গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এখন আমি জানাবো গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
সম্পর্কে। এখানে আপনারা চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম সহ চিয়া সিড এর উপকারিতা ও
অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এর পাশাপাশি চিয়া সিড খাওয়ার পরিমাণ এবং চিয়া সিড এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও
জানতে পারবেন। তাই দেরি না করে চলুন চিয়া সিড সম্পর্কে সকল অজানা তথ্য জেনে
নেওয়া যাক।
পেজ সুচিপত্রঃ গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
- গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
- চিয়া সিড কি গর্ভাবস্থায় খাওয়া যায়
- চিয়া সিড এর উপকারিতা ও অপকারিতা
- চিয়া সিড খেলে কি এলার্জি হয়
- FAQ/গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
- গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা
- সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
- ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
- চিয়া সিড খাওয়ার পরিমাণ
- বাচ্চাদের চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
- চিয়া সিড এর পুষ্টিগুণ
- FAQ/ চিয়া সিড সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- চিয়া সিড খেলে কি বুকের দুধ বাড়ে
- লেখকের মন্তব্যঃ গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
চলুন গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম জেনে নিন। গর্ভকালীন সময়ে একজন মায়ের
শরীরের অনেক রকম সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি সমস্যা
হচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য। আর এ সময় যদি চিয়া সিড নিয়ম করে খাওয়া যায়, তাহলে
এটা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করবে। কারণ চিয়া সিড এর মধ্যে ভালো পরিমাণে
ফাইবার থাকে। শুধুই যে ফাইবার থাকে তা কিন্তু না।
চিয়া সিড এর মধ্যে ফাইবারের পাশাপাশি ওমেগা থিরি ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, আয়রন,
ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সহ আরো অনেক রকম পুষ্টি উপাদান থাকে। ফলে
গর্ভাবস্থায় এটা যদি খাওয়া হয়, তাহলে এটা গর্ভে থাকা সন্তানের মস্তিষ্ক গঠন সহ
শরীরের হাড় ও পেশি গঠন করতেও সাহায্য করে থাকে। তাই গর্ভকালীন সময়ে এটি
কিভাবে খেতে হবে তার নিয়ম জেনে নিই।
চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড সকাল বেলায় খালি পেটে যদি খাওয়া হয়, তাহলে সব থেকে
বেশি উপকার পাওয়া যাবে। অনেকেই এটা আবার শুকনা অবস্থায় খেয়ে থাকে, কিন্তু
গর্ভাবস্থায় এটা শুকনা খাওয়া উচিত না। কারণ শুকনা অবস্থায় এটা যদি খাওয়া হয়,
তাহলে হজমের সমস্যা হতে পারে। যার কারণে পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা হতে
পারে।
তাই চিয়া সিড ২৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর খেতে হবে। রাতে চিয়া সিড এক থেকে দুই
চামচ পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেলেও হবে। চিয়া সিডের আলাদা কোনো
স্বাদ থাকে না। যার কারণে এটা গর্ভবতী মহিলারা দই, সালাদ অথবা শরবতের মিশিয়ে
খেতে পারবে। অবশ্যই গর্ভাবস্থায় দিনে যেন এক থেকে দুই চামচের বেশি এটা খাওয়া না
হয়।
অতিরিক্ত খাওয়া হলে এটা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। আর তাছাড়া চিয়া সিড
ফাইবার যুক্ত যার কারণে এটি খাওয়ার পর গর্ভবতী মহিলাকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান
করতে হবে, তাহলে স্বাস্থ্যের কোন ঝুঁকি থাকবে না। তাছাড়া এটি খাওয়ার পর যদি
শরীরে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে এটা খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে এবং
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চিয়া সিড কি গর্ভাবস্থায় খাওয়া যায়
অনেক গর্ভবতী মায়েরা জানতে চাই যে চিয়া সিড কি গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবে।
তাদেরকে বলি জি হাঁ চিয়া সিড গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবে। তবে অবশ্যই আপনাকে এটি
সঠিক নিয়ম মেনে এবং খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। সাধারণত
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড যদি খাওয়া হয়, তাহলে এটা গর্ভবতী মা এবং পেটে থাকা
সন্তানের জন্য বেশ উপকারী হিসেবে কাজ করে থাকে। তবে অবশ্যই সেটা পরিমাণে খেতে
হবে। তাই এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
