লটকনের বিচি খেলে কি হয় এর ১১টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা
লটকনের বিচি খেলে কি হয় এবং লটকনের অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান? এখানে আপনি এই
বিচি খেলে কি হয় এবং এর অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
পাশাপাশি আপনারা এই লটকন খাওয়ার নিয়ম এবং এর উপকারিতা সম্পর্কেও বিস্তারিত
জানতে পারবেন। তাই দেরি না করে চলুন লটকনের বিচি সম্পর্কে সকল তথ্য জেনে
নিন।
পেজ সূচিপত্রঃ লটকনের বিচি খেলে কি হয়
- লটকনের বিচি খেলে কি হয়
- লটকনের অপকারিতা সম্পর্কে
- লটকনের উপকারিতা সম্পর্কে
- গর্ভাবস্থায় লটকন খাওয়ার উপকারিতা
- লটকন খাওয়ার নিয়ম
- FAQ/লটকনের বিচি সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- লটকনের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে
- লটকন খেলে কি ডায়াবেটিস বেড়ে যায়
- কিডনি রোগীরা লটকন খেতে পারবে কি
- লটকন খেলে কি ওজন বাড়ে
- লটকন কখন পাওয়া যায়
- FAQ/লটকন সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- লেখকের মন্তব্যঃ লটকনের বিচি খেলে কি হয়
লটকনের বিচি খেলে কি হয়
আপনারা অনেকেই আছেন যারা জানতে চান লটকনের বিচি খেলে কি হয়। লটকনের বিচি সরাসরি
খাওয়া উচিত না। কারণ লটকনের বিচিতে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে যে
উপাদানগুলো শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। অনেকেই এই বিচি ওষুধ হিসেবে
চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে। এই লটকনের বিচি যদি সঠিকভাবে তৈরি না করা
হয় এবং সঠিক নিয়মে যদি খাওয়া না হয়।
তাহলে এটা শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এটা অতিরিক্ত তিতা হওয়ার কারণে
অনেকের এটি খাওয়ার পর বমি বমি ভাব হয় এবং অনেকেরই পেটে গ্যাস, পেট ব্যথা এবং
পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হয়ে থাকে। এই লটকনের বিচি শক্ত হওয়ার কারণে এটা হজমের
সমস্যা তৈরি করতে পারে, যার কারণে পাতলা পায়খানার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই
লটকনের বিচি ছোট বাচ্চাদের খাওয়া উচিত না।
কারণ এটা যদি ছোট বাচ্চারা খায়, তাহলে তাদের পেটে বিষক্রিয়া হতে পারে। এছাড়াও
যাদের কিডনির সমস্যা, লিভারের সমস্যা আছে তাদেরেও এই বিচি খাওয়া উচিত না। কারণ
এই বিচি লিভার এবং কিডনির ওপর অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করে। এই লটকনের বিচি এমনি
খাওয়া উচিত না, তবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার করা যায়। অবশ্যই এটা চিকিৎসকের
পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করলে এটা থেকে উপকার পাওয়া যাবে। অনেকেই লটকনের
বিচি ভালোভাবে শুকিয়ে গুড়ো করে সেই পাউডার ব্যবহার করে। যা পেটের কৃমি দূর করতে
সাহায্য করে। লোকজনের কথা অনুযায়ী এই বিচির গুঁড়ো যদি সঠিক নিয়মে খাওয়া হয়,
তাহলে নাকি এটা পেটের গ্যাস ভালো করে, পেট ব্যাথা ভালো করে এবং জ্বর ভালো করে।
তবে আমার পরামর্শ থাকবে লটকনের বিচি খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া।
লটকনের অপকারিতা
লটকন উপকারী ফল হলেও এটা যদি খাওয়াতে অনিয়ম বা পরিমাণে অতিরিক্ত হয়, তাহলে এটা
শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। যা থেকে শারীরিক কিছু সমস্যা তৈরি হতে
পারে। তাই এখন আমি লটকনের অপকারিতা সম্পর্কে নিচে উল্লেখ করলাম।
গ্যাসের সমস্যাঃ আপনি যদি লটকন ফলটি পরিমাণ এর চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন, তাহলে
সেটা পেটের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ এই ফলটি একটু টক মিষ্টি
যার কারনে অতিরিক্ত খাওয়া হলে সেটা পেটের গ্যাস বাড়াতে পারে। ফলে পেট ব্যথা, পেট
ফাঁপা, পেট জ্বালাপোড়া করতে পারে।
