লটকনের বিচি খেলে কি হয় এর ১১টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

লটকনের বিচি খেলে কি হয় এবং লটকনের অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান? এখানে আপনি এই বিচি খেলে কি হয় এবং এর অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
লটকনের-বিচি-খেলে-কি-হয়
পাশাপাশি আপনারা এই লটকন খাওয়ার নিয়ম এবং এর উপকারিতা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাই দেরি না করে চলুন লটকনের বিচি সম্পর্কে সকল তথ্য জেনে নিন।

পেজ সূচিপত্রঃ লটকনের বিচি খেলে কি হয়

লটকনের বিচি খেলে কি হয়

    আপনারা অনেকেই আছেন যারা জানতে চান লটকনের বিচি খেলে কি হয়। লটকনের বিচি সরাসরি খাওয়া উচিত না। কারণ লটকনের বিচিতে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে যে উপাদানগুলো শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। অনেকেই এই বিচি ওষুধ হিসেবে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করে। এই লটকনের বিচি যদি সঠিকভাবে তৈরি না করা হয় এবং সঠিক নিয়মে যদি খাওয়া না হয়। 
    তাহলে এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এটা অতিরিক্ত তিতা হওয়ার কারণে অনেকের এটি খাওয়ার পর বমি বমি ভাব হয় এবং অনেকেরই পেটে গ্যাস, পেট ব্যথা এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হয়ে থাকে। এই লটকনের বিচি শক্ত হওয়ার কারণে এটা হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে, যার কারণে পাতলা পায়খানা হতে পারে। এই লটকনের বিচি ছোট বাচ্চাদের খাওয়া উচিত না।

    কারণ এটা যদি ছোট বাচ্চারা খায়, তাহলে তাদের পেটে বিষক্রিয়া হতে পারে। এছাড়াও যাদের কিডনির সমস্যা, লিভারের সমস্যা আছে, তাদেরেও এই বিচি খাওয়া উচিত না। কারণ এই বিচি লিভার এবং কিডনির ওপর অনেক বেশি চাপ দেয়। এই লটকনের বিচি এমনি খাওয়া উচিত না, তবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার করা যায়। তবে এটা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করলে, এটা থেকে উপকার পাওয়া যাবে। অনেকেই লটকনের বিচি ভালোভাবে শুকিয়ে গুড়ো করে সেই পাউডার ব্যবহার করে। যা পেটের কৃমি দূর করতে সাহায্য করে। লোকজনের কথা অনুযায়ী। এই বিচির গুঁড়ো যদি সঠিক নিয়মে খাওয়া হয়। তাহলে নাকি এটা পেটের গ্যাস ভালো করে, পেট ব্যাথা ভালো করে এবং জ্বর ভালো করে। তবে আমার পরামর্শ থাকবে লটকনের বিচি খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া।

    লটকনের অপকারিতা

    আমরা তো অনেকেই জানি যে লটকন খেলে আমাদের শরীরের অনেক অসুখ ভালো করা যায়। কিন্তু আমরা কি জানি এই লটকনের ভালো দিকের পাশাপাশি, এর কিছু খারাপ দিকও আছে। কিন্তু আরেকটি বিষয় আছে আপনি কিন্তু এই খারাপ দিকগুলো, তখনই দেখতে পাবেন। যখন আপনি এই লটকন ভুল নিয়মে খাবেন বা ব্যবহার করবেন।

    আপনি যখন ভুল নিয়মে লকটন খাবেন। তখন আপনার শরীরে অনেক রকম সমস্যা দেখা দিবে। যেমন ধরেন গ্যাসের সমস্যা বাড়তে পারে, ডায়রিয়া হতে পারে, বমি হতে পারে, ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে, পেটে বিষক্রিয়া হতে পারে। এমনকি কিডনি ও লিভারের উপরেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া যাদের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা আছে।

