বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা
বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম নিয়ে আজকের আলোচনা করা হবে এখানে আজকে আপনারা
বাসক পাতা কি কেন এই রস খাওয়া হয় বাসক পাতার উপকারিতা জানতে পারবেন।
এর পাশাপাশি এখানে আমরা বাসক পাতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, কাদের বাসক পাতার রস
খাওয়া উচিত নয়, বাসক পাতার রস কত দিন খাওয়া যায়, বাসক পাতা ফুটিয়ে খেলে কি
হবে এসব প্রশ্নের উত্তর বলেছি। তাই দেরি না করে চলুন বাসক পাতা সম্পর্কে
বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন।
পেজ সূচিপত্রঃ বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম
- বাসক পাতা কি? কেন এর রস খাওয়া হয়
- বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম
- বাসক পাতার সম্ভাব্য উপকারিতা
- বাসক পাতার রস খাওয়ার আগে যা জানতে হবে
- বাসক পাতার অপকারিতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- কাদের বাসক পাতার রস খাওয়া উচিত নয়
- বাসক পাতার রস কতদিন খাওয়া যায়
- বাসক পাতা ফুটিয়ে খেলে কি হয়
- কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
- বাসক পাতার রস সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নোত্তর (FAQ)
- মন্তব্যঃ বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম
বাসক পাতা কি? কেন এর রস খাওয়া হয়
বাসক পাতার রং সবুজ। এর পাতা দেখতে লম্বা ও ফুল সাদা হয়। বাসক পাতার বৈজ্ঞানিক
নাম Adhatoda vasica, কিন্তু অনেক জায়গায় এটাকে Justicia
adhatoda নামও বলা হয়। আয়ুর্বেদে এর পরিচিত নাম বাসা এবং
ইংরেজিতে Malabar nut ডাকা হয়। বাসক পাতা আয়ুর্বেদ ও ইউনানী
চিকিৎসাতে কাশি,
আরো পড়ুনঃ সকালে খালি পেটে মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম
কফ ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বহুদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। গবেষকেরা এই পাতার
মধ্যে ভাসিসিন নামের একটি প্রধান উপাদান পেয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে, কফ
পাতলা করার আধুনিক ঔষধ ব্রমহেক্সিন ভাসিসিন থেকে উদ্ভাবিত। এই তথ্য
একাধিক সূত্রে উল্লেখ আছে।
তাই বলে বাসকের রস ফার্মেসীর কফ সিরাপের মতো কাজ করবে, এটা ভাবা ভুল। ওষুধের
উপাদানের পরিমাপ মাপা থাকে, কিন্তু ঘরে বানানো রসে এই পরিমাণ মাপা থাকে না। একটি
গবেষণাতে দেখা গেছে, পাতা থেকে রস বার করার পদ্ধতি চেঞ্জ হলেই, রসের সক্রিয়
উপাদানের পরিমাণ পাল্টে যায়।
বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম
ইতোমধ্যেই বাসক কি এবং কেন এর রস খাওয়া হয় আপনারা জানতে পেরেছেন। তবে অনেকেই
বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম এখনো জানেনা। তাই এই মুহূর্তে আমরা এ পাতার রস
খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করবো। প্রথমে কয়েকটি তাজা বাসক পাতা নিবেন,
এরপর পাতাগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। ধুয়ে সিল পাটাই অথবা
