প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্নার নিয়ম

আজকে আমি প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্নার নিয়ম নিয়ে চলে এসেছি আপনাদের কাছে। আপনারা যারা প্রেশার কুকারে খিচুড়ি রান্না করতে চান। কিন্তু নিয়ম জানেন না, তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রেসার-কুকারে-খিচুড়ি-রান্নার-নিয়ম
কারণ আজকে এই পুরো আলোচনাতে কিভাবে প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করতে পারবেন? খিচুড়ি রান্নায় প্রেসার কুকারের সুবিধা সহ আরো অনেক তথ্য জানতে পারবেন। তাই আর দেরি না করে চলেন খিচুড়ি প্রেসার কুকারে কিভাবে রান্না করতে হয় তা জেনে নিন।

পেজ সূচিপত্রঃ প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্নার নিয়ম

প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্নার নিয়ম

প্রতিদিন অনেক মা বোন এমনকি ব্যাচেলর ভাইয়েরা ফেসবুকে, ইউটিউবে এবং গুগলে সার্চ করে প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্নার নিয়ম লিখে। তাই আমি মা বোন এবং আমাদের ব্যাচেলর ভাইদের জন্য কিভাবে প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করতে হয়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আশাকরি আপনারা যদি বাড়িতে প্রেসার কুকারে আমার এই নিয়ম মেনে খিচুড়ি রান্না করতে পারেন।
তবে আপনার খিচুড়ি অনেক স্বাদ ও মজার হবে। এখন আমি আপনাদেরকে এক কেজি চালের খিচুড়ি রান্নার রেসিপি বলবো। খিচুড়ি রান্না করার আগে আপনাকে খিচুড়ি রান্নার প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো জোগাড় করতে হবে। তাই প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করতে কি উপকরণ লাগবে, তা প্রথমে আমরা আলোচনা করে নেব। প্রথমে এক কেজি চাল নিবেন ৩০ গ্রাম মুগডাল,

৩০ গ্রাম ছোলা বা বুটের ডাল, ৩০ গ্রাম মসুর ডাল নিবেন। এখানে আপনি যেকোনো এক ধরনের ডাল ব্যবহার করেও রান্না করতে পারবেন। কিন্তু এই তিন ধরনের ডাল দিলে খিচুড়িতে স্বাদ বেশি পাওয়া যাবে। দুই থেকে তিনটা মাঝারি সাইজের পিয়াজ কুচি করে নিবেন। আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১.৫ চা চামচ জিরা বাটা ১ চা চামচ, হলুদের গুড়া ১ চা চামচ, মরিচের গুড়া পরিমাণ মতো,

দারুচিনি ৩ টা এলাচ ২ টা, লবন পরিমাণ মতো, তেল ১০০ গ্রাম ও পানি ২ কেজি। কিন্তু পোলাও চাল হলে ২ কেজিতে ৫০গ্রাম কম পানি দিবেন। পানি বাদে এই উপকরণগুলো পেশার কুকারে ঢেলে ভালোভাব হাত দিয়ে কচলিয়ে মেরিনেট করে পানি দিবেন। তারপর এই খিচুড়ির স্বাদ বাড়ানোর জন্য, এতে আপনি দুইটি আলু ছোট ছোট মাঝারি সাইজে কেটে নিবেন। একটি গাজর অর্ধেক কুচি কুচি করে কাটবেন।

আর মটরশুঁটি বাড়িতে থাকলে দিবেন। খিচুড়ির ঘ্রাণ বাড়াতে আপনি এখানে ধনিয়া পাতা দিতে পারেন। তারপর প্রেসার কুকারের ঢাকনা লাগিয়ে তিনটা সিস দিবেন। তারপর আগুন থেকে নামিয়ে নিবেন। আগুন থেকে নামিয়ে ১২ মিনিট রেখে ঢাকনা খুলবেন। তাহলে আপনার খিচুড়ি রান্না করা হয়ে যাবে। আর আপনি যদি এই সব উপকরণ একসাথে না দেন। তবে প্রথমে তেজপাতা দিবেন, দারুচিনি দিবেন, পেয়াজ দিবেন, 