চিয়া সিড এর উপকারিতা ও অপকারিতা
চিয়া সিড দেখতে ছোট হলেও এর উপকারিতা কিন্তু অনেক। এই ছোট দানাগুলোর
মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদানে ভরপুর থাকে। বর্তমান সময়ে যারা
অনেক স্বাস্থ্য সচেতন তারা এই সুপারফুড টি নিয়মিত খেয়ে থাকে। এটি যদি সঠিক
নিয়ম এবং পরিমাণ অনুযায়ী খাওয়া হয়, তাহলে সেটা শরীরের মধ্যে অনেক ভালো
কাজ করবে।
এটি খাওয়ার কারণে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ
হবে। যারা পরিশ্রমী মানুষ তাদের শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য এবং শরীরকে
সতেজ রাখতে এটি অনেক উপকারী। চিয়া সিড উপকারী হলেও এর কিছু অপকারিতাও
রয়েছে যা আমাদের জানা অনেক জরুরী, তাই নিচে এর উপকারিতা সহ এর কিছু অপকারিতাও
তুলে ধরলাম।
চিয়া সিড এর উপকারিতা গুলো হলো
ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা কমাতে চিয়া সিড অনেক ভালো কাজ করে। কারণ চিয়া সিড
এর মধ্যে ফাইবার ভালো পরিমাণে থাকে। যা পেটকে অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখে, ফলে
অতিরিক্ত খিদা লাগে না এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বিও জমে না। তাই যারা ওজনকে
নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তারা চিয়া সিড এর ব্যবহার করতে পারেন।
চিয়া সিড হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। কারণ চিয়া সিডের মধ্যে এমন কিছু
প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে কাজ করে। ফলে রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের কোন ঝুঁকি থাকে এবং হার্ট থাকে ভালো।
চিয়া সিড ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। যাদের ডায়াবেটিস রোগ আছে
তারা যদি এটি নিয়মিত খেতে পারে ডায়াবেটিস স্বাভাবিক মাত্রায় থাকবে। কারণ
চিয়া সিডে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় ফলে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
চিয়া সিডে এমন কিছু গুনাগুন আছে যেগুলো শরীরের হাড় ও দাঁত স্বাস্থ্য ভালো
রাখতে সাহায্য করে। যাদের হার ও দাঁতের সমস্যা আছে তারা এটি নিয়মিত হতে পারে
এতে দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
চিয়া সিড চুলের গোড়া শক্ত করে এবং অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করে। সেই সাথে চিয়া
সিডের মধ্যে এমন কিছু উপাদান আছে যা ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে এবং ত্বকের
উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
চিয়া সিড হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। যার কারণে পেটে যেকোন খাবার দ্রুত হজম
হয় এবং পেটের মল নরম হয়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের বিভিন্ন সমস্যা থাকলে
সেটা দূর হয়ে যায়।
চিয়া সিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্ককে শান্ত
রাখে। ফলে যে কোন কাজে মনোযোগ ভালো পাওয়া যায় এবং স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে।
চিয়া সিডের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক গুনাগুন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে
সাহায্য করে। ফলে শরীর সহজে অসুস্থ হয়ে পড়ে না এবং সর্দি কাশি ঠান্ডা জ্বরের
মত সমস্যা হয় না।
চিয়া সিড শরীরের মধ্যে শক্তি উৎপন্ন করে, যার কারণে শরীর সব সময় শক্তিশালী
থাকে এবং যেকোনো কাজে ক্লান্তি কম হয় ও শরীরের দুর্বলতা থাকলে সেটা দূর হয়ে
যায়।
চিয়া সিড যৌন স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। যাদের যৌন দুর্বলতা আছে তারা যদি
এটি নিয়মিত খেতে পারে। তাহলে এর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক পুষ্টি গুনাগুন গুলো যৌন
দুর্বলতাকে দূর করে এবং যৌন শক্তি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও এটি নিয়মিত খেলে
বীর্যের ঘনত্ব গাঢ় হয় এবং বীর্যের গুণগত মান উন্নত হয় যা প্রজনন ক্ষমতা বাড়িয়ে
দেয়।
চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা
-
এটি যদি অতিরিক্ত খাওয়া হয়, তাহলে পেট ফাঁপা, পেটে গ্যাস হওয়া, পেট
ব্যথা সহ পেটের অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি এটা অতিরিক্ত খেলে
ডায়রিয়া হতে পারে।
-
চিয়া সিড শুকনো অবস্থায় খাওয়া মোটে উচিত নয়। কারণ এটি শুকনো অবস্থায়
খেলে গলায় আটকে যেতে পারে। যার কারণে শ্বাস রোধ হতে পারে। তাই এটি সব সময়
ভিজিয়ে খাওয়াই ভালো।