ব্লেন্ডারে বেটে নিবেন। ভালোভাবে ব্লেন্ড করার পর পরিষ্কার সুতি কাপড়
অথবা ছাকনি দিয়ে ছেঁকে নিবেন। এতে এক চামচ মধু দিয়ে খেয়ে নিতে পারেন, তবে
ডাইবেটিস থাকলে মধু বাদ দিতে পারেন।
বাসক পাতার রস খাওয়ার পরিমাণ
বাসক পাতার রস কতটুকু খেতে হবে, এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন। বিষয় হচ্ছে বাসক পাতার
রস আপনি বাড়িতে তৈরি করে খাচ্ছেন, না ফার্মেসি থেকে বাসক পাতার সিরাপ নিয়ে
এসেছেন। এটার ওপর নির্ভর করবে কতটুকু খাওয়া উচিত। যেটা ফার্মেসিতে সিরাপ
পাওয়া যায়, এর সাথে বাড়ির তৈরি রসের তুলনা করলে হবে না।
কারণ ফার্মেসির সিরাপ অনেক ডাক্তারি গবেষণা ও পরীক্ষা চালিয়ে তৈরি করা হয়।
যেটার কার্যকারিতা বাড়ির তৈরি করা রসের থেকে বেশি। তাই আপনি যদি বাড়িতে বাসক
পাতার রস বানিয়ে খান। সেক্ষেত্রে প্রতিবার ১০ থেকে ২০ মিলি খেতে পারেন, দিনে
সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন বার।
আর ফার্মেসির সিরাপ ডাক্তারের বলা পরিমাণে খেতে হবে। বাসক পাতার রস খেয়ে ভালো
ফলাফল নিতে, চাইলে সকালে খালি পেটে খেতে পারেন। তবে বাসক পাতার রস তিতা,
তাই কারো পেটে সমস্যা দেখা দিলে সকালে হালকা কিছু খাবার খাওয়ার পর খেতে পারেন।
বাসক পাতার রসে যা মিশিয়ে খেতে পারেন
আমি আগেই বলেছি বাসক পাতার রস কিন্তু অনেক তিতা। আর এই তিতার কারণেই অনেকে এটা
খেতে পারে না বা খেতে অস্বস্তিবোধ মনে করে। তাই এই তিতা ভাব দূর করতে আপনারা এই
রসে এক চামচ মধু অথবা আদার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। আদার রস বা মধু মিশিয়ে খেলে
এর কার্যকারিতা আরো বেশি পাওয়া যাবে, তবে ডায়াবেটিস থাকলে মধু বাদ দিতে
পারেন।
সতর্কতাঃ আমি কিন্তু বাসক পাতার রসের মধু মিশিয়ে খেতে বলেছি। তবে
ডায়াবেটিস থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন অথবা এড়িয়ে চলবেন। আরেকটি
গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোন ভাবেই মধু মিশিয়ে
খাওয়াবেন না।
কারণ সিডিসি ও আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স বলে মধুতে থাকা জীবাণু
বীজ থেকে শিশুর মারাত্মক ইনফ্যান্ট বটিলিজম হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই ছোট
বাচ্চার ক্ষেত্রে মধু এড়িয়ে চলাই ভালো।
বানিয়ে রাখা যাবে কি, কখন খাওয়া বন্ধ করবেন
অনেকেই প্রশ্ন করেন বাসক পাতার রস বানিয়ে ফ্রিজে রেখে খাওয়া যাবে কি? আবার
অনেকেই জানেন না কখন এটা খাওয়া উচিত না, এ বিষয়ে। আমার পরামর্শ থাকবে বাসক
পাতার রস টাটকা বানিয়ে খাওয়া।
কারণ ফ্রিজে রাখলে এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে। তাই যখন
খাবেন, তখন যে পরিমাণ প্রয়োজন ততটুকুই বানানোর চেষ্টা করবেন। আরেকটি
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাসক পাতার রস খাওয়ার পর যদি বমি হয় বা বমি ভাব আসে,
পেট ব্যথা বাড়ে, ত্বকে লাল দাগ, চুলকানি, মুখ ও গলা ফোলা। কিংবা নিঃশ্বাস নিতে
কষ্ট হওয়ার মত সমস্যা দেখতে পান দ্রুত এটি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। আর এইসব