এলাচ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজের বাটা অল্প, রসুনের বাটা, আদার বাটা সহ গরম তেলে দিয়ে ভালোভাবে ভেজে নিবেন। মসলা যখন ভালোভাবে ভেজানো হয়ে যাবে। তখন আপনারা এই ভাজানো মসলাতে চাল এবং ডাল ভালোভাবে ধুয়ে ঢেলে দিবেন। ভালোভাবে চাল মসলার সাথে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করবেন। তারপর প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে প্রেসার কুকারে ঢাকনা লাগিয়ে তিনটা সিস দিয়ে নামিয়ে নেবেন।

প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করার সুবিধা

প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করার সুবিধা অনেক, এখনকার সময়ে বাড়ির প্রতিটা সদস্যই কমবেশি বিভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কেউ অফিস, কেউ পড়াশোনা, কেউ বাড়ির অন্যান্য কাজ করে। যার কারণে রান্না খুব তাড়াতাড়ি করার দরকার পড়ে। আর এই দরকারের জন্যই প্রেসার কুকার সব থেকে ভালো।

কারণ প্রেসার কুকারে খুব তাড়াতাড়ি রান্না করা হয়। এতে অল্প সময়ের মধ্যে রান্না করে খেয়ে অফিস, স্কুল এবং বাড়ির অন্যসব কাজও করা যায়। যাদের নরম খাবার পছন্দ, তাদের জন্যও পেশার কুকারে রান্না ভালো হতে পারে। কারণ প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করলে চাল ও ডাল ভালোভাবে সিদ্ধ হয়।

শুধুই যে তাড়াতাড়ি প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করা যাবে তা না। প্রেসার কুকারে রান্না করলে গ্যাসও কম খরচ হবে। কারণ প্রেসার কুকারে ভিতরে চাপ তৈরি হয়ে খাবার খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়ে রান্না হয়ে যায়। এতে চুলার ওপর বেশিক্ষণ প্রেসার কুকার রাখতে হয় না। 

যা গ্যাস বা জ্বালানির খরচ কমাতে সাহায্য করে। প্রেসার কুকারে রান্না করলে ঝামেলা কম হয়। আবার খেতেও অনেক স্বাদ লাগে। তাই আপনাদের যাদের তাড়াতাড়ি, ভালোভাবে সিদ্ধ ও মজাদার খাবার খেতে ভালো লাগে। তারা প্রেশার কুকারে রান্না করে খেয়ে দেখতে পারেন। এর যেমন সুবিধা আছে তেমনি এতে রান্না করে খাবার খেতে ভালো লাগে।

পেশার কুকারে খিচুড়ির জন্য যেসব উপকরণ লাগবে

দুই থেকে তিনটি পিয়াজ নিবেন। পেয়াজগুলোকে ভালো ভালো কুচি করে কাটবেন। তারপর এক কেজি চাল নিবেন। এই চালের সাথে মুগ ডাল, মসুরির ডাল এবং বুটের ডাল তিনটা মিলিয়ে একশ গ্রাম নিবেন। তারপর এক চামচ আদা বাটা, দেড় চামচ রসুন বাটা, এক চামচ জিরা বাটা, হলুদ এক চামচ, মরিচের গুঁড়া এবং কাঁচামরিচ স্বাদমতো,

তেজপাতা একটি, দারুচিনি ও এলাচ তিনটি করে, লবণ পরিমাণ মতো, তেল ১০০ বা ১২০ গ্রাম ও পানি দুই কেজি খিচুড়ি রান্নার উপকরণ হিসেবে লাগবে। যদি ঝুরঝুরা খিচুড়ি খেতে চান, তাহলে চালে ২ কেজি পানিতে ৫০ গ্রাম পানি কম দিবেন। এই খিচুড়িতে স্বাদ বাড়ানোর জন্য আপনারা দুইটি আলু ছোট মাঝারি করে কেটে দিবেন।