    তাদের এতে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেই সাথে ছোট বাচ্চাদের লটকন খাওয়ালে। তাদের শরীরের মধ্যে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। আরো অনেক খারাপ দিক আছে, যেগুলো আপনি নিয়ম না মেনে খেলে আপনার হবে। তাই লটকন খাওয়ার সময় আপনি সতর্ক থাকবেন। আর দরকার হলে আপনি এই লটকন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

    লটকনের উপকারিতা

    আপনারা অনেকেই জানেন যে লটকন খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। কিন্তু আপনারা কি জানেন যে এই ফল খেলে আসলে শরীরের জন্য কি কি উপকার পাওয়া যায়? আপনারা অনেকেই জানেন না। যাই হোক আপনারা যেন লটকন খাওয়ার উপকারিতা জানতে পারেন। এজন্য এখন আমি আপনাদেরকে এর ভালো দিকগুলো নিয়ে জানাবো।

    আপনারা যদি সঠিক নিয়মে এই ফল খেতে পারেন। তবে এটা আপনাদের শরীর ও স্বাস্থ্যের অনেক উপকার করবে। আপনাদের শরীর ও স্বাস্থ্যকে সুস্থ এবং শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া এটা হজমের সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও নিয়মিত আপনি যদি এই ফলের বিচি খেতে পারেন।

    তাহলে এতে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়বে। সহজে আপনার শরীর অসুস্থ হয়ে পড়বে না ত্বক ও চুল সুন্দর করার জন্যও কিন্তু লটকনের ভূমিকা অনেক থাকে। নিয়মিত খেলে চেহারাতে বয়সের ছাপ কমবে, চুল শক্ত ও সুন্দর হবে। আপনাদের যাদের দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে। তারাও কিন্তু লটকন খেতে পারেন।

    কারণ লটকন খেলে দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া সমস্যা থাকলে। আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যায়। আরো অনেক উপকারী গুণ আছে, যেগুলো বললে শেষ করা যাবে না। তবে এই উপকার গুলো নিতে হলে আপনাকে কিন্তু সঠিক নিয়মে লটকন খেতে হবে বা ব্যবহার করতে হবে। আর সবথেকে নিরাপদ হবে। যদি লটকন ব্যবহার করার আগে আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নেন।

    গর্ভাবস্থায় লটকন খাওয়ার উপকারিতা

    গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শরীর অনেক দুর্বল থাকে এবং অনেক অসুখ বিসুখ হয়। এ সময় যদি লটকন খাওয়া যায়, তাহলে লটকনে থাকা ভিটামিন সি গর্ভবতী মায়ের শরীরের দুর্বলতা কাটিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। যার কারণে সহজে জ্বর, ঠান্ডা, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা হয় না।

    গর্ভাবস্থায় মায়ের হজম শক্তি একটু দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় তাদের হজমের সমস্যা হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। লটকন যদি গর্ভাবস্থায় খাওয়া হয়, তাহলে সেটার মধ্যে থাকা ফাইবার খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং মলকে নরম করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
    লটকনের-বিচি-খেলে-কি-হয়
    গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের ঘাটতি দেখা দিয়ে থাকে। এ সময় যদি লটকন খাওয়া হয় তাহলে লটকন রক্ত উৎপন্ন করে এবং শরীরে রক্তের ঘাটতি থাকলে পূরণ হয়। লটকনের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ফসফরাস থাকে। যেটা গর্ভাবস্থায় খাওয়া হলে মা এবং পেটে থাকা সন্তানের হাড়ের গঠন ভালো হয়।

    মায়ের ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য খারাপ বা উষ্ণ হয়ে থাকলে। এ সময় যদি লটকন খাওয়া হয়, তাহলে লটকনে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গর্ভবতী মায়ের চুল এবং ত্বকের উষ্ণতা দূর করে ত্বককে রাখে মসৃণ এবং চুলের গোড়া করে শক্ত।