ডায়রিয়ার সমস্যাঃ লটকনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকে। আর এই
লটকন যদি অতিরিক্ত খাওয়া হয়, তাহলে এটার মধ্যে থাকা এসিড পেটের মধ্যে জমা হয়ে,
হজমে সমস্যা এবং পাতলা পায়খানা তৈরি করতে পারে। তাই এটি অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমাণ
মতো খাওয়া উচিত।
বমি বমি ভাব হাওয়াঃ আপনি যদি এই ফলটি খাওয়ার সময় ভালোভাবে না ধুয়ে অথবা এই
ফলটির পচা অংশ আপনি যদি না দেখে খান, তাহলে পেটের মধ্যে অনেক সমস্যা তৈরি হতে
পারে এবং সেটা পেট ব্যথা ও তার সাথে বমি বমি ভাব তৈরি করতে পারে।
ডাইবেটিসের ঝুঁকিঃ লটকন অনেক উপকারী একটি ফল, তবে এটি প্রাকৃতিক হওয়ার কারণে এর
মধ্যে প্রাকৃতিক চিনি থাকে অনেক বেশি। আর এটা যদি পরিমাণে অতিরিক্ত খাওয়া হয়,
তাহলে সেটা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করতে
পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে। তারা এটি চিকিৎসকের
পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
বিষক্রিয়া হতে পারেঃ অনেকে আছে যারা লটকনের ফলের সাথে এর বিচি খেয়ে থাকে। এই
বিচি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ লটকনের বিচির মধ্যে এমন কিছু
বিষাক্ত উপাদান আছে যেগুলো শরীরের মধ্যে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।
কিডনি ও লিভারের ক্ষতিঃ লটকনের বিচি লিভার ও কিডনির উপর অনেক চাপ সৃষ্টি করে। যদি
এটা পরিমাণে খাওয়া হয়, তাহলে কোন সমস্যা হয় না। তবে অতিরিক্ত যদি এটি খাওয়া
হয়, তাহলে সেটা লিভার ও কিডনির উপর চাপ ফেলে কিডনি ও লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
এলার্জির সমস্যাঃ অনেকের ক্ষেত্রে লটকনের রস শরীরের মধ্যে এলার্জি সৃষ্টি করতে
পারে। যার কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া, শরীরে ফুসকুড়ি ওঠা, ত্বকে
চুলকানি ও লাল দাগ হয়ে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বাচ্চাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণঃ লটকনের উপরের যে অংশটা সেটা বাচ্চার জন্য নিরাপদ
কিন্তু বাচ্চাকে যদি লটকনের বিচি খাওয়ানো হয়, তাহলে সেটা তার স্বাস্থ্যের জন্য
বিপদজনক হতে পারে। কারণ লটকনের বিচিতে এমন খারাপ বা বিষাক্ত উপাদান আছে, যেগুলো
শিশুর জন্য অনেক খারাপ হতে পারে। এমনকি লটকনের বিচি ছোট বাচ্চারা খেতে গিয়ে সেটা
গলাতে আটকে যেতেও পারে। তাই তাদেরকে এই ফলটি খাওয়ার সময় বিচি ছাড়িয়ে খাওয়াতে
হবে।
পেট ফাঁপাঃ যাদের হজম শক্তি অনেক দুর্বল তারা যদি এটি অতিরিক্ত খায় তাহলে সেটা
পেট ফাঁপার মতো সমস্যা এবং বদহজম হতে পারে। এছাড়াও এই ফলটি খাওয়ার পর যদি
ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার না করা হয়। তাহলে এই ফল দাঁতের গোড়া ক্ষয় করতে পারে
এবং দাঁতের অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এটি খাওয়ার পর ভালোভাবে মুখ
পরিষ্কার করে নিতে হবে।
লটকনের উপকারিতা
লটকন অনেক উপকারী একটি ফল আমাদের শরীরের জন্য। এটি যদি নিয়ম ও পরিমাণ অনুযায়ী
খাওয়া হয়, তাহলে সেটা শরীরের অনেক সমস্যা দূর করে এবং শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে
সাহায্য করে। এটি খেলে আরো অনেক উপকারিতা পাওয়া যায় যেমন,
লটকনের ফল আপনি যদি সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ অনুযায়ী খান, তাহলে সেটা আপনার হজম
শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। কারণ লটকনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ফাইবার
থাকে। যেটা হজম করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে সেটা দূর করে।
এই ফলটি আপনি যদি নিয়ম করে খেতে পারেন, তাহলে সেটা আপনার শরীরের মধ্যে রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিবে। কারণ এই ফলের মধ্যে ভিটামিন সি ভালো পরিমাণে
