কারি পাতা কোথায় পাওয়া যাবে? কারিপাতার ৯টি উপকারীগুণ
অনেকেই কারি পাতা কোথায় পাওয়া যাবে তা জানে না। কারণ এই কারি পাতা সব
জায়গায় পাওয়া যায় না। কারি পাতা রান্নাতে ব্যবহার করা হয়। এই
কারি পাতা আমাদের দেশের অনেক মানুষ রান্নাতে দিয়ে খায়।
এমন কি এটা ভারতে আরো বেশি ব্যবহার করা হয়। রান্নাতে কারি পাতা
দিলে খাবার অনেক স্বাদ হয়। আজকে আপনাদেরকে এই কারিপাতা কোথায় পাবেন,
কিভাবে ব্যবহার করবেন, কারি পাতা কীসের জন্য ভালো সব জানানো হবে।
পেজ সুচিপত্রঃ কারি পাতা কোথায় পাওয়া যাবে
-
কারি পাতা কোথায় পাওয়া যাবে
-
কারি পাতা কি এবং কেন এত জনপ্রিয়
-
কারি পাতা না পেলে কি করবেন
- বাড়িতে কিভাবে কারি পাতা চাষ করবেন
-
কারি পাতা কিভাবে সংরক্ষণ করবেন
-
কারী পাতার উপকারিতা কি
-
সব জায়গায় কারি পাতা পাওয়া যায় না কেন
-
কারি পাতা কেনার সময় কি দেখে কিনবেন
- কারি পাতা চেনার উপায় সম্পর্কে
- কারি পাতার ব্যবহার চুলের যত্নে
-
পেটের সমস্যায় কারি পাতার ব্যবহার
- কারি পাতা কিভাবে ত্বককে সুস্থ রাখে
- FAQ/সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
-
লেখক এর মন্তব্যঃ কারি পাতা কোথায় পাওয়া যাবে
কারি পাতা কোথায় পাওয়া যাবে
যারা কারি পাতার উপকারী গুণ জানে, তারা অনেকেই এই পাতা খুজে বেড়ায়। কারিপাতার
অনেক ভালো গুণ আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে এই কারিপাতা সব এলাকায় পাওয়া
যায় না। তাই কারি পাতা কোথায় পাওয়া যাবে, এই বিষয়ে জানতে আমি আপনাদেরকে
সাহায্য করবো। আপনি কি গ্রামে থাকেন?
আরো পড়ুনঃ ডুমুর ফল খেলে কি মাসিক নিয়মিত হয়
তাহলে একটু বন জঙ্গলে এই কারি পাতার গাছ খুঁজবেন। অনেক সময় মেঘ বৃষ্টির কারণে বন
জঙ্গলে এই গাছ হয়ে যায়। তাছাড়া আপনি এই পাতা হাটবাজারে যেয়ে খোঁজ নিতে
পারেন। হাটবাজারে যেগুলো মসলার দোকান, এই মসলার দোকানগুলোতে যদি তাদেরকে বলেন।
তাহলে হয়তো আপনি কারি পাতা পেয়ে যাবেন। সমস্যা হচ্ছে বাজারেও সব
সময়, এই পাতা পাওয়া যায় না।
তাই মাঝেমধ্যেই বাজারে বা হাটে গিয়ে কারিপাতার খোঁজ করবেন। আর যারা শহরে আছেন,
শহরের হাটবাজারে গিয়ে মসলার বা কাঁচা বাজারের দোকানে তাদেরকে বলবেন। অনেক
সময় কি হয়, যে বড় সুপার মার্কেটগুলো এই পাতা পাওয়া যায়। এই মার্কেটগুলোতে
ভেষজপাতা হিসেবে এবং রান্নার মসলা হিসেবে তারা রাখে। আপনি এই সুপার মার্কেটগুলোতে
গিয়েও দেখতে পারেন।
সুপারমার্কেটে গেলে এই পাতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশিরভাগ সম্ভাবনা আছে। যদি হাট
বাজারে বা সুপার মার্কেটে খোঁজ নিয়েও না পান। তবে আপনি একটু কষ্ট করে গাছের
নার্সারিতে গিয়ে দেখতে পারেন। যদি সেখানেও না পান, তবে তাদেরকে বলে রাখলে।
তারা অর্ডার দিয়ে এনে দিতে পারবে। অনলাইন থেকেও এই পাতা কিনতে পারেন। কিন্তু