    লটকনের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান গুলো গর্ভে থাকা শিশুর শরীর গঠনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই উপাদানগুলো শিশুর শরীরের কোষ গঠন করে এবং তার মস্তিষ্ক এবং রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এবং শিশুকে রাখে সুস্থ ও সবল।

    লটকন খাওয়ার নিয়ম

    প্রতিদিন আপনি ৭ থেকে ৮টি লটকন খেতে পারেন। খাওয়ার পূর্বে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে। এটা যেহেতু একটু টক জাতীয় ফল সেহেতু অতিরিক্ত বা বেশি পরিমাণে না খাওয়ায় ভালো। বিশেষ করে খালি পেটে যেন এটা খাওয়া না হয়। তা না হলে পেটে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
    এটি খাওয়ার সময় উপরের খোসা ভালোভাবে ছাড়িয়ে নিয়ে খেতে হবে। অবশ্যই খাওয়ার সময় সতর্ক থাকবেন, যেন এই ফলটির বিচি না খাওয়া হয়। কারণ এই ফলের বিচিতে কিছু বিষাক্ত উপাদান থাকে। যেগুলো পেটে গিয়ে হজমের সমস্যা তৈরি করে।

    আপনি যদি এটা থেকে একটু বেশি স্বাদ নিতে চান? তাহলে সেটা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে খেতে পারেন। এতে করে এটার স্বাদ ভালো পাওয়া যাবে। এটি খাওয়ার চেষ্টা করবেন সন্ধ্যার আগেই কারণ রাতের বেলায় এটা খেলে অনেকের পেট ভারী, পেট ফাঁপা ও পেট ব্যথার মত সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

    FAQ/লটকনের বিচি সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

    প্রশ্নঃ লটকনের জন্য কোন জেলা বিখ্যাত?
    উত্তরঃ লটকনের জন্য সবথেকে বিখ্যাত হচ্ছে নরসিংদী জেলা। এখান থেকেই প্রায় ৭০ ভাগের বেশি লটকন আমাদের দেশে সরবরাহ করা হয় বা আসে। এছাড়াও আরো কয়েকটি জেলা আছে যেমন গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে নরসিংদী।

    প্রশ্নঃ কোথায় লটকন পাওয়া যায়?
    উত্তরঃ এই লটকন ফলটি মৌসুমী ফল হওয়ার কারণে এটা বর্ষার সময় বাজারে পাওয়া যায়। আপনি বর্ষাকালে আপনার নিকটস্থ বাজারে যেমন সবজির বাজার বা ফলের দোকানে এটি খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। এছাড়াও আপনি এই ফলটি অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে অর্ডার করতে পারেন অথবা সুপার শপে এই ফলটি আপনি খুব সহজেই পেতে পারেন।

    প্রশ্নঃ খালি পেটে লটকন খেলে কি হয়?
    উত্তরঃ খালি পেটে লটকন খেলে সেটা অনেকের জন্য ভালো বা উপকারী হলেও এটা যেহেতু টক মিষ্টি জাতীয় ফল। সেহেতু এটা যদি খালি পেটে খাওয়া হয় সেক্ষেত্রে পেটের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যার কারণে পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং পাতলা পায়খানা হতে পারে।

    প্রশ্নঃ লটকনের ইংরেজি কি?
    উত্তরঃ আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন যে লটকনের ইংরেজি কি? লটকনের ইংরেজি হচ্ছে Burmese Grape।

    প্রশ্নঃ লটকনে কত ক্যালরি আছে?
    উত্তরঃ আপনারা অনেকেই জানেন যে লটকন একটি ক্যালরিযুক্ত পুষ্টিকর ফল। তবে আপনারা জানেন না যে এটার মধ্যে আসলে কত ক্যালরি থাকে। চলুন তাহলে এটা জেনে নেওয়া যাক। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনের মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ক্যালরি থাকে।