থাকে। আর ভিটামিন সি থাকার কারণে সেটা শরীরের রোগ ভালো করে যেমন সর্দি, কাশি,
ঠান্ডা, জ্বর ইত্যাদি।
লটকন যদি নিয়মিত খাওয়া হয়, তাহলে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। লটকন ত্বকের
উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। যদি নিয়মিত খাওয়া হয়,
তাহলে এটা বয়সের ছাপ দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনকি লটকন শরীরের
মধ্যে থাকা খারাপ টক্সিন দ্রুত বার করে দেয় এবং রক্তকে পরিষ্কার রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতেও এই ফলটির উপকারিতা অনেক। আপনি যদি আপনার ওজনকে নিয়ন্ত্রণে
রাখতে চান, তাহলে এই ফলটি নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করবেন। কারণ লটকন লো
ক্যালোরিযুক্ত একটি ফল এবং এর মধ্যে প্রাকৃতিক ফাইবার থাকে অনেক বেশি। যেটা
শরীরের মধ্যে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না এবং পেটকে অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখে। যার
কারণে খাওয়ার প্রবণতা কমে যায় ফলে আস্তে আস্তে ওজন কমতে শুরু করে।
এই ফলটি যদি খাওয়া হয়, তাহলে রক্তের মধ্যে কোলেস্টেরল এর মাত্রা অনেকটুকু কমবে।
যার কারণে হার্টে ভালোভাবে রক্ত চলাচল করতে পারবে এবং হার্ট সুস্থ থাকবে। এক
কথায় বলা যায় যে লটকনের মধ্যে মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃৎপিণ্ডকে ভালো
রাখতে সাহায্য করে।
যাদের শরীরে রক্তের ঘাটতি আছে তারা যদি লটকন খায়, তাহলে সেটা শরীরের মধ্যে
রক্তের ঘাটতি থাকলে পূরণ করতে সাহায্য করবে। কারণ লটকনের মধ্যে প্রাকৃতিক আয়রন
থাকে অনেক বেশি। যেটা রক্তের মধ্যে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে শরীরে রক্ত
উৎপন্ন করে।
এই ফলের মধ্যে ভিটামিন সি থাকে অনেক তার সাথে ক্যালসিয়াম, ফসফরাসও থাকে। যেগুলো
হাড়ের জন্য অনেক উপকারী। এটি যদি নিয়মিত খাওয়া হয়, তাহলে সেটা হাড়ের
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
এই ফলটি শরীরের দুর্বলতা দূর করে এবং শরীরের মধ্যে শক্তি উৎপন্ন করে। কারণ এই
ফলের মধ্যে ভিটামিন বি এবং প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। যেগুলো শরীরের মধ্যে শক্তি
উৎপন্ন করে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
এই ফলটি যে শুধু শরীরের জন্য উপকারীতা তা কিন্তু নয়। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধেও
অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ এর মধ্যে ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
থাকে, যেগুলো শরীরের মধ্যে থাকা ক্যান্সার উৎপন্নকারী কোষ ধ্বংস করে এবং
ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
লটকনের মধ্যে ভিটামিন সি থাকে যেটা দাঁতের মাড়ির রক্তপাত এবং মুখের স্বাস্থ্য
ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লটকন যেহেতু একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ
প্রাকৃতিক ফল সেহেতু এর মধ্যে অনেক প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান থাকে। যেগুলো চুলের
গোড়া শক্ত করে এবং অতিরিক্ত চুল পড়া কমিয়ে দেয়।
গর্ভাবস্থায় লটকন খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শরীর অনেক দুর্বল থাকে এবং অনেক অসুখ বিসুখ হয়। এ সময়
যদি লটকন খাওয়া যায়, তাহলে লটকনে থাকা ভিটামিন সি গর্ভবতী মায়ের শরীরের
দুর্বলতা কাটিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। যার
কারণে সহজে জ্বর, ঠান্ডা, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা হয় না।
গর্ভাবস্থায় মায়ের হজম শক্তি একটু দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় তাদের হজমের সমস্যা
হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। লটকন যদি গর্ভাবস্থায়
খাওয়া হয়, তাহলে সেটার মধ্যে থাকা ফাইবার খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং
মলকে নরম করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের ঘাটতি দেখা দিয়ে থাকে। এ সময় যদি লটকন
খাওয়া হয় তাহলে লটকন রক্ত উৎপন্ন করে এবং শরীরে রক্তের ঘাটতি থাকলে পূরণ
হয়। লটকনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ফসফরাস থাকে। যেটা গর্ভাবস্থায়
খাওয়া হলে মা এবং পেটে থাকা সন্তানের হাড়ের গঠন ভালো হয়।
মায়ের ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য খারাপ বা উষ্ণ হয়ে থাকলে। এ সময় যদি লটকন
খাওয়া হয়, তাহলে লটকনে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গর্ভবতী মায়ের
চুল এবং ত্বকের উষ্ণতা দূর করে ত্বককে রাখে মসৃণ এবং চুলের গোড়া করে শক্ত।
লটকনের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান গুলো গর্ভে থাকা শিশুর শরীর গঠনে অনেক
গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই উপাদানগুলো শিশুর শরীরের কোষ গঠন করে এবং তার
মস্তিষ্ক এবং রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এবং শিশুকে রাখে সুস্থ
ও সবল।
লটকন খাওয়ার নিয়ম
প্রতিদিন আপনি ৭ থেকে ৮টি লটকন খেতে পারেন। খাওয়ার পূর্বে ভালোভাবে ধুয়ে
খেতে হবে। এটা যেহেতু একটু টক জাতীয় ফল সেহেতু অতিরিক্ত বা বেশি পরিমাণে না
খাওয়ায় ভালো। বিশেষ করে খালি পেটে যেন এটা খাওয়া না হয়। তা না হলে পেটে
গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরো পড়ুনঃ পুরুষের জন্য মেথির উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম
এটি খাওয়ার সময় উপরের খোসা ভালোভাবে ছাড়িয়ে নিয়ে খেতে হবে। অবশ্যই খাওয়ার
সময় সতর্ক থাকবেন, যেন এই ফলটির বিচি না খাওয়া হয়। কারণ এই ফলের বিচিতে কিছু
বিষাক্ত উপাদান থাকে। যেগুলো পেটে গিয়ে হজমের সমস্যা তৈরি করে।
আপনি যদি এটা থেকে একটু বেশি স্বাদ নিতে চান? তাহলে সেটা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে
খেতে পারেন। এতে করে এটার স্বাদ ভালো পাওয়া যাবে। এটি খাওয়ার চেষ্টা করবেন
সন্ধ্যার আগেই কারণ রাতের বেলায় এটা খেলে অনেকের পেট ভারী, পেট ফাঁপা ও পেট
ব্যথার মত সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।
FAQ/লটকনের বিচি সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ লটকনের জন্য কোন জেলা বিখ্যাত?
উত্তরঃ লটকনের জন্য সবথেকে বিখ্যাত হচ্ছে নরসিংদী জেলা। এখান থেকেই প্রায় ৭০
ভাগের বেশি লটকন আমাদের দেশে সরবরাহ করা হয় বা আসে। এছাড়াও আরো কয়েকটি জেলা
আছে যেমন গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে
নরসিংদী।
প্রশ্নঃ কোথায় লটকন পাওয়া যায়?
উত্তরঃ এই লটকন ফলটি মৌসুমী ফল হওয়ার কারণে এটা বর্ষার সময় বাজারে পাওয়া যায়।
আপনি বর্ষাকালে আপনার নিকটস্থ বাজারে যেমন সবজির বাজার বা ফলের দোকানে এটি খুব
সহজেই পেয়ে যাবেন। এছাড়াও আপনি এই ফলটি অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে অর্ডার করতে
পারেন অথবা সুপার শপে এই ফলটি আপনি খুব সহজেই পেতে পারেন।
প্রশ্নঃ খালি পেটে লটকন খেলে কি হয়?
উত্তরঃ খালি পেটে লটকন খেলে সেটা অনেকের জন্য ভালো বা উপকারী হলেও এটা যেহেতু টক
মিষ্টি জাতীয় ফল। সেহেতু এটা যদি খালি পেটে খাওয়া হয় সেক্ষেত্রে পেটের মধ্যে
গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যার কারণে পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং পাতলা
পায়খানা হতে পারে।
প্রশ্নঃ লটকনের ইংরেজি কি?
উত্তরঃ আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন যে লটকনের ইংরেজি কি? লটকনের ইংরেজি হচ্ছে
Burmese Grape।
প্রশ্নঃ লটকনে কত ক্যালরি আছে?