অনেক সময় এই পাতা শুকনো পাওয়া যায়।
আবার অনেক সময় প্রতারণার শিকার হতে হয়। তাই এই পাতা অনলাইনে নেওয়ার সময় সতর্ক
হয়ে কিনতে হবে। তাছাড়া আমার মতে সবথেকে ভালো হবে। যে বাজারে বীজের দোকান
থেকে কারিপাতার বীজ এনে বাড়িতে লাগিয়ে গাছ তৈরি করা। এতে আপনারা ইচ্ছামতো
এই গাছের পাতা ব্যবহার করতে পারবেন। সেই সাথে আপনি চাইলে এই পাতা বাজারেও বিক্রি
করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
কারি পাতা কি এবং কেন এত জনপ্রিয়
কারি পাতা বেশিরভাগ রান্নাতে ব্যবহার করা হয়। যেসব রান্না একটু মসলাযুক্ত
হয়। বিশেষ করে ডাল তরকারি ও ভাজিতে কারিপাতা দিয়ে রান্না করা
হয়। কারিপাতা দিয়ে খাবার রান্না করলে, সেই খাবারে আলাদা একটা সুগন্ধ
পাওয়া যায় এবং খাবারের স্বাদও বাড়ে। যেটা খাবারের চাহিদা আরো বাড়িয়ে দেয়।
অনেকেই এই পাতার গন্ধ পছন্দ করে।
যার কারণে নিয়মিত এই পাতা দিয়ে তারা রান্না করে খায়। বড় বড়
হোটেলের রাধুনীরাও, তাদের রান্নাতে এই পাতা দেয়। শুধুই যে এটা
রান্নাতে মসলা হিসেবে কাজ করে, তা ভাবা ভুল হবে। কারণ এই পাতার মধ্যে
পুষ্টিগুণও ভালো পাওয়া যায়। এই পাতার মধ্যে প্রাকৃতিক কিছু ভিটামিন ও খনিজ
উপাদান থাকে। যেগুলো শরীরের জন্য এবং চুল ও ত্বকের জন্য অনেক ভালো।
এই পাতা রান্নার জন্য ভালো সেই সাথে শরীরের জন্যেও ভালো। তাই অনেকেই এই পাতা
ব্যবহার করা শুরু করেছে। এ জন্য দিন দিন এই পাতা জনপ্রিয় হয়ে
উঠেছে। আমার মতে আপনাদেরও এই পাতা রান্না করে খাওয়া দরকার। কিন্তু আরেকটি
সমস্যা হচ্ছে, যে এই পাতার সুগন্ধ আবার অনেকেই কিন্তু নিতে পারে না। তাই
যারা এই পাতার গন্ধ নিতে পারেন না, তারা খাবেন না।
কারি পাতা না পেলে কি করবেন
কারিপাতা সব সময় সব জায়গায় পাওয়া যায় না। তাই আপনি যদি রান্নার জন্য
কারিপাতা খুঁজে থাকেন। আর আপনি যদি খুজে না পান। তাহলে এই কারিপাতার বিকল্প
হিসেবে আপনি রান্নাতে ধনেপাতা ও তেজপাতা দিতে পারেন। যদিও কারি পাতার মতো
সুগন্ধ বা স্বাদ পাওয়া যাবে না। তার পরেও রান্না কিছুটা হলেও সুগন্ধ এবং
স্বাদযুক্ত করা যাবে।
তাছাড়া ধনেপাতা, তেজপাতা দিয়ে তরকারি বা খাবার রান্না করার সময়। একটু রসুন
আদা এবং মরিচ বেশি দিয়ে তরকারি রান্না করবেন। এতে স্বাদ ভালো পাওয়া
যাবে। আর কারি পাতার উপর যদি আপনার চাহিদা থাকে। তাহলে আমার মতে
বাজার থেকে বীজ কিনে এনে বাড়িতে গাছ লাগানোই ভালো হবে। এতে সব সময় আপনি আপনার
রান্নাতে কারীপাতা ব্যবহার করতে পারবেন।
বাড়িতে কিভাবে কারি পাতা চাষ করবেন
যারা নিয়মিত কারিপাতা দিয়ে রান্না করে। তাদের জন্য বাড়িতে এই কারি পাতা চাষ
করা ভালো হবে। কেননা বাড়িতে যদি কারিপাতার গাছ থাকে। তাহলে সেখান থেকে আপনি
তাজা পাতা যখন খুশি পেড়ে রান্নাতে দিতে পারবেন। আপনি হয়তো ভাবছেন যে