লক্ষণ দেখা দিলে বাড়িতে বসে না থেকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিতে
হবে।
বাসক পাতার সম্ভাব্য উপকারিতা
বাসক পাতা আয়ুর্বেদ ও ইউনানী চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে সর্দি, কাশি, কফ ও
শ্বাসকষ্ট চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে। বাসক পাতায় ভাসিসিন ও ভাসিসিনোন এর
মত কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। যেগুলো নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা করা হয়েছে।
এসব গবেষণায় কফ বের হতে সাহায্য করা, কাশি কমানো এবং শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা
দূর করতে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। তবে বাসক পাতার রসকে কোন রোগের নিশ্চিত
চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সাধারণ সর্দি কাশি যদি হয়,
আপনারা এটা ঘরোয়া উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু কাশি বা
শ্বাসকষ্ট যদি অনেক দিন থাকে, বিশেষ করে তিন সপ্তাহের বেশি শ্বাসকষ্ট বা কাশি
থাকলে শুধু বাসক পাতার রস দিয়ে হবে না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে
চিকিৎসা করাতে হবে।
বাসক পাতার রস খাওয়ার আগে যা জানতে হবে
বাসক পাতার রস খাওয়ার আগে আমাদেরকে এ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জানতে
হবে। বাসক পাতা বহুদিন ধরে সর্দি কাশি ও কফের মত অসুখে ঘরোয়া ও প্রচলিত
চিকিৎসা ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু বাসক পাতাকে একমাত্র রোগের চিকিৎসা ভাবলে
হবে না।
আবার এটা কিন্তু সবার শরীরে একরকম ভাবে কাজ নাও করতে পারে। বাসক পাতার রস
কতটুকু খেতে হবে এবং কতদিন খেতে হবে এর পর্যাপ্ত কোনো গবেষণা নেই বললেই চলে।
খুব বেশি এবং অনেক দিন নিজের ইচ্ছায় বাসক পাতার রস না খাওয়াই ভালো।
গর্ভবতী মায়েরা, ছোট শিশুরা অথবা বহুদিন ধরে থাকা রোগের চিকিৎসায় কোন ওষুধ
চললে বাসক পাতার রস খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ হবে। আরেকটি
গুরুত্বপূর্ণ কথা কাসি বা শ্বাসকষ্ট সব সময় সাধারণ সর্দি কাশি নাও হতে পারে।
তাই কাশি যদি অনেকদিন ধরে থাকে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, জ্বরের সঙ্গে কাশি
বাড়তে থাকে। সেক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায় এর উপর নির্ভর না করে, দ্রুত ডাক্তারের
পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
বাসক পাতার অপকারিতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবার ক্ষেত্রে বাসক পাতার রস সমস্যা নাও করতে পারে। তবে গবেষণায় পাওয়া গেছে,
কিছু ক্ষেত্রে বাসক পাতার রস সমস্যা তৈরি করতে পারে। এটা মূলত অতিরিক্ত ও
অনিয়মে খাওয়ার কারণেই হয়। চলুন বাসক পাতার অপকারিতা বা
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি সেগুলো সম্পর্কে একটু ধারণা নিই।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় লেবু খাওয়া যাবে কি?