- চিয়া সিড রক্তকে পাতলা করতে সাহায্য করে। তাই যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান তারা যদি এই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি চিয়া সিড বেশি পরিমাণে খান, তাহলে সেটা অতিরিক্ত রক্তকে পাতলা করে দিতে পারে। যা স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। তাই রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে চিয়া সিড এড়িয়ে চলতে হবে।
-
যাদের চিয়া সিড খাওয়ার পর শরীরে এলার্জির সমস্যা তৈরি হয়। যেমন শরীরে
ফুসকুড়ি, ত্বকে চুলকানি, শ্বাসকষ্ট এবং বমি বমি ভাব। যদি এটি খাওয়ার
পর এই সব লক্ষণ দেখা যায়। তাহলে সেটা দ্রুত খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের
পরামর্শ নিতে হবে।
-
চিয়া সিড রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে যাদের নিম্ন
রক্তচাপ তারা যদি এটি বেশি খায়, তাহলে তাদের সমস্যা হতে পারে।
যেমন মাথা ঘোরা বমি বমি ভাব, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া সহ আরো অনেক সমস্যা।
- চিয়া সিড ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে অর্থাৎ চিয়া সিড যদি নিয়মিত খাওয়া হয়, তাহলে এটা ওজনকে কমাতে সাহায্য করে। তবে অনেক সময় ধরে যদি এটা খাওয়া হয়, তাহলে তা অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়।
-
চিয়া সিড যদি অনেক পরিমাণে বেশিদিন ধরে খাওয়া হয়। তাহলে প্রোস্টেট
ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এটি দীর্ঘ মেয়াদে না
খেয়ে পরিমাণ অনুযায়ী মাঝে মধ্যে খাওয়া উচিত।
-
চিয়া সিড যদি অতিরিক্ত খাওয়া হয়। তাহলে সেটা রক্তের মধ্যে শর্করার
মাত্রা অনেক কমিয়ে দিতে পারে।
- চিয়া সিড যদি বেশি খাওয়া হয়, তাহলে সেটা শরীরের মধ্যে পানির ঘাটতি তৈরি করতে পারে। যা থেকে শরীরে পানি শূন্যতা হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিবে। তাই এটি খাওয়ার পর অনেক বেশি পানি খেতে হবে।
চিয়া সিড আপনি যদি সঠিক নিয়ম ও পরিমাণে খেতে পারেন। তাহলে সেটা স্বাস্থ্যের
জন্য উপকারী। তবে আপনি যদি এটা অনিয়ম এবং পরিমাণে অতিরিক্ত খান। তাহলে সেটা
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উচিত হবে এটি সঠিক নিয়ম
ও পরিমাণে খাওয়া। যাদের ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ বা নিম্ন রক্তচাপ এবং এলার্জি
জাতীয় সমস্যা আছে। তারা এটি খাওয়ার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
চিয়া সিড খেলে কি এলার্জি হয়
আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন চিয়া সিড খেলে কি এলার্জি হয়। জি
হাঁ চিয়া সিড খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে
পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই যেকোন বীজ জাতীয় খাবারে এলার্জি আছে।
তাদের চিয়া সিড খেলে এলার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এটি খাওয়ার পর যদি ত্বকে চুলকানি, ত্বকে জ্বালাপোড়া, নিঃশ্বাস নিতে
কষ্ট হওয়া, চোখ মুখ ফুলে যাওয়া, বমি বমি ভাব, পেট
ব্যথা, এমনকি পাতলা পায়খানা যদি দেখা দেয়। তাহলে বুঝে নিতে
হবে যে এটা এলার্জি জনিত সমস্যা। আর এই সমস্যা যদি দেখা দেয়, তাহলে
এটা খাওয়া বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
FAQ/গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
এখন আমি গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড সম্পর্কিত কিছু আলোচিত প্রশ্নের উত্তর
আপনাদেরকে দেবো। চলুন তাহলে সেই আলোচিত প্রশ্নের উত্তরগুলো জেনে নেওয়া
যাক।
প্রশ্নঃ গর্ভাবস্থার আগে কি চিয়া বীজ খাওয়া উচিত?
উত্তরঃ আপনার যদি কোন ধরনের অসুখ বা বীজ জাতীয় খাবারে এলার্জি না থাকে। তাহলে
অবশ্যই এটি আপনি খেতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে সেটা যেন সঠিক পরিমাণে
খাওয়া হয় এবং টানা দীর্ঘদিন খাওয়া যাবে না।
প্রশ্নঃ চিয়া সিড কতক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হবে?
উত্তরঃ চিয়া সিড সাধারণত ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলেই হয়। তবে রাতে
এক গ্লাস পানিতে এক থেকে দুই চামচ চিয়া সিড ভিজিয়ে সকালে সেটা খাওয়া সব
থেকে বেশি উপকারী।
প্রশ্নঃ কাদের চিয়া সিড খাওয়া উচিত না?
উত্তরঃ যাদের বিশেষ কোনো অসুখ আছে তাদের খাওয়া উচিত না। যেমন যাদের বীজ
জাতীয় খাবারের এলার্জি আছে, যাদের ডায়াবেটিস আছে, যারা রক্ত পাতলা করার
ওষুধ খাচ্ছেন, যারা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাচ্ছেন, নিম্ন রক্তচাপের ওষুধ
খাচ্ছেন এবং যাদের পাঁচ বছরের নিচে বয়স তাদের এটি খাওয়া উচিত না।
প্রশ্নঃ চিয়া সিড খাওয়ার কতক্ষণ পর খাবার খেতে হবে?