বাড়িতে কারি পাতা চাষ করা হয়তো কঠিন হবে।
কিন্তু এটা মোটেও কঠিন হবে না। প্রথমে আপনি কারিপাতার বীজ বাজার থেকে কিনে
নিয়ে আসবেন। বাজারে যদি না পান, তবে নার্সারি থেকে এ বীজ নিয়ে
আসবেন। তারপর আপনার বাগানে বা টবে মাটি ঝুরঝুরা করে রাখবেন। মাটিতে
অল্প একটু বালি এবং জৈব সার দিলে গাছ তাড়াতাড়ি বড় হবে।
তারপর একটু মাটি সরিয়ে বিচি লাগিয়ে দিবেন। এই বীজ মাটিতে বেশি গভীরে
লাগাবেন না। বেশি গভীরে বীজ লাগালে গাছ নাও হতে পারে। কারিপাতার বীজ যেখানে রোদ
আছে, সেখানে লাগাবেন। যখন মাটি শুকিয়ে যাবে, তখন পানি দিবেন। খুব বেশি পানি
দিবেন না। মাসে এক থেকে দুইবার জৈব সার দিতে পারেন। আর যখন গাছ বড় হয়ে
যাবে।
তখন গাছের ডালগুলো ছাঁটাই করবেন, এতে নতুন ডাল বাড়াবে। এইভাবে যদি আপনি আপনার
বাড়িতে বীজ এনে লাগিয়ে যত্ন নিতে পারেন। তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই, আপনার
বাড়িতে কারীপাতার গাছ হয়ে যাবে। তখন আপনি ইচ্ছামত এই পাতা ব্যবহার করতে
পারবেন। তাছাড়া আপনি চাইলে উপরের পয়েন্ট থেকে কারি পাতা কোথায় পাওয়া যাবে,
তা জেনে আসতে পারেন।
কারি পাতা কিভাবে সংরক্ষণ করবেন
আপনি কারি পাতা এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখতে পারবে। কিভাবে
এই পাতা সংরক্ষণ করে রাখবেন, তা এখন আপনাদের জানানো হবে। অনেকেই আছে
যারা কারিপাতা রান্নাতে ব্যবহার করে। আবার অনেকে আছে যারা, এই পাতা কাঁচা জুস
করে খাই।
আবার ত্বকে ও চুলে ব্যবহার করে। এই পাতা অনেক সময় পাওয়া যায় না। তাই যখন
কারিপাতা পাওয়া যায়, তখন এ পাতাগুলোকে ভালোভাবে সংরক্ষণ না করলে।
পাতাগুলো শুকিয়ে যাবে বা নষ্ট হয়ে যাবে। এই পাতাগুলো যেন নষ্ট না হয়ে যায়।
সেজন্য আপনি পাতাগুলোকে ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে। একটি পলিথিন ব্যাগে
ভালোভাবে বেঁধে ফ্রিজে রেখে দিবেন। এইভাবে রাখলে এক থেকে দুই সপ্তাহ এই পাতা
ফ্রিজে ভালো থাকবে। তাছাড়া আপনি চাইলে এই পাতা ভালোভাবে ধুয়ে রোদে
শুকিয়ে একটি বৈয়মে রেখে দিতে পারেন, এতে নষ্ট হবে না।
কারী পাতার উপকারিতা কি
কারিপাতা শুধু রান্নার জন্যই ভালো না। বরং এই পাতা নিয়মিত খেলে বা ব্যবহার
করলে। এটা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। কারণ কারিপাতাতে
শুধু সুগন্ধ থাকে না। সুগন্ধের পাশাপাশি এই পাতার মধ্যে কিছু প্রাকৃতিক পুষ্টি
উপাদান ও খনিজ উপাদানও থাকে। এগুলোই আমাদের শরীরের জন্য ভালো কাজ করে।
আরো পড়ুনঃ মিষ্টি আলু খেলে কি ওজন বাড়ে
যদি নিয়মিত খেতে পারেন, তাহলে হজমের সমস্যা থাকলে তা দূর হবে। আবার চুলের
গোড়ায় যদি এই পাতা বেটে দেন, তাহলে চুলের গোড়া শক্ত হবে। আর ত্বকে যদি
এই পাতা বেটে দেন, তাহলে ত্বক পরিষ্কার হবে এবং ত্বকের সমস্যা দূর হবে।