উত্তরঃ আপনারা অনেকেই জানেন যে লটকন একটি ক্যালরিযুক্ত পুষ্টিকর ফল। তবে আপনারা
জানেন না যে এটার মধ্যে আসলে কত ক্যালরি থাকে। চলুন তাহলে এটা জেনে নেওয়া যাক।
প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনের মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ক্যালরি থাকে।
লটকনের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে
আপনারা অনেকেই জানেন না লটকনের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে। তাই এখন আমি আপনাদেরকে
জানাবো লটকনের মধ্যে কি কি পুষ্টি উপাদান থাকে সে সম্পর্কে। চলুন তাহলে আর
দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক।
| পুষ্টি উপাদানের নাম | পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ |
|---|---|
| ভিটামিন সি | ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম |
| ভিটামিন এ বিটা ক্যারোটিন | অল্প পরিমাণ |
| ভিটামিন বি১ | ০.৫ মিলিগ্রাম |
| ভিটামিন বি২ | ০.৫ মিলিগ্রাম |
| ক্যালসিয়াম | ১২ মিলিগ্রাম |
| ফসফরাস | ১৩ মিলিগ্রাম |
| আইরন | ১ মিলিগ্রাম |
| পটাশিয়াম | ৭০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম |
| ম্যাগনেসিয়াম | ৮ মিলিগ্রাম |
| অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট | স্বাভাবিক মাত্রায় |
| ফ্যাট | ০.৩ গ্রাম |
| প্রোটিন | ০.৭ গ্রাম |
| চিনি | ৯ গ্রাম |
| কার্বোহাইড্রেট | ১২ গ্রাম |
| ক্যালোরি | ৪৫ থেকে ৫০ গ্রাম |
লটকন খেলে কি ডায়াবেটিস বেড়ে যায়
আপনারা অনেকেই আছেন যারা জানতে চেয়েছিলেন যে লটকন খেলে কি ডায়াবেটিস বাড়ে। আপনি
যদি লটকন পরিমাণ ও নিয়ম মেনে খেতে পারেন, তাহলে ডায়াবেটিস বাড়বে না। তবে আপনি
যদি এটা পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত খান, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস বাড়তে পারে। কারণ
এর মধ্যে প্রাকৃতিক চিনি অল্প পরিমাণে থাকে।
যদি এটা অতিরিক্ত খাওয়া হয়, তাহলে সেই প্রাকৃতিক চিনি আস্তে আস্তে রক্তে
শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই লটকন খেতে হবে
সঠিক নিয়ম এবং পরিমাণ অনুযায়ী। আর যারা ডায়াবেটিসের রোগী আছেন তারা লটকন
খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। এছাড়াও লটকনের বিচি খেলে কি হয়
জানতে চাইলে উপরে বিস্তারিত পরে আসতে পারেন।
কিডনি রোগীরা লটকন খেতে পারবে কি
যারা কিডনি রোগী আছে তারা লটকন খেতে পারবে। তবে সেটা পরিমাণে অল্প করে এবং নিয়ম
মেনে। কারণ লটকনের মধ্যে পটাশিয়াম নামের একটি উপাদান আছে। যেটা কিডনি রোগীদের
শরীরের মধ্যে জমা হয় যা শরীর থেকে বার হতে পারে না। এটা কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি
করে এবং কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
তাই যারা কিডনি রোগী আছেন তারা এটি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর খাবেন। না তো
সেটা আপনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আর যাদের অতিরিক্ত কিডনির সমস্যা আছে তারা
এটা একেবারে খাবেন না। নাতো এটা শরীর দুর্বল, হার্ট ধুক ধুক এবং মৃত্যু পর্যন্ত
ঘটাতে পারে। তাই যারা কিডনি রোগী আছেন তারা এটি খাওয়ার আগে সাবধানতা অবলম্বন
করবেন।
লটকন খেলে কি ওজন বাড়ে
অনেকেই মনে করে যে লটকন খেলে ওজন বাড়ে। কিন্তু আসলে লটকন খেলে ওজন বাড়ে না।
লটকনের মধ্যে ক্যালরির পরিমাণ অন্যান্য ফলের থেকে অনেক কম থাকে। আর ক্যালোরি কম
থাকার কারণে ওজন বাড়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। তবে আপনি যদি লটকন অনেক বেশি
খান। তাহলে ক্যালরি শরীরের মধ্যে বেশি জমা হবে। আর আপনি যদি এই ফলটি খাওয়ার পর
ব্যায়াম না করেন বা একটু হাটাহাটি না করেন,