উত্তর চিয়া সিড খাওয়ার কতক্ষণ পর খাবার খেতে হবে এ বিষয়ে কোনো
সময়সীমা উল্লেখ করা নাই। তবে এটি থেকে আপনি যদি সঠিক উপকার পেতে
চান, তাহলে চিয়া সিড খাওয়ার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর খাবার খাওয়া
উচিত।
প্রশ্নঃ চিয়া সীড খেলে কী ওজন বাড়ে না কমে?
উত্তরঃ চিয়া সিড মূলত আপনার খাওয়ার উপর নির্ভর করে ওজন বাড়ে এবং কমে।
চিয়া সিড লো ক্যালোরি যুক্ত একটি খাবার। এটা ওজন কমাতে অনেক
কার্যকরী। তবে আপনি যদি এটা অতিরিক্ত খান সেক্ষেত্রে শরীরে
ক্যালরি বেশি জমে ওজন বেড়ে যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় যদি চিয়া সিড সঠিক নিয়ম মেনে খাওয়া যায়, তাহলে সেটা মা এবং
পেটে থাকা সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হিসেবে
কাজ করবে। গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শরীর অনেক দুর্বল থাকে এবং ঘন
ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এ সময় অনেক গর্ভবতী মায়ের শরীরে রক্তের ঘাটতি দেখা যায়, সেই সাথে
কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যাও হয়ে থাকে। তাই এই সময় যদি নিয়ম করে চিয়া
সিড খাওয়া হয়, তাহলে গর্ভবতী মায়ের শরীরের মধ্যে থাকা পুষ্টির ঘাটতি
পূরণ করতে সাহায্য করে এবং শিশুর সঠিক বিকাশ হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে।
-
চিয়া সিডের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড থাকে।
গর্ভাবস্থায় যদি নিয়ম মেনে চিয়া সিড খাওয়া যায়, তাহলে সেটা
সন্তানের মস্তিষ্ক এবং স্নায়ু কোষের উন্নতি করতে সাহায্য
করবে।
-
গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের শরীরে রক্তের ঘাটতি দেখা দেয়। এ সময়
যদি চিয়া সীড খাওয়া হয় তাহলে সরিরে রক্ত তৈরি করতে সাহায্য
করবে। যেটা শরীরের রক্তের ঘাটতি পূরণ করবে।
-
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় এটা একটি সাধারণ
ব্যাপার। এ সময় চিয়া সিড যদি পরিমাণ অনুযায়ী খাওয়া হয়, তাহলে
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়।
-
গর্ভাবস্থায় যদি এটি খাওয়া হয় তাহলে সেটা গর্ভবতী মায়ের এবং পেটের
সন্তানের পেশী গঠন করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটা গর্ভবতী মায়ের
মনকে চাঙ্গা করে রাখতে সাহায্য করে।
-
একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে যে চিয়া সিডের মধ্যে দুধের থেকেও বেশি
ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এটা গর্ভাবস্থায় খাওয়া হলে পেটের
সন্তানের হাড়ের ও দাঁতের সঠিক গঠন করতে সাহায্য করে
এবং মায়েরও হাড়ের ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
-
গর্ভবতী মহিলার যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে এ সময় চিয়া
সিড তার জন্য অনেক উপকারী হতে পারে। কারণ চিয়া সিড খাওয়ার পর এটা
রক্তের মধ্যে থাকা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে বা কমাতে সাহায্য
করে।
-
গর্ভাবস্থায় যদি চিয়া সিড খাওয়া হয় তাহলে সেটা শরীরের পানির ঘাটতি
পূরণ করতে সাহায্য করে। কারণ চিয়া সিড খাওয়া হলে সেটা পেটের মধ্যে
পানি শোষণ করে এবং জেলির মতন আকার ধারণ করে। যেটা অনেকক্ষণ শরীরের মধ্যে
পানি ধরে রাখে এবং শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।
-
গর্ভাবস্থার সময় যদি চিয়া সিড খাওয়া হয়, তাহলে এর মধ্যে থাকা
প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান গুলো মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং ঘুমের মান
ভালো করে যার কারণে মানসিক যে চাপ বা টেনশন থাকে সেটা দূর হয়ে যায়।
-
এটি যদি নিয়ম করে গর্ভাবস্থায় খাওয়া হয়, তাহলে গর্ভবতী মায়ের শরীরে
অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে পারে না এবং অতিরিক্ত চর্বি থাকলে সেগুলো আস্তে
আস্তে কমে যেতে শুরু করে।
-
গর্ভাবস্থায় যদি চিয়া সিড খাওয়া হয়, তাহলে এতে থাকা প্রাকৃতিক কিছু
উপাদান শরীরের মধ্যে থাকা খারাপ টক্সিন বার করে দিতে সাহায্য করে