কারি পাতাতে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি,
ভিটামিন সি সহ আইরন পাওয়া যায়। যেগুলো আমাদের শরীরের ভিটামিনের এবং খনিজের
অভাব পূরণ করবে। যার ফলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে ও শরীর
সুস্থ থাকবে। কারি পাতার উপর কয়েকটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে। যে এটা আবার
শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।
তাই যাদের রক্তের শর্করা বেশি, তাদের জন্য এই পাতা ভালো হবে। আরো অনেক উপকার
আছে, যদি আপনি নিয়ম মেনে খেতে পারেন। তাই বলে খুব বেশি খাওয়া যাবে না।
খুব বেশি খেলে আবার কিন্তু উল্টো সমস্যা বাড়তে পারে। তাই যেকোন জিনিস
খাওয়ার আগে সতর্ক থাকবেন এবং নিয়ম মেনে খাবেন।
সব জায়গায় কারি পাতা পাওয়া যায় না কেন
কারিপাতা সব জায়গায় পাওয়া যায় না, এর অনেকগুলো কারণ আছে। যেমন ধরেন এই
কারি পাতা কিন্তু সবাই ব্যবহার করে না। যার কারণে যারা কারিপাতা বিক্রি করে।
তারা যে জায়গাতে কারি পাতার ব্যবহার কম। সেই সব অঞ্চলে এই পাতাগুলো
বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসে না। তারপর এই গাছ কিন্তু সব জায়গায় জন্মায়
না।
এই গাছ জন্মানোর জন্য আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়। কারিপাতা সংরক্ষণ
করাও কঠিন। তাই এই পাতা বাজারে দোকানদারেরা বেশি কিনে না। যার কারণে
বাজারেও এই পাতা সব সময় পাওয়া যায় না। যেখানে কারিপাতার চাষ কম, তারপর চাহিদা
কম। আবার এই পাতা নষ্ট হয়ে যায় তাড়াতাড়ি সেখানে এই পাতা কম পাওয়া যাবে এটাই
স্বাভাবিক।
কারি পাতা কেনার সময় কি দেখে কিনবেন
যখন কারিপাতা বাজার থেকে কিনবেন। তখন কেনার আগে ভালোভাবে, এই পাতা তাজা কিনা তা
দেখে নিবেন। কারণ তাজা পাতা না হলে, এই পাতা রান্নাই ব্যবহার করে, ভালো সুগন্ধ
পাওয়া যাবে না। তাই রান্নায় ভালো সুগন্ধ আনার জন্য। আপনাকে বাজার থেকে
তাজা কারিপাতা দেখে কিনতে হবে।
তাজা পাতা গারো সবুজ হয়ে থাকবে এবং দেখতেও তাজা লাগবে। আরেকটি বিষয়
বাজারে যদি এই পাতাতে পানি মারা থাকে, তাহলে কম কিনবেন। কারণ পানি দেওয়া পাতা
খুব বেশি দিন ভালো থাকে না। তাই বেশি পাতা যদি কিনেন, তবে শুকনো পাতা দেখে
কিনবেন।
কারি পাতা চেনার উপায় সম্পর্কে
কারিপাতা এবং নিমপাতা এই দুটাকেই দেখতে একদম একই রকম লাগে। প্রথমে আপনাকে এই পাতা
ভালোভাবে দেখতে হবে। কারিপাতা গুলো গুচ্ছ আকারে গাঠ ধরে জন্মে এবং একটি ডাটার
সাথে ১০ থেকে ২০ টি ছোট পাতা বার হয়। কারিপাতার আকৃতি লম্বা এবং একটু সরু ডিমের
মতো হয়। এই পাতার রং গারো সবুজ, পাতা একটু চকচকে হয়। পাতার সাইডগুলো হালকা ঢেউ
ঢেউ হয়ে থাকে।
সবথেকে ভালো হয়, যদি এই পাতার গন্ধ দেখে চেক করেন। কারণ এই পাতার গন্ধ নিম