১. বাসক পাতা খাওয়ার কারণে বমি ভাব, বমি বা পেটে সমস্যা হতে পারে। এর কারণ
বাসক পাতা অনেক তিতা এবং স্বাদ অনেক করা। অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে
অনেকে এটা সহ করতে পারেনা, ফলে এই সমস্যাটা দেখা দেয়।
২. এলার্জি সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম, তবুও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে
এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি বাসক পাতা খাওয়ার পর ত্বক চুলকায়,
ত্বকে ফুসকুড়ি বার হয়, মুখ গলা ফুলে যায় অথবা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবে
দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
৩. অতিরিক্ত বাসক পাতা সেবন করলে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা
রয়েছে। প্রাণীর ওপর বেশ কিছু গবেষণা করে পাওয়া গেছে, বাসকের পাতা রক্তে
গ্লুকোজ কমিয়েছে। এমনকি মানুষের উপর রিসার্চ করেও এই প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই
যাদের ডায়াবেটিসের ওষুধ চলছে, তারা এটি খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
কাদের বাসক পাতার রস খাওয়া উচিত নয়
বাসক পাতার রস প্রাকৃতিকভাবে উপকারী হলেও, কিছু মানুষ আছে যাদের খাওয়া উচিত
নয়। এখন আমি তাদের বাসক পাতার রস খাওয়া উচিত নয় এ বিষয়ে আলোচনা করব
তাই এই পয়েন্টটি গুরুত্ব সহকারে করার চেষ্টা করবেন।
১. গর্ভবতী মায়েদের বাসক পাতার রস খাওয়া উচিত নয়।
২. যেসব মায়েরা সন্তানকে দুধ পান করায় বা স্তনদানকারী মায়েদের বাসক পাতার রস
খাওয়া উচিত নয়।
৩. ছোট শিশুদের বাসক পাতার রস খাওয়া উচিত নয়।
৪. নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ চললে বা ডায়াবেটিস আছে, এরকম রোগীদের বাসক পাতার
রস খাওয়া উচিত না।
৫. হাঁপানি বা দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস রোগীদের ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া বাসক পাতার
রস খাওয়া উচিত নয়।
সতর্কতাঃ উপরে আমরা যাদের কথা বললাম, আপনারা কখনো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া
বাসক পাতার রস নিজের ইচ্ছায় খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। এটাতে বড় ধরনের ঝুঁকি
তৈরি হতে পারে। তাই সাবধান থাকবেন।
বাসক পাতার রস কতদিন খাওয়া যায়
বাসক পাতার রস ঠিক কতদিন খাওয়া যায় বা কতদিন খাওয়া উচিত, এর কোন নির্ভরযোগ্য
তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই আপনারা যদি সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায়
ঘরোয়া উপায় হিসেবে বাসক পাতার রস খেতে চান। সেক্ষেত্রে অল্প কিছুদিনের জন্য
এটা ব্যবহার করতে পারেন।
যদি কাশি, সর্দি বা শ্বাসকষ্ট কমে গেলে বন্ধ করে দিবেন। অল্প কিছুদিন বলতে এক
সপ্তাহ এর থেকে বেশি না। কখনোই এটাকে প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করবেন না।
যদি এক সপ্তাহ খাওয়ার পর ভালো ফল না পান সেক্ষেত্রে দ্রুত ডাক্তারের কাছে
যাবেন।
বাসক পাতা ফুটিয়ে খেলে কি হয়
বাসক পাতা পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেকে খাওয়ার পদ্ধতি অনেক পুরনো ও
প্রচলিত। এটা বানানো অনেক সহজ, পাতাগুলো পরিষ্কার করে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে
ভালোভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিলেই হয়ে যাবে। বাসক পাতা পানিতে ফোটালে এই
পাতাতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান গুলো ভালোভাবে মিশে যায়।
এভাবে বাসক পাতার পানি তৈরি করে কাশি, কফ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় মানুষ
ব্যবহার করে থাকে। কিছু গবেষণায় বাসক পাতার পানি ফুটিয়ে খেলে কাশি, কফ ও
শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এর উপকার
কতটা নিশ্চিত এর কোনো ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। এজন্য এটি সেবন করার আগে
ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
১) যদি আপনার কাশি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি থাকে তাহলে কখনোই দেরি করবেন
না দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
২) কাশির সাথে ওঠা কফে যদি রক্ত দেখতে পান। অর্থাৎ কফের সাথে রক্ত উঠলে
দেরি করা উচিত না, দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
৩) যদি শ্বাসকষ্টের সাথে বুকে চাপ ধরে বা ঘরঘর শব্দ হয়, তাহলে দ্রুত
ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
৪) যদি জ্বর অনেক বেশি হয়, তারপর ওজন কমে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দেয়।
এমনকি রাতে যদি শরীর ঘামে, তাহলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
৫) ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী বা হাঁপানি রোগে ভুগছেন, এরকম
মানুষদের দ্রুত ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৬) যদি বাসক পাতা খাওয়ার পর এলার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অর্থাৎ
ত্বকে চুলকানি, ত্বক লাল হওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা হলে দ্রুত
ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।
বাসক পাতার রস সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্নঃ বাসক পাতার বৈজ্ঞানিক নাম কি?