এবং শরীরকে রাখে সুস্থ ও সতেজ।
- যদি চিয়া সিড গর্ভাবস্থায় সঠিক নিয়মে খাওয়া হয়, তাহলে এটা গর্ভবতী মায়ের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং শরীরের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ যেমন সর্দি, কাশি, ঠান্ডা, জ্বর এগুলো থেকে রক্ষা করবে।
গর্ভকালীন সময়ে চিয়া সিড খাওয়া অনেক উপকারী। তবে এটা খাওয়ার আগে অবশ্যই
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর খেতে হবে। তা না হলে এটা নিরাপদ নাও হতে
পারে। আপনি যদি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সঠিক নিয়ম ও পরিমান অনুযায়ী এটি
গর্ভকালীন সময় খেতে পারেন। তাহলে এটা গর্ববতী মায়ের এবং পেটে থাকা
সন্তানের স্বাস্থ্যের অনেক উন্নতি সাধন করে।
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা
-
গর্ভাবস্থায় এটি যদি অতিরিক্ত খাওয়া হয়, তাহলে সেটা গর্ভবতী মায়ের
পেট ফাঁপা, পেটে গ্যাস হওয়া, বদহজমের মত সমস্যা হওয়া, হজম শক্তি কমে
যাওয়া এবং পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এটি অতিরিক্ত
না খেয়ে পরিমাণ অনুযায়ী খেতে হবে।
-
অনেকেই আছে যারা এটি শুকনো অবস্থায় খেয়ে থাকে। তবে এটি শুকনো অবস্থায়
খাওয়া উচিত নয়। কারণ গর্ভাবস্থায় যদি এটি শুকনো অবস্থায় খাওয়া হয়।
তাহলে সেটা গর্ভবতী মায়ের গলাতে লেগে যেতে পারে।
-
গর্ভবতী মা যদি রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেয়ে থাকে। এ সময় যদি চিয়া
সিডও খাওয়া হয় তাহলে সেটা গর্ভবতী মায়ের জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হতে
পারে। কারণ দুইটা একসাথে খেলে অতিরিক্ত রক্ত পাতলা হয়ে যেতে পারে
এবং সন্তান জন্মদানের সময় অতিরিক্ত রক্ত ঝরার সম্ভাবনা
থাকে।
-
গর্ভবতী মায়ের যদি আগে থেকেই এলার্জির সমস্যা থাকে। তাহলে এটি এড়িয়ে
চলা উচিত অথবা প্রথমে অল্প পরিমাণে খেয়ে দেখা উচিত। যদি এলার্জির
প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত সেটা খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
- চিয়া সিড ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই গর্ভবতী মহিলার যদি আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও রক্ত চাপ কম হয়ে থাকে অথবা রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের ওষুধ চলে। সে অবস্থায় যদি চিয়া সিড খাওয়া হয়। তাহলে সেটা অতিরিক্ত ডায়াবেটিস কমিয়ে দিতে পারে এবং রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে।
উপরে আমি যে অপকারিতা গুলো আলোচনা করলাম মনে রাখবেন এই অপকারিতা গুলো তখনই
হবে। যখন আপনি এটা অনিয়মে খাবেন। তাই এটি গর্ভাবস্থায় খাবার
আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন, তাহলে গর্ভবতী মা এবং পেটে থাকা
সন্তান দুজনেই সুস্থ থাকবেন এবং অপকারিতা গুলো থেকে বাঁচবেন। আপনি
চাইলে উপরে গিয়ে গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার
নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।
সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা
এটা থেকে উপকার পেতে হলে আপনাকে কিছু নিয়ম ফলো করা লাগবে। যেমন ধরেন এটা
থেকে যদি আপনি বেশি উপকারীতা পেতে চান, তাহলে সেটা আপনাকে সকাল বেলায় খালি
পেটে খেতে হবে। কারণ খালি পেটে যদি এটা খাওয়া হয়, তাহলে সেটা শরীরে ভালো
কাজ করে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করে। এটি সারাদিন শরীরের শক্তি ধরে রাখে ও
কাজে মনোযোগ বাড়ায়।
সকালবেলায় খালি পেটে যদি চিয়া সিড খাওয়া হয়, তাহলে সেটা হজম শক্তি বাড়াতে
সাহায্য করে। যার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে দূর হয়ে যায় এমনকি গ্যাসের
সমস্যা থাকলেও সেটা ভালো হয়ে যায়। যাদের অতিরিক্ত ওজন তারা যদি সকালবেলায়
খালি পেটে এটি খায়, তাহলে তাদের ওজন আস্তে আস্তে কমে যাবে এবং ওজন থাকবে
নিয়ন্ত্রণে। সকাল বেলায় খালি পেটে যদি খাওয়া হয়,
তাহলে সেটা শরীর থেকে খারাপ পদার্থ বার করে দিবে। যার কারণে শরীর থাকবে সুস্থ