    লটকনের মধ্যে থাকা পুষ্টিগুণের নাম ও কাজ

    পুষ্টি উপাদানের নাম পুষ্টি উপাদানের কাজ
    ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
    ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টি শক্তি ভালো করে
    ভিটামিন বি১ শরীরের শক্তি বাড়ায়
    ভিটামিন বি২ শরীরের কোষ রক্ষা করে এবং ত্বক ভালো রাখে
    ভিটামিন বি৩ হজম এবং মস্তিষ্কের জন্য ভালো
    ক্যালসিয়াম হাড়ের ও দাঁতের জন্য ভালো
    আয়রন রক্তের ঘাটতি পূরণ করে
    পটাশিয়াম রক্তের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে
    ম্যাগনেসিয়াম শরীর এবং মস্তিষ্ক সচল রাখে
    ফসফরাস হারকে শক্ত করে
    ফাইবার পেটের সমস্যা ভালো করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
    অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে খারাপ পদার্থ বার করে দেয়
    জিংক শরীরের অসুখ বিসুখ কম হয়

    লটকন খেলে কি ডায়াবেটিস বেড়ে যায়

    আপনারা অনেকেই আছেন যারা জানতে চেয়েছিলেন যে লটকন খেলে কি ডায়াবেটিস বাড়ে। আপনি যদি লটকন পরিমাণ ও নিয়ম মেনে খেতে পারেন, তাহলে ডায়াবেটিস বাড়বে না। তবে আপনি যদি এটা পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত খান, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস বাড়তে পারে। কারণ এর মধ্যে প্রাকৃতিক চিনি অল্প পরিমাণে থাকে।

    যদি এটা অতিরিক্ত খাওয়া হয়, তাহলে সেই প্রাকৃতিক চিনি আস্তে আস্তে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই লটকন খেতে হবে সঠিক নিয়ম এবং পরিমাণ অনুযায়ী। আর যারা ডায়াবেটিসের রোগী আছেন তারা লটকন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। এছাড়াও লটকনের বিচি খেলে কি হয় জানতে চাইলে উপরে বিস্তারিত পরে আসতে পারেন।

    কিডনি রোগীরা লটকন খেতে পারবে কি

    যারা কিডনি রোগী আছে তারা লটকন খেতে পারবে। তবে সেটা পরিমাণে অল্প করে এবং নিয়ম মেনে। কারণ লটকনের মধ্যে পটাশিয়াম নামের একটি উপাদান আছে। যেটা কিডনি রোগীদের শরীরের মধ্যে জমা হয় যা শরীর থেকে বার হতে পারে না। এটা কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

    তাই যারা কিডনি রোগী আছেন তারা এটি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর খাবেন। না তো সেটা আপনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আর যাদের অতিরিক্ত কিডনির সমস্যা আছে তারা এটা একেবারে খাবেন না। নাতো এটা শরীর দুর্বল, হার্ট ধুক ধুক এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। তাই যারা কিডনি রোগী আছেন তারা এটি খাওয়ার আগে সাবধানতা অবলম্বন করবেন।

    লটকন খেলে কি ওজন বাড়ে

    অনেকেই মনে করে যে লটকন খেলে ওজন বাড়ে। কিন্তু আসলে লটকন খেলে ওজন বাড়ে না। লটকনের মধ্যে ক্যালরির পরিমাণ অন্যান্য ফলের থেকে অনেক কম থাকে। আর ক্যালোরি কম থাকার কারণে ওজন বাড়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। তবে আপনি যদি লটকন অনেক বেশি খান। তাহলে ক্যালরি শরীরের মধ্যে বেশি জমা হবে। আর আপনি যদি এই ফলটি খাওয়ার পর ব্যায়াম না করেন বা একটু হাটাহাটি না করেন, 

    তাহলে আপনার শরীরে ক্যালরি জমা হবে এবং এটা আপনার ওজন বাড়িয়ে দিবে। আপনি যদি এটা পরিমাণে অল্প খান, তাহলে এটা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে। কারণ এর মধ্যে প্রাকৃতিক ফাইবার প্রচুর পরিমাণে থাকে। যেটা পেটকে অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। যার কারণে ঘন ঘন খাওয়া হয় না এবং আস্তে আস্তে ওজন কমতে থাকে ও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    লটকন কখন পাওয়া যায়

