারে। যেমন ধরেন
আপনি যদি এই মাংস রান্নার সময় বেশি লবণ ব্যবহার করেন। আবার তার সাথে তেল ও
মসলা পরিমাণ এর চেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, তাহলে সেটা আপনার রক্তে সোডিয়ামের
মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়াও পুরনো মহিষে চর্বি অনেক থাকে আপনি যদি চর্বিযুক্ত মাংস বেশি খান, তাহলে
সেটা আপনার রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে
পারে। তাই মহিষের মাংস সঠিক নিয়মে রান্না করা হয় এবং পরিমাণে যদি খাওয়া হয়।
সেটা প্রেসার বাড়ায় না বরং স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হিসেবে কাজ করে।
যাদের প্রেসার এর সমস্যা আছে তারা এটি পরিমানে অল্প খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
হার্টের রোগী কি মহিষের মাংস খেতে পারবে
হার্টের রোগী অবশ্যই মহিষের মাংস খেতে পারবে। তবে তাকে এটি খাওয়ার পূর্বে
সতর্ক থাকতে হবে এবং কিছু নিয়ম মেনে খেতে হবে।মহিষের মাংসে অন্যান্য মাংশের
তুলনায় চর্বি অনেক কম থাকে। যেটা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী ও নিরাপদ। এই
মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে এবং কোলেস্টেরল এর পরিমাণ অনেক কম থাকে। এই
মাংস যদি আপনি চর্বি ছাড়া রান্না করেন এবং লবণ,
তেল, মসলা অল্প পরিমাণে ব্যবহার করেন। সেই সাথে এটি সবজি বা সালাদের সাথে যদি
খান, তাহলে এটা হার্টের রোগীদের জন্য খাওয়া নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর হতে পারে।
হার্টের রোগীদের এই মাংস অতিরিক্ত খাওয়া যাবেনা পরিমাণে অল্প করে খেতে হবে।
সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন, পরিমাণে অল্প এবং বেশি ঝাল করা যাবে না, তাহলে
হার্টের রোগী মহিষের মাংস খেতে পারবে।
মহিষের মাংস কিভাবে রান্না করতে হয়
এই মাংসের রান্নাটা অন্য মাংসের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই মাংস অন্যান্য মাংসের
চেয়ে শক্ত এবং ঘন হওয়ার কারণে এটিকে ভালোভাবে রান্না করার জন্য কিছু নিয়ম
মানতে হবে। যেন মাংসটি হয় নরম এবং ভালোভাবে সিদ্ধ হয়, সেই সাথে এটি খেতে যেন
অনেক স্বাদ লাগে। মহিষের ১ কেজি মাংস রান্নার জন্য যা যা উপকরণ লাগবে সেগুলো
হচ্ছেঃ এক কেজি চর্বি ছাড়া মাংস, ২০০ গ্রাম পিয়াজ, আদা বাটা ২ চা চামচ রসুন,
২ চা চামন হলুদের গুড়া, ১ চামচ মরিচের গুড়া, ১ চা চামচ লবন স্বাদ অনুযায়ী, ধনে
গুড়া ১ চা চামচ, জিরা গুড়া ১ চা চামচ, এলাচ, তেজপাতা, দারুচিনি, পানি পরিমাণ
অনুযায়ী এবং তেল ৪ থেকে ৫ টেবিল চামচ নিতে হবে। এইসব উপকরণগুলোকে একসাথে
মিশিয়ে আপনি মেরিনেট করার জন্য ৩০ মিনিট রেখে দিতে পারেন। তারপর এসব উপকরণ এক
সাথে মিক্স করে কড়ায়ে দিয়ে ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।
সময় একটু বেশি লাগবে এটি সিদ্ধ হতে। অনেকক্ষণ ধরে জাল করলে খেতে অনেক
সুস্বাদু, অনেক নরম ও সুন্দর হবে। এই মাংস বেশি সিদ্ধ হবে কারণ এই মাংস অনেক
শক্ত। এরপর মাংস যখন ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে যাবে তখন মাংসের মধ্যে একটি কালার চলে