ও সতেজ। যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে তারা তাদের ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণ
রাখার জন্য সকালবেলায় খালি পেটে চিয়া সিড খেতে পারেন। এতে ডায়াবেটিস থাকবে
একদম নিয়ন্ত্রণে। এছাড়াও এটি যদি খালি পেটে খাওয়া হয়। তাহলে এটা শরীরকে
হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে, শরীরে শক্তি বৃদ্ধি ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
কারণ এর মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম থাকে। যেটা শরীরে
শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং কাজে মনোযোগ বাড়ায়। শরীরের ক্লান্তি দূর
করে, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। যাদের ত্বকের সমস্যা আছে এবং
অতিরিক্ত চুল পড়ে তারা যদি নিয়মিত এটি খেতে পারে, তাহলে ত্বক ভিতর থেকে
ভালো হবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
সেই সাথে চুলের গোড়া হবে মজবুত এবং চুল অতিরিক্ত পড়া কমে যাবে এবং নতুন চুল
গজাতে শুরু করবে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতেও এটি
বেশ কার্যকরী। এক কথায় বলা যায় যে আপনি যদি সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খেতে
পারেন, তাহলে সেটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হবে। তবে সেটা অবশ্যই
আপনাকে সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।
ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
এটা যদি সঠিক নিয়ম মেনে পরিমান অনুযায়ী খাওয়া হয়, তাহলে এটা শরীরের ওজন
কমাতে সাহায্য করবে।আপনি যদি ওজন কমানোর জন্য চিয়া সিড খেতে চান, তাহলে
আপনাকে এটা সকালবেলায় খালি পেটে খেতে হবে। কীভাবে খাবেন চলুন সে সম্পর্কে
জেনে নাও। এটা আপনি রাতের বেলায় এক থেকে দুই চামচ এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে
সারা রাতের জন্য রেখে দিতে পারো। সেই ভেজানো চিয়া সিড সকালবেলায় উঠে।
সেটাতে দুই চামচ লেবুর রস তার সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে খালি পেটে অথবা
খাবারের আধাঘন্টা আগে খেতে পারো। তুমি যদি এ সময় এটি খেতে পারো, তাহলে সেটা
তোমার পেটকে অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখবে এবং খিদা কম লাগবে। যার কারণে অতিরিক্ত
খাওয়া কম হবে এবং আস্তে আস্তে তোমার শরীর থেকে চর্বি কমতে থাকবে। কারণ চিয়া
সিডের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ফাইবার থাকে।
এই ফাইবার মূলত পেটকে ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এটা কম ক্যালোরিযুক্ত একটি
খাবার তাই অতিরিক্ত শরীরের চর্বি হবে না। তুমি সকালবেলা ছাড়াও এটা রাতের
বেলাতে ঘুমানোর আগে খেতে পারো। এটা রাতের বেলায় এক গ্লাস দুধের সাথে অথবা
গরম কুসুম পানির সাথে এক থেকে দুই চামচ মিশিয়ে আধা ঘন্টা রাখার পর, সেটা
খেয়ে নিতে পারো। দিনে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ চামচ খাবেন এর থেকে বেশি খেলে সেটা
শরীরের ওজন কমানোর চেয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে।
এটা লেবু ছাড়াও দই এর সাথে, ওটস এর সাথে অথবা সালাদের সাথে মিশিয়ে খেতে
পারো। এটা আপনি দুপুর বেলাও খাওয়ার আধা ঘন্টা আগে খেতে পারো। তবে খেয়াল
রাখতে হবে, এটা যেন অতিরিক্ত না খাওয়া হয়। আর যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিসের
সমস্যা আছে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও নিম্ন রক্তচাপের ওষুধ খায় এবং যেসব মায়েরা
বুকের দুধ তাদের সন্তানকে খাওয়াই। তাদের এটি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ
নিয়ে খাওয়া উচিত।
চিয়া সিড খাওয়ার পরিমাণ
আপনি যদি চিয়া সিড থেকে ভালো উপকার পেতে চান, তাহলে অবশ্যই এটা আপনাকে সঠিক
পরিমাণ অনুযায়ী খেতে হবে। আর এই সঠিক পরিমাণ অনেকেই আছে যারা জানেনা। আর এই
না জানার কারণে অনেকেই এটি ভুল ভাবে খায় এবং ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আপনি যদি