তাহলে আপনার শরীরে ক্যালরি জমা হবে এবং এটা আপনার ওজন বাড়িয়ে দিবে। আপনি যদি
এটা পরিমাণে অল্প খান, তাহলে এটা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে। কারণ এর মধ্যে
প্রাকৃতিক ফাইবার প্রচুর পরিমাণে থাকে। যেটা পেটকে অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখতে সাহায্য
করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। যার কারণে ঘন ঘন খাওয়া হয় না
এবং আস্তে আস্তে ওজন কমতে থাকে ও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
লটকন কখন পাওয়া যায়
লটকন কখন পাওয়া যায় এটা আপনারা অনেকে আছেন যারা জানেন না। লটকন
মূলত বর্ষাকালে পাওয়া যায়। এটা জুলাই মাস থেকে বাজারে ভালোভাবে পাওয়া
যায়। জুন মাসের শেষ দিকে এই ফলটি মূলত বাজারে আসা শুরু করে।
এ সময় এই ফলটি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। ফলে বাজারে এটার দাম তুলনামূলকভাবে কম
হয়ে থাকে। তারপর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি বাজারে ভালো পাওয়া যায়। এক কথায় বলা
যায় যে জুন মাসের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পর্যন্ত এই ফলটি বাজারে
পাওয়া যায়।
FAQ/লটকন সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ লটকন ফলে কোন কোন ভিটামিন রয়েছে?
উত্তরঃ লটকন ফলের মধ্যে যে ভিটামিন গুলো থাকে সে ভিটামিন গুলো হচ্ছে ভিটামিন সি,
ভিটামিন এ সহ ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি১ ও ভিটামিন বি৩ এবং ভিটামিন বি৯ ভালো
পরিমাণে থাকে।
প্রশ্নঃ লটকন খেলে কি কাশি হয়?
উত্তরঃ যাদের লটকনে এলার্জি আছে তাদের লটকন খেলে কাশির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাছাড়া লটকন খেলে কাশি হয় না বরং এটা কাশি ভালো করতে সাহায্য করে। কারণ এর
মধ্যে ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে থাকে।
প্রশ্নঃ লটকন কখন পাকে?
উত্তরঃ লটকন ফল আসলে জুন মাসের শেষ থেকে পাকা শুরু করে এবং এ সময় বাজারে এটা
ভালো পরিমাণে পাওয়া যায়। জুলাই আগস্টে এটা ভালো পরিমাণে পেকে যায় এবং সেটা
খেতেও অনেক সুস্বাদু হয়।
প্রশ্নঃ লটকন গাছে কত দিনে ফল ধরে?
উত্তরঃ আপনি যদি লটকন গাছ একদম বীজ থেকে উৎপন্ন করেন। তাহলে সেই গাছে ফল ধরতে
পাঁচ থেকে সাত বছর লাগবে। আর আপনি যদি কলম করা গাছ কিনে লাগান, তাহলে সেটা থেকে
এই ফল তিন বছরের মধ্যেই ধরা শুরু করবে।
আরো পড়ুনঃ মহিষের মাংসে কি এলার্জি আছে
প্রশ্নঃ নরসিংদী জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?
উত্তরঃ নরসিংদী জেলা আসলে লটকন ফল উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত। বর্তমানে
নরসিংদী জেলা লটকন ফল উৎপাদনের জন্য অনেক জনপ্রিয়।
লেখকের মন্তব্যঃ লটকনের বিচি খেলে কি হয়
লটকনের বিচি খেলে কি হয় এই সম্পর্কে আমি আমার আর্টিকেলের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা
করেছি। পাশাপাশি আমি লটকনের অপকারিতা এবং এটা গর্ভাবস্থায় খাওয়ার উপকারিতা
সম্পর্কেও জানিয়েছি। লটকনের বিচি শরীরের জন্য উপকারী একটি প্রাকৃতিক উপাদান।
কিন্তু এটা যদি সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে।
তাই অবশ্যই এই লটকনের বিচি সঠিক নিয়ম মেনে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া
উচিত। আপনি যদি আমার এই তথ্য থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন, তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার
পরিচিত মানুষদের কাছে শেয়ার করবেন। আর এই আর্টিকেলটি নিয়ে আপনার যদি কোন প্রশ্ন
বা মতামত থাকে অথবা আপনি যদি নতুন কোন বিষয়ে জানতে চান? তাহলে নিচে থাকা কমেন্ট
বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।

অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url