গাজর কুচিকুচি করে কেটে দেবেন, মটরশুটি থাকলে দিবেন। আর খিচুড়ির ঘ্রাণ বাড়ানোর জন্য আপনারা এতে ধনেপাতা কুচি কুচি করে কেটে দিয়ে দিবেন। এইসব উপকরণগুলো যদি ঠিকভাবে দিয়ে আপনি রান্না করতে পারেন। তবে এই খিচুড়ির স্বাদ ও ঘ্রাণে আপনি খিচুড়ির প্রেমে পড়ে যাবেন।

খিচুড়ি রান্নাতে কতটুকু পানি দিতে হয়

প্রেসার কুকার বাদে যদি আপনি খিচুড়ি রান্না করেন। তবে যে পরিমাণে চাল দিবেন, তার ডবল পরিমাণে পানি দিয়ে রান্না করবেন। অর্থাৎ আপনারা যদি ২ কেজি চাল দেন, তবে এখানে চার কেজি পানি দিবেন। আর পাঁচ কেজি চাল দিলে ১০ কেজি পানি দিবেন। কিন্তু আপনারা যদি প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করেন। তাহলে এখানে আপনারা ২কেজি চালের জন্য ১৯০০ গ্রাম। অর্থাৎ ১কেজি ৯০০ গ্রাম পানি দিবেন।

আপনারা যদি নরম খিচুড়ি খেতে চান ২ কেজি চালে ৪কেজি পানি দিবেন। এর থেকে বেশিও দিবেন না, আবার কমও দিবেন না। আর শুকনো খেতে চাইলে দুই কেজি চালে, দুই কেজি পানিতে একটু কম দিবেন। আর প্রেসার কুকারে রান্না করার সময় প্রেসার কুকারে সিস দিবেন মোট তিনটা। এর থেকে বেশি দিলে পুড়ে যেতে পারে। তাই তিনটা সিস দেওয়া হলেই নামিয়ে নেবেন। পোলাওয়ের চাল হলে দুইটা সিস হওয়ার পর তিনটা শেষ ওঠার আগ মুহূর্তে নামিয়ে নিবেন।

প্রেসার কুকারে কোন ধরনের খিচুড়ি রান্না করা যায়

প্রেসার কুকারে কমবেশি সব রকমেরই খিচুড়ি আপনি বানাতে পারবেন। এখানে সবজি খিচুড়ি থেকে শুরু করে আপনি ভুনা খিচুড়ি বানাতে পারবেন। মুরগির মাংস দিয়ে খিচুড়ি বানাতে পারবেন, গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি বানাতে পারবেন। ডিম খিচুরি বানাতে পারবেন।
প্রেসার-কুকারে-খিচুড়ি-রান্নার-নিয়ম
তারপর পাতলা খিচুড়ি ও মসলাদার খিচুড়ি সহ আরো ভিন্ন ভিন্ন আইটেমের খিচুড়ি বানাতে পারবেন। কিন্তু এই খিচুড়ি বানানোর জন্য আপনার লাগবে সঠিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা। কারণ এই বিভিন্ন ধরনের খিচুড়ি রান্না করার জন্য মসলার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানতে হবে। তবেই খিচুড়িগুলো ভালোভাবে রান্না করা যাবে এবং এটা খেতে মজা ও স্বাদ ভালো পাওয়া যাবে। 

যদি আপনারা এই ভিন্ন ভিন্ন ধরনের খিচুড়ি রান্না করার নিয়ম জানতে চান। কমেন্ট বক্সে জানাবেন আমরা যদি আপনাদের সাড়া পাই তাহলে ভিন্ন ভিন্ন রকমের খিচুড়ি প্রেসার কুকারে কিভাবে রান্না করতে হয় তা নিয়ে একটি নতুন পোস্ট করবো। তাছাড়া এমনি সবজি খিচুড়ি কিভাবে রান্না করতে হয়। তা জানতে চাইলে উপরের পয়েন্ট প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্নার নিয়ম জেনে আসতে পারেন।

প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করতে কত সময় লাগে?