আপনার স্বাস্থ্যের উপকারের জন্য এটি খেতে চান, তাহলে এটি দিনে ১ চামচ খেলেই
যথেষ্ট। আর আপনি যদি এটা ওজন কমানোর জন্য খেতে চান। সেক্ষেত্রে এটা ১ থেকে ২
চামচ দিনে ভাগ করে নিতে পারেন।
যেমন ধরেন সকালে এক চামচ খেলেন আর রাতে এক চামচ খেলেন। দিনে সর্বোচ্চ এক থেকে
দুই চামচ যেটার পরিমাণ দাঁড়াই প্রায় ২০ গ্রাম। দিনে ২০ গ্রামের বেশি চিয়া
সিড খাওয়া উচিত না। যদি এটা এই পরিমাণের থেকে বেশি খাওয়া হয়, তাহলে সেটা
স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যারা গর্ভবতী মহিলা এবং ছোট যারা বাচ্চা
তাদের দিনে এক থেকে দুই চামচ খাওয়াই নিরাপদ। তবে সেটা খেতে হবে অবশ্যই
চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভবতী মা এবং ছোট
বাচ্চাদের খাওয়া এটি উচিত না।
বাচ্চাদের চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
সাধারণত ১ থেকে ৫ বছরের নিচে বাচ্চাদের চিয়া সিড না খাওয়াই ভালো। তারপরেও
এটি বাচ্চাদের খাওয়ানো যেতে পারে যদি কিছু নিয়ম মেনে এটি খাওয়ানো যায়। যে
বাচ্চাদের দুই থেকে পাঁচ বছর বয়স। সে বাচ্চাদের জন্য এক চামচ চিয়া সিড চার
ভাগ করে, এক ভাগ এক গ্লাস পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে সেটাকে ভিজিয়ে রাখতে হবে
অন্তত ৩০ মিনিট।
যখন ভেজানো চিয়া সিড ফুলে জেলির মত নরম হয়ে যাবে। তখন সেটা বাচ্চাদেরকে
খাওয়াতে হবে। বাচ্চাদেরকে আপনি এই ভেজানো চিয়া সিড দইয়ের সাথে অথবা দুধের
সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। এছাড়াও আপনি এটা বিভিন্ন পায়েস অথবা মিষ্টি
জাতীয় কোন খাবারের সাথে মিক্স করে খাওয়াতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে চিয়া
সিড যেন ছোট বাচ্চাদেরকে শুকনো অবস্থায় খেতে না দেওয়া হয়।
এতে ছোট বাচ্চাদের গলাতে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ছোট বাচ্চাদের
খাওয়ানোর সময় অবশ্যই এটি আগে থেকে ভালোভাবে ভিজিয়ে খাওয়াতে হবে। এটি
খাওয়ানোর পর ছোট বাচ্চাদের বেশি বেশি পানি খাওয়াতে হবে। এটি খাওয়ার পর যদি
ছোট বাচ্চাদের পেটে গ্যাস হয় বা বমি ভাব অথবা এলার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা
দেয়, তাহলে দ্রুত এটা খাওয়া বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চিয়া সিড এর পুষ্টিগুণ
| পুষ্টি উপাদানের নাম | পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ | পুষ্টি উপাদানের কাজ |
|---|---|---|
| এন্টিঅক্সিডেন্ট | প্রচুর পরিমাণে থাকে | এটা ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে |
| ক্যালরি | ৫০ থেকে ৬০ ক্যালরি | শরীরের শক্তি উৎপন্ন করে |
| ফ্যাট | ৪.৫ গ্রাম | এটা হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় |
| ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড | ২.৪ গ্রাম | এটা মস্তিষ্ক হার্ট ও ত্বকের জন্য অনেক ভালো |
| প্রোটিন | ২ গ্রাম | এটা শরীরের পেশি গঠন করতে সাহায্য করে |
| ফাইবার | ৫ গ্রাম | হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে |
| ক্যালসিয়াম | ৭৭ মিলিগ্রাম | এটার দাঁতের ও হাড়ের গঠন ভালো করে এবং মজবুত করে |
| কার্বোহাইড্রেট | ৬ গ্রাম | এটা ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে |
| ফসফরাস | ৯০ মিলিগ্রাম | কোষের শক্তি উৎপাদন করতে সাহায্য করে |
| জিংক | ০.৫ মিলিগ্রাম | রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে |
| আইরন | ১ মিলিগ্রাম | শরীরের মধ্যে রক্তের ঘাটতি পূরণ করে |
| পানি | ১১ থেকে ১২ গুণ | পেটকে ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে |
| ম্যাগনেসিয়াম | ৪০ মিলিগ্রাম | পেশি ও নার্ভের ফাংশন ভালো রাখে |
FAQ/ চিয়া সিড সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
এখন আমি আপনাদেরকে চিয়া সিড সম্পর্কিত আলোচিত কিছু প্রশ্নের উত্তর দিবো। চলুন
আলোচিত সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো জেনে নেওয়া যাক।
প্রশ্নঃ চিয়া বীজের সাথে লেবু পানি খেলে কি ওজন কমে?