পাতার মত না, এর গন্ধ আলাদাই সুন্দর হয়। যখন দেখবেন এই পাতার গন্ধ অনেক
সুন্দর। তখন বুঝে নিবেন, এটা কারিপাতা। আর তাছাড়া নিম পাতার গন্ধ তিতা। তাই
কারিপাতা এবং নিমপাতা আপনি হাতে নিয়ে হালকা থেলিয়ে গন্ধ নিয়ে চেক করে নিতে
পারবেন, যে কোনটা আসল কারিপাতা।
কারি পাতার ব্যবহার চুলের যত্নে
আপনার যদি অনেক বেশি চুল ওঠে। আর চুলের গোড়া যদি নরম থাকে। তাহলে আপনি কারি পাতা
ব্যবহার করতে পারেন। কারিপাতা ব্যবহার করলে আপনার চুলের গোড়া শক্ত হবে, আর
চুল ওঠা কমবে। কিভাবে আপনি এই কারিপাতা চুলে দিবেন? প্রথমে আপনি এক মুঠো
কারি পাতা নিবেন।
তারপর পাটায় ভালোভাবে বাটবেন, বেটে পেস্ট করবেন। তারপর কারিপাতার এই পেস্ট চুলের
গোড়ায় ভালোভাবে লাগিয়ে নিবেন। যতক্ষণ চুল না শুকাবে ততক্ষণ মাথা ধুবেন
না। চুল শুকালে তখন মাথা ধুয়ে নেবেন। এইভাবে সপ্তাহে দুই দিন চুলের
গোড়ায় কারিপাতার পেস্ট দিলে আপনি ভালো ফল পাবেন।
পেটের সমস্যায় কারি পাতা ব্যবহার
পেটের সমস্যা থাকলে নিয়মিত কারিপাতা খাবেন। কারণ কারিপাতার মধ্যে এমন কিছু
প্রাকৃতিক উপাদান আছে। যেগুলো আমাদের পেটকে পরিষ্কার রাখতে এবং পেটের সমস্যা
দূর করতে ভালো কাজ করে।
বিশেষ করে যাদের পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা করা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য যাদের
আছে। তাদের জন্য এই পাতা খাওয়া অনেক ভালো হবে। নিয়মিত খেতে পারলে কিছু দিনের
মধ্যেই এই সমস্যাগুলো থেকে আপনি আরাম পাবেন।
কারি পাতা কিভাবে ত্বককে সুস্থ রাখে
কারিপাতা শুধু রান্না বা চুলের যত্নের জন্য জন্যই ভালো না। এটা কিন্তু
ত্বকেও ব্যবহার করে ভালো উপকার নিতে পারবেন। কারিপাতার মধ্যে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, সেই সাথে এন্টিবায়োটিক ও আন্টিইনফ্লামেটরি উপাদান
পাওয়া যায়। যার কারণে এই পাতার পেস্ট বানিয়ে মুখে নিয়মিত মাখলে।
মুখের ব্রণ এবং মুখের প্রদাহ কমবে। সেই সাথে মুখের ময়লা দূর হয়ে মুখ
পরিষ্কার হবে। আপনি কারিপাতার পেস্ট এর সাথে গোলাপজল এবং টক দই মিশিয়ে
মুখে ব্যবহার করলে। আপনার মুখ সতেজ থাকবে এবং বয়সের চাপ কমবে। তাই যাদের
ত্বকের সমস্যা আছে, তারা এই পাতা মুখে মাখলে ভালো উপকার পাবেন।
FAQ/সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ কারি পাতা আর নিম পাতা কি একই?
উত্তরঃ কারি পাতা আর নিম পাতা দেখতে এক রকম হলেও এরা কিন্তু এক
না। এই দুইটার আলাদা আলাদা গুন আছে। যেটা কারি পাতা, এর পাতা হালকা গোল
আকার হয়। আর নিম পাতা সোজা সরু হয়। নিমপাতা হাতে কচলালে তিতা
গন্ধ বার হয়। আর কারি পাতা হাতে কচলালে একটা সুন্দর সুগন্ধ বার হয়। তাই
কারিপাতা তরকারিতে দিয়ে রান্না করা হয়। যেন তরকারির স্বাদ বাড়ে এবং সুগন্ধ
ছড়াই।
প্রশ্নঃ কারি পাতা কতদিন ভালো থাকে?