    লটকন কখন পাওয়া যায় এটা আপনারা অনেকে আছেন যারা জানেন না। লটকন মূলত বর্ষাকালে পাওয়া যায়। এটা জুলাই মাস থেকে বাজারে ভালোভাবে পাওয়া যায়। জুন মাসের শেষ দিকে এই ফলটি মূলত বাজারে আসা শুরু করে।

    এ সময় এই ফলটি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। ফলে বাজারে এটার দাম তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে। তারপর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি বাজারে ভালো পাওয়া যায়। এক কথায় বলা যায় যে জুন মাসের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পর্যন্ত এই ফলটি বাজারে পাওয়া যায়।

    FAQ/লটকন সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

    প্রশ্নঃ লটকন ফলে কোন কোন ভিটামিন রয়েছে?
    উত্তরঃ লটকন ফলের মধ্যে যে ভিটামিন গুলো থাকে সে ভিটামিন গুলো হচ্ছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ সহ ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি১ ও ভিটামিন বি৩ এবং ভিটামিন বি৯ ভালো পরিমাণে থাকে।
    লটকনের-বিচি-খেলে-কি-হয়
    প্রশ্নঃ লটকন খেলে কি কাশি হয়?
    উত্তরঃ যাদের লটকনে এলার্জি আছে তাদের লটকন খেলে কাশির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া লটকন খেলে কাশি হয় না বরং এটা কাশি ভালো করতে সাহায্য করে। কারণ এর মধ্যে ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে থাকে।

    প্রশ্নঃ লটকন কখন পাকে?
    উত্তরঃ লটকন ফল আসলে জুন মাসের শেষ থেকে পাকা শুরু করে এবং এ সময় বাজারে এটা ভালো পরিমাণে পাওয়া যায়। জুলাই আগস্টে এটা ভালো পরিমাণে পেকে যায় এবং সেটা খেতেও অনেক সুস্বাদু হয়।

    প্রশ্নঃ লটকন গাছে কত দিনে ফল ধরে?
    উত্তরঃ আপনি যদি লটকন গাছ একদম বীজ থেকে উৎপন্ন করেন। তাহলে সেই গাছে ফল ধরতে পাঁচ থেকে সাত বছর লাগবে। আর আপনি যদি কলম করা গাছ কিনে লাগান, তাহলে সেটা থেকে এই ফল তিন বছরের মধ্যেই ধরা শুরু করবে।
    প্রশ্নঃ নরসিংদী জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?
    উত্তরঃ নরসিংদী জেলা আসলে লটকন ফল উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত। বর্তমানে নরসিংদী জেলা লটকন ফল উৎপাদনের জন্য অনেক জনপ্রিয়।

    লেখকের মন্তব্যঃ লটকনের বিচি খেলে কি হয়

    আমি আশাকরছি লটকনের বিচি খেলে কি হয়? তা আপনারা ইতোমধ্যে জানতে পেরে গেছেন। আপনারা যদি লটকনের বিচি সঠিক নিয়ম মেনে খেতে পারেন। তাহলে এখান থেকে আপনারা ভালো স্বাস্থ্য উপকারিতা পাবেন। এমনকি আপনাদের যদি হজমে সমস্যা হওয়ার কারণে পেটে সমস্যা দেখা দেয়। তাহলে এই সমস্যাগুলো ভালো করতে,

    কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে পারবেন। তাই আমি বলবো লটকনের বিচি খেতে চাইলে। আপনারা আগে আমার দেওয়া এই তথ্যগুলো উপর থেকে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়ে আসবেন। আর লটকন খেয়ে যেন শরীরের কোন ক্ষতি না হয়। এজন্য আপনারা এই ফল বা ফলের বিচি খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url