আসবে। মাংস ভালোভাবে রান্না হয়ে গেলে তখন নামিয়ে নিয়ে আপনি ভাত বা রুটির
সাথে এই মাংসর স্বাদ নিতে পারবেন।
মহিষের মাংসের দাম
বর্তমানে মহিষের মাংসের দাম বাজারে আপনি যদি কিনতে চান, সেক্ষেত্রে দাম পড়বে
প্রতি কেজিতে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। আর আপনি যদি অনলাইন থেকে পার্সেল করে
নিতে চান অথবা সুপার শপ থেকে যদি নিতে চান, তাহলে মহিষের মাংসের প্রতি কেজিতে ৯০০
থেকে ১১০০ টাকা দাম হতে পারে। আমি উপরে যে দামগুলো আপনাদেরকে বললাম এর দাম গুলো
কিন্তু জায়গা ভেদে কম বা বেশি হতে পারে। তবে আমি যে দামটি আপনাকে বললাম এই দামের
মধ্যে আপনি পেয়ে যাবেন।
ভেড়ার মাংসের চেয়ে মহিষের মাংস কি ভালো
মহিষের মাংস এবং ভেড়ার মাংস দুটাই অনেক পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ একটি খাবার। এখন
দুইটার মধ্যে কোনটি ভালো সেটা মূলত নির্ভর করে যে আপনি কিসের জন্য খাবেন। আপনি
যদি বেশি স্বাদের বা টেস্টটি মাংস খেতে চান, তাহলে ভেড়ার মাংস ভালো হবে। ভেড়ার
মাংস খেতে নরম এবং অনেক সুস্বাদু।
এটা খাওয়ার পর সহজেই হজম হয়ে যায় এবং রান্না করতেও খুব একটা সময় লাগে না।
এটার মধ্যে চর্বি অনেক বেশি থাকে এবং কোলেস্টেরল থাকে মহিষের মাংসের থেকে
বেশি, প্রোটিন ভালো পাওয়া যায়। কিন্তু আপনি যদি মহিষের মাংস খান, এটা আপনার
শরীরে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন বৃদ্ধি করবে এবং শরীরের শক্তি বা এনার্জি অনেকক্ষণ
ধরে রাখতে সাহায্য করবে। কিন্তু এটা অনেক দেরিতে হজম হয়
এবং এটি রান্না করতেও অনেক সময় লাগে। এছাড়াও এটি বৃদ্ধ ও শিশুরা খেলে হজমের
সমস্যা তৈরি হতে পারে। কিন্তু যাদের প্রেসার আছে এবং হৃদরোগের সমস্যা আছে, তাদের
জন্য এটি অনেক নিরাপদ। আপনার যদি শরীরে কোলেস্টেরল, ওজন, প্রেসার, হৃদরোগ ও
রক্তের ঘাটতি এইগুলা থাকে, তাহলে আপনার জন্য মহিষের মাংস সব থেকে নিরাপদ ও উপকারী
হবে। যদি সেটা সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ অনুযায়ী খাওয়া হয়।
লেখকের মন্তব্যঃ মহিষের মাংসে কি এলার্জি আছে
আপনারা আমার এই আর্টিকেল থেকে মহিষের মাংসে কি এলার্জি আছে তা জানতে পেরেছেন।
এছাড়াও এখানে মহিষের মাংসের দাম, মহিষের মাংস খেলে পেশার বাড়ি কিনা এবং মহিষের
মাংস খাওয়ার নিয়ম সহ আরো অনেক তথ্য দেওয়া হয়েছে। মহিষের মাংস অনেক সুস্বাদু ও
শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তবে এটা সঠিক ভাবে রান্না করতে হবে এবং তা পরিমান
অনুযায়ী খেতে হবে। আর যাদের এলার্জি আছে বা কিডনি জনিত সমস্যা আছে,
তারা মহিষের মাংস খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। সবথেকে ভালো হবে এটি খাওয়ার
আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। আশা করছি আমার এই আর্টিকেলটি থেকে আপনি উপকৃত
হয়েছেন। আপনি যদি এই আর্টিকেলটি থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন, তাহলে এটা আপনাদের
পরিচিত মানুষদের কাছে শেয়ার করবেন। প্রতিদিন এইরকম তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি
নিয়মিত ভিজিট করবেন।

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url