উত্তরঃ বাসক পাতার বৈজ্ঞানিক নাম Adhatoda vasica। কিন্তু অনেক
জায়গা অর্থাৎ অনেক বই ও গবেষণায় এই গাছকে Justicia adhatoda নামেও
বলা হয়।
প্রশ্নঃ বাসক পাতা চেনার উপায় কী?
উত্তরঃ বাসক পাতা দেখতে সবুজ এবং গুল্ম জাতীয় গাছ এর পাতা লম্বা ব
এবং ডালে মুখোমুখি জোড়ায় জোড়ায় থাকে এর ফুল হয় সাদা তবে শুধু লেখা
পড়ে বুঝতে পারা সম্ভব না তাই নিশ্চিত গাছটি চেনার জন্য আপনারা না শাড়িতে
বা ভেষজ চিকিৎসকের কাছে এর চারা এনে লাগাতে পারেন
প্রশ্নঃ বাসক পাতা কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তরঃ বাসক পাতা গ্রাম অঞ্চলে পাওয়া অনেক সহজ। কারণ এটা ঝোপ ঝাড়ে
এমনি এমনি জন্মায়। তাছাড়া আপনারা চাইলে গাছের নার্সারি অথবা ভেষজ বা
ইউনানী আয়ুর্বেদিক ওষুধের দোকানে এর চারা পেতে পারেন।
প্রশ্নঃ বাসক পাতা কাঁচা চিবিয়ে খাওয়া নিরাপদ কি?
উত্তরঃ বাসক পাতা কাঁচা চিবিয়ে খাওয়া নিরাপদ হবে কিনা এর কোন
ক্লিনিকাল তথ্য গবেষণায় নেই, তাই এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরো পড়ুনঃ সকালে বাসি মুখে পানি খেলে কি হয়
প্রশ্নঃ ডায়াবেটিস থাকলে খাওয়া যাবে কি?
উত্তরঃ যদি ডায়াবেটিসের ওষুধ চলে অথবা ডায়াবেটিস থাকে। তাহলে
ডাক্তারকে জিজ্ঞেস না করে এটি খাওয়া উচিত না। কারণ বেশ কিছু গবেষণায়
পাওয়া গেছে বাসক পাতা রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিসের
ওষুধ চললে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
মন্তব্যঃ বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম
বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম খুব বেশি কঠিন নয়। এর পাতা
খাওয়া বা তৈরি করার আগে ভালো তাজা কিছু পাতা গাছ থেকে পেড়ে ধুয়ে
নিতে হবে। তারপর এগুলোকে সুন্দর করে বেটে রস বার করে অল্পমাত্রায় খেতে
হবে। কতটুকু খেতে হবে এবং কতদিন খেতে হবে এর কোন প্রমাণিত তথ্য গবেষণায়
পাওয়া যায়নি। তবে আপনারা সর্দি, কাশি, কফ বা শ্বাসকষ্টে সর্বোচ্চ এক
সপ্তাহ খেয়ে দেখতে পারেন।
যদি এক সপ্তাহ খাওয়ার পরেও সমস্যা না কমে, এটার ওপর নির্ভর করা উচিত হবে
না। দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আশাকরি আজকের আলোচনা থেকে আপনারা
বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম সহ বাসক পাতার উপকারিতা, বাসক পাতার অপকারিতা,
কাদের খাওয়া উচিত নয়, কতদিন খেতে হবে, ফুটিয়ে খেলে কি হয় এ রকম সকল
প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url