আমি যখন বাড়িতে প্রেসার কুকারে সবজি খিচুড়ি বানায়। তখন একটি কারেন্টের চুলাতে রান্না বসাই সব উপকরণ একসাথে মিক্স করে। চুলায় প্রেসার কুকার রাখার পর থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট সময় লাগে তিনটি সিস উঠতে। তিনটি সিস উঠলেই অনেক সুন্দর ভাবে খিচুড়ি রান্না হয়ে যায়। তবে আপনি যদি কারেন্টের চুলা বাদে কাঠের আগুনে। অথবা গ্যাসের চুলায় প্রেশার কুকারে খিচুড়ি রান্না চাপান। 
তাহলে খিচুড়ি রান্না হতে সময় আরো কম লাগবে। যেমন ২০ থেকে ২৫ মিনিট সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট। কিন্তু আপনি সবজি খিচুড়ি বাদে যদি ভুনা খিচুড়ি বা মাংস খিচুড়ি রান্না করেন। এতে প্রেসার কুকারে শিস বেশি লাগবে। যা এমনি সবজি খিচুড়ি থেকে সময় একটু বেশি লাগতে পারে। গ্যাসে বা কাঠের আগুনে রান্না করলে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগতে পারে মাংস খিচুড়ি রান্না হতে।

প্রেসার কুকারে কোন খাবার রান্না করা ভালো?

যারা চাকরিজীবী বা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত তাদেরকে তাড়াতাড়ি রান্না করে খেতে হয়। আর এই তাড়াতাড়ি রান্না করার জন্য পেশার কুকার সবথেকে ভালো। কারণ প্রেসার কুকারের মধ্যে চাপ তৈরি হয়ে। খাবার তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয় এবং খাবার রান্না করা যায়। অনেক চাকরিজীবী ফ্যামিলিতে এই প্রেসার কুকারের ব্যবহার বেশি দেখা যায়।

যেসব খাবার খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধ করার দরকার পড়ে, তা পেশার কুকারের মাধ্যমে করা যায়। প্রেসার কুকারে সবথেকে মানুষ রান্না করতে পছন্দ করে খিচুড়ি। কারণ খিচুড়ির ডাল ও চাল প্রেসারে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া মাংস সিদ্ধ করতে প্রেশার কুকার বেশি ব্যবহার করা হয়। কারণ গরুর মাংস,

মুরগির মাংস সিদ্ধ করতে সময় লাগে। যা পেশার কুকারে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়ে যায়। তারপর ডাল রান্না করার জন্য প্রেসার কুকার অনেক ভালো। ডাল সহজে সিদ্ধ হয় না, কিন্তু প্রেসার কুকারে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়ে যায়। এমনকি আপনারা হয়তো গরুর নেহেরী সম্পর্কে জানেন। এই নেহেরী অনেকক্ষণ ধরে আগুনে জাল দিয়ে রান্না করতে হয়। 

কিন্তু প্রেসার কুকারে এই নেহেরী আটটি সিস বা ১১টি শিস দিলেই সিদ্ধ হয়ে হয়ে যায়। এছাড়াও পেশার কুকারে সবজি, তরকারি, ভাত, পোলাও, বিরিয়ানি। তারপর অসুস্থদের জন্য নরম খাবার রান্না করা খুব ভালো হয়। এজন্য প্রেসার কুকারের ব্যবহার আপনারা কমবেশি সব বাড়িতেই দেখতে পাবেন।