উত্তরঃ জি হাঁ আপনি যদি নিয়মিত চিয়া বীজের সাথে লেবু পানি মিশিয়ে সেটা সকাল
বেলায় খালি পেটে খেতে পারেন অথবা রাতে ঘুমানোর আগে তাহলে এটাতে ওজন কমবে।
প্রশ্নঃ ওজন কমাতে দিনে কতবার চিয়া বীজ পান করা উচিত?
উত্তরঃ চিয়া সীড ওজন কমানোর জন্য ভালো একটি প্রাকৃতিক উপাদান। তবে এটা অতিরিক্ত
খাওয়া যাবেনা দিনে এক থেকে দুই চামচ অথবা পরিমাণে বিশ গ্রাম। এটা পানিতে
ভিজিয়ে দিনে দুবার খাওয়া উচিত।
প্রশ্নঃ চিয়া বীজ লেবু ও মধু খাওয়া যাবে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ এই তিনটি উপাদান একসাথে মিক্স করে খাওয়া যায়। এটি যদি একসাথে
মিক্স করে খাওয়া হয়, তাহলে সেটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সহ আরো অনেক উপকার
করবে। বিশেষ করে এটি যারা দ্রুত শরীরের ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য সবথেকে ভালো
একটি মিশ্রণ হতে পারে।
প্রশ্নঃ চিয়া সিড খেলে কি পেটের চর্বি কমে?
উত্তরঃ চিয়া সিড অনেকক্ষণ পেটকে ভরিয়ে রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা
কমিয়ে দেয়। যার কারণে অতিরিক্ত খাওয়া হয়না এবং শরীরে থাকা অতিরিক্ত চর্বি
আস্তে আস্তে কমে যেতে শুরু করে। তাই বলা যায় যে চিয়া সিড খেলে পেটের চর্বি কমে।
প্রশ্নঃ চিয়া সিড আর তোকমা কি একই?
উত্তরঃ অনেকেই আছে যারা মনে করে যে চিয়া সিড আর তোকমা দুইটা উপাদান এক জিনিস।
কিন্তু আসলে এটা সঠিক নয় এই দুইটি উপাদান একেবারেই একে অপরের থেকে আলাদা।
চিয়া সিড খেলে কি বুকের দুধ বাড়ে
চিয়া সিড বুকের দুধ বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু সরাসরি যে এটি বুকের দুধ
বাড়াতে পারে, এটা কিন্তু কোন ডাক্তারি বা বৈজ্ঞানিক ভাবে এখনো পাওয়া
যায়নি। চিয়া সিড এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান
থাকে। যেগুলো হচ্ছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ওমেগা থ্রি, ফাইবার এবং জল শোষণ
করার ক্ষমতা।
এই উপাদান গুলো মূলত পরোক্ষভাবে মায়ের বুকের দুধ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে। এগুলো মায়ের শরীরের পুষ্টির ঘাটতি থাকলে সেই ঘাটতি গুলোকে পূরণ করে
এবং বুকের দুধ বাড়াতে সাহায্য করে। দুধ বাড়ানোর জন্য আপনি চিয়া সিড এক
চামচ এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে ৩০ মিনিট পর খেতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ প্রতিদিন কতটুকু গাজর খাওয়া উচিত
এটি খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যেন অতিরিক্ত না খাওয়া
হয়। অতিরিক্ত খাওয়া হলে সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে
পারে। এটি খাওয়ার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া নিরাপদ হবে। আশা
করছি চিয়া সিড খেলে কি বুকের দুধ বাড়ে এই বিষয়ে ভালোভাবে জানতে
পেরেছেন।
লেখকের মন্তব্যঃ গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আমি আমার আর্টিকেলের মধ্যে
বিস্তারিত আলোচনা করেছি। চিয়া সিড যদি সঠিক নিয়মে এবং সঠিক পরিমাণে নিয়মিত
খাওয়া হয়, তাহলে এটা আমাদের শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হিসেবে কাজ
করবে। এমনকি এতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান গুলো শরীরের পুষ্টির ঘাটতি থাকলে
সেগুলো পূরণ করতে সাহায্য করবে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না অতিরিক্ত খেলে
সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আর যাদের কিডনির সমস্যা আছে বা ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে, তাদের এটি খাওয়ার আগে
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আপনি যদি আমার এই আর্টিকেল থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন,
তাহলে এই আর্টিকেলটি গর্ভবতী মহিলাদের শেয়ার করবেন এবং তাদেরকে জানার সুযোগ
করে দিবেন। এছাড়াও আপনার যদি কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে নিচে থাকা
কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url