উত্তরঃ কারিপাতা আপনি যদি ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝেরে নেন। তারপর পলিথিনের
ব্যাগে ঢুকিয়ে ফ্রিজে রাখেন। তাহলে এই কারি পাতা এক সপ্তাহ থেকে
দুই সপ্তাহ ভালো থাকবে। আর এভাবে না রাখলে এক দুই দিনের মধ্যেই পাতা
শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই কারিপাতা বাসায় কিনে নিয়ে আসলে। ফ্রিজে পলিথিনের
ব্যাগে ভালোভাবে বেঁধে রেখে দিবেন।
প্রশ্নঃ কারি পাতা শুকিয়ে ব্যবহার করা যাবে কি?
উত্তরঃ কারিপাতা আপনি ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে। একটি বয়ামে রেখে
দিয়ে মাঝেমধ্যেই রান্নাতে ব্যবহার করতে পারবেন। এই পাতা শুকিয়ে ব্যবহার
করলে অনেক দিন যাবে। কিন্তু কাঁচা পাতা যেভাবে খাবারের স্বাদ বেশি করে ও
সুগন্ধ ছাড়াই এবং এর মধ্যে যে পুষ্টিগুণ থাকে। তা আপনি শুকনো পাতায় অনেক কম
পাবেন।
প্রশ্নঃ কারি পাতাকে বাংলাদেশে কি বলে?
উত্তরঃ বাংলাদেশের কারিপাতাকে অনেকগুলো নামে ডাকা হয়। তবে বেশিরভাগ এই
পাতাকে কারিপাতায় বলা হয়। কারিপাতা ছাড়া এই পাতাকে মিষ্টি নিমপাতা,
বুরুঙ্গা ও নরসিংহ পাতা নামে তাও অনেকেই চিনে। তবে আমাদের দেশে বেশি
কারি পাতা নামে মানুষ চিনে।
আরো পড়ুনঃ ঘরে বসে পণ্য প্যাকেজিং ব্যবসা করার উপায়
প্রশ্নঃ কারি পাতা কি বাংলাদেশে পাওয়া যায়?
উত্তরঃ আমাদের বাংলাদেশে এমন অনেক অঞ্চল আছে। যেগুলোতে এই গাছ এমনি এমনি
জন্মায়। বেশি এই গাছ দেখা যায় বন জঙ্গলে। তবে অনেকেই এর উপকারী গুণের জন্য
এবং রান্নার স্বাদ বাড়ানো এবং রান্নাকে সুগন্ধ করার জন্য। এই পাতা
ব্যবহার করে, যার কারণে এখন অনেকেই এই কারিপাতার গাছ চাষ করছে।
লেখক এর মন্তব্যঃ কারি পাতা কোথায় পাওয়া যাবে
কারি পাতা কোথায় পাওয়া যাবে আশাকরছি আপনারা জানতে পেরেছেন। উপরে আমি
যেসব জায়গার কথা বলেছি, এই জায়গাগুলোতে যদি আপনি কারিপাতা না পান। তবে আপনি
চেষ্টা করবেন বীজের দোকান থেকে কারিপাতার বীজ কিনে নিয়ে আসার। এই বীজ
কিনে এনে টবে অথবা আপনার বাগানে লাগিয়ে গাছ চাষ করবেন। বিশেষ করে যাদের
প্রতিদিন এই কারিপাতা রান্নার কাজে বা বিভিন্ন কারণে ব্যবহার করা লাগে।
তাদের জন্য কারিপাতার গাছ চাষ করা ভালো হবে। আর আপনারা যারা এখনো কারিপাতা
রান্নায় ব্যবহার করেননি। তারা এই পাতা রান্নায় ব্যবহার করে খেয়ে দেখতে
পারেন। আসাকরি এই পাতা দিয়ে রান্না করা খাবার আপনার ভালো লাগবে। শুধুই কারিপাতা
যে রান্নার স্বাদ এবং ঘ্রাণ বাড়ায় তা না। এ পাতা শরীরের পুষ্টির চাহিদা
পূরণ করে শরীরকে সুস্থ রাখে। এটা কিন্তু আবার চুল ও মুখের যত্নে ব্যবহার করতে
পারবেন। এতে আপনারা ভালো ফল পাবেন।



অপরাজিতা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url