খিচুড়ি রান্নার সময় যেসব ভুল করবেন না

খিচুড়ি প্রেসার কুকারে রান্না করা যতটা সহজ মনে হয়। আসলে কিন্তু অতটাও সহজ না। আপনারা খিচুড়ি পেশার কুকারে রান্না করার সময়, যদি একটু ভুল করেন। তাহলেই খিচুড়ি রান্নার স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং পুড়ে যেতে পারে। খিচুড়ি যেন খেতে মজা, ঝরঝরে হয়। তাই আপনারা একদম পরিমাণ মতো পানি দিবেন। খিচুড়িতে মুগের ডাল,

মুশুরের ডাল ও বুটের ডাল হালকা করে ভেজে দিবেন, এতে খিচুড়ির স্বাদ ভালো হবে। সবজি খিচুড়ি প্রেশার কুকারে দুই থেকে তিনটি সিস দিলেই হয়ে যায়। এর থেকে বেশি দিলে পুড়ে যেতে পারে এবং বেশি নরম হয়ে যেতে পারে। তাই অল্প আগুনের তাপে আস্তে আস্তে দুই থেকে তিনটি সিস দিয়েই নামিয়ে নেবেন। মসলা অত বেশি কষাবেন না,

নইতো খিচুড়ি স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সব সময় খিচুড়ি রান্না করার আগে চাল ও ডাল ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন। প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্নার পর বেশি নাড়াচাড়া করবেন না। নাতো ঝরঝরে খিচুড়ি ভেঙ্গে গিয়ে নরম হয়ে যেতে পারে। রান্না করার সময় এসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে, আপনারা অনেক সুন্দর খিচুড়ি রান্না করতে পারবেন। যা খেতে অনেক মজার হবে।

খিচুড়ি রান্না করার সময় পুড়ে গেলে কি করবেন

প্রেসার কুকারে যদি আপনি ভুলক্রমে পানি কম দিয়ে দেন বা বেশি আগুনের তাপে যদি খিচুড়ি পুড়ে যায়। তাহলে খিচুড়ি ফেলে দিবেন না। যদি দেখেন আপনার খিচুড়ি পুড়ে গেছে, তাহলে তাড়াতাড়ি চুলা থেকে নামিয়ে নেবেন। তারপর খিচুড়ি বেশি নাড়ানাড়ি না করে। উপরের খিচুড়ি গুলো আস্তে আস্তে গামলাতে তুলে রাখবেন। খেয়াল রাখবেন নিচের পুড়ে যাওয়া খিচুড়ির সাথে,

যেন উপরের খিচুড়ি মিশে না যায়। যদি নিচের পুড়ে যাওয়া খিচুড়ির সাথে উপরের খিচুড়ি মিশে যায়। তাহলে খিচুড়ি পোড়া গন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আপনারা উপরের ভালো থাকা খিচুড়িগুলো আলাদা করে নিবেন। আর নেক্সট টাইমে যেন খিচুড়ি পুড়ে না যায়, এজন্য সঠিকভাবে পানি দিবেন। অল্প তাপে দিয়ে রান্না করবেন এবং প্রেসার কুকারে ৩টি সিসের বেশি দিবেন না।

(FAQ)প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নঃ প্রেসার কুকারে খাবার দ্রুত রান্না হয় কেন?
উত্তরঃ প্রেসার কুকারে খাবার তাড়াতাড়ি রান্না হয়। কারণ প্রেসার কুকারের মধ্যের তাপ বার হয়ে যায় না এবং ভেতরে এই তাপ চাপ সৃষ্টি করে খাবারকে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধ করে দেয়। যার কারণে খাবারে তাড়াতাড়ি মশলা মিশে যায় এবং খাবার খুব তাড়াতাড়ি রান্না হয়ে যায়।
প্রেসার-কুকারে-খিচুড়ি-রান্নার-নিয়ম
প্রশ্নঃ প্রেসার কুকারে ভাত রান্না করতে কত সময় লাগে?
উত্তরঃ সাদা ভাত প্রেসার কুকারে রান্না করতে দিলে তা দুইটা সিস দিলেই রান্না হয়ে যাবে। আর এই দুইটা সিস উঠতে সময় লাগবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। পেশার কুকারে খুব তাড়াতাড়ি ভাত রান্না করা যায়। এজন্য অনেকেই এতে খুব তাড়াতাড়ি ভাত রান্না করে সময় বাচায়।

প্রশ্নঃ ডায়াবেটিস হলে কি খিচড়ি খাওয়া যাবে?
উত্তরঃ যদি খিচুড়িতে সবজি এবং ডাল বেশি দিয়ে রান্না করা হয় তাহলে এই খিচুড়ি ডায়াবেটিস হলেও খাওয়া যাবে। ডাক্তারেরা মূলত খাদ্যযুক্ত খিচুড়ি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো বলেছেন এবং নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু এ খিচুড়িতে তেল ও মসলা খুব বেশি ব্যবহার করা যাবে না। আর খিচুড়ি যেন খুব শক্ত না থাকে।

প্রশ্নঃ ১ কেজি পোলাও চালে পানি কতটুকু লাগে?
উত্তরঃ পোলাও যদি ঝুরঝুরা করে রান্না করতে চান। তাহলে এক কেজি পোলাও চালে পানি লাগবে ১ কেজি ৮০০ গ্রাম। এর থেকে সামান্য একটু বেশি দিতে পারেন। কিন্তু পানি খুব বেশি দিলে পোলাও নরম হয়ে যেতে পারে। তাই পানির এই পরিমাণটায় ভালো হবে ঝরঝরে করে পোলাও রান্না করার জন্য।
প্রশ্নঃ গরুর গোস্ত রান্না করতে কয়টি সিস লাগে?
উত্তরঃ গরুর গোস্ত ভালোভাবে সিদ্ধ করার জন্য। আপনি পেশার কুকারে দিয়ে তিন থেকে চারটি সিস দিবেন। তাহলেই দেখবেন গরুর গোশত ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে গেছে। কখনোই চারটি সিস এর বেশি দিবেন না। নয়তো মাংস বেশি সিদ্ধ হয়ে গেলে খেতে ভালো লাগবে না। তাই আপনারা তিন থেকে চারটি সিস দিয়ে গরুর মাংস চুলা থেকে নামিয়ে নেবেন। যদি দেখেন সিদ্ধ কম হয়েছে, তাহলে পরবর্তীতে আরেকটি সিস দিয়ে নেবেন।

মন্তব্যঃ প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্নার নিয়ম

প্রেসার কুকারের খিচুড়ি খেতে আলাদাই স্বাদ লাগে। আর অনেকেই আছে যারা প্রেসার কুকারের খিচুড়ি ছাড়া খেতেই পছন্দ করেনা। আপনিও প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করে খেয়ে দেখতে পারেন। এটা কিন্তু খেতে আসলেই অনেক মজার হয় এবং স্বাদ অনেক সুন্দর পাওয়া যায়। আপনারা যদি প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্নার নিয়ম না জানেন। তাহলে উপরের প্রথম পয়েন্টের অংশটুকু পড়ে নিবেন।

তাছাড়া প্রেসার কুকারে খিচুড়ি রান্না করার সুবিধা এবং কি কি উপকরণ লাগবে তাও বলা হয়েছে। আপনারা যদি জানতে চান, প্রেসার কুকারে কোন খাবার রান্না করা ভালো তাও জানতে পারবেন। মসলার ব্যবহার খিচুড়িতে ঠিকভাবে করতে পারলে খিচুড়ির স্বাদ অনেক ভালো হবে। আর খিচুড়ি রান্নার সময় পানি এবং আগুনের তাপ ভালোভাবে খেয়াল করবেন এতে খিচুড়ি পুড়ে নষ্ট